Ash-Shams

আশ-শামস: 11

91:11
টেক্সট কপি
91 আশ-শামস Ash-Shams · 15 আয়াত الشمس
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15

মূল আরবি

كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَىٰهَآ

English Translations

Sahih International

Thamūd denied [their prophet] by reason of their transgression,

Muhsin Khan

Thamud (people) denied (their Prophet) through their transgression (by rejecting the true Faith of Islamic Monotheism, and by following polytheism, and by committing every kind of sin).

Taqi Usmani

(The People of) Thamūd denied the truth because of their transgression,

Abul Ala Maududi

In their presumptuous insolence the Thamud called the Truth a lie

Pickthall

(The tribe of) Thamud denied (the truth) in their rebellious pride,

Yusuf Ali

The Thamud (people) rejected (their prophet) through their inordinate wrong-doing,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সামূদ জাতি সীমালঙ্ঘন ক’রে (তাদের নবীকে মেনে নিতে) অস্বীকার করেছিল।

রাওয়াই আল-বায়ান

সামূদ জাতি আপন অবাধ্যতাবশত অস্বীকার করেছিল।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ছামূদ সম্প্রদায় অবাধ্যতা বশতঃ সত্যকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করল,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সামূদ সম্প্রদায় অবাধ্যতাবশত মিথ্যারোপ করেছিল।

ফাতহুল মাজীদ

সামূদ সম্প্রদায় অবাধ্যতাবশত মিথ্যারোপ করেছিল

মুখতাসার

১১. সামূদ সম্প্রদায় নিজেদের নবী সালিহ (আলাইহিস-সালাম) এর প্রতি মিথ্যারোপ করেছে এ জন্য যে, তারা অবাধ্যতা ও পাপাচারে সীমালঙ্ঘন করেছে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১-১৫ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা বলেনঃ সামূদ গোত্রের লোকেরা হঠকারিতা করে এবং অহংকারের বশবর্তী হয়ে তাদের রাসূল (আঃ) কে অবিশ্বাস ও অস্বীকার করেছে। মুহাম্মদ ইবনে কাব (রঃ) বলেন, (আরবি) এর ভাবার্থ হলোঃ তারা সবাই মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই অধিক উত্তম। হযরত মুজাহিদ (রঃ) এবং হযরত কাতাদা ও (রঃ) এ কথাই বলেছেন। এ হঠকারিতা এবং মিথ্যাচারের কারণে তারা এমন দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছিল যে, তাদের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে প্রস্তুত হয়ে যায়। তার নাম ছিল কিদার ইবনে সালিফ। সে হযরত সালিহ্র (আঃ) উন্ত্রীকে কেটে ফেলে।

এ সম্পর্কে কুরআন কারীমে বলা হয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “তারা তাদের সঙ্গীকে আহ্বান করলো, তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সে এসে গেল এবং উস্ত্রীকে মেরে ফেললো।” (৫৪:২৯) এ লোকটিও তার কওমের মধ্যে সম্মানিত ছিল। সে ছিল সদ্বংশজাত, সম্ভ্রান্ত এবং কওমের নেতা।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যামআহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একবার তাঁর ভাষণে ঐ উস্ত্রীর এবং ওর হত্যাকারীর বিষয়ে আলোচনা করেন এবং এ আয়াত তিলাওয়াত করেন। তারপর বলেনঃ “ঠিক যেন আবু যামআ’হ। এ লোকটিও কিদারের মতই নিজের কওমের নিকট প্রিয়, সম্মানিত এবং সম্ভ্রান্ত ছিল।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় তাফসীরে, ইমাম মুসলিম (রঃ) সিফাতুন্নারের মধ্যে এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) ও ইমাম নাসাঈ (রঃ) তাফসীরের মধ্যে বর্ণনা করেছেন)মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আলীকে (সঃ) বলেনঃ “আমি তোমাকে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে পাপী ও নিকৃষ্ট দু’টি লোকের কথা বলছি।

এক ব্যক্তি হলো সামূদ জাতির সেই নরাধম যে হযরত সালিহ্র (আঃ) উষ্ট্রীকে হত্যা করেছে, আর দ্বিতীয় হলো ঐ ব্যক্তি যে তোমার কপালে যখম করবে। তাতে তোমার শ্মশু রক্ত রঞ্জিত হয়ে যাবে।” আল্লাহর রাসূল হযরত সালিহ (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর উস্ত্রীর কোন ক্ষতি করা হতে বিরত থাকো। তার পানি পান করার নির্ধারিত দিনে জুলুম করে তার পানি বন্ধ করো না। তোমাদের এবং তার পানি পানের দিন তারিখ এবং সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু ঐ দুবৃত্তরা নবীর (আঃ) কথা মোটেই গ্রাহ্য করলো না। এই পাপের কারণে তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেল। তারপর তারা তাদের প্রকাশ্য মুকাবিলার জন্যে প্রস্তুত হয়ে গেল এবং ঐ উস্ত্রীকে হত্যা করলো, যাকে আল্লাহ পিতা মাতা ছাড়াই পাথরের একটা টুকরোর মধ্য হতে সৃষ্টি করেছিলেন।

ঐ উষ্ট্ৰীটি ছিল হযরত সালিহ্র (আঃ) একটি মু'জিযা। এবং আল্লাহর কুদরতের পূর্ণ নিদর্শন। ফলে আল্লাহ তা'আলাও তাদের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন এবং পাইকারী হারে আযাব দিয়ে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেন। নবী (আঃ)-এর উষ্ট্রী হত্যাকারী ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের ছোট বড় নারী পুরুষ সবাই এ ব্যাপারে সমর্থন করেছিল এবং সবারই পরামর্শক্রমেই সেই নরাধম উষ্ট্রীকে হত্যা করেছিল। এ কারণে আল্লাহর আযাবে সবাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।(আরবি) শব্দটি (আরবি) রূপেও পঠিত হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কাউকে শাস্তি দিয়ে তার পরিণাম কি হবে তা চিন্তা করেন না। তারা বিগড়ে বসে কিনা সেটারও আল্লাহ তাবারাকাওয়া তাআলা কোন পরোয়া করেন না।

এখানে এও অর্থ হতে পারে যে ঐ দুবৃত্ত উস্ত্রীকে মেরে ফেলেছে, কিন্তু এর পরিণামকে ভয় করেনি। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই উত্তম। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সামূদ সম্প্রদায় অবাধ্যতাবশত [১] মিথ্যারোপ করেছিল।

[১] অর্থাৎ তারা সালেহ্ আলাইহিস্সালামের নবুওয়াতকে মিথ্যা গণ্য করলো। তাদেরকে হেদায়াত করার জন্যে সালেহকে পাঠানো হয়েছিল। যে দুস্কৃতিতে তারা লিপ্ত হয়েছিল তা ত্যাগ করতে তারা প্ৰস্তুত ছিল না এবং সালেহ আলাইহিস্ সালাম যে তাকওয়ার দিকে তাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন তা গ্ৰহণ করতেও তারা চাইছিল না। নিজেদের এই বিদ্রোহী মনোভাব ও কার্যক্রমের কারণে তাই তারা তার নবুওয়াতকে মিথ্যা বলছিল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন সূরা আল-আ‘রাফ ৭৩– ৭৬, হুদা ৬১-৬২. আশ শু‘আরা: ১৪১-১৫৩. আন-নামল ৪৫-৪৯, আল-ক্বামার ২৩-২৫।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শামস (৯১): আয়াত ১১ হতে ১৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

কোনো কিছুতে। আবার বলা হয়েছে: এটি কোনো কিছু বিলোপ করা ছাড়াই পদান্বয়গত পরিবর্তনের ভিত্তিতে হয়েছে; আর এর অর্থ হলো: সে-ই সফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পবিত্র করেছে, আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজেকে কলুষিত করেছে, শপথ সূর্যের ও তার উজ্জ্বল কিরণের। 'সফলকাম হয়েছে' মানে সে জয়ী হয়েছে। 'যে নিজেকে পবিত্র করেছে' অর্থাৎ আল্লাহ যার আত্মাকে আনুগত্যের মাধ্যমে পবিত্র করেছেন। (আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজেকে কলুষিত করেছে) অর্থাৎ সেই আত্মা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাকে মহান আল্লাহ পাপের মাধ্যমে কলুষিত করেছেন। ইবনে আব্বাস বলেন: সেই আত্মা ব্যর্থ হয়েছে যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করেছেন।

আবার বলা হয়েছে: সে সফল হয়েছে যে আল্লাহর আনুগত্য ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে, আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে পাপের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছে; কাতাদাহ ও অন্যরা এ মত পোষণ করেছেন। 'যাকাত'-এর মূল অর্থ হলো বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি। এ থেকেই বলা হয় 'শস্য বৃদ্ধি পেয়েছে': যখন এর ফলন অনেক বেশি হয়। বিচারক কর্তৃক সাক্ষীর সততা প্রত্যায়নকেও (তাযকিয়াহ) এ থেকেই নেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি সংশোধনের মাধ্যমে এবং তার উত্তম গুণাবলি উল্লেখ করে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। সূরা বাকারার শুরুতে এই অর্থ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং নেক কাজের প্রবর্তক এবং সৎকর্মে অগ্রণী ব্যক্তি নিজের আত্মাকে পরিচিত ও সমুন্নত করে।

আরবের দানশীল ব্যক্তিরা উঁচু ভূমি ও পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করত, যাতে অভাবী ও সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে তাদের আবাসস্থল সুপরিচিত হয়, আর তারা রাতে মুসাফিরদের জন্য আগুন জ্বালিয়ে রাখত। বিপরীতে কৃপণরা নির্জন গুহা, প্রান্তসীমা এবং উপত্যকার নিম্নদেশে অবস্থান করত, যাতে অন্বেষণকারীদের কাছ থেকে তাদের স্থান গোপন থাকে। সুতরাং প্রথমোক্তরা নিজেদের মর্যাদাকে উচ্চকিত ও পরিশুদ্ধ করেছে, আর শেষোক্তরা নিজেদের লুকিয়ে রেখেছে ও হীন করেছে। একইভাবে পাপাচারী সর্বদা আত্মগোপনকারী, পৌরুষহীন, অস্পষ্ট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে অধোমুখী মস্তক।

আবার বলা হয়েছে: 'ডাসসাহা' মানে তাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কবি বলেছেন:আর তুমিই সেই ব্যক্তি যে আমরকে বিভ্রান্ত করেছ, যার ফলে তার স্ত্রীরা … তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিস্ব ও অসহায় বিধবায় পরিণত হয়েছে।ভাষাবিদগণ বলেন: এর মূল রূপ হলো 'ডাসসাসাহা', যা 'তাদসীস' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো কোনো কিছুর ভেতরে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা। এখানে একটি 'সীন' বর্ণকে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমন বলা হয়: 'আমি আমার নখ কেটেছি', যার মূল হলো 'কাসসাসতু'। তদ্রূপ 'তাকাদদাদা' থেকে 'তাকাদদা' শব্দটিও একই নিয়মে গঠিত। ইবনুল আরাবী বলেন: 'আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজেকে কলুষিত করেছে' এর অর্থ হলো সে নিজেকে নেককারদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে অথচ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

‌‌[সূরা আশ-শামস (৯১): আয়াত ১১ হতে ১৪]সামুদ জাতি তাদের সীমালঙ্ঘনবশত অস্বীকার করেছিল (১১) যখন তাদের মধ্যে পরম হতভাগ্য ব্যক্তিটি তৎপর হয়ে উঠল (১২) আল্লাহর রাসূল তাদের বললেন: আল্লাহর উটনী এবং তার পানি পানের পালা সম্পর্কে সতর্ক থাকো (১৩) কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করল এবং উটনীটির পা কেটে ফেলল; ফলে তাদের প্রতিপালক তাদের পাপের কারণে তাদের উপর ধ্বংসলীলা নাজিল করে তাদের একাকার করে দিলেন (১৪)(১). দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৩, দ্বিতীয় বা তৃতীয় মুদ্রণ।(২). আল-মু’তাফি: অনুগ্রহ বা জীবিকা অন্বেষণকারী।(৩). আল-আওলাজ: পাহাড়ি গর্ত বা গুহা যাতে আশ্রয় নেওয়া হয়।

আর আল-অহদাম: উপত্যকার নিম্নভাগ।(৪). আয-যামর: অল্প বা সামান্য। [ ..... ](৫). যা লিসানুল আরবে (দাসা অধ্যায়) বর্ণিত হয়েছে:আর তুমিই সেই ব্যক্তি যে আমরকে বিভ্রান্ত করেছ, যার ফলে তাদের মহিলারা তাদের মধ্যে নিস্ব ও অসহায় বিধবা হয়ে গেল।তিনি বলেন: 'দাসসাইতা' মানে হলো তুমি বিভ্রান্ত করেছ এবং কলুষিত করেছ। আর 'আমর' হলো একটি গোত্রের নাম।