At-Taghabun

আত-তাগাবুন: 11

64:11
টেক্সট কপি
64 আত-তাগাবুন At-Taghabun · 18 আয়াত التغابن
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18

মূল আরবি

مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُۥ ۚ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ

English Translations

Sahih International

No disaster strikes except by permission of Allāh. And whoever believes in Allāh - He will guide his heart. And Allāh is Knowing of all things.

Muhsin Khan

No calamity befalls, but with the Leave [i.e. decision and Qadar (Divine Preordainments)] of Allah, and whosoever believes in Allah, He guides his heart [to the true Faith with certainty, i.e. what has befallen him was already written for him by Allah from the Qadar (Divine Preordainments)], and Allah is the All-Knower of everything.

Taqi Usmani

No calamity befalls (one), but with the leave of Allah. And whoever believes in Allah, He guides his heart. Allah is All-Knowing about every thing.

Abul Ala Maududi

No misfortune ever befalls unless it be by Allah's leave. And whosoever has faith in Allah, Allah directs his heart along the Right Path. Allah has knowledge of everything.

Pickthall

No calamity befalleth save by Allah's leave. And whosoever believeth in Allah, He guideth his heart. And Allah is Knower of all things.

Yusuf Ali

No kind of calamity can occur, except by the leave of Allah: and if any one believes in Allah, (Allah) guides his heart (aright): for Allah knows all things.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদ আসে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সকল বিষয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী।

রাওয়াই আল-বায়ান

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বিপদই আপতিত হয়না এবং যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না এবং কেউ আল্লাহর উপর ঈমান রাখলে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আর আল্লাহ্‌ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।

ফাতহুল মাজীদ

আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন বিপদই আপতিত হয় না এবং যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

মুখতাসার

১১. কারো ব্যক্তি সত্তা, সম্পদ কিংবা সন্তানের উপর কোন বিপদ আপতিত হলে তা হয়ে থাকে কেবল আল্লাহর ফায়সালা ও তাঁর নির্ধারণ অনুযায়ী। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালা ও তাকদীরে বিশ্বাস করে আল্লাহ তার অন্তরকে তাঁর নির্দেশ মানার ও তাঁর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকার প্রতি সুপথগামী করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন থাকে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১-১৩ নং আয়াতের তাফসীর সূরায়ে হাদীদেও এ বিষয়টি গত হয়েছে যে, যা কিছু হয় তা আল্লাহর হুকুমেই হয়। তাঁর ইচ্ছা ও নির্ধারণ ছাড়া কিছুই হয় না। এখন কোন লোকের উপর কোন বিপদ আপতিত হলে তার এটা বিশ্বাস করা উচিত যে, এ বিপদ আল্লাহর ফায়সালা ও নির্ধারণক্রমেই আপতিত হয়েছে। সুতরাং তার উচিত ধৈর্যধারণ করা এবং আল্লাহর মর্জির উপর স্থির থাকা। আর সে যেন পুণ্য ও কল্যাণের আশা রাখে। সে যেন আল্লাহর ফায়সালাকে দ্বিধাহীন চিত্তে মেনে নেয়। তাহলে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তার অন্তরে হিদায়াত দান করবেন। সে তখন সঠিক বিশ্বাসের ঔজ্জ্বল্য স্বীয় অন্তরে দেখতে পাবে।

আবার কোন কোন সময় এমনও হয় যে, ঐ বিপদের বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতেই অফুরন্ত কল্যাণ দান করে থাকেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তার ঈমান দৃঢ় হয়ে যায়। সে বিশ্বাস রাখে যে, যে বিপদ তার উপর আপতিত হয়েছে তা আপতিত হওয়ারই ছিল এবং যা আপতিত হয়নি তা হওয়ারই ছিল না। হযরত আলকামা (রাঃ)-এর সামনে এ আয়াতটি পাঠ করা হয় এবং তাঁকে এর ভাবার্থ জিজ্ঞেস করা হয়। তখন তিনি বলেনঃ “এর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে প্রত্যেক বিপদের সময় এই বিশ্বাস রাখে যে, ঐ বিপদ আল্লাহর পক্ষ হতে এসেছে। অতঃপর সন্তুষ্ট চিত্তে সে তা সহ্য করে।” (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) ও ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেছেন)হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) ও হযরত মুকাতিল ইবনে হিব্বান (রঃ) বলেনঃ এর ভাবার্থ এই যে, সে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করে।‘মুত্তাফাকুন আলাইহি' এর হাদীসে রয়েছেঃ মু'মিনের জন্যে বিস্মিত হতে হয় যে, আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্যে যে ফায়সালাই করেন তা তার জন্যে কল্যাণকরই হয়ে থাকে।

তার উপর কোন বিপদ আপতিত হলে সে সবর করে, সুতরাং তা হয় তার জন্যে কল্যাণকর। আবার তার জন্যে আনন্দদায়ক কোন ব্যাপার ঘটলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং সেটাও হয় তার জন্যে কল্যাণকর। এটা মু'মিন ছাড়া আর কারো জন্যে নয়।” হযরত উবাদাহ্ ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর কাছে এসে বললোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কোন্ আমল সর্বোত্তম?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “আল্লাহ্ উপর ঈমান আনা, তাঁর সত্যতা বিশ্বাস করা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা।” লোকটি বললোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমি এর চেয়ে কোন সহজ আমল কামনা করছি।” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “তোমার ভাগ্যে যে ফায়সালা করে দেয়া হয়েছে ঐ ব্যাপারে তুমি আল্লাহকে তিরস্কার বা নিন্দে করবে না (বরং তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে)।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এরপর মহান আল্লাহ্ বলেনঃ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য কর।

অর্থাৎ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সঃ) যা করার আদেশ করেছেন তা পালন কর এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকো। অতঃপর প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ্ বলেনঃ যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, (তবে জেনে রেখো যে,) আমার রাসূল (সঃ)-এর দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে প্রচার করা। অর্থাৎ যদি তোমরা মান্য না কর তবে তোমাদের আমলের জন্যে আল্লাহর রাসূল (সঃ) মোটেই দায়ী হবেন না। তাঁর দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে প্রচার করে দেয়া এবং তাঁর এ দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করেছেন। এখন তোমাদের দুষ্কর্মের শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে।এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, সুতরাং মু'মিনরা যেন আল্লাহর উপরই নির্ভর করে।

প্রথম বাক্যে তাওহীদের খবর দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো তলব, অর্থাৎ আল্লাহর তাওহীদকে মেনে নাও এবং ইখলাসের সাথে শুধু তাঁরই ইবাদত কর।যেহেতু নির্ভরযোগ্য একমাত্র আল্লাহ্ সেই হেতু মু'মিনদের উচিত একমাত্র তাঁরই উপর নির্ভর করা। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা, তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, অতএব তাঁকেই গ্রহণ কর কর্ম বিধায়করূপে।” (৭৩:৯)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না এবং কেউ আল্লাহর উপর ঈমান রাখলে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আর আল্লাহ্‌ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আত-তাগাবুন (৬৪): আয়াত ১১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন) নাফি এবং ইবনে আমির এই উভয় ক্রিয়াপদে 'নুন' (আমরা) যোগে পড়েছেন, আর অবশিষ্টগণ 'ইয়া' (তিনি) যোগে পড়েছেন। ‌‌[সূরা আত-তাগাবুন (৬৪): আয়াত ১০]আর যারা কুফরি করে এবং আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। (১০)মহান আল্লাহর বাণী: (আর যারা কুফরি করে এবং আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে) অর্থাৎ কুরআনকে, (তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল)।

যখন তিনি মুমিনদের প্রাপ্য প্রতিদান বর্ণনা করলেন, তখন কাফিরদের পরিণামও উল্লেখ করলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে অতিক্রান্ত হয়েছে। ‌‌[সূরা আত-তাগাবুন (৬৪): আয়াত ১১]আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো বিপদই আপতিত হয় না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়েত দান করেন; আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। (১১)মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো বিপদই আপতিত হয় না) অর্থাৎ তাঁর ইচ্ছা ও ফয়সালা অনুযায়ী। আল-ফাররা বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহর আদেশ ব্যতীত নয়। আবার বলা হয়েছে: আল্লাহর জ্ঞান ব্যতীত নয়। আরও বলা হয়েছে যে, এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো: কাফিররা বলেছিল, যদি মুসলিমরা যে পথে আছে তা সত্য হতো, তবে আল্লাহ তাদের দুনিয়াতে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতেন।

তখন মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিলেন যে, জীবন, সম্পদ, কথা বা কাজের ক্ষেত্রে যে কোনো বিপদই আসুক না কেন, যা উদ্বেগের কারণ হয় অথবা যা দুনিয়াতে বা আখিরাতে শাস্তির কারণ হয়, তা আল্লাহর জ্ঞান এবং ফয়সালা মতেই ঘটে। মহান আল্লাহর বাণী: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে) অর্থাৎ বিশ্বাস করে এবং জানে যে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো বিপদ তাকে স্পর্শ করবে না। (তিনি তার অন্তরকে হেদায়েত দান করেন) ধৈর্য ও সন্তুষ্টির প্রতি। আবার বলা হয়েছে: তাকে ঈমানের ওপর অটল রাখেন। আবু উসমান আল-জিযি বলেন: যার ঈমান বিশুদ্ধ হয়, আল্লাহ তার অন্তরকে সুন্নাহ অনুসরণের দিকে পরিচালিত করেন।

আরও বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, বিপদের সময় আল্লাহ তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন, ফলে সে বলে: 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী' [বাকারা: ১৫৬]। ইবনে জুবায়ের এ কথা বলেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এটি হলো আল্লাহ তার অন্তরে এমন দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে দেন যেন সে জানতে পারে যে, যা তার ওপর আপতিত হয়েছে তা তাকে এড়ানোর ছিল না, আর যা তাকে এড়িয়ে গেছে তা তার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না। আল-কালবী বলেন: সে যখন পরীক্ষিত হয় তখন ধৈর্য ধারণ করে, যখন নেয়ামতপ্রাপ্ত হয় তখন শুকরিয়া আদায় করে এবং যখন জুলুমের শিকার হয় তখন ক্ষমা করে দেয়।

আরও বলা হয়েছে: তার অন্তরকে জান্নাতে সওয়াব লাভের দিকে পরিচালিত করেন। সাধারণ পঠনরীতি অনুযায়ী 'ইয়াহদি' শব্দটি ইয়া-তে ফাতহা এবং দাল-এ কাসরা দিয়ে পড়া হয়, কারণ পূর্বে আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আস-সুলামী এবং কাতাদাহ 'ইউহদা কালবুহু' পড়েছেন—ইয়া-তে যম্মাহ এবং দাল-এ ফাতহা দিয়ে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া হিসেবে এবং 'কালবু' শব্দটিকে রফা (পেশ) দিয়ে পড়েছেন, কারণ এটি এমন একটি বিশেষ্য যার কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

তিনি বললেন: দুটি সুস্পষ্ট নিদর্শন: আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর কিতাব। আল্লাহর নবী তো ইন্তেকাল করেছেন (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), আর আল্লাহর কিতাবকে আল্লাহ তোমাদের মাঝে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও নেয়ামত হিসেবে অবশিষ্ট রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর হালাল, হারাম এবং তাঁর অবাধ্যতার বিষয়সমূহ।ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম ইবনে জুরাইজ থেকে ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে’ (আয়াতের) ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (এর অর্থ) সে আল্লাহর ওপর ঈমান আনে।আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার অর্থ হলো তাঁর ওপর ভরসা করা।ইবনে আবী হাতিম রবী’ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাদীসটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করে বলেছেন যে, তিনি (নবীজি) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজের জন্য এই ফয়সালা করেছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ঈমান আনবে তিনি তাকে হিদায়াত দান করবেন এবং যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ভরসা করবে তিনি তাকে মুক্তি দেবেন।রবী’ বলেন: আল্লাহর কিতাবে এর সমর্থন রয়েছে— ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, সে অবশ্যই সরল পথের দিশা পাবে।’আবদ ইবনে হুমাইদ রবী’র সূত্রে আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজের ওপর অবধারিত করেছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান আনবে তিনি তাকে পথ দেখাবেন, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করবে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হবেন, যে ব্যক্তি তাঁকে করজ (ঋণ) দেবে তিনি তাকে প্রতিফল দেবেন, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ভরসা করবে তিনি তাকে নাজাত দেবেন এবং যে ব্যক্তি তাঁকে ডাকবে তিনি তার ডাকে সাড়া দেবেন, তবে আগে তাকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হবে।রবী’ বলেন: আল্লাহর কিতাবে এর সমর্থন রয়েছে— ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হিদায়াত দান করেন’ (সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত ১১); ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন’ (সূরা আত-ত্বলাক, আয়াত ৩); ‘আর যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করে, তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন’; ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, সে অবশ্যই সরল পথের দিশা পাবে’; ‘আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন (বলুন) আমি তো কাছেই আছি।

আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয়’ (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৮৬)।তাম্মাম তাঁর ‘ফাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ওহী পাঠালেন— হে দাউদ! আমার কোনো বান্দা যখন আমার সৃষ্টিজগতকে ছেড়ে কেবল আমাকেই দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আমি তার অন্তরের এই নিয়ত সম্পর্কে অবগত হই, তখন আসমান ও তার মধ্যস্থিত সকলেই যদি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তবুও আমি তাদের মধ্য থেকে তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দিই।

পক্ষান্তরে কোনো বান্দা যখন আমাকে ছেড়ে আমার কোনো সৃষ্টির আশ্রয় গ্রহণ করে এবং আমি তার অন্তরের সেই নিয়ত সম্পর্কে অবগত হই, তখন আমি তার সম্মুখ থেকে আসমানের সমস্ত উপায়-উপকরণ বিচ্ছিন্ন করে দিই এবং তার পায়ের নিচের জমিন ধসিয়ে দিই।আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন (পরবর্তীতে ইমাম আয-যাহাবীও এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন), ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা অনুসন্ধান করে, আসমান হয় তার ছায়া এবং জমিন হয় তার শয্যা; সে কোনো কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় না।