Az-Zalzalah

আয-যিলযাল: 2

99:2
টেক্সট কপি
99 আয-যিলযাল Az-Zalzalah · 8 আয়াত الزلزلة
1 2 3 4 5 6 7 8

মূল আরবি

وَأَخْرَجَتِ ٱلْأَرْضُ أَثْقَالَهَا

English Translations

Sahih International

And the earth discharges its burdens

Muhsin Khan

And when the earth throws out its burdens,

Taqi Usmani

and the earth will bring forth its burdens,

Abul Ala Maududi

and the earth will throw up all her burdens,

Pickthall

And Earth yieldeth up her burdens,

Yusuf Ali

And the earth throws up her burdens (from within),

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

পৃথিবী তার (ভেতরের যাবতীয়) বোঝা বাইরে নিক্ষেপ করবে,

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যমীন তার বোঝা বের করে দেবে,

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং পৃথিবী যখন তার ভারসমূহ বের করে দিবে,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যমীন তার ভার বের করে দেবে,

ফাতহুল মাজীদ

এবং যখন পৃথিবী তার বোঝা বের করে দেবে,

মুখতাসার

২. পৃথিবী যখন তার ভূগর্ভের মৃতসহ অন্যান্য বস্তু বের করে দিবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

99:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যমীন তার ভার বের করে দেবে [১] ,

[১] এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক, মরা মানুষ মাটির বুকে যেখানে যে অবস্থায় যে আকৃতিতে আছে দ্বিতীয় ফুঁৎকারের পরে তাদের সবাইকে বের করে এনে সে বাইরে ফেলে দেবে এবং যাবতীয় মৃতকে বের করে হাশরের মাঠের দিকে চালিত করবে। মানুষের শরীরের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলো এক জায়গায় জমা হয়ে নতুন করে আবার সেই একই আকৃতি সহকারে জীবিত হয়ে উঠবে যেমন সে তার প্রথম জীবনের অবস্থায় ছিল। এই বিষয়টি অন্যত্র এভাবে বলা হয়েছে, “হে মানুষ! তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন কর; কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার!” [সূরা আল-হাজ্জ: ১] আরও এসেছে, “আর পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে এবং পৃথিবী তার অভ্যন্তরে যা আছে তা বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শূন্যগর্ভ হবে।“ [সূরা আল-ইনশিকাক:৩-৪] দুই, এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, কেবলমাত্ৰ মরা মানুষদেরকে সে বাইরে নিক্ষেপ করে ক্ষান্ত হবে না বরং তাদের প্রথম জীবনের সমস্ত কথা ও কাজ এবং যাবতীয় আচার-আচরণের রেকর্ড ও সাক্ষ্য-প্রমাণের যে স্তুপ তার গর্ভে চাপা পড়ে আছে সেগুলোকেও বের করে বাইরে ফেলে দেবে।

পরর্তী বাক্যটিতে একথারই প্ৰকাশ ঘটেছে। তাতে বলা হয়েছে, যমীন তার ওপর যা কিছু ঘটেছে তা বর্ণনা করবে। তিন, কোন কোন মুফাসসির এর তৃতীয় একটি অর্থও বর্ণনা করেছেন। সেটি হচ্ছে, সোনা, রূপা, হীরা, মণি-মাণিক্য এবং অন্যান্য যেসব মূল্যবান সম্পদ ভূ-গর্ভে সঞ্চিত রয়েছে সেগুলোর বিশাল বিশাল স্তুপও সেদিন যমীন উগলে দেবে। [দেখুন: আদ্ওয়াউল বায়ান] আর যদি দুনিয়ার জীবনের শেষভাগে কিয়ামতের আলামত হিসেবে এ সম্পদ বের করা বোঝায় তবে এতদসংক্রান্ত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “পৃথিবী তার কলিজার টুকরা বিশালাকার স্বর্ণ খণ্ডের আকারে উদগীরণ করে দেবে।

তখন যে ব্যক্তি ধন-সম্পদের জন্যে কাউকে হত্যা করেছিল, সে তা দেখে বলবে, এর জন্যেই কি আমি এতবড় অপরাধ করেছিলাম? যে ব্যক্তি অর্থের কারণে আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিল, সে বলবে, এর জন্যেই কি আমি এ কাণ্ড করেছিলাম? চুরির কারণে যার হাত কাটা হয়েছিল, সে বলবে, এর জন্যেই কি আমি নিজের হাত হারিয়েছিলাম? অতঃপর কেউ এসব স্বর্ণখণ্ডের প্রতি ভ্ৰক্ষেপও করবে না। [মুসলিম: ১০১৩]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আয-যিলযাল (৯৯): আয়াত ২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ‌‌[সূরা আয-যিলযাল (৯৯): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।যখন পৃথিবী তার প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে (১)অর্থাৎ যখন তা তার মূল থেকে বিচলিত হবে। ইকরিমাহ ইবনে আব্বাস থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলতেন: প্রথম ফুৎকারে পৃথিবী প্রকম্পিত হবে—মুজাহিদও অনুরূপ বলেছেন—মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "যেদিন প্রকম্পিতকারী প্রকম্পিত করবে, যার অনুগামী হবে পরবর্তী প্রকম্পন।" [আন-নাযিআত: ৬-৭] অতঃপর তা দ্বিতীয়বার প্রকম্পিত হবে এবং আপন মৃতদের বের করে দিবে, যা হচ্ছে তার বোঝা। এখানে গুরুত্ব প্রদানের জন্য ক্রিয়ামূলের (মাসদার) উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর তা পৃথিবীর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে; যেমন তোমার কথা: "আমি তোমাকে অবশ্যই তোমার দান প্রদান করব" অর্থাৎ "তোমাকে আমার পক্ষ হতে নির্ধারিত দান।" পরবর্তী আয়াতসমূহের অন্ত্যমিলের সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এটি চমৎকার হয়েছে।

সাধারণ পাঠরীতিতে 'যিলযাল' শব্দের প্রথম বর্ণে কাসরা (যের) দিয়ে পাঠ করা হয়েছে। আর আল-জাহদারী ও ঈসা ইবনে উমর এতে ফাতহা (যবর) দিয়ে পড়েছেন; এটিও একটি ক্রিয়ামূল, যেমন: ওয়াসওয়াস, কালকাল এবং জারজার। কেউ কেউ বলেছেন: কাসরাযুক্ত রূপটি ক্রিয়ামূল এবং ফাতহাযুক্ত রূপটি বিশেষ্য। ‌‌[সূরা আয-যিলযাল (৯৯): আয়াত ২]এবং পৃথিবী তার বোঝাগুলো বের করে দিবে (২)আবু উবাইদাহ ও আল-আখফাশ বলেন: মৃতদেহ যখন পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকে, তখন তা তার জন্য ভারস্বরূপ; আর যখন তা পৃথিবীর উপরে থাকে, তখন তা তার ওপর বোঝা স্বরূপ। ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ বলেন: 'তার বোঝা' অর্থ তার মৃতদেহসমূহ, দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় পৃথিবী তাদের বের করে দিবে।

এ কারণেই জিন ও মানবজাতিকে 'আদ-দাক্বলান' (দুটি ভারী জাতি) বলা হয়। কবি খানসা বলেছেন:আমর ইবনে শারীদের মৃত্যুর পর কি আর কেউ অবশিষ্ট আছে? যার কারণে পৃথিবী তার বোঝাগুলো ধারণ করেছে।তিনি বলতে চেয়েছেন: যখন আমর সমাহিত হলেন, তখন তার মর্যাদা ও নেতৃত্বের কারণে তিনি কবরবাসীদের জন্য অলঙ্কারস্বরূপ হয়ে গেলেন। জনৈক আলিম উল্লেখ করেছেন যে আরবরা বলত: কোনো ব্যক্তি যখন রক্তপিপাসু হতো, তখন সে ভূপৃষ্ঠের জন্য বোঝা স্বরূপ ছিল; অতঃপর সে যখন মারা যেত, পৃথিবী তার পিঠ থেকে সেই বোঝা নামিয়ে রাখত। কেউ কেউ বলেছেন: 'বোঝা' অর্থ তার অভ্যন্তরীণ ধনভাণ্ডার।

এ প্রসঙ্গেই হাদীস বর্ণিত হয়েছে: "পৃথিবী তার কলিজার টুকরোগুলোকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিশাল স্তম্ভের ন্যায় উগরে দিবে..."।(১). সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৬।(২). কালকাল: কোনো বস্তুকে আন্দোলিত করা থেকে উদ্ভূত। জারজার: উটের কণ্ঠনালীতে আওয়াযের পুনরাবৃত্তি করা থেকে উদ্ভূত।(৩). উসতুওয়ান: উসতুওয়ানাহ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ স্তম্ভ বা খুঁটি। এর বিশালতা ও আধিক্যের কারণে একে স্তম্ভের সাথে তুলনা করা হয়েছে।