Al-Jumu'ah
আল-জুমুআ: 5
মূল আরবি
مَثَلُ ٱلَّذِينَ حُمِّلُوا۟ ٱلتَّوْرَىٰةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ ٱلْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًۢا ۚ بِئْسَ مَثَلُ ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ
English Translations
The example of those who were entrusted with the Torah and then did not take it on is like that of a donkey who carries volumes [of books]. Wretched is the example of the people who deny the signs of Allāh. And Allāh does not guide the wrongdoing people.
The likeness of those who were entrusted with the (obligation of the) Taurat (Torah) (i.e. to obey its commandments and to practise its legal laws), but who subsequently failed in those (obligations), is as the likeness of a donkey who carries huge burdens of books (but understands nothing from them). How bad is the example (or the likeness) of people who deny the Ayat (proofs, evidences, verses, signs, revelations, etc.) of Allah. And Allah guides not the people who are Zalimun (polytheists, wrong-doers, disbelievers, etc.).
The example of those who were ordered to bear (the responsibility of acting upon) the Torah, then they did not bear it, is like a donkey that carries a load of books. Evil is the example of those who have rejected Allah’s verses. And Allah does not guide the wrongdoing people.
The parable of those who were charged with the Torah and then they failed to live up to it is that of a donkey laden with books. Even more evil is the parable of the people who gave the lie to the Signs of Allah. Allah does not direct such wrong-doers to the Right Way.
The likeness of those who are entrusted with the Law of Moses, yet apply it not, is as the likeness of the ass carrying books. Wretched is the likeness of folk who deny the revelations of Allah. And Allah guideth not wrongdoing folk.
The similitude of those who were charged with the (obligations of the) Mosaic Law, but who subsequently failed in those (obligations), is that of a donkey which carries huge tomes (but understands them not). Evil is the similitude of people who falsify the Signs of Allah: and Allah guides not people who do wrong.
বাংলা অনুবাদ
যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল তারপর তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মত! যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে। সে সম্প্রদায়ের উপমা কতইনা নিকৃষ্ট, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ। কত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ ফাসিক/পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মত! যে বহু পুস্তক বহন করে। কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে! আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না।
যাদের ওপর তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত কিতাবসমূহ বহনকারী গাধার ন্যায়। কত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
৫. যে সব ইহুদিকে তাওরাত মানতে বাধ্য করার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের উদাহরণ হলো ওই গাধার ন্যায় যে বড় বড় কিতাবাদি বহন করে। অথচ তার উপর কী চাপানো হয়েছে সে সেই ব্যাপারে কিছুই জানে না। এটি কি কিতাবাদি, না অন্য কিছু? যে জাতি আল্লাহর আয়াতগুলো অস্বীকার করে তার দৃষ্টান্ত অতি নিকৃষ্ট। বস্তুতঃ আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হকের পথ দেখান না।
তাফসীর
৫-৮ নং আয়াতের তাফসীর: এই আয়াতগুলোতে ইয়াহূদীদেরকে নিন্দে করা হচ্ছে যে, তাদেরকে তাওরাত। প্রদান করা হয় এবং আমল করার জন্যে তারা তা গ্রহণ করে, কিন্তু আমল করেনি। ঘোষিত হচ্ছে যে, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে পুস্তক বহনকারী গর্দভ। যদি গর্দভের উপর কিতাবের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় তবে সে তো এটা বুঝতে পারবে যে, তার উপর বোঝা রয়েছে, কিন্তু কি বোঝা রয়েছে তা সে মোটেই বুঝতে পারবে না। অনুরূপভাবে এই ইয়াহূদীরা বাহ্যিকভাবে তো তাওরাতের শব্দগুলো মুখে উচ্চারণ করছে, কিন্তু মতলব কিছুই বুঝে না। এর উপর তারা আমল তো করেই না, এমন কি একে পরিবর্তন পরিবর্ধন করে ফেলছে।
সুতরাং প্রকতপক্ষে তারা এ নির্বোধ ও অবুঝ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট। কেননা, মহান আল্লাহ এদেরকে বোধশক্তিই দান করেননি। কিন্তু এ লোকগুলোকে তো তিনি বোধশক্তি দিয়েছেন, অথচ তারা তা ব্যবহার করে না ও কাজে লাগায় না। এ জন্যেই অন্য আয়াতে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট! তারাই গাফিল।” (৭:১৭৯)এখানে বলা হচ্ছে যে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করে ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের দৃষ্টান্ত কতই না নিকৃষ্ট। তারা অত্যাচারী এবং আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি জুমআর দিন ইমামের খুৎবাহ দান অবস্থায় কথা বলে সে পুস্তক বহনকারী গর্দভের মত এবং যে ব্যক্তি তাকে বলেঃ চুপ কর তার জুমআ'হ্ হয় না।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে ইয়াহুদীগণ!
যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য কোন মানব গোষ্ঠী নয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।' অর্থাৎ হে ইয়াহূদীদের দল! যদি তোমাদের দাবী এই হয় যে, তোমরা সত্যের উপর রয়েছে আর হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এবং তাঁর সহচরবৃন্দ অসত্যের উপর রয়েছেন তবে তোমর প্রার্থনা করঃ আমাদের দুই দলের মধ্যে যারা অসত্যের উপর রয়েছে তাকে যেন আল্লাহ মৃত্যু দান করেন।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “কিন্তু তাদের হস্ত যা অগ্রে প্রেরণ করেছে তার কারণে কখনো মত্য কামনা করবে না। অর্থাৎ যারা যে কুফরী, যুলম ও পাপের কাজ করেছে সেই কারণে তারা কখনো মৃত্যু কামনা করবে না।আল্লাহ তা'আলা যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।সূরায়ে বাকারার নিম্নের আয়াতগুলোর তাফসীরে ইয়াহুদীদের সাথে।
মুবাহালার পূর্ণ বর্ণনা গত হয়েছেঃ “বলঃ যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্য লোকে ব্যতীত বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যেই হয় তবে তোমরা মুত্যু কামনা কর- যদি সত্যবাদী হও। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্যে তারা কখনো ওটা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে অবহিত। তুমি অবশ্যই তাদেরকে জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষ, এমনকি মুশরিকদের অপেক্ষা অধিক লোভী দেখতে পাবে। তাদের প্রত্যেকে সহস্র বছর বাঁচার আকাঙ্ক্ষা করে। কিন্তু দীর্ঘায়ু তাদেরকে শাস্তি হতে দূরে রাখতে পারবে না। তারা যা করে আল্লাহ ওর দ্রষ্টা।” সূরায়ে আলে ইমরানের নিম্নের আয়াতে খৃষ্টানদের সাথে মুবাহালার বর্ণনা রয়েছেঃ“তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যে কেউ এ বিষয়ে তোমার সাথে তর্ক করে তাকে বলঃ এসো, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদেরকে ও তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে, আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে; অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দিই আল্লাহর লানত।” আর মুশরিকদের সাথে মুবাহালার বর্ণনা রয়েছে সূরায়ে মারইয়ামের নিম্নের আয়াতে “বলঃ যারা বিভ্রান্তিতে রয়েছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর ঢিল দিবেন।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবু জেহেল (আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি লা'নত বর্ষণ করুন!) বলেঃ “আমি যদি মুহাম্মাদ (সঃ)-কে কা’বার নিকট দেখতে পাই তবে অবশ্যই তার গর্দান পরিমাপ করবে।” রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি বলেনঃ “যদি সে এরূপ করতো তবে অবশ্যই ফেরেশতাগণ জনগণের চোখের সামনে তাকে পাকড়াও করতেন।
আর যদি ইয়াহূদীরা মৃত্যু কামনা করতো তবে অবশ্যই তারা মরে যেতো এবং জাহান্নামে তাদের জায়গা দেখে নিতো। আর আল্লাহর সাথে যারা মুবাহালা করতে চেয়েছিল তারা যদি মুবাহালার জন্যে বের হতো তবে অবশ্যই তারা এমন অবস্থায় ফিরে আসতো যে, তাদের পরিবারবর্গ এবং মাল-ধন তারা। পেতো না।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈও (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার উক্তিঃ বলঃ (হে মুহাম্মাদ সঃ)! তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হবেই। অতঃপর তোমরা প্রত্যানীত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট এবং তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে।
যেমন সূরায়ে নিসার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার উক্তি রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, সুউচ্চ ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও।”তিবরানী (রঃ)-এর মু’জাম গ্রন্থে হযরত সমরা' (রাঃ) হতে একটি মারফ হাদীস বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি মৃত্যু হতে পলায়ন করে তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ খেকশিয়াল যার কাছে ভূমি তার প্রদত্ত ঋণ চায়। তখন সে দ্রুত বেগে পালাতে শুরু করে। শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তার গর্তে ঢুকে পড়ে। তখন ভূমি তাকে বলেঃ “হে খেকশিয়াল! আমাকে আমার ঋণ দিয়ে দাও।” একথা শুনে সে পুনরায় লেজগুটিয়ে ভীষণ বেগে দৌড়াতে শুরু করে।
অবশেষে তার গর্দান ভেঙ্গে যায় এবং সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।”
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মত! যে বহু পুস্তক বহন করে [১]। কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে ! আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না।
[১] এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ। একটি সাধারণ অর্থ এবং অপরটি বিশেষ অর্থ। সাধারণ অর্থ হলো, যাদের ওপর তাওরাতের জ্ঞান অর্জন, তদনুযায়ী আমল এবং তাওরাত অনুসারে দুনিয়াকে পথপ্রদর্শনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তারা তাদের এ দায়িত্ব বুঝেনি এবং তার হকও আদায় করেনি। বিশেষ অর্থ হলো, তাওরাতের ধারক ও বাহক গোষ্ঠী হওয়ার কারণে যাদের কাজ ছিল সবার আগে অগ্রসর হয়ে সেই রাসূলকে সাহায্য-সহযোগিতা করা যার আগমনের সুসংবাদ তাওরাতে স্পষ্ট ভাষায় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারাই তার সবচেয়ে বেশী শক্রতা ও বিরোধিতা করেছে এবং তাওরাতের শিক্ষার দাবী পূরণ করেনি। পার্থিব জাকজমক ও ধনৈশ্বর্য তাদেরকে তাওরাত থেকে বিমুখ করে রেখেছে। ফলে তারা তাওরাতের পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও তাওরাতের নির্দেশাবলী বাস্তবায়নের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ মুর্থ ও অনভিজ্ঞের পর্যয়ে চলে এসেছে।
আলোচ্য আয়াতে তাদের নিন্দা করে বলা হয়েছে যে, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গর্দভ, যার পিঠে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বৃহদাকার গ্রন্থ চাপিয়ে দেয়া হয়। এই গর্দভ সেই বোঝা বহন তো করে, কিন্তু তার বিষয়বস্তুর কোন খবর রাখে না এবং তাতে তার কোন উপকার হয় না। ইয়াহুদীদের অবস্থাও তদ্রুপ। তারা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অর্জনের জন্যে তাওরাতকে বহন করে এবং এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে জাঁকজমক ও প্রতিপত্তি লাভ করতে চায়, কিন্তু এর দিকনির্দেশ দ্বারা কোন উপকার লাভ করে না। [দেখুন-ইবন কাসীর, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আল-জুমুআহ (৬২): আয়াত ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তা আনুগত্যের কাজে ব্যয় করা হয়; আর এটিই আবু সালিহ-এর উক্তির মর্মার্থ। ইমাম মুসলিম আবু সালিহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দরিদ্র মুহাজিরগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: "বিত্তবানরা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী নেয়ামত লাভ করে অগ্রগামী হয়ে গেছেন।" তিনি বললেন: "তা কী কারণে?" তারা বললেন: "তারা আমাদের মতোই সালাত আদায় করেন এবং আমাদের মতোই সিয়াম পালন করেন, কিন্তু তারা দান-সদকা করেন যা আমরা করতে পারি না এবং তারা দাস মুক্ত করেন যা আমরা করতে পারি না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের নাগাল পাবে এবং তোমাদের পরবর্তীদের চেয়ে অগ্রগামী হবে?
আর তোমাদের মতো আমলকারী ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের চেয়ে উত্তম হতে পারবে না।" তারা বললেন: "অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার তাসবীহ, তাকবীর এবং তাহমীদ পাঠ করবে।" আবু সালিহ বলেন: অতঃপর দরিদ্র মুহাজিরগণ পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ফিরে এসে বললেন: "আমাদের বিত্তবান ভাইয়েরা আমরা যা করছি সে সম্পর্কে শুনে ফেলেছে এবং তারাও অনুরূপ আমল করছে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।" পঞ্চম একটি মত হলো: এটি মানুষের নবী (সা.)-এর সত্যয়নের প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর দ্বীনে প্রবেশ ও তাঁর সাহায্যের নামান্তর।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ। [সূরা আল-জুমুআহ (৬২): আয়াত ৫]যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার প্রদান করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ সেই গাধার মতো যে বিশাল কিতাবের বোঝা বহন করে। সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ কতই না নিকৃষ্ট যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না। (৫)এখানে ইয়াহূদীদের একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যখন তারা তাওরাত অনুযায়ী আমল করা ছেড়ে দিয়েছিল এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনেনি। 'তাদের তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল' অর্থাৎ ইবনে আব্বাসের মতে, তাদের এর ওপর আমল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জুরজানী বলেন: এটি 'হামালাহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ 'জিম্মাদারি', অর্থাৎ তারা তাওরাতের বিধানসমূহ পালনের জিম্মাদার হয়েছিল। 'সেই গাধার মতো যে বিশাল কিতাবের বোঝা বহন করে' - 'আসফার' শব্দটি 'সিফর'-এর বহুবচন, যার অর্থ বড় কিতাব; কারণ পাঠ করা হলে এটি গূঢ় অর্থ উন্মোচন করে। মায়মুন ইবনে মিহরান বলেন: গাধা জানে না তার পিঠে কিতাবের বোঝা রয়েছে নাকি আবর্জনার ঝুড়ি, ইয়াহূদীদের অবস্থা ঠিক তেমনই। এতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির জন্য সতর্কতা রয়েছে যে কিতাব বহন করে, যেন সে এর মর্মার্থ শেখে এবং এতে যা আছে তা অনুধাবন করে, যাতে এই লোকদের ওপর যে নিন্দা এসেছে তা যেন তাকে স্পর্শ না করে।
কবি বলেন:(১). 'হ', 'য', 'স', 'হ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "নাকি ঝুড়ি"।(২). তিনি হলেন মারওয়ান বিন সুলাইমান বিন ইয়াহইয়া বিন আবি হাফসা, তিনি একদল কাব্য বর্ণনাকারীকে ব্যঙ্গ করে এই কবিতা বলেছিলেন।
ইবনে ইসহাক, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং দালায়েলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদি পণ্ডিতদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বললেন, যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন সূরিয়া এবং কা'ব বিন আসাদ ছিল। তিনি তাদের বললেন: "হে ইয়াহুদি সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং ইসলাম গ্রহণ করো। আল্লাহর কসম! তোমরা অবশ্যই জানো যে, আমি যা নিয়ে এসেছি তা সত্য।"তারা বলল: "হে মুহাম্মদ, আমরা তা জানি না।"তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন: {হে কিতাবপ্রাপ্তগণ!
আমরা যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আনো...} আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম সুদ্দী থেকে আল্লাহর বাণী হে কিতাবপ্রাপ্তগণ...
অত্র আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন:তিনি বলেন: এই আয়াত বনু কায়নুকা গোত্রের মালিক বিন সাইফ এবং রিফা'আ বিন যায়েদ বিন তাবূত সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম আওফী-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী আমরা মুখমণ্ডলসমূহ মুছে ফেলার আগে...
প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'মুছে ফেলা' অর্থ হলো তা অন্ধ করে দেওয়া। অতঃপর আমরা সেগুলোকে তাদের পশ্চাৎদেশের দিকে ফিরিয়ে দেবো
— এ সম্পর্কে তিনি বলেন: আমরা তাদের মুখমণ্ডলকে তাদের ঘাড়ের দিকে করে দেবো, ফলে তারা পিছন দিকে হাঁটবে এবং তাদের কারো কারো চক্ষু ঘাড়ের দিকে স্থাপন করা হবে।তস্তী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাফে বিন আজরাক তাঁকে বললেন: আমাকে মহান আল্লাহর বাণী আমরা মুখমণ্ডলসমূহ মুছে ফেলার আগে...
সম্পর্কে অবহিত করুন।
তিনি বললেন: এর অর্থ হলো তাদের সৃষ্টির অবয়ব বিকৃত করার আগে।তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আরবরা কি এটি জানে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি কি উমাইয়্যা বিন আবি সালতের উক্তি শোননি যেখানে সে বলছে: "আল্লাহ যার দু'টি চোখ মুছে দেন, তার জন্য সূর্য বা চন্দ্রকে স্পষ্ট দেখার মতো কোনো আলো অবশিষ্ট থাকে না।"ইবনে আবি হাতিম আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম আল-খলীলী ছিলেন কা'বের শিক্ষক। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতে বিলম্ব করার কারণে কা'বকে তিরস্কার করতেন। তিনি তাঁকে এটি দেখতে পাঠিয়েছিলেন যে, তিনি (মুহাম্মদ) কি সেই প্রতিশ্রুত নবী?
কা'ব বলেন: আমি মদীনায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম, অতঃপর সেখানে একজনকে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুনলাম— হে কিতাবপ্রাপ্তগণ! তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে আমরা যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আনো, আমরা মুখমণ্ডলসমূহ মুছে ফেলার আগে...
। তখন আমি দ্রুত পানির দিকে গিয়ে গোসল করলাম এবং ভয়ে নিজের মুখ স্পর্শ করছিলাম এই আশঙ্কায় যে আমার মুখ বিকৃত হয়ে যায় কি না, অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।ইবনে জারীর ঈসা বিন মুগীরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা ইব্রাহীমের নিকট কা'বের ইসলাম গ্রহণের কথা আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: কা'ব উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন।
তিনি যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তখন মদীনার পথ অতিক্রম করার সময় উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "হে কা'ব, ইসলাম গ্রহণ করো।"কা'ব বললেন: "আপনারা কি আপনাদের কিতাবে পাঠ করেন না যে— (যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ হলো সেই গাধার মতো যে কিতাবসমূহ বহন করে) (সূরা জুমুআ, আয়াত ৫)? আর আমি তো তাওরাত বহন করেছি।"
