At-Tin
আত-তীন: 1
মূল আরবি
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيْتُونِ
English Translations
By the fig and the olive
By the fig, and the olive,
I swear by the Fig and the Olive,
By the fig and the olive;
By the fig and the olive,
By the Fig and the Olive,
বাংলা অনুবাদ
শপথ তীন ও যায়তূন-এর (যা জন্মে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন এলাকায় যে স্থান বহু পুণ্যময় নবী ও রসূলের স্মৃতিতে ধন্য)।
কসম ‘তীন ও যায়তূন’ এর।
শপথ ‘তীন’ ও যাইতূন’ এর –
শপথ ‘তীন’ ও ‘যায়তুন” – এর,
শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,
১. আল্লাহ শপথ করলেন ডুমুর ও তা উৎপন্ন হওয়ার স্থানের। আরো শপথ করলেন জলপাই ও তা উৎপন্ন হওয়ার স্থানের। যা জেরুজালিমের ভূমীতে। যথায় আবির্ভূত হয়েছেন ঈসা (আলাইহিস-সালাম)।
তাফসীর
হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “নবী করীম (সঃ) তাঁর এক সফরে দু'রাকআত নামাযের কোন এক রাকআতে সূরা তীন পাঠ করছিলেন। আমি তার চেয়ে মধুর ও উত্তম কণ্ঠস্বর অথবা কিরআত আর কারো শুনিনি।১-৮ নং আয়াতের তাফসীরএখানে তাফসীরকারগণ বহু উক্তির উপর মতভেদ করেছেন। কারো কারো মতে তীন' দ্বারা দামেস্কের মসজিদকে বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, ‘তীন’ হলো সরাসরি দামেস্ক শহর। অন্য কেউ বলেন যে, ওটা হলো জুদী পাহাড়ে অবস্থিত হযরত নূহের (আঃ) মসজিদ। হযরত মুজাহিদের (রঃ) মতে এটা হলো সাধারণ আনজীর বা ডুমুর জাতীয় ফল।যায়তুনের অর্থ ও বিভিন্নভাবে করা হয়েছে।
কেউ কেউ বলেন যে, ওটা হলো বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদ। অন্য কারো মতে যায়তুন হলো ঐ ফল যাকে চিপে রস অর্থাৎ তৈল বের করা হয়। ভূরে সীনীন হলো ঐ পাহাড় যেখানে হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহ তা'আলার সাথে কথা বলেছিলেন।(আরবি) দ্বারা মক্কা শরীফকে বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। কেউ কেউ বলেন যে, এই তিন জায়গায় তিনজন বিশিষ্ট নবীকে (আঃ) প্রেরণ করা হয়েছিল। তুরে সীনীন এর অর্থ হলো তুরে সায়না অর্থাৎ সিনাই পাহাড়। এই পাহাড়ে আল্লাহ জাল্লাজালালুহু হযরত মুসা (আঃ)-এর সাথে বাক্য বিনিময় করেছেন। বালাদুল আমীন হলো মক্কা মুআযযামা, যেখানে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদকে (সঃ) পাঠানো হয়েছে।
তাওরাতের শেষেও এ তিনটি জায়গার নাম উল্লিখিত রয়েছে। তাতে রয়েছে যে, তূরে সায়না থেকে আল্লাহ তা'আলা এসেছেন অর্থাৎ তিনি হযরত মূসার (আঃ) সাথে কথা বলেছেন আর সা’ঈর। অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাসের পাহাড় থেকে তিনি নুর চমকিত করেছেন। অর্থাৎ হযরত ঈসা (আঃ) কে সেখানে প্রেরণ করেছেন এবং ফারানের শীর্ষে তিনি উন্নীত হয়েছেন অর্থাৎ মক্কার পাহাড় থেকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর এই তিনজন বিশিষ্ট নবীর ভাষা এবং সত্তা সম্পর্কে পর্যায়ক্রমেই উল্লেখ করা হয়েছে।এইসব শপথের পর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ নিশ্চয়ই আমি মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর ছাঁচে ঢালাই করেছি, অতঃপর তাকে আমি অধঃপতিত হীন অবস্থার লোকদের চেয়েও হীনতম করে দিই।
অর্থাৎ জাহান্নামের অধিবাসী করে দিই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য না করে থাকে। এ কারণেই যারা ঈমান এনেছে ও ভাল কাজ করেছে তাদেরকে পৃথক করে নেয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা অতি বৃদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। ইকরামা (রঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন জমা করেছে সে বার্ধক্য ও হীন অবস্থায় উপনীত হবে না। ইবনে জারীর (রঃ) এ কথা পছন্দ করেছেন। কিন্তু অনেক ঈমানদারও তো বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হন। কাজেই সঠিক কথা হলো ওটাই যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “মহাকালের শপথ!
মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।” (১০৩:১-৩) ইতিপূর্বেও এরূপ উক্তি উল্লিখিত হয়েছে।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে মানুষ! তুমি যখন তোমার প্রথমবারের সৃষ্টি সম্পর্কে জানো তখন শাস্তি ও পুরস্কারের দিনের আগমনের কথা শুনে এবং পুনরায় জীবিত হওয়ার অর্থাৎ পুনরুত্থানের কথা শুনে এটাকে বিশ্বাস করছো না কেন? এ অবিশ্বাসের কারণ কি? কোন বস্তু তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবিশ্বাসী করেছে? যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তাঁর পক্ষে পুনরায় সৃষ্টি করা কি কঠিন কাজ?হযরত মুজাহিদ (রঃ) একবার হযরত ইবনে আব্বাসকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন “এখানে কি হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে বুঝানো হয়েছে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।
এখানে শুধু সাধারণ মানুষকেই বুঝানো হয়েছে।”এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তিনি কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? তিনি কারো প্রতি কোন প্রকার যুলুম বা অত্যাচার করেন না। তিনি অবিচার করেন না। এ কারণেই তিনি কিয়ামত বা শেষ বিচারের দিনকে অবশ্যই আনয়ন করবেন এবং সেই দিন তিনি প্রত্যেক যালিম, অত্যাচারীর নিকট থেকে যুলুমঅত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। ইতিপূর্বে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে মারফু’ রূপে একটি হাদীস গত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমাদের মধ্যে কেউ (আরবি) সূরাটি পাঠ করবে এবং সূরার শেষের (আরবি)পর্যন্ত পৌঁছবে তখন যেন সে বলেঃ (আরবি)অর্থাৎ “হ্যা, এবং আমিও এর উপর সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে একজন।”
শপথ ‘তীন’ ও ‘যায়তুন” [১] – এর ,
সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ
বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সফরে দু’রাকা‘আতের যে কোন রাকা‘আতে সূরা আত-তীন পড়লেন। আমি তার মত সুন্দর স্বর ও পড়া আর কোন দিন শুনিনি।” [বুখারী: ৭৬৭, ৬৭৯, ৪৯৫২, মুসলিম: ৪৬8, আবু দাউদ: ১২২১, তিরমিয়ী: ৩১০]
-----------------------
[১] এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। হাসান বসরী, ইকরামাহ, আতা ইবনে আবী রাবাহ, জাবের ইবনে যায়েদ, মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখ‘য়ী রাহেমাহুমুল্লাহ বলেন, তীন বা আঞ্জির (গোল হালকা কালচে বর্ণের এক রকম মিষ্টি ফল) বলতে এই সাধারণ তীনকে বুঝানো হয়েছে, যা লোকেরা খায়। আর যায়তুন বলতেও এই যায়তূনই বুঝানো হয়েছে, যা থেকে তেল বের করা হয়। [কুরতুবী, তাবারী] কোন কোন মুফাসসির বলেন তীন ও যায়তূন শব্দের অর্থ এই ফল দু‘টি উৎপাদনের সমগ্ৰ এলাকা হতে পারে। আর এটি হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তীন এলাকা। কারণ সে যুগের আরবে তীন ও যায়তূন উৎপাদনের জন্য এ দু’টি এলাকাই পরিচিত ছিল।
ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়েম রাহেমাহুমুল্লাহ এই ব্যাখ্যা অবলম্বন করেছেন। অন্যদিকে ইবনে জারীর প্রথম বক্তব্যটিকে অগ্ৰাধিকার দিলেও একথা মেনে নিয়েছেন যে, তীন ও যায়তূন দ্বারা এই ফল দু’টি উৎপাদনের এলাকা উদ্দেশ্য হতে পারে।
[সূরা আত-তীন (৯৫): আয়াত ১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ঈদের দিন, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখছিলেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর কাছে আনসারদের দুইজন বালিকা গান গাচ্ছিল। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? তখন তিনি বললেন: [হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কারণ এটি ঈদের দিন]। আর সর্বদা কাজে মগ্ন থাকা আবশ্যক নয়, বরং তা মানুষের স্বভাবের জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে। [সূরা আত-তীনের তাফসীর]সূরা "ওয়াত-তীন"-এর তাফসীর; অধিকাংশের মতে এটি মাক্কী।
ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ বলেছেন: এটি মাদানী এবং এর আয়াত সংখ্যা আটটি।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে [সূরা আত-তীন (৯৫): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেশপথ ডুমুর ও জলপাইয়ের (১)এতে তিনটি মাসয়ালা রয়েছে: প্রথম- মহান আল্লাহর বাণী: (শপথ ডুমুর ও জলপাইয়ের)। ইবনে আব্বাস, হাসান, মুজাহিদ, ইকরিমা, ইব্রাহিম নাখয়ি, আতা ইবনে আবি রাবাহ, জাবির ইবনে যায়িদ, মুকাতিল ও কালবী বলেছেন: এটি তোমাদের সেই ডুমুর যা তোমরা আহার করো এবং সেই জলপাই যা থেকে তোমরা তেল নিংড়ে বের করো। মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং এক বৃক্ষ যা সিনাই পাহাড় হতে জন্মায়, যা ভক্ষণকারীদের জন্য তেল ও সালুন উৎপন্ন করে।" (১) [আল-মুমিনুন: ২০]।
আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক ঝুড়ি ডুমুর উপহার দেওয়া হয়েছিল, তিনি বললেন: [তোমরা খাও] এবং তিনি নিজেও তা থেকে খেলেন। তারপর বললেন: [আমি যদি বলতাম কোনো ফল জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তবে অবশ্যই বলতাম এটিই সেই ফল, কারণ জান্নাতের ফল বীজহীন হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা এটি খাও, কেননা এটি অর্শরোগ নির্মূল করে এবং বাতের ব্যথায় উপকার দেয়]। মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, তিনি জলপাইয়ের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করতেন এবং বলতেন যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: [জলপাইয়ের মিসওয়াক কতই না চমৎকার!
এটি বরকতময় বৃক্ষ হতে প্রাপ্ত, যা মুখ পবিত্র করে এবং দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করে। এটি আমার মিসওয়াক এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণেরও মিসওয়াক]। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে আরও বর্ণিত হয়েছে: ডুমুর হলো নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর মসজিদ যা জুদী পাহাড়ের ওপর নির্মিত হয়েছিল, আর জলপাই হলো বাইতুল মাকদিসের মসজিদ। দাহহাক বলেছেন: ডুমুর হলো মসজিদুল হারাম আর জলপাই হলো সেই মসজিদ...(১). সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ২০।(২). আল-আজাম (হরকতসহ): ফলের আঁটি বা বীজ।(৩). আল-হাফার (হা-এর ফাতহা এবং ফা-এর সুকুন বা ফাতহাসহ): দাঁতের ওপর জমা হওয়া হলদেটে আবরণ।
