Al-Qari'ah

আল-কারিআহ: 11

101:11
টেক্সট কপি
101 আল-কারিআহ Al-Qari'ah · 11 আয়াত القارعة
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11

মূল আরবি

نَارٌ حَامِيَةٌۢ

English Translations

Sahih International

It is a Fire, intensely hot.

Muhsin Khan

(It is) a hot blazing Fire!

Taqi Usmani

A blazing Fire!

Abul Ala Maududi

A Blazing Fire!

Pickthall

Raging Fire.

Yusuf Ali

(It is) a Fire Blazing fiercely!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

জ্বলন্ত আগুন।

রাওয়াই আল-বায়ান

প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ওটা অতি উত্তপ্ত অগ্নি।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন।

ফাতহুল মাজীদ

প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।

মুখতাসার

১১. তা হলো অতি উত্তপ্ত অগ্নি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

101:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন [১]।

[১] এখানে حامية বলে বুঝানো হয়েছে, আগুনটি হবে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও লেলিহান। [ইবন কাসীর] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আদম সন্তান যে আগুন ব্যবহার করে সেটি জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ উত্তপ্ততা সম্পন্ন, সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, এটাই তো শাস্তির জন্যে যথেষ্ট, তিনি বললেন, জাহান্নামের আগুন তার থেকে উনসত্তর গুণ বেশী উত্তপ্ত”। [বুখারী: ৩২৬৫] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ। তারপরও তাকে দু’বার সমুদ্রের মাধ্যমে ঠাণ্ডা করা হয়েছে, নতুবা এর দ্বারা কেউই উপকৃত হতে পারতনা।” [মুসনাদে আহমাদ: ২/২৪৪] অন্য হাদীসে এসেছে, “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে হাল্কা আযাব ঐ ব্যক্তির হবে যাকে আগুনের জুতা পরিয়ে দেয়া হয়েছে ফলে তার কারণে তার মগজ উৎরাতে থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ: ২/৪৩২] হাদীসে আরও এসেছে, “জাহান্নাম তার রাবের কাছে অভিযোগ দিল যে, আমার একাংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলছে।

তখন তাকে দু’টি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেয়া হলো, একটি শীতকালে অপরটি গ্ৰীষ্মকালে। সুতরাং যত বেশী শীত পাও সেটা জাহান্নামের ঠাণ্ডা থেকে আর যদি বেশী গরম অনুভব কর সেটাও জাহান্নামের উত্তপ্ততা থেকে।” [বুখারী: ৫৩৭, ৩২৬০, মুসলিম: ৬১৭] অন্য হাদীসে এসেছে, “তোমরা যখন দেখবে যে, গ্ৰীষ্মের উত্তপ্ততা বেশী হয়ে গেছে তখন তোমরা সালাত ঠাণ্ডা করে পড়ো; কেননা, কঠিন উত্তপ্ততা জাহান্নামের লাভা থেকে এসেছে।” [বুখারী: ৪৩৬, মুসলিম: ৬১৫]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-কারিআহ (১০১): আয়াত ৬ থেকে ১১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-কারিআহ (১০১): আয়াত ৬ থেকে ১১]অতএব যার (আমলের) পাল্লাসমূহ ভারী হবে (৬) সে সন্তোষজনক জীবন যাপন করবে (৭) আর যার (আমলের) পাল্লাসমূহ হালকা হবে (৮) তার আশ্রয়স্থল হবে ‘হাবিয়াহ’ (৯) আপনি কি জানেন সেটি কী? (১০)অতিশয় উত্তপ্ত আগুন (১১)মীযান (দাঁড়িপাল্লা) সম্পর্কে আলোচনা ইতিপূর্বে সূরা 'আল-আরাফ', 'আল-কাহাফ' এবং 'আল-আম্বিয়া'-এর ব্যাখ্যায় অতিক্রান্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই এর পাল্লা ও কাঁটা রয়েছে, যাতে পুণ্য ও পাপ লিখিত আমলনামাগুলো ওজন করা হবে। আরও বলা হয়েছে যে, এটি একটিই মীযান যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর হাতে থাকবে, যার দ্বারা তিনি আদম সন্তানদের আমল ওজন করবেন।

এখানে একে বহুবচন শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। আর কেউ কেউ বলেছেন (এটি একাধিক) পাল্লা, যেমনটি কবি বলেছেন:প্রত্যেক ঘটনার জন্যই তার নিজস্ব মানদণ্ড রয়েছে আমরা ইতিপূর্বে এটি উল্লেখ করেছি। আমরা এটি আমাদের 'আত-তাযকিরাহ' কিতাবেও আলোচনা করেছি। আরও বলা হয়েছে যে, 'মওয়াযিন' (পাল্লাসমূহ) অর্থ হলো প্রমাণ ও দলিলসমূহ; আব্দুল আজিজ ইবনে ইয়াহইয়া এটি বলেছেন এবং কবির এই পঙ্ক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:আপনাদের সাথে সাক্ষাতের পূর্বে আমি সুদৃঢ় ছিলাম … আমার নিকট প্রত্যেক বিবাদীর জন্যই তার যোগ্য উত্তর রয়েছেআর 'ইশাতিন রাদিয়াহ' (সন্তোষজনক জীবন)-এর অর্থ হলো এমন জীবন যা পছন্দনীয়, যাতে তার অধিকারী সন্তুষ্ট থাকবে।

আরও বলা হয়েছে যে, 'ইশাতিন রাদিয়াহ' অর্থ হলো সে নিজেই সন্তুষ্টি প্রদানকারী অর্থাৎ তা তার অধিবাসীদের জন্য নম্র ও অনুগত হবে। এখানে ক্রিয়াটি 'জীবন'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সন্তুষ্টি, কোমলতা ও আনুগত্য প্রকাশ করবে। 'ইশাহ' শব্দটি জান্নাতের যাবতীয় নেয়ামতকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি শব্দ; তা হবে সন্তুষ্টির উৎস। যেমন সুউচ্চ শয্যাসমূহ, যার উচ্চতা হবে একশত বছরের পথের সমান। যখনই আল্লাহর কোনো ওলী সেটির নিকটবর্তী হবেন, সেটি নিচু হয়ে যাবে যেন তিনি তার ওপর সমানভাবে উপবেশন করতে পারেন, অতঃপর সেটি পুনরায় পূর্বাবস্থায় উচ্চে আরোহণ করবে।

অনুরূপভাবে বৃক্ষের ডালপালার উচ্চতাও তেমনই; যখন আল্লাহর কোনো ওলী তার ফলের আকাঙ্ক্ষা করবেন, তখন তা তার দিকে ঝুঁকে আসবে, যাতে আল্লাহর ওলী বসে বা দাঁড়িয়ে তা গ্রহণ করতে পারেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "তার ফলসমূহ হবে নাগালের মধ্যে।" [আল-হাক্কাহ: ২৩]। এবং তিনি যেখানেই হাঁটবেন বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবেন, তার সাথে নদী প্রবাহিত হবে যেখানে তিনি চাইবেন—উঁচুতে বা নিচুতে। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "তারা তা নিজেদের মর্জিমাফিক প্রবাহিত করবে।" [আল-ইনসান: ৬]। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, (তিনি তার লাঠি দিয়ে ইশারা করবেন আর তা কোনো নালা ছাড়াই প্রবাহিত হবে যেখানে তিনি চাইবেন—তার প্রাসাদসমূহে এবং মজলিসগুলোতে)।

এই সব কিছুই এমন জীবন যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্টি দান করে, অতএব তা(১). ৭ম খণ্ড, ১৬৫ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ; ১১শ খণ্ড, ৬৬ এবং ২৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(২). পঙ্ক্তির প্রথমাংশ:এমন এক বাদশাহ যার ন্যায়বিচারের কাছে সকল বিপদ মাথা নত করে (৩). ১১শ খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ২৩।(৫). সূরা আল-ইনসান, আয়াত ৬।