Al-Fath

আল-ফাতহ: 16

48:16
48 আল-ফাতহ Al-Fath · 29 আয়াত الفتح

আরবি

قُل لِّلْمُخَلَّفِينَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَىٰ قَوْمٍ أُو۟لِى بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَـٰتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ ۖ فَإِن تُطِيعُوا۟ يُؤْتِكُمُ ٱللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا ۖ وَإِن تَتَوَلَّوْا۟ كَمَا تَوَلَّيْتُم مِّن قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا

English Translations

Sahih International

Say to those who remained behind of the bedouins, "You will be called to [face] a people of great military might; you may fight them, or they will submit. So if you obey, Allāh will give you a good reward; but if you turn away as you turned away before, He will punish you with a painful punishment."

Muhsin Khan

Say (O Muhammad SAW) to the bedouins who lagged behind: "You shall be called to fight against a people given to great warfare, then you shall fight them, or they shall surrender. Then if you obey, Allah will give you a fair reward, but if you turn away as you did turn away before, He will punish you with a painful torment."

Taqi Usmani

Say to those of the Bedouins who remained behind, “You will be called against a people possessed of strong fighting power; you will have to fight them until they submit. So if you obey, Allah will give you a good reward, and if you turn away, as you had turned away earlier, He will punish you with a painful punishment.

Abul Ala Maududi

Say to the bedouins who were left behind: “You will be called against those who possess great might and be asked to fight against them unless they surrender. If you obey (the command to fight), Allah will bestow upon you a goodly reward. But if you turn away, as you turned away before, He shall inflict upon you a grievous chastisement.”

Pickthall

Say unto those of the wandering Arabs who were left behind: Ye will be called against a folk of mighty prowess, to fight them until they surrender; and if ye obey, Allah will give you a fair reward; but if ye turn away as ye did turn away before, He will punish you with a painful doom.

Yusuf Ali

Say to the desert Arabs who lagged behind: "Ye shall be summoned (to fight) against a people given to vehement war: then shall ye fight, or they shall submit. Then if ye show obedience, Allah will grant you a goodly reward, but if ye turn back as ye did before, He will punish you with a grievous Penalty."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

বেদুঈনদের যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বল- ‘তোমাদেরকে যুদ্ধ করতে ডাকা হবে খুবই শক্তিশালী এক জাতির বিরুদ্ধে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। তোমরা যদি তখন তা মান্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পিঠ ফিরিয়ে নাও যেমন তোমরা আগে পিঠ ফিরিয়ে নিয়েছিলে, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি দিবেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

পেছনে পড়ে থাকা বেদুঈনদেরকে বল, ‘এক কঠোর যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে শীঘ্রই তোমাদেরকে ডাকা হবে; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। অতঃপর তোমরা যদি আনুগত্য কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর পূর্বে তোমরা যেমন ফিরে গিয়েছিলে তেমনি যদি ফিরে যাও তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যে সব আরাব মরুবাসী গৃহে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বলঃ তোমরা আহুত হবে এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে; তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে। তোমরা এই নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করবেন। আর তোমরা যদি পূর্বানুরূপ পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে মর্মন্তদ শাস্তি দিবেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

যেসব মরুবাসী পিছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বলুন, ‘অবশ্যই তোমরা আহূত হবে এক কঠোর যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে; তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমৰ্পণ করে। অতঃপর তোমরা এ নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ্‌ তোমাদের উত্তম পুরস্কার দান করবেন। আর তোমরা যদি আগের মত পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।

ফাতহুল মাজীদ

(হে রাসূল!) পেছনে থেকে যাওয়া বেদুঈন আরবদেরকে বল : শীঘ্রই তোমাদেরকে এমন সব লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ডাকা হবে, যারা খুবই শক্তিশালী। তোমাদেরকে তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। তখন যদি তোমরা মান্য কর তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালো প্রতিদান দেবেন। আর যদি তোমরা আগের মতোই পেছনে ফিরে যাও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন।

মুখতাসার

১৬. হে রাসূল! আপনি আপনার সাথে মক্কায় যাওয়া থেকে পিছিয়ে পড়া বেদুঈনদেরকে পরীক্ষামূলকভাবে বলুন, অচিরেই তোমাদেরকে যুদ্ধে শক্তিধর ও পারঙ্গম এক জাতির সাথে মুকাবেলার উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানো হবে। যাদের সাথে তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধে লড়বে অথবা তারা কোনরূপ যুদ্ধ ব্যতিরেকেই ইসলামে প্রবেশ করবে। যদি তোমরা তাঁর আহ্বানে তথা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আল্লাহর আনুগত্য বরণ করো তাহলে তিনি তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার তথা জান্নাত প্রদান করবেন। পক্ষান্তরে যদি তোমরা মক্কায় যাওয়ার মতো তাঁর আনুগত্য থেকে বিমুখতা অবলম্বন করো তাহলে তিনি তোমাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৬-১৭ নং আয়াতের তাফসীর: যেসব মরুবাসী বেদুঈন জিহাদ হতে সরে রয়েছিল তাদেরকে যে এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সহিত যুদ্ধ করার জন্যে আহ্বান করা হয়েছিল তারা কোন্ জাতি ছিল এ ব্যাপারে তাফসীরকারদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। তারা বিভিন্ন জন বিভিন্ন উক্তি করেছেন। উক্তিগুলো হলোঃ (এক) তারা ছিল হাওয়াযেন গোত্র। (দুই) তারা সাকীফ গোত্র ছিল। (তিন) তারা ছিল বানু হানীফ গোত্র। (চার) তারা ছিল পারস্যবাসী। (পাঁচ) তারা রোমক ছিল। (ছয়) তারা ছিল মূর্তিপূজক জাতি। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা কোন নির্দিষ্ট গোত্র বা দলকে বুঝানো হয়নি, বরং সাধারণভাবে রণ-নিপুণ জাতিকে বুঝানো হয়েছে। যারা তখন পর্যন্ত মুকাবিলায় আসেনি। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, এর দ্বারা কুর্দিস্তানের লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তারা ছিল কুর্দি জাতি।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা যুদ্ধ করবে এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যাদের চক্ষু হবে ছোট ছোট এবং নাক হবে বসা বসা। তাদের চেহারা হবে ঢালের মতো।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত সুফিয়ান (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা তুর্কীদেরকে বুঝানো হয়েছে। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদেরকে এমন এক কওমের সঙ্গে জিহাদ করতে হবে যে, তাদের জুতাগুলো হবে চুল বিশিষ্ট।” হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, তারা হবে কুর্দী সম্প্রদায়।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা তাদের সহিত যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে। অর্থাৎ তোমাদের উপর জিহাদের বিধান দেয়া হলো এবং এই হুকুম অব্যাহত থাকবে।মহান আল্লাহর উক্তি ও যদি তোমরা এই নির্দেশ পালন কর তবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করবেন।” অর্থাৎ আল্লাহ্ তোমাদেরকে তাদের উপর সাহায্য করবেন অথবা তারা যুদ্ধ না করেই ইসলাম কবুল করে নিবে। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ বলেনঃ “আর যদি তোমরা পূর্বানুরূপ পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।' অর্থাৎ হুদায়বিয়ার ব্যাপারে যেমন তোমরা ভীরুতা প্রদর্শন করে গৃহে রয়ে গিয়েছিলে, নবী (সঃ) ও সাহাবী (রাঃ)-এর সাথে অংশগ্রহণ করনি, তেমনই যদি এখনো কর তবে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে কঠিন বেদনাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।এরপর জিহাদকে ছেড়ে দেয়ার সঠিক ওযরের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে এবং রুগের জন্যে কোন অপরাধ নেই।' এখানে আল্লাহ্ তা'আলা দুই প্রকারের ওযরের বর্ণনা দিয়েছেন। (এক) সদা বিদ্যমান ওযর এবং তা হলো অন্ধত্ব ও খোড়ামী। (দুই) অস্থায়ী ওযর এবং তা হলো রুগ্নতা। এটা কিছু দিন থাকে এবং পরে দূর হয়ে যায়। সুতরাং রুগ্ন ব্যক্তিদের ওযরও গ্রহণযোগ্য হবে যতদিন তারা রুগ্ন থাকে। সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তাদের ওযর আর গৃহীত হবে না। এবার আল্লাহ পাক জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করতে গিয়ে বলেন- যে কেউ (যুদ্ধের নির্দেশ প্রতিপালনের ব্যাপারে) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে প্রবিষ্ট করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, তিনি তাকে মর্মন্তুদ শাস্তি প্রদান করবেন। দুনিয়াতেও সে লাঞ্ছিত হবে এবং আখিরাতেও তার দুঃখের কোন সীমা থাকবে না। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

যেসব মরুবাসী পিছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বলুন, ‘অবশ্যই তোমারা আহূত হবে এক কঠোর যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ; তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আতাসমৰ্পণ করে। অতঃপর তোমরা এ নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ্‌ তোমাদের উত্তম পুরস্কার দান করবেন। আর তোমরা যদি আগের মত পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।