Luqman

লুকমান: 1

31:1
টেক্সট কপি
31 লুকমান Luqman · 34 আয়াত لقمان

মূল আরবি

الٓمٓ

English Translations

Sahih International

Alif, Lām, Meem.

Muhsin Khan

Alif-Lam-Mim. [These letters are one of the miracles of the Quran, and none but Allah (Alone) knows their meanings.]

Taqi Usmani

Alif Lām Mīm .

Abul Ala Maududi

Alif. Lam. Mim.

Pickthall

Alif. Lam. Mim.

Yusuf Ali

A. L. M.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আলিফ-লাম-মীম।

রাওয়াই আল-বায়ান

আলিফ- লাম -মীম।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আলিফ লাম মীম

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আলিফ-লাম-মীম;

ফাতহুল মাজীদ

আলিফ-লাম-মীম;

মুখতাসার

১. আলিফ লা-ম মীম। এসব ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতে অতিক্রান্ত হয়েছে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১-৫ নং আয়াতের তাফসীরসূরায়ে বাকারার তাফসীরের প্রারম্ভেই হুরূফে মুকাত্তাআ’তের অর্থ ও মতলব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।যারা শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী তাদের জন্যে এই কুরআন হিদায়াত, শিক্ষা ও রহমত স্বরূপ। যারা নামায কায়েম করার সময় নামাযের রু, সময় ইত্যাদির পূর্ণ হিফাযতের সাথে সাথে নফল, সুন্নাত ইত্যাদিও পূর্ণভাবে আদায় করে। যারা ফরয যাকাত আদায় করে, আত্মীয়দের প্রতি দয়া দাক্ষিণ্য করে ও তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে, দানশীলতার কাজ নিষ্ঠার সাথে চালিয়ে যায় এবং আখিরাতের পুরস্কার ও শাস্তির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে বলে আল্লাহর দিকে পরিপূর্ণভাবে আকৃষ্ট হয়ে থাকে।

যারা পুণ্যের কাজ করে যায় এবং মহান প্রতিপালকের পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি রাখে। যারা রিয়াকারী বা লোক দেখানো কাজ করে না এবং লোকদের প্রশংসাও চায় না। এ ধরনের গুণবিশিষ্ট লোকেরাই সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং এরাই তারা যারা দ্বীন ও দুনিয়ায় হবে সফলকাম ও কৃতকার্য।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আলিফ-লাম-মীম;

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা লোকমান (৩১): আয়াত ১ থেকে ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা লোকমানের তাফসীর]সূরা লোকমানের তাফসীর; এটি মক্কী সূরা, তবে দুটি আয়াত ব্যতীত। কাতাদাহ (রহ.) বলেন: তাদের প্রথমটি হলো "আর পৃথিবীতে যদি সমস্ত বৃক্ষ কলম হতো" [লোকমান: ২৭]—এই দুই আয়াতের শেষ পর্যন্ত। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তিনটি আয়াত মক্কী নয়, যেগুলোর প্রথমটি হলো "আর পৃথিবীতে যদি..." [লোকমান: ২৭]। এটি চৌত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট।পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে ‌‌[সূরা লোকমান (৩১): আয়াত ১ থেকে ৫]পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামেআলিফ-লাম-মীম (১) এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত (২) যা সৎকর্মশীলদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত (৩) যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকাল সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে (৪)তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তারাই সফলকাম (৫)মহান আল্লাহর বাণী: (আলিফ-লাম-মীম।

এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত) সূরার প্রারম্ভিক অক্ষরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এখানে "তিলকা" শব্দটি উহ্য মুবতাদার (উদ্দেশ্য) খবর হিসেবে রফ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, অর্থাৎ—এই হলো সেগুলো। আর "তিলকা"-এর পরিবর্তে "তীকা আয়াতুল কিতাবিল হাকিম"-ও বলা হয়ে থাকে। কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন। আর হাকিম হলো সুসংহত, অর্থাৎ যাতে কোনো ত্রুটি বা বৈপরিত্য নেই। আবার বলা হয়েছে—এর অর্থ প্রজ্ঞাময় বা হুকুম প্রদানকারী। "হুদাওঁ ওয়া রাহমাতান" শব্দটি হাল (অবস্থা) হিসেবে নসব হয়েছে, যেমন—"এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ"।

এটি মদীনার কারীগণ, আবু আমর, আসিম ও কিসাঈর কিরাত। আর হামযাহ "হুদাওঁ ওয়া রাহমাতুন" রফ (পেশ) দিয়ে পাঠ করেছেন, এর ব্যাখ্যা দুটি হতে পারে: এক—এটি উহ্য মুবতাদার খবর, কারণ এটি আয়াতের শুরু। দুই—এটি "তিলকা"-এর খবর হতে পারে। মুহসিন (সৎকর্মশীল) হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করে যেন সে তাঁকে দেখছে, আর যদি সে তাঁকে দেখতে নাও পায়, তবে আল্লাহ তো তাকে দেখছেন। আবার বলা হয়েছে—তারা হলো দ্বীনের ব্যাপারে একনিষ্ঠ ব্যক্তি, আর দ্বীন হলো ইসলাম। মহান আল্লাহ বলেন: "দ্বীনের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে যে আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করেছে"—আয়াত শেষ পর্যন্ত।

(যারা সালাত কায়েম করে)—বাক্যটি সিফাত বা বিশেষণ হিসেবে এসেছে; তবে একে উহ্য মুবতাদা "তারাই তারা যারা" ধরে রফ হিসেবে অথবা "আমি উদ্দেশ্য করছি" ক্রিয়া উহ্য ধরে নসব হিসেবেও পড়া বৈধ। এই আয়াত এবং এর পরবর্তী আয়াত সম্পর্কে সূরা আল-বাকারাহ ও অন্যান্য স্থানে আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে।(১). এই খণ্ডের ৭৬ নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন।(২). ৭ম খণ্ড, ২৩৮ নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন।(৩). ৫ম খণ্ড, ৩৯৯ নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). ১ম খণ্ড, ১৬২ এবং তৎপরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো এবং ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২২১ নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন।