At-Tahrim

আত-তাহরীম: 8

66:8
টেক্সট কপি
66 আত-তাহরীম At-Tahrim · 12 আয়াত التحريم
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12

মূল আরবি

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ تُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّـٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ يَوْمَ لَا يُخْزِى ٱللَّهُ ٱلنَّبِىَّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ ۖ نُورُهُمْ يَسْعَىٰ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَـٰنِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَٱغْفِرْ لَنَآ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

English Translations

Sahih International

O you who have believed, repent to Allāh with sincere repentance. Perhaps your Lord will remove from you your misdeeds and admit you into gardens beneath which rivers flow [on] the Day when Allāh will not disgrace the Prophet and those who believed with him. Their light will proceed before them and on their right; they will say, "Our Lord, perfect for us our light and forgive us. Indeed, You are over all things competent."

Muhsin Khan

O you who believe! Turn to Allah with sincere repentance! It may be that your Lord will remit from you your sins, and admit you into Gardens under which rivers flow (Paradise) the Day that Allah will not disgrace the Prophet (Muhammad SAW) and those who believe with him, their Light will run forward before them and with (their Records Books of deeds) in their right hands they will say: "Our Lord! Keep perfect our Light for us [and do not put it off till we cross over the Sirat (a slippery bridge over the Hell) safely] and grant us forgiveness. Verily, You are Able to do all things."

Taqi Usmani

O you who believe, turn to Allah with a faithful repentance. It is hoped from your Lord that he will write off your faults, and will admit you to the gardens beneath which rivers flow, on the Day when Allah will not disgrace the Prophet and those who believed with him. Their light will run before them and to their right hands. They will say, “Our Lord, perfect for us our light, and forgive us. Indeed you are powerful over every thing.”

Abul Ala Maududi

Believers, turn to Allah in sincere repentance; maybe your Lord will expunge your evil deeds and admit you to the Gardens beneath which rivers flow. This will be on the Day when Allah will not disgrace the Prophet and those who have embraced faith and are with him; their light will be running before them and on their right hands, and they will say: “Our Lord, perfect for us our light and forgive us. Surely You have power over everything.”

Pickthall

O ye who believe! Turn unto Allah in sincere repentance! It may be that your Lord will remit from you your evil deeds and bring you into Gardens underneath which rivers flow, on the day when Allah will not abase the Prophet and those who believe with him. Their light will run before them and on their right hands; they will say: Our Lord! Perfect our light for us, and forgive us! Lo! Thou art Able to do all things.

Yusuf Ali

O ye who believe! Turn to Allah with sincere repentance: In the hope that your Lord will remove from you your ills and admit you to Gardens beneath which Rivers flow,- the Day that Allah will not permit to be humiliated the Prophet and those who believe with him. Their Light will run forward before them and by their right hands, while they say, "Our Lord! Perfect our Light for us, and grant us Forgiveness: for Thou hast power over all things."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর- আন্তরিক তাওবাহ। সম্ভবতঃ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলোকে তোমাদের থেকে মুছে দিবেন, আর তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝর্ণাধারা। সে দিন আল্লাহ নবীকে আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে লজ্জিত করবেন না। (সেদিনের ভয়াবহ অন্ধকার থেকে মু’মিনদের রক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের নূর দৌড়াতে থাকবে তাদের সামনে আর তাদের ডান পাশে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে আমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দাও আর আমাদেরকে ক্ষমা কর; তুমি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।’

রাওয়াই আল-বায়ান

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, বিশুদ্ধ তাওবাহ; সম্ভবতঃ তোমাদের রাব্ব তোমাদের মন্দ কাজগুলি মোচন করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেই দিন নাবী এবং তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদেরকে আল্লাহ অপদস্ত করবেননা। তাদের জ্যোতি তাদের সম্মুখে এবং দক্ষিণ পার্শ্বে ধাবিত হবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর---বিশুদ্ধ তাওবা; সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না নবীকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।'

ফাতহুল মাজীদ

হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর একান্ত বিশুদ্ধ তওবা; আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলোকে মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেই দিন আল্লাহর নাবী ও তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে অপদস্ত করবেন না। তাঁদের নূর তাঁদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে ছুটতে থাকবে, তাঁরা বলবে : হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

মুখতাসার

৮. হে মু’মিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো! তোমরা নিজেদের পাপসমূহ থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর নিকট তাওবা করো। আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং এমন সব উদ্যানে প্রবিষ্ট করবেন যেগুলোর অট্টালিকার তলদেশ দিয়ে কিয়ামত দিবসে নদী-নালা প্রবাহিত হবে। যে দিন আল্লাহ তাঁর নবী ও মুমিনদেরকে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করার মাধ্যমে তাঁদেরকে অপমান করবেন না। পুলসিরাতে তাঁদের সামনে ও ডানে নিজেদের জ্যোতি দৌড়াতে থাকবে। তাঁরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের জ্যোতিগুলোকে পরিপূর্ণতা দিন। যাতে করে আমরা সেগুলোর আলোকে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। ফলে আমরা যেন ওই সব মুনাফিকের মতো না হই যাদের জ্যোতি পুলসিরাতের উপর নিভে যাবে। আর আপনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। অতএব, আপনি আমাদের জ্যোতি পরিপূর্ণ করতে ও আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করতে অপারগ নন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

66:6

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

হে মুমিনগণ ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কার---বিশুদ্ধ তাওবা [১]; সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না নবীকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।'

[১] তাওবার শাব্দিক অর্থ ফিরে আসা। উদ্দেশ্য গোনাহ থেকে ফিরে আসা। কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় তওবার অর্থ বিগত গোনাহের জন্যে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তার ধারে কাছে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। আয়াতে বর্ণিত نصوح শব্দটির বিভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে। এক. যদি نصحة থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে এর অর্থ খাঁটি করা। আর যদি نصاحة থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে এর অর্থ বস্ত্র সেলাই করা ও তালি দেয়া। প্রথম অর্থের দিক দিয়ে "তাওবাতুন নাসূহ" এর অর্থ এমন তাওবা, যা রিয়া ও নাম-যশ থেকে খাঁটি-কেবল আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন ও আযাবের ভয়ে ভীত হয়ে এবং গোনাহের কারণে অনুতপ্ত হয়ে গোনাহ পরিত্যাগ করা।

দ্বিতীয় অর্থের দিক দিয়ে "তাওবাতুন নাসূহ" শব্দটি এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্যে হবে যে, গোনাহের কারণে সৎকর্মের ছিন্নবস্ত্রে তাওবা তালি সংযুক্ত করে। কোন কোন তাফসীরবিদ বলেনঃ “তাওবাতুন নাসূহ" হল মুখে ক্ষমাপ্রার্থনা করা, অন্তরে অনুশোচনা করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ভবিষ্যতে সেই গোনাহ থেকে দূরে রাখা। [দেখুন-কুরতুবী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আত-তাহরীম (৬৬): আয়াত ৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সূরা আত-তাহরীম (৬৬): আয়াত ৭]হে কাফিরগণ, আজ তোমরা ওজর পেশ করো না। তোমরা যা করতে তোমাদের কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে। (৭)মহান আল্লাহর বাণী: (হে কাফিরগণ, আজ তোমরা ওজর পেশ করো না) কেননা তোমাদের অজুহাত আজ কোনো উপকারে আসবে না। আর এই নিষেধ করা হয়েছে তাদের মধ্যে হতাশা নিশ্চিত করার জন্য। (তোমরা যা করতে তোমাদের কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে) অর্থাৎ দুনিয়াতে। আর এর সমরূপ আয়াত হলো: "সুতরাং সেদিন যারা জুলুম করেছিল তাদের ওজর কোনো উপকারে আসবে না এবং তাদের কাছে তওবাও চাওয়া হবে না।" [সূরা আর-রূম: ৫৭]। এটি ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে।

‌‌[সূরা আত-তাহরীম (৬৬): আয়াত ৮]হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো বিশুদ্ধ তওবা; সম্ভবত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, যেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে এবং তাদের ডান পাশে ধাবিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (৮)মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো বিশুদ্ধ তওবা) এতে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি- মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ!

তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো" এটি তওবা করার একটি নির্দেশ এবং এটি সর্বাবস্থায় ও সর্বকালে প্রত্যেকের ওপর (ফরজে আইন) ফরজ। এর বিস্তারিত বর্ণনা ও আলোচনা সূরা ‘আন-নিসা’ এবং অন্যান্য স্থানে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। ‘তওবায়ে নাসুহ’ (বিশুদ্ধ তওবা) সম্পর্কে আলেমগণ ও আধ্যাত্মিক সাধকদের তেইশটি অভিমত রয়েছে। কেউ বলেছেন: এটি এমন তওবা যার পর আর পাপে ফিরে যাওয়া হয় না, যেমন দোহনকৃত দুধ ওলানে আর ফিরে যায় না। এটি উমর, ইবনে মাসউদ, উবাই বিন কাব এবং মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত। মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কাতাদাহ বলেন: নাসুহ হলো সত্যনিষ্ঠ ও হিতৈষীমূলক। আবার বলা হয়েছে: এটি হলো একনিষ্ঠ তওবা; বলা হয়, সে তার জন্য কথাকে একনিষ্ঠ করেছে। হাসান বসরী রহ. বলেন: নাসুহ হলো যে পাপকে সে ভালোবাসত তাকে ঘৃণা করা এবং যখনই তা স্মরণ হয় তখনই ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেউ বলেছেন: এটি এমন তওবা যার কবুল হওয়ার ব্যাপারে সে নিশ্চিত নয় বরং সর্বদা ভীত থাকে। কেউ বলেছেন: এটি এমন তওবা যার জন্য প্রয়োজন হয় না...(১). দেখুন খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪৯(২). দেখুন খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৯০

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

প্রত্যেক মুমিনকে একটি নূর প্রদান করা হবে এবং প্রত্যেক মুনাফিককেও একটি নূর প্রদান করা হবে। যখন তারা পুলসিরাতের ওপর সমবেত হবে, তখন আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীদের নূর ছিনিয়ে নেবেন। তখন মুনাফিকরা বলবে: তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের নূর থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারি। আর মুমিনরা বলবে: হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন। সেই সময়ে কেউ কাউকে স্মরণ করবে না।ইবনে মারদাওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন, তখন তিনি ইহুদীদের ডাকবেন।

তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: আমরা আল্লাহর ইবাদত করতাম। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কি তাঁর সাথে অন্য কাউকে উপাস্য মানতে? তারা বলবে: হ্যাঁ। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তাঁর সাথে তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: উযাইরের। অতঃপর তাদের একদিকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর খ্রিষ্টানদের ডাকা হবে এবং তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: আমরা আল্লাহর ইবাদত করতাম। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কি তাঁর সাথে অন্য কাউকে উপাস্য মানতে? তারা বলবে: হ্যাঁ। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তাঁর সাথে তোমরা কার ইবাদত করতে?

তারা বলবে: মসীহ্-এর। অতঃপর তাদের একদিকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর মুসলিমদের ডাকা হবে, এমতাবস্থায় যে তারা জমিনের একটি উঁচু স্থানে থাকবে। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে: আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতাম। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে: তোমরা কি তাঁর সাথে অন্য কাউকে উপাস্য মানতে? তারা বলবে: আমরা তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করিনি। অতঃপর তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি নূর প্রদান করা হবে এবং তাদের পুলসিরাতের দিকে পরিচালিত করা হবে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মুমিনদের বলবে, তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো যাতে আমরা তোমাদের নূর থেকে কিছুটা গ্রহণ করতে পারি—আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

এবং তিনি পাঠ করলেন: সেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের লাঞ্ছিত করবেন না; তাদের নূর... (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৮) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ইবনে মারদাওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী: সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা বলবে... এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষ যখন অন্ধকারে থাকবে, তখন আল্লাহ নূর পাঠাবেন। মুমিনরা যখন নূর দেখতে পাবে, তখন তারা সেদিকে অগ্রসর হবে এবং এই নূর আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত পর্যন্ত তাদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে। মুনাফিকরা যখন দেখবে যে মুমিনরা রওনা হয়েছে, তখন তারাও তাদের অনুসরণ করবে।

তখন আল্লাহ মুনাফিকদের জন্য অন্ধকার করে দেবেন। সেই মুহূর্তে তারা বলবে: তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো যাতে আমরা তোমাদের নূর থেকে কিছুটা গ্রহণ করতে পারি, কারণ আমরা দুনিয়াতে তোমাদের সাথেই ছিলাম। মুমিনরা বলবে: তোমরা যেখান থেকে এসেছ সেই অন্ধকারের দিকেই ফিরে যাও এবং সেখানেই নূরের সন্ধান করো।আবদ ইবনে হুমায়দ, ইবনে জারীর এবং ইবনে মুনযির আবু ফাখিতাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতকে একত্রিত করবেন এবং মানুষের ওপর অন্ধকার আচ্ছন্ন করবেন। তখন তারা তাদের রবের কাছে ফরিয়াদ করবে। সেদিন আল্লাহ প্রত্যেক মুমিনকে একটি নূর দেবেন এবং মুনাফিকদেরও একটি নূর দেবেন।

তারা সকলেই তাদের নূর নিয়ে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হবে। তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, হঠাৎ আল্লাহ মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দেবেন। ফলে তারা অন্ধকারে দিশেহারা হয়ে পড়বে এবং মুমিনরা তাদের নূর নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। তখন তারা (মুনাফিকরা) তাদের ডেকে বলবে: তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো যাতে আমরা তোমাদের নূর থেকে কিছুটা গ্রহণ করতে পারিঅতঃপর তাদের মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে যাতে একটি দরজা থাকবে, যার অভ্যন্তরে—যেখানে মুমিনরা প্রবেশ করেছে—রহমত থাকবে, আর তার সামনের দিক থেকে থাকবে আযাব। মুনাফিকরা তাদের ডেকে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?

তারা বলবে: অবশ্যই, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদে ফেলেছিলে এবং প্রতীক্ষায় ছিলে।