Al-Kafirun
আল-কাফিরুন: 1
মূল আরবি
قُلْ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْكَـٰفِرُونَ
English Translations
Say, "O disbelievers,
Say (O Muhammad (Peace be upon him) to these Mushrikun and Kafirun): "O Al-Kafirun (disbelievers in Allah, in His Oneness, in His Angels, in His Books, in His Messengers, in the Day of Resurrection, and in Al-Qadar, etc.)!
Say, “O disbelievers,
Say: “O unbelievers!”
Say: O disbelievers!
Say: O ye that reject Faith!
বাংলা অনুবাদ
বল, ‘হে কাফিররা!’
বল, ‘হে কাফিররা,
বলঃ হে কাফিরেরা!
বলুন, ‘হে কাফিররা!
বল : হে কাফিররা!
১. হে রাসূল! আপনি বলুন, হে আল্লাহতে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়!
তাফসীর
সহীহ মুসলিমে হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)। তাওয়াফের পর দুই রাকআত নামাযে এই সূরা এবং (আরবি) সূরা পাঠ করতেন। সহীহ মুসলিমেই হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামাযেও এ সূরা দুটি পাঠ করতেন। মুসনাদে আহমদে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের পূর্বের দুই রাকআতে এবং মাগিরিবের পরের দুই রাকআ’তে (আরবি) এই সূরা দুইটি বিশেরও অধিকবার অথবা দশেরও অধিকবার পাঠ করতেন।মুসনাদে আহমদে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমি ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত নামাযে এবং মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নাত নামাযে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে (আরবি) এবং এই সূরা দুটি চব্বিশ বার অথবা পঁচিশবার পড়তে দেখেছি।
মুসনাদে আহমদেরই অন্য এক রিওয়াইয়াতে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে এক মাস ধরে ফজরের পূর্বের দুই রাকআত নামাযে এবং মাগরিবের পরের দুই রাকআতে নামাযে (আরবি) এ সূরা দু'টি পাঠ করতে দেখেছেন। (এ হাদীসটি জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ এবং সুনানে নাসায়ীতেও রয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান বলেছেন)এই সূরাটি যে কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমতুল্য এ বর্ণনাটি ইতিপূর্বে গত হয়েছে। (আরবি) সূরাটিও একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন।মুসনাদে আহমদে হযরত নওফিল ইবনে মুআবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে (তাঁর পিতাকে) রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যয়নব (রাঃ) কে তুমি তোমার কাছে নিয়ে প্রতিপালন কর।” নওফিলের (রাঃ) পিতা এক সময়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করলে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “মেয়েটি সম্পর্কে তুমি কি করেছো?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “আমি তাকে তার মায়ের কাছে রেখে এসেছি।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “কেন রেখে এসেছো?” তিনি (নওফিল (রাঃ)-এর পিতা মুআবিয়া উত্তরে বললেনঃ “শয়নের পূর্বে পড়ার জন্যে আপনার কাছে কিছু ওয়াযীফা শিখতে এসেছি।” রাসূলুল্লাহ তখন বললেনঃ (আরবি) পাঠ করো, এতে শিরক থেকে মুক্তি লাভ করা যাবে।" হযরত জিবিল্লাহ ইবনে হা'রিসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তুমি বিছানায় শয়ন করতে যাবে তখন।
সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। কেননা, এটা হলো শিরক হতে মুক্তি লাভের উপায়।” (এ হাদীসটি ইমাম আবুল কাসিম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন বিছানায় শয়ন করতে যেতেন তখন (আরবি) সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করতেন। (এ হাদীসটিও ইমাম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত হারিস ইবনে জিবিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ “আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি ঘুমোবার সময় পাঠ করবো।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “যখন তুমি বিছানায় ঘুমোতে যাবে তখন (আরবি) পাঠ করবে।
কেননা, এটা শিরক হতে মুক্তি লাভের উপায়।" (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)১-৬ নং আয়াতের তাফসীরএই মুবারক সূরায় আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের আমলের প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে মক্কার কুরায়েশদেরকে সম্বোধন করা হলেও পৃথিবীর সমস্ত কাফিরকে এই সম্বোধনের আওতায় আনা হয়েছে। এই সূরার শানে নুযূল এই যে, কাফিররা রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বললোঃ “এক বছর আপনি আমাদের মাবুদ প্রতিমাগুলোর ইবাদত করুন, পরবর্তী বছর আমরাও এক আল্লাহর ইবাদত করবো।” তাদের এই প্রস্তাবের জবাবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এ সূরা নাযিল করেন।
আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ) কে আদেশ করছেনঃ তুমি বলে দাওঃ হে কাফিরগণ! না আমি তোমাদের উপাস্যদের উপাসনা করি, না তোমরা আমার মাবুদের উপাসনা কর। আর না আমি তোমাদের উপাস্যদেরকে উপাসনা করবো, তোমরা আমার মাবুদের উপাসনা করবে। অর্থাৎ আমি শুধু আমার মায়ূদের পছন্দনীয় পদ্ধতি অনুযায়ী তাঁরই উপাসনা করবো, তোমাদের পদ্ধতি তো তোমরা নির্ধারণ করে নিয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ তারা শুধু মনগড়া বিশ্বাস এবং খাহেশাতে নাফসানী বা কুপ্রবৃত্তির পিছনে পড়ে রয়েছে, অথচ তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের হিদায়াত বা পথ। নির্দেশ পৌছে গেছে।” (৫৩:২৩) অতএব, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের সংস্পর্শ হতে নিজেকে সর্বপ্রকারে মুক্ত করে নিয়েছেন এবং তাদের উপাসনা পদ্ধতি ও উপাস্যদের প্রতি সর্বাত্মক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
লক্ষ্যণীয় যে, প্রত্যেক ইবাদতকারীরই মাবুদ বা উপাস্য থাকবে এবং উপাসনার পদ্ধতি থাকবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং তাঁর উম্মত শুধু আল্লাহ তা'আলারই ইবাদত বা উপাসনা করেন। নবী করীমের (সঃ) অনুসারীরা তাঁরই শিক্ষা অনুযায়ী ইবাদত করে থাকে। এ কারণেই ঈমানের মূলমন্ত্র হলোঃ , (আরবি) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। এবং মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর রাসূল।” পক্ষান্তরে কাফির মুশরিকদের উপাস্য বা মাবুদ আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন, তাদের উপাসনার পদ্ধতিও ভিন্ন ধরনের। আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতির সাথে তাদের কোনই সম্পর্ক নেই। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ) কে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি যেন কাফিরদেরকে জানিয়ে দেনঃ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্যে আমার দ্বীন।
যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “হে নবী (সঃ) যদি তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তাদেরকে বলে দাওঃ আমার আমল আমার জন্যে এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্যে, আমি যে আমল করি তা হতে তোমরা মুক্ত এবং তোমরা যে আমল কর তা হতে ক্ত।” (১০:৪১) আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমাদের কর্ম আমাদের জন্যে এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে।” (৪২:১৫) অর্থাৎ আমাদের কর্মের জন্যে তোমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না এবং তোমাদের কর্মের জন্যে আমাদেরকেও জবাবদিহি করতে হবে না।সহীহ বুখারীতে এ আয়াতের তাফসীরে লিখা হয়েছেঃ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন অর্থাৎ কুফর, আর আমার জন্যে আমার দ্বীন অর্থাৎ ইসলাম।
আয়াতের শব্দ হলো (আরবি) কিন্তু অন্যান্য আয়াতে যেহেতু এর উপর ওয়াকফ হয়েছে সেই হেতু এখানেও (আরবি) কে উহ্য রাখা হয়েছে। যেমন (আরবি) এবং (আরবি) এর মধ্যে (আরবি) কে উহ্য রাখা হয়েছে। কোন কোন তাফসীরকারের মতে এ আয়াতের অর্থ হলোঃ আমি তোমাদের বর্তমান উপাস্যদের উপাসনা করি না, ভবিষ্যতের জন্যেও তোমাদেরকে হতাশ করছি যে, সমগ্র জীবনে ঐ কুফরী আমার (নবী (সঃ)-এর) দ্বারা কখনো সম্ভব হবে না। একইভাবে তোমরা আমার প্রতিপালকের ইবাদত বর্তমানেও কর না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।এখানে ঐ সব কাফিরকে বুঝানো হয়েছে যাদের ঈমান আনয়ন না করার ব্যাপার আল্লাহ তা'আলার জানা রয়েছে।
যেমন অন্যত্র রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমার প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ করা হয় ঐ ব্যাপারে তাদের অধিকাংশ হঠকারিতা ও কুফরীতে লিপ্ত হয়।" (৫:৬৮)কোন কোন আরবী সাহিত্য বিশারদ হতে ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) উদ্ধৃত করেছেন যে, একটি বাক্যকে দু’বার গুরুত্ব আরোপের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে, অবশ্য কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।” আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমরা তো জাহান্নাম দেখবেই, আবার বলি তোমরা তো ওটা দেখবেই চাক্ষুষ প্রত্যক্ষে।আলোচ্য সূরায় একই রকম বাক্য দু'বার ব্যবহারের তিনটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রথমতঃ প্রথম বাক্যে উপাস্য এবং দ্বিতীয় বাক্যে ইবাদত বা উপাসনার পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ প্রথম বাক্যে বর্তমান এবং দ্বিতীয় বাক্যে ভবিষ্যৎ বুঝানো হয়েছে। তৃতীয়তঃ প্রথম বাক্যের তাগীদের জন্যেই দ্বিতীয় বাক্যের অবতারণা করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, এখানে চতুর্থ একটি কারণ আবু অব্বিাস ইবনে তাইমিয়া (রঃ) তার কোন এক কিতাবে উল্লেখ। করেছেন। তিনি বলেনঃ আরবী ব্যাকরণের পরিভাষায় প্রথম বাক্য জুমলায়ে ফেলিয়া এবং দ্বিতীয় বাক্য জুমলায়ে ইসমিয়া অর্থাৎ আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করি না, আমার নিকট হতে অনুরূপ কোন আশাও কেউ করতে পারে না।
এ উক্তিটিও ভালো বলেই মনে হয়। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। ইমাম শাফিয়ী (রঃ) এ আয়াত থেকেই দলীল গ্রহণ করেছেন যে, কাফিররা। সবাই এক জাতি। এ কারণে ইয়াহূদীরা খৃস্টানদের এবং খৃস্টানরা ইয়াহূদীদের উত্তরাধিকারী হতে পারে। উভয়ের মধ্যে বংশগত ও কার্যকরণ গত সামঞ্জস্য ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। এ কারণে ইসলাম ছাড়া কুফরীর যতগুলো পথ রয়েছে, বাতিল হিসেবে সবই এক ও অভিন্ন। ইমাম আহমদ (রঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের মাযহাব এর বিপরীত। তাঁরা বলেন যে, ইয়াহূদীরা খৃষ্টানদের বা খৃষ্টানরা ইয়াহূদীদের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না, কেননা, হাদীসে রয়েছে যে, দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একে অন্যের অংশীদার ও উত্তরাধিকারী হতে পারে না।
বলুন, ‘হে কাফিররা!
সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ
বিভিন্ন হাদীসে এ সূরার বেশ কিছু ফাযীলত বর্ণিত হয়েছে। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওয়াফের দু’ রাকা‘আত সালাতে ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন ও কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তেন।” [মুসলিম: ১২১৮] অন্য হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু’টি সূরা দিয়ে ফজরের সুন্নাত সালাত আদায় করেছেন”। [মুসলিম: ৭২৬] ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ফজরের পূর্বের দু’ রাকা‘আতে এবং মাগরিবের পরের দু’রাকাআতে এ দু’ সূরা পড়তে বিশোর্ধ বার বা দশোর্ধ বার শুনেছি।” [মুসনাদে আহমাদ:২/২৪] অন্য বর্ণনায় এসেছে, “চব্বিশোর্ধ অথবা পঁচিশোর্ধবার শুনেছি”।
[মুসনাদে আহমাদ:২/৯৫] ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক মাস পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি তিনি ফজরের পূর্বের দু’ রাকাআতে এ দু’সূরা পড়তেন।” [তিরমিয়ী: ৪১৭, ইবনে মাজাহ; ১১৪৯, মুসনাদে আহমাদ: ২/৯৪] তাছাড়া জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আরয করলেন, আমাকে নিদ্রার পূর্বে পাঠ করার জন্যে কোন দো‘আ বলে দিন। “তিনি সূরা কাফিরূন পাঠ করতে আদেশ দিলেন এবং বললেন এটা শির্ক থেকে মুক্তিপত্র।” [আবু দাউদ:৫০৫৫, সুনান দারমী:২/৪৫৯, মুস্তাদরাকে হাকিম:২/৫৩৮] অন্য হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সূরা ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’ কুরআনের এক চতুর্থাংশ”।
[তিরমিয়ী: ২৮৯৩, ২৮৯৫]
[সূরা আল-কাফিরুন (১০৯): আয়াত ১ থেকে ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ফারওয়া ইবনে নাওফাল আল-আশজাঈ বর্ণনা করেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: (তোমার শয্যাগ্রহণের সময় 'বলুন, হে কাফিরগণ' পাঠ করো, কারণ এটি শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা)। আবু বকর আল-আনবারী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: কুরআনের মধ্যে এই সূরার চেয়ে ইবলিসের জন্য অধিক ক্রোধোদ্দীপক আর কিছু নেই, কারণ এটি তাওহীদ এবং শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা। আসমাঈ বলেন: 'বলুন, হে কাফিরগণ' এবং 'বলুন, তিনি আল্লাহ এক'—এই সূরা দুটিকে 'আল-মুকাশকিশাতান' বলা হতো, যার অর্থ হলো এই সূরা দুটি নিফাক (মুনাফিকি) থেকে মুক্ত করে দেয়।
আবু উবাইদাহ বলেন: যেমন আলকাতরা খোস-পাঁচড়া দূর করে এবং তা নিরাময় করে। ইবনুস সিক্কিত বলেন: ক্ষত বা বসন্ত যখন শুকিয়ে চামড়া উঠে যায়, আর উটের খোস-পাঁচড়া যখন শুকিয়ে যায়, তখন বলা হয়: তার চামড়া উঠে যাচ্ছে বা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আল-কাফিরুন (১০৯): আয়াত ১ থেকে ৫]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।বলুন: হে কাফিরগণ, (১) আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো, (২) এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি, (৩) এবং আমি ইবাদতকারী নই তার যার ইবাদত তোমরা করে আসছ, (৪)এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি।
(৫)ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: এই সূরাটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ এই যে, ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং উমাইয়্যা ইবনে খালাফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করে বলল: হে মুহাম্মদ, এসো আমরা তোমার মাবুদের ইবাদত করি এবং তুমি আমাদের মাবুদদের ইবাদত করো। আমরা এবং তুমি আমাদের সকল কাজে অংশীদার হয়ে যাই। তুমি যা নিয়ে এসেছ তা যদি আমাদের নিকট যা আছে তার চেয়ে উত্তম হয়, তবে আমরা তাতে তোমার সাথে শরিক হলাম এবং আমাদের অংশ বুঝে নিলাম। আর আমাদের নিকট যা আছে তা যদি তোমার নিকট যা আছে তার চেয়ে উত্তম হয়, তবে তুমি আমাদের কাজে শরিক হলে এবং তোমার অংশ বুঝে নিলে।
তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন—'বলুন: হে কাফিরগণ'। আবু সালিহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: তুমি যদি আমাদের এই উপাস্যগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিকে স্পর্শ করতে, তবে আমরা তোমাকে বিশ্বাস করতাম। তখন জিবরাঈল (আ.) নবীর ওপর এই সূরা নিয়ে অবতীর্ণ হলেন। ফলে তারা তাঁর ব্যাপারে হতাশ হয়ে গেল এবং তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের কষ্ট দিতে শুরু করল। আর এখানে 'আলিফ' ও 'লাম' দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।(১). আল-হিনা: আলকাতরা।(২). চামড়া শুকিয়ে যাওয়া: শুষ্ক হওয়া।(৩).
পাথর স্পর্শ করা: চুম্বন বা হাতের মাধ্যমে তা স্পর্শ করা।
