Al-Ma'un

আল-মাউন: 7

107:7
টেক্সট কপি
107 আল-মাউন Al-Ma'un · 7 আয়াত الماعون
1 2 3 4 5 6 7

মূল আরবি

وَيَمْنَعُونَ ٱلْمَاعُونَ

English Translations

Sahih International

And withhold [simple] assistance.

Muhsin Khan

And refuse Al-Ma'un (small kindnesses e.g. salt, sugar, water, etc.).

Taqi Usmani

and refuse (to give even) small gifts.

Abul Ala Maududi

and deny people the articles of common necessity.

Pickthall

Yet refuse small kindnesses!

Yusuf Ali

But refuse (to supply) (even) neighbourly needs.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এবং প্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী দানের ছোট খাট সাহায্য করা থেকেও বিরত থাকে।

রাওয়াই আল-বায়ান

এবং ছোট-খাট গৃহসামগ্রী* দানে নিষেধ করে। *ماعون গৃহস্থালীর ছোট-খাট সামগ্রী। যেমন, পানি, লবণ, দিয়াশলাই, বালতি ইত্যাদি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় ছোট খাট সাহায্য দানে বিরত থাকে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এবং মা‘উন প্ৰদান করতে বিরত থাকে।

ফাতহুল মাজীদ

এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো জিনিস পর্যন্ত (অন্যদেরকে) দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

মুখতাসার

৭. অন্যদেরকে এমন সাহায্য দিতে বাধা প্রদান করে যাতে তাদের কোনরূপ ক্ষতি নেই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

107:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

এবং মা‘উন [১] প্ৰদান করতে বিরত থাকে।

[১] ماعون শব্দের অর্থ অধিকাংশ মুফাসসিরদের নিকট যৎকিঞ্চিৎ ও সামান্য উপকারী বস্তু। মূলত: মাউন ছোট ও সামান্য পরিমাণ জিনিসকে বলা হয়। এমন ধরনের জিনিস যা লোকদের কোন কাজে লাগে বা এর থেকে তারা ফায়দা অর্জন করতে পারে। অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে, সাধারণত প্রতিবেশীরা একজন আর একজনের কাছ থেকে দৈনন্দিন যেসব জিনিস চেয়ে নিয়ে থাকে, যেগুলোর পারস্পরিক লেন-দেন সাধারণ মানবতারূপে গণ্য হয়; যথা কুড়াল, কোদাল অথবা রান্না-বান্নার পাত্ৰ এ সবই মাউনের অন্তরভুক্ত। প্রয়োজনে এসব জিনিস প্রতিবেশীর কাছ থেকে চেয়ে নেয়া দোষণীয় মনে করা হয় না। কেউ এগুলো দিতে অস্বীকৃত হলে তাকে বড় কৃপণ ও নীচ মনে করা হয়।

আবার কারও কারও মতে আলোচ্য আয়াতে ماعون বলে যাকাত বোঝানো হয়েছে। যাকাতকে ماعون বলার কারণ সম্ভবত এই যে, যাকাত পরিমাণে আসল অর্থের তুলনায় খুবই কম-অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের এক ভাগ-হয়ে থাকে। ব্যবহার্য জিনিসপত্র অপরকে দেয়া খুব সওয়াবের কাজ এবং মানবতার দিক দিয়ে জরুরি। কোন কোন হাদীসে ماعون এর তাফসীর ব্যবহার্য জিনিস, যেমন: বালতি, পাত্র ইত্যাদি করা হয়েছে। [আবু দাঊদ: ১৬৫৭] [আদ্ওয়াউল বায়ান, মুয়াসসার, ফাতহুল কাদীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মাউন (১০৭): আয়াত ১ থেকে ৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-মাউনের তাফসীর]সূরা "আল-মাউন"-এর তাফসীর। আতা ও জাবির (রা.) এবং ইবনে আব্বাসের (রা.) দুই মতের একটি অনুযায়ী এটি মক্কী। তাঁর অপর এক মত এবং কাতাদাহ ও অন্যদের মতে এটি মাদানী। এটি সাতটি আয়াত নিয়ে গঠিত। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ‌‌[সূরা আল-মাউন (১০৭): আয়াত ১ থেকে ৭]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেআপনি কি তাকে দেখেছেন, যে বিচার দিবসকে অস্বীকার করে? (১) সে তো সেই ব্যক্তি, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়, (২) এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দানে উৎসাহ দেয় না। (৩) সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, (৪)যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন; (৫) যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে, (৬) এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাটো বস্তু দানে বিরত থাকে।

(৭)এতে ছয়টি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে: প্রথমত— মহান আল্লাহর বাণী: (আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে বিচার দিবসকে অস্বীকার করে?) অর্থাৎ পরকালে কর্মফল ও হিসাবকে; এ বিষয়টি ইতিপূর্বে "আল-ফাতিহা"-এর আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। 'আ-রাআইতা' (আপনি কি দেখেছেন) শব্দে দ্বিতীয় হামযাহটিকে বহাল রাখা হয়েছে; কেননা 'আ-রাআইতা'-এর স্থলে 'রাইতা' বলা হয় না। তবে প্রশ্নের আলিফটি (হামজাতুল ইস্তিফহাম) হামযাহটিকে আলিফ হিসেবে উচ্চারণে সহজ করে দিয়েছে, যা আল-যাজ্জাজ উল্লেখ করেছেন। এখানে বাক্যে একটি অংশ ঊহ্য রয়েছে, যার অর্থ হলো: আপনি কি তাকে দেখেছেন যে বিচার দিবসকে অস্বীকার করে— সে কি সত্যের ওপর আছে নাকি ভুলের ওপর?

এই আয়াতটি কার প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; আবু সালিহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এটি আস ইবনে ওয়াইল আস-সাহমির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; কালবী ও মুকাতিলও একই কথা বলেছেন। দাহহাক ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি জনৈক মুনাফিকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। সুদ্দী বলেছেন: এটি ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। কারো মতে এটি আবু জাহলের ব্যাপারে। দাহহাক বলেছেন: এটি আমর ইবনে আইযের ব্যাপারে। ইবনে জুরাইজ বলেন: এটি আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; সে প্রতি সপ্তাহে একটি উট জবাই করত। একদা এক এতিম তার কাছে কিছু চাইলে সে তাকে তার লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাড়িয়ে দেয়।

তখন আল্লাহ এই সূরাটি অবতীর্ণ করেন। আর 'ইয়াদউ' শব্দের অর্থ হলো ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (যেদিন তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে)। [আত-তূর: ১৩] এবং ইতিপূর্বে(১). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৩।(২). সূরা আত-তূর, আয়াত ১৩। দ্রষ্টব্য: ১৭তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৪।