Al-Qari'ah
আল-কারিআহ: 6
মূল আরবি
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَٰزِينُهُۥ
English Translations
Then as for one whose scales are heavy [with good deeds],
Then as for him whose balance (of good deeds) will be heavy,
Then, as for him whose scales (of good deeds) are heavy,
Then he whose scales weigh heavier
Then, as for him whose scales are heavy (with good works),
Then, he whose balance (of good deeds) will be (found) heavy,
বাংলা অনুবাদ
অতঃপর যার (সৎ কর্মের) পাল্লা ভারি হবে।
অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে,
তখন যার পাল্লা ভারী হবে –
অতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে,
অতএব যার পাল্লা ভারী হবে,
৬. ফলে যার নেক আমল মন্দ আমলের উপর প্রাধান্য পাবে।
তাফসীর
101:1
অতঃপর যার পাল্লাসমূহ [১] ভারী হবে [২] ,
[১] এ সূরায় আমলের ওজন ও তার হালকা এবং ভারী হওয়ার প্রেক্ষিতে জাহান্নাম অথবা জান্নাত লাভের বিষয় আলোচিত হয়েছে। মূলে ‘মাওয়াযীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। শব্দটি বহুবচন। এর কারণ হয়ত মীযানগুলো কয়েকটি হবে; অথবা যে আমলগুলো ওজন করা হবে, সেগুলো বিভিন্ন প্রকারের হবে। [কুরতুবী] তাছাড়া বান্দার আমলের ওজন হওয়া যেমন সত্য তেমনি আমলকারীর ওজন হওয়াও সত্য। অনুরূপভাবে আমল নামারও ওজন করা হবে। [শরহুত তাহাবীয়া লিবনি আবিল ইয্য: ৪১৯] এক্ষেত্রে একথা স্মর্তব্য যে, কেয়ামতে মানুষের আমল ওজন করা হবে-গণনা হবে না । আমলের ওজন ইখলাস তথা আন্তরিকতা ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যের কারণে বেড়ে যায়।
যার আমল আন্তরিকতাপূর্ণ ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংখ্যায় কম হলেও তার আমলের ওজন বেশী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সংখ্যায় তো সালাত, সাওম, দান-সদকা, হজ-ওমরা অনেক করে, কিন্তু আন্তরিকতা ও সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্য কম, তার আমলের ওজন কম হবে। মানুষ আমলের যে পুঁজি নিয়ে আল্লাহ্র আদালতে আসবে তা ভারী না হালকা, অথবা মানুষের নেকী তার পাপের চেয়ে ওজনে বেশী না কম-এরি ভিত্তিতে সেখানে ফায়সালা অনুষ্ঠিত হবে। [দেখুন: মাজমূ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম ইব্ন তাইমিয়্যাহঃ ১০/৭৩৫-৭৩৬] এ বিষয়টি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখিত হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছেঃ “আর ওজন হবে সেদিন সত্য।
তারপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্ৰস্ত করেছে।” [সূরা আল-আরাফ: ৮-৯] আবার কোথাও বলা হয়েছে, “হে নবী! বলে দিন, আমি কি তোমাদের জানাবো নিজেদের আমলের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী ব্যর্থ কারা? তারাই ব্যর্থ যাদের দুনিয়ার জীবনে সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে গেছে। কিয়ামতের দিন আমি তাদের কোন ওজন দেবো না।” [সূরা আল-কাহাফ: ১০৪-১০৫] অন্যত্র বলা হয়েছে, “কিয়ামতের দিন আমি যথাযথ ওজন করার দাঁড়িপাল্লা রেখে দেবো। তারপর কারো ওপর অণু পরিমাণও যুলুম হবে না। যার সরিষার দানার পরিমাণও কোন কাজ থাকবে তাও আমি সামনে আনবো এবং হিসেব করার জন্য আমি যথেষ্ট।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ৪৭] এই আয়াতগুলো থেকে জানা যায়, কুফৱী করা বৃহত্তম অসৎকাজ।
গুনাহের পাল্লা তাতে অনিবাৰ্যভাবে ভারী হয়ে যায়। ফলে আর কাফেরের এমন কোন নেকী হবে না নেকীর পাল্লায় যার কোন ওজন ধরা পড়ে এবং তার ফলে পাল্লা ঝুঁকে পড়তে পারে; কারণ তার ঈমান নেই। [সা‘দী, সূরা কাহ্ফ: আয়াত-১০৫]
[২] বলা হয়েছে, যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে সে থাকবে সন্তোষজনক জীবনে। পাল্লাভারী হওয়ার অর্থ সৎকর্মের পাল্লা অসৎকর্ম থেকে ভারী হওয়া। [সা‘দী]
[সূরা আল-কারিআহ (১০১): আয়াত ৬ থেকে ১১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-কারিআহ (১০১): আয়াত ৬ থেকে ১১]অতএব যার (আমলের) পাল্লাসমূহ ভারী হবে (৬) সে সন্তোষজনক জীবন যাপন করবে (৭) আর যার (আমলের) পাল্লাসমূহ হালকা হবে (৮) তার আশ্রয়স্থল হবে ‘হাবিয়াহ’ (৯) আপনি কি জানেন সেটি কী? (১০)অতিশয় উত্তপ্ত আগুন (১১)মীযান (দাঁড়িপাল্লা) সম্পর্কে আলোচনা ইতিপূর্বে সূরা 'আল-আরাফ', 'আল-কাহাফ' এবং 'আল-আম্বিয়া'-এর ব্যাখ্যায় অতিক্রান্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই এর পাল্লা ও কাঁটা রয়েছে, যাতে পুণ্য ও পাপ লিখিত আমলনামাগুলো ওজন করা হবে। আরও বলা হয়েছে যে, এটি একটিই মীযান যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর হাতে থাকবে, যার দ্বারা তিনি আদম সন্তানদের আমল ওজন করবেন।
এখানে একে বহুবচন শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। আর কেউ কেউ বলেছেন (এটি একাধিক) পাল্লা, যেমনটি কবি বলেছেন:প্রত্যেক ঘটনার জন্যই তার নিজস্ব মানদণ্ড রয়েছে আমরা ইতিপূর্বে এটি উল্লেখ করেছি। আমরা এটি আমাদের 'আত-তাযকিরাহ' কিতাবেও আলোচনা করেছি। আরও বলা হয়েছে যে, 'মওয়াযিন' (পাল্লাসমূহ) অর্থ হলো প্রমাণ ও দলিলসমূহ; আব্দুল আজিজ ইবনে ইয়াহইয়া এটি বলেছেন এবং কবির এই পঙ্ক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:আপনাদের সাথে সাক্ষাতের পূর্বে আমি সুদৃঢ় ছিলাম … আমার নিকট প্রত্যেক বিবাদীর জন্যই তার যোগ্য উত্তর রয়েছেআর 'ইশাতিন রাদিয়াহ' (সন্তোষজনক জীবন)-এর অর্থ হলো এমন জীবন যা পছন্দনীয়, যাতে তার অধিকারী সন্তুষ্ট থাকবে।
আরও বলা হয়েছে যে, 'ইশাতিন রাদিয়াহ' অর্থ হলো সে নিজেই সন্তুষ্টি প্রদানকারী অর্থাৎ তা তার অধিবাসীদের জন্য নম্র ও অনুগত হবে। এখানে ক্রিয়াটি 'জীবন'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সন্তুষ্টি, কোমলতা ও আনুগত্য প্রকাশ করবে। 'ইশাহ' শব্দটি জান্নাতের যাবতীয় নেয়ামতকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি শব্দ; তা হবে সন্তুষ্টির উৎস। যেমন সুউচ্চ শয্যাসমূহ, যার উচ্চতা হবে একশত বছরের পথের সমান। যখনই আল্লাহর কোনো ওলী সেটির নিকটবর্তী হবেন, সেটি নিচু হয়ে যাবে যেন তিনি তার ওপর সমানভাবে উপবেশন করতে পারেন, অতঃপর সেটি পুনরায় পূর্বাবস্থায় উচ্চে আরোহণ করবে।
অনুরূপভাবে বৃক্ষের ডালপালার উচ্চতাও তেমনই; যখন আল্লাহর কোনো ওলী তার ফলের আকাঙ্ক্ষা করবেন, তখন তা তার দিকে ঝুঁকে আসবে, যাতে আল্লাহর ওলী বসে বা দাঁড়িয়ে তা গ্রহণ করতে পারেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "তার ফলসমূহ হবে নাগালের মধ্যে।" [আল-হাক্কাহ: ২৩]। এবং তিনি যেখানেই হাঁটবেন বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবেন, তার সাথে নদী প্রবাহিত হবে যেখানে তিনি চাইবেন—উঁচুতে বা নিচুতে। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "তারা তা নিজেদের মর্জিমাফিক প্রবাহিত করবে।" [আল-ইনসান: ৬]। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, (তিনি তার লাঠি দিয়ে ইশারা করবেন আর তা কোনো নালা ছাড়াই প্রবাহিত হবে যেখানে তিনি চাইবেন—তার প্রাসাদসমূহে এবং মজলিসগুলোতে)।
এই সব কিছুই এমন জীবন যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্টি দান করে, অতএব তা(১). ৭ম খণ্ড, ১৬৫ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ; ১১শ খণ্ড, ৬৬ এবং ২৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(২). পঙ্ক্তির প্রথমাংশ:এমন এক বাদশাহ যার ন্যায়বিচারের কাছে সকল বিপদ মাথা নত করে (৩). ১১শ খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ২৩।(৫). সূরা আল-ইনসান, আয়াত ৬।
