Fatir
ফাতির: 4
আরবি
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ
English Translations
And if they deny you, [O Muḥammad] - already were messengers denied before you. And to Allāh are returned [all] matters.
And if they belie you (O Muhammad SAW), so were Messengers belied before you. And to Allah return all matters (for decision).
(O Prophet,) if they reject you, (it is not something new, because) many messengers have been rejected before you. It is to Allah that all matters are to be referred.
(O Prophet), (there is nothing novel in it) if they cry lies to you;Messengers before you were also cried lies to. To Allah shall all matters be sent back.
And if they deny thee, (O Muhammad), messengers (of Allah) were denied before thee. Unto Allah all things are brought back.
And if they reject thee, so were messengers rejected before thee: to Allah back for decision all affairs.
বাংলা অনুবাদ
তারা যদি তোমাকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করে, তাহলে (তাদের এ আচরণ তো কোন নতুন বিষয় নয়) তোমার পূর্বেও রসূলদেরকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করা হয়েছে। (যে যা-ই কিছু করুক না কেন) সমস্ত কার্যকলাপ (হিসাব নিকাশের জন্য) আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে।
আর যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বের রাসূলগণকেও মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। আর সকল বিষয় আল্লাহর-ই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তাহলে তোমার পূর্বেও রাসূলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল। আল্লাহর নিকটই সব কিছু প্রমাণিত হবে।
আর যদি এরা আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে আপনার আগেও রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল। আর আল্লাহর দিকেই সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে।
আর তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করে তবে তোমার পূর্বেও রাসূলদেরকে অস্বীকার করা হয়েছিল। সকল বিষয়ই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে।
৪. হে রাসূল! আপনাকে যদি আপনার সম্প্রদায় অস্বীকার করে তবে আপনি প্রথম রসূল নন। যাঁকে অবিশ্বাস করা হয়েছে। বরং আপনার পূর্বে বহু জাতি তাদের রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছে। যথা আদ, সামূদ ও লুত্ব সম্প্রদায়। বস্তুতঃ আল্লাহর প্রতিই এককভাবে সকল বিষয়াদি প্রত্যাবর্তিত হবে। ফলে তিনি অবিশ্বাসীদেরকে ধ্বংস করবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে সাহায্য করবেন।
তাফসীর
৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যদি তোমার যুগের কাফিররা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে, তোমার প্রচারিত তাওহীদকে এবং স্বয়ং তোমার রিসালাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে এতে তুমি মমাটেই নিরুৎসাহিত হবে না। তোমার পূর্ববর্তী নবীদের সাথেও এরূপ আচরণ করা হয়েছিল। জেনে রাখবে যে, সবকিছুই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। আর আল্লাহ তাদের সমস্ত কাজের প্রতিফল প্রদান করবেন। সকর্মশীলদেরকে তিনি পুরস্কার দিবেন এবং পাপীদেরকে দিবেন শাস্তি। মহান আল্লাহ বলেনঃ হে লোক সকল! কিয়ামত একটি ভীষণ ঘটনা। এটা অবশ্যই সংঘটিত হবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই। আল্লাহ এর ওয়াদা করেছেন। এবং তার ওয়াদা চরম সত্য। তথাকার চিরস্থায়ী নিয়ামতের পরিবর্তে এখানকার ক্ষণস্থায়ী ও ধ্বংসশীল আরাম-আয়েশ ও সুখ-সম্ভোগে জড়িয়ে পড়ো না। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-শান্তি যেন তোমাদেরকে পরকালের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি হতে বঞ্চিত না করে! শয়তানের চক্রান্ত হতে খুব সতর্ক থাকবে। তার প্রতারণার ফাদে কখনো পড়ো না। তার মিথ্যা, চটকদার ও চমকপ্রদ কথায় কখনো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সত্য কালামকে পরিত্যাগ করো না। সূরায়ে লোকমানের শেষেও অনুরূপ আয়াত রয়েছে। এখানে প্রবঞ্চক ও প্রতারক বলা হয়েছে শয়তানকে। কিয়ামতের দিন যখন মুসলমান ও মুনাফিকদের মাঝে দেয়াল খাড়া করে দেয়া হবে, যাতে দরযা থাকবে, যার ভিতরের অংশে থাকবে রহমত এবং বাইরের অংশে থাকবে আযাব, ঐ সময় মুনাফিকরা মুমিনদেরকে বলবেঃ “আমরা কি তোমাদের সঙ্গী ছিলাম না?” উত্তরে মুমিনরা বলবেঃ “হ্যা, তোমরা আমাদেরই সঙ্গী ছিলে বটে, কিন্তু তোমরা তো নিজেদেরকে ফিত্রায় ফেলে দিয়েছিলে। তোমরা শুধু চিন্তাই করতে এবং শক-সন্দেহ দূর করতে না। তোমরা তোমাদের কু-প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করার কাজে ডুবে থাকতে। এমতাবস্থায় আল্লাহর হুকুম এসে পড়ে। শয়তান তোমাদেরকে ভুলের মধ্যেই রেখে দিয়েছিল। এ আয়াতেও শয়তানকে প্রবঞ্চক ও প্রতারক বলা হয়েছে।এরপর মহান আল্লাহ শয়তানের শত্রুতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করবে। সে তো তার দলবলকে আহ্বান করে শুধু এই জন্যে যে, তারা যেন জাহান্নামী হয়। তাহলে কেন তোমরা তার কথা মানবে এবং তার প্রতারণায় প্রতারিত হবে? আমরা মহা শক্তিশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদেরকে শয়তানের শক্ত করে রাখেন এবং আমাদেরকে তার প্রতারণা হতে রক্ষা করেন। আর আমাদেরকে যেন তিনি তার কিতাব ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করার তাওফীক দান করেন! নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে তিনি সক্ষম এবং তিনি প্রার্থনা কবুলকারী। এই আয়াতে যেমন শয়তানের শত্রুতার বর্ণনা দেয়া হয়েছে, অনুরূপভাবে সূরায়ে কাহফের ... (আরবী) (১৮:৫০) এই আয়াতেও তার শত্রুতার বর্ণনা রয়েছে।
আর যদি এরা আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে আপনার আগেও রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিল [১]। আর আল্লাহর দিকেই সকল বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে।
[১] কাতাদাহ বলেন, এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা প্ৰদান করা হচ্ছে, যেমনটি তোমরা শুনতে পাচ্ছ। [তাবারী]
