Al-Fath
আল-ফাতহ: 1
মূল আরবি
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا
English Translations
Indeed, We have given you, [O Muḥammad], a clear conquest
Verily, We have given you (O Muhammad SAW) a manifest victory.
Surely, We have granted you an open victory,
(O Prophet), surely We have granted you a clear victory
Lo! We have given thee (O Muhammad) a signal victory,
Verily We have granted thee a manifest Victory:
বাংলা অনুবাদ
আমি তোমাকে দিয়েছি স্পষ্ট বিজয়।
নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি;
নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।
নিশ্চয় আমরা আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়,
(হে রাসূল!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি,
১. হে রাসূল! আমি আপনাকে হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি।
তাফসীর
হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) সফরে পথ চলা অবস্থায় স্বীয় উষ্ট্রীর উপরই সূরায়ে ফাহ্ তিলাওয়াত করেন এবং বার বার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পড়তে থাকেন। বর্ণনাকারী হযরত মুআবিয়া ইবনে কুররা (রাঃ) বলেনঃ “লোকদের একত্রিত হয়ে যাওয়ার আশংকা করলে আমি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর তিলাওয়াতের মত তিলাওয়াত করেই তোমাদেরকে শুনিয়ে দিতাম।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম মুসলিম (রঃ) এবং ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) ১-৩ নং আয়াতের তাফসীর: ষষ্ঠ হিজরীর যুলকা'দাহ্ মাসে রাসূলুল্লাহ (সঃ) উমরা আদায় করার উদ্দেশ্যে মদীনা হতে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন।
কিন্তু মক্কার মুশরিকরা তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং মসজিদুল হারামের যিয়ারতের ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হয়ে যায়। অতঃপর তারা সন্ধির প্রস্তাব করে এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে অনুরোধ করে যে, তিনি যেন ঐ বছর ফিরে যান এবং আগামী বছর উমরা করার জন্যে মক্কায় প্রবেশ করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-ও তাদের এ প্রস্তাবে সম্মত হয়ে যান এবং তাদের সাথে সন্ধি করে নেন। সাহাবীদের (রাঃ) একটি বড় দল এ সন্ধিকে পছন্দ করেননি, যাঁদের মধ্যে হযরত উমার (রাঃ)-ও একজন ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) সেখানেই স্বীয় জন্তুগুলো কুরবানী করেন। অতঃপর মদীনায় ফিরে আসেন। এর ঘটনা এখনই এই সূরারই তাফসীরে আসবে ইন্শাআল্লাহ।মদীনায় ফিরবার পথেই এই পবিত্র সূরাটি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়।
এই সূরাতেই এই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। এই সন্ধিকে ভাল পরিণামের দিক দিয়ে বিজয় নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তারা বলতেনঃ “তোমরা তো মক্কা বিজয়কেই বিজয় বলে থাকো, কিন্তু আমরা হুদায়বিয়ার সন্ধিকেই বিজয়রূপে গণ্য করে থাকি।” হযরত জাবির (রাঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। সহীহ্ বুখারীতে হযরত বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “তোমরা মক্কা-বিজয়কে বিজয়রূপে গণ্য করে থাকো, কিন্তু আমরা হুদায়বিয়াতে সংঘটিত বায়আতে রিওয়ানকেই বিজয় হিসেবে গণ্য করি। আমরা চৌদ্দশ’ জন সাহাবী আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর সাথে এই ঘটনাস্থলে ছিলাম।
হুদায়বিয়া। নামক একটি কূপ ছিল। আমরা ঐ কূপ হতে আমাদের প্রয়োজন মত পানি নিতে শুরু করি। অল্পক্ষণ পরেই ঐ কূপের সমস্ত পানি শুকিয়ে যায়, এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট থাকে না। কূপের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর কানেও পৌঁছে যায়। তিনি কূপের নিকটে এসে ওর ধারে বসে পড়েন। অতঃপর এক বরতন পানি চেয়ে নিয়ে অযু করেন এবং তাতে কুল্লীও করেন। তারপর দু'আ করেন এবং ঐ পানি ঐ কূপে ঢেলে দেন। অল্পক্ষণ পরেই আমরা দেখলাম যে, কূপটি সম্পূর্ণরূপে পানিতে ভরে গেছে। ঐ পানি আমরা নিজেরা পান করলাম, আমাদের সওয়ারী উটগুলোকে পান করালাম, নিজেদের প্রয়োজন পুরো করলাম এবং পাত্রগুলো পানিতে ভরে নিলাম।”হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর সাথে ছিলাম।
তিনবার আমি তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। এতে আমি খুবই লজ্জিত হলাম যে, হায় আফসোস! আমি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে কষ্ট দিলাম! তিনি উত্তর দিতে চান না, আর আমি অযথা তাঁকে প্রশ্ন করছি! অতঃপর আমি ভয় পেয়ে গেলাম যে, না জানি হয়তো আমার এ বেআদবীর কারণে আমার ব্যাপারে কোন আয়াত নাযিল হয়ে যাবে! সুতরাং আমি আমার সওয়ারীকে দ্রুত চালাতে লাগলাম এবং আগে বেরিয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর আমি শুনলাম যে, কে যেন আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি উত্তর দিলে সে বললোঃ “চলুন, আল্লাহর রাসূল (সঃ) আপনাকে ডাক দিয়েছেন।” এ কথা শুনে তো আমার আক্কেল গুড়ুম!
ভাবলাম যে, অবশ্যই আমার ব্যাপারে কোন আয়াত নাযিল হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হলাম। আমাকে দেখে তিনি বললেনঃ “গত রাত্রে আমার উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার কাছে দুনিয়া এবং দুনিয়ার সমস্ত জিনিস হতে বেশি প্রিয়। অতঃপর তিনি আমাকে (আরবী)-এই সূরাটি পাঠ করে শুনালেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, হুদায়বিয়া হতে ফিরবার পথে (আরবী) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “রাত্রে আমার উপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার নিকট দুনিয়া এবং ওর মধ্যে যা কিছু রয়েছে, সমস্ত হতে বেশি প্রিয়।” অতঃপর তিনি ...
(আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ করে শুনালেন। তখন সাহাবীগণ (রাঃ) তাঁকে মুবারকবাদ জানালেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এ তো আপনার জন্যে, আমাদের জন্যে কি আছে? তখন (আরবী) পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন)করআন কারীমের একজন কারী হযরত মাজমা ইবনে হারেসা আনসারী। (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমরা হুদায়বিয়া হতে ফিরে আসছিলাম, দেখি যে, জনগণ তাদের (সওয়ারীর) উটগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে চলছে। জিজ্ঞেস করলামঃ ব্যাপার কি? জানলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর কোন ওহী অবতীর্ণ হয়েছে।
তখন আমরাও আমাদের উটগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে চললাম। এভাবে সবারই সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিকট পৌছে গেলাম। ঐ সময় তিনি কিরাউল গামীম নামক স্থানে স্বীয় সাওয়ারীর উপর অবস্থান করছিলেন। তার নিকট সমস্ত লোক একত্রিত হলে তিনি সকলকে এই সূরাটি পাঠ করে শুনিয়ে দেন। তখন একজন সাহাবী (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটা কি বিজয়?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “যার হাতে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! নিশ্চয়ই এটা বিজয়।” খায়বার যুদ্ধের গনীমত শুধু তাদের মধ্যেই বন্টিত হয় যারা হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। মোট আঠারোটি অংশ করা হয়।
সৈন্যদের মোট সংখ্যা ছিল পনেরশ’। অশ্বারোহী সৈন্য ছিলেন তিনশ’ জন। সুতরাং অশ্বারোহীদেরকে দ্বিগুণ অংশ দেয়া হয় এবং পজীদেরকে দেয়া হয় একগুণ।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ “হুদায়বিয়া হতে ফিরবার পথে এক জায়গায় রাত্রি যাপনের জন্যে আমরা অবতরণ করি। আমরা সবাই শুয়ে পড়ি এবং গভীর ঘুম আমাদেরকে পেয়ে বসে। যখন জাগ্রত হই তখন দেখি যে, সূর্য উদিত হয়ে গেছে। তখনো রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) ঘুমিয়েই রয়েছেন। আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যে, তাঁকে জাগানো উচিত, এমন। সময় তিনি নিজেই জেগে ওঠেন এবং বলেনঃ “তোমরা যা করছিলে তাই কর এবং যে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায় সে যেন এরূপই করে।” এই সফরে রাসুলুল্লাহ (সঃ)-এর উষ্ট্ৰীটি হারিয়ে যায়।
আমরা তখন ওটার খোঁজে বেরিয়ে পড়ি, দেখি যে, একটি গাছে ওর লাগাম আটকে গেছে। ফলে সে বন্দী অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমরা ওকে ছুটিয়ে নিয়ে আসলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এর উপর সওয়ার হলেন। আমরা সেখান হতে প্রস্থান করলাম। হঠাৎ করে পথেই রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর উপর অহী নাযিল হতে শুরু হয়। অহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় তাঁর অবস্থা খুব কঠিন হতো। যখন অহী আসা শেষ হয়ে গেল তখন তিনি আমাদেরকে বললেন যে, তার উপর (আরবী)-এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এতো (নফল, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি) নামায পড়তেন যে, তাঁর পা দু'টি ফুলে যেতো।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ ‘আল্লাহ্ তা'আলা কি আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দেননি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ আমি কি কতজ্ঞতা প্রকাশকারী বান্দা হবো না?” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম বুখারী (রঃ) এবং ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) নামাযে এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তাঁর পা দু'টি ফুলে যেতো। হযরত আয়েশা (রাঃ) তাঁকে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি এটা করছেন, অথচ আল্লাহ্ তা'আলা তো আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত পাপ মার্জনা করেছেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “হে আয়েশা (রাঃ)!
আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?” (হাদীসটি এভাবে ইমাম মুসলিম (রঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)সুতরাং এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, (আরবী) (স্পষ্ট বিজয়) দ্বারা হুদায়বিয়ার সন্ধিকেই বুঝানো হয়েছে। এর কারণে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং মু'মিনগণ বড়ই কল্যাণ ও বরকত লাভ করেছিলেন। জনগণের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছিল। মুসলমান ও কাফিরদের মধ্যে পরস্পর কথাবার্তা ও আলাপ আলোচনা শুরু হয়। জ্ঞান ও ঈমান চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ লাভ হয়।মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘যেন আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ক্রটিসমূহ মার্জনা করেন। এটা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্যে খাস বা এটা তাঁর একটি বিশেষ মর্যাদা।
এতে তার সাথে আর কেউ শরীক নেই। হ্যা, তবে কোন কোন আমলের পুণ্যের ব্যাপারে অন্যদের জন্যেও এ শব্দগুলো এসেছে। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি তাঁর সমস্ত কাজকর্মে সততা, দৃঢ়তা এবং আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কেউই এরূপ ছিল না। সমস্ত মানুষের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা অধিক পূর্ণতা প্রাপ্ত মানব এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তিনি সমস্ত আদম-সন্তানের নেতা ও পথপ্রদর্শক। যেহেতু তিনি ছিলেন আল্লাহ্ তা'আলার সবচেয়ে বেশি অনুগত এবং তার আহকামের প্রতি সর্বাপেক্ষা অধিক মনোযোগী, সেই হেতু তাঁর উষ্ট্রীটি যখন তাঁকে নিয়ে বসে পড়ে তখন তিনি বলেনঃ “হাতীকে আটককারী (আল্লাহ) একে আটক করে ফেলেছেন।
যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! আজ এ কাফিররা আমার কাছে যা চাইবে আমি তাদেরকে তাই দিবো যদি না সেটা আল্লাহর মর্যাদা-হানিকর হয়।” যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহ্ তা'আলার কথা মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে সন্ধি করেন তখন আল্লাহ্ পাক বিজয়ের সূরা অবতীর্ণ করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে স্বীয় নিয়ামত তার উপর পূর্ণ করে দেন। আর তিনি তাঁকে পরিচালিত করেন সরল-সঠিক পথে। তাঁর বিনয় ও নম্রতার কারণে আল্লাহ্ তা'আলা তার মর্যাদা সমুন্নত করেন। তাঁর শত্রুদের উপর তাঁকে বিজয় দান করেন। যেমন সহীহ্ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “বান্দা (মানুষের অপরাধ) ক্ষমা করার দ্বারা সম্মান লাভ করে এবং বিনয় প্রকাশের দ্বারা উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন হয়ে থাকে।” হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেনঃ “যে তোমার ব্যাপারে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে তাকে তুমি এর চেয়ে বড় শাস্তি দাও না যে, তার ব্যাপারে তুমি আল্লাহর আনুগত্য কর (অর্থাৎ এটাই তার জন্যে সবচেয়ে বড় শাস্তি)।”
নিশ্চয় আমরা আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয় [১],
[১] অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ী ও তাফসীরবিদদের মতে সূরা ফাতহ ষষ্ঠ হিজরীতে অবতীর্ণ হয়, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরার উদ্দেশ্যে সাহাবায়ে কেরামকে সাথে নিয়ে মক্কা মুকাররম তাশরীফ নিয়ে যান এবং হারাম শরীফের সন্নিকটে হুদাইবিয়া নামক স্থান পৌঁছে অবস্থান গ্ৰহণ করেন। হুদাইবিয়া মক্কার বাইরে হারামের সীমানার সন্নিকটে অবস্থিত একটি স্থানের নাম। আজকাল এই স্থানটিকে সুমাইছী বলা হয়। ঘটনাটি এই স্থানেই ঘটে। এই ঘটনার এক অংশ এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় স্বপ্ন দেখলেন তিনি সাহাবায়ে কেরামসহ মক্কায় নিৰ্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছেন এবং ইহরামের কাজ সমাপ্ত করে কেউ কেউ নিয়মানুযায়ী মাথা মুণ্ডন করেছেন, কেউ কেউ চুল কাটিয়েছেন এবং তিনি বায়তুল্লাহ প্রবেশ করেছেন ও বায়তুল্লাহর চাবি তার হস্তগত হয়েছে।
এটা সূরায় বর্ণিত ঘটনার একটি অংশ। নবী-রাসূলগণের স্বপ্ন ওহী হয়ে থাকে। তাই স্বপ্নটি যে বাস্তবরূপ লাভ করবে, তা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু স্বপ্নে এই ঘটনার কোন সন, তারিখ বা মাস নির্দিষ্ট করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে স্বপ্নটি মক্কা বিজয়ের সময় প্রতিফলিত হওয়ার ছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাহাবায়ে কেরামকে স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনালেন, তখন তারা সবাই পরম আগ্রহের সাথে মক্কা যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। সাহাবায়ে কেরামের প্রস্তুতি দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ইচ্ছা করে ফেললেন। কেননা, স্বপ্নে কোন বিশেষ সাল অথবা মাস নির্দিষ্ট ছিল না।
কাজেই এই মুহূর্তেই উদ্দেশ্য সিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু মক্কার কাফেররা তাকে মক্কা প্রবেশে বাধা দান করে। অতঃপর তারা এই শর্তে সন্ধি করতে সম্মত হয় যে, এ বছর তিনি মদীনায় ফিরে যাবেন এবং পরবর্তী বছর তিনি উমরা করতে আসবেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে অনেকেই বিশেষত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ ধরনের সন্ধি করতে অসম্মত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সন্ধিকে পরিণামে মুসলিমদের জন্যে সাফল্যের উপায় মনে করে গ্রহণ করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উমরার এহরাম খুলে হুদাইবিয়া থেকে ফেরত রওয়ানা হলেন, তখন পথিমধ্যে এই পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ হয়।
এতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্বপ্ন সত্য এবং অবশ্যই বাস্তবরূপ লাভ করবে। কিন্তু তার সময় এখনও হয়নি। পরে মক্কা বিজয়ের সময় এই স্বপ্ন বাস্তবরূপ লাভ করে। এই সন্ধি প্রকৃতপক্ষে মক্কা বিজয়ের কারণ হয়েছিল। তাই একে প্রকাশ্য বিজয় বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও অপর কয়েকজন সাহাবী বলেন: তোমরা মক্কা বিজয়কে বিজয় বলে থাক; কিন্তু আমরা হুদাইবিয়ার সন্ধিকেই বিজয় মনে করি। জাবের রাদিয়ালাহু আনহু বলেন: আমি হুদাইবিয়ার সন্ধিকে বিজয় মনে করি। বারা ইবনে আযেব বলেন: তোমরা মক্কা বিজয়কেই বিজয় মনে কর এবং নি:সন্দেহ তা বিজয়; কিন্তু আমরা হুদাইবিয়ার ঘটনার বাইয়াতে রিদওয়ানকেই আসল বিজয় মনে করি।
এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বৃক্ষের নীচে উপস্থিত চৌদ্দশত সাহাবীর কাছ থেকে জেহাদের শপথ নিয়েছিল। [বুখারী: ৪২৮, মুসলিম: ৭৯৪]
[সূরা আল-ফাতহ (৪৮): আয়াত ১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
ইবনে সুলাইমান বলেন: যখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: "আর আমি জানি না আমার সাথে এবং তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে" [আল-আহকাফ: ৯], তখন মুশরিক ও মুনাফিকরা আনন্দিত হলো এবং বলতে লাগল: আমরা এমন একজন ব্যক্তির অনুসরণ কীভাবে করব, যিনি জানেন না তাঁর নিজের সাথে এবং তাঁর সাথীদের সাথে কী করা হবে? অতঃপর হুদাইবিয়া থেকে ফিরে আসার পর অবতীর্ণ হলো: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।" অর্থাৎ আমি আপনার জন্য একটি ফয়সালা করে দিয়েছি। ফলে এই আয়াতটি পূর্বের আয়াতটিকে রহিত করে দিল। তখন নবী (সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই আমার ওপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার কাছে লাল উটের চেয়েও অধিক প্রিয়।" মাসউদী বলেন: আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি রমজানের প্রথম রাতে নফল নামাজে সূরা আল-ফাতহ পাঠ করবে, আল্লাহ সেই বছর তাকে হেফাজত করবেন।পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে [সূরা আল-ফাতহ (৪৮): আয়াত ১]পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামেনিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি (১)এই 'ফাতহ' বা বিজয় কোনটি তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে গুন্দার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে শু'বা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি কাতাদাহকে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি" এর অর্থ হলো— হুদাইবিয়া। জাবির (রা.) বলেন: আমরা হুদাইবিয়ার দিনটি ছাড়া অন্য কিছুকে বিজয় হিসেবে গণ্য করতাম না। ফাররা বলেন: তোমরা বিজয় বলতে মক্কা বিজয়কে বুঝিয়ে থাকো, মক্কা বিজয় অবশ্যই একটি বিজয় ছিল, তবে আমরা হুদাইবিয়ার দিনের 'বাইয়াতে রিদওয়ান'কেই প্রকৃত বিজয় মনে করতাম।
আমরা নবী (সা.)-এর সাথে চৌদ্দশ জন ছিলাম; আর হুদাইবিয়া হলো একটি কূপ। যাহহাক বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি" অর্থাৎ যুদ্ধ ব্যতীত। আর সন্ধি ছিল বিজয়েরই অংশ। মুজাহিদ বলেন: এটি হলো হুদাইবিয়ায় তাঁর পশু কোরবানি এবং মস্তক মুণ্ডন করা। তিনি আরও বলেন: হুদাইবিয়ার বিজয় ছিল একটি মহান নিদর্শন; সেখানকার কূপের পানি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তিনি তাতে থুতু নিক্ষেপ করলেন, ফলে তা পানিতে কানায় কানায় ভরে উঠল এবং তাঁর সাথে থাকা সকলেই সেখান থেকে পানি পান করল। মুসা ইবনে উকবা বলেন: হুদাইবিয়া থেকে ফেরার পথে এক ব্যক্তি বলল: এটি কোনো বিজয় নয়, তারা আমাদের বায়তুল্লাহ থেকে বাধা প্রদান করেছে।
তখন নবী (সা.) বললেন: "বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়; মুশরিকরা এই মর্মে সম্মত হয়েছে যে তারা তোমাদেরকে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের দেশ থেকে সরিয়ে দেবে, তারা তোমাদের কাছে ফয়সালা প্রার্থনা করেছে এবং তোমাদের কাছে নিরাপত্তা কামনা করেছে, অথচ তারা তোমাদের মধ্যে এমন কিছু দেখেছে যা তারা অপছন্দ করত।" শাবি মহান আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি" প্রসঙ্গে বলেন: এটি হুদাইবিয়ার বিজয়; এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি যা লাভ করেছেন তা অন্য কোনো যুদ্ধে লাভ করেননি—আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সেখানে বাইয়াতে রিদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়েছে।(১).
সূরা আল-আহকাফ, আয়াত ৯।(২). তাফসিরে তাবারিতে আছে: "বারা"। [ ..... ](৩). তাফসিরে তাবারিতে আছে: "পাঁচশ"।
অতঃপর তিনি লোকালয়ে বেরিয়ে আসলেন এবং তাঁদের সেই বিষয়ে সুসংবাদ প্রদান করলেন যে, আল্লাহ তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।তখন মুমিনদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন, "হে আল্লাহর নবী! আপনার জন্য মোবারকবাদ। আপনার সাথে কী করা হবে তা তো আমরা এখন জেনে নিলাম, কিন্তু আমাদের সাথে কী করা হবে?" তখন আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আহজাবে অবতীর্ণ করলেন, "(আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় অনুগ্রহ রয়েছে)" (সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৪৭)। এবং তিনি আরও বললেন, "(যাতে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করান যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবেন এবং তিনি তাঁদের পাপসমূহ মোচন করবেন; আর এটিই আল্লাহর নিকট মহা সফলতা)" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ৫)।
এভাবে আল্লাহ তাঁর সাথে এবং তাঁদের সাথে কী করা হবে তা বর্ণনা করে দিলেন।ইবনে জারীর ইকরিমাহ ও হাসান (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।ইমাম আহমাদ, বুখারী, নাসাঈ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ উম্মুল আলা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন—তিনি বলেন: যখন উসমান ইবনে মাজউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি বললাম, "হে আবু সাইব! আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন।"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তুমি কীভাবে জানলে যে আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন?
তাঁর নিকট তো তাঁর রবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) এসে পৌঁছেছে এবং আমি তাঁর জন্য কল্যাণের আশা করি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না যে আমার সাথে কী করা হবে এবং তোমাদের সাথেই বা কী করা হবে।"উম্মুল আলা বলেন, "আল্লাহর কসম, এরপর আমি আর কখনও কাউকে (নিশ্চিতভাবে) পবিত্র ঘোষণা করিনি।"তাবারানী এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন উসমান ইবনে মাজউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর স্ত্রী অথবা জনৈক নারী বললেন, "হে ইবনে মাজউন! আপনার জন্য জান্নাতের মুবারকবাদ।"তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন এবং বললেন, "তুমি কীভাবে জানলে?
আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না যে আল্লাহ আমার সাথে কী করবেন।"বর্ণনাকারী বলেন, এটি ছিল এই আয়াত—"যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১-২)—নাজিল হওয়ার পূর্বের কথা। তখন সেই নারী বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো আপনার সাথী এবং অশ্বারোহী যোদ্ধা ছিলেন, আপনিই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "আমি তাঁর জন্য তাঁর রবের রহমতের আশা করি এবং তাঁর গুনাহের ব্যাপারে আশঙ্কা করি।"ইবনে হিব্বান এবং তাবারানী যায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উসমান ইবনে মাজউন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন উম্মুল আলা বললেন, "হে আবু সাইব!
আপনি আনন্দিত হোন, নিশ্চয়ই আপনি জান্নাতি।"তখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তুমি কীভাবে জানলে?" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো উসমান ইবনে মাজউন।" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আমরা তাঁর মাঝে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই দেখিনি। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি জানি না যে আমার সাথে কী করা হবে।"আবদ ইবনে হুমাইদ হাসান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো—আর আমি জানি না আমার সাথে এবং তোমাদের সাথে কী করা হবে
—তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দীর্ঘকাল আল্লাহর ভয়ে ভীত অবস্থায় আমল করতে থাকলেন।
অতঃপর যখন অবতীর্ণ হলো—(নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন) (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১-২)—তখন তিনি ইবাদতে আরও কঠোর পরিশ্রম শুরু করলেন।
