Ar-Ra'd

আর-রাদ: 19

13:19
13 আর-রাদ Ar-Ra'd · 43 আয়াত الرعد

আরবি

۞ أَفَمَن يَعْلَمُ أَنَّمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ٱلْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَىٰٓ ۚ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ

English Translations

Sahih International

Then is he who knows that what has been revealed to you from your Lord is the truth like one who is blind? They will only be reminded who are people of understanding -

Muhsin Khan

Shall he then who knows that what has been revealed unto you (O Muhammad SAW) from your Lord is the truth be like him who is blind? But it is only the men of understanding that pay heed.

Taqi Usmani

Now, can the one who knows that whatever has been revealed to you from your Lord is the truth, be equal to one who is blind? Only the people of understanding respond to the advice -

Abul Ala Maududi

He who knows that the Book which has been sent to you from your Lord is the Truth, is he like him who is blind to that truth? It is only people of understanding who take heed:

Pickthall

Is he who knoweth that what is revealed unto thee from thy Lord is the truth like him who is blind? But only men of understanding heed;

Yusuf Ali

Is then one who doth know that that which hath been revealed unto thee from thy Lord is the Truth, like one who is blind? It is those who are endued with understanding that receive admonition;-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যে ব্যক্তি জানে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যে অন্ধ? বুদ্ধিমান লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে

রাওয়াই আল-বায়ান

যে ব্যক্তি জানে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা সত্য, সে কি তার মত, যে অন্ধ? বুদ্ধিমানরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তোমার রাব্ব হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে সে, আর অন্ধ কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিরাই।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আপনার রব হতে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে সে কি তার মত যে অন্ধ? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকসম্পন্নগণই,

ফাতহুল মাজীদ

তোমার প্রতিপালক হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে সে আর অন্ধ কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিগণই।

মুখতাসার

১৯. হে রাসূল! যে ব্যক্তি এ কথা জানে যে, আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপর আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করেছেন তা এমন সত্য যাতে কোন সন্দেহ নেই। যে মূলতঃ আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া মু’মিন। আর যে অন্ধ। যে আল্লাহর ডাকে সাড়া না দেয়া কাফির। তারা উভয় কখনো সমান হতে পারে না। বস্তুতঃ কেবল সুস্থ মেধাবী লোকরাই এ থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআ’লা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলেনঃ হে মুহাম্মদ (সঃ)! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যে ব্যক্তি সরাসরি সত্য বলে জানে বা বিশ্বাস করে, তাতে তার কোন সংশয় ও সন্দেহ থাকে না, সে একটিকে আর একটির সত্যতা প্রতিপাদনকারী ও আনুকূল্যকারী মনে করে, সব খবরকেই সত্য বলে বিশ্বাস করে, তোমার সত্যবাদিতার কথা অকপটে স্বীকার করে, আর দ্বিতীয় আর একটি ব্যক্তি, অন্তর্চক্ষু অন্ধ, মঙ্গল বুঝেই না এবং বুঝলেও মানে না ও বিশ্বাস করে না, এ দু’জন কি কখনও সমান হতে পারে? কখনো না। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “জাহান্নামের অধিবাসী ও জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়। জান্নাতবাসীরাই সফলকাম।” এই ঘোষনা এখানেও দেয়া হয়েছে যে, এ দু'জন সমান নয়। কথা এই যে, বুদ্ধিমান ও বিবেকশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আপনার রব হতে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা যে ব্যক্তি সত্য বলে জানে সে কি তার মত যে অন্ধ [১]? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকসম্পন্নগণই [২],

[১] অর্থাৎ যারা তাদের প্রভুর কাছ থেকে যা এসেছে তা হক্ক বলে ঈমান এনেছে, তারা এটাও বিশ্বাস করেছে যে, এতে কোন সন্দেহ অসামঞ্জস্যতা নেই। এর একাংশ অন্য অংশের সত্যয়ন করে। কোন প্রকার স্ববিরোধিতা এতে পাওয়া যাবে না। এর যাবতীয় সংবাদ বাস্তব, যাবতীয় আদেশ-নিষেধ ইনসাফে পূর্ণ। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, “সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে আপনার রবের বাণী পরিপূর্ণ।” [সূরা আল-আন’আমঃ ১১৫] অর্থাৎ সংবাদ প্রদানে বস্তুনিষ্ঠ এবং আদেশ-নিষেধে ইনসাফপূর্ণ। যারা কুরআনকে এ ধরনের বিশ্বাস করে তারা কি ঐ লোকের মত হতে পারে যে, অন্ধই রয়ে গেছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যা নাযিল হয়েছে তাতে বিশ্বাসী হয়নি এমনকি বোঝার চেষ্টাও করেনি? এ দু’ব্যক্তির নীতি দুনিয়ায় এক রকম হতে পারে না এবং আখেরাতে তাদের পরিণামও একই ধরনের হতে পারে না। তাই তো আল্লাহ্ অন্যত্র বলেনঃ “জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়। জান্নাতবাসীরাই সফলকাম।” [সূরা আল-হাশরঃ ২০] [ইবন কাসীর]

[২] অর্থাৎ আল্লাহর পাঠানো এ শিক্ষা এবং আল্লাহর রাসূলের এ দাওয়াত যারা গ্রহণ করে তারা বুদ্ধিভ্রষ্ট হয় না বরং তারা হয় বিবেকবান, সতর্ক ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। এ ছাড়া দুনিয়ায় তাদের জীবন ও চরিত্র যে রূপ ধারণ করে এবং আখেরাতে তারা যে পরিণাম ফল ভোগ করে পরবর্তী আয়াতগুলোতে তা বর্ণনা করা হয়েছে।