Al-Kafirun
আল-কাফিরুন: 3
মূল আরবি
وَلَآ أَنتُمْ عَـٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ
English Translations
Nor are you worshippers of what I worship.
"Nor will you worship that which I worship.
nor do you worship the One whom I worship.
neither do you worship Him Whom I worship;
Nor worship ye that which I worship.
Nor will ye worship that which I worship.
বাংলা অনুবাদ
আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও,
এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’।
এবং তোমরাও তাঁর ইবাদাতকারী নও যাঁর ইবাদাত আমি করি,
এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি,
আর তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি।
৩. না তোমরা তাঁর ইবাদাতকারী যাঁর ইবাদাত এককভাবে আমি করে থাকি। যিনি হলেন এক আল্লাহ।
তাফসীর
109:1
‘এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি [১] ,
[১] এ সূরায় কয়েকটি বাক্য পুনঃপুনঃ উল্লিখিত হওয়ায় স্বভাবত প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ ধরনের আপত্তি দূর করার জন্যে বুখারী অনেক তাফসীরবিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একই বাক্য একবার বর্তমানকালের জন্যে এবং একবার ভবিষ্যৎকালের জন্যে উল্লেখ করা হয়েছে। [ফাতহুল বারী] অর্থাৎ আমি এক্ষণে কার্যত তোমাদের উপাস্যদের ইবাদত করি না এবং তোমরা আমার উপাস্যের ইবাদত কর না এবং ভবিষ্যতেও এরূপ হতে পারে না। ইমাম তাবারীও এ মতটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসীর এখানে অন্য একটি তাফসীর অবলম্বন করেছেন। তিনি প্রথম জায়গায় আয়াতের অর্থ করেছেন এই যে, তোমরা যেসব উপাস্যের ইবাদত কর, আমি তাদের ইবাদত করি না এবং আমি যে উপাস্যের ইবাদত করি তোমরা তার ইবাদত কর না।
আর দ্বিতীয় জায়গায় আয়াতের অর্থ করেছেন এই যে, আমার ও তোমাদের ইবাদতের পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন। আমি তোমাদের মত ইবাদত করতে পারি না এবং বিশ্বাস স্থাপন না করা পর্যন্ত তোমরাও আমার মত ইবাদত করতে পার না। এভাবে প্রথম জায়গায় উপাস্যদের বিভিন্নতা এবং দ্বিতীয় জায়গায় ইবাদত পদ্ধতির বিভিন্নতা বিধৃত হয়েছে। [ইবন কাসীর] সারকথা এই যে, তোমাদের মধ্যে ও আমার মধ্যে উপাস্যের ক্ষেত্রেও অভিন্নতা নেই এবং ইবাদত-পদ্ধতির ক্ষেত্রেও নেই। এভাবে পুনঃপুনঃ উল্লেখের আপত্তি দূর হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলিমদের ইবাদতপদ্ধতি তাই; যা আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে বলে দেয়া হয়েছে।
আর মুশরিকদের ইবাদত পদ্ধতি স্বকল্পিত। ইবনে-কাসীর এই তাফসীরের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ কলেমার অর্থ তাই হয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন হক্ক উপাস্য নেই। ইবাদত-পদ্ধতি তা-ই গ্ৰহণযোগ্য, যা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কোন কোন অভিজ্ঞ আলেম বলেন, ২নং আয়াতের অর্থ, আমি তোমাদের উপাস্যদের ইবাদত কখনো করবো না। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় আয়াতের অর্থ, আমি এ ইবাদতটা কখনো, কিছুতেই গ্ৰহণ করবো না। অর্থাৎ তোমাদের উপাস্যদের ইবাদত করা আমার দ্বারা কখনো ঘটবে না অনুরূপভাবে তা শরীয়তেও এটা হওয়া সম্ভব নয়।
[মাজমূ’ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, ১৬/৫৪৭-৫৬৭; ইবন কাসীর]
এর আরেকটি তাফসীরও হতে পারে। আর তা হলো, প্রথমত ২নং আয়াত لَآ اَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ অর্থ ‘আমি বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে তার ইবাদত করি না, তোমরা যার ইবাদত কর’। এর পরে এসেছে, وَ لَآ اَنْتُمْ عٰبِدُوْنَ مَآاَعْبُدُ অর্থাৎ তোমরাও বর্তমানে ও ভবিষ্যতে ইবাদতকারী নও। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে চতুর্থ আয়াতে বলা হয়েছে, ولَآ اَنَا عَابِدٌمَّا عَبَدْتُّمْ অর্থাৎ অতীতে আমার পক্ষ থেকে এরূপ কিছু ঘটেনি। অতীত বোঝানোর জন্য عَبَدتُّمْ অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে। আর এর পরে এসেছে, ولَآاَنْتُمْ عٰبِدُوْنَ مَآاَعْبُدُ অর্থাৎ তোমরাও অতীতে তার ইবাদত করতে না, যার ইবাদত আমি সবসময় করি। ইবনুল কায়্যিম এ মতটি গ্রহণ করেছেন। [বাদায়ি’উল ফাওয়ায়িদ, ১/১২৩-১৫২]
[সূরা আল-কাফিরুন (১০৯): আয়াত ১ থেকে ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ফারওয়া ইবনে নাওফাল আল-আশজাঈ বর্ণনা করেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: (তোমার শয্যাগ্রহণের সময় 'বলুন, হে কাফিরগণ' পাঠ করো, কারণ এটি শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা)। আবু বকর আল-আনবারী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: কুরআনের মধ্যে এই সূরার চেয়ে ইবলিসের জন্য অধিক ক্রোধোদ্দীপক আর কিছু নেই, কারণ এটি তাওহীদ এবং শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা। আসমাঈ বলেন: 'বলুন, হে কাফিরগণ' এবং 'বলুন, তিনি আল্লাহ এক'—এই সূরা দুটিকে 'আল-মুকাশকিশাতান' বলা হতো, যার অর্থ হলো এই সূরা দুটি নিফাক (মুনাফিকি) থেকে মুক্ত করে দেয়।
আবু উবাইদাহ বলেন: যেমন আলকাতরা খোস-পাঁচড়া দূর করে এবং তা নিরাময় করে। ইবনুস সিক্কিত বলেন: ক্ষত বা বসন্ত যখন শুকিয়ে চামড়া উঠে যায়, আর উটের খোস-পাঁচড়া যখন শুকিয়ে যায়, তখন বলা হয়: তার চামড়া উঠে যাচ্ছে বা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আল-কাফিরুন (১০৯): আয়াত ১ থেকে ৫]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।বলুন: হে কাফিরগণ, (১) আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো, (২) এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি, (৩) এবং আমি ইবাদতকারী নই তার যার ইবাদত তোমরা করে আসছ, (৪)এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি।
(৫)ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: এই সূরাটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ এই যে, ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং উমাইয়্যা ইবনে খালাফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করে বলল: হে মুহাম্মদ, এসো আমরা তোমার মাবুদের ইবাদত করি এবং তুমি আমাদের মাবুদদের ইবাদত করো। আমরা এবং তুমি আমাদের সকল কাজে অংশীদার হয়ে যাই। তুমি যা নিয়ে এসেছ তা যদি আমাদের নিকট যা আছে তার চেয়ে উত্তম হয়, তবে আমরা তাতে তোমার সাথে শরিক হলাম এবং আমাদের অংশ বুঝে নিলাম। আর আমাদের নিকট যা আছে তা যদি তোমার নিকট যা আছে তার চেয়ে উত্তম হয়, তবে তুমি আমাদের কাজে শরিক হলে এবং তোমার অংশ বুঝে নিলে।
তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন—'বলুন: হে কাফিরগণ'। আবু সালিহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: তুমি যদি আমাদের এই উপাস্যগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিকে স্পর্শ করতে, তবে আমরা তোমাকে বিশ্বাস করতাম। তখন জিবরাঈল (আ.) নবীর ওপর এই সূরা নিয়ে অবতীর্ণ হলেন। ফলে তারা তাঁর ব্যাপারে হতাশ হয়ে গেল এবং তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের কষ্ট দিতে শুরু করল। আর এখানে 'আলিফ' ও 'লাম' দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।(১). আল-হিনা: আলকাতরা।(২). চামড়া শুকিয়ে যাওয়া: শুষ্ক হওয়া।(৩).
পাথর স্পর্শ করা: চুম্বন বা হাতের মাধ্যমে তা স্পর্শ করা।
