Fatir

ফাতির: 1

35:1
35 ফাতির Fatir · 45 আয়াত فاطر

আরবি

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ جَاعِلِ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ رُسُلًا أُو۟لِىٓ أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَـٰثَ وَرُبَـٰعَ ۚ يَزِيدُ فِى ٱلْخَلْقِ مَا يَشَآءُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

English Translations

Sahih International

[All] praise is [due] to Allāh, Creator of the heavens and the earth, [who] made the angels messengers having wings, two or three or four. He increases in creation what He wills. Indeed, Allāh is over all things competent.

Muhsin Khan

All the praises and thanks be to Allah, the (only) Originator [or the (only) Creator] of the heavens and the earth, Who made the angels messengers with wings, - two or three or four. He increases in creation what He wills. Verily, Allah is Able to do all things.

Taqi Usmani

All praise belongs to Allah, the Originator of the heavens and the earth, who appoints the angels as messengers having wings, in twos, threes and fours. He adds to the creation what He wills. Indeed, Allah is powerful to do every thing.

Abul Ala Maududi

All praise be to Allah, the Fashioner of the heavens and earth, Who appointed angels as His message bearers, having two, three, four wings. He adds to His creation whatever He pleases. Verily Allah has power over everything.

Pickthall

Praise be to Allah, the Creator of the heavens and the earth, Who appointeth the angels messengers having wings two, three and four. He multiplieth in creation what He will. Lo! Allah is Able to do all things.

Yusuf Ali

Praise be to Allah, Who created (out of nothing) the heavens and the earth, Who made the angels, messengers with wings,- two, or three, or four (pairs): He adds to Creation as He pleases: for Allah has power over all things.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যাবতীয় প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জন্য। তিনি দূত মনোনীত করেন ফেরেশতামন্ডলীকে, যারা দুই দুই বা তিন তিন বা চার চার ডানা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।

রাওয়াই আল-বায়ান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, ফেরেশতাদেরকে বাণীবাহকরূপে নিযুক্তকারী, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টির মধ্যে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

শাইখ মুজিবুর রহমান

প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই যিনি বাণীবাহক করেন মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই--- যিনি রাসূল করেন ফিরিশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

ফাতহুল মাজীদ

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশ ও পৃথিবী তৈরী করেছেন এবং যিনি ফেরেশতাদেরকে করেছেন সংবাদ বাহক, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার ডানাবিশিষ্ট। তিনি সৃজনের মধ্যে যা ইচ্ছা বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মুখতাসার

১.ওই আল্লাহর প্রশংসা যিনি কোনরূপ নমুনা ব্যতিরেকে আসমান-যমীন সৃষ্টিকারী। যিনি ফিরিশতাদের মধ্যে এমন কিছু বার্তাবাহক নির্ধারণ করেছেন যাঁরা তাঁর অমোঘ বিধানগুলো বাস্তবায়ন করেন। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ নবীদের নিকট ওহী পৌঁছিয়ে থাকেন। তিনি তাদেরকে অর্পিত দায়িত্ব পালনের উপর ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তাঁদের কেউ দু’ ডানা আবার কেউ তিন ডানা এবং কেউ চার ডানা বিশিষ্ট। এর দ্বারা তাঁকে নির্দেশিত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে তিনি উড়ে বেড়ান। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সৃষ্টির মধ্যে অঙ্গ, সৌন্দর্য ও স্বরে প্রবৃদ্ধি করেন। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। তাঁকে কোন জিনিস ব্যাহত করতে পারে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমি (আরবী) শব্দের সঠিক অর্থ সর্বপ্রথম একজন আরব বেদুঈনের মুখে জানতে পেরেছি। ঐ লোকটি তার এক সঙ্গী বেদুঈনের সাথে ঝগড়া করতে করতে আসলো। একটি কূপের ব্যাপারে তাদের বিরোধ ছিল। ঐ বেদুঈনটি বললোঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমিই প্রথমে ওটা বানিয়েছি।” অতএব অর্থ হলোঃ আল্লাহ তা'আলা নমুনা বিহীন অবস্থায় তাঁর পূর্ণ কুদরত ও ক্ষমতা বলে যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন। যহহাক (রঃ) বলেন যে, (আরবী) শব্দের অর্থ হলো (আরবী) বা সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ তা'আলা নিজের ও তার নবীদের মাঝে ফেরেশতাদেরকে দূত করেছেন। ফেরেশতাদের ডানা রয়েছে, যার দ্বারা তারা উড়তে পারেন। যাতে তাঁরা তাড়াতাড়ি আল্লাহর বাণী তার রাসূলদের নিকট পৌঁছিয়ে দিতে সক্ষম হন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দুই ডানা বিশিষ্ট, কারো কারো তিন তিনটি ডানা আছে এবং কারো আছে চার চারটি ডানা। কারো কারো ডানা এর চেয়েও বেশী আছে। যেমন হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মিরাজের রাত্রে হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শ'টি ডানা ছিল। প্রত্যেক দুই ডানার মাঝে পূর্ব দিক ও পশ্চিম দিকের সমপরিমাণ ব্যবধান ছিল। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন।এর দ্বারা ভাল আওয়ামও অর্থ নেয়া হয়েছে। যেমন অতি বিরল কিরআতে (আরবী) রয়েছে। অর্থাৎ (আরবী)-এর সাথেও আছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচয়ে ভাল জানেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই [১]--- যিনি রাসূল করেন ফিরিশতাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট [২]। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

[১] আল্লাহ্ তা'আলা এখানে তাঁর নিজের প্রশংসা করছেন। কারণ তিনি আসমান, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এ সৃষ্টিই প্রমাণ করছে যে, তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর যিনি এত ক্ষমতার অধিকারী তাঁর প্রশংসা করাই যথাযথ। [সা’দী] এ আয়াত ছাড়াও কুরআনের অন্যান্য আয়াতে এ ধরণের প্রশংসা আল্লাহ নিজেই করেছেন। যেমন, সূরা আল-ফাতিহার প্রথমে, সূরা আল-আন’আমের শুরুতে, সূরা আস-সাফফাতের শেষে। [আদওয়াউল বায়ান]

[২] অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাগণকে পালকবিশিষ্ট ডানা দান করেছেন যা দ্বারা তারা উড়তে পারে। এ ফেরেশতাদের হাত ও ডানার অবস্থা ও ধরণ জানার কোন মাধ্যম আমাদের কাছে নেই। কিন্তু এ অবস্থা ও ধরন বর্ণনা করার জন্য আল্লাহ যখন এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যা মানুষের ভাষায় পাখিদের হাত ও ডানার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে তখন অবশ্যই আমাদের ভাষায় এ শব্দকেই আসল অবস্থা ও ধরণ বর্ণনার নিকটতর বলে ধারণা করা যেতে পারে। এর কারণ সুস্পষ্ট যে, তারা আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত দুরত্ব বার বার অতিক্রম করে। এটা দ্রুতগতি সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভবপর। উড়ার মাধ্যমে দ্রুতগতি হয়ে থাকে। ফেরেশতাগণের পাখার সংখ্যা বিভিন্ন। কারও দুই দুই, কারও তিন তিন এবং কারও চার চার খানা পাখা রয়েছে। এ থেকে বুঝা যায় যে, বিভিন্ন ফেরেশতাকে আল্লাহ বিভিন্ন পর্যায়ের শক্তি দান করেছেন এবং যাকে দিয়ে যেমন কাজ করতে চান তাকে ঠিক তেমনিই দ্রুতগতি ও কর্মশক্তিও দান করেছেন। এখানেই শেষ নয়, এক হাদীসে এসেছে, জিবরাঈল আলাইহিস সালামের ছয়শ' পাখা রয়েছে [বুখারী: ৩২৩২, মুসলিম: ১৭৪]। দৃষ্টান্ত স্বরূপ চার পর্যন্ত উল্লেখিত হয়েছে।