At-Takathur
আত-তাকাসুর: 2
মূল আরবি
حَتَّىٰ زُرْتُمُ ٱلْمَقَابِرَ
English Translations
Until you visit the graveyards.
Until you visit the graves (i.e. till you die).
until you reach the graves.
until you reach your graves.
Until ye come to the graves.
Until ye visit the graves.
বাংলা অনুবাদ
এমনকি (এ অবস্থাতেই) তোমরা কবরে এসে পড়।
যতক্ষণ না তোমরা কবরের সাক্ষাৎ করবে।
যতক্ষণ না তোমরা কাবরসমূহে উপস্থিত হচ্ছ।
যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও।
এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও।
২. যে পর্যন্ত না তোমরা মারা গিয়ে কবরে পৌঁছো।
তাফসীর
102:1
যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও [১]।
[১] এখানে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না তোমরা কবর স্থান যেয়ারত কর। এখানে যেয়ারত করার অর্থ মরে গিয়ে কবরে পৌছানো। কাতাদাহ বলেন, তারা বলত, আমরা অমুক বংশের লোক, আমরা অমুক গোত্রের চেয়ে বেশী, আমাদের সংখ্যা অনেক। এভাবে বলতেই থাকল অথচ তারা কমতে কমতে সবাই কবরবাসী হয়ে গেল। অতএব, আয়াতের মর্মার্থ এই যে, বলা হয়েছে, যারা ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ভালবাসা অথবা অপরের সাথে বড়াই করায় এমন মত্ত হয়ে পড়ে যে, পরিণাম চিন্তা করার ফুরসতই পায় না। [ইবন কাসীর] এখানে যেয়ারত শব্দটি আরও থেকে বুঝা যায়, কবরেও কেউ চিরকাল থাকবে না, এই দুনিয়া-কবর সবই ক্ষণস্থায়ী; এগুলো যেয়ারত শেষ হলে জান্নাত বা জাহান্নাম চিরস্থায়ী বাসভূমিতে যেতে হবে।
[কুরতুবী] আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট পৌছে দেখলাম তিনি الْهٰكُمُ التَّكَاثُرُ তেলাওয়াত করে বলছিলেন, “মানুষ বলে, আমার ধন! আমার ধন! অথচ তোমার অংশ তো ততটুকুই যতটুকু তুমি খেয়ে শেষ করে ফেল, অথবা পরিধান করে ছিন্ন করে দাও, অথবা সদকা করে সম্মুখে পাঠিয়ে দাও। এছাড়া যা আছে, তা তোমার হাত থেকে চলে যাবে- তুমি অপরের জন্যে তা ছেড়ে যাবে।” [মুসলিম: ২৯৫৮, তিরমিয়ী: ২৩৪২, মুসনাদে আহমদ: ৪/২৪] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আদম সন্তানের যদি স্বর্ণে পরিপূর্ণ একটি উপত্যকা থাকে, তবে সে (তাতেই সন্তুষ্ট হবে না; বরং) দুটি উপত্যকা কামনা করবে।
তার মুখ তো (কবরের) মাটি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা ভর্তি করা সম্ভব নয়। যে আল্লাহ্র দিকে রুজু করে, আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করেন।” [বুখারী: ৬৪৩৯, ৬৪৪০] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি তোমাদের জন্য দারিদ্রতার ভয় করছিনা। বরং তোমাদের জন্য প্রাচুর্যের ভয় করছি। অনুরূপভাবে আমি তোমাদের জন্যে ভুল-ভ্ৰান্তি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভয় করছি না, বরং ভয় করছি ইচ্ছাকৃত অন্যায়ের ” [মুসনাদে আহমাদ; ২/৩০৮]
[সূরা আত-তাকাসুর (১০২): আয়াত ১ থেকে ২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আত-তাকাসুর-এর তাফসীর]সূরা "আত-তাকাসুর"-এর তাফসীর; সকল মুফাসসিরের মতে এটি মক্কী সূরা। তবে ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন যে এটি মাদানী সূরা। এটি আটটি আয়াত। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আত-তাকাসুর (১০২): আয়াত ১ থেকে ২]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে (১), যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও (২)।এর মধ্যে পাঁচটি মাসয়ালা রয়েছে: প্রথমটি— মহান আল্লাহর বাণী (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে) 'আলহাকুম' অর্থ তোমাদেরকে ব্যতিব্যস্ত বা লিপ্ত রেখেছে।
কবি বলেছেন:অতঃপর আমি তাকে বিমুখ করেছি অলঙ্কার পরিহিত দুগ্ধপোষ্য শিশুর থেকে «১» অর্থাৎ, ধন-সম্পদ ও লোকবলের আধিক্যের অহংকার তোমাদেরকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ করে রেখেছে, এমনকি তোমরা মৃত্যুবরণ করেছ এবং কবরে প্রোথিত হয়েছ। কেউ কেউ বলেছেন 'আলহাকুম' অর্থ: তোমাদের ভুলিয়ে রেখেছে। 'আত-তাকাসুর' অর্থ: ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির আধিক্য; ইবনে আব্বাস ও হাসান (র.) একথাই বলেছেন। কাতাদাহ (র.) বলেন: এর অর্থ গোত্র ও বংশ নিয়ে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করা। যাহহাক (র.) বলেন: এর অর্থ জীবিকা নির্বাহ ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা।
আরবী ভাষায় বলা হয়: 'লাহিতু আন কাযা' (লাম বর্ণের নিচে কাসরা যোগে), যখন আমি তা থেকে উদাসীন হলাম, তার চর্চা ত্যাগ করলাম এবং তা থেকে বিমুখ হলাম। আর 'আলহাহু' অর্থ: তাকে ব্যস্ত করে দিল। 'লাহ-হাহু বিহি তালহিয়াহ' অর্থ: তাকে তা দিয়ে ভুলিয়ে রাখল বা বিনোদিত করল। আর 'আত-তাকাসুর' হলো একে অপরের চেয়ে সংখ্যাধিক্যের প্রতিযোগিতা করা। মুকাতিল, কাতাদাহ ও অন্যান্যরা বলেছেন: এই আয়াতটি ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যখন তারা বলেছিল: আমরা অমুক বংশের চেয়ে সংখ্যায় বেশি, আর অমুক বংশ অমুক বংশের চেয়ে বেশি; এই অহংকারই তাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভ্রান্তিতে লিপ্ত রেখেছিল।
ইবনে যায়দ বলেন: এটি আনসারদের একটি শাখা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আব্বাস, মুকাতিল ও কালবী বলেন: এটি কুরাইশদের দুটি গোত্র—বনু আবদে মানাফ এবং বনু সাহম সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; তারা ইসলামের যুগে নিজেদের নেতা ও অভিজাতদের নিয়ে সংখ্যাধিক্যের বড়াই করত। প্রতিটি গোত্র বলত, আমাদের নেতা সংখ্যায় বেশি, আমাদের মর্যাদা বেশি, আমাদের জনবল অধিক, আমাদের আশ্রয়দানকারী বেশি। ফলে বনু আবদে মানাফ বনু সাহম গোত্রের ওপর জয়ী হলো। এরপর তারা মৃতদের নিয়ে সংখ্যাধিক্যের প্রতিযোগিতা শুরু করল, ফলে বনু সাহম জয়ী হলো। তখন অবতীর্ণ হলো: 'প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে', অর্থাৎ তোমাদের জীবিতদের নিয়ে তোমরা সন্তুষ্ট হওনি...(১).
এটি ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকার একটি কবিতার চরণের শেষাংশ, যার প্রথমাংশ হলো:তোমার মতো কত গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী নারীর দ্বারে আমি রাতে হানা দিয়েছি এর পাঠান্তরে 'তামাম মুহওয়াল'ও বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ যার ওপর বছর পূর্ণ হয়েছে। আর 'মুগইয়াল' হলো সেই শিশু যার মা তাকে দুধ পান করানোর অবস্থায় পুনরায় গর্ভবতী হয়।
