Ar-Ra'd

আর-রাদ: 30

13:30
টেক্সট কপি
13 আর-রাদ Ar-Ra'd · 43 আয়াত الرعد

মূল আরবি

كَذَٰلِكَ أَرْسَلْنَـٰكَ فِىٓ أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهَآ أُمَمٌ لِّتَتْلُوَا۟ عَلَيْهِمُ ٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِٱلرَّحْمَـٰنِ ۚ قُلْ هُوَ رَبِّى لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ

English Translations

Sahih International

Thus have We sent you to a community before which [other] communities have passed on so you might recite to them that which We revealed to you, while they disbelieve in the Most Merciful. Say, "He is my Lord; there is no deity except Him. Upon Him I rely, and to Him is my return."

Muhsin Khan

Thus have We sent you (O Muhammad SAW) to a community before whom other communities have passed away, in order that you might recite unto them what We have inspired to you, while they disbelieve in the Most Beneficient (Allah) Say: "He is my Lord! La ilaha illa Huwa (none has the right to be worshipped but He)! In Him is my trust, and to Him will be my return with repentance."

Taqi Usmani

Thus We have sent you, amidst a community before which many communities have passed away, so that you may recite to them what We have revealed to you, while they disbelieve in Ar-RaHmān (the All-Merciful Allah). Say, “He is my Lord. There is no god but He. In Him I place my trust, and to Him is my return.”

Abul Ala Maududi

Thus have We sent you as a Messenger to a community before which many other communities have passed away that you may recite to them whatever We have revealed to you. And yet they deny the Lord of Mercy. Say to them: "He is my Lord, there is no god but Him. In Him I have placed all my trust and to Him I shall return."

Pickthall

Thus We send thee (O Muhammad) unto a nation, before whom other nations have passed away, that thou mayst recite unto them that which We have inspired in thee, while they are disbelievers in the Beneficent. Say: He is my Lord; there is no Allah save Him. In Him do I put my trust and unto Him is my recourse.

Yusuf Ali

Thus have we sent thee amongst a People before whom (long since) have (other) Peoples (gone and) passed away; in order that thou mightest rehearse unto them what We send down unto thee by inspiration; yet do they reject (Him), the Most Gracious! Say: "He is my Lord! There is no god but He! On Him is my trust, and to Him do I turn!"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

(পূর্বে যেমন পাঠিয়েছিলাম) এভাবেই আমি তোমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছি যার পূর্বে অনেক সম্প্রদায় গত হয়ে গেছে, যাতে তুমি তাদের কাছে তেলাওয়াত কর যা আমি তোমার প্রতি ওয়াহী করি, তবুও তারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে। বল, ‘তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি আর তিনিই প্রত্যাবর্তনস্থল।’

রাওয়াই আল-বায়ান

এমনিভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির নিকট, যার পূর্বে অনেক জাতি গত হয়েছে, যেন আমি তোমার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করেছি, তা তাদের নিকট তিলাওয়াত কর। অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বল, ‘তিনি আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এক জাতির প্রতি, যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে, তাদের নিকট আবৃত্তি করার জন্য, যা আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি; তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। তুমি বলঃ তিনিই আমার রাব্ব! তিনি ছাড়া অন্য কোন মা‘বূদ নেই, তাঁরই উপর আমি নির্ভর করি এবং আমার প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এভাবে আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির প্রতি যাদের আগে বহু জাতি গত হয়েছে, যাতে আমরা আপনার প্রতি যা ওহী করেছি, তা তাদের কাছে তিলাওয়াত করেন। তথাপি তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বলুন, ‘তিনিই আমার রব; তিনি ছাড়া অন্য কোনো হক্ক ইলাহ নেই। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করি এবং তাঁরই কাছে আমার ফিরে যাওয়া।’

ফাতহুল মাজীদ

এভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এক জাতির প্রতি যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে, তাদের নিকট তিলাওয়াত করার জন্য, যা আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি। তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বল: ‘তিনিই আমার প্রতিপালক; তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্যিকার ইলাহ নেই। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করি এবং আমার প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।’

মুখতাসার

৩০. হে রাসূল! যেভাবে আমি পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে তাঁদের উম্মতগুলোর নিকট পাঠিয়েছি তেমনিভাবে আপনাকেও আপনার উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি। যেন আপনি নিজের উপর ওহীকৃত কুর‘আন তাদেরকে পড়ে শুনাতে পারেন। কারণ, সেটি আপনার সত্যতার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। তবে আপনার জাতির অবস্থা হলো তারা এ নিদর্শনকে অস্বীকার করে। কারণ, তারা রহমানের সাথে কুফরি করে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন, যে রহমানের সাথে তোমরা অন্যকে শরীক করছো তিনি হলেন আমার প্রতিপালক। যিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আমার সকল ব্যাপারে আমি তাঁর উপরই ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমি ফিরে যাই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআ’লা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ হে মুহাম্মদ! যেমন আমি তোমাকে এই উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি যে, তুমি তাদেরকে আমার কালাম পাঠ করে শুনাবে, তেমনই তোমার পূর্বে অন্যান্য রাসূলদেরকেও আমি পূর্ববর্তী উম্মতদের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। তারাও নিজ নিজ উম্মতের কাছে আমার পয়গাম পেীছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তারা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। অনুরূপভাবে তোমাকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। সুতরাং তোমার মন খারাপ করা উচিত নয়। হাঁ, তবে এই মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের উচিত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণামের প্রতি লক্ষ্য করা যে, কিভাবে আল্লাহ তাদেরকে তছনছ করে দিয়েছিলেন!

আর তোমাকে অবিশ্বাস করা তো আমার কাছে তাদেরকে অবিশ্বাস করা অপেক্ষা বেশী অপছন্দনীয়। এখন তাদের উপর কিরূপ শাস্তি বর্ষিত হয় তা তারা দেখতেই পাবে। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি) (১৬: ৬৩) এবং আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “ (হে নবী, সঃ)! তোমার পূর্বে রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছিল, অতঃপর তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ও কষ্ট দেয়ার উপর, শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আমার সাহায্য এসে গিয়েছিল, আর (জেনে রেখোঁরেখো যে, আল্লাহর কথার কোন পরিবর্তন নেই এবং অবশ্যই তোমার কাছে রাসূলের খবর এসে গেছে।” (৬: ৩৪) ভাবার্থ হচ্ছেঃ তাদের এটা লক্ষ্য করা উচিত যে, কিভাবে আল্লাহ তাআ’লা তাঁর অনুগত লোকদেরকে সাহায্য করেছিলেন এবং কি ভাবে তাদেরকে জয়যুক্ত করেছিলেন।

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার কওমের প্রতি লক্ষ্য কর যে, তারা রহমানকে (দয়াময় আল্লাহকে) অস্বীকার করছে। তারা আল্লাহর এই বিশেষণ ও নামকে মানছেই না। হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্র লিখবার সময় মুশরিকরা বাধা দিয়ে বলেঃ “আমরা (আরবি) লিখতে দিবো না। রহমান এবং রাহীম কি তা আমরা জানি না।” পূর্ণ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে বিদ্যমান রয়েছে। কুরআন কারীমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ তোমরা আল্লাহ বলে তাঁকে ডাকো অথবা রহমান বলে ডাকো, তিনি সমস্ত উত্তম নামের অধিকারী।” (১৭: ১১০)হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তাআ’লার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হচ্ছে আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)আল্লাহ পাক বলেনঃ হে নবী (সঃ)!

তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ তোমরা যে দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করছো তিনিই আমার প্রতিপালক। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করি। আমার প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে। তিনি ছাড়া অন্য কেউ এর হকদার নয়।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

এভাবে আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির প্রতি যাদের আগে বহু জাতি গত হয়েছে, যাতে আমরা আপনার প্রতি যা ওহী করেছি, তা তাদের কাছে তিলাওয়াত করেন। তথাপি তারা রহমানকে অস্বীকার করে [১]। বলুন, ‘তিনিই আমার রব; তিনি ছাড়া অন্য কোন হক্ক ইলাহ নেই। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করি এবং তাঁরই কাছে আমার ফিরে যাওয়া।’

[১] অর্থাৎ তাঁর বন্দেগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আছে। তাঁর গুণাবলী, ক্ষমতা ও অধিকারে অন্যদেরকে তাঁর সাথে শরীক করছে। তাঁর দানের জন্য অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তারা নতুন কিছু করছে না, তাদের পূর্বেও আমরা অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি। তারা যেভাবে দয়াময় প্রভুকে ভুলে শাস্তির অধিকারী হয়েছে তেমনিভাবে আপনার জাতির কাফেররাও রহমান তথা দয়াময় প্রভুকে অস্বীকার করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের শাস্তি অনিবার্য। [এ সংক্রান্ত আরো আয়াত দেখুন, সূরা আন-নাহলঃ ৬৩, সূরা আল-আন’আমঃ ৩৪]

আয়াতে বলা হয়েছে, যে তারা “রাহমান”কে অস্বীকার করছে। এখানে মূলতঃ তারা আল্লাহ্ তা’আলাকে “রাহমান” বা অত্যন্ত দয়ালু এ গুণে গুণান্বিত করতে অস্বীকার করছিল। এটা ছিল আল্লাহ্‌র নাম ও গুণের সাথে শির্ক করা। কুরআনের অন্যত্র স্পষ্টভাবে এসেছে যে, তারা এ নামটি অস্বীকার করত। যেমন, “যখনই তাদেরকে বলা হয়, ‘সিজদাবনত হও ‘রহমান’ -এর প্রতি’, তখন তারা বলে, ‘রহমান আবার কে? তুমি কাউকেও সিজদা করতে বললেই কি আমরা তাকে সিজদা করব?’ এতে তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।” [সূরা আল-ফুরকানঃ ৬০]

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়ও কাফেররা আল্লাহ্‌র এ গুণটি লিখা নিয়ে আপত্তি করেছিল এবং বলেছিলঃ আমরা রহমানকে চিনি না। [বুখারীঃ ২৭৩১-২৭৩২]

অথচ এ নামটি এমন এক নাম যে নাম একমাত্র তাঁর জন্যই ব্যবহার হতে পারে। আর কাউকে কোনভাবেই ‘রহমান’ নাম বা গুণ হিসেবে ডাকা যাবে না। আর এজন্যই আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূলকে বলছেন যে, তারা যদিও গোয়ার্তুমি করে এ নামটি অস্বীকার করছে আপনি তাদেরকে এ নামটি যে আমার তা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরুন এবং বলুনঃ ‘তিনিই আমার রব; তিনি ছাড়া অন্য কোন হক্ক ইলাহ্ নেই। তাঁরই উপর আমি নির্ভর করি এবং তাঁরই কাছে আমার ফিরে যাওয়া৷’ তোমাদের অস্বীকার তাঁর এ নামকে তাঁর জন্য সাব্যস্ত করতে কোন ভাবেই ব্যাহত করতে পারবে না। অন্যত্র বলা হয়েছে, “বলুন, ‘তোমরা ‘আল্লাহ্’ নামে ডাক বা ‘রাহমান’ নামে ডাক, তোমরা যে নামেই ডাক সকল সুন্দর নামই তো তাঁর। তোমরা সালাতে স্বর উচ্চ করো না এবং খুব ক্ষীণও করো না; দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন করো। [সূরা আল-ইসরাঃ ১১০]

আল্লাহ্ আরো বলেনঃ “বলুন, ‘তিনিই দয়াময়, আমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস করি ও তাঁরই উপর নির্ভর করি”। [সূরা আল-মুলকঃ ২৯] আর এ নামটি সবচেয়ে বেশী মহিমান্বিত নাম হওয়াতে আল্লাহ্‌র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, “আল্লাহ্‌র কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হচ্ছে ‘আব্দুল্লাহ ও আব্দুররাহমান’।” [মুসলিমঃ ২১৩২]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আর-রাদ (১৩): আয়াত ৩০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমি বলি: বিশুদ্ধ অভিমত হলো এটি একটি বৃক্ষ, আমাদের উল্লিখিত মারফু হাদীসটির কারণে। সুহাইলী যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী এটি সহীহ। আবু উমর 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখান থেকেই আমরা এটি উদ্ধৃত করেছি। সা'লাবীও তার তাফসীরে এটি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া মাহদাবী ও কুশাইরী মুআবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তুবা জান্নাতের একটি বৃক্ষ, আল্লাহ নিজ হাতে এটি রোপণ করেছেন এবং এতে স্বীয় রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছেন। এটি অলঙ্কার ও পোশাক উৎপন্ন করে এবং এর ডালপালা জান্নাতের প্রাচীরের বাইরে থেকেও দেখা যায়।" যারা এই সংবাদগুলোর অতিরিক্ত কিছু জানতে চান, তারা যেন সা'লাবীর গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "তুবা" জান্নাতের একটি বৃক্ষ যার মূল আলী (রা.)-এর ঘরে এবং প্রতিটি মুমিনের ঘরে তার একটি করে শাখা রয়েছে। আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে বর্ণিত: নবী (সা.)-কে আল্লাহর বাণী: "তাদের জন্য রয়েছে তুবা এবং উত্তম প্রত্যাবর্তন" সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: "এটি এমন একটি বৃক্ষ যার মূল আমার ঘরে এবং শাখাগুলো জান্নাতে।" অতঃপর পুনরায় তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এটি এমন একটি বৃক্ষ যার মূল আলীর ঘরে এবং শাখাগুলো জান্নাতে।" তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে আপনি বললেন এর মূল আপনার ঘরে, পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলে বললেন এর মূল আলীর ঘরে!

তখন নবী (সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই পরকালে জান্নাতে আমার ঘর এবং আলীর ঘর একই স্থানে একই সাথে হবে।" নবী (সা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে: "এটি এমন এক বৃক্ষ যার মূল আমার ঘরে এবং তোমাদের এমন কোনো ঘর নেই যাতে এর কোনো ডাল ঝুলে নেই।" (উত্তম প্রত্যাবর্তন) অর্থাৎ যখন সে প্রত্যাবর্তন করল। আরও বলা হয়েছে: বক্তব্যের নিহিতার্থ হলো যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয় এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে তুবা। ‌‌[সূরা আর-রাদ (১৩): আয়াত ৩০]এভাবে আমি আপনাকে এমন এক জাতির মধ্যে পাঠিয়েছি যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে, যাতে আপনি তাদের কাছে তা পাঠ করেন যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি, অথচ তারা দয়াময় (রহমান)-কে অস্বীকার করে।

বলুন, তিনিই আমার প্রতিপালক, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন (৩০)আল্লাহ তাআলার বাণী: (এভাবে আমি আপনাকে এমন এক জাতির মধ্যে পাঠিয়েছি যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে) অর্থাৎ আমি আপনাকে পাঠিয়েছি যেমন আমি আপনার পূর্ববর্তী নবীদের পাঠিয়েছি, এটি হাসান (বসরী)-এর উক্তি। আরও বলা হয়েছে: মুহাম্মদ (সা.)-কে যাদের নিকট পাঠানো হয়েছে তাদের ওপর অনুগ্রহকে তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতদের ওপর অনুগ্রহের সাথে তুলনা করা হয়েছে। (যাতে আপনি তাদের কাছে তা পাঠ করেন যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি) অর্থাৎ কুরআন।

(অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে) মুকাতিল ও ইবনে জুরাইজ বলেন: এটি হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় অবতীর্ণ হয় যখন তারা চেয়েছিল...

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমাদের ওপর আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলুন যেমনটি আপনি দাবি করেছেন যে আপনার প্রতিপালক চাইলে তা করতে পারেন। আমরা কখনোই আপনার ওপর ঈমান আনব না যতক্ষণ না আপনি তা করবেন।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেটি আল্লাহর এখতিয়ারে; তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সাথে সেরূপ আচরণই করবেন।"তারা বলল: "হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতিপালক অবশ্যই জানতেন যে আমরা আপনার সাথে বসব এবং আমরা আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করেছি তা জিজ্ঞাসা করব এবং আপনার কাছে যা চেয়েছি তা চাইব। এমতাবস্থায় তিনি কেন আপনার নিকট এসে আপনাকে শিখিয়ে দিলেন না যে, আমাদের কথার কী উত্তর দিতে হবে এবং আমরা যদি আপনার আনীত দ্বীন গ্রহণ না করি তবে তিনি আমাদের সাথে কী আচরণ করবেন?

আমাদের নিকট খবর পৌঁছেছে যে, ইয়ামামার 'আর-রহমান' নামক এক ব্যক্তিই আপনাকে এসব শিক্ষা দেয়। আল্লাহর কসম! আমরা কখনোই সেই রহমানের ওপর ঈমান আনব না। হে মুহাম্মদ, আমরা আপনার ওজর পেশ করার আর কোনো সুযোগ রাখলাম না। আল্লাহর কসম! আপনি আমাদের সাথে যা করেছেন সে কারণে আমরা আপনাকে ছাড়ব না, যতক্ষণ না আমরা আপনাকে ধ্বংস করে দিই অথবা আপনি আমাদের ধ্বংস করে দেন।"তাদের একজন বলল: "আমরা আপনার ওপর ততক্ষণ ঈমান আনব না যতক্ষণ না আপনি আল্লাহ এবং ফেরেশতাদের আমাদের সামনে উপস্থিত করেন।"যখন তারা এসব কথা বলল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছ থেকে উঠে চলে গেলেন।

তাঁর সাথে আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়াহও উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "হে মুহাম্মদ! আপনার কওম আপনার সামনে কিছু প্রস্তাব পেশ করেছিল যা আপনি গ্রহণ করেননি। অতঃপর তারা নিজেদের জন্য আপনার নিকট কিছু অলৌকিক বিষয় চেয়েছিল যাতে তারা আল্লাহর নিকট আপনার মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারে, কিন্তু আপনি তাও করেননি। এরপর তারা আপনাকে সেই আযাব ত্বরান্বিত করতে বলল যা দিয়ে আপনি তাদের ভয় দেখাচ্ছেন।""আল্লাহর কসম! আমি আপনার ওপর কখনোই ঈমান আনব না যতক্ষণ না আপনি আকাশে আরোহণের জন্য একটি মই তৈরি করেন এবং তাতে আরোহণ করেন আর আমি তা প্রত্যক্ষ করি; এমনকি আপনি আকাশ থেকে একটি উন্মুক্ত কিতাব নিয়ে আসবেন এবং আপনার সাথে চারজন ফেরেশতা থাকবে যারা সাক্ষ্য দেবে যে আপনি যা বলছেন তা সত্য।

আল্লাহর কসম! আপনি যদি এটি করেনও, তবুও আমার ধারণা যে আমি আপনাকে বিশ্বাস করব না।"অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে চলে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও অত্যন্ত দুঃখিত ও ব্যথিত মনে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন। কারণ, তাঁর কওম তাঁকে ডাকার পর তাদের হিদায়াতের যে আশা তিনি করেছিলেন তা পূর্ণ হলো না এবং তিনি তাদের চরম বিমুখতা প্রত্যক্ষ করলেন।আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়াহ যা বলেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: তারা বলল, আমরা কখনোই তোমার ওপর ঈমান আনব না... থেকে একজন মানুষ রাসূল পর্যন্ত।

আর তাদের সেই কথার উত্তরে—যেখানে তারা বলেছিল যে তারা রহমানের ওপর ঈমান আনবে না—আল্লাহ নাযিল করলেন: এভাবেই আমি আপনাকে এমন এক উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি যার পূর্বে বহু উম্মত গত হয়েছে... (সূরা আর-রাদ, আয়াত ৩০) শেষ পর্যন্ত।আর তাঁর কওম পাহাড়সমূহকে গতিশীল করা, ভূখণ্ডকে বিদীর্ণ করা এবং তাদের মৃত পিতৃপুরুষদের পুনরুত্থিত করার যে দাবি জানিয়েছিল, তার উত্তরে নাযিল হলো: যদি এমন কোনো কুরআন থাকত যার মাধ্যমে পাহাড়সমূহকে গতিশীল করা যেত... (সূরা আর-রাদ, আয়াত ৩১) শেষ পর্যন্ত।সাঈদ বিন মানসুর, ইবনে জারির, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম সাঈদ বিন জুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বাণী—তারা বলল, আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব না—উম্মে সালামার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়াহর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে।ইবনে জারির ইব্রাহিম নাখয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাত্তা তাফজুরা লানা শব্দটি হালকাভাবে (তাশদিদ ছাড়া) তিলাওয়াত করেছেন।