স্টিকিইতিহাসইসলামমানবাধিকারসম্পাদকীয়

ধর্ম অবমাননা, সাম্প্রদায়িকতা এবং মূর্তি ভাঙ্গার সুন্নত

ভূমিকা

ভারতের বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় আমার বয়স ছিল অল্প। ছোট হলেও সেই সময়ের কথা বেশ স্পষ্ট মনে আছে। কারণ সেই দাঙ্গার ঢেউ বাঙলাদেশেও আঘাত করেছিল। সে সময়ে বয়সে ছোট ছিলাম, বাবা মা বলে দিয়েছিল আমি হচ্ছি মুসলমানের পোলা। নির্মোহ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সবকিছু যাচাই করা তখনো শিখিনি। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাঙলাদেশেও তখন মন্দিরে মূর্তি ভাঙ্গাভাঙ্গি হতে থাকে। আমরাও কোথাও হিন্দুদের মূর্তি ভাঙ্গা হচ্ছে শুনলে বন্ধুদের সাথে খুবই আনন্দ করতাম। হাসতে হাসতে বলতাম, “মালাউনদের মূর্তিগুলোর এত ক্ষমতা থাকলে মূর্তিগুলো নিজেদের রক্ষা করে না কেন?” সেই সময়ে একবারও মনে হতো না, বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সময় আল্লাহও কিন্তু ছিল নিশ্চুপ! সারা পৃথিবীতে শত শত মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা হয়, তখনও আল্লাহর কোন খোঁজখবর পাওয়া যায় না। এমনকি, কাবাতেও কয়েকবার আক্রমণ হয়েছিল, কাবা কয়েকবার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াও হয়েছিল। সেই সময়ও আল্লাহ কাবাকে রক্ষা করতে পারেনি! সেই সময়ে এগুলো একবারও মাথায় আসতো না। শুধু মনে হতো, হিন্দুদের দেবদেবীর ক্ষমতা থাকলে তারা তো মন্দিরগুলো রক্ষা করতেই পারতো! অর্থাৎ, এই ধরণের যুক্তিগুলো শুধুমাত্র অন্য ধর্মের বেলায় মাথায় আসতো; নিজের ধর্মের বেলায় নিজেই নিজেকে বুঝ দিতাম, এগুলো আল্লাহর পরীক্ষা বলে।

তখন হিন্দুদের ওপর রাগে ক্ষোভে গা রি রি করতো। ইচ্ছে হতো বাঙলাদেশে বসবাসকারী সব হিন্দুকে ঘাড় ধরে ভারত পাঠিয়ে দেই। বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রতিশোধ নিই। সবার মুখে শুনতাম, আমাদের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তাহলে হিন্দুরা কোন সাহসে এই দেশে বসবাস করে, সেটাই বুঝতাম না। বন্ধুদের সাথে বলাবলি করতাম, হিন্দুরা কত খারাপ, হিন্দুরা কত সাম্প্রদায়িক, কত নিকৃষ্ট! তারা ভারতে মুসলমানদের ওপর কতই না অত্যাচার চালাচ্ছে! অন্যদিকে আমরা কত ভাল, কত মহান! আমাদের দেশে হিন্দুরা তো প্রায় রাজার হালে আছে, এইসব আলোচনা। এগুলো বলতে বলতে পাশের বাসার হিন্দু বন্ধুটাকে আর খেলায় নিতাম না। কারণ ওদের উচিত শিক্ষা হওয়া দরকার। বলতাম, “শালারা আমাদের দেশে থাকে এই তো অনেক বেশি। আবার খেলায় নেয়ার দরকার কী? আমরা মুসলমানরা অনেক ভাল, মহৎ আর অনেক অসাম্প্রদায়িক বলেই তো তারা আমাদের দেশে থাকতে পারছে! ভারতের হিন্দুদের মত যদি আমরা সাম্প্রদায়িক হতাম, তাহলে এদেশে ধরে ধরে হিন্দুদের জবাই করে ফেলতাম!” আমাদের এলাকার এক বড় ভাই বলতো, “মালাউন কা বাচ্চা, কাভি নেহি আচ্ছা। যো ভি আচ্ছা, ও ভি শুয়ার কি বাচ্চা।”

সেইসময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীর কলাম পড়তাম। সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীরা লিখতেন, ইসলাম এসব ভাঙ্গাভাঙ্গি একদম সমর্থন করে না। ইসলাম সকল ধর্মকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করে। অন্যের ধর্ম পালনের অধিকার দেয়। তারা লিখতেন, নবীজি নাকি অন্য ধর্মের মানুষকে মূর্তি পুজার অধিকারকে সম্মান জানাতেন। এসব পড়ে পরবর্তীতে কিছুটা অসাম্প্রদায়িক হওয়ার চেষ্টা করতাম, কিন্তু ওয়াজে গিয়ে আবার শুনতাম ভিন্ন কথা। ওয়াজীরা বলতেন, মূর্তি ভাঙ্গা হচ্ছে নবীর সুন্নত। তাই পৃথিবীর সকল মূর্তি ভেঙ্গে ফেলতে হবে। পৃথিবীতে আল্লাহর একচ্ছত্র এবং নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এসব শুনে দ্বিধায় পড়ে যেতাম। আসলে কোন কথাগুলো সত্য?

ইসলাম কী আসলেই অন্য ধর্মের মানুষের মূর্তি পুজার অধিকারকে সম্মান দেয়? ইসলাম কী মূর্তি ভাঙ্গার অনুপ্রেরণা দেয়? পৌত্তলিকদের পুজনীয় মূর্তি ও মন্দির ভাঙ্গা আসলেই কী নবীর সুন্নত? আজকের এই লেখাটিতে সেই বিষয়েই আলোকপাত করা হবে।


শার্লি এবদো বনাম মূর্তি ভাঙ্গা

মুসলিমগণ প্রায়শই দাবী করেন, তাদের নবীকে সকলের সম্মান এবং শ্রদ্ধা করতে হবে। কেউ নবী মুহাম্মদের কার্টুন আঁকলে, ছবি বানালে, মুসলিম উম্মাহ উন্মাদের মতো তাদের গলা কাটে। শার্লি এবদো নামক ফরাসী কার্টুন ম্যাগাজিনের ১২ জন কার্টুনিস্টকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে কিছু মুসলিম সন্ত্রাসী হত্যা করেছিল। এই কয়েকদিন আগেই, ক্লাসরুমে বাক স্বাধীনতা বিষয়টি পড়াবার সময়ে ফ্রান্সের একজন শিক্ষক শার্লি এবদোর কিছু কার্টুন ক্লাসরুমে দেখিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে তাকেও হত্যা করেছে এক চেচেন মুসলিম। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবেই ফ্রান্স এই কার্টুনগুলো বিভিন্ন দেয়ালে প্রদর্শন করতে শুরু করে। ফ্রান্সের দেয়ালে দেয়ালে সেই সময়ে শার্লি এবদোর কার্টুন শোভা পাচ্ছিল। নবী, পোপ, হিটলার, ট্রাম্প, এমনকি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকেও তারা ছেড়ে কথা বলে না। এই নিয়ে বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব উত্তাল। তারা দাবী জানাচ্ছে, তাদের ধর্মের নবীকে সম্মান করতে হবে। অথচ, অন্য ধর্মের মূর্তি ভাঙ্গার সময় বিষয়টি কী তাদের মনে থাকে?

উল্লেখ্য, তারা যে সব দেশই এই পর্যন্ত দখল করেছে, প্রায় সব দেশেই প্রাচীন মূর্তি এবং মন্দিরগুলো একদমই ধ্বংস করে ফেলেছে। আফগানিস্তানে তালেবানদের ২০০০ বছর পুরনো বৌদ্ধ মূর্তিগুলো ধ্বংস করার মত ঘটনা অসংখ্যবারই ঘটেছে [1], আইসিসও কম যায় নি [2]। বাঙলাদেশে তো মূর্তি আর মন্দির ভাঙ্গাভাঙ্গি প্রতি মাসের ব্যাপার। কিন্তু এই মূর্তি ভাঙ্গা কী ইসলাম সম্মত?

একজন হিন্দুর কাছে দূর্গা কিংবা শিব বা কালীর মূর্তিও কিন্তু সম্মানিত এবং পবিত্র বিষয়। বাঙলাদেশে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নানা মন্দিরে মূর্তি ভাঙ্গা হয়। ওয়াজে হুজুররা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মূর্তি ভাঙ্গার উষ্কানি দেন। অথচ, ইসলামের বিধান হচ্ছে, কেউ যদি নবী মুহাম্মদের সামান্যতম সমালোচনাও করে, তাকে বিনা বিচারে যেকোন মুসলিম গিয়ে জবাই করে আসতে পারে। ইসলামে শাতিমে রাসুলের শাস্তি দিতে কোন বিচার আচারের প্রয়োজন নেই। এর মানে হচ্ছে, মুসলিমরা ঠিকই অন্য ধর্মের অবমাননা করতে পারবে, কিন্তু অন্য কেউ ইসলামের বিষয়ে কিছুই বলতে পারবে না। অন্য ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করা নাকি তাদের ধর্মীয় অধিকার! আসুন কয়েকটি ভিডিও দেখি, যেখানে অমুসলিমদের পুজনীয় মূর্তি ভাঙ্গার প্রকাশ্যে উষ্কানি দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এরকম ওয়াজের সংখ্যা লক্ষাধিক। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি দেখানো হচ্ছে,


ইব্রাহীমের মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা

ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবীর নাম হচ্ছে ইব্রাহীম। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন একটি পৌত্তলিক পরিবারে। তার পিতা ছিল মূর্তি পুজারী। তিনি সেই ছোটবেলা থেকেই লুকিয়ে পৌত্তলিকদের মূর্তি ভেঙ্গে আসতেন। পৌত্তলিকদের মূর্তি ভাঙ্গার অনেকগুলো গল্প ইসলামের নানা গ্রন্থে খুব মহান এবং বীরত্বের কাজ হিসেবে বর্ণিত আছে। ইব্রাহীম কীভাবে মূর্তিপুজারীদের মূর্তি ভেঙ্গে তা নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করতেন, অন্য ধর্মের মানুষকে অপমান অপদস্থ করতেন, অন্য ধর্মের অবমাননা করতেন, সেগুলো কোরআন হাদিসের নানা জায়গায় পাওয়া যায়।

ইসলামিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় দেবদেবীর পুজা করতো। একদিন তিনি কেন্দ্রীয় দেবমন্দিরে গিয়ে মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলার সংকল্প করলেন। ইবরাহীমের সম্প্রদায় বছরের একটা দিনে উৎসব পালন করত। নবী ইব্রাহীম খুব কৌশলে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে সেখানে যেতে অপারগতা প্রকাশ করলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এই সুযোগে দেবমন্দিরে প্রবেশ করে মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়া। সবাই চলে গেলে তিনি মন্দিরে ঢুকলেন এবং দেব-দেবীদের কুড়াল দিয়ে ভীষণ জোরে আঘাত করে সবগুলোকে গুঁড়িয়ে দিলেন। তবে বড় মূর্তিটাকে পূর্বাবস্থায় রেখে দিলেন। মেলা শেষে লোকজন ফিরে আসলো এবং মন্দিরে গিয়ে প্রতিমাগুলির অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে গেল। তারা বুঝে গেল, এগুলো ইব্রাহীমেরই কাজ। ইব্রাহীম তখন বলতে লাগলো, ঐ বড় মূর্তিটিই এই কাজ করেছে। সেই সাথে এটিও বললো, মূর্তিগুলোর ক্ষমতা থাকলে নিজেদের রক্ষা করলো না কেন? যেসব মূর্তির নিজেদের রক্ষা করার ক্ষমতা নেই, তারা কীভাবে মানুষকে রক্ষা করবে? কথাগুলো যৌক্তিক হলেও, ধর্ম অবমাননা নিঃসন্দেহে। একই যুক্তি কিন্তু মসজিদ ভাঙ্গা কিংবা কোরআন পোড়াবার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায়।

আসুন, আল্লামা ইবনে কাসীরের বিখ্যাত গ্রন্থ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে ঘটনাটি পড়ি [3] –

আমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা না করলে তোমরা যাকে তাঁর শরীক কর তাকে আমি ভয় করি না অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত অন্য যাদের ইবাদত তোমরা কর তাদের কোন পরোয়া আমি করি না। কেননা ওরা না পারে কোন উপকার করতে, না পারে কিছু শুনতে আর না পারে কিছু অনুধাবন করতে। বরং এরা হয় প্রতিপালিত ও নিয়ন্ত্রিত যেমন নক্ষত্র ইত্যাদি। না হয় নিজেদেরই হাতের তৈরি ও খোদাইকৃত।
নক্ষত্র সম্পর্কে ইবরাহীম (আ)-এর উপরোক্ত উপদেশ বাণী থেকে স্পষ্টত বোঝা যায় যে, এ সব কথা তিনি হারানের অধিবাসীদের লক্ষ্য করে বলেছিলেন। কেননা, তারা নক্ষত্রের পূজা করত। এর দ্বারা ইবন ইসহাক (র) প্রমুখ যাঁরা মনে করেন যে, ইবরাহীম (আ) এ কথা তখন বলেছিলেন; যখন তিনি বাল্যকালে গুহা থেকে বের হয়ে আসেন। এতে তাদের অভিমত খণ্ডন হয়ে যায়। এই মত ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে নেয়া হয়েছে। যার কোন নির্ভরযোগ্যতা নেই। বিশেষ করে যখন তা সঠিক বর্ণনার পরিপন্থী হয়। অপরদিকে বাবেলবাসীরা ছিল মূর্তিপূজক।
ইবরাহীম (আ) তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন। মূর্তি ভাঙ্গেন, অপদস্ত করেন এবং সেগুলোর অসারতা বর্ণনা করেন।
করতে দেখেছি। সে বলল, তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃ-পুরুষগণও রয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে। ওরা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট সত্য এনেছ, নাকি তুমি কৌতুক করছ? সে বলল, না তোমাদের প্রতিপালক তো আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক, যিনি ওদের সৃষ্টি করেছেন এবং এ বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী।
‘শপথ আল্লাহর, তোমরা চলে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলো সম্বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা
অবলম্বন করব।’ তারপর সে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল ওদের প্রধানটি ব্যতীত: যাতে তারা ওর দিকে ফিরে আসে। তারা বলল, আমাদের উপাস্যদের প্রতি এরূপ করল কে? সে নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারী। কেউ কেউ বলল, এক যুবককে ওদের সমালোচনা করতে শুনেছি; তাকে বলা হয় ইবরাহীম। ওরা বলল, তাকে উপস্থিত কর লোকজনের সম্মুখে, যাতে তারা সাক্ষ্য দিতে পারে। তারা বলল, হে ইবরাহীম! তুমিই কি আমাদের উপাস্যদের প্রতি এরূপ করেছ? সে বলল, সে-ই তো এটা করেছে, এ-ই তো এগুলোর প্রধান। এ গুলোকে জিজ্ঞেস কর। যদি এগুলো কথা বলতে পারে। তখন ওরা মনে মনে চিন্তা করে দেখল এবং একে অপরকে বলতে লাগল, তোমরাই তো সীমালংঘনকারী?
অতপর ওদের মস্তক অবনত হয়ে গেল এবং ওরা বলল, তুমি তো জানই যে, এরা কথা বলে না। ইবরাহীম বলল, তবে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদত কর যা তোমাদের কোন উপকার করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না? ধিক্ তোমাদেরকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর তাদেরকে। তবে কি তোমরা বুঝবে না? ওরা বলল, একে পুড়িয়ে দাও, সাহায্য কর তোমাদের দেবতাগুলোকে, তোমরা যদি কিছু করতে চাও। আমি বললাম, হে আগুন তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। ওরা তার ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু আমি তাদেরকে করে দিলাম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।
(সূরা আম্বিয়া: ৫১-৭০)
সূরা শু’আরায় আল্লাহর বাণী:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ . قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَكِفِينَ. قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ . أَوْ يُنْفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ . قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا أَبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ .
قَالَ أَفَرَنَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ . أَنْتُمْ وَأَبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ . فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَلَمِينَ الَّذِي خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ. وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ ، وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ. وَالَّذِى يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ. وَالَّذِي اطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًا وَالْحِقْنِي بِالصَّلِحِينَ.
ওদের নিকট ইবরাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর। সে যখন তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা কিসের ইবাদত কর? ওরা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং আমরা

مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ –
(এই মূর্তিগুলো কি? যাদের পূজায় তোমরা রত রয়েছ) অর্থাৎ এদের নিকট নিষ্ঠার সাথে বসে থাক ও কাতর হয়ে থাক। তারা উত্তর দিল; وَجَدْنَا أَبَاءَنَا لَهُ عايدين )আমরা আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে এদের পূজারীরূপে পেয়েছি।) তাদের যুক্তি এই একটাই যে, তাদের বাপ-দাদারা এরূপ দেবদেবীর পূজা-অর্চনা করতো।
قَالَ لَقَدْ كُنْتُمْ أَنْتُمْ وَأَبَاءُ كُمْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
তিনি বললেন, তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছো। যেমন আল্লাহ্ বলেছেন:
إِذْ قَالَ لَا بِيْهِ وَقَوْمِهِ مَا ذَا تَعْبُدُونَ . أَنفُكَا أَلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ. فَمَا ظَنُّكُمْ بِرَبِّ الْعَلَمِينَ.
যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমরা কিসের পূজা করছ? তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে অলীক ইলাহগুলোকে চাও? তা হলে জগতসমূহের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?
কাতাদা এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যখন তোমরা অন্যদের ইবাদত করছ, তখন যেদিন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হবে সেদিন তিনি তোমাদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করবেন বলে মনে কর?
ইবরাহীম (আ) তাদেরকে বলেছেন:
هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ أَوْ يَنْفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُونَ. قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا أَبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ .
তোমরা প্রার্থনা করলে ওরা কি শুনে? অথবা ওরা কি তোমাদের উপকার কিংবা অপকার করতে পারে? ওরা বলল, না তবে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এরূপই করতে দেখেছি। (সূরা শু’আরা: ৭২-৭৪)
তারা স্বীকার করে নেয় যে, আহবানকারীর ডাক ওরা শোনে না, কারও কোন উপকারও করতে পারে না। অপকারও করতে পারে না। তারা এরূপ করছে কেবল তাদের মূর্খ পূর্ব-পুরুষদের অন্ধ আনুগত্য হিসেবে। এ জন্যেই তিনি তাদেরকে বলে দেন যেঃ
أَفَرَأَيْتُمُ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ . أَنْتُمْ وَآبَاؤُ كُمُ الَّا قَدَمُوْنَ . فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّلى
الأَرَبِّ الْعَالَمِينَ.
তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ যাদের পূজা করে আসছ তোমরা ও তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ-পুরুষেরা; কেননা রাব্বুল আলামীন ব্যতীত তারা সবাই আমার দুশমন। (সূরা শু’আরা: ৭৫-৭৭)
তারা মূর্তির উপাস্য হওয়ার যে দাবি করত তা যে বাতিল ও ভ্রান্ত, উল্লিখিত আয়াতসমূহে তার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা, হযরত ইবরাহীম (আ) ওগুলোকে পরিত্যাগ করেন ও হেয়প্রতিপন্ন করেন। এতে যদি তাদের ক্ষমতা থাকত ক্ষতি করার তা হলে অবশ্যই তারা তাঁর ক্ষতি করত। অথবা যদি আদৌ কোন প্রভাবের অধিকারী হত, তবে অবশ্যই তাঁর উপর সে ধরনের প্রভাব ফেলত। -قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنْتَ مِنَ اللعِبين
(তারা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট সত্যসহ আগমন করেছ, না কি তুমি কৌতুক করছ?) অর্থাৎ তারা বলেছে যে, হে ইবরাহীম! তুমি আমাদের নিকট যা কিছু বলছো, আমাদের উপাস্যদেরকে তিরস্কার করছো এবং আমাদের পূর্ব-পুরুষদের সামালোচনা করছো এ সব কি তুমি সত্যি সত্যিই বলছ, নাকি কৌতুক করছ?
قَالَ بَلْ رَبُّكُمْ رَبُّ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَالِكُمْ مِّنَ الشهدين.
(সে বলল, না তোমাদের প্রতিপালক তো তিনি, যিনি আসমান ও যমীনের প্রতিপালক, যিনি এগুলো সৃজন করেছেন; এবং আমিই এর উপর অন্যতম সাক্ষী। (অর্থাৎ আমি তোমাদের নিকট যা কিছু বলছি, সবই সত্য ও যথার্থ বলছি। বস্তুত তোমাদের উপাস্য সেই একজনই, যিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং আসমান-যমীনেরও প্রতিপালক। পূর্ব-দৃষ্টান্ত ছাড়াই তিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং ইবাদতের যোগ্য একমাত্র তিনিই, তাঁর কোন শরীক নেই; এবং আমি নিজেই এর উপর সাক্ষী।
وَتَا اللَّهِ لَاكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ بَعْدَ أَنْ تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ.
আল্লাহর কসম, তোমরা চলে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলো সম্বন্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা অবলম্বন করব (সূরা আম্বিয়া: ৫৫-৫৭)। অর্থাৎ হযরত ইবরাহীম (আ) এ মর্মে প্রতিজ্ঞা করেন যে, লোকজন মেলায় চলে যাওয়ার পর তাদের উপাস্য মূর্তিগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কারো কারো মতে, ইবরাহীম (আ) এ কথা মনে মনে বলেছিলেন। ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন যে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইবরাহীম (আ)-এর এ কথাটি শুনে ফেলেছিল। ইবরাহীম (আ)-এর সম্প্রদায়ের লোকজন শহরের উপকণ্ঠে তাদের একটি নির্ধারিত বার্ষিক মেলায় মিলিত হতো। ইবরাহীম (আ)-এর পিতা তাঁকে মেলায় যাওয়ার জন্যে আহ্বান জানালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পীড়িত’। আল্লাহ বলেন:
فنظر نظرةً نظرة في فِي النُّجُومِ. فَقَالَ إِنِّي سَقِيمٌ.
(সে নক্ষত্রের দিকে একবার তাকাল, তারপর বলল, আমি পীড়িত) তিনি কথাটা একটু ঘুরিয়ে বললেন। যাতে তাঁর উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় আর তা হলো তাদের মূর্তিসমূহকে হেয়প্রতিপন্ন করা। মূর্তিপূজা খণ্ডনের ব্যাপারে আল্লাহর সত্য দীনের সাহায্য করা। আর ধ্বংস ও চরম লাঞ্ছনাাই ছিল মূর্তিগুলোর যথার্থ পাওনা। এরপর সম্প্রদায়ের লোকজন যখন মেলায় চলে যায় এবং ইবরাহীম (আ) শহরেই থেকে যান তখন رَاغَ إِلى الهتهم অর্থাৎ তিনি চুপিসারে দ্রুতপদে দেবতাদের দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি দেখতে পান যে, মূর্তিগুলো একটি বিরাট প্রকোষ্ঠের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের সম্মুখে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য নৈবেদ্যরূপে রাখা আছে। এ দেখে তিনি উপহাস ছলে বললেন:
الَا تَأْكُلُونَ – مَا لَكُمْ لَا تَنْطِقُونَ ، فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًا بِالْيَمِينَ.
(তোমরা খাচ্ছ না কেন? কি হল তোমাদের, কথা বলছ না কেন? তারপর সে তাদের উপর তার ডান হাত দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত হানল।) কেননা, ডান হাতই অধিকতর শক্তিশালী ও দ্রুত ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। তাই তিনি নিজ হাতের কুঠারের প্রচণ্ড আঘাতে মূর্তিগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন )فَجَعَلَهُمْ جُذَادً )ইবরাহীম মূর্তিগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিল) অর্থাৎ (UTC) إِلَّا كَبِيرًا لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ . fofa ceca al face 1981 মধ্যে বড়টা ব্যতীত, যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে।) কেউ কেউ বলেছেন; ইবরাহীম (আ) তাঁর কুঠারখানা বড় মূর্তির হাতে ঝুলিয়ে রেখে দেন। এতে এই ইঙ্গিত ছিল যে; তারা যেন মনে করে যে, তার সাথে ছোট মূর্তিগুলো পূজিত হওয়ার কারণে ওটাই ছোটগুলোর উপর ঈর্ষা বশত আক্রমণ করেছে। তারপর মেলা থেকে ফিরে এসে লোকজন তাদের উপাস্যদের এ অবস্থা যখন দেখল:
قَالُو مَنْ فَعَلَ هَذَا بِالهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ.
(তখন তারা বলল, আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ আচরণ কে করল? নিশ্চয়ই সে একজন সীমালংঘনকারী।) এ কথার মধ্যে তাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল, যদি তারা বুঝতে চেষ্টা করত! কেননা, তারা যে সব দেব-দেবীর উপাসনা করে, তারা যদি সত্যি উপাস্য হত, তা হলে যে তাদেরকে আক্রমণ করেছে তাকে তারা প্রতিহত করত। কিন্তু নিজেদের মূর্খতা, নির্বুদ্ধিতা ও চরম পথভ্রষ্টতার কারণে তারা বললঃ
C مَنْ فَعَلَ هُذَا بِالهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ . قَالُوا سَمِعْنَا فَتَى يُذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ.
(আমাদের উপাস্যদের সাথে এ আচরণ করল কে? নিশ্চয়ই সে এক জালিম। তাদের কতিপয় লোক বলল, আমরা এক যুবককে এদের বিষয়ে আলোচনা করতে শুনেছি, তাকে ইবরাহীম বলা হয়।) অর্থাৎ সে এদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করত, এদের নিয়ে সমালোচনা করত। সুতরাং সে-ই এসে এদেরকে ভেঙ্গেছে। ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন يُذْكُرُهُمُ )সে এদের আলোচনা করত) দ্বারা ইবরাহীম (আ) ইতিপূর্বের কথা বলাই উদ্দেশ্য; অর্থাৎ-A وَتَا اللَّهِ لَا كَيْدَنَّ أَصْنَا مُكُمْ بَعْدَ أَنْ تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ.
(আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে এক ব্যবস্থা নেব তোমরা ফিরে যাওয়ার পরে( – قَالُو فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ )তারা বলল
তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত কর, যাতে তারা দেখতে পারে) অর্থাৎ উপস্থিত জনতার মাঝে নেতৃবৃন্দের সম্মুখে তাকে হাযির কর; যাতে জনগণ তার বক্তব্য প্রদানকালে উপস্থিত থাকে এবং তার কথাবার্তা শুনতে পারে। এবং তাকে বদলাস্বরূপ যে শাস্তি দেওয়া হবে তা প্রত্যক্ষ করতে পারে। এটাই ছিল হয়রত ইবরাহীম খলীলের প্রধানতম উদ্দেশ্য যে, সকল মানুষ উপস্থিত হলে তিনি সমস্ত মূর্তি পূজারীর সম্মুখে তাদের ধর্ম-কর্মের ভ্রান্তির প্রমাণ পেশ করবেন। যেমনটি মূসা (আ)-ও ফিরআউনকে বলেছিলেন:
مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّينَةَ وَأَنْ يُحْشَرَ النَّاسُ ضُحَى –
(তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেই দিন পূর্বাহ্ণে লোকজনকে সমবেত করা হবে। (সূরা তা-হাঃ ৫৯)। তারপর যখন লোকজন জমায়েত হলো এবং ইবরাহীম (আ)-কে সেখানে হাযির করা হল, তখন তারা বলল:
ا أَنْتَ فَعَلْتُ هَذَا بِالهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا
(হে ইবরাহীম। আমাদের দেব-দেবীর সাথে এই কাণ্ড কি তুমিই ঘটিয়েছ? সে বলল, এদের এই বড়টাই. বরং এ কাজটি করেছে।) কেউ কেউ এ আয়াতের অর্থ করেছেন এভাবে-এটি আমাকে এগুলো ভাঙ্গার ব্যাপারে উব্দুদ্ধ করেছে; অবশ্য কথাটাকে তিনি একটু ঘুরিয়ে বলেছেন। 2015 ال 81 فَاسْتَلُوهُمْ إِنْ كَانُوا يَنْطِقُوْنَ . পারে) ইবরাহীম (আ) এ কথার দ্বারা এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ওরা যেন দ্রুত এই কথা বলে যে, এরা তো কথা বলতে পারে না। ফলত তারা স্বীকার করে নিবে যে, অন্যান্য জড়বস্তুর فَرَجَعُوا إِلَى أَنْفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنْتُمُ الظَّالِمُونَ : AIR GETS ARE G (অতঃপর তারা মনে মনে চিন্তা করল এবং বলল; তোমরাই তো জালিম) অর্থাৎ তারা নিজেদেরকে তিরস্কার ও ধিক্কার দিয়ে বলল, জালিম তো তোমরা নিজেরাই; এদেরকে তোমরা এমনিই ছেড়ে চলে গেলে, কোন পাহারাদার ও হিফাজতকারী রেখে গেলে না। ثُمَّ نُكِسُوا عَلَى
رُؤُوسِهِمْ (তারপর তারা মাথা নত করে ঝুঁকে গেল) সুদ্‌দী (র)-এর অর্থ করেছেন, তারা ফিতনা ফ্যাসাদের দিকে ফিরে গেল। এ অর্থ অনুযায়ী উপরের ‘তোমরাই জালিম’ انكُمْ اَنْتُمُ الظَّالِمُونَ ) এর অর্থ তোমরা এদের ইবাদত করার কারণে জালিম পদবাচ্য। কাতাদা (র) বলেছেন, ইবরাহীম (আ)-এর কথায় তারা অত্যধিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়। ফলে তাদের মাথা নত হয়ে যায়। তারপর তারা বলল لَقَدْ عَلِمْتُ مَا هَؤُلَاءِ يُنْطِقُونَ )তুমি তো জানই যে, এগুলো কথা বলে না) অর্থাৎ হে ইবরাহীম! তোমার তো জানা আছে যে, এরা কথা বলে না। সুতরাং এদের নিকট জিজ্ঞেস করার জন্যে তুমি কেন বলছ? এ সময় ইবরাহীম খলীল তাদের উদ্দেশ করে বলেন : أَفَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يُنْفَعُكُمْ شَيْئُ فَلَا يُ أن لَّكُمْ ، وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ .
(তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন সব বস্তুর পূজা কর, যা না তোমাদের কোন উপকার করতে পারে; না কোন ক্ষতি করতে পারে? ধিক তোমাদের জন্যে এবং তোমাদের উপাস্যদের জন্যে যাদেরকে তোমরা পূজা কর আল্লাহ ব্যতীত। তোমরা কি মোটেই জ্ঞান খাটাও না?) فَأَقْبَلُوْا إِلَيْهِ يَزِفَّوْنَ )তারপর তারা ইবরাহীমের দিকে তেড়ে আসলো।) মুজাহিদ বলেছেন, يزف অর্থ يسرعون )দ্রুত ধেয়ে যাওয়া)। – أَتَعْبُدُونَ مَا تُنْجِتُون (তোমরা কি সেই সব দেবতাদের পূজা কর যেগুলো তোমরা নিজেরাই খোদাই করে তৈরি কর?) অর্থাৎ তোমরা কিভাবে এমন সব মূর্তির পূজা কর, যেগুলো তোমরা স্বহস্তে কাঠ অথবা পাথর খোদাই করে নির্মাণ করে থাকো এবং নিজেদের ইচ্ছামত আকৃতি দান কর। وَاللَّهُ خَلَقَكُمُ – وَمَا تَعْمَلُونَ )অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাদেরকে তোমরা তৈরি করে থাক) অক্ষরটি مصدريه ও হতে পারে; আবার موصوله

মূর্তিপুজক
ইব্রাহীম
মূর্তি পুজা
ধর্ম অবমাননা
ধর্ম অবমাননা 4
ধর্ম অবমাননা 6

অর্থাৎ, ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একজন নবী, উনি নিজেই বাপদাদার ধর্ম, তার গোত্রের সংস্কৃতি ও বিশ্বাস নিয়ে চরমভাবে ঠাট্টা তামাশা, কটাক্ষ, অবমাননা এগুলো সবই করতেন। তবে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে ঠিক একইভাবে কটাক্ষ, কটূক্তি, সমালোচনা কী করা সম্ভব?


নবী মুহাম্মদের ধর্ম অবমাননা

ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী মুহাম্মদ পৌত্তলিকদের দেবদেবী, পূর্বপুরুষদের ধর্ম, এগুলো সম্পর্কে অবমাননাকর কটূক্তি করতো বলেই ইসলামিক সূত্রগুলো থেকে পরিষ্কারভাবেই জানা যায়। মক্কায় সেই সময়ে তাকে ধর্মদ্রোহীতা দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তার ওপর অভিযোগ ছিল-তিনি প্রচলিত ধর্মকে অসম্মান এবং অবমাননা করেছেন। সমাজে শত শত বছর ধরে প্রচলিত ধর্মের সমালোচনা, বাপদাদার ধর্মের অবমাননা, কটূক্তি, দেবদেবী নিয়ে অপমানজনক কথা বলার কারণে বারবার তাকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু নবী কখনোই ধর্ম অবমাননা থেকে সরে আসেন নি। উল্লেখ্য, উনাকে কিন্তু শুরুতেই আক্রমণ করা হয় নি, উনিই শুরুতে পৌত্তলিকদের ধর্মকে নিন্দা করতে শুরু করেছিলেন।

একটি দাবী ইসলামে বিশ্বাসী মুমিনদের কাছ থেকে সবসময়ই শোনা যায়, সেটি হচ্ছে, পৌত্তলিক কাফেরগণ নাকি মুহাম্মদকে ইসলাম প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সুন্দরী মেয়ে দিতে চেয়েছিল, মুহাম্মদকে রাজা বানিয়ে দিতে চেয়েছিল। অথচ এখানেও রয়েছে মস্তবড় এক মিথ্যাচার। মুহাম্মদের কাছে কাফেররা শুধু চেয়েছিল, তাদের ধর্মগুলোকে মুহাম্মদ যেন গালাগালি না করে, যেন মুহাম্মদ তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে। সব ধর্ম যেন মক্কায় থাকে, যে যার ধর্ম মানুক, ধর্ম নিয়ে কোন্দল যেন না হয়, সেটাই ছিল পৌত্তলিক কাফেরদের চাওয়া। আসুন ড. আবু বকর যাকারিয়ার মুখ থেকে শুনি,

এবারে আসুন সীরাতে ইবনে হিশাম থেকে পড়ি, [4] –

ওয়াক্কাস এই সময় একটা মরা উটের চোয়ালের হাড় দিয়ে প্রচণ্ড জোরে আঘাত হেনে মুশরিকদের একজনের মাথা ফাটিয়ে দেন। ইসলামের জন্য এটাই ছিল রক্তপাতের প্রথম ঘটনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক প্রকাশ্য দাওয়াত দিলেও যতক্ষণ তাদের দেব-দেবীর নামোল্লেখ বা সমালোচনা করেননি ততক্ষণ তারা তাঁর থেকে দূরে সরে যায়নি কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখরও হয়নি। কিন্তু যখন তিনি তাদের দেব-দেবীর সমালোচনা করলেন তখনই তারা তাঁর আন্দোলনকে একটা ভয়ংকর ও মারাত্মক জিনিস বলে মনে করলো। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচণ্ডভাবে ক্ষেপে উঠলো এবং তাঁর বিরুদ্ধতা ও শত্রুতায় কোমর বেঁধে নামলো। তবে স্বল্পসংখ্যক লোক যারা তখনো আত্মপ্রকাশ করেননি- ইসলামের খাতিরে এই শত্রুতা থেকে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর চাচা আবু তালিব পূর্ণ সহানুভূতি ও অনুকম্পা দেখাতে থাকেন। তিনি কুরাইশদের আক্রমণের মুখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করতে থাকলেন এবং তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। ফলে তিনি আল্লাহর দ্বীন প্রচারের কাজ অপ্রতিহত গতিতে চালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন। কিন্তু কুরাইশরা যখন দেখলো, সম্পর্কচ্ছেদ ও দেব-দেবীর সমালোচনার বিরুদ্ধে তাঁদের প্রবল আপত্তিকেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিন্দুমাত্র পরোয়া করছেন না, অধিকন্তু তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে পুরোপুরি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন এবং তাঁকে আশ্রয় দিয়ে চলছেন, কোন মতেই তাঁকে কুরাইশদের হাতে সমর্পণ করছেন না; তখন একদিন কুরাইশদের গণ্যমান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সদলবলে আবু তালিবের কাছে গিয়ে বললো, “হে আবু তালিব, আপনার ভাতিজা আমাদের দেব-দেবীকে গালি-গালাজ করেছে, আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছে, আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে বোকামী ঠাউরিয়েছে এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছে। এমতাবস্থায় হয় আপনি তাকে এসব থেকে বিরত রাখুন নতুবা তাকে শায়েস্তা করার জন্য আমাদেরকে সুযোগ দিন।” আবু তালিব তাদেরকে হৃদয়গ্রাহী ভাষায় জবাব দিলেন এবং বুঝিয়ে-সুজিয়ে বিদায় করলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাজ যথারীতি চালিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি আল্লাহর দীনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিতে থাকলেন ও তাঁর প্রচার-প্রসারের কাজ অব্যাহত রাখলেন। ফলে কুরাইশদের বিদ্বেষ ও আক্রোশ দিন দিন বেড়ে যেতে লাগলো। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মেতে উঠলো এবং পরস্পরকে তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানী দিতে আরম্ভ করলো।
তাই পুনরায় তারা আবু তালিবের কাছে উপস্থিত হয়ে বললো, হে আবু তালিব, আপনি আমাদের মধ্যে প্রবীণ ও মুরুব্বী। আমরা আপনাকে গণ্যমান্য ও শ্রদ্ধেয় মনে করি।

আমরা বলেছিলাম, আপনার ভাতিজাকে নিষেধ করুন কিন্তু আপনি তা করলেন না।
আল্লাহর কসম, আমরা এভাবে আর চলতে দিতে পারি না। সে আমাদের সমালোচনা, দেব-দেবীর নিন্দা ও আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে বোকামী ঠাওরানোর যে ধৃষ্টতা দেখিয়ে যাচ্ছে তা আমরা আর সহ্য করতে পারি না। এখন হয় আপনি তাকে নিবৃত্ত করবেন নচেৎ আমরা আপনাকে সহ তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবো এবং একপক্ষ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে আর থামবো না।”
আবু তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাঁকে বললেন, “ভাতিজা, তোমার সম্প্রদায়ের লোকজন আমার কাছে এসে এইসব কথা বলেছে।” এই বলে তিনি কুরাইশ নেতৃবৃন্দ যা বলেছিলো তা তাঁকে বললেন। তারপর বললেন, “অবস্থা যখন এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তখন তুমি নিজেকে ও আমাকে সামলে চলো। আমার ওপর আমার সাধ্যের বেশী কোন কিছু চাপিয়ে দিও না।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করলেন, চাচা মত পাল্টে ফেলেছেন, কুরাইশদের মুকাবিলায় তাঁকে একাকী ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন এবং তাঁর সহায়তা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “চাচা, আল্লাহর কসম করে বলছি, তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য ও বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় এবং তার বিনিময়ে আমাকে এই কাজ ত্যাগ করতে বলে, তবুও আমি এটা ত্যাগ করবো না। আমি ততদিন পর্যন্ত এ কাজ করতে থাকবো, যতদিন না আল্লাহ তাঁর দীনকে বিজয়ী করেন কিংবা এই কাজ করতে করতে আমি ধ্বংস হয়ে যাই।” এই কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’ চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং চলে যেতে উদ্যত হলেন। কিছুদূর অগ্রসর হলে আবু তালিব তাঁকে ডেকে বললেন, “হে ভাতিজা, কাছে এসো।” তিনি কাছে গেলেন। আবু তালিব বললেন, “ভাতিজা, ঠিক আছে। তুমি যা বলতে চাও বলতে থাক। আমি কখনো কোন কারণে তোমাকে ওদের কাছে সমর্পণ করবো না।”
কুরাইশরা যখন জানতে পারলো যে, আবু তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননাকর অবস্থার মুখে একা ছেড়ে দিতে রাজী নন এবং তাদের সম্পর্কচ্ছেদ ও শত্রুতা সত্ত্বেও তাঁকে তাদের হাতে তুলে না দিতেও অবিচল, তখন তারা উমারাহ ইবনে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা নামক এক যুবককে আবু তালিবের কাছে নিয়ে গিয়ে বললো, “হে আবু তালিব, এই যুবককে দেখুন, এর নাম উমারাহ ইবনে ওয়ালীদ। কুরাইশ গোত্রে এর মত সাহসী, শক্তিমান ও সুদর্শন যুবক আর নেই। একে আপনি পুত্র হিসেবে গ্রহণ করুন। এর বুদ্ধিমত্তা ও সাহায্য-সহযোগিতা দ্বারা আপনি উপকৃত হতে পারবেন। আর আপনার ঐ ভাতিজাকে আমাদের হাতে তুলে দিন, যে আপনার পূর্বপুরুষের ধর্মের বিরোধিতা করছে, আপনার সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি
করছে এবং তাদের বুদ্ধিমত্তাকে বোকামী ঠাওরাচ্ছে। তাকে আমাদের হাতে তুলে দিন, আমরা তাকে হত্যা করি। একজন মানুষের বিনিময়ে একজন মানুষ আপনি পেয়ে

নবীর কটূক্তি
ধর্ম অবমাননা 9

এই বিষয়ে আরো জানা যায় সীরাতুল মুস্তফা সা. গ্রন্থ থেকে। নবী মুহাম্মদ নিজেই বলতেন, তিনি মূর্তিকে প্রচণ্ড ঘৃণা করতেন [5] –

সার কথা
সার কথা এই যে, মহান নবী (আ) গণের পবিত্র আত্মা শুরু থেকেই সর্বপ্রকার কুফর, শিরক এবং সব ধরনের অশ্লীল ও অসত্য থেকে পাক-পবিত্র হয়ে থাকে। শুরু থেকেই তা থাকে সরল সুপথে প্রতিষ্ঠিত আবিলতা। প্রকৃতিগতভাবেই তাঁরা সর্বপ্রকার অন্যায় ও খারাবীকে ঘৃণ্য ও অপসন্দনীয় মনে করেন। যেমন শাদ্দাদ ইবন আওস
(রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন:
فلما نشاءت بغضت الى الاوثان وبغض الى الشعر
অর্থাৎ “যখন থেকে আমি বড় হতে লাগলাম, তখন থেকেই মূর্তির প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা এবং অসার কবিতার প্রতি চরম বিতৃষ্ণা আমার অন্তরে ঢেলে দেয়া হয়।” اس
নবীদের জন্য এটা জরুরী যে, তাঁদের আপাদমস্তক সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাঁদের কথা, কাজ, নিয়্যত বা উদ্দেশ্যে কখনো মিথ্যা বা খেয়াল-খুশির অনুসরণ ও শামিল হওয়া প্রকৃতিগতভাবে আদপেই অসম্ভব। এজন্যে ইরশাদ হয়েছে:
وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشَّعْرَ وَمَا يَنْبَغِى لَهُ

অগ্নি প্রজ্জ্বলিত একটি গর্তের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পিতা সাঈদ আমাকে ঐ গর্তে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার ইচ্ছা করছে, হঠাৎ করে রাসূলুল্লাহ (সা) এসে পড়লেন এবং আমার কোমর ধরে সরিয়ে নিলেন। ঘুম থেকে জেগে আমি কসম খেয়ে বললাম, আল্লাহর কসম, এ স্বপ্ন সত্য।
এরপর আমি হযরত আবূ বকরের নিকট এলাম এবং স্বপ্ন খুলে বললাম। আবূ বকর বললেন, আল্লাহ তোমার জন্য মঙ্গলের ইচ্ছা করেছেন, তিনি আল্লাহর রাসূল। তাঁর অনুসরণ কর এবং ইসলাম কবুল কর। ইনশা আল্লাহ তুমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অনুসরণ করবে এবং ইসলামে প্রবেশ করবে। আর ইসলামই তোমাকে অগ্নিতে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তোমার পিতা অগ্নিতে প্রবেশ করবে। অতঃপর আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং আরয করলাম, হে মুহাম্মদ (সা)! আপনি কিসের প্রতি আহ্বান করেন? তিনি বললেন:
ادعوك الى الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله تخلع ما كنت عليه من عبادة حجر لا يضرو ولا ينفع ولا يدرى من عبده ممن لم يعبده
“আমি তোমাকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করি, যাঁর কোন শরীক নেই আর মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আর আমি তোমাকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, মূর্তিপূজা ছেড়ে দাও’, এটা কোন উপকারও করতে পারে না আর কোন ক্ষতিও করতে পারে না। ওরা জানতেও পারে না যে, কে ওদের পূজা করলো আর কে পূজা করলো না।”
খালিদ বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক এবং আপনি সত্য রাসূল। আমি ইসলামে শামিল হয়ে গেলাম। আমার পিতা যখন আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পেলেন, তখনই আমাকে এমন মার দিলেন যে, আমার মাথা যখম হয়ে গেল এমনকি একটি ছড়ি আমার মাথায় ভেঙে ফেললেন, অতঃপর বললেন, তুই মুহাম্মদ (সা)-এর অনুসরণ করিস! পুরো সমাজ যার বিরোধী। সে আমাদের উপাস্যদের খারাপ বলে এবং আমাদের পিতা-পিতামহদেরকে আহমক ও মূর্খ বলে? খালিদ বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, আল্লাহর শপথ, মুহাম্মদ (সা) সম্পূর্ণ সত্য সঠিক কথাই বলেন।
এ কথা শুনে আমার পিতার রাগ আরো বেড়ে গেল। তিনি আমাকে খুবই কটু-কাটব্য করলেন, বকুনি দিলেন এবং বললেন, রে মূর্খ! তুই আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যা। আল্লাহর কসম, আমি তোর খানাপিনা বন্ধ করে দেব।

হযরত আম্মার ও হযরত সুহায়ব (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
আম্মার ইবন ইয়াসির বলেন, আরকামের গৃহের দরজায় সুহায়ব ইবন সিনানের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) ভিতরে ছিলেন। আমি সুহায়বকে জিজ্ঞেস করলাম, উদ্দেশ্যটা কি? সুহায়বও আমাকে একই প্রশ্ন করলেন, তোমার কি ইচ্ছা? আমি বললাম, আমার ইচ্ছা হলো তাঁর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য শুনব। সুতরাং আমরা দু’জনেই তাঁর খিদমতে হাযির হলে তিনি আমাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং আমরা ইসলাম গ্রহণে ধন্য হই।’
হযরত আমর ইবন আবাসা (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
হযরত আমর ইবন আবাসা (রা) বলেন, শুরু থেকেই আমার মূর্তি পূজার প্রতি ঘৃণা ও অনীহা ছিল। আর এটা বুঝতাম যে, এ মূর্তি উপকার অপকার কোনকিছু করার আদৌ অধিকারী নয়, এ কেবলই পাথর। আমি আহলে কিতাবের আলিমদের মধ্যে এক আলিমের নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সর্ব প্রথম উন্নত ও উত্তম ধর্ম কোনটি? ঐ আলিম বললেন, মক্কায় এক ব্যক্তি প্রকাশিত হবেন, মূর্তিপূজা থেকে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করবেন, সর্বাপেক্ষা উত্তম ও উন্নত দীন তিনিই আনয়ন করবেন। তুমি যদি তাঁকে পাও, তবে অবশ্যই তাঁর আনুগত্য করবে। আমর ইবন আবাসা বলেন, ঐ সময় থেকে সকল সময় কেবল আমার মক্কার কথাই খেয়ালে থাকত, ছোট বড় সবার কাছেই মক্কার খবর জিজ্ঞেস করতাম। শেষ পর্যন্ত আমি হযরত (সা)-এর সংবাদ পেলাম। এ বর্ণনা ‘মু’জামে তাবারানী’ এবং ‘দালাইলে আবু নুয়াইমে’ উদ্ধৃত আছে। আমর ইবন আবাসা (রা)-এর বর্ণনায়, তাঁর খবর পাওয়ার পর আমি মক্কা মুকাররামায় গিয়ে উপস্থিত হলাম এবং অত্যন্ত গোপনে তাঁর সাথে মিলিত হলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর নবী। বললাম, আল্লাহই কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি প্রশ্ন করলাম, আল্লাহ আপনাকে কি পয়গাম দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি (সা) ইরশাদ করলেন, আল্লাহকে এক বলে মানা হোক, তাঁর সাথে কোন শরীক না করা হোক, মূর্তিগুলোকে ভাঙা হোক আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা হোক। আমি বললাম, এ ব্যাপারে কে আপনার সাথে আছেন? তিনি বললেন, এক আযাদ আর এক গোলাম, অর্থাৎ হযরত আবু বকর ও হযরত বিলাল (রা)। আমি আরয করলাম, আমিও আপনার অনুগত, অনুসারী ও সাহায্যকারী হতে চাই। তিনি বললেন, এ সময়ে তুমি নিজ দেশে ফিরে যাও, যখন আমার বিজয়ের সংবাদ জানতে পারবে, তখন আসবে। হযরত আমর ইবন আবাসা বলেন, আমি মুসলমান হয়ে নিজ দেশে ফিরে এলাম এবং তাঁর সংবাদাদি নিতে থাকলাম। যখন তিনি (সা) হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় তাশরীফ নিলেন, তখন আমি তাঁর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ

অপরকে) বিবাহ করার সৌভাগ্য লাভ করেন এবং ‘যুন-নূরাইন’ উপাধিতে আখ্যায়িত হন। যত দিন পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা) জনগণকে শুধু ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কুরায়শ তাঁর কোন প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু যখনই প্রকাশ্য ঘোষণা, মূর্তিপূজার অসারতা ও খারাবী বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং কুফর ও শিরক থেকে লোকজনকে বারণ করতে লাগলেন, তখনই কুরায়শগণ নবী (সা)-এর প্রচণ্ড বিরোধিতা ও শত্রুতা শুরু করে। কিন্তু আবূ তালিব তাঁর সহায় ও সাহায্যকারী হিসেবে থেকে যান।
একবার কুরায়শের কয়েক ব্যক্তি একত্র হয়ে আবূ তালিবের কাছে এসে বলল,
আপনার ভাইপো আমাদের প্রতিমাগুলোকে মন্দ বলে, এগুলোর সমালোচনা করে, আমাদের ধর্মকে খারাপ আর আমাদেরকে আহমক, মূর্খ এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট বলছে। আপনি হয় তাকে নিষেধ করুন অথবা তার ও আমাদের মধ্যে কিছু হলে আপনি আসবেন না, আমরা নিজেরাই বোঝাপড়া করব। আবূ তালিব তাদেরকে সুসম্পর্ক ও নম্রতা দিয়ে বশীভূত করেন। আর হযরত (সা) একইভাবে তাওহীদের দাওয়াত এবং কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধাচরণে মশগুল থাকলেন। এতে আবু লাহাব এবং তার সমচিন্তার লোকদের হিংসা ও শত্রুতার আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করল।
ঐসব লোকের একটি দল দ্বিতীয়বার আবূ তালিবের নিকট এলো এবং বলল, আপনার শরাফত ও মর্যাদা আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য, কিন্তু নিজেদের প্রভুদের প্রতি অভিসম্পাত আর পূর্বপুরুষদেরকে আহমক ও মূর্খ বলার বিষয়টি আমরা সহ্য করতে পারি না। আপনি আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রকে বারণ করুন, অন্যথায় লড়াই করে আমাদের কোন এক পক্ষ শেষ হয়ে যাবে। এ কথা বলেই তারা চলে গেল। পুরো খান্দান ও সম্প্রদায়ের বিরোধিতা ও শত্রুতা আবু তালিবের মনকে প্রভাবিত করলো।
যখন হযরত (সা) তাশরীফ আনলেন। আবূ তালিব বললেন, হে প্রিয় বৎস! তোমার সম্প্রদায়ের লোকজন আমার কাছে এসেছিল এবং এইসব বলে গেল। কাজেই তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ কর এবং নিজের প্রতিও একটু নজর দাও। আমার উপর সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিও না। আবূ তালিবের এ ধরনের বাক্যালাপে রাসূল (সা)-এর মনে এ ধারণার উদয় হলো যে, হয়ত আবূ তালিব আমার সাহায্য-সহায়তা থেকে বিরত থাকতে চাইছেন। কাজেই তিনি ছলছল নেত্রে ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বললেন, চাচাজান! আল্লাহর কসম, যদি এরা আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চন্দ্রও এনে দেয় এবং বলে এ কাজ ছেড়ে দাও, তবুও আমি কখনো তা ছাড়তে পারবো না; যতক্ষণ না আল্লাহ আমার দীনকে বিজয়ী করেন অথবা আমি ধ্বংস হয়ে যাই। এ কথা বলে তিনি কেঁদে ফেলেন এবং উঠে চলে যেতে লাগলেন। আবূ তালিব উচ্চৈস্বরে বললেন, ওহে প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমার যা খুশি কর, আমি কখনই তোমাকে শত্রুর হাতে তুলে দেব না।’

সূক্ষ্ম তত্ত্ব: বাহ্যিক দৃষ্টিতে চন্দ্র-সূর্য থেকে কোন বস্তুই উজ্জ্বল ও প্রভাযুক্ত নয়।
কিন্তু অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদের নিকট ঐ প্রকাশ্য নূর, যা মুহাম্মদ রাসূল (সা) পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিলেন, তা ঐ চন্দ্র-সূর্য থেকেও বেশি উজ্জ্বল ও প্রভাময়। মুশরিকগণ এ প্রকাশ্য নূরকে নিভিয়ে দিতে তৎপর, যেমনটি আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন:
يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِوْا نُورَ اللهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَابَيَ اللهُ إِلا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكُفِرُونَ
“এরা চায় ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরকে পূর্ণতায় পৌঁছাবেন যদিও কাফিররা তা অপসন্দ করে।” (সূরা তাওবা: ৩২)
রাসূল (সা) এ জন্যে চন্দ্র-সূর্যের উল্লেখ করে বলেন, যে প্রকাশ্য নূর আমি নিয়ে এসেছি, এর সামনে চন্দ্র ও সূর্যের কোন গুরুত্বই নেই। চন্দ্র ও সূর্যের ঐ প্রকাশ্য নূরের সামনে অণুর সাথে সূর্যের যতটুকু সম্পর্ক রয়েছে, ততটুকু সম্পর্কও নেই। কাজেই তোমাদের মত মূর্খের কথা অনুযায়ী আমি উন্নততর নূরকে ছেড়ে তুচ্ছ নূরকে কেন গ্রহণ করব? আর যেভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ডান হাত উন্নত ও উত্তম, তেমনি চন্দ্রের তুলনায় সূর্যও উন্নত ও উত্তম, এ জন্যেই আরব ও আজমের সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধভাষী নবী করীম (সা) সূর্যকে ডান হাতে এবং চন্দ্রকে বাম হাতে রাখার কথা বলেছেন।
বড়ই কাজের কথা
হযরত (সা)-এর কুফর ও শিরক বিরোধী প্রকাশ্য ঘোষণা এবং মূর্তি ও মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে ঘৃণার দরুন তাঁর ও তাঁর সাহাবাদের তীব্র শত্রুতা ও বিরোধিতার মুখে অটল থাকা এ বিষয়েরই প্রকাশ্য প্রমাণ যে, ঈমান এবং ইসলামের জন্য কেবল অন্তরে সত্যায়ন অথবা মৌখিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়, বরং কুফর ও কাফিরী এবং শিরকের বৈশিষ্ট্য ও আনুসঙ্গিকতার বিরোধিতা জরুরী এবং সেগুলো অপসন্দ করাও অত্যাবশ্যক। যেমন আল্লাহ বলেন:
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرْءَاؤُا مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَداً حَتَّى تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَحْدَهُ
“তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সঙ্গীগণের মধ্যে অবশ্যই একটি অনুসরণীয় উত্তম আদর্শ রয়েছে। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার পূজা কর তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে মানি না। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো যদি না তোমরা এক আল্লাহ বিশ্বাস স্থাপন কর।” (সূরা মুমতাহানা : ৪)

ধর্ম অবমাননা 11
ধর্ম অবমাননা 13
ধর্ম অবমাননা 15
ধর্ম অবমাননা 17
ধর্ম অবমাননা 19

এবারে আসুন ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রচিত মুখতাসার যাদুল মা‘আদ গ্রন্থ থেকে একই বিষয় জেনে নিই, [6]

লোকেরা একের পর এক আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকল। তখনও কুরাইশরা কোন প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু পরে যখন তিনি তাদের বাতিল ও বানোয়াট ধর্মের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতে লাগলেন এবং তাদের কল্পিত মাবুদদেরকে এইভাবে কটুক্তি করলেন যে, এগুলো কোন উপকার ও ক্ষতির মালিক নয় তখন তারা শক্তভাবে তাঁর দাওয়াতের বিরোধীতা শুরু করল এবং নাবী ও তাঁর সাহাবীদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করতে লাগল। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে তাঁর চাচা আবু তালেবের মাধ্যমে হেফাজত করলেন। আবু তালেব ছিল কুরাইশদের মধ্যে সম্মানিত ও ভদ্র একজন নেতা। তার

নবীর ধর্ম অবমাননা

এবারে আসুন আসহাবে রাসুলের জীবনকথাতে বর্ণিত ইবনু হিসামের আল সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ গ্রন্থের একটি দলিল পড়ে নিই। এখানে দেখুন, কিছু পৌত্তলিক এসে নবীকে জিজ্ঞেস করলো, আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যিনি পৌত্তলিকদের বাপ দাদাদের গালাগালি করেন, তাদের উপাস্যকদের দোষের কথা বলেন, পৌত্তলিকদের বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান লোকেদের নির্বোধ ও বোকা মনে করেন? উত্তরে নবী বললো, হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি। অর্থাৎ তিনিই এই সব কর্ম করে থাকেন [7] –

হয়। রাসূল (সা) তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন সে বলে মুহাম্মাদ! আমার ছোট্ট মেয়েগুলোর জন্য কে থাকবে? বললেন জাহান্নাম। তারপর সে বলে, আমি কুরায়শ হওয়া সত্ত্বেও আমাকে তুমি হত্যা করবে? বললেন: হাঁ। তারপর তিনি সাহাবীদের দিকে ফিরে বলেন তোমরা কি জান এই লোকটি আমার সাথে কিরূপ আচরণ করেছিল? একদিন আমি মাকামে ইবরাহীমের পিছনে সিজদারত ছিলাম। এমন সময় সে এসে আমার ঘাড়ের উপর পা উঠিয়ে এত জোরে চাপ দেয় যে, আমার চোখ দু’টি বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আরেকবার আমি সিজদায় আছি। এমন সময় সে কোথা থেকে ছাগলের বর্জ্য এনে আমার মাথায় ঢেলে দেয়। ফাতিমা দৌড়ে এসে তা সরিয়ে আমার মাথা ধুইয়ে দেয়। মুসলমানদের হাতে এ পাপিষ্ঠ ‘উকবার জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
সেই কিশোর বয়সে ফাতিমা পিতার হাত ধরে একদিন গেছেন কা’বার আঙ্গিনায়। তিনি দেখলেন, পিতা যেই না হাজারে আসওয়াদের কাছাকাছি গেছেন অমনি একদল পৌত্তলিক একযোগে তাঁকে ঘিরে ধরে বলতে লাগলো আপনি কি সেই ব্যক্তি নন যিনি এমন এমন কথা বলে থাকেন? তারপর তারা একটা একটা করে গুনে বলতে থাকে: আমাদের বাপ-দাদাদের গালি দেন, উপাস্যদের দোষের কথা বলেন, বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোকদেরকে নির্বোধ ও বোকা মনে করেন।
তিনি বলেন: হাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি।
এর পরের ঘটনা দেখে বালিকা ফাতিমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তিনি ভয়ে অসাড় হয়ে পড়েন। দেখেন, তাদের একজন তাঁর পিতার গায়ের চাদরটি তাঁর গলায় পেঁচিয়ে জোরে টানতে শুরু করেছে। আর আবূ বকর (রা) তাদের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত কণ্ঠে বলছেন: তোমরা একটি লোককে শুধু এ জন্য হত্যা করবে যে, তিনি বলেন: আল্লাহ আমার রব, প্রতিপালক?
লোকগুলো আগুন ঝরা দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকালো। তাঁর দাড়ি ধরে টানলো, তারপর মাথা ফাটিয়ে রক্ত ঝরিয়ে ছাড়লো।

ধর্ম অবমাননা 22

এবারে আসুন আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থ থেকে কয়েকটি পাতা পড়ে নিই এবং দেখি যে, নবী মুহাম্মদই পৌত্তলিক কুরাইশদের ধর্মকে গালাগালি আর নিন্দা শুরু করেছিল কিনা [8] –

একজন লোককে তোমরা কি কেবল এজন্যেই হত্যা করবে যে, সে বলে আমার প্রতিপালক আল্লাহ অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ সহ তোমাদের নিকট এসেছে। সে মিথ্যাবাদী হলে তার মিথ্যাবাদিতার জন্যে সে দায়ী হবে। আর যদি সে সত্যবাদী হয়, সে তোমাদেরকে যে শাস্তির কথা বলে তার কতক তোমাদের উপর আপতিত হবেই। আল্লাহ্ তা’আলা সীমালংঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সৎপথে পরিচালিত করেন না (৪০ঃ ২৮)।
এ হাদীছের সমর্থনে আল্লামা বায়হাকী (র) হাকিম….. উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন ‘আসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি কুরায়শদের শত্রুতার জঘন্যতম প্রকাশরূপে আপনি কোন ঘটনা দেখেছেন? তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমি যা দেখেছি তা হল, তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ একদিন কা’বা শরীকের হাতীম অংশে সমবেত হয়েছিল। সেখানে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রসংগ আলোচনা
করে। তারা বলে যে, এই লোকটির ব্যাপারে আমরা যা ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করছি এরূপ ধৈর্যধারণ করতে আমরা কখনো কাউকে দেখিনি। সে আমাদের ধৈর্যশীল ও জ্ঞানবান লোকদেরকে মূর্খ ঠাওরাচ্ছে। আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে গালমন্দ করছে আমাদের দীন-ধর্মের সমালোচনা করছে আমাদের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করছে আমাদের দেবতা ও উপাস্যদেরকে গাল দিচ্ছে। তার ব্যাপারে আমরা এখন এক মহাসংকটের সম্মুখীন।
তারা হুবহু এ কথা বা এমর্মের বক্তব্য রেখেছিল অথবা তারা আলোচনা করছিল ঠিক ওই সময়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে এলেন এবং সোজা এসে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করেন। এরপর তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে তিনি তাওয়াফ করতে শুরু করেন। তাঁকে উদ্দেশ্য করে তারা বিভিন্ন কটূক্তি করতে থাকে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মুখমণ্ডলে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবু তিনি তাওয়াফ চালিয়ে যেতে থাকেন। দ্বিতীয় চক্করে যখন তিনি তাদেরকে অতিক্রম করছিলেন, তখনও তারা তাঁকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করে। তৃতীয়বারও যখন তারা এরূপ করলো, তখন তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা কি শুনছো? আমি কিন্তু তোমাদের জন্যে এমন বিষয় নিয়ে এসেছি যাতে তোমাদের যবাহ্ হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তার বক্তব্য শুনে তাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সকলের মধ্যে পিন-পতন নিস্তব্ধতা বিরাজ করে।
সবাই তখন স্থির ও অনড় যেন তাদের মাথায় পাখি বসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিন্দামুখর

ব্যক্তিটি সে বক্তব্যটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে বলে-হে আবুল কাসিম! ভালোয় ভালোয় এখান থেকে চলে যাও, তুমি তো মূর্খ নও। রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলে গেলেন। পরের দিন তারা সকলে পুনরায় হাতীম অংশে সমবেত হয়। আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তারা একে অন্যকে বলে, তোমরা যা কিছু করো না আর সে যা কিছু করেছে তা তো তোমাদের সবারই আছে। এমনকি যখন সে তোমাদের অপসন্দের কথা বলেছে তোমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছ।
ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এসে সেখানে উপস্থিত হন। তারা সবাই একযোগে তাঁর উপর আক্রমণ চালায়। সকলে তাঁকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তিনি তাদের দীন-ধর্ম ও উপাস্যদের যে দোষত্রুটি বর্ণনা ও সমালোচনা করেন, সেগুলো উল্লেখ করে তারা বলে, তুমিই কি এরূপ বলে থাক? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন, হ্যাঁ, আমিই এরূপ বলে থাকি। তাদের একজনকে আমি দেখলাম যে, সে তাঁর চাদরের উভয় প্রান্ত কষে ধরে তাঁর গলায় পেঁচিয়ে সজোরে টানছে। এদিকে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে হযরত আবূ বকর (রা) তার প্রতিবাদ করে বলছিলেন, তোমাদের সর্বনাম হোক। তোমরা একজন মানুষকে কি কেবল এ জন্যেই হত্যা করবে যে, সে বলে আমার প্রতিপালক আল্লাহ্? তখন তারা তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। কুরায়শদের নিষ্ঠুর আচরণসমূহের মধ্যে এটিই আমার দেখা নিষ্ঠুরতম আচরণ।
পরিচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি কুরায়শ নেতৃবর্গের আক্রোশ, তাঁর সাহায্য-সহযোগিতা ও তাঁকে রক্ষা করায় সর্বদা প্রস্তুত তাঁর চাচা আবূ তালিবের নিকট তাদের সমবেত উপস্থিতি এবং তাঁকে তাদের হাতে সোপর্দ করার দুরাশা। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় চাচা আবু তালিব তাঁকে তাদের হাতে সোপর্দ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।
‘ইমাম আহমদ (র) বলেন, ওয়াকী’ আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, আল্লাহর পথে আমি এমন নির্যাতন ভোগ করেছি যা অন্য কাউকে ভোগ করতে হয়নি। আল্লাহর পথে আমি এমন ভয়-ভীতির মুখোমুখি হয়েছি অন্য কেউ তেমনটি হয়নি। রাতে-দিনে ত্রিশ দিন আমার এমন কেটেছে যে, আমার নিকট এবং বিলালের নিকট কোন জীবের আহারযোগ্য কিছুই ছিল না। বিলাল তার বগলের নীচে যেটুকু খাদ্য রেখেছিল তা ব্যতীত। তিরমিযী ও ইব্‌ন মাজাহ্ হাম্মাদ ইব্‌ন সালামাহ্ থেকে এ হাদীছটি উদ্ধৃত করেছেন। তিরমিযী একে সহীহ্ ও হাসান বলে অভিহিত করেছেন।
মুহাম্মদ ইব্‌ন ইসহাক বলেন, চাচা আবু তালিব রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি অপার দয়া দেখিয়েছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে রক্ষা করেছেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) অব্যাহত গতিতে দীন প্রচারে আল্লাহ্ নির্দেশ পালন করে গিয়েছেন। কোন কিছুই তাঁকে দীন প্রচার থেকে বিরত রাখতে পারেনি। কুরায়শরা যখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে পরিত্যাগ করা এবং তাদের উপাস্যদের সমালোচনা করা ইত্যাকার তাদের অপসন্দনীয় কাজগুলো থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বিরত থাকছেন না এবং তারা এও দেখল যে, চাচা আবু তালিব তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এবং তাঁকে ওদের হাতে সোপর্দ করতে অস্বীকার করছেন, তখন তাদের নেতৃস্থানীয় একটি প্রতিনিধি দল আবূ তালিবের নিকট উপস্থিত

হয়। প্রতিনিধি দলে ছিল উতবা ইবন রাবীআ, শায়বা ইবন রাবীআ (ইব্‌ন আব্দ শামস ইন্ন আব্দ মানাফ ইব্‌ন কুসাই), আবূ সফিয়ান সাখর ইবন হারব ইবন উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শাম্স, আবুল বুখতারী ‘আস ইবন হিশাম (ইবন হারিছ ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদিল উয্যা ইব্‌ন কুসাই, আসওয়াদ ইব্‌ন মুতিব ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদিল উয্যা, আবু জাহল তার নাম আমর ইব্‌ হিশাম ইব্‌ন মুগীরা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইবন মাখযুম, ওয়ালীদ ইব্‌ন মুগীরা ইব্‌ন আবদিল্লাহ্ ইবন উমার ইব্‌ন্ন মাখযূম ইব্‌ন ইয়াকযা ইবন মুররা ইন্ন কাআব ইব্‌ন লুওয়াই নাবীহ্ ও মুনাব্বিহ- এদের দু’জনের পিতা হাজ্জাজ ইব্‌ন আমির ইবন হুযায়ফা ইবন সাঈদ ইব্‌ন সাহম ইব্‌ন আমর ইবন হাসীস ইবন কাআব ইব্‌ লুওয়াই, ‘আস ইব্‌ন ওয়াইল ইব্‌ন সাঈদ ইব্‌ন সাহম। ইবন ইসহাক বলেন, তাদের সাথে আরো কেউ ও থাকতে পারে।
তারা বলল, হে আবূ তালিব! আপনার ভাতিজা তো আমাদের উপাস্যদেরকে গলি মন্দ করে, আমাদের ধর্মের সমালোচনা করে, আমাদের বিজ্ঞজনদেরকে মূর্খ বলে আখ্যায়িত করে এবং আমাদের পূর্ব পুরূষদেরকে পথ ভ্রষ্ট রূপে চিহ্নিত করে। সুতরাং আপনি হয় আমাদের দুর্নাম করা থেকে তারা বিরত রাখবেন, নতুবা তার ও আমাদের মধ্যস্থল থেকে আপনি সরে দাঁড়াবেন। কারণ, তার ধর্মমতের বিরোধিতায় আপনি ও আমাদের ন্যায় আছেন, তখন আমরা তাকে দেখে নিব।
আবূ তালিব তাদের সাথে নম্রভাবে কথা-বার্তা বললেন এবং ভালোয় ভালোয় তাদেরকে বিদায় দিলেন। তারা চলে গেল, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যথা নিয়মে তার কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন, তিনি আল্লাহর দীন প্রচার ও মানুষকে আল্লাহ্র পথে ডাকার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তাদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠে। এদিকে কুরায়শদের মধ্যে পরস্পর অধিকহারে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা আলোচিত হতে থাকে। ফলে, তারা তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার চিন্তা-ভাবনা করে এবং একে অন্যকে এ জন্যে প্ররোচিত করে। তারা
দ্বিতীয়বার আবূ তালিবের নিকট আসে। তারা বলে, হে আবূ তালিব। আমাদের মধ্যে আপনি একজন প্রবীণ মর্যাদাবান ও সম্ভ্রান্ত লোক। আপনাকে আমরা বলেছিলাম, আপনার ভাতিজাকে আমাদের সমালোচনা থেকে বিরত রাখতে, আপনি কিন্তু তাকে থামিয়ে রাখেননি। আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে গালি দেয়া জ্ঞানী-গুণীদেরকে মূর্খ বলা এবং আমাদের উপাস্যদের
সমালোচনা
করার ন্যায় অনাচার আমরা আর সহ্য করব না। শেষ পর্যন্ত হয় আপনি তাকে আমাদের থেকে
বিরত রাখবেন নতুবা এর ফলশ্রুতিতে আমরা তার এবং আপনার উপর চড়াও হব। যতক্ষণ না আমাদের দু’পক্ষের কোন এক পক্ষ ধ্বংস হয়। তারা হুবহু তাকে একথা বা এমর্মের অন্য কোন
কথা বলেছিল। এরপর তারা ওখান থেকে প্রস্থান করে। স্বগোত্রীয়দের লোকদের বিচ্ছেদ-বেদনা ও শত্রুতা আবূ তালিবের নিকট গুরুতর ঠেকে। আবার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ওদের হাতে সোপর্দ করা কিংবা তাঁকে অপমানিত করার ব্যাপারেও তিনি কোনমতে সম্মত ছিলেন না।
ইবন ইসহাক বলেন, ইয়াকুব ইব্‌ন উতবা বলেছেন, কুরায়শের নেতৃবর্গ যখন আবু তালিবকে একথা বলল, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ডেকে আনলেন এবং বললেন, “ভাতিজা! তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমার নিকট এসে এরূপ এরূপ বলেছে। তারা যা যা

পূর্ববর্তিগণ (২১:৫)। বস্তুত রাসূলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে তারা কি বক্তব্য দিবে সে বিষয়ে তারা অস্থিরতায় ভুগছিল। তারা যা-ই বলতে চেয়েছে, তা-ই মিথ্যা ও অসত্যরূপে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ, সত্য পথ যে ত্যাগ করে, তার সকল কথাই ভুল হয়। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন:
انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَصَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلاً.
দেখুন, ওরা আপনার কী উপমা দেয়! ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং ওরা পথ পাবে না (১৭৪ ৪৮)।
আরদ ইবন হুমায়দ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আবূ বকর ইব্‌ন আবূ শায়বা…… জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কুরায়শ বংশের লোকেরা একদিন এক পরামর্শ সভায় মিলিত হয়। তারা বলল, জাদুবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং কবিতা সম্পর্কে আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বাধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তাঁকে খুঁজে বের কর। সে যেন ওই লোকের নিকট যায়, যে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্ট করে
দিয়েছে এবং আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছে। আমাদের অভিজ্ঞ লোকটি যেন তার সাথে কথা
বলে এবং সে কি উত্তর দেয় তা লক্ষ্য করে। তারা বলল, এ বিষয়ে উতবা ইব্‌ন রাবীআ ব্যতীত অন্য কাউকে আমরা উপযুক্ত মনে করছি না। উতবার উদ্দেশ্যে তারা বলল, হে আবু ওয়ালীদ আপনিই এই দায়িত্ব পালন করুন। তখন উতবা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসে। সে বলে, হে মুহাম্মদ! তুমি উত্তম, নাকি তোমার পিতা আবদুল্লাহ্? তিনি কিছু না বলে চুপ করে রইলেন। সে এবার বলল, তুমি উত্তম, নাকি আবদুল মুত্তালিব? তিনি চুপ করে রইলেন। উতবা এবার বলল, তুমি যদি মনে কর যে, তারা তোমার চেয়ে উত্তম ছিলেন, তবে তারা তো সে সব উপাস্যের উপাসনা করে গিয়েছেন তুমি যেগুলোর নিন্দা করছ। আর তুমি যদি মনে কর যে, তুমি তাদের তুলনায় উত্তম, তবে তুমি তোমার নিজের কথা বল আমরা তা শুনি।
আল্লাহ্র কসম! নিজ সম্প্রদায়ের জন্যে তুমি যত ক্ষতিকর ও অলক্ষুণে ততোধিক ক্ষতিকর ও অলক্ষুণে কাউকে আমরা দেখি না। তুমি আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছ। আমাদের সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করে দিয়েছ এবং আমাদের ধর্মের নিন্দা করেছ। সমগ্র আরব দেশে এ কথা ছড়িয়ে পড়েছে যে, কুরায়শ গোত্রে একজন জাদুকরের আবির্ভাব ঘটেছে। একজন গণকের আগমন ঘটেছে। আল্লাহ্র কসম, আমরা এখন গর্ভবতী মহিলার প্রাণফাটা চীৎকারের ন্যায় একটি চীৎকারের আশংকায় অস্থির রয়েছি যে চীৎকার শুনে আমাদের একদল অপরদলের উপর তরবারি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ফলে আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাব। ওহে, তোমার যদি কোন অভাব-অনটন থাকে, তাহলে আমরা তোমাকে প্রচুর ধন-সম্পদ সংগ্রহ করে দিব, যাতে তুমি কুরায়শ বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হতে পার। তোমার যদি বিয়ে-শাদী করার ইচ্ছা থাকে তবে কুরায়শ বংশের যে মহিলাকে তোমার পসন্দ হয় তার কথা বল, সে রকম দশজন মহিলা আমরা তোমার নিকট বিয়ে দিয়ে দিব। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আপনার কথা কি শেষ হয়েছে? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন:

ধর্ম অবমাননা 24
ধর্ম অবমাননা 26
ধর্ম অবমাননা 28
ধর্ম অবমাননা 30

নবী মুহাম্মদ বলেছেন, আমাকে মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এই কথাটি সহিহ হাদিসেও বর্ণিত রয়েছে। [9] [10]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭/ ফাযাইলুল কুরআন
পরিচ্ছেদঃ ১৭. যে সকল ওয়াক্তে সালাত আদায় করা নিষেধ
১৮০৩। আহমাদ ইবনু জাফর আল মা’কিরী (রহঃ) … ইকরামা (রহঃ) বলেন, শাদ্দাদ, আবূ উমামা ও ওয়াসিলার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সিরিয়া ভ্রমণকালেও আনাস (রাঃ) এর সহচর ছিলেন। তিনি তার প্রশংসা করেছেন ও তার মহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। আবূ উমামা (রাঃ) বলেন, আমর ইবনু আবাসা সুলামী (রাঃ) বলেন, আমি প্রাক ইসলাম যুগে সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট বলে ধারণা করতাম। তারা কোন ধর্মের উপর নেই। তারা সবাই মুর্তি পূঁজা, দেব-দেবীর পূঁজা করত। তিনি বলেন, তখন আমি মক্কায় এমন এক ব্যাক্তির কথা শুনলাম যিনি বিভিন্ন সংবাদ বর্ণনা করেন। তখন আমি সাওয়ারীর উপর আরোহণ করে তাঁর নিকট এলাম এবং আমি জানতে পারলাম যে তিনি জনসমাবেশ থেকে নিজকে দুরে রাখেন। তাঁর কাওম তাঁর উপর নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মক্কায় তার নিকট পৌছিলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার পরিচয় কি?
তিনি বললেন, আমি নবী। আমি বললাম, নবী কি? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহ আপনাকে কি দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আমাকে আত্নীয়তার বন্ধন সুদূঢ় করা, দেব-দেবী ও মূর্তি ভেঙ্গে দেওয়া, আল্লাহকে এক বলে জানা এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছু শরীক না করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কারা আছে? তিনি বললেন, একজন স্বাধীন ব্যাক্তি ও একজন কৃতদাস। তিনি বলেন যে, তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিলেন তাদের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ) ছিলেন। আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হাত চাই। তিনি বললেন, বর্তমান অবস্থায় তুমি তা পারবে না। তুমি আমার অবস্থা ও লোকজনের অবস্থা কি দেখছ না? তুমি বরং পরিজনদের কাছে ফিরে যাও। যখন আমি বিজয় লাভ করেছি বলে শুনতে পাবে তখন আমার কাছে এসো।
তিনি বললেন, আমি পরিজনদের কাছে চলে গেলাম। ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় গমন করলেন। তখন আমি পরিজনদের মাঝে অবস্থান করছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় গমন করার পর থেকে আমি সর্বদা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর এবং মানুষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। মদিনাবাসীদের একদল লোক আমার কাছে এলেন। তাদেরকে আমি জিজ্ঞেস করলাম। যে ব্যাক্তি মদিনায় আগমন করেছেন তিনি কি করছেন, তাঁর অবস্থা কি? তারা বললেন, লোকজন অতি দ্রুত তাঁর সাহচর্যে যাচ্ছে তাঁর কাওম তাঁকে হত্যা করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তারা সফলকাম হয়নি। আমি এ কথা শুলে মদিনায় গেলাম এবং তাঁর কাছে পৌছলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, তুমি সে ব্যাক্তি যে আমার সাথে মক্কায় সাক্ষাৎ করেছিলে।
(বর্ণনাকারী) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি আবার বললাম, ইয়া-নাবী আল্লাহ। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছেন, অথচ আমি তা জানি না, তা আমাকে শিক্ষা দিন। আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, ফজরের সালাত আদায় করবে। এরপর সূর্য উদিত হয়ে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত তুমি সালাত থেকে বিরত থাক। কেননা সূর্য যখন উদিত হয় তখন সেটা উদিত হয় শয়তানের দু’ শিং-এর মাঝখান দিয়ে। সে সময়ে কাফির তাকে সিজদা করে। এরপর সালাত আদায় কর, তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত। সালাতে ফিরিশতাগণের উপস্থিতি এবং সাক্ষ্যের ব্যাপার রয়েছে। এরপর সালাত থেকে বিরত থাকো কেননা এ সময়ে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। এরপর যখন ছায়ায় পরিবর্তন শুরু হয় তখন সালাত পড়তে থাক। ফিরিশতাগণ সালাতে উপস্থিত থাকেন। অর্থাৎ আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত, তারপর সালাত হতে বিরত থাক সূর্য অস্তমিত না যাওয়া পর্যন্ত। কেননা সূর্য শয়তানের দু’শিং-এর মধ্যে দিয়ে অস্ত যায়। ঐ সময় কাফিররা তাকে সিজদা করে।
রাবী বলেন,আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কে আমাকে বলে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কোন ব্যাক্তির কাছে যখন ওযুর পানি পেশ করা হয়, এরপর সে কুলি করে ও নাকে পানি দেয় ও তা পরিষ্কার করে। তখন তার মুখমন্ডলের মূখ গহব্বর ও নাকের সকল গুনাহ ঝরে যায়। তারপর যখন সে আল্লাহ পাকের নির্দেশ অনুসারে মুখমন্ডল ধোয় তখন মুখমন্ডলের চারিদিক থেকে সকল গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন দু’ হাত ধোয় কুনূই পর্যন্ত, তখন তার উভয় হাতের গুনাহসমূহ আঙ্গুল দিয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর উভয় পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করলে উভয় পায়ের গুনাহগুলো আঙ্গুল দিয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করে, যথাযথভাবে ও তাঁর অন্তরকে আল্লাহর জন্য মুক্ত করে নেয়, তাহলে সে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে সেদিনের মত যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করোছিল।
আমর ইবনু আবাসা (রাঃ)ও হাদীসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ উমামা (রাঃ) এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আবূ উমামা (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আমর ইবনু আবাসা! ভেবে দেখ, তুমি কি বলছ! একই স্থানে ঐ ব্যাক্তিকে এত মর্যাদা দেয়া হবে? তখন আমর (রাঃ) বললেন, হে আবূ উমামা (রাঃ)! আমি বয়োবৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আমার হাড়গুলো নরম হয়ে গিয়েছে। আমার মৃত্যুকাল নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মিথ্যা আরোপের কোন প্রয়োজন আমার নেই। আমি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে না শুনতাম একবার দু’বার, তিনবার এমনকি তিনি সাত বার পর্যন্ত গণনা করলেন। তবে আমি কখনো এ হাদীস বর্ণনা করতাম না। আমি হাদীসটি সাত বারের চেয়েও অনেক বেশীবার শুনেছি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইকরিমা (রহঃ)

রিয়াযুস স্বা-লিহীন
১/ বিবিধ
পরিচ্ছেদঃ ৫১: আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব
২৭/৪৪৩। আবূ নাজীহ ‘আমর ইবনে ‘আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, জাহেলিয়াতের (প্রাগৈসলামিক) যুগ থেকেই আমি ধারণা করতাম যে, লোকেরা পথভ্রষ্টতার উপর রয়েছে এবং এরা কোন ধর্মেই নেই, আর ওরা প্রতিমা পূজা করছে। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির ব্যাপারে শুনলাম যে, তিনি মক্কায় অনেক আজব আজব খবর বলছেন। সুতরাং আমি আমার সওয়ারীর উপর বসে তাঁর কাছে এসে দেখলাম যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি গুপ্তভাবে (ইসলাম প্রচার করছেন), আর তাঁর সম্প্রদায় (মুশরিকরা) তাঁর প্রতি (দুর্ব্যবহার করে) দুঃসাহসিকতা প্রদর্শন করছে। সুতরাং আমি বিচক্ষণতার সাথে কাজ নিলাম। পরিশেষে আমি মক্কায় তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, ‘আপনি কী?’ তিনি বললেন, ‘‘আমি নবী।’’
আমি বললাম, ‘নবী কী?’ তিনি বললেন, ‘‘আমাকে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন।’’ আমি বললাম, ‘কী নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘‘জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে।’’ আমি বললাম, ‘এ কাজে আপনার সঙ্গে কে আছে?’ তিনি বললেন, ‘‘একজন স্বাধীন মানুষ এবং একজন কৃতদাস।’’ তখন তাঁর সঙ্গে আবূ বকর ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) ছিলেন। আমি বললাম, ‘আমিও আপনার অনুগত।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি এখন এ কাজ কোনো অবস্থাতেই করতে পারবে না। তুমি কি আমার অবস্থা ও লোকদের অবস্থা দেখতে পাও না? অতএব তুমি (এখন) বাড়ি ফিরে যাও। অতঃপর যখন তুমি আমার জয়ী ও শক্তিশালী হওয়ার সংবাদ পাবে, তখন আমার কাছে এসো।’’
সুতরাং আমি আমার পরিবার পরিজনের নিকট চলে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পরিশেষে) মদ্বীনা চলে এলেন, আর আমি স্বপরিবারেই ছিলাম। অতঃপর আমি খবরাখবর নিতে আরম্ভ করলাম এবং যখন তিনি মদ্বীনায় আগমন করলেন, তখন আমি (তাঁর ব্যাপারে) লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম। অবশেষে আমার পরিবারের কিছু লোক মদ্বীনায় এল। আমি বললাম, ‘ঐ লোকটার অবস্থা কি, যিনি (মক্কা ত্যাগ করে) মদ্বীনা এসেছেন?’ তারা বলল, ‘লোকেরা তার দিকে ধাবমান। তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি।’
অতঃপর আমি মদ্বীনা এসে তাঁর খিদমতে হাযির হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ, তুমি তো ঐ ব্যক্তি, যে মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিল।’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা আমার অজানা—তা আমাকে বলুন? আমাকে নামায সম্পর্কে বলুন?’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি ফজরের নামায পড়। তারপর সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কারণ তা শয়তানের দু’ শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় (অর্থাৎ এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং সে সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে।
পুনরায় তুমি নামায পড়। কেননা, নামাযে ফিরিশ্তা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর নামায থেকে বিরত হও। কেননা, তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়। অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন নামায পড়। কেননা, এ নামাযে ফিরিশ্তা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের নামায পড়। অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকো। কেননা, সূর্য শয়তানের দু’ শিঙ্গের মধ্যে অস্ত যায় (অর্থাৎ এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদাহ করে।’’
পুনরায় আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে ওযূ সম্পর্কে বলুন?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ পানি নিকটে করে (হাত ধোওয়ার পর) কুল্লি করে এবং নাকে পানি নিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করে, তার চেহারা, তার মুখ এবং নাকের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তার চেহারা ধোয়, তখন তার চেহারার পাপরাশি তার দাড়ির শেষ প্রান্তের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার হাত দু’খানি কনুই পর্যন্ত ধোয়, তখন তার হাতের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়।
অতঃপর সে যখন তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথার পাপরাশি চুলের ডগার পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পা দু’খানি গাঁট পর্যন্ত ধোয়, তখন তার পায়ের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে গিয়ে নামায পড়ে, আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে–যার তিনি যোগ্য এবং অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার জন্য খালি করে, তাহলে সে ঐ দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে বেরিয়ে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।’’
তারপর ‘আমর ইবনে আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট বর্ণনা করলেন। আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁকে বললেন, ‘হে ‘আমর ইবনে ‘আবাসাহ! তুমি যা বলছ তা চিন্তা করে বল! একবার ওযূ করলেই কি এই ব্যক্তিকে এতটা মর্যাদা দেওয়া হবে?’ ‘আমর বললেন, ‘হে আবূ উমামাহ! আমার বয়স ঢের হয়েছে, আমার হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যুও নিকটবর্তী। (ফলে এ অবস্থায়) আল্লাহ তা‘আলা অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করার আমার কী প্রয়োজন আছে?
যদি আমি এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে একবার, দু’বার, তিনবার এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তাহলে কখনই তা বর্ণনা করতাম না। কিন্তু আমি তাঁর নিকট এর চেয়েও অধিকবার শুনেছি।’ (মুসলিম) (1)
(1) মুসলিম ৮৩২, নাসায়ী ১৪৭, ৫৭২, ৫৮৪, ইবনু মাজাহ ২৮৩, ১২৫১, ১৩৫৪, আহমাদ ১৬৫৬৬, ১৬৫৭১, ১৬৫৭৮, ১৬৫৮০, ১৮৯৪০
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেইসাথে, মক্কা বিজয়ের দিনে নবী মুহাম্মদ কাবা ঘরের সকল প্রাচীন মূর্তি ধ্বংস করে ফেলেছিলেন। যেই মূর্তিগুলোকে পৌত্তলিকগণ শত শত বছর ধরে শ্রদ্ধার সাথে পুজা করতো। মূর্তিগুলোকে মুহাম্মদ অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশও দেন নি। সরাসরি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন [11] [12]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন
পরিচ্ছেদঃ ৪৬/৩২. মদের (মৃৎপাত্র) মটকা ভেঙ্গে ফেলা অথবা মশক ছিদ্র করা যায় কি? যদি কেউ নিজের লাঠি দ্বারা মুর্তি বা ক্রুশ অথবা তবলা অথবা কোন অপ্রয়োজনীয় বস্তু ভেঙ্গে ফেলে (তবে তার হুকুম কী)?
২৪৭৮. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (বিজয়ীর বেশে) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কা‘বা শরীফের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি মূর্তি ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেনঃ ‘‘সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)’’- (বনী ইসরাঈল/ইসরাঃ ৮১)। (৪২৮৭, ৪৭২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩১৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২২/ হজ্ব (হাজ্জ)
পরিচ্ছেদঃ ১০১৪. কা’বা ঘরের ভিতরে চারদিকে তাকবীর বলা
১৫০৬। আবূ মা’মার (রহঃ) … ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা) এলেন, তখন কা’বা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কা’বাঘরের ভিতর মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইবরাহীম ও ইসমা’ইল (আঃ) এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়- তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, (ইব্রাহীম ও ইসমা’ঈল (আঃ)) তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেন নি। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

শুধু যে এগুলো সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তা নয়। যখন নবীর ক্ষমতা কম থাকতো, তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতেন। আর যখনই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হতেন, জিহাদী লোকজন যোগার হয়ে যেতো, মুসলিমরা পৌত্তলিকদের মূর্তি এবং মন্দির ধ্বংস করে দিতো। ইয়ামেনের অন্তর্গত একটি জায়গায় পৌত্তলিকদের একটি তীর্থস্থান ছিল, যার নাম যুল খালাসা। সেটি যোদ্ধা পাঠিয়ে তিনি ধ্বংস করতে হুকুম দেন। এরকম ঘটনা অনেকগুলো। এই সম্পর্কে প্রখ্যাত স্কলার আল্লামা ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে বলা আছে, নবী মুহাম্মদ এই তীর্থস্থানটি ধ্বংসের নির্দেশ দেন [13] –

লাত ও উয্যা সম্বন্ধে এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্বন্ধে? (নাজম: ১৯)-এর তাফসীরে একটি অনুচ্ছেদে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি বলি: ইমাম বুখারী মক্কা বিজয়ের বর্ণনা শেষে খাছআম গোত্রের ইবাদতখানা ভাংগার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তারা এটাকে ইয়ামানী কা’বা বলতো এবং মক্কার কা’বা গৃহের শাখা মনে করতো। তারা মক্কার কা’বাকে আল-কা’বাতুল শামিয়া (সিরিয়ার কা’বা) এবং তাদের ওটাকে আল-কা’বাতুল ইয়ামানিয়া (ইয়ামানী কা’বা) বলতো। ইমাম বুখারী বলেন: ইউসুফ ইব্‌ন মূসা জারীর (রা) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে বললেন, “তুমি কি আমাকে যুল-খালাসার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবে না”? আমি বললাম “জ্বী, হ্যাঁ”। তখন আমি আহমাস গোত্রের একশ’ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে ছুটে চললাম। এরা সবাই ছিল ঘোড়-সাওয়ারে পারদর্শী। কিন্তু আমি ঘোড়ার পিঠে স্থির থাকতে পারতাম না। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আমার এ বিষয়টি ব্যক্ত করলে তিনি তাঁর মুবারক হাত দ্বারা আমার বুকে একটি মৃদু আঘাত করলেন। আমি আমার বুকে তার হাতের স্পর্শের প্রভাব অনুভব করলাম। আঘাতের সাথে তিনি দু’আ করলেন: “হে আল্লাহ্! তাকে স্থির হয়ে থাকতে দিন এবং তাকে হিদায়াত লাভকারী ও হিদায়াত দানকারী হিসেবে কবুল করুন”। জারীর (রা) বলেন, এরপর আর কখনও আমি ঘোড়ার উপর থেকে পড়ে যাইনি। তিনি বলেন, যুল-খালাসা ছিল ইয়ামানের অন্তর্গত খাছআম ও বুজায়লা গোত্রের ইবাদত গৃহ। সেখানে কিছু মূর্তি স্থাপিত ছিল। লোকেরা এর পূজা করতো। এ ঘরটিকে বলা হতো ইয়ামানী কা’বা। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সেখানে এসে ঘরটিকে ভেংগে দিলেন এবং আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী আরও বলেন, জারীর (রা) যখন ইয়ামানে পৌঁছেন তখন সেখানে এক ব্যক্তি থাকতো এবং সে তীরের সাহায্যে ভাগ্য গণনা করতো। তাকে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দূত এখানে আছেন, তোমাকে ধরতে পারলে গর্দান উড়িয়ে দিবেন। একদিন সে তীর দিয়ে ভাগ্য গণনা কাজে রত ছিল। এমন সময় জারীর (রা) সেখানে উপস্থিত হন। তিনি তাকে বললেন, “তীরগুলো ভেংগে ফেলো ও আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই এ কথার সাক্ষ্য দাও; অন্যথায় তোমার গর্দান উড়িয়ে দিব”। লোকটি তখন তীরগুলো ভেংগে ফেললো এবং এক আল্লাহর সাক্ষ্য দিল। এরপর জারীর (রা) আহমাস গোত্রের আরতাত নামক এক ব্যক্তিকে এ সংবাদ জানাবার জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। লোকটি নবী করীম (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, সে ইবাদত-খানাটিকে ঠিক পাঁচড়া আক্রান্ত উটের মত করে রেখে আমি এসেছি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনার পর নবী করীম (সা) আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতির বাহিনীর কল্যাণের জন্যে পাঁচবার দু’আ করলেন। এ হাদীছটি ইমাম মুসলিম বিভিন্ন সূত্রে ইসমাঈল ইব্‌ন আবূ খালিদ কায়স ইব্‌ন আবূ হাযিম- জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ বাজালী (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আলহামদু লিল্লাহ, ইন্ন কাছীরের তারীখুল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার চতুর্থ খণ্ড শেষ হলো। এরপর পঞ্চম খণ্ড শুরু হয়েছে তাবুক যুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে। এ যুদ্ধ হয়েছিল সে বছর রজব মাসে।

যুল খালাসা ধ্বংস

সহিহ বুখারী হাদিস গ্রন্থ থেকে এই সব বিষয়ের সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যায় [14] [15] [16] [17] [18] –

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯৫. ঘরবাড়ী ও খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দেওয়া
২৮১১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি কি আমাকে যিলখালাসার ব্যাপারে শাস্তি দিবে না? খাশআম গোত্রে একটি মূর্তি ঘর ছিল। যাকে ইয়ামানের কাবা নামে আখ্যায়িত করা হত। জারীর (রাঃ) বলেন, তখন আমি আহমাসের দেড়শ’ আশ্বরোহী সাথে নিয়ে রওনা করলাম। তারা নিপুন অশ্বারোহী ছিল। জারীর (রাঃ) বলেন, আর আমি অশ্বের উপর স্থির থাকতে পারতাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, আমি আমার বুকে তাঁর আঙ্গুলীর চিহৃ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য এ দোয়া করলেন যে, ‘হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং হেদায়েত প্রাপ্ত, পথ প্রদর্শনকারী করুন।’
তারপর জারীর (রাঃ) সেখানে গমন করেন এবং যুলখালাসা মন্দির ভেঙ্গে ফেলে ও জ্বালিয়ে দেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সংবাদ নিয়ে এক ব্যাক্তিকে তাঁর নিকট প্রেরণ করেন। তখন জারীর (রাঃ)-এর দূত বলতে লাগল, কসম সে মহান আল্লাহ তা‘আলার! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনার নিকট তখনই এসেছি যখনই যুলখালাসাকে আমরা ধংস করে দিয়েছি। জারীর (রাঃ) বলেন, তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাসের অশ্ব ও অশ্বারোহীদের জন্য পাচঁবার বরকতের দু‘আ করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছদঃ ২১৩১. জারীর ইবন আবদুল্লাহ বাজালী (রাঃ) এর আলোচনা
৩৫৪৯। ইসহাক আল ওয়াসিতী (রহঃ) … জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে কোনদিন আমাকে বাঁধা প্রদান করেন নি এবং যখনই আমাকে দেখেছেন মুচকি হাসি দিয়েছেন। জারীর (রাঃ) আরো বলেন, জাহিলী যুগে (খাস’আম গোত্রের একটি প্রতীমা রক্ষিত মন্দির) যুল-খালাসা নামে একটি ঘর ছিল। যাকে কা’বায়ে ইয়ামানী ও কা’বায়ে শামী বলা হত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার ব্যাপারে আমাকে শান্তি দিতে পার? জারীর (রাঃ) বলেন, আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে যাত্রা করলাম এবং (প্রতীমা ঘরটি) বিধ্বস্ত করে দিলাম। সেখানে যাদেরকে পেলাম হত্যা করে ফেললাম। ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সংবাদ শোনালাম। তিনি (অত্যন্ত খুশী হয়ে) আমাদের জন্য এবং আহমাস গোত্রের জন্য দু’আ করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

যুল খালাসা বুখারী ৩৫৪৯

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছদঃ ২২২৬. যুল খালাসার যুদ্ধ
৪০১৮। ইউসুফ ইবনু মূসা (রহঃ) … জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আমাকে যুল-খালাসার পেরেশানী থেকে স্বস্থি দেবেনা? আমি বললাম: অবশ্যই। এরপর আমি (আমাদের) আহমাস গোত্র থেকে একশত পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে চললাম। তাদের সবাই ছিলো অশ্ব পরিচালনায় অভিজ্ঞ। কিন্তু আমি তখনো ঘোড়ার উপর স্থির হয়ে বসতে পারতাম না। তাই ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন।
এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর হাতের চিহ্ন পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ্! একে স্থির হয়ে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েত দানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন’। জারীর (রাঃ) বলেন, এরপরে আর কখনো আমি আমার ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি। তিনি আরো বলেছেন যে, যুল-খালাসা ছিলো ইয়ামানের অন্তর্গত খাসআম ও বাজীলা গোত্রের একটি (তীর্থ) ঘর। সেখানে কতগুলো মূর্তি স্থাপিত ছিলো। লোকেরা এগুলোর পূজা করত এবং এ ঘরটিকে বলা হতো কা’বা।
রাবী বলেন, এরপর তিনি সেখানে গেলেন এবং ঘরটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন আর এর ভিটামাটিও চুরমার করে দিলেন। রাবী আরো বলেন, আর যখন জারীর (রাঃ) ইয়ামানে গিয়ে উঠলেন তখন সেখানে এক লোক থাকত, সে তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্নয় করত, তাকে বলা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতিনিধি এখানে আছেন, তিনি যদি তোমাকে পাকড়াও করার সুযোগ পান তাহলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন।
রাবী বলেন, এরপর একদা সে ভাগ্য নির্নয়ের কাজে লিপ্ত ছিল, সেই মূহুর্তে জারীর (রাঃ) সেখানে পৌঁছে গেলেন। তিনি বললেন, তীরগুলো ভেঙ্গে ফেল এবং আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই- এ কথার সাক্ষ্য দাও, অন্যথায় তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। লোকটি তখন তীরগুলো ভেঙ্গে ফেলল এবং (আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এ কথার) সাক্ষ্য দিল।
এরপর জারীর (রাঃ) আবূ আরতাত নামক আহমাস গোত্রের এক ব্যাক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে পাঠালেন খোশখবরী শোনানোর জন্য। লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সত্তার (আল্লাহর) কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, ঘরটিকে ঠিক খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত উটের মতো কালো করে রেখে আমি এসেছি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী এবং পদাতিক সৈনিকদের সার্বিক কল্যাণ ও বরকতের জন্য পাঁচবার দোয়া করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছদঃ ২২২৬. যুল খালাসার যুদ্ধ
৪০১৭। মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … কায়স (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, জারীর (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল-খালাসা থেকে স্বস্থি দেবে না? যুল-খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি (বানোয়াট তীর্থ) ঘর, যাকে বলা হত ইয়ামনী কা’বা। এ কথা শুনে আমি আহমাস্ গোত্র থেকে একশত পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে চললাম। তাঁদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল। আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে শক্তভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকের উপর হাত দিয়ে আঘাত করলেন। এমন কি আমার বুকের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র আঙ্গুলগুলোর ছাপ পর্যন্ত দেখতে পেলাম।
(এ অবস্থায়) তিনি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ্! একে (ঘোড়ার পিঠে) শক্তভাবে বসে থাকতে দিন এবং তাকে হেদায়েত দানকারী ও হেদায়েত লাভকারী বানিয়ে দিন। এরপর জারীর (রাঃ) সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে তা জ্বালিয়ে ফেললেন। এরপর তিনি (জারীর (রাঃ)) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দূত পাঠালেন। তখন জারীর (রাঃ) এর দূত (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) বলল, সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য বাণী সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত কালো উঠের মত রেখে আপনার কাছে এসেছি। রাবী বলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈনিকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৪/ মাগাযী (যুদ্ধ)
পরিচ্ছদঃ ৬৪/৬৩. যুল খালাসার যুদ্ধ।
৪৩৫৬. ক্বায়স (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জারীর (রাঃ) থেকে আমাকে বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে না? যুল খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি ঘর, যার নাম দেয়া হয়েছিল ইয়ামানী কা‘বা। এ কথা শুনে আমি আহ্মাস গোত্র থেকে একশ’ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে চললাম। তাঁদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল। আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে স্থিরভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকের উপর হাত দিয়ে আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুলগুলোর ছাপ পর্যন্ত দেখতে পেলাম। তিনি দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ! একে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াত দানকারী ও হিদায়াত লাভকারী বানিয়ে দিন। এরপর জারীর (রাঃ) সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙ্গে দিলেন আর তা জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর তিনি (জারীর (রাঃ)) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দূত পাঠালেন। তখন জারীরের দূত (রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলল, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে চর্মরোগে আক্রান্ত কাল উটের মতো রেখে আপনার কাছে এসেছি। রাবী বলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর জন্য পাঁচবার বারাকাতের দু‘আ করলেন। (৩০২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

যুল খালাসা বুখারী ৪০১৬
যুল খালাসা বুখারী ৪০১৭
যুল খালাসা বুখারী ৪০১৮

নবীর উপস্থিতিতে ধর্ম অবমাননা

সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদের সম্মুখেই আবু বকর কাফেরদের দেবদেবী নিয়ে অত্যন্ত অশালীন এবং কুরুচিপূর্ণ গালাগালি করতেন। নবীরও সেখানে নিরব সম্মতি ছিল, নইলে নবী আবু বকরকে তখনই থামাতেন। ফাতহুল বারী গ্রন্থের লেখক ইবনু হাজার আসকালানি এই হাদিসের ব্যাখ্যাতে বলেন, নবী সেই সময়ে আবু বকরের এই কাজে নিরব সম্মতি জানিয়েছিলেন [19]। এই হাদিসটি অত্যন্ত দীর্ঘ বিধায় কিছু অংশ এখানে দেয়া হচ্ছে, আগ্রহী পাঠকগণ বাদবাকি অংশ মূল বই থেকে পড়ে নিতে পারেন। কাফেরদের সাথে যত শত্রুতাই থাকুক না কেন, যত যুদ্ধই হোক না কেন, কাফেরদের দেবদেবী বা ধর্ম নিয়ে এরকম অবমাননাকর, নোংরা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোন সভ্য মানুষ কীভাবে বলতে পারে? [20] [21] –

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৬/ শর্তাবলী
পরিচ্ছেদঃ ১৭০১. যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে জিহাদ ও সন্ধির ব্যাপারে শর্তারোপ এবং লোকদের সাথে কৃত মৌখিক শর্ত লিপিবদ্ধ করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৫৪৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৭৩১ – ২৭৩৩
২৫৪৭। …
তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব?
…
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ)

ধর্ম অবমাননা 33

অন্য উপাস্যদের গালি দেয়া নিষেধ?

অনেক মুমিনই দাবী করে থাকেন যে, কোরআনে একটি আয়াতে [22] অন্য ধর্মের উপাস্যদের গালি দেয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই মিথ্যাবাদী মুমিনেরা যে বিষয়টি লুকায় তা হচ্ছে, এই আয়াতটি নাজিলের প্রেক্ষাপট [23]। মুহাম্মদই আগ বাড়িয়ে কাফেরদের দেবদেবীকে গালাগালি করতো, এর বিপরীতে মক্কার কাফেরগণও পাল্টা হুমকি দিয়েছিল যে, মুহাম্মদ এই কাজ করতে থাকলে তারাও মুহাম্মদের আল্লাহকে গালি দিবে। শুধুমাত্র নিজের আল্লাহকে গালির হাত থেকে রক্ষার জন্য মুহাম্মদ ভীত হয়ে এই আয়াতটি নাজিল করেছিল, যা তাফসীর গ্রন্থগুলোতে খুব পরিষ্কারভাবেই বলা আছে। এই কাজটি মুহাম্মদ মোটেও স্বপ্রোনোদিতভাবে করেনি, পাল্টা হুমকি পাওয়ার পরে করেছিল। এমন নয় যে, মুহাম্মদ কাফেরদের ধর্মগুলো বা বিশ্বাস সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজেই সেইসব ধর্মের উপাস্যদের গালি দেয়া থেকে বিরত থেকেছিল! শক্তিমত্তায় এবং জনবলে দুর্বল হওয়ার কারণে এই আয়াতটি ছিল মুহাম্মদের কল্পিত আল্লাহকে কাফেরদের গালাগাল থেকে রক্ষার জন্য। পরবর্তীতে ক্ষমতা পাওয়ার পরে মুহাম্মদ সেইসব উপাস্য দেবদেবীদের মূর্তি ও মন্দিরগুলোর কী করেছিল, তা পরে আলোচনা করছি। আপাতত আসুন সেই প্রেক্ষাপটটি জেনে নিই শায়খুল মুফাসসিরীন, ফক্বীহুল উম্মত আল্লামা ছানাউল্লাহ পানীপথীর তাফসীরে মাযহারী থেকে [24] –

ধর্ম অবমাননা 35
ধর্ম অবমাননা 37

এবারে এই আয়াতের তাফসীর দেখে নিই ইবনে কাসীরের তাফসীর থেকে [25] । ইবনে কাসীরের তাফসির থেকেও যা জানা যায় তা হচ্ছে, মুসলিমরাই আগে পৌত্তলিকদের প্রতিমাগুলোকে গালাগালি শুরু করে। তখন বাধ্য হয়ে পৌত্তলিক কোরাইশরা মুহাম্মদের চাচা আবু তালিবের কাছে বিচার দেয়, এবং তাদের দেবদেবীকে গালি দিতে নিষেধ করে। সেই সাথে এটিও হুমকি দেয়, মুহাম্মদ তাদের দেবদেবীকে গালি দিলে তারাও মুহাম্মদের আল্লাহকে গালি দিবে। তখন নিতান্তই বাধ্য হয়ে, তাফসীরের ভাষ্য অনুসারে “উপকার থাকা সত্ত্বেও” কাফেরদের প্রতিমাগুলোকে গালি দেয়া থেকে বিরত থাকার আয়াত নাজিল হয়, যেহেতু সেই সময়ে মুসলিমরা সংখ্যালঘু ছিল!

ধর্ম অবমাননা 39
ধর্ম অবমাননা 41

যার যার দ্বীন তার তার?

উপরের আলোচনা থেকে এটি মোটামুটি স্পষ্ট যে, ইসলাম আসলে অমুসলিমদের মন্দির, মূর্তি, এগুলো ধ্বংস করতেই উৎসাহ দেয়। অমুসলিমদের মন্দির এবং মূর্তি ধ্বংস করা ঠিক কিনা, এই বিষয়ে আলোচনা পরিপ্রেক্ষিতে কিছু মডারেট মুসলিম বলতে শুরু করেন, কোরআনে নাকি বর্ণিত আছে, যার যার দ্বীন তার তার! এই আয়াতটি আরো দুই একটি আয়াত দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায়, ইসলাম খুব শান্তির ধর্ম! ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষকেও অনেক অধিকার দেয়! বা ইসলাম একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্ম! অথচ, তারা কেউই এই আয়াতটির তাফসীর পড়ে দেখেন না [26] [27]। অনেকে আবার তাফসীর ঠিকই পড়ে, কিন্তু ইসলামের সম্মান রক্ষার্থে মিথ্যা বলে। আসুন এই আয়াতটি নিয়ে আলোচনা করি। এই বিষয়ে প্রখ্যাত ক্লাসিক্যাল তাফসীরগুলো কী বলে জেনে নিই। প্রথমে আয়াতটি দেখি [28] –

তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।
( সূরা কাফিরুন, আয়াত ৬ )

আসুন এবারে সরাসরি তাফসীর গ্রন্থগুলো থেকে কুরআনের এই আয়াতটির ব্যাখ্যা পড়ে নিই [29] –

ধর্ম অবমাননা 43
ধর্ম অবমাননা 45
ধর্ম অবমাননা 47
ধর্ম অবমাননা 49

উপরের তথ্যসূত্র থেকে এটি পরিষ্কার যে, ইসলাম যার যার ধর্ম তার তার এই কথাতে মোটেও বিশ্বাসী নয়। বরঞ্চ ইসলাম জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণে বাধ্য করে। মুসলিমদের ক্ষমতা যখন কম ছিল, তখন কৌশল হিসেবে এই আয়াত নাজিল হলেও, মুসলিমদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া মাত্রই এই আয়াত মানসুখ হয়ে আক্রমণের আয়াত নাজিল হয়। জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বিধানও নাজিল হয়।

এবারে আসুন, তাফসীরে জালালাইন থেকে দেখি, এই আয়াতটি নাজিলের প্রেক্ষাপট এবং অর্থ কী! এই আয়াতে কী যার যার ধর্ম নিয়ে সহাবস্থানের কথা বলা হয়েছে, নাকি কাফেরদের বিরুদ্ধে এই আয়াতটি ছিল একটি সাময়িক কৌশল, যেহেতু মুসলিমদের তখনো খুব বেশি ক্ষমতা ছিল না। তাফসিরে কিন্তু সরাসরিই বলা রয়েছে, এই সময়ে মুসলিমরা ছিল সংখ্যালঘু এবং দুর্বল, তাই যেন আল্লাহকে গালি না দেয়া হয়, সেই ভয় থেকেই এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিল। পরবর্তীতে মুসলিমরা যখন শক্তিশালী হয়েছে, তারা পুরো আরব উপদ্বীপের সমস্ত মূর্তি ধ্বংস করে দিয়েছে [30] –

মূলবক্তব্য: এক কথায় এর মূল বক্তব্য হলো, তাওহীদের শিক্ষা এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ ঘোষণা। অর্থাৎ কাফেরদের ধর্মমত, তাদের পূজা-উপাসনা এবং তাদের উপাস্য দেব-দেবী হতে মুসলমানগণ সম্পূর্ণরূপে যে নিঃসম্পর্ক এ কথাটি অত্র সূরাহ দ্বারা জানিয়ে দেওয়া-ই আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশ্য। আর এ সূরা দ্বারা এ কথাও জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, কাফের অথবা মুশরিকদের সাথে মুসলমানরা যেন সর্বদা অনমনীয়তার পরিচয় দিয়ে থাকে। কুফরি ও দীন পূর্ণমাত্রায় পরস্পর বিরোধী, আর এ দু’টির মধ্যে কোনো একটি দিকও যে পরস্পরের সাথে হওয়ার মতো নেই, এ কথাটিও তাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া। উদ্দেশ্য। বর্তমান সূরাটি এ বিষয়ের জন্য, পরিপূরক।
কাজেই একে বিভিন্ন ধর্মের মাঝে সমঝোতা সৃষ্টির ফর্মূলা পেশকারী সূরা মনে করার কোনো প্রশ্নই হবে না। আর কুফর যেখানে যেরূপ অবস্থায়ই থাকুক না কেন মুসলমানদেরকে তা হতে নিজেদের কথা ও কাজের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীনতা ও বর্জনের ঘোষণা করতে হবে।
দীনের ব্যাপারে মুসলমানরা যে কাফেরদের সাথে কোনো প্রকার সন্ধি-সমঝোতার আচরণ গ্রহণ করতে পারে না। তা কোনো রূপ খাতির-উদারতা ও সংকোচ-কুণ্ঠা ব্যতিরেকেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে হবে। আর আগুন ও পানির ন্যায় ইসলাম ও কুফরি দু’টি বিপরীতমুখি আদর্শ। কেননা ইসলাম হলো আল্লাহ প্রদত্ত একত্ববাদের ধর্ম, আর কুফরি মানব রচিত মানব মন গড়ানীতি, ইসলামের পরিপন্থি। মুসলমানদের উপাস্য একমাত্র আল্লাহ। আর কাফেরদের উপাস্য তারা ধার্য করেছিল ৩৬০টি মূর্তিকে
অতএব, মুসলমান ও অমুসলমানদের নীতি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। আশরাফী।

যোগসূত্র: পূর্ববর্তী সূরা আল-কাওছারের শেষ আয়াতে কাফিরদের প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে, কাফিররাই নিঃসন্তান। বর্তমান সূরা পূর্ণটিই কাফিরদের ব্যাপারে আলোচিত হয়েছে। এদিক দিয়ে উভয় সূরার মধ্যে এক নিবিড় যোগসূত্র বিদ্যমান।
শানে নুযূল: ১. যখন একদল মুশরিক রাসূলুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেছিল যে, আপনি এক বছর আমাদের উপাস্য [মূর্তিগুলোকে। দেবতাসমূহকে অর্চনা করুন, তবে আমরাও আপনার মা’বুদকে এক বৎসরকাল ইবাদত করবো। তখন উক্ত সূরাটি অবতীর্ণ হয়।
আবু জাহল ও আস ইবনে ওয়ায়েল, ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ, আসওয়াদ ইবনে ইয়াগুছ নামক কাফেরগণ হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মাধ্যমে একদা হযরত রাসূলে কারীম-এর খেদমতে এই মর্মে সংবাদ পৌঁছাল যে, হে মুহাম্মদ। আসুন, আমরা পরস্পর সন্ধি করে নিবো। এক বছর আমরা আপনার আল্লাহর পূজা করবো এবং এক বছর আপনি আমাদের মাবুদগণের উপাসনা করবেন। এ অনুপাতে উভয় পক্ষই উভয়ই পক্ষের ধর্ম হতে কিছু কিছু হিসসা লাভ করতে সক্ষম হবে। তদুত্তরে হুযূর বলেন, আমি আল্লাহর সাথে কাউকেও শরিক করা হতে পানাহ্ চাই।
অতঃপর তারা বলল, ঠিক আছে, আপনি আমাদের কিছু সংখ্যক উপাস্যকে সত্য বলে গ্রহণ করুন, তবে আমরাও আপনার প্রভুকে বিশ্বাস করবো এবং তাঁর পূজা করবো। এমতাবস্থায়ই উক্ত সূরাটি অবতীর্ণ হয়।
১. ইবনে ইসহাক নামক প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা এবং ইবনে জারীর ও তাবারানী (র.) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করে বলেন, কুরাইশগণ একদা রাসূলুল্লাহ-এর নিকট গিয়ে বলল, হে মুহাম্মদ। আপনি যদি চান যে, আপনার সম্পদের প্রয়োজন আছে, তবে আমরা আপনাকে মক্কার সর্ববৃহৎ ধনী বানিয়ে দিবো। আর বিবাহ করতে চাইলেও আমাদের আরবের সর্বোচ্চ সুন্দরী রূপসী ও গুণবতী মহিলাটি আপনাকে বিবাহ করিয়ে দিব। তথাপিও আপনি আমাদের মা’বৃদসমূহকে আর গালি দিবেন না। আর যদি এ কথায় একমত না হন, তবে আপনি আমাদের খোদাগুলোকে এক বছর পূজা করবেন, পরে আমরাও আপনার প্রভুকে এক বছর পূজা করবো। অতঃপর হুযূর প্রান বললেন, একটু অপেক্ষা কর, দেখি আমার প্রভু তাতে কি বলেন। অতঃপরই অত্র সূরাটি নাজিল হয়।

لَكُمْ دِينَكُمْ وَلَى دَيْنِ বলার কারণ: অর্থাৎ তোমাদের দীন তোমাদের, আমার দীন আমার। এ আয়াতটির অর্থ অবলোকন
করে অনেক লোক বিভ্রান্ত হয়। তারা বলে- তা দ্বারা ইসলাম অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মের স্বীকৃতি দিয়েছে। যদি তাদের ধর্ম সত্যই না হবে তবে কুরআনে কেন এ কথা বলা হলো যে, তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমার ধর্ম আমার। এটা দ্বারা দুই ধর্মকেই পাশাপাশি অবস্থান করার এবং একে অপরের উপর হস্তক্ষেপ না করার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। কিন্তু দীন শব্দ দ্বারা এখানে কি বুঝানো হয়েছে; তা চিন্তা না করার ফলেই তাদের মনে এ উদ্ভট চিন্তা গজিয়েছে। এখানে দীন শব্দটি কর্মফল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, সূরা আল-ফাতিহায় আল্লাহকে مالك يوم الدين JC অর্থাৎ কর্মফল দিনের কর্তা বলা হয়েছে। সুতরাং এই অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের মর্ম হবে- তোমাদের কর্মফল তোমরা ভোগ করবে, আমাদের কর্মফল আমরা ভোগ করবো। যেহেতু এ আয়াত ইসলামের প্রথম যুগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়, তখন জিহাদের বিধান অবতীর্ণ হয়নি। তাই কতিপয় তাফসীরকার বলেন- এ আয়াতের বিধান দ্বারা কাফেরদেরকে ইসলামের প্রথম যুগে ধর্ম পালনের যেটুকু অবকাশের কথা ভাবা যায়, তা জিহাদের বিধান দ্বারা রহিত করা হয়েছে। মক্কা বিজয়সহ অন্যান্য লড়াইগুলোই এর জ্বলন্ত প্রমাণ। বস্তুত দীনকে ধর্ম অর্থ গ্রহণ করলে আমরা এ কথাও বলতে পারি, এটা ঠিক অনুরূপ কথার ন্যায়, যেমন আমরা ধিক্কার ও ভর্ৎসনাভাবে বলে থাকি- তোমার পথে তুমি, আমার পথে আমি। এ কথা দ্বারা আমরা যেমন তার পথের স্বীকৃতি দেই না এবং সহাবস্থানেরও অবকাশ বুঝাই না; বরং তা দ্বারা পথের ভয়াবহ পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়। আয়াতেও অনুরূপভাবে ‘তোমার দীন তোমার আমার দীন আমার’ বলে তাদের জীবনাদর্শ ও শিরকি কর্মপন্থার ভয়াবহ পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাদের শিরকি জীবনাদর্শ ও মতবাদের স্বীকৃতি বা পাশাপাশি অবস্থানের কথা বলা হয়নি।

ধর্ম অবমাননা 51
ধর্ম অবমাননা 53
ধর্ম অবমাননা 55
ধর্ম অবমাননা 57

নবীর মূর্তি ভাঙ্গার নির্দেশ

উপরে যুল খালাসায় সৈন্য পাঠিয়ে অমুসলিমদের উপাসনালয় এবং পুজনীয় মূর্তি ভাঙ্গার নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। এরকম উদাহরণ অনেকগুলোই আছে। আসুন আর-রাহীকুল মাখতূম থেকে পড়ি, সেখানে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে সৈন্য পাঠিয়ে নবী মূর্তি, উপাসনালয় এবং সেই সব মূর্তির পুজা কারী মানুষদের সমূলে নিশ্চিহ্ন করতেন। এমনকি মহিলাদেরও বাদ দিতেন না। অবস্থা এমন খারাপ হয়েছিল যে, নবী নিজেই খালিদ বিন ওয়ালিদের ওপর এত হত্যাকাণ্ড দেখে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন [31] –

বিভিন্ন অভিযান ও প্রতিনিধি প্রেরণ (السَّرَايَا وَالْبُعُوْثِ):
১. মক্কা বিজয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজকর্ম সুসম্পন্ন করার পর যখন তিনি কিছুটা অবকাশ লাভ করলেন তখন ৮ম হিজরীর ২৫ রমযান উযযা নামক দেব মূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)-এর নেতৃত্বে একটি ছোট সৈন্যদল প্রেরণ করলেন। উযযা মূর্তির মন্দিরটি ছিল নাখলা নামক স্থানে। এটি ভেঙ্গে ফেলে খালিদ (রাঃ) প্রত্যাবর্তন করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন,‏ (‏هَلْ رَأَيْتَ شَيْئًا‏؟‏‏)‏‘তুমি কি কিছু দেখেছিলে?’ খালিদ (রাঃ) বললেন, ‘না’ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ‏(‏فَإِنَّكَ لَمْ تَهْدِمْهَا فَارْجِعْ إِلَيْهَا فَاهْدِمْهَا‏)‏ ‘তাহলে প্রকৃতপক্ষে তুমি তা ভাঙ্গ নি। পুনরায় যাও এবং তা ভেঙ্গে দাও।’ উত্তেজিত খালিদ (রাঃ) কোষমুক্ত তরবারি হস্তে পনুরায় সেখানে গমন করলেন। এবারে বিক্ষিপ্ত ও বিস্ত্রস্ত চুলবিশিষ্ট এক মহিলা তাঁদের দিকে বের হয়ে এল। মন্দির প্রহরী তাকে চিৎকার করে ডাকতে লাগল। কিন্তু এমন সময় খালিদ (রাঃ) তরবারি দ্বারা তাকে এতই জোরে আঘাত করলেন যে, তার দেহ দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে তিনি এ সংবাদ অবগত করালে তিনি বললেন, ‏(‏نَعَمْ، تِلْكَ الْعُزّٰى، وَقَدْ أَيِسَتْ أَنْ تَعْبُدَ فِيْ بِلَادِكُمْ أَبَدًا‏) ‘হ্যাঁ’, সেটাই ছিল উযযা। এখন তোমাদের দেশে তার পূজা অর্চনার ব্যাপারে সে নিরাশ হয়ে পড়েছে (অর্থাৎ কোন দিন তার আর পূজা অর্চনা হবে না)।
২. এরপর নাবী কারীম (সাঃ) সে মাসেই ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)-কে ‘সুওয়া’ নামক দেবমূর্তি ভাঙ্গার জন্য প্রেরণ করেন। এ মূর্তিটি ছিল মক্কা হতে তিন মাইল দূরত্বে ‘রিহাত’ নামক স্থানে বনু হুযাইলের একটি দেবমূর্তি। ‘আমর যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছেন তখন প্রহরী জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কী চাও?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর নাবী (সাঃ) এ মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার জন্য আমাদের নির্দেশ প্রদান করেছেন।’
সে বলল, ‘তোমরা এ মূর্তি ভেঙ্গে ফেলতে পারবে না।’
‘আমর (রাঃ) বললেন, ‘কেন?’
সে বলল, ‘প্রাকৃতিক নিয়মেই তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হবে।’
‘আমর (রাঃ) বললেন, ‘তোমরা এখনও বাতিলের উপর রয়েছ? তোমাদের উপর দুঃখ, এই মূর্তিটি কি দেখে কিংবা শোনে?’
অতঃপর
মূর্তিটির নিকট গিয়ে তিনি তা ভেঙ্গে ফেললেন এবং সঙ্গীসাথীদের নির্দেশ প্রদান করলেন ধন ভান্ডার গৃহটি ভেঙ্গে ফেলতে। কিন্তু ধন-ভান্ডার থেকে কিছুই পাওয়া গেল না। অতঃপর তিনি প্রহরীকে বললেন, ‘বল, কেমন হল?’
সে বলল, ‘আল্লাহর দ্বীন ইসলাম আমি গ্রহণ করলাম।’
৩. এ মাসেই সা‘দ বিন যায়দ আশহালী (রাঃ)-এর নেতৃত্বে বিশ জন ঘোড়সওয়ার সৈন্য প্রেরণ করেন মানাত দেবমূর্তি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে। কুদাইদের নিকট মুশাল্লাল নামক স্থানে আওস, খাযরাজ, গাসসান এবং অন্যান্য গোত্রের উপাস্য ছিল এ ‘মানত’ মূর্তি। সা‘দ (রাঃ)-এর বাহিনী যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছেন তখন মন্দিরের প্রহরী বলল, ‘তোমরা কী চাও?’
তাঁরা বললেন,
‘মানাত দেবমূর্তি ভেঙ্গে ফেলার উদ্দেশ্যে আমরা এখানে এসেছি।’
সে বলল, ‘তোমরা জান এবং তোমাদের কার্য জানে।’
সা‘দ মানাত মূর্তির দিকে অগ্রসর হতে গিয়ে
একজন উলঙ্গ কালো ও বিক্ষিপ্ত চুল বিশিষ্ট মহিলাকে বেরিয়ে আসতে দেখতে পেলেন। সে আপন বক্ষদেশ চাপড়াতে চাপড়াতে হায়! রব উচ্চারণ করছিল।
প্রহরী তাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘মানাত! তুমি এ অবাধ্যদের ধ্বংস কর।’
কিন্তু
এমন সময় সা‘দ তরবারির আঘাতে তাকে হত্যা করলেন। অতঃপর মূর্তিটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিলেন। ধন-ভান্ডারে ধন-দৌলত কিছুই পাওয়া যায় নি।
৪. উযযা নামক দেবমূর্তিটি ভেঙ্গে ফেলার পর খালিদ বিন ওয়ালীদ (সাঃ) প্রত্যাবর্তন করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৮ম হিজরী শাওয়াল মাসেই বনু জাযামাহ গোত্রের নিকট তাঁকে প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল আক্রমণ না করে ইসলাম প্রচার। খালিদ (রাঃ) মুহাজির, আনসার এবং বনু সুলাইম গোত্রের সাড়ে তিনশ লোকজনসহ বনু জাযীমাহর নিকট গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন। তারা (ইসলাম গ্রহণ করেছি) বলার পরিবর্তে (আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করেছি, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করেছি) বলল। এ কারণে খালিদ (রাঃ) তাদের হত্যা এবং বন্দী করতে আদেশ দিলেন। তিনি সঙ্গী সাথীদের এক একজনের হস্তে এক এক জন বন্দীকে সমর্পণ করলেন। অতঃপর এ বলে নির্দেশ প্রদান করলেন যে, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর নিকটে সমর্পিত বন্দীকে হত্যা করবে। কিন্তু ইবনু উমার এবং তাঁর সঙ্গীগণ এ নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। অতঃপর যখন নাবী কারীম (সাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হলেন তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। তিনি দু’ হাত উত্তোলন করে দু’বার বললেন, ‏(‏اللهم إِنِّيْ أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدًا) ‘হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে আমি তা হতে তোমার নিকটে নিজেকে পবিত্র বলে ঘোষণা করছি।’(1)
এ পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র বনু সুলাইম গোত্রের লোকজনই নিজ বন্দীদের হত্যা করেছিল। আনসার ও মহাজিরীনগণ হত্যা করেন নি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলী (রাঃ)-কে প্রেরণ করে তাদের নিহত ব্যক্তিদের শোণিত খেসারত এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন। এ ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে খালিদ (রাঃ) ও আব্দুর রহমান বিন আওফ (রাঃ)-এর মাঝে কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং সম্পর্কের অবণতি হয়েছিল। এ সংবাদ অবগত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন,
‏(‏مَهَلًّا يَا خَالِدُ، دَعْ عَنْكَ أَصْحَابِيْ، فَوَاللهِ لَوْ كَانَ أَحَدٌ ذَهَبًا، ثُمَّ أَنْفَقَتْهُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ مَا أَدْرَكَتْ غُدْوَةَ رَجُلٍ مِّنْ أَصْحَابِيْ وَلَا رَوْحَتَهُ‏)‏‏
‘খালিদ থেমে যাও, আমার সহচরদের কিছু বলা হতে বিরত থাক। আল্লাহর কসম! যদি উহুদ পাহাড় সোনা হয়ে যায় এবং তার সমস্তই তোমরা আল্লাহর পথে খরচ করে দাও তবুও আমার সাহাবাদের মধ্য হতে কোন এক জনেরও এক সকাল কিংবা এক সন্ধ্যার ইবাদতের নেকী অর্জন করতে পারবে না।(2)

নবীর মূর্তি ধংস
নবীর বর্বরতা

শুধু এইটুকুতেই শেষ নয়। আলীর প্রতি এবং পরবর্তীদের প্রতি নবীর নির্দেশও আমরা দেখে নিই [32] –

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১০/ কাফন-দাফন
পরিচ্ছেদঃ কবর সমান করে দেওয়া।
১০৪৯. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ….. আবূ ওয়াইল (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূল- হায়্যাজ আল-আসা’দী (রহঃ) কে বলেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যে দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন, আমি তোমাকেও সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করছি। তা হলো, কোন উঁচু কবরকে (মাটি) সমান করা ব্যতীত ছাড়বেনা, আর কোন প্রতিকৃতি বিধ্বংস করা ব্যতীত ছাড়বে না। – আল আহকাম ২০৭, ইরওয়া ৭৫৯, তাহযীরুস সাজিদ ১৩০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। কোন কোন আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা যমীনের উপর কবর উচূঁ করে বাঁধা অপছন্দনীয় বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, যতটুকু উঁচু করলে এটিকে কবর বলে চিনা যায় তদপেক্ষা কবরকে উঁচু করা আমি পছন্দ করি না। তবে চি‎হ্নস্বরূপ কিছু উঁচু করার দরকার এই জন্য যে, এটিকে যেন কেউ পদদলিত না করে বা এর উপর যেন কেউ না বসে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ওয়াইল (রহঃ)

এবারে আসুন তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে আরও কিছু মূর্তি ও উপাসনালয় ভাঙচুরের ঘটনাবলী পড়ে নেয়া যাক, [33] –

ইবন ইসহাক (র) তাঁর সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, আরববাসীরা কা’বার পাশাপাশি আরো কতগুলি তীর্থ স্থান বানাইয়া লইয়াছিল। সেইগুলিকে তাহারা গিলাফ দ্বারা ঢাকিয়া রাখিত, কা’বার ন্যায় সম্মান করিত; তথায় কুরবানীর পশু প্রেরণ করিত উহার নিকট পশু যবাহ করিত এবং কা’বার ন্যায় সেইগুলি তাওয়াফ করা হইত। অথচ তাহারা কা’বার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকার করিত এবং উহাকে হযরত ইবরাহীম (আ)-এর নির্মিত মসজিদ বলিয়া সম্মান ও শ্রদ্ধা করিত। ইবন ইসহাক (র) আরো বলেন যে, কুরাইশ ও বনূ কিনানাহ নাখলায় অবস্থিত উয্যার পূজারী ছিল। কবীলা আলীমের শাখা গোত্র বন্ শারবান উহার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করিত। মক্কা বিজয়ের পর এই মূর্তিটি ভাঙ্গিয়া ফেলার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা) হযরত খালিদ ইব্‌ন ওলীদ (রা)-কে প্রেরণ করিয়াছিলেন। খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) মূর্তিটি ভাঙ্গিয়া চূর্ণ-বিচূর্ণ করিয়া দিয়া বলিতেছিলেন : انی رایت اللَّهَ قَدَاهَائِكَ অর্থাৎ ওহে উযযা! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি না- তোমাকে অস্বীকার করি। আমার বিশ্বাস আল্লাহ্ তোমাকে লাঞ্ছিত করিয়াছেন। يا عزى كَفَرَأَنَّكَ سُبْحَانَكَ
ইমাম নাসায়ী (র)……. আবূ তুফায়ল (রা) হইতে বর্ণনা করেন। আবূ তুফায়ল (রা) বলেন, মক্কা বিজয়ের পর উযযার অবসান ঘটাইবার জন্য রাসূল (সা) হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে নাখলায় প্রেরণ করেন। তিনটি বাবুল বৃক্ষের উপর এই মূর্তিটি স্থাপন করা হইয়াছিল। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) বৃক্ষগুলি কাটিয়া ফেলিলেন এবং ঘরটি মাটির সহিত মিশাইয়া দেন। অতঃপর নবী করীম (সা)-এর নিকট ফিরিয়া আসিয়া সংবাদ দেন। রাসূল (সা) শুনিয়া বলিলেন, “তুমি আবার যাও। কারণ আসল কাজ তুমি এখনও করিতে পার নাই।” অগত্যা খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) পুনরায় নাখলায় পৌছান। নাখলায় পৌছিবার পর তথাকার প্রহরীরা খালিদ ইবন ওয়ালীদকে দেখিয়া ইয়া উয্যা! ইয়া উয্যা! বলিয়া তাকবীর ধ্বনি দিয়া উঠিল। খালিদ ইন্ন ওয়ালীদ (রা) আরো নিকটে আসিয়া দেখিতে পাইলেন যে, এক উলঙ্গ রমণী এলোমেলো রুক্ষ চুল মাথায় ধুলা মাখিতেছে। দেখিয়াই খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রা) তরবারীর এক আঘাতে তাহাকে দ্বিখণ্ডিত করিয়া ফেলিলেন। অতঃপর ফিরিয়া আসিয়া রাসূল (সা)-কে সংবাদ শুনাইলেন। শুনিয়া রাসূল (সা) বলিলেন, উহাই উয্যা।”
ইন্ন ইসহাক (র) বলেন, ছাকীফ গোত্রের মূর্তির নাম ছিল লাত। তায়েফে ছিল উহার অবস্থান। বন্ মুআত্তেব উহার রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করিত। উহার অবসান ঘটাইবার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) মুগীরা ইব্‌ন শু’বা ও আবু সুফিয়ান ছাত্র ইবন হারব (রা)-কে প্রেরণ করেন। ইহারা দুইজন তায়েফ গিয়া মূর্তিটি ভাঙ্গিয়া মাটির সহিত মিশাইয়া দিয়া তথায় একটি মসজিদ স্থাপন করেন।

মানাত আউস্ খাযরাজ এবং তাহাদের সমমনা লোকদের উপাস্য ছিল। মুশাল্লাল যাওয়ার পথে সমুদ্রের তীরে কুদাইদ নামক স্থানে ছিল ইহার অবস্থান। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশে আবু সুফিয়ান (রা) এই মূর্তিটিও ভাঙ্গিয়া টুকরা টুকরা করিয়া ফেলেন। কাহারে। কাহারো ধারণা যে, হযরত আলী (রা)-এর হাতে এই স্থানটি ধ্বংস হয়। যুলখালছাহ নামক স্থানটি ছিল দাউস, খাছআম ও বাজীলা গোত্রের দেবতালয়। ইবন কাসীর (র) বলেন, তাবাকায় অবস্থিত এই স্থানটিকে ইহারা ইয়ামানী কা’বা নামে আখ্যায়িত করিত। আর মক্কার কা’বাকে বলিত শামী কা’বা। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নির্দেশে জারীর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ বাজালী (রা)-এর হাতে এই স্থানটি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
কাল্স নামক বুতখানাটি ছিল কবীলা তাই ও উহার পার্শ্ববর্তী আরবীদের। তাই পাহাড়ে সালমা ও সাজা স্থানের মাঝে ছিল ইহার অবস্থান। ইন্ন হিশাম বলেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশে হযরত আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) এই স্থানটি ধ্বংস করেন। এবং তথা হইতে রসূল মহাররম নামক দুইটি তরবারী উদ্ধার করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এই তরবারী দুইটি হযরত আলী (রা)-কে দান করেন।
ইন্ন ইসহাক (র) বলেন: ছানআয় অবস্থিত রিয়াম নামক বুতখানাটি ছিল হিমইয়ার গোত্র ও ইয়ামানবাসীর তীর্থ স্থান। কথিত আছে যে, তথায় একটি কালো কুকুর ছিল। তুব্বার সহিত আগত দুইজন হিমইয়ারী সর্দার কুকুরটিকে হত্যা করে এবং মূর্তিখানা ধ্বংস করিয়া ফেলে।
ইবন ইসহাক (র) বলেন: বনূ রবীয়া ইন্ন কা’ব ইবন সা’দ এর তীর্থস্থান ছিল রিযা নামক স্থান। মুস্তাওগির ইন্ন রবীয়া ইবন সা’দ ইসলাম গ্রহণের পর এই স্থানটি ধ্বংস করিয়া ফেলেন। ইবন হিশাম (র) বলেন, উল্লেখ্য যে, এই লোকটি তিনশত তিরিশ বছর বাঁচিয়া ছিলেন। 1

ধর্ম অবমাননা 61
ধর্ম অবমাননা 63

মূর্তি ও উপাসনাস্থল ধ্বংস: আরও কয়েকটি দলিল

লাত ভাঙা এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান

সাকিফের প্রতিনিধিরা ইসলাম গ্রহণের আলোচনায় লাতের উপাসনাস্থল কিছুদিন অক্ষত রাখার অনুমতি চেয়েছিল। প্রথমে তিন বছর, তারপর বছর কমিয়ে, শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার পর মাত্র এক মাস সময় চেয়েও তারা অনুমতি পায়নি। ইবনুল কাইয়িমের সংকলিত সীরাত-বিবরণে তাদের যুক্তিও রয়েছে: হঠাৎ ধ্বংসে নিজেদের নারী, শিশু ও অন্য লোকজন আতঙ্কিত হতে পারে। মুহাম্মদ ধ্বংস পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন; শুধু নিজেদের হাতে প্রতিমা ভাঙতে হবে না—এই ছাড় দেন। [34]

وقد كان فيما سألوا رسول الله – صلى الله عليه وسلم – أن يدع لهم الطاغية ، وهي اللات لا يهدمها ثلاث سنين ، فأبى رسول الله – صلى الله عليه وسلم – عليهم ، فما برحوا يسألونه سنة سنة ويأبى عليهم ، حتى سألوه شهرا واحدا بعد قدومهم ، فأبى عليهم أن يدعها شيئا مسمى ، وإنما يريدون بذلك فيما يظهرون أن يسلموا بتركها من سفهائهم ونسائهم وذراريهم ، ويكرهون أن يروعوا قومهم بهدمها ، حتى يدخلهم الإسلام ، فأبى رسول الله – صلى الله عليه وسلم – إلا أن يبعث أبا سفيان بن حرب والمغيرة بن شعبة يهدمانها ، وقد كانوا يسألونه مع ترك الطاغية أن يعفيهم من الصلاة ، وأن لا يكسروا أوثانهم بأيديهم .

فقال رسول الله – صلى الله عليه وسلم – : ( أما كسر أوثانكم بأيديكم فسنعفيكم منه ، وأما الصلاة فلا خير في دين لا صلاة فيه ) .

বাংলা অনুবাদ:
তারা আল্লাহর রাসুলের কাছে যেসব বিষয় চেয়েছিল, তার মধ্যে ছিল—তিনি যেন তাদের জন্য তাগিয়া, অর্থাৎ লাতকে তিন বছর রেখে দেন, সেটি ধ্বংস না করেন। আল্লাহর রাসুল তাদের এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা এক বছর এক বছর করে সময় চাইতে থাকল এবং তিনি প্রত্যাখ্যান করতে থাকলেন। শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফেরার পর মাত্র এক মাস সময় চাইল; তিনি কোনো নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেটি রেখে দিতেও অস্বীকার করলেন। তারা প্রকাশ্যে যে উদ্দেশ্য জানাচ্ছিল, তা ছিল—এটিকে রেখে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের নির্বোধ লোকজন, নারী ও সন্তানদের দিক থেকে নিরাপদ থাকা। ইসলাম তাদের মধ্যে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রতিমাটি ধ্বংস করে নিজেদের লোকজনকে আতঙ্কিত করতে তারা অনিচ্ছুক ছিল। কিন্তু আল্লাহর রাসুল আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ও মুগিরা ইবনে শুবাকে সেটি ধ্বংস করতে পাঠানো ছাড়া আর কিছুতেই রাজি হলেন না। তাগিয়াকে রেখে দেওয়ার পাশাপাশি তারা নামাজ থেকে অব্যাহতি এবং নিজেদের হাতে প্রতিমা না ভাঙার অনুমতিও চেয়েছিল।

আল্লাহর রাসুল বললেন: “তোমাদের নিজের হাতে প্রতিমা ভাঙার বিষয় থেকে আমরা তোমাদের অব্যাহতি দেব। আর নামাজের বিষয়টি হচ্ছে—যে ধর্মে নামাজ নেই, তাতে কোনো কল্যাণ নেই।”

প্রতিমা ধ্বংসের সিদ্ধান্ত এখানে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছিল। দর-কষাকষির শেষে যে ছাড়টি মেলে, তা লাতের অস্তিত্ব রক্ষার অধিকার নয়; ধ্বংসের কাজ অন্য লোককে দিয়ে করানোর ছাড়। ধর্মান্তরিত প্রতিনিধিদের নিজেদের লোকজনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে উত্থাপিত আশঙ্কাও এক মাস সময় পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।


তালক ইবনে আলীর প্রতিনিধিদল: গির্জা ভেঙে মসজিদ

তালক ইবনে আলীর বর্ণনায় ইসলাম গ্রহণ করতে আসা একটি প্রতিনিধিদল নিজেদের এলাকার গির্জার কথা জানায়। মুহাম্মদ তাদের সেই গির্জা ভেঙে জায়গাটিকে মসজিদে পরিণত করার নির্দেশ দেন। বর্ণনাটি নির্দেশ, বাস্তবায়ন এবং সেখানে থাকা খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীর চলে যাওয়া—তিনটি ঘটনাই একসঙ্গে সংরক্ষণ করেছে। [35]

عَنْ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ خَرَجْنَا وَفْدًا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْنَاهُ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّ بِأَرْضِنَا بِيعَةً لَنَا فَاسْتَوْهَبْنَاهُ مِنْ فَضْلِ طَهُورِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَتَمَضْمَضَ ثُمَّ صَبَّهُ فِي إِدَاوَةٍ وَأَمَرَنَا فَقَالَ ‏ “‏ اخْرُجُوا فَإِذَا أَتَيْتُمْ أَرْضَكُمْ فَاكْسِرُوا بِيعَتَكُمْ وَانْضَحُوا مَكَانَهَا بِهَذَا الْمَاءِ وَاتَّخِذُوهَا مَسْجِدًا ‏”‏ ‏.‏ قُلْنَا إِنَّ الْبَلَدَ بَعِيدٌ وَالْحَرَّ شَدِيدٌ وَالْمَاءَ يَنْشَفُ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ مُدُّوهُ مِنَ الْمَاءِ فَإِنَّهُ لاَ يَزِيدُهُ إِلاَّ طِيبًا ‏”‏ ‏.‏ فَخَرَجْنَا حَتَّى قَدِمْنَا بَلَدَنَا فَكَسَرْنَا بِيعَتَنَا ثُمَّ نَضَحْنَا مَكَانَهَا وَاتَّخَذْنَاهَا مَسْجِدًا فَنَادَيْنَا فِيهِ بِالأَذَانِ ‏.‏ قَالَ وَالرَّاهِبُ رَجُلٌ مِنْ طَيِّئٍ فَلَمَّا سَمِعَ الأَذَانَ قَالَ دَعْوَةُ حَقٍّ ‏.‏ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ تَلْعَةً مِنْ تِلاَعِنَا فَلَمْ نَرَهُ بَعْدُ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ:
তালক ইবনে আলী বলেন: আমরা প্রতিনিধিদল হিসেবে নবীর কাছে গেলাম, তাঁর কাছে বাইআত করলাম এবং তাঁর সঙ্গে নামাজ পড়লাম। তাঁকে জানালাম যে আমাদের এলাকায় আমাদের একটি গির্জা রয়েছে। আমরা তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি চাইলাম। তিনি পানি আনালেন, অজু করলেন, কুলি করলেন, তারপর সেই পানি একটি চামড়ার পাত্রে ঢাললেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়ে বললেন: “রওনা হও। তোমাদের এলাকায় পৌঁছালে তোমাদের গির্জা ভেঙে ফেলো, তার জায়গায় এই পানি ছিটিয়ে দাও এবং সেটিকে মসজিদ বানাও।” আমরা বললাম: “এলাকাটি দূরে, গরমও প্রচণ্ড; পানি শুকিয়ে যাবে।” তিনি বললেন: “এর সঙ্গে আরও পানি মিশিয়ে নিয়ো; এতে তার ভালোত্বই বাড়বে।” আমরা রওনা হয়ে নিজেদের এলাকায় পৌঁছালাম। আমাদের গির্জা ভেঙে ফেললাম, তার জায়গায় পানি ছিটিয়ে দিলাম এবং সেটিকে মসজিদ বানালাম। তারপর সেখানে আজান দিলাম। তিনি বলেন: সন্ন্যাসীটি ছিল তাঈ গোত্রের একজন লোক। আজান শুনে সে বলল: “সত্যের আহ্বান।” এরপর সে আমাদের এলাকার একটি উঁচু ভূমির দিকে চলে গেল; পরে আমরা তাকে আর দেখিনি।

ইসলাম গ্রহণকারী প্রতিনিধিদল নিজেদের পূর্ববর্তী উপাসনাস্থল ভাঙার নির্দেশ কার্যকর করেছিল। গির্জার জায়গায় মসজিদ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে আজান দেওয়ার মাধ্যমে সেই স্থানের ধর্মীয় পরিচয়ও বদলে দেওয়া হয়।


ভাষ্কর্য তৈরি কী ইসলাম সম্মত?

ইদানিং অনেক মডারেট মুসলিমই দাবী করে থাকেন, ইসলামে পুজনীয় মূর্তি ভাঙ্গা জায়েজ হলেও ভাষ্কর্য বানাতে নাকি কোন বাধা নেই! অথচ, নবী মুহাম্মদ যখন মক্কা বিজয় করেন, সেই সময়ে কাবায় একটি কবুতরের কাঠের মূর্তি ছিল। নবী নিজ হাতেই সেটি ভেঙ্গে দিয়েছেন। সেটি কোন পুজনীয় মূর্তি ছিল না। শুধুমাত্র সৌন্দর্য্য বর্ধনের মূর্তি ছিল। অর্থাৎ, ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা হলে যাবতীয় মূর্তি ভাষ্কর্যই ধ্বংস করে ফেলতে হবে। [36]

ধর্ম অবমাননা 65

প্রখ্যাত আলেমদের অভিমত

বর্তমান সময়ে সবচাইতে প্রখ্যাত ইসলামের আলেমদের এই বিষয়ে মতামত হচ্ছে, মুসলিমরা যখন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে, তখন অমুসলিমদের সকল মূর্তি এবং মন্দির ধ্বংস করে ফেলতে হবে। কোরআন হাদিস সব গবেষণা করে ইসলামের প্রখ্যাত আলেমগণ এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছেন। এই বিষয়ে সরাসরি ফতোয়াও দেয়া আছে। ফতোয়াটি এখানে দেয়া হলো, যেটি প্রখ্যাত ফতোয়ার ওয়েবসাইট Islamweb থেকে নেয়া – [37]

Demolishing idols in a non-Muslim country
Fatwa No: 190575
Fatwa Date:18-11-2012 – Muharram 5, 1434Email Print
Rating:
Question
Assalamu Alaikum, In the Quran, Allah says that Abraham destroyed the idols to teach the people that idols don’t have any power. In another place, Quran asks to follow the religion of Abraham. Is it required for a muslim living in a hindu country to destroy the idols. Will this not cause religious hatred and communal violence? Is it allowed to construct hindu temple in an islamic country?
Answer
All perfect praise be to Allaah, The Lord of the Worlds. I testify that there is none worthy of worship except Allaah, and that Muhammad sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) is His slave and Messenger.
There is Islamic evidence that it is an obligation to demolish idols and statues, among which is the Hadeeth narrated by ‘Amr ibn ‘Abasah may Allaah be pleased with him that he asked the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ): ”What did Allaah send you with?” He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: “He sent me to keep ties with kinship and demolish idols, and that Allaah Alone should be worshipped without associating anything with Him.” (Muslim)
Also, Abu Al-Hayyaaj Al-Asadi may Allaah be pleased with him said: “ ‘Ali ibn Abi Taalib may Allaah be pleased with him said to me: “Shall I send you for a mission once the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) had sent me for: Do not leave an idol unless it is destroyed, nor you leave an up leveled grave unless you level it down to ground.” (Muslim)
However, this is restricted to the ability of the Muslims in doing so and them being safe from causing a greater harm. Our best example is that of the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) as he used to go to the House of Allaah and perform Tawaaf (circumambulation around the Ka‘bah) while there were 360 idols around it but he did not cause harm to any of them until after the conquest of Makkah and after the Muslims became strong and the polytheists were no longer ruling over Makkah; it was then that the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) destroyed the idols. He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) prodded the idols with a bow while saying: “The truth has come and falsehood has vanished.” The story is narrated in Saheeh Al-Bukhari and Saheeh Muslim.
The Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) used to take into consideration the prevailing circumstances and leave that which could lead to a greater evil despite the fact that it was permissible in principle. The evidence about this is the Hadeeth of ‘Aa’ishah may Allaah be pleased with her who said: “I asked the Prophet sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) about Al-Hijr (the area adjacent to the Ka’bah enclosed by a low semi-circular wall), is it from the House (of Allaah)? He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Yes.’ I said, ‘Why did they not include it in the House?’ He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Your people did not have enough resources to spend on it.’ I said: ’Why is the level of its door raised high?’ He sallallaahu `alayhi wa sallam ( may Allaah exalt his mention ) said: ’Your people did so, so that they would let whomever they want to enter it and prevent whomever they want from entering it. Your people are close to the Pre-Islamic Period of Ignorance; so I fear that they would reject if I included the Hijr in the House and make its door at a level with the ground.’ ” (Al-Bukhari and Muslim)
Besides, what the Prophet Ibraaheem (Abraham) may Allaah exalt his mention did does not contradict what we have stated, as he did not do that matter until he was capable of doing it and being secure from being harmed. Ibn ‘Aashoor may Allaah have mercy upon him said while interpreting the verse (which means): {And (I swear) by Allaah, I will surely plan against your idols after you have turned and gone away.} (Quran 21:57): “He conditioned that his plan (agaist their idols) be after they depart in order to indicate that he will inflict harm on the idols as soon as he will be able to do so. This proves his strong determination to change evil, because taking the initiative to change evil although it is by hand (physically), is a rank of strong determination, but he would not be able to do so in the presence of idolaters. So, if he were to try to demolish it in their presence, then his act will be in vain. What is meant from changing evil: is to remove it as much as possible, so removing it by hand can only be done with the existence of the ability to do so.”
Finally, it should be noted that it is not permissible for the Muslims to allow non-Muslims to establish one of their temples in a Muslim country, let alone the Muslim country establishing it itself. The conditions that ‘Umar may Allaah be pleased with him put on the non-Muslims living safely in a Muslim country under Muslim rule included: “….that we will not erect in our city any church….”
Allaah Knows best.

উপরের ফতোয়াটির ভাবানুবাদ দেয়া হলো ( অনুবাদক- কোয়েস আলী ) –

প্রশ্নঃ
আসসালামুয়ালাইকুম। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন যে, ইব্রাহিম মুর্তি ভেঙে মানুষকে এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে মুর্তির কোন শক্তি নেই। কোরআনের আরেক জায়গায় ইব্রাহিম প্রবর্তিত ধর্মকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এখন, হিন্দু দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের কি মুর্তি ভাঙা বাধ্যতামূলক? এতে কি ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়ে যাবে না? ইসলামিক দেশে হিন্দু মন্দির স্থাপন করা কি জায়েজ?
উত্তরঃ
ইসলামে মুর্তি ভাঙার নির্দেশনা বিষয়ে যে তথ্য আমরা পাই, তার মধ্যে একটি হাদীস- আমির ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত,যে তিনি নবীকে জিজ্ঞাসা করলেন,”আল্লাহ আপনাকে কি নির্দেশ প্রেরণ করেছেন?” নবী বললেন,”তিনি আমাকে সংহতি বজায় রাখতে পাঠালেন ও মুর্তি ভাঙতে বলেছেন, যাতে আল্লাহর সমকক্ষ কোনকিছুই না থাকতে পারে।“(মুসলিম)
আবার আবু আলা হায়াজ আল আসাদী বলেন, “আলী ইবনে আবু তালিব বললেন, নবী আমাকে যে কাজে পাঠিয়েছিলেন,তোমাকেও সে কাজে পাঠাতে পারি কি-কোন মুর্তি আস্ত রাখবে না, যতক্ষন পর্যন্ত সেগুলো ধংসস্তুপ হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই উচু ধ্বংসস্তুপ সমতল ভূমিতে পরিণত হয়।(মুসলিম)
যাইহোক, এখন মুসলিমদের জন্য এটা সীমিত করা হয়েছে, যাতে তারা বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। সেরা উদাহরণ হচ্ছে, নবী সাঃ আল্লাহর ঘরে নিয়মিত যেতেন ও তাওয়াফ করতেন। সেখানে চারপাশের ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে নানা মুর্তি ছিল, কিন্তু তিনি মক্কা বিজয়ের আগে সেগুলোর কোন ক্ষতি করেন নি এবং এরপর যখন মুসলিমরা শক্তিশালী হল এবং বহু ঈশ্বরবাদীরা দুর্বল হল, তখন নবী সাঃ এক ঝটকায় মুর্তিগুলো ভেঙে দিলেন ও বললেন,”সত্য উন্মোচিত হয়েছে, মিথ্যা দূর হয়েছে।“ ইহা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে।
নবী চারপাশকে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং আদর্শগত দিকের চেয়ে কোন কাজে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাকে বেশী গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা বর্ণিত হাদীস হতে আমরা পাই- ‘আমি নবীকে জিজ্ঞেস করলাম, আল হিজর (কাবা সংলগ্ন অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেয়াল ঘেরা স্থান) কি আল্লাহর ঘরের সাথে সংযুক্ত?’ নবী বললেন,’হ্যা’। আমি বললাম, ‘তবে আল্লাহ একে ঘরের সাথে কেন সংযুক্ত করেন নি?’ নবী বললেন,’তোমার লোকেদের যথেষ্ট অর্থ ছিল না”। আমি বললাম, দরজার পাড় এত উচু কেন?’ নবী বললেন,’তোমার লোকেরা এটা করেছে, যাতে তারা কাউকে কাউকে এখানে ঢুকতে দিতে পারে, কাউকে কাউকে না দিতে পারে। তোমার লোকেরা ইসলামপূর্ব সময়ের ন্যায় অজ্ঞ/মূর্খ ছিল। তাই আমি চিন্তিত ছিলাম যে আমি যদি হিজরকে কাবার সাথে যুক্ত করি ও দরজা ভেঙে মাটির সমান করে দিই, তবে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
এখন ইব্রাহিম নবী যা করেছেন, তার সাথে আমাদের বক্তব্য সাংঘর্ষিক না। কেননা, তিনি সক্ষমতা অর্জনের পরেই কাজটা করেছিলেন এবং ক্ষতি থেকে দূরে ছিলেন। ইবনে আসুর বর্ণণা করেন-“আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব।”
তিনি শর্ত দিলেন যে, মুর্তি ধ্বংসের কাজটা তখনই করতে হবে, যখন সেটার সামর্থ্য আপনার হবে।
এটা দিয়ে প্রমানিত হয় যে, খারাপকে বদলাবার ব্যাপারে নবীর দৃঢ় মনোভাব ছিল কারণ নিজ হাতে মুর্তি ভাঙার উদয়োগ তার দৃঢ় ইচ্ছার বিষয়টি নিশ্চিত করে। কিন্তু মুর্তি পূজারীদের উপস্থিতিতে তিনি সেটা করতে পারতেন না। কারণ, এর ফলে সেই প্রচেষ্টা ব্যার্থ হতে পারে। খারাপকে বদলাবার মানে হল, যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা ও নিজ হাতে ধ্বংস করা। সেটা তখনই সম্ভব, যখন আপনার সামর্থ্য হবে।
সবশেষে, মুসলিম দেশে কোন অমুসলিম মন্দির স্থাপন কিংবা কোন মুসলিম দেশকে করতে দেয়া, মুসলমানের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব না। হযরত উমরের ইসলামিক শাসনের অধীনে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দিয়ে শর্ত দিয়েছিলেন, ’ আমরা আমাদের নগরে কোন চার্চ তৈরী করতে দেব না”

সেইসাথে, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, বর্তমান সময়ে ইসলামী শারীয়া সম্পর্কে সবচাইতে বড় পণ্ডিতদের মধ্যে একজন মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ সৌদি আরবের একজন সালাফি স্কলার, যিনি ইসলামকিউএ.ইনফো ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচিত- যা সালাফি মানহাযের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে। আল জাজিরা এবং সৌদি সরকার সহ অসংখ্য জায়গাতেই তার ব্যাখ্যা রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তার দ্বারা পরিচালিত ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে কী বলা, তা আগে জেনে নিই। [38]

Obligation to destroy idols
Question
Is it obligatory to destroy statues in Islam, even if they are part of the legacy of human civilization? Why is it that when the Sahaabah conquered other lands and saw statues there they did not destroy them?.
Answer
Praise be to Allah.
The evidence of sharee’ah indicates that it is obligatory to destroy idols, for example:
1 – Muslim (969) narrated that Abu’l-Hayaaj al-Asadi said: ‘Ali ibn Abi Taalib said to me: “Shall I not send you with the same instructions as the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) sent me? ‘Do not leave any image without defacing it or any built-up grave without leveling it.’”
2 – Muslim (832) narrated from ‘Urwah ibn ‘Abasah that he said to the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him): “With what were you sent?” He said, “I was sent to uphold the ties of kinship, to break the idols, and so that Allaah would be worshipped alone with no partner or associate.”
The obligation to destroy them is even stronger if they are worshipped instead of Allaah.
3 – al-Bukhaari (3020) and Muslim (2476) narrated that Jareer ibn ‘Abd-Allaah al-Bajali said: The Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) said to me: “O Jareer, will you not relieve me of Dhu’l-Khalsah?” That was a house (in Yemen) belonging to the (tribe of) Khath’am, which was called Ka’bat al-Yamaaniyyah. I set out with one hundred and fifty horsemen. I used not to sit firm on horses and I mentioned that to the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him). He struck me on my chest with his hand and said, ‘O Allaah! Make him firm and make him one who guides others and is guided on the right path.’ ” So Jareer went and burned it with fire, then Jareer sent a man called Abu Artaat to the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him). He said, “I did not come to you until we had left it like a scabby camel.” Then the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) blessed the horses of (the tribe of) Ahmas and their men five times.
Al-Haafiz Ibn Hajar said:
This hadeeth indicates that it is prescribed to remove things that may tempt or confuse the people, whether they are buildings, people, animals or inanimate objects.
4 – The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) sent Khaalid ibn al-Waleed (may Allaah be pleased with him) on a campaign to destroy al-‘Uzza.
5 – and he sent Sa’d ibn Zayd al-Ashhali (may Allaah be pleased with him) on a campaign to destroy Manaat.
6 – And he sent ‘Amr ibn al-‘Aas (may Allaah be pleased with him) on a campaign to destroy Suwaa’. All of that happened after the Conquest of Makkah.
Al-Bidaayah wa’l-Nihaayah, 4/712. 776. 5/83; al-Seerah al-Nabawiyyah by Dr. ‘Ali al-Salaabi, 2/1186.
Al-Nawawi said in Sharh Muslim when discussing the issue of image-making:
They were unanimously agreed that whatever casts a shadow is not allowed and must be changed.
Images that cast a shadow are three-dimensional images like these statues.
With regard to what is said about the Sahaabah (may Allaah be pleased with them) not destroying idols in the conquered lands, this is merely conjecture. The companions of the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) would not have left idols and statues alone, especially since they were worshipped at that time.
If it is asked, how come the Sahaabah left alone the ancient idols of the Pharaohs and Phoenicians? The answer is that these idols fall into one of three categories:
1 – These idols may have been in remote places that the Sahaabah did not reach; when the Sahaabah conquered Egypt, for example, that does not mean that they reached every part of the land.
2 – These idols may not have been visible, rather they may have been inside Pharaonic buildings etc. The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) told us to hasten when passing through the abodes of the wrongdoers and those who had been punished, and he forbade entering such places. In al-Saheehayn it is says: “Do not enter upon those who have been punished unless you are weeping, lest there befall you something like that which befall them.” He (peace and blessings of Allaah be upon him) said that when he passed by ashaab al-hijr (the dwellers of the rocky tract – see al-Hijr 15:80), in the land of Thamood, the people of Saalih (peace be upon him).
According to another report narrated in al-Saheehayn, “If you are not weeping, then do not enter upon them, lest there befall you something like that which befall them.”
What we think is that if the companions of the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) saw a temple or building belonging of these people, they did not enter it or even look at what was inside it.
This will dispel any confusion about why the Sahaabah did not see the Pyramids or what is inside them. There is also the possibility that their doors and entrances were covered with sand at that time.
3 – Many of these idols that are visible nowadays were covered and hidden, and have only been discovered recently, or they have been brought from remote places that the companions of the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) did not reach.
Al-Zarkali was asked about the Pyramids and the Sphinx etc: Did the Sahaabah who entered Egypt see them?
He said: They were mostly covered with sand, especially the Sphinx.
Shibh Jazeerat al-‘Arab, 4/1188
Then even if we assume that there was a statue that was visible and not hidden, then we still have to prove that the Sahaabah saw it and were able to destroy it.
The fact of the matter is that the Sahaabah (may Allaah be pleased with them) would not have been able to destroy some of these statues. It took twenty days to destroy some of these statues even with tools, equipment, and explosives etc that were not available to the Sahaabah at all.
This is indicated by what Ibn Khuldoon said in al-Muqaddimah (p. 383), that the caliph al-Rasheed was unable to destroy the estrade of Chosroes. He started to do that, and he gathered men and tools, and burned it with fire, and poured vinegar on it, but he was unable to do it. And the caliph al-Ma’moon wanted to destroy the Pyramids in Egypt and he gathered workers but he could not do it.
With regard to the excuse that these statues are part of the legacy of mankind, no attention should be paid to such words. Al-Laat, al-‘Uzaa, Hubal, Manaat and other idols were also a legacy for those who worshipped them among Quraysh and the Arabs.
This is a legacy, but it is a haraam legacy which should be uprooted. When the command comes from Allaah and His Messenger, then the believer must hasten to obey, and the command of Allaah and His Messenger cannot be rejected on the grounds of this flimsy excuse. Allaah says (interpretation of the meaning):
“The only saying of the faithful believers, when they are called to Allaah (His Words, the Qur’aan) and His Messenger, to judge between them, is that they say: “We hear and we obey.” And such are the successful (who will live forever in Paradise)”
(al-Noor 24:51)
We ask Allaah to help the Muslims to do that which He loves and which pleased Him.
And Allaah knows best.

এই ওয়েবসাইটে বাঙলা অনুবাদও দেয়া রয়েছে- [39]

মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা
প্রশ্ন
ইসলামে প্রতিকৃতি ভাঙ্গা কি আবশ্যক; এমনকি সেটা যদি মানব ঐতিহ্য ও সভ্যতার ঐতিহ্য হয় তবুও? সাহাবায়ে কেরাম যখন বিভিন্ন দেশ জয় করলেন তখন তারা বিজিত দেশগুলোতে প্রতিকৃতিগুলো দেখা সত্ত্বেও সেগুলো ভাঙ্গেননি কেন?
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.
শরিয়তের দলিলগুলো মূর্তি ভাঙ্গা আবশ্যক হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ বহন করে। এমন দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১। আবুল হাইয়্যাজ আল-আসাদি (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, আলী বিন আবু তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন: “আমি কি তোমাকে সে কাজে পাঠাব না; যে কাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তুমি যত প্রতিকৃতি পাবে সেগুলোকে নষ্ট করবে এবং যত উঁচু কবর পাবে সেগুলোকে সমান করে দিবে।”(সহিহ মুসলিম (৯৬৯))
২। আমর বিন আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন: “আপনি কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন? তিনি বললেন: ‘আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূতি ভাঙ্গা এবং আল্লাহ্‌র এককত্ব প্রতিষ্ঠা ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা নিয়ে’ প্রেরিত হয়েছি।”(সহিহ মুসলিম (৮৩২))
মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা আরও তাগিদপূর্ণ হয় যখন আল্লাহ্‌র বদলে সে সব মূর্তির পূজা করা হয়।
৩। জারীর বিন আব্দুল্লাহ্‌ আল-বাজালি (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: হে জারীর! তুমি আমাকে যুল খালাসা (এটি খাছআম গোত্রের একটি ঘর যাকে ইয়ামেনী কাবা ডাকা হত) থেকে প্রশান্তি দিতে পার না? তিনি বলেন: তখন আমি দেড়শ অশ্বারোহী নিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নিলাম। আমি আমার ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারতাম না। এ বিষয়টি আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের উপর আঘাত করলেন এবং বললেন: اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا (হে আল্লাহ্! তাকে স্থির রাখুন এবং পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।) বর্ণনাকারী বলেন: জারীর (রাঃ) রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং গিয়ে সে কাবাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে পাঠালেন; যার কুনিয়ত ছিল আবু আরতা। সেই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন: আমরা সেই মন্দিরটিকে এমন অবস্থায় রেখে আপনার কাছে এসেছি যেন সেটি রোগের কারণে আলকাতরা দেয়া (কালো) উট। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহমাস গোত্রের ঘোড়া ও বীরপুরুষদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।”(সহিহ বুখারী (৩০২০) ও সহিহ মুসলিম (২৪৭৬))
ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন:
এ হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে: যে জিনিস দ্বারা মানুষ ফিতনাগ্রস্ত হয় সেটি দূর করা শরয়ি বিধান; হোক সেটি কোন ভবন বা অন্য কিছু; যেমন- মানুষ, প্রাণী বা ঝড় পদার্থ।(সমাপ্ত)
৪। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর নেতৃত্বে উজ্জা নামক মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্য অভিযান পাঠিয়েছিলেন।
৫। তিনি সাদ বিন যায়েদ আল-আশহালি (রাঃ) এর নেতৃত্বে মানাত নামক মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্য অভিযান পাঠিয়েছেন।
৬। তিনি আমর বিন আ’স (রাঃ) এর নেতৃত্বে সুআ’ নামক মূর্তিটি ধ্বংসের জন্য অভিযান পাঠিয়েছেন। এ সবগুলো অভিযান হয়েছে মক্কা বিজয়ের পর।
(‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (৪/৭১২, ৭৭৬, ৫/৮৩) এবং ড. আলী সাল্লাবীর রচিত ‘আস-সিরাতুন নাবাওয়িয়্যাহ’ (২/১১৮৬))
ইমাম নববী ‘শারহে মুসলিম’ এ تصوير (প্রতিকৃতি তৈরী, ছবি অংকন/নির্মাণ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: “আলেমগণ ইজমা করেছেন যে, যেটার ছায়া আছে এমন ছবি তৈরী করা নিষিদ্ধ এবং এটি বিকৃত করা আবশ্যক।”(সমাপ্ত)
যে ছবিগুলোর ছায়া হয় সেগুলো তো এই মূর্তিগুলোর মত দেহের অবকাঠামোবিশিষ্ট ছবিগুলো।
আর সাহাবায়ে কেরাম বিজিত দেশসমূহে প্রতিমাগুলো না ভাঙ্গার যে কথা বলা হয় সেটি নিছক ভিত্তিহীন ধারণা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীবর্গ মূর্তি ও প্রতিমা রেখে দেয়ার কথা নয়। বিশেষতঃ যেহেতু ঐ যামানায় এগুলোর পূজা করা হত।
যদি বলা হয়: তাহলে এই ফেরাউনদের প্রতিকৃতি, ফিনিকীনদের প্রতিকৃতি কিংবা অন্যান্য প্রতিকৃতিগুলো বিজয়ী সাহাবীগণ কিভাবে রেখে দিলেন?
জবাব হল: এই মূর্তিগুলোর ব্যাপারে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে:
এক. এ মূর্তিগুলো এত দূরবর্তী স্থানে ছিল যে, সাহাবায়ে কেরাম সে সব স্থানে পৌঁছেননি। উদাহরণস্বরূপ সাহাবীদের মিশর জয় করার মানে এটা নয় যে, তারা মিশরের সকল স্থানে পৌঁছেছেন।
দুই. কিংবা সেই মূর্তিগুলো দৃশ্যমান ছিল না। বরং সেগুলো ফেরাউনদের ও অন্যদের বাসাবাড়ীর অভ্যন্তরে ছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ছিল জালিম ও শাস্তিপ্রাপ্তদের বাসস্থান অতিক্রমকালে দ্রুত গমন করা। বরং ঐ সমস্ত স্থানে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে এসেছে যে, “তোমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের এলাকায় প্রবেশ করলে কেবল ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রবেশ করবে। যেন তাদেরকে যা পাকড়াও করেছে তোমাদেরকে সেটা পাকড়াও না করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরবাসীদের এলাকা অতিক্রম করাকালে এ কথা বলেছেন। যেটা ছিল হুদ আলাইহিস সালামের কওম ছামুদ সম্প্রদায়ের বাসস্থান।
সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমের অপর এক রেওয়ায়েতে আছে: “যদি তোমাদের কান্না না আসে তাহলে এদের গৃহে প্রবেশ করো না; যেন তাদেরকে যা পাকড়াও করেছে তোমাদেরকে সেটা পাকড়াও না করে।”
সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে যে ধারণা রাখা যায় সেটা হল তাঁরা যদি এদের মন্দির বা বাড়ীঘর দেখেও থাকেন তারা সেগুলোতে প্রবেশ করেননি এবং এগুলোর অভ্যন্তরে যা রয়েছে সেসব তারা দেখেননি।
এর মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক পিরামিড এবং এর মধ্যে যা কিছু ছিল সেগুলো ধ্বংস না করার যে আপত্তি আসতে পারে সেটার জবাব হয়ে যায়। তবে এর সাথে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে যামানায় পিরামিডের প্রবেশপথগুলো বালির স্তুপ দিয়ে ঢাকা ছিল।
তিন. বর্তমানে দৃশ্যমান মূর্তিগুলো তখন বালিতে ঢাকা ছিল, অদৃশ্য ছিল কিংবা এগুলো নব আবিষ্কৃত কিংবা এগুলোকে অনেক দূরবর্তী স্থান থেকে নিয়ে আসা হয়েছে; যে স্থানগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম পৌঁছেননি।
ইতিহাসবিদ যিরিকলিকে পিরামিড ও আবুল হুল (একটি মূর্তির নাম) ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, যে সকল সাহাবী মিশর প্রবেশ করেছেন তারা কি এগুলোকে দেখেছেন? জবাবে তিনি বলেন: এ মূর্তিগুলোর অধিকাংশই ছিল বালিতে ঢাকা। বিশেষতঃ আবুল হুল।(শিবহু জাযিরাতিল আরব (৪/১১৮৮))
যদি ধরে নেয়া হয় যে, কোন একটি মূর্তি দৃশ্যমান ছিল; বালিতে ঢাকা ছিল না; সেক্ষেত্রেও সাহাবীরা ঐ মূর্তিটিকে দেখেছেন এবং তারা ঐ মূর্তিটি ভাঙ্গতে সক্ষম ছিলেন এটা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক।
বাস্তবতা হচ্ছে কোন কোন মূর্তি ধ্বংস করতে সাহাবায়ে কেরাম অক্ষম ছিলেন। কেননা এ ধরণের কোন কোন মূর্তি ভাঙ্গতে মেশিনারি, যন্ত্রপাতি, বিস্ফোরক ও লোকবল থাকা সত্ত্বেও বিশদিন সময় লেগেছে; যেগুলো সাহাবীদের যামানায় ছিল না।
সাহাবীরা যে এগুলো ভাঙ্গতে অক্ষম ছিলেন এর প্রমাণ হল যা ইবনে খালদুন তাঁর ‘মুকাদ্দিমা’-তে (পৃষ্ঠা-৩৮৩) উল্লেখ করেছেন যে, একবার খলিফা আর-রশিদ পারস্যের বাদশার প্রাসাদ ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সেটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করে দেন এবং এর লক্ষ্যে লোকবল জমায়েত করেন, কুঠার সংগ্রহ করেন, প্রাসাদটিকে আগুনে উত্তপ্ত করেন, এর উপরে শির্কা ঢালেন। কিন্তু অবশেষে তিনি ব্যর্থ হন। এবং খলিফা মামুন মিশরের পিরামিডগুলো ভাঙ্গার লক্ষ্যে হাতি জড়ো করেন। কিন্তু তিনিও সক্ষম হননি।
আর মূর্তিগুলো না ভাঙ্গার পক্ষে এ কথা বলে কারণ দর্শানো যে, এ মূর্তিগুলো মানব ঐতিহ্য- এমন কথার প্রতি দৃষ্টিপাতের সুযোগ নাই। কেননা লাত, উজ্জা, হুবাল, মানাত ও অন্যান্য মূর্তিগুলোর যারা পূজা করত কুরাইশরা কিংবা আরব উপদ্বীপের অন্যান্য লোকেরা তাদের নিকট এগুলো তো মানব ঐতিহ্যই ছিল।
এগুলো ঐতিহ্য ঠিকই; কিন্তু হারাম ঐতিহ্য যা ধ্বংস করা ওয়াজিব। যখন আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ এসে যায় তখন একজন মুমিন দেরী না করে সে নির্দেশ পালন করে। এ সমস্ত দুর্বল যুক্তি দিয়ে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে না। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “রাসূল তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন, এই উদ্দেশ্য যখন তাদেরকে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন মুমিনদের কথা হয় এটাই: তারা বলে আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। আর তারাই সফলকাম।”(সূরা নূর, আয়াত: ৫১)
আমরা আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন সকল মুসলিমকে তিনি যা পছন্দ করেন ও যেটার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তা পালন করার তাওফিক দেন।
আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

এই প্রসঙ্গে ইসলামকিউএ ডট ইনফো নামক প্রখ্যাত সালাফি স্কলারদের দ্বারা পরিচালিত একটি উত্তর প্রাসঙ্গিক পড়ে নেয়া প্রয়োজন [40] –

বিধর্মীদের উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান
প্রশ্ন
প্রশ্ন: বিধর্মীদের উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান কি?
উত্তর
আলহামদুলিল্লাহ।
খ্রিস্টমাস (বড়দিন) কিংবা অন্য কোন বিধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কাফেরদের শুভেচ্ছা জানানো আলেমদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হারাম। ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) তাঁর লিখিত “আহকামু আহলিয যিম্মাহ” গ্রন্থে এ বিধানটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “কোন কুফরী আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরীর পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গুনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনার কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরী কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে।”(উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
কাফেরদের উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হারাম ও এত জঘন্য গুনাহ (যেমনটি ইবনুল কাইয়্যেম এর ভাষ্যে এসেছে) হওয়ার কারণ হলো- এ শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে কুফরী আচারানুষ্ঠানের প্রতি স্বীকৃতি ও অন্য ব্যক্তির পালনকৃত কুফরীর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়। যদিও ব্যক্তি নিজে এ কুফরী করতে রাজী না হয়। কিন্তু, কোন মুসলিমের জন্য কুফরী আচারানুষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা কিংবা এ উপলক্ষে অন্যকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হারাম। কেননা আল্লাহ তাআলা কুফরীর প্রতি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন: “যদি তোমরা কুফরী কর তবে (জেনে রাখ) আল্লাহ্‌ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না। এবং যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও; তবে (জেনে রাখ) তিনি তোমাদের জন্য সেটাই পছন্দ করেন।”(সূরা যুমার, আয়াত: ৭) আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”(সূরা মায়েদা, আয়াত: ৩) অতএব, কুফরী উৎসব উপলক্ষে বিধর্মীদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম; তারা সহকর্মী হোক কিংবা অন্য কিছু হোক।
আর বিধর্মীরা যদি আমাদেরকে তাদের উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানায় আমরা এর উত্তর দিব না। কারণ সেটা আমাদের ঈদ-উৎসব নয়। আর যেহেতু এসব উৎসবের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট নন। আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমস্ত মানবজাতির কাছে ইসলাম ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন, যে ধর্মের মাধ্যমে পূর্বের সকল ধর্মকে রহিত করে দেয়া হয়েছে; হোক এসব উৎসব সংশ্লিষ্ট ধর্মে অনুমোদনহীন নব-সংযোজন কিংবা অনুমোদিত (সবই রহিত)। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।”(সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮৫)
কোন মুসলমানের এমন উৎসবের দাওয়াত কবুল করা হারাম। কেননা এটি তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে করে দাওয়াতকৃত কুফরী অনুষ্ঠানে তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করা হয়।
অনুরূপভাবে এ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কাফেরদের মত অনুষ্ঠান করা, উপহার বিনিময় করা, মিষ্টান্ন বিতরণ করা, খাবার-দাবার আদান-প্রদান করা, ছুটি ভোগ করা ইত্যাদি মুসলমানদের জন্য হারাম। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের-ই দলভুক্ত”। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর লিখিত ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম’ গ্রন্থে বলেন: “তাদের কোন উৎসব উপলক্ষে তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করলে এ বাতিল কর্মের পক্ষে তারা মানসিক প্রশান্তি পায়। এর মাধ্যমে তারা নানাবিধ সুযোগ গ্রহণ করা ও দুর্বলদেরকে বেইজ্জত করার সম্ভাবনা তৈরী হয়।”(উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
যে ব্যক্তি বিধর্মীদের এমন কোন কিছুতে অংশগ্রহণ করবে সে গুনাহগার হবে। এ অংশগ্রহণের কারণ সৌজন্য, হৃদ্যতা বা লজ্জাবোধ ইত্যাদি যেটাই হোক না কেন। কেননা এটি আল্লাহর ধর্মের ক্ষেত্রে আপোষকামিতার শামিল। এবং এটি বিধর্মীদের মনোবল শক্ত করা ও স্ব-ধর্ম নিয়ে তাদের গর্ববোধ তৈরী করার কারণের অন্তর্ভুক্ত।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলমানদেরকে ধর্মীয়ভাবে শক্তিশালী করেন, ধর্মের ওপর অবিচল রাখেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাদেরকে বিজয়ী করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।(মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিস শাইখ ইবনে উছাইমীন ৩/৩৬৯)
সূত্র: শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

প্রখ্যাত বাংলাদেশের আলেম এবং ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্রের অন্যতম পণ্ডিত ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত মো আব্দুল কাদেরের বই বাংলাদেশে প্রচলিত শির্ক বিদ‘আত ও কুসংস্কার পর্যালোচনা গ্রন্থে পরিষ্কারভাবেই বলা আছে যে, শিকর হচ্ছে হত্যাযোগ্য অপরাধ। যারা শিরক করে, তাদের রক্ত মুসলিমদের জন্য হালাল [41]।

ধর্ম অবমাননা 67

সাহাবি, তাবেঈন ও আলেমদের বক্তব্য: সংকলন

প্রতিমা ধ্বংসের সামরিক অভিযান, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরির নিষেধ, ছবিযুক্ত কাপড়ের ব্যবহার এবং বিজিত সম্পদের বণ্টন—ইসলামি সূত্রে এসব বিষয়ে পৃথক বক্তব্য রয়েছে। সাহাবিদের বর্ণনায় নবীর নির্দেশ ও নিজেদের কার্যকলাপ, তাবেঈনদের বর্ণনায় ব্যবহারভেদে ছবির বিধান, আর পরবর্তী ফকিহদের আলোচনায় সেগুলো থেকে প্রণীত সাধারণ বিধান পাওয়া যায়।

ব্যক্তিপরিচয়আলোচ্য বিষয়বক্তব্য বা কার্যকলাপের সারাংশপ্রসঙ্গসহ দলিল
আলী ইবনে আবি তালিবসাহাবিপ্রতিকৃতি ও উঁচু কবরনবীর দেওয়া প্রতিকৃতি মুছে ফেলা ও উঁচু কবর সমান করার দায়িত্ব অন্য ব্যক্তিকে অর্পণ।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
জারির ইবনে আবদুল্লাহসাহাবিযুল-খালাসার বিরুদ্ধে অভিযানদেড়শ অশ্বারোহী নিয়ে যুল-খালাসা ভাঙা এবং সেখানে পাওয়া লোকদের হত্যার নিজের বিবরণ।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসসাহাবিপ্রতিকৃতি নির্মাতার পেশাপ্রতিকৃতি নির্মাতার জন্য জাহান্নামের হুঁশিয়ারি বর্ণনা; পেশা চালালে গাছ ও প্রাণহীন বস্তু আঁকার পরামর্শ।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
তালক ইবনে আলীসাহাবিগির্জা থেকে মসজিদনিজেদের এলাকার গির্জা ভেঙে মসজিদ বানানোর নির্দেশ পালন করার বিবরণ।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
আতা ইবনে আবি রাবাহতাবেঈবিছানো ও স্থাপিত প্রতিকৃতিপায়ে মাড়ানো বা বিছানো ছবিতে আপত্তি নেই; স্থাপিত প্রতিকৃতি অপছন্দ।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আয-যুহরিতাবেঈস্থাপিত ও বিছানো ছবিস্থাপিত এবং বিছানো—উভয় ধরনের ছবি অপছন্দ।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
ইকরিমাতাবেঈপ্রতিকৃতির মাথামাথা কেটে ফেলা হলে প্রতিকৃতি নিয়ে আপত্তি থাকে না।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
মালিক ইবনে আনাসতাবে-তাবেঈনপ্রতিকৃতিযুক্ত স্থাপনা, কাপড় ও আংটিপ্রদর্শিত প্রতিকৃতি ও প্রতিকৃতিযুক্ত আংটিতে আপত্তি; ব্যবহারে অবমানিত বিছানা-বালিশের জন্য পৃথক বিধান।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
সুফিয়ান আস-সাওরিতাবে-তাবেঈনবালিশের ছবিপায়ে মাড়ানো বা বসার কাজে ব্যবহৃত বালিশের ছবিতে আপত্তি নেই—আয়নির উদ্ধৃত বক্তব্য।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
শামসুল আইম্মা আস-সারাখসিপরবর্তী হানাফি ফকিহযুদ্ধলব্ধ ক্রুশ ও প্রতিমাসোনা-রুপার ক্রুশ ও প্রতিমা ভেঙে ধাতু করা; লেনদেনের প্রতিকৃতিযুক্ত মুদ্রার ক্ষেত্রে ছাড়।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
ইয়াহইয়া আন-নববিপরবর্তী শাফেয়ি ফকিহপ্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি ও ব্যবহারতৈরিকে কঠোরভাবে হারাম; ব্যবহারে ঝোলানো ছবি ও পায়ে মাড়ানো কাপড়ের পার্থক্য।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
ইবনুল কাইয়িমপরবর্তী হাম্বলি আলেমউপাসনাস্থল, কবরকেন্দ্রিক স্থাপনা ও অর্থসক্ষম হলে শিরকের স্থান এক দিনও রাখা নিষিদ্ধ; সংশ্লিষ্ট অর্থ সৈন্য ও মুসলিম স্বার্থে ব্যয়ের বিধান।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ
ইবনে হাজার আল-আসকালানিপরবর্তী শাফেয়ি আলেমযুল-খালাসার হাদিসের ব্যাখ্যাযে নির্মাণ বা বস্তু মানুষকে ফিতনায় ফেলে তা অপসারণ এবং শত্রুর ক্ষতিসাধনে তীব্রতার শিক্ষা।মূল বর্ণনা ও অনুবাদ

আলী: প্রতিকৃতি মুছে ফেলা ও উঁচু কবর সমান করার দায়িত্ব

আলী ইবনে আবি তালিব আবুল হাইয়াজ আল-আসাদিকে এমন একটি দায়িত্বে পাঠান, যে দায়িত্বে মুহাম্মদ তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। নবীর নির্দেশ পরবর্তী সময়ে সাহাবির মাধ্যমে আবার কার্যকর করার এই বর্ণনায় প্রতিকৃতি মুছে ফেলা এবং উঁচু কবর সমান করা একই অভিযানের দুটি কাজ হিসেবে এসেছে। [42]

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ:
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাইবা ও যুহাইর ইবনে হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন, আমাদের খবর দিয়েছেন; অন্য দুজন বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন ওয়াকি—সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবুল হাইয়াজ আল-আসাদি থেকে। আবুল হাইয়াজ বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব আমাকে বললেন, “আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাব না, যে কাজে আল্লাহর রাসুল আমাকে পাঠিয়েছিলেন? কোনো প্রতিকৃতি মুছে না ফেলে ছেড়ে দেবে না এবং কোনো উঁচু কবর সমান না করে ছেড়ে দেবে না।”


জারির: ধ্বংস ও হত্যার অভিযানে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের বিবরণ

যুল-খালাসা ধ্বংসের বর্ণনায় জারির ইবনে আবদুল্লাহ নিজের অভিযানের কথা বলেন। প্রতিমা বা উপাসনাস্থল ভাঙার সঙ্গে সেখানে পাওয়া লোকদের হত্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এই বিবরণে অভিযানের পর মুহাম্মদের কাছে ফিরে সংবাদ দেওয়া এবং অভিযাত্রীদের জন্য তাঁর দোয়া করার ঘটনাও রয়েছে। [43]

وَعَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ بَيْتٌ يُقَالُ لَهُ ذُو الْخَلَصَةِ، وَكَانَ يُقَالُ لَهُ الْكَعْبَةُ الْيَمَانِيَةُ، أَوِ الْكَعْبَةُ الشَّأْمِيَةُ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ هَلْ أَنْتَ مُرِيحِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ ‏”‏‏.‏ قَالَ فَنَفَرْتُ إِلَيْهِ فِي خَمْسِينَ وَمِائَةِ فَارِسٍ مِنْ أَحْمَسَ ـ قَالَ ـ فَكَسَرْنَا وَقَتَلْنَا مَنْ وَجَدْنَا عِنْدَهُ، فَأَتَيْنَاهُ فَأَخْبَرْنَاهُ فَدَعَا لَنَا وَلأَحْمَسَ‏.‏

বাংলা অনুবাদ:
কায়স জারির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। জারির বলেন: জাহিলিয়াতের সময়ে একটি ঘর ছিল, যাকে যুল-খালাসা বলা হতো। একে ইয়েমেনি কাবা অথবা শামি কাবাও বলা হতো। আল্লাহর রাসুল আমাকে বললেন, “তুমি কি আমাকে যুল-খালাসা থেকে স্বস্তি দেবে?” জারির বলেন: আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী নিয়ে তার দিকে যাত্রা করলাম। আমরা সেটি ভেঙে ফেললাম এবং তার কাছে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। তারপর তাঁর কাছে ফিরে সংবাদ দিলাম। তিনি আমাদের ও আহমাসের জন্য দোয়া করলেন।


ইবনে আব্বাস: চিত্রকরের জীবিকা ও প্রাণহীন বিষয় আঁকার পরামর্শ

একজন প্রতিকৃতি নির্মাতা পেশাগত কাজের বিধান জানতে এলে ইবনে আব্বাস তাকে কাছে ডেকে মাথায় হাত রেখে নবীর হুঁশিয়ারি শোনান। তারপর কাজটি করতেই হলে গাছ ও প্রাণহীন বিষয় আঁকার পরামর্শ দেন। জাহান্নামের হুঁশিয়ারিটি তাঁর বর্ণিত নবীর বক্তব্য; গাছ আঁকার পরামর্শটি ইবনে আব্বাসের নিজের প্রয়োগমূলক নির্দেশ। [44]

قَالَ مُسْلِمٌ قَرَأْتُ عَلَى نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيِّ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ أُصَوِّرُ هَذِهِ الصُّوَرَ فَأَفْتِنِي فِيهَا ‏.‏ فَقَالَ لَهُ ادْنُ مِنِّي ‏.‏ فَدَنَا مِنْهُ ثُمَّ قَالَ ادْنُ مِنِّي ‏.‏ فَدَنَا حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ قَالَ أُنَبِّئُكَ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يَجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَتُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ ‏”‏ ‏.‏ وَقَالَ إِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لاَ نَفْسَ لَهُ ‏.‏ فَأَقَرَّ بِهِ نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ:
মুসলিম বলেন: নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামির কাছে আমি পাঠ করেছি—আবদুল আলা ইবনে আবদুল আলা থেকে; তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি ইসহাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবুল হাসান থেকে। সাঈদ বলেন: এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের কাছে এসে বলল, “আমি এসব প্রতিকৃতি তৈরি করি। এ বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দিন।” তিনি বললেন, “আমার কাছে এসো।” লোকটি কাছে এলে তিনি আবার বললেন, “আমার কাছে এসো।” লোকটি আরও কাছে এলে তিনি তার মাথায় হাত রাখলেন এবং বললেন, “আল্লাহর রাসুলের কাছে যা শুনেছি তা তোমাকে জানাচ্ছি। আমি আল্লাহর রাসুলকে বলতে শুনেছি: প্রত্যেক প্রতিকৃতি নির্মাতা আগুনে থাকবে। তার তৈরি প্রত্যেক প্রতিকৃতির জন্য একটি প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেবে।” তিনি আরও বললেন, “তোমাকে যদি করতেই হয়, তাহলে গাছ এবং যেসব বস্তুর প্রাণ নেই সেগুলো তৈরি করো।” নাসর ইবনে আলী এই বর্ণনা স্বীকার করেছেন।


আতা, যুহরি ও ইকরিমা: ছবির অবস্থান ও মাথা অপসারণের বিধান

ইবনে আবি শাইবার মুসান্নাফে ছবিযুক্ত বস্তু ব্যবহারের আলোচনায় পরপর তিনটি বর্ণনায় আতা, যুহরি ও ইকরিমার মত সংরক্ষিত আছে। আতা পায়ে মাড়ানো বা বিছানো ছবি এবং স্থাপিত ছবির পার্থক্য করেন; যুহরি উভয় ধরন অপছন্দ করতেন; ইকরিমা মাথা কেটে ফেলা হলে আপত্তি নেই বলেন। [45]

(12) حدثنا أبو بكر قال حدثنا عبد الرحيم بن سليمان عن عبد الملك عن عطاء في التماثيل ، ما كان مبسوطا يوطأ ويبسط فلا بأس به ، وما كان ينصب فإني أكرهه .

(13) حدثنا أبو بكر قال حدثنا عبد الأعلى عن معمر عن الزهري أنه كان يكره التصاوير ما نصب منها وما بسط .

(14) حدثنا أبو بكر قال حدثنا ابن علية عن أيوب عن عكرمة قال : إنما الصورة الرأس ، فإذا قطع فلا بأس .

বাংলা অনুবাদ:
(১২) আবু বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবদুর রহিম ইবনে সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক থেকে, তিনি আতা থেকে। প্রতিকৃতি সম্পর্কে আতা বলেন: যা বিছানো থাকে, পায়ে মাড়ানো হয় এবং বিছিয়ে ব্যবহার করা হয়, তাতে আপত্তি নেই। আর যা স্থাপন করা হয়, তা আমি অপছন্দ করি।

(১৩) আবু বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবদুল আলা আমাদের বর্ণনা করেছেন, মামার থেকে, তিনি যুহরি থেকে—যুহরি স্থাপিত এবং বিছানো উভয় ধরনের ছবি অপছন্দ করতেন।

(১৪) আবু বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে উলাইয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে। ইকরিমা বলেন: প্রতিকৃতির মূল হচ্ছে মাথা; সেটি কেটে ফেলা হলে আপত্তি নেই।


মালিক: প্রদর্শিত প্রতিকৃতি, ব্যবহৃত বস্ত্র ও প্রতিকৃতিযুক্ত আংটি

আল-মুদাওয়ানায় ইবনুল কাসিমের মাধ্যমে মালিকের বক্তব্যে প্রতিকৃতির অবস্থান ও ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। শয্যা, গম্বুজ ও অনুরূপ স্থানে প্রতিকৃতি অপছন্দ করা হয়েছে; বিছানা ও বালিশের মতো ব্যবহারে অবমানিত বস্তুর আলোচনা আলাদা। প্রতিকৃতিযুক্ত আংটি পরা ও তা পরে নামাজ পড়ার প্রশ্নেও তিনি নিষেধ করেন। [46]

قلت : أكان مالك يكره أن يصلي الرجل إلى قبلة فيها تماثيل ؟ قال : كره الكنائس لموضع التماثيل فهذا عنده لا شك أشد من ذلك .
قال ابن القاسم : وسألت مالكا عن التماثيل وتكون في الأسرة والقباب والمنار وما أشبهها ؟
قال : هذا مكروه وقال لأن هذه خلقت خلقا ، قال : وما كان من الثياب والبسط والوسائد فإن هذا يمتهن ، قال : وقد كان أبو سلمة بن عبد الرحمن يقول ما كان يمتهن فلا بأس به وأرجو أن يكون خفيفا ومن تركه غير محرم له فهو أحب إلي .
قال : وسألنا مالكا عن الخاتم يكون فيه التماثيل أيلبس ويصلى به ؟
قال : لا يلبس ولا يصلى به .

বাংলা অনুবাদ:
আমি বললাম: কিবলার দিকে প্রতিকৃতি থাকলে সেই দিকে মুখ করে নামাজ পড়াকে কি মালিক অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন: প্রতিকৃতির অবস্থানের কারণে তিনি গির্জাগুলো অপছন্দ করতেন; সুতরাং তাঁর কাছে এটি নিঃসন্দেহে তার চেয়েও গুরুতর।
ইবনুল কাসিম বলেন: আমি মালিককে শয্যা, গম্বুজ, মিনার ও অনুরূপ স্থানে থাকা প্রতিকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
তিনি বললেন: এটি অপছন্দনীয়; কারণ এগুলো সৃষ্টির অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন: কাপড়, বিছানা ও বালিশের ক্ষেত্রে এসব অবমানিতভাবে ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও বলেন: আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান বলতেন—যা অবমানিতভাবে ব্যবহৃত হয়, তাতে আপত্তি নেই। আমি আশা করি বিষয়টি লঘু হবে; আর যে ব্যক্তি একে হারাম ঘোষণা না করে বর্জন করে, তা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়।
তিনি বলেন: আমরা মালিককে প্রতিকৃতিযুক্ত আংটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম—সেটি পরা যাবে কি এবং তা পরে নামাজ পড়া যাবে কি?
তিনি বললেন: সেটি পরবে না এবং তা পরে নামাজও পড়বে না।


সুফিয়ান আস-সাওরি: বালিশের ছবি এবং ঝোলানো ছবির পার্থক্য

বদরুদ্দিন আল-আয়নি বিভিন্ন ফকিহের মত সংকলন করতে গিয়ে সুফিয়ান আস-সাওরির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: বালিশের ছবিতে আপত্তি নেই, কারণ তা পায়ে মাড়ানো ও বসার কাজে ব্যবহৃত হয়। একই অনুচ্ছেদে ঝোলানো কাপড় ও পর্দার ছবিতে নিষেধ এবং বিছিয়ে ব্যবহৃত ছবিতে ছাড়ের আলোচনা রয়েছে। সুফিয়ানের এই বক্তব্য আয়নির পরবর্তী সংকলনের মাধ্যমে উদ্ধৃত। [47]

وخالف الآخرون هؤلاء المذكورين ، وهم النخعي ، والثوري ، وأبو حنيفة ، ومالك ، والشافعي ، وأحمد في رواية ، وقالوا : إذا كانت الصور على البسط والفرش التي توطأ بالأقدام ، فلا بأس بها ، وأما إذا كانت على الثياب والستائر ونحوها فإنها تحرم ، وقال أبو عمر : ذكر ابن القاسم قال : كان مالك يكره التماثيل في الأسرة والقباب ، وأما البسط والوسائد والثياب ، فلا بأس به وكره أن يصلي إلى قبة فيها تماثيل ، وقال الثوري : لا بأس بالصور في الوسائد ؛ لأنها توطأ ويجلس عليها ، وكان أبو حنيفة وأصحابه يكرهون التصاوير في البيوت بتمثال ، ولا يكرهون ذلك فيما يبسط ، ولم يختلفوا أن التصاوير في الستور المعلقة مكروهة ، وكذلك عندهم ما كان خرطا أو نقشا في البناء .

বাংলা অনুবাদ:
উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্যরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁরা হলেন নাখাঈ, সাওরি, আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি এবং এক বর্ণনা অনুযায়ী আহমদ। তাঁরা বলেছেন: ছবি যদি পায়ে মাড়ানো বিছানা ও আসবাবে থাকে, তাহলে তাতে আপত্তি নেই; কিন্তু কাপড়, পর্দা ও অনুরূপ বস্তুতে থাকলে তা হারাম। আবু উমর বলেছেন: ইবনুল কাসিম উল্লেখ করেছেন—মালিক শয্যা ও গম্বুজের প্রতিকৃতি অপছন্দ করতেন; বিছানা, বালিশ ও কাপড়ের ক্ষেত্রে আপত্তি নেই। তিনি প্রতিকৃতিযুক্ত গম্বুজের দিকে মুখ করে নামাজ পড়া অপছন্দ করতেন। সাওরি বলেছেন: বালিশের ছবিতে আপত্তি নেই, কারণ তা পায়ে মাড়ানো হয় এবং তার ওপর বসা হয়। আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীরা ঘরে প্রতিকৃতিযুক্ত ছবি অপছন্দ করতেন; কিন্তু যা বিছানো হয় তাতে তা অপছন্দ করতেন না। ঝোলানো পর্দার ছবি অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়ে তাঁরা ভিন্নমত করেননি। স্থাপনায় খোদাই বা নকশা করা ছবির ক্ষেত্রেও তাঁদের কাছে একই বিধান।


সারাখসি: যুদ্ধলব্ধ ক্রুশ ও প্রতিমা ভেঙে ধাতু হিসেবে বণ্টন

হানাফি ফকিহ সারাখসি যুদ্ধলব্ধ সোনা-রুপার ক্রুশ ও প্রতিমা অক্ষত অবস্থায় বণ্টন বা বিক্রির বদলে ভেঙে ধাতুতে পরিণত করার বিধান দেন। তাঁর উল্লিখিত কারণ হচ্ছে—অক্ষত অবস্থায় বণ্টন করলে কোনো মুশরিক তা বেশি দামে কিনে ধর্মীয় ব্যবহার আবার চালু করতে পারে। একই আলোচনায় তিনি প্রতিকৃতিযুক্ত লেনদেনের মুদ্রাকে আলাদা করেছেন। [48]

ولو وجدوا في الغنائم صليباً من ذهب أو فضة وتماثيل أو دراهم أو دنانير فيها التماثيل فإنه ينبغي للإمام أن يكسر ذلك ويجعله تبراً لأنه لو قسمه أو باعه كذلك ربما يبيعه من يقع سهمه من بعض المشركين بأن يزيدوا له في ثمنه رغبة منهم في لباسه أو في أن يعيدوه فليتحرز عن ذلك بكسر الصليب والتماثيل.
والذي يروى أن معاوية بعث بها لتباع بأرض الهند فقد استعظم ذلك مسروق على ما ذكر محمد في كتاب الإكراه ثم بينا ذلك الحديث في شرح المختصر.
فأما الدراهم والدنانير فلا بأس بقسمتها وبيعها قبل أن تكسر لأن هذا مما لا يلبس ولكنه يتبدل في المعاملات.
ألا ترى أن المسلمين يتبايعون بدراهم الأعاجم فيها التماثيل بالتيجان ولا يمتنع أحد عن المعاملة بذلك وإنما يكره هذا فيما يلبس أو يعبد من دون الله من الصليب ونحوها

বাংলা অনুবাদ:
যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে সোনা বা রুপার ক্রুশ, প্রতিমা অথবা প্রতিকৃতিযুক্ত দিরহাম-দিনার পাওয়া গেলে ইমামের সেগুলো ভেঙে অপরিশোধিত ধাতুতে পরিণত করা উচিত। কারণ সেভাবেই বণ্টন বা বিক্রি করলে যার ভাগে পড়বে সে তা কোনো মুশরিকের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে; মুশরিকেরা তা পরতে অথবা আগের অবস্থায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হয়ে বেশি দাম দিতে পারে। তাই ক্রুশ ও প্রতিমা ভেঙে এই সম্ভাবনা এড়াতে হবে।
মুয়াবিয়া সেগুলো ভারতের ভূমিতে বিক্রির জন্য পাঠিয়েছিলেন বলে যে বর্ণনা রয়েছে, মুহাম্মদ কিতাবুল ইকরাহতে যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী মাসরুক সেই কাজকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করেছিলেন। শরহুল মুখতাসারে আমরা সেই বর্ণনার ব্যাখ্যা করেছি।
কিন্তু দিরহাম ও দিনার ভাঙার আগে বণ্টন ও বিক্রি করায় আপত্তি নেই। কারণ এগুলো পরিধান করা হয় না; লেনদেনে হাতবদল হয়।
তুমি কি দেখো না, মুসলমানেরা অনারবদের এমন দিরহাম দিয়ে কেনাবেচা করে যাতে মুকুটপরিহিত প্রতিকৃতি রয়েছে, এবং কেউ তা দিয়ে লেনদেন থেকে বিরত থাকে না? ক্রুশ ও অনুরূপ বস্তুর ক্ষেত্রে এই অপছন্দ সেইসব জিনিসের জন্য, যা পরিধান করা হয় অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনায় ব্যবহৃত হয়।

এই বিধানে ধাতুর আর্থিক মূল্য ব্যবহারযোগ্য থাকে, কিন্তু অন্য ধর্মের প্রতীকের অক্ষত অস্তিত্ব ও পুনর্ব্যবহার ঠেকানো হয়। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মালিকানা মুসলিম শাসকের হাতে যাওয়ার পর তার ধর্মীয় আকৃতি ধ্বংস করাকে বণ্টনের পূর্বশর্ত করা হয়েছে। প্রতিকৃতিযুক্ত মুদ্রার ছাড়টি লেনদেনে তার ব্যবহার থেকে এসেছে।


নববি: প্রতিকৃতি নির্মাণ ও ছবিযুক্ত বস্তুর ব্যবহার এক বিধান নয়

সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় নববি প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করাকে কঠোরভাবে হারাম ও কবিরা গুনাহ বলেছেন। তাঁর আলোচনায় ছবিটি পরে অবমানিতভাবে ব্যবহার করা হলেও তা তৈরির নিষেধ বহাল থাকে। তৈরি করা এবং আগে থেকে ছবিযুক্ত কোনো বস্তু ব্যবহার করা—এই দুই প্রশ্নের উত্তর তিনি পৃথকভাবে দিয়েছেন। [49]

قال أصحابنا وغيرهم من العلماء : تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم ، وهو من الكبائر ؛ لأنه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور في الأحاديث ، وسواء صنعه بما يمتهن أو بغيره ، فصنعته حرام بكل حال ؛ لأن فيه مضاهاة لخلق الله تعالى ، وسواء ما كان في ثوب أو بساط أو درهم أو دينار أو فلس أو إناء أو حائط أو غيرها .
وأما تصوير صورة الشجر ورحال الإبل وغير ذلك مما ليس فيه صورة حيوان فليس بحرام . هذا حكم نفس التصوير .
وأما اتخاذ المصور فيه صورة حيوان فإن كان معلقا على حائط أو ثوبا ملبوسا أو عمامة ونحو ذلك مما لا يعد ممتهنا فهو حرام ، وإن كان في بساط يداس ومخدة ووسادة ونحوها مما يمتهن فليس بحرام . ولكن هل يمنع دخول ملائكة الرحمة ذلك البيت ؟ فيه كلام نذكره قريبا إن شاء الله ، ولا فرق في هذا كله بين ما له ظل وما لا ظل له .
هذا تلخيص مذهبنا في المسألة ، وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم ، وهو مذهب الثوري ومالك وأبي حنيفة وغيرهم .

বাংলা অনুবাদ:
আমাদের অনুসারী ও অন্য আলেমেরা বলেছেন: প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম, কঠোরভাবে হারাম। এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ হাদিসগুলোতে এর জন্য এই কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তা অবমানিতভাবে ব্যবহৃত হবে এমন কিছুতে তৈরি করা হোক অথবা অন্য কিছুতে—তৈরি করা সর্বাবস্থায় হারাম, কারণ এতে মহান আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ রয়েছে। কাপড়, বিছানা, দিরহাম, দিনার, তামার মুদ্রা, পাত্র, দেয়াল অথবা অন্য যেকোনো কিছুতে তৈরি করা হোক—একই বিধান।
গাছ, উটের জিন এবং এমন অন্য বিষয় যাতে প্রাণীর প্রতিকৃতি নেই, সেগুলোর ছবি তৈরি হারাম নয়। এটি প্রতিকৃতি তৈরি করার নিজের বিধান।
প্রাণীর প্রতিকৃতিযুক্ত বস্তু রাখার ক্ষেত্রে—তা দেয়ালে ঝোলানো, পরিধেয় কাপড়, পাগড়ি বা এমন কোনো কিছু হলে যা অবমানিতভাবে ব্যবহৃত বলে গণ্য হয় না, তা হারাম। আর পায়ে মাড়ানো বিছানা, মাথার বালিশ, হেলান দেওয়ার বালিশ বা অনুরূপ অবমানিতভাবে ব্যবহৃত কিছুতে হলে তা হারাম নয়। কিন্তু তা কি সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতাদের প্রবেশে বাধা দেয়? এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে, যা আল্লাহ চাইলে অল্প পরেই উল্লেখ করব। এই সমস্ত ক্ষেত্রে ছায়াযুক্ত ও ছায়াহীন প্রতিকৃতির মধ্যে পার্থক্য নেই।
এটি এই বিষয়ে আমাদের মাজহাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। সাহাবি, তাবেঈন ও তাঁদের পরবর্তী আলেমদের অধিকাংশ একই অর্থের মত দিয়েছেন। এটি সাওরি, মালিক, আবু হানিফা ও অন্যদের মাজহাব।

নববির বর্ণিত নিষেধ কাপড়, পাত্র, দেয়াল ও মুদ্রার মতো সাধারণ বস্তুর প্রাণীর প্রতিকৃতি পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর ব্যাখ্যায় ত্রিমাত্রিক প্রতিকৃতি এবং সমতল ছবির পার্থক্যও এই নিষেধ সরিয়ে দেয় না; ছবিযুক্ত বস্তু ব্যবহারের অনুমতি নির্ভর করছে সেটি ঝোলানো বা সম্মানজনক অবস্থানে আছে, নাকি পায়ে মাড়ানো ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে তার ওপর।


ইবনুল কাইয়িম: সক্ষম হলে শিরকের স্থান এক দিনও রাখা যাবে না

লাত ধ্বংসের ঘটনা থেকে ইবনুল কাইয়িম সাধারণ বিধান টেনেছেন: ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জনের পর শিরকের স্থান এক দিনও রেখে দেওয়া বৈধ নয়। তাঁর বক্তব্য প্রাচীন আরবের লাত-উজ্জা-মানাতেই সীমিত নেই; একই বিধান কবরের ওপর গড়ে ওঠা এবং তাঁর ভাষায় উপাস্য হিসেবে ব্যবহৃত স্থাপনা ও পাথরের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন। [50]

ومنها: أنه لا يجوز إبقاء مواضع الشرك والطواغيت بعد القدرة على هدمها وإبطالها يوما واحدا، فإنها شعائر الكفر والشرك، وهي أعظم المنكرات، فلا يجوز الإقرار عليها مع القدرة البتة، وهذا حكم المشاهد التي بنيت على القبور التي اتخذت أوثانا وطواغيت تعبد من دون الله، والأحجار التي تقصد للتعظيم والتبرك والنذر والتقبيل لا يجوز إبقاء شيء منها على وجه الأرض مع القدرة على إزالته، وكثير منها بمنزلة اللات والعزى، ومناة الثالثة الأخرى، أو أعظم شركا عندها، وبها، والله المستعان.

বাংলা অনুবাদ:
এর শিক্ষাগুলোর একটি হলো: শিরকের স্থান ও তাগুতগুলো ধ্বংস ও বাতিল করার ক্ষমতা অর্জনের পর সেগুলো এক দিনও রেখে দেওয়া বৈধ নয়। কারণ সেগুলো কুফর ও শিরকের নিদর্শন এবং সবচেয়ে বড় অন্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। ক্ষমতা থাকা অবস্থায় সেগুলো বহাল রাখা কোনোভাবেই বৈধ নয়। যে কবরগুলোকে আল্লাহ ছাড়া উপাসিত প্রতিমা ও তাগুত বানানো হয়েছে, সেগুলোর ওপর নির্মিত পবিত্র স্থানগুলোর বিধানও একই। সম্মান, বরকত গ্রহণ, মানত ও চুম্বনের উদ্দেশ্যে যেসব পাথরের কাছে যাওয়া হয়, অপসারণের ক্ষমতা থাকলে তার কোনো কিছুই পৃথিবীর বুকে রেখে দেওয়া বৈধ নয়। এগুলোর অনেকগুলো লাত, উজ্জা ও তৃতীয় আরেকটি মানাতের পর্যায়ের; অথবা সেগুলোর কাছে ও সেগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত শিরক আরও বেশি। আল্লাহই সাহায্যস্থল।

ক্ষমতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয়—এটাই ইবনুল কাইয়িমের বিধানের যুক্তি। লাত ধ্বংসের একটি নির্দিষ্ট সীরাত-ঘটনাকে ইবনুল কাইয়িম ভবিষ্যতের অনুরূপ স্থানগুলো ধ্বংসের বিধানে রূপান্তর করেছেন। কবরকেন্দ্রিক স্থাপনাতেও সেই বিধান প্রয়োগ করায় তাঁর তালিকার লক্ষ্য কেবল অমুসলিমদের উপাসনাস্থল নয়।


ইবনুল কাইয়িম: উপাসনাস্থলের সম্পদ, সৈন্য ও মুসলিম স্বার্থ

ইবনুল কাইয়িম ধ্বংসযোগ্য বলে চিহ্নিত ধর্মীয় স্থানের অর্থনৈতিক সম্পদ নিয়েও বিধান দিয়েছেন। সেখানে দেওয়া অর্থ শাসকের নিয়ে নেওয়া শুধু বৈধ নয়, তাঁর মতে কর্তব্য; সেই অর্থ সৈন্য, যোদ্ধা ও ইসলামের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে। একই আলোচনায় ভবন ভেঙে দেওয়া, জমি বা স্থাপনা যোদ্ধাদের বরাদ্দ দেওয়া, বিক্রির অর্থ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ বাতিল করার কথাও রয়েছে। [51]

ومنها : جواز صرف الإمام الأموال التي تصير إلى هذه المشاهد والطواغيت في الجهاد ومصالح المسلمين ، فيجوز للإمام بل يجب عليه أن يأخذ أموال هذه الطواغيت التي تساق إليها كلها ، ويصرفها على الجند والمقاتلة ، ومصالح الإسلام ، كما أخذ النبي – صلى الله عليه وسلم – أموال اللات ، وأعطاها لأبي سفيان يتألفه بها ، وقضى منها دين عروة والأسود ، وكذلك يجب عليه أن يهدم هذه المشاهد التي بنيت على القبور التي اتخذت أوثانا ، وله أن يقطعها للمقاتلة ، أو يبيعها ويستعين بأثمانها على مصالح المسلمين ، وكذلك الحكم في أوقافها ، فإن وقفها فالوقف عليها باطل ، وهو مال ضائع ، فيصرف في مصالح المسلمين ، فإن الوقف لا يصح إلا في قربة وطاعة لله ورسوله ، فلا يصح الوقف على مشهد ولا قبر يسرج عليه ، ويعظم وينذر له ، ويحج إليه ، ويعبد من دون الله ، ويتخذ وثنا من دونه ، وهذا مما لا يخالف فيه أحد من أئمة الإسلام ، ومن اتبع سبيلهم .

বাংলা অনুবাদ:
এর শিক্ষাগুলোর একটি হলো: এসব পবিত্র স্থান ও তাগুতের কাছে আসা অর্থ শাসকের পক্ষে জিহাদ ও মুসলমানদের স্বার্থে ব্যয় করা বৈধ। শাসক এসব তাগুতের কাছে আনা সমস্ত সম্পদ নিয়ে নিতে পারেন; বরং তা নিয়ে নেওয়া তাঁর কর্তব্য। তিনি তা সৈন্য, যোদ্ধা ও ইসলামের স্বার্থে ব্যয় করবেন। যেমন নবী লাতের সম্পদ নিয়েছিলেন, আবু সুফিয়ানের মন জয় করার জন্য তা তাঁকে দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে উরওয়া ও আসওয়াদের ঋণ পরিশোধ করেছিলেন। একইভাবে প্রতিমা হিসেবে গৃহীত কবরগুলোর ওপর নির্মিত এসব পবিত্র স্থান ধ্বংস করাও তাঁর কর্তব্য। তিনি তা যোদ্ধাদের বরাদ্দ দিতে পারেন, অথবা বিক্রি করে তার মূল্য মুসলমানদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারেন। এসব স্থানের ওয়াকফের বিধানও একই। কেউ সেখানে ওয়াকফ করে থাকলে সেই ওয়াকফ বাতিল; এটি অপচয় হওয়া সম্পদ, তাই মুসলমানদের স্বার্থে ব্যয় করা হবে। কারণ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নৈকট্য ও আনুগত্যের কাজ ছাড়া ওয়াকফ সহিহ হয় না। যে পবিত্র স্থান বা কবরে বাতি জ্বালানো হয়, সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তার উদ্দেশ্যে মানত করা হয়, তীর্থযাত্রা করা হয়, আল্লাহ ছাড়া তার উপাসনা করা হয় এবং তাকে প্রতিমা বানানো হয়, সেখানে ওয়াকফ সহিহ নয়। ইসলামের ইমাম এবং তাঁদের পথের অনুসারীদের কেউ এ বিষয়ে ভিন্নমত করেন না।

ধর্মীয় কর্তৃত্বের সঙ্গে সম্পদ হস্তান্তরের সম্পর্ক এখানে সরাসরি প্রকাশিত। যে স্থানের ধর্মীয় বৈধতা অস্বীকার করা হচ্ছে, তার ভবন, দান ও ওয়াকফের ওপর পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার অধিকারও বাতিল করা হচ্ছে। তারপর সেই সম্পদ বিজয়ী ধর্মীয়-রাজনৈতিক শক্তির সৈন্য ও স্বার্থে ব্যবহার করার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। শেষ বাক্যে মতভেদ না থাকার দাবিটি ইবনুল কাইয়িমের নিজের দাবি।


ইবনে হাজার: যুল-খালাসার ঘটনা থেকে অপসারণের সাধারণ বিধান

যুল-খালাসার হাদিস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে হাজার মানুষের ফিতনায় পড়ার কারণ বলে বিবেচিত নির্মাণ ও অন্যান্য বস্তু অপসারণের বিধান উল্লেখ করেছেন। একই অনুচ্ছেদে তিনি শত্রুর ক্ষতিসাধনে তীব্রতাকেও হাদিসটির শিক্ষা হিসেবে রেখেছেন। [52]

وفي الحديث مشروعية إزالة ما يفتتن به الناس من بناء وغيره سواء كان إنسانا أو حيوانا أو جمادا ، وفيه استمالة نفوس القوم بتأمير من هو منهم ، والاستمالة بالدعاء والثناء والبشارة في الفتوح ، وفضل ركوب الخيل في الحرب ، وقبول خبر الواحد ، والمبالغة في نكاية العدو ، ومناقب لجرير ولقومه ، وبركة يد النبي – صلى الله عليه وسلم – ودعائه ، وأنه كان يدعو وترا وقد يجاوز الثلاث .
وفيه تخصيص لعموم قول أنس : ” كان إذا دعا دعا ثلاثا ” فيحمل على الغالب ، وكأن الزيادة لمعنى اقتضى ذلك ، وهو ظاهر في أحمس لما اعتمدوه من دحض الكفر ونصر الإسلام ولا سيما مع القوم الذين هم منهم .

বাংলা অনুবাদ:
এই হাদিসে যে নির্মাণ বা অন্য কিছুর কারণে মানুষ ফিতনায় পড়ে তা অপসারণের বৈধতা রয়েছে—তা মানুষ, প্রাণী বা জড়বস্তু যা-ই হোক। এতে রয়েছে কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজনকে নেতা বানিয়ে তাদের মন আকর্ষণ করা; বিজয়ের সময় দোয়া, প্রশংসা ও সুসংবাদ দিয়ে মন আকর্ষণ করা; যুদ্ধে ঘোড়ায় চড়ার মর্যাদা; এক ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ; শত্রুর ক্ষতিসাধনে তীব্রতা; জারির ও তাঁর গোত্রের মর্যাদা; নবীর হাত ও দোয়ার বরকত; এবং তিনি বিজোড় সংখ্যায় দোয়া করতেন ও কখনো তিনবারের বেশি করতেন—এসব বিষয়।
এতে আনাসের “তিনি দোয়া করলে তিনবার করতেন”—এই সাধারণ বক্তব্যের সীমা নির্দিষ্ট হয়েছে; তাই সেটিকে সাধারণত যা হতো সেই অর্থে নিতে হবে। বাড়তি দোয়া করার পেছনে যেন এমন কোনো কারণ ছিল যা তা দাবি করেছিল। আহমাসের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট: তারা কুফর পরাস্ত করা এবং ইসলামকে সাহায্য করার কাজ করেছিল, বিশেষ করে নিজেদেরই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।


সমকালীন ফতোয়ায় ধর্মীয় প্রতীক ও উপাসনাস্থলের অধিকার

পুরোনো মালিকের ক্রুশ: ধাতুর মূল্য ফেরত, প্রতীক অক্ষত নয়

২০২০ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত ইসলামকিউএ-র ৩৩০২০৭ নম্বর ফতোয়ায় প্রশ্নকারী একটি গাড়ি কিনে তার মধ্যে পূর্ববর্তী মালিকের রেখে যাওয়া ক্রুশ পান। উত্তরে বলা হয়, নিজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছাড়া ভাঙা সম্ভব হলে ক্রুশটি ভাঙতে হবে। ভাঙার পর সোনা বা অনুরূপ ধাতু হিসেবে মূল্য থাকলে মালিককে সেই ভাঙা বস্তু ফেরত দিতে হবে; মূল্য না থাকলে ভেঙে ফেলতে হবে এবং মালিককে কিছু দেওয়ার দায় থাকবে না। ফতোয়াটি ক্রুশের উপাদানের আর্থিক মালিকানা স্বীকার করে, কিন্তু তার ধর্মীয় আকৃতি অক্ষত রাখার অধিকার স্বীকার করে না। যুক্তি দিতে এতে কাশশাফুল কিনা, ইবনুল জাওজি, আয়নি ও শাওকানির আলোচনা ব্যবহার করা হয়েছে। [53]২০২০ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত ইসলামকিউএ-র ৩৩০২০৭ নম্বর ফতোয়ায় প্রশ্নকারী একটি গাড়ি কিনে তার মধ্যে পূর্ববর্তী মালিকের রেখে যাওয়া ক্রুশ পান। উত্তরে বলা হয়, নিজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছাড়া ভাঙা সম্ভব হলে ক্রুশটি ভাঙতে হবে। ভাঙার পর সোনা বা অনুরূপ ধাতু হিসেবে মূল্য থাকলে মালিককে সেই ভাঙা বস্তু ফেরত দিতে হবে; মূল্য না থাকলে ভেঙে ফেলতে হবে এবং মালিককে কিছু দেওয়ার দায় থাকবে না। ফতোয়াটি ক্রুশের উপাদানের আর্থিক মালিকানা স্বীকার করে, কিন্তু তার ধর্মীয় আকৃতি অক্ষত রাখার অধিকার স্বীকার করে না। যুক্তি দিতে এতে কাশশাফুল কিনা, ইবনুল জাওজি, আয়নি ও শাওকানির আলোচনা ব্যবহার করা হয়েছে। [53]

ফতোয়ায় ব্যবহৃত শাওকানির মূল আলোচনায় বাড়ির ক্রুশ-চিহ্ন মুছে ফেলার হাদিস থেকে মালিকের অনুমতি ছাড়াই হাত দিয়ে অন্যায় পরিবর্তনের অনুমোদন টানা হয়েছে। তিনি ক্রুশের আকৃতি ভাঙা বা বদলে দেওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়ার পর মক্কার প্রতিমা ধ্বংসের ঘটনাকে এই বিধানের পক্ষে ব্যবহার করেন। [54]

ফতোয়ায় ব্যবহৃত শাওকানির মূল আলোচনায় বাড়ির ক্রুশ-চিহ্ন মুছে ফেলার হাদিস থেকে মালিকের অনুমতি ছাড়াই হাত দিয়ে অন্যায় পরিবর্তনের অনুমোদন টানা হয়েছে। তিনি ক্রুশের আকৃতি ভাঙা বা বদলে দেওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়ার পর মক্কার প্রতিমা ধ্বংসের ঘটনাকে এই বিধানের পক্ষে ব্যবহার করেন। [54]

الحديث أخرجه أيضا النسائي .
قوله : ( لم يكن يترك في بيته شيئا ) يشمل الملبوس والستور والبسط والآلات وغير ذلك .
قوله : ( فيه تصاليب ) أي صورة صليب من نقش ثوب أو غيره ، والصليب فيه صورة عيسى عليه السلام تعبده النصارى .
قوله : ( نقضه ) بفتح النون والقاف والضاد المعجمة : أي كسره وأبطله وغير صورة الصليب . وفي رواية أبي داود ” قضبه ” بالقاف المفتوحة والضاد المعجمة والباء الموحدة : أي قطع موضع التصليب منه دون غيره ، والقضب : القطع كذا قال ابن رسلان .
والحديث يدل على عدم جواز اتخاذ الثياب والستور والبسط وغيرها التي فيها تصاوير ، وعلى جواز تغيير المنكر باليد من غير استئذان مالكه ، زوجة كانت أو غيرها ، لما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم { يوم فتح مكة أنه كان يهوي بالقضيب الذي في يده إلى كل صنم فيخر لوجهه ويقول : جاء الحق وزهق الباطل حتى مر على ثلاثمائة وستين صنما } .

বাংলা অনুবাদ:
হাদিসটি নাসাঈও সংকলন করেছেন।
“তিনি তাঁর বাড়িতে কোনো কিছু রেখে দিতেন না”—এই কথাটি পরিধেয় কাপড়, পর্দা, বিছানা, সরঞ্জাম ও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে।
“যাতে ক্রুশ-চিহ্ন রয়েছে”—অর্থাৎ কাপড়ের নকশা বা অন্য কিছুতে ক্রুশের আকৃতি। ক্রুশে ঈসার প্রতিকৃতি থাকে, খ্রিষ্টানেরা তার উপাসনা করে।
“নাকাদাহু”—নুন, কাফ ও দাদ অক্ষরে ফাতহাসহ—অর্থাৎ তিনি তা ভেঙেছেন, বাতিল করেছেন এবং ক্রুশের আকৃতি পরিবর্তন করেছেন। আবু দাউদের বর্ণনায় “কাদাবাহু”—কাফে ফাতহা, দাদ ও এক বিন্দুযুক্ত বা—অর্থাৎ অন্য অংশ না কেটে শুধু ক্রুশ-চিহ্নের জায়গাটি কেটে ফেলেছেন। “কাদব” অর্থ কাটা; ইবনে রাসলান এভাবে বলেছেন।
হাদিসটি ছবিযুক্ত কাপড়, পর্দা, বিছানা ও অন্যান্য বস্তু রাখা অবৈধ হওয়ার নির্দেশ করে। এটি মালিকের অনুমতি না নিয়ে হাত দিয়ে অন্যায় পরিবর্তন করার বৈধতাও নির্দেশ করে—মালিক স্ত্রী হোক বা অন্য কেউ। কারণ তাঁর সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত আছে: মক্কা বিজয়ের দিনে তিনি হাতের ছড়ি প্রতিটি প্রতিমার দিকে নামাচ্ছিলেন, প্রতিমাটি মুখ থুবড়ে পড়ছিল, আর তিনি বলছিলেন, “সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে”—এভাবে তিনি তিনশ ষাটটি প্রতিমা অতিক্রম করেন।

এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় ধর্মীয় প্রতীক ধ্বংসের অনুমোদন। মালিককে কাঁচামালের মূল্য ফেরত দেওয়ার বিধান ক্রুশটি আগের অবস্থায় ফেরত দেওয়ার সমান নয়। যার ধর্মীয় প্রতীক, তার সম্মতি ছাড়াই প্রতীকের আকৃতি নষ্ট করার কর্তৃত্ব এখানে অন্য ধর্মের অনুসারীকে দেওয়া হচ্ছে।


গির্জা ও মসজিদের জন্য পৃথক নৈতিক মানদণ্ড

২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ইসলামকিউএ-র ৩০৪৪০৮ নম্বর ফতোয়ায় কর্দোবার মসজিদকে গির্জা এবং গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের তুলনা তোলা হয়। উত্তরে অমুসলিম দেশে মালিকের সম্মতিতে ক্রয়, সন্ধির মাধ্যমে বিজিত দেশে চুক্তি এবং যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত দেশ—এই তিন পরিস্থিতি পৃথক করা হয়েছে। শেষ ক্ষেত্রে উপাসনাস্থল মুসলমানদের সম্পত্তি এবং শাসকের বিবেচনাধীন বলে দাবি করা হয়। একই উত্তরে উদ্ধৃত ইবনে কুদামার আলোচনায় পুরোনো গির্জা ধ্বংস করা ও বহাল রাখা—দুই মতই রয়েছে; সন্ধির শর্ত অনুযায়ী অধিকার রাখার কথাও আছে। ফতোয়ার নিজস্ব সিদ্ধান্তে মুসলমানদের ধর্মকে সত্য ও অন্যদের ধর্মকে মিথ্যা ধরে একই রকম বাহ্যিক কাজের নৈতিক মূল্য আলাদা করা হয়েছে। [55]২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ইসলামকিউএ-র ৩০৪৪০৮ নম্বর ফতোয়ায় কর্দোবার মসজিদকে গির্জা এবং গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের তুলনা তোলা হয়। উত্তরে অমুসলিম দেশে মালিকের সম্মতিতে ক্রয়, সন্ধির মাধ্যমে বিজিত দেশে চুক্তি এবং যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত দেশ—এই তিন পরিস্থিতি পৃথক করা হয়েছে। শেষ ক্ষেত্রে উপাসনাস্থল মুসলমানদের সম্পত্তি এবং শাসকের বিবেচনাধীন বলে দাবি করা হয়। একই উত্তরে উদ্ধৃত ইবনে কুদামার আলোচনায় পুরোনো গির্জা ধ্বংস করা ও বহাল রাখা—দুই মতই রয়েছে; সন্ধির শর্ত অনুযায়ী অধিকার রাখার কথাও আছে। ফতোয়ার নিজস্ব সিদ্ধান্তে মুসলমানদের ধর্মকে সত্য ও অন্যদের ধর্মকে মিথ্যা ধরে একই রকম বাহ্যিক কাজের নৈতিক মূল্য আলাদা করা হয়েছে। [55]

ইসলামকিউএ-তে উদ্ধৃত ইবনে কুদামার মূল গ্রন্থে বলপ্রয়োগে বিজিত এলাকার গির্জা ধ্বংস করা এবং পুরোনো গির্জা বহাল রাখা—দুই মতই বিস্তারিত রয়েছে। তারপর সন্ধির মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের বিধান এসেছে। পুরোনো উপাসনাস্থল রক্ষার মতটি তাঁর গ্রন্থের নিজের আলোচনার অংশ; ধর্মীয় স্থাপনার ওপর কর্তৃত্বের বিধান সেখানে বিজয়ের ধরন ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে যুক্ত। [56]

ইসলামকিউএ-তে উদ্ধৃত ইবনে কুদামার মূল গ্রন্থে বলপ্রয়োগে বিজিত এলাকার গির্জা ধ্বংস করা এবং পুরোনো গির্জা বহাল রাখা—দুই মতই বিস্তারিত রয়েছে। তারপর সন্ধির মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের বিধান এসেছে। পুরোনো উপাসনাস্থল রক্ষার মতটি তাঁর গ্রন্থের নিজের আলোচনার অংশ; ধর্মীয় স্থাপনার ওপর কর্তৃত্বের বিধান সেখানে বিজয়ের ধরন ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে যুক্ত। [56]

القسم الثاني ، ما فتحه المسلمون عنوة ، فلا يجوز إحداث شيء من ذلك فيه ؛ لأنها صارت ملكا للمسلمين ، وما كان فيه من ذلك ففيه وجهان ؛ أحدهما ، يجب هدمه ، وتحرم تبقيته ؛ لأنها بلاد مملوكة للمسلمين ، فلم يجز أن تكون فيها بيعة ، كالبلاد التي اختطها المسلمون .
والثاني يجوز ؛ لأن في حديث ابن عباس : أيما مصر مصرته العجم ، ففتحه الله على العرب ، فنزلوه ، فإن للعجم ما في عهدهم . ولأن الصحابة ، رضي الله عنهم ، فتحوا كثيرا من البلاد عنوة ، فلم يهدموا شيئا من الكنائس . ويشهد لصحة هذا ، وجود الكنائس والبيع في البلاد التي فتحت عنوة ، ومعلوم أنها ما أحدثت ، فيلزم أن تكون موجودة فأبقيت .
وقد كتب عمر بن عبد العزيز ، رضي الله عنه إلى عماله ، أن لا يهدموا بيعة ولا كنيسة ولا بيت نار . ولأن الإجماع قد حصل على ذلك ، فإنها موجودة في بلاد المسلمين من غير نكير .
القسم الثالث ما فتح صلحا ، وهو نوعان ؛ أحدهما ، أن يصالحهم على أن الأرض لهم ، ولنا الخراج عنها ، فلهم إحداث ما يحتاجون فيها ؛ لأن الدار لهم والثاني ، أن يصالحهم على أن الدار للمسلمين ، ويؤدون الجزية إلينا ، فالحكم في البيع والكنائس على ما يقع عليه الصلح معهم ، من إحداث ذلك ، وعمارته ؛ لأنه إذا جاز أن يقع الصلح معهم على أن الكل لهم ، جاز أن يصالحوا على أن يكون بعض البلد لهم ، ويكون موضع الكنائس والبيع معينا والأولى أن يصالحهم على ما صالحهم عليه عمر رضي الله عنه ويشترط عليهم الشروط المذكورة في كتاب عبد الرحمن بن غنم ، أن لا يحدثوا بيعة ، ولا كنيسة ، ولا صومعة راهب ، ولا قلاية .

বাংলা অনুবাদ:
দ্বিতীয় বিভাগ হলো, মুসলমানেরা বলপ্রয়োগে যা জয় করেছে। সেখানে এসবের কোনো কিছু নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা বৈধ নয়, কারণ তা মুসলমানদের সম্পত্তি হয়েছে। সেখানে আগে থেকে যা ছিল, সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। প্রথমটি হলো: তা ধ্বংস করা কর্তব্য এবং রেখে দেওয়া হারাম। কারণ সেই দেশ মুসলমানদের মালিকানাধীন; তাই মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত জনপদের মতো সেখানেও গির্জা থাকা বৈধ নয়।
দ্বিতীয় মত হলো, রেখে দেওয়া বৈধ। কারণ ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় রয়েছে: অনারবেরা যে জনপদ প্রতিষ্ঠা করেছে, পরে আল্লাহ তা আরবদের হাতে জয় করিয়েছেন এবং তারা সেখানে বসতি করেছে, সেখানে অনারবদের জন্য তাদের চুক্তিভুক্ত অধিকার থাকবে। আর সাহাবিরা বহু দেশ বলপ্রয়োগে জয় করেছেন, কিন্তু গির্জাগুলোর কোনোটি ধ্বংস করেননি। এর যথার্থতার সাক্ষ্য হচ্ছে, বলপ্রয়োগে বিজিত দেশগুলোতে গির্জা ও উপাসনালয়ের অস্তিত্ব। জানা আছে, সেগুলো নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; সুতরাং সেগুলো আগে থেকেই ছিল এবং রেখে দেওয়া হয়েছে।
উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁর কর্মকর্তাদের লিখেছিলেন, তারা যেন কোনো উপাসনালয়, গির্জা বা অগ্নিমন্দির ধ্বংস না করে। আর এ বিষয়ে ইজমা হয়েছে; কারণ মুসলমানদের দেশে সেগুলো কোনো আপত্তি ছাড়াই বিদ্যমান।
তৃতীয় বিভাগ হলো, সন্ধির মাধ্যমে যা জয় করা হয়েছে। এর দুটি ধরন। প্রথম: তাদের সঙ্গে এই শর্তে সন্ধি করা যে ভূমি তাদের থাকবে এবং আমরা তার খারাজ পাব। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় স্থাপনা প্রতিষ্ঠার অধিকার রয়েছে, কারণ দেশটি তাদের। দ্বিতীয়: এই শর্তে সন্ধি করা যে দেশ মুসলমানদের হবে এবং তারা আমাদের জিযিয়া দেবে। সে ক্ষেত্রে উপাসনালয় ও গির্জা নতুন করে প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিধান তাদের সঙ্গে সম্পাদিত সন্ধির শর্ত অনুযায়ী হবে। কারণ সব কিছু তাদের থাকবে—এই শর্তে সন্ধি করা বৈধ হলে, দেশের কিছু অংশ তাদের থাকবে এবং গির্জা ও উপাসনালয়ের জায়গা নির্দিষ্ট থাকবে—এই শর্তেও সন্ধি করা বৈধ। উত্তম হলো, উমর যেসব শর্তে তাদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন সেই শর্তে সন্ধি করা এবং আবদুর রহমান ইবনে গনমের দলিলে উল্লিখিত শর্তগুলো আরোপ করা: তারা নতুন উপাসনালয়, গির্জা, সন্ন্যাসীর মিনার বা কুঠরি প্রতিষ্ঠা করবে না।

ইসলামকিউএ-র নিজস্ব সিদ্ধান্তে নিজের উপাসনাস্থল রক্ষা ও অন্যের উপাসনাস্থলের ওপর কর্তৃত্বের মূল্যায়ন ধর্মীয় পরিচয়নির্ভর। নিজের ধর্ম সত্য—এই পূর্বস্বীকৃতির ওপর অন্যের ধর্মীয় অধিকার কমিয়ে দেওয়ার যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছে। সব মানুষের উপাসনাস্থল রক্ষার সমান অধিকার এই যুক্তির ভিত্তি নয়; ভিত্তি হচ্ছে কোন ধর্মের অনুসারী কাজটি করছে।


ইসলামি শরীয়ত কী বলে?

ইসলামী শরীয়ত অনুসারে, একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে অন্য কোন ধর্মের মানুষের প্রকাশ্যে অন্য ধর্ম পালন, প্রচার, মন্দির বা চার্চ তৈরি, ধর্মীয় সিম্বল যেমন ক্রুশের লকেট পড়া, গাড়িতে গনেশ বা কৃষ্ণের মূর্তি রাখা, মুসলিমদের নিজ ধর্মে দাওয়াত দেয়া, এগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, মুসলিমরা যখন অমুসলিমদের দেশে বসবাস করবে, তারা তাদের ধর্ম পালন, ধর্মের দাওয়াত দেয়া, মসজিদ বানানো, আজান দেয়া, ওয়াজ করা, প্রকাশ্যে নামাজ আদায় করার অধিকার দাবী করলেও, ইসলামিক দেশে কোন বিধর্মী এই সুবিধাগুলোর কোনোটাই পাবে না। এটাই ইসলামী শরিয়তের বিধান।

ইসলামী শরীয়ত এই বিষয়ে স্পষ্টভাবেই ঘোষণা দেয়, অমুসলিমদের যদি ইসলামিক শাসনে থাকতে হয়, তাহলে তাদের অপদস্থতার নিদর্শন স্বরূপ জিজিয়া কর দিতে হবে। এই বিষয়ে তাফসীরে জালালাইনে বলা রয়েছে, জিজিয়া হচ্ছে সেই কর, যা কাফেরদের জীবনের বদলে আদায় করা হয়। তাফসীরে এটিও বলা আছে, কাফেররা আসলে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার মতই অপরাধী, কিন্তু জিজিয়া কর নিয়ে তাদের আসলে হত্যা করা হচ্ছে না! বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়া হচ্ছে! [57]

ধর্ম অবমাননা 69

এই বিষয়ে তাফসীরে মাযহারীতে বলা হয়েছে, [58]

ধর্ম অবমাননা 71
ধর্ম অবমাননা 73
ধর্ম অবমাননা 75

এই বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামিক দাইয়ী জাকির নায়েক কী ব্যাখ্যা দিয়েছে, সেটিও জেনে নিন-


কোরআনে আরো সাম্প্রদায়িকতা 

ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে অসংখ্যবার অমুসলিমদের সমালোচনা, কটাক্ষ, গালাগালি এবং কটূক্তি করা হয়েছে। আসুন কোরআন থেকে কয়েকটি আয়াত দেখে নেয়া যাক,

আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। 
কুরআন ৯৮ঃ৬

সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।
কোরআন ৮:৫৫

নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত।
কোরআন ২-১৬১

বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।
কোরআন ২-২৫৭

কাফেরদিগকে বলে দিন, খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হয়ে দোযখের দিকে হাঁকিয়ে নীত হবে-সেটা কতই না নিকৃষ্টতম অবস্থান।
কোরআন ৩-১২

বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।
কোরআন ৩-৩২

আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
কোরআন ৭:১৭৯

অতএব যারা কাফের হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে-তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
কোরআন ৩-৫৬

যাতে ধবংস করে দেন কোন কোন কাফেরকে অথবা লাঞ্ছিত করে দেন-যেন ওরা বঞ্চিত হয়ে ফিরে যায়।
কোরআন ৩-১২৭

খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহ্র সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুত: জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
কোরআন ৩-১৫১

আসুন দুইটি আয়াতের তাফসীর পড়ে দেখি, এইসব সাম্প্রদায়িক আয়াতগুলো আসলেই সাম্প্রদায়িক, নাকি আমাদেরই বোঝার ভুল! দেখে নিই, সর্বাপেক্ষ গ্রহণযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যাতে কী বলা রয়েছে। এখানে ইবনে কাসীর [59] ও জালালাইনের [60] তাফসীর গ্রন্থ থেকে দুইটি আয়াতের তাফসীর দেয়া হলো, যথাক্রমে সূরা আনফালের ৫৫ নম্বর, এবং সূরা আল বাইয়িনার ৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর-

অমুসলিমরা নিকৃষ্ট জীব তাফসীরে ইবনে কাসীর
অমুসলিমরা নিকৃষ্ট জীব তাফসীরে জালালাইন

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, মুসলিমগণ যখনই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে, তখনই অমুসলিমদের পুজনীয় মূর্তি ধ্বংস করে ফেলা তাদের সকল নবী ও রাসুলের সুন্নাহ। একে অনুসরণ অনুকরণ এবং পালন করাই প্রতিটি মুসলিমের পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নবী রাসুলদের এই সুন্নাহ বর্তমান সময়ে পালন করতে গেলে পুরো পৃথিবী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিপুর্ণ হয়ে উঠবে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ এবং যুদ্ধ বিগ্রহের উদ্ভব ঘটবে। অন্য ধর্মের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, যার ফলশ্রুতিতে আমাদের পৃথিবী হয়ে উঠবে অশান্ত। প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে, যেকোন ধর্মের সমর্থন বা বিরুদ্ধতা করা। প্রতিটি মানুষেরই অধিকার রয়েছে কোন ধর্মের প্রশংসা বা সমালোচনা করা। প্রতিটি মানুষেরই অধিকার রয়েছে কোন ধর্মকে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস করা। কিন্তু এই অধিকারটি সকলের জন্য প্রযোজ্য। কোন বিশেষ ধর্ম বা নবীর জন্য বাড়তি কোন খাতির এই আইনে থাকতে পারে না। অধিকার থাকলে সকলের থাকবে, নইলে কারোই থাকবে না। মুসলিমরা যদি তাদের নবীর সমালোচনা বন্ধ করতে চায়, তাহলে সর্বপ্রথম তাদের উচিৎ হবে, কোরআন হাদিস থেকে অমুসলিমদের সম্পর্কে যত বাজে কথা বলা আছে সেগুলো মুছে ফেলা। ইসলাম ধর্ম তো মৌলিকভাবেই অন্য ধর্মের সাথে মিলেমিশে সহাবস্থানকে হারাম মনে করে।

অমুসলিমদের দেশে আল্লাহর উপাসনা যদি অধিকার হয়, মসজিদ বানানো, আজান দেয়া, বোরখা পড়া যদি তাদের অধিকার হয়, মুসলিমদের দেশে অমুসলিমদের মূর্তি পুজার অধিকারও থাকতে হবে। তাদেরও প্রকাশ্যে ধর্ম পালন, নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রকাশ্যে উদযাপন করার অধিকারও থাকতে হবে। কিন্তু মুসলিমরা কখনোই সৌদি আরব বা অন্যান্য ইসলামিক শরীয়ার দেশে অমুসলিমদের ধর্ম পালনের সমান অধিকারটি দিতে ইচ্ছুক নন, কিন্তু তারা অমুসলিমদের দেশে নিজেদের ধর্ম পালনের অধিকার ষোল আনা উশুল করতে উৎসুক। তারা অন্য ধর্মের সমালোচনা, কটাক্ষ, কটূক্তি করার অধিকার চায়- কিন্তু তাদের ধর্ম নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারবে না! এই দ্বিচারিতার মধ্যেই তাদের বসবাস। আসলে, ইসলাম ধর্মটি সেই গোড়া থেকেই এরকম। আর জেনে হোক না জেনে হোক, অসংখ্য মুসলিম এগুলোই সমর্থন করে। কারণ, এটি তাদের বাপদাদার ধর্ম! এ কারণেই সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, মুমিন হচ্ছে নাকে দড়ি বাঁধা উঠের মত [61] –

সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ভূমিকা পর্ব
পরিচ্ছেদঃ ৬. হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদীনের সুন্নাতের অনুসরণ।
২/৪৩। ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমন হৃদয়গ্রাহী নাসীহাত করেন যে, তাতে (আমাদের) চোখগুলো অশ্রু ঝরালো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হল। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এতো যেন নিশ্চয়ই বিদায়ী ভাষণ। অতএব আপনি আমাদের থেকে কি প্রতিশ্রুতি নিবেন (আদেশ দিবেন)? তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের আলোকিত দ্বীনের উপর রেখে যাচ্ছি, তার রাত তার দিনের মতই (উজ্জ্বল)। আমার পরে নিজেকে ধ্বংসকারীই কেবল এ দ্বীন ছেড়ে বিপথগামী হবে।
তোমাদের মধ্যে যে বেঁচে থাকবে সে অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। অতএব তোমাদের উপর তোমাদের নিকট পরিচিত আমার আদর্শ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের আদর্শ অনুসরণ করা অবশ্য কর্তব্য। তোমরা তা শক্তভাবে দাঁত দিয়ে আকড়ে ধরে থাকবে। তোমরা অবশ্যই আনুগত্য করবে, যদি হাবশী গোলামও (তোমাদের নেতা নিযুক্ত) হয়। কেননা মুমিন ব্যাক্তি হচ্ছে নাসারন্ধ্রে লাগাম পরানো উটতুল্য। লাগাম ধরে যে দিকেই তাকে টানা হয়, সে দিকেই যেতে বাধ্য হয়।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। 
তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৯৩৭।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ)


তথ্যসূত্রঃ
  1. Taliban blow apart 2,000 years of Buddhist history ↩︎
  2. Here Are the Ancient Sites ISIS Has Damaged and Destroyed ↩︎
  3. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৮, ৩৩০, ৩৩১, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৩৪, ৩৩৫ ↩︎
  4. সীরাতে ইবনে হিশাম : হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবনীগ্রন্থ, আকরাম ফারুক, পৃষ্ঠা ৬১, ৬২ ↩︎
  5. সীরাতুল মুস্তফা সা. লেখকঃ আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী (রহ.) প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩, ১৪৪, ১৪৯, ১৫৪, ১৫৫ ↩︎
  6. মুখতাসার যাদুল মা‘আদ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরি, পৃষ্ঠা ২০২ ↩︎
  7. আসহাবে রাসুলের জীবনকথা, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০ ↩︎
  8. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, তৃতীয় খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৮৯, ৯০, ৯১ ↩︎
  9. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ১৮০৩ ↩︎
  10. রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ৪৪৩ ↩︎
  11. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বরঃ ২৪৭৮ ↩︎
  12. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ১৫০৬ ↩︎
  13. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৫৭ ↩︎
  14. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ২৮১১ ↩︎
  15. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৫৪৯ ↩︎
  16. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪০১৮ ↩︎
  17. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪০১৭ ↩︎
  18. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বর- ৪৩৫৬ ↩︎
  19. Fath Al Bari 5/340 ↩︎
  20. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৭ ↩︎
  21. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৪, হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৭ ↩︎
  22. সূরা আনআ’ম, আয়াত ১০৮ ↩︎
  23. ইসলামে কি আসলেই অন্য উপাস্যদের গালি দেয়া নিষেধ? ↩︎
  24. তাফসীরে মাযহারী, হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৮, ২৭৯, ২৮০ ↩︎
  25. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৬৬, ৮৬৭ ↩︎
  26. লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীনঃ তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের? ↩︎
  27. লা ইকরাহা ফিদ-দীনঃ ইসলামে কি আসলেই কোন জবরদস্তি নেই? ↩︎
  28. সূরা কাফিরুন, আয়াত ৬ ↩︎
  29. আহকামুল কুরআন, খায়রুন প্রকাশনী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৫ – ৩৫৮ ↩︎
  30. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৪, ৫৯৫, ৫৯৬, ৫৯৮ ↩︎
  31. আর-রাহীকুল মাখতূম, আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী (রহঃ), তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা ৪৬৬, ৪৬৭ ↩︎
  32. সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ১০৪৯ ↩︎
  33. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১০ম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ৫২৬, ৫২৭ ↩︎
  34. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৩৭–৪৩৮; সাকিফের প্রতিনিধিদলের আগমন, ইসলামওয়েব ↩︎
  35. সুনান আন-নাসাঈ, কিতাবুল মাসাজিদ, গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করার অধ্যায়, হাদিস ৭০১; Sunnah.com ↩︎
  36. সিরাত ইবন হিশামে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৬-৬৭ ↩︎
  37. Demolishing idols in a non-Muslim country ↩︎
  38. Obligation to destroy idols ↩︎
  39. মূর্তি ভাঙ্গার আবশ্যকতা ↩︎
  40. বিধর্মীদের উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান ↩︎
  41.  বাংলাদেশে প্রচলিত শির্ক বিদ‘আত ও কুসংস্কার পর্যালোচনা ২. শির্কের পরিণতি ↩︎
  42. সহিহ মুসলিম, কিতাবুল জানায়িজ, কবর সমান করার নির্দেশের অধ্যায়, হাদিস ৯৬৯ক; Sunnah.com ↩︎
  43. সহিহ বুখারি, আনসারদের মর্যাদা-সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস ৩৮২৩; Sunnah.com ↩︎
  44. সহিহ মুসলিম, পোশাক ও সাজসজ্জার অধ্যায়, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরির নিষেধ, হাদিস ২১১০ক; Sunnah.com ↩︎
  45. ইবনে আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৮৪–৮৫, ছবিযুক্ত গদিতে হেলান দেওয়ার অধ্যায়, বর্ণনা ১২–১৪; ইসলামওয়েব ↩︎
  46. আল-মুদাওয়ানা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮২–১৮৩, যেসব স্থানে নামাজ পড়া অপছন্দনীয়; ইসলামওয়েব ↩︎
  47. বদরুদ্দিন আল-আয়নি, উমদাতুল কারি, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩৯–৪০, প্রাণহীন বিষয়ের ছবি বিক্রির অধ্যায়; ইসলামওয়েব ↩︎
  48. শামসুল আইম্মা আস-সারাখসি, শরহুস সিয়ারিল কাবির, ফাই বহন ও বাহন ব্যবহারের অধ্যায়; আল-ইমান গ্রন্থাগার ↩︎
  49. ইয়াহইয়া আন-নববি, আল-মিনহাজ শরহু সহিহ মুসলিম, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৬৭–২৬৮, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরির নিষেধের অধ্যায়; ইসলামওয়েব ↩︎
  50. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, মুআসসাসাতুর রিসালা সংস্করণ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৪৩, সক্ষম হওয়ার পর শিরকের স্থান রেখে দেওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পরিচ্ছেদ; মাকতাবাতুশ শামেলা ↩︎
  51. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৪৩–৪৪৪, শিরকের স্থানের অর্থ মুসলিমদের স্বার্থে ব্যয়; ইসলামওয়েব; একই পাঠ শামেলায় পৃষ্ঠা ৪৪৩–৪৪৪ ↩︎
  52. ইবনে হাজার আল-আসকালানি, ফাতহুল বারি, কিতাবুল মাগাজি, যুল-খালাসার অভিযান অধ্যায়ের ব্যাখ্যা; ইসলামওয়েব ↩︎
  53. ইসলামকিউএ, ফতোয়া ৩৩০২০৭: গাড়িতে আগের মালিকের রেখে যাওয়া ক্রুশ ফেরত দেওয়ার বিধান, ২০ জুলাই ২০২০ 1 2
  54. মুহাম্মদ আশ-শাওকানি, নাইলুল আওতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১৯, ছবিযুক্ত কাপড়-বিছানা-পর্দা ও প্রতিকৃতি তৈরির নিষেধের অধ্যায়; ইসলামওয়েব 1 2
  55. ইসলামকিউএ, ফতোয়া ৩০৪৪০৮: কর্দোবার মসজিদ ও গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের তুলনা, ১৭ অক্টোবর ২০২৩ 1 2
  56. ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৮৪, কিতাবুল জিযিয়া, মুসলিম জনপদের তিন বিভাগের পরিচ্ছেদ; ইসলামওয়েব 1 2
  57. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৫৩ ↩︎
  58. তাফসীরে মাযহারী, হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৮, ৩০০, ৩০১ ↩︎
  59. তাফসীরে ইবনে কাসীর (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৮১ ↩︎
  60. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৮ ↩︎
  61. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ৪৩ ↩︎

About This Article

Genre: Source-Based Critical Analysis of Iconoclasm, Blasphemy Politics, Religious Supremacism, and Islamic Intolerance

Epistemic Position: Secular Humanism, Freedom of Expression, Religious Equality, Historical Criticism, Anti-Communal Ethics, and Source-Internal Islamic Critique

This article examines whether Islam truly respects other religions, or whether Islamic sources and prophetic precedents normalize contempt for rival gods, destruction of idols, and suppression of religious plurality.

Its scope includes the Babri Masjid aftermath, communal double standards, Charlie Hebdo, Islamic outrage over Muhammad cartoons, Ibrahim's idol-breaking narrative, Muhammad's criticism of pagan religion, the destruction of Kaaba idols, the campaign against Dhu al-Khalasa, anti-idol hadith reports, sculpture prohibition, and classical scholarly support for iconoclasm.

The article is written in Shongshoy's tradition of sharp, evidence-based, non-apologetic criticism. It does not soften the issue by treating idol-breaking as harmless symbolism, spiritual reform, or abstract monotheistic purity. It examines the doctrine as a concrete attack on other communities' sacred objects, religious dignity, cultural heritage, and freedom of worship.

The central argument is that a tradition cannot coherently demand absolute reverence for Muhammad while legitimizing the humiliation, mockery, destruction, or legal suppression of other religions' symbols, temples, idols, and devotional practices.

This article should be evaluated through source accuracy, moral consistency, historical evidence, freedom-of-expression principles, minority-rights reasoning, anti-communal ethics, and equal respect for all communities' civil rights—not through religious sensitivity, apologetic expectation, inherited reverence, prophet-protection reflex, or the demand that Islamic iconoclasm be excused while criticism of Islam is criminalized.

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

11 thoughts on

  1. এই লেখাটি পড়ে অনৈসলামিকদের বিরুদ্ধে ইসলামের গোপণ ষড়যন্ত্রগুলো জানা হলো। বর্বরতার চরম হায়েনার হিংস্রতা আর অমানবিক অবস্থা ফুটে উঠেছে এই লেখাটিতে যা ইসলামের অন্তঃসারশূণ্য অবস্থা পরিস্কার ফুটেে উঠেছে। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

  2. ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেবদেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে করে তারা শিরক থেকে আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে। ’ -সূরা আনআম: ১০৮
    যেখানে অন্য ধর্মের দেবতাকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ সেখানে মন্দির ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা কীভাবে বৈধ হতে পারে? একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত আসে এমন কোনো কাজ করতে পারে না।  

    ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। ’ -সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩

    সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পবিত্র কোরআন।
    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকে সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ’ -সূরা বাকারা :২৫৬
    সুতরাং ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য। ’ -সূরা কাফিরুন : ৫

    হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে কিংবা তাদের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব। ’ –সুনানে আবু দাউদ : ৩০৫২

    তিনি (সা.) আরও বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে। ’ –সহিহ বোখারি : ৩১৬৬

    ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন। ’ -সুনানে নাসাঈ : ৪৭৪৭

    রাসূলুল্লাহ (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের চিরাচরিত নিয়ম ছিল, যখন কোনো সেনাবাহিনী প্রেরণ করার প্রয়োজন হতো, তখন যুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন নসিহত, দিকনির্দেশনার পাশাপাশি একথা অবশ্যই বলে দিতেন যে, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে বা যুদ্ধের পর কোনো মন্দির-গীর্জা-উপাসনালয় ভেঙে ফেলবে না। ’ -মুসান্নাফ আবি শায়বা : ৩৩৮০৪
    তোমরা কোনো নারীকে হত্যা করবে না, অসহায় কোনো শিশুকেও না; আর না অক্ষম বৃদ্ধকে। আর কোনো গাছ উপড়াবে না, কোনো খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেবে না। আর কোনো গৃহও ধ্বংস করবে না।’ [মুসলিম : ১৭৩১]
    হে লোক সকল, দাঁড়াও আমি তোমাদের দশটি বিষয়ে উপদেশ দেব। আমার পক্ষ হিসেবে কথাগুলো তোমরা মনে রাখবে। কোনো খেয়ানত করবে না, বাড়াবাড়ি করবে না, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, (শত্রুদের) অনুরূপ করবে না, ছোট বাচ্চাকে হত্যা করবে না, বয়োবৃদ্ধকেও না আর নারীকেও না। খেজুর গাছ কাটবে না কিংবা তা জ্বালিয়েও দেবে না। কোনো ফলবতী গাছ কাটবে না। আহারের প্রয়োজন ছাড়া কোনো ছাগল, গরু বা উট জবাই করবে না। আর তোমরা এমন কিছু লোকের সামনে দিয়ে অতিক্রম করবে যারা গির্জাগুলোয় নিজেদের ছেড়ে দিয়েছে। তোমরাও তাদেরকে তাদের এবং তারা যা ছেড়ে নিজেদের জন্য তাতে ছেড়ে দেবে। [মুখতাসারু তারীখি দিমাশক : ১/৫২; তারীখুত তাবারী]

    মূর্তি পূজা কোন ধর্মই সাপোর্ট করেনা ধর্ম গ্রন্থ অনুযায়ী। তারপরও ভাই শতশত বছর মুসলমানগণ ভারত শাসন করেছেন। কত শত মূর্তি ভেঙেছেন একটু জানতে চাই???

    হিন্দুদের পূজনীয় ব্যক্তি বিবেকানন্দ তার স্বরচিত বইতে লিখেছে, “দেখা যাবে ইসলাম যেথায় গিয়েছে, সেথায়ই আদিম নিবাসীদের রক্ষা করেছে। সেসব জাত সেথায় বর্তমান। তাদের ভাষা, জাতীয়ত্ব আজও বর্তমান।” (প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, পৃষ্ঠা ১১৫)
    ডক্টর তেজ বাহাদুর সাপ্রু বলেছে- “হিন্দুদিগকে রক্ষা করিবার একমাত্র উপায় ইসলাম ধর্মের কতিপয় মূলনীতি- আল্লাহর একত্ববাদ ও মানবের বিশ্বজনীননত্ব।”

    যদি মূর্তি ভাঙা ইসলামের সংস্কৃতি হত তাহলে ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণালি সময়ে কেন আফগানিস্তানের বুদ্ধমূর্তি ভাঙা হল না? কেন ৯৬ এ ভাঙল তালেবান এর আগে কি তারা মুসলমান ছিল না???

    1. অনেক মুমিনই দাবী করে থাকেন যে, কোরআনে একটি আয়াতে [22] অন্য ধর্মের উপাস্যদের গালি দেয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই মিথ্যাবাদী মুমিনেরা যে বিষয়টি লুকায় তা হচ্ছে, এই আয়াতটি নাজিলের প্রেক্ষাপট। মুহাম্মদই আগ বাড়িয়ে কাফেরদের দেবদেবীকে গালাগালি করতো, এর বিপরীতে মক্কার কাফেরগণও পাল্টা হুমকি দিয়েছিল যে, মুহাম্মদ এই কাজ করতে থাকলে তারাও মুহাম্মদের আল্লাহকে গালি দিবে। শুধুমাত্র নিজের আল্লাহকে গালির হাত থেকে রক্ষার জন্য মুহাম্মদ ভীত হয়ে এই আয়াতটি নাজিল করেছিল, যা তাফসীর গ্রন্থগুলোতে খুব পরিষ্কারভাবেই বলা আছে। এই কাজটি মুহাম্মদ মোটেও স্বপ্রোনোদিতভাবে করেনি, পাল্টা হুমকি পাওয়ার পরে করেছিল। এমন নয় যে, মুহাম্মদ কাফেরদের ধর্মগুলো বা বিশ্বাস সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজেই সেইসব ধর্মের উপাস্যদের গালি দেয়া থেকে বিরত থেকেছিল! শক্তিমত্তায় এবং জনবলে দুর্বল হওয়ার কারণে এই আয়াতটি ছিল মুহাম্মদের কল্পিত আল্লাহকে কাফেরদের গালাগাল থেকে রক্ষার জন্য। পরবর্তীতে ক্ষমতা পাওয়ার পরে মুহাম্মদ সেইসব উপাস্য দেবদেবীদের মূর্তি ও মন্দিরগুলোর কী করেছিল, তা পরে আলোচনা করছি। আপাতত আসুন সেই প্রেক্ষাপটটি জেনে নিই শায়খুল মুফাসসিরীন, ফক্বীহুল উম্মত আল্লামা ছানাউল্লাহ পানীপথীর তাফসীরে মাযহারী থেকে [23] –

      মূর্তি 37
      মূর্তি 39
      এবারে এই আয়াতের তাফসীর দেখে নিই ইবনে কাসীরের তাফসীর থেকে [24] । ইবনে কাসীরের তাফসির থেকেও যা জানা যায় তা হচ্ছে, মুসলিমরাই আগে পৌত্তলিকদের প্রতিমাগুলোকে গালাগালি শুরু করে। তখন বাধ্য হয়ে পৌত্তলিক কোরাইশরা মুহাম্মদের চাচা আবু তালিবের কাছে বিচার দেয়, এবং তাদের দেবদেবীকে গালি দিতে নিষেধ করে। সেই সাথে এটিও হুমকি দেয়, মুহাম্মদ তাদের দেবদেবীকে গালি দিলে তারাও মুহাম্মদের আল্লাহকে গালি দিবে। তখন নিতান্তই বাধ্য হয়ে, তাফসীরের ভাষ্য অনুসারে “উপকার থাকা সত্ত্বেও” কাফেরদের প্রতিমাগুলোকে গালি দেয়া থেকে বিরত থাকার আয়াত নাজিল হয়, যেহেতু সেই সময়ে মুসলিমরা সংখ্যালঘু ছিল!

      মূর্তি 41
      মূর্তি 43

  3. আমি একজন সাইক্রিয়াট্রিস্ট। আপনার যেগুলো লিখলেন এবং রেফারেন্স দিলেন সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ। আপনার উচিত একজন মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।

    1. দাবী না করে , এই লিখাটির মধ্য কোন কোন reference ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা উল্লেখ করলে দর্শকরা নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করে দেখতে পারতো !

      এই লিখাতে আসিফ তার মতামতের চাইতে তুলে ধরেন ধর্মিয় বইতে যা লেখা আছে তা , এবং তা সরাসরি প্রমান সহ উপস্থাপন করেছেন ।

      এই ধর্মিয় বইগুলো যারা লিখে এবং এগুলো পরে যারা মানষিক ভাবে অসুস্হ হয়ে ঘৃনা , হিংসা , জনগী বাদ , মৌলবাদী , সামপরদায়িক এবং নানাবিধ অপারাধ মুলোক কাজ বা অন্যর ক্ষতি করে তাদেরই তো মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত তাই নয় কি ?

      আমাদের দেশের লোকজনরা সবচেয়ে বেশী ধর্মীয় কুসংস্কারে ভরা , জ্ঞান বুদ্ধিতে পিছিয়ে , উগ্রবাদী , সামপরদায়িক , মৌলবাদী , জনগী , নোংরা , অসুস্হ …
      এ সমস্ত লোকজনে গিজগিজ করছে দেশটাতে .. এদের মধ্য জ্ঞান বিজ্ঞান , যুক্তি চর্চা অনুশীলন না বাড়াতে পারলে .. জাতি হিসাবে আমার পিছিয়ে পরবো ।

  4. Apnar source khubi bhalo abong shotto kintu apni onnobhabe interpret korchen. Apni ki shotti Abu lahab Jahel ar mokkar kafirder shomporke janten ja tara ashole kamon chilo tader choritro kamon. Dhormer pichone tader uddesho ki?Kano shei shomoy Muhammad S eschilen.

  5. মুসলিমদের লেখা ইতিহাসেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে মহাম্মদ এমন কর্ম করেছে যা সে দূর্বল থাকা অবস্থায় না করার কথা বলেছে৷ অর্থাৎ মহাম্মদের চরিত্রে মিথ্যাবাদী রাজনীতিবিদের চরিত্র মিশে আছে৷ তাই মহাম্মদের বেশিরভাগ সুনৃদর সুন্দর বাণীকে রাজনৈতিক বাণি তথা মিথ্যা হিসাবে দেখতে পাই যেগুলো ক্ষমোতা পাওয়ার পর মহাম্মদ নিজেই মান্য করে বরং প্রতিপক্ষের উপর নির্যাতন করেছে

Leave a comment

Your email will not be published.