Al-Infitar
আল-ইনফিতার: 13
মূল আরবি
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍ
English Translations
Indeed, the righteous will be in pleasure,
Verily, the Abrar (pious and righteous) will be in delight (Paradise);
Surely the righteous will be in bliss,
Surely the virtuous shall be in Bliss,
Lo! the righteous verily will be in delight.
As for the Righteous, they will be in bliss;
বাংলা অনুবাদ
নেককারগণ থাকবে নানান নি‘মাতের মাঝে
নিশ্চয় সৎকর্মপরায়ণরা থাকবে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে।
পুণ্যবানগণতো থাকবে পরম সুখ সম্পদে;
পুণ্যবানেরা তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যো;
নিশ্চয়ই পুণ্যবানগণ নেয়ামতসমূহে অবস্থান করবে;
১৩. নিশ্চয়ই যারা বেশী বেশী পুণ্য ও আনুগত্যের কাজ করে তারা কিয়ামত দিবসে স্থায়ী উপভোগে থাকবে।
তাফসীর
১৩-১৯ নং আয়াতের তাফসীরএখানে আল্লাহ তা'আলা তাঁর ঐ বান্দাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন যারা তাঁর অনুগত, বাধ্যগত এবং যারা পাপকর্ম হতে দূরে থাকে। (এ হাদীসটি ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তাদেরকে আবরার’ বলা হয়েছে এই কারণে যে, তারা পিতামাতার অনুগত ছিল এবং সন্তানদের সাথে ভাল ব্যবহার করতো।”পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে। হিসাব-নিকাশ এবং প্রতিদান লাভ করার দিনে তথা কিয়ামতের দিনে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এক ঘন্টা বা মুহুর্তের জন্যেও তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে নিষ্কৃতি দেয়া হবে না।
তারা মৃত্যু বরণও করবে না এবং শান্তিও পাবে না। ক্ষণিকের জন্যেও তারা শাস্তি হতে দূরে থাকবে না।এরপর কিয়ামতের বিভীষিকা প্রকাশের জন্যে দুই দুইবার আল্লাহ পাক বলেনঃ ঐদিন কেমন তা তোমাদেরকে কোন জিনিস জানিয়েছে? তারপর তিনি নিজেই বলেনঃ কেউ কারো কোন উপকার করতে পারবে না এবং শাস্তি হতে নিষ্কৃতি দেয়ার ক্ষমতা রাখবে না। তবে হ্যা, কারো জন্যে সুপারিশের অনুমতি যদি স্বয়ং আল্লাহ কাউকেও প্রদান করেন তবে সেটা আলাদা কথা। এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। তাহলো এই যে, নবী (সঃ) বলেনঃ “হে বানু হাশিম! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর।
(জেনে রেখো যে,) আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করার কোনই অধিকার রাখবো না।সূরা শুআ'রার তাফসীরের শেষাংশে এ হাদীসটি গত হয়েছে। এখানে এ কথাও বলেছেন যে, সেই দিন কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “আজ কতৃত্ব কার? এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।” (৪০:১৬) আর বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যিনি কর্মফল দিবসের মালিক।” আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “সেই দিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে দয়াময়ের (অর্থাৎ আল্লাহর)” (২৫:২৬)এসব আয়াতের আসল বক্তব্য হলো এই যে, সেই দিন মালিকানা ও সময় কর্তৃত্ব একমাত্র কাহহার ও রহমানুর রাহীম আল্লাহর হাতে ন্যস্ত থাকবে।
অবশ্য এখনো তিনিই সর্বময় ক্ষমতা ও একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধিকারী বটে, কিন্তু সেই দিন বাহ্যিকভাবেও অন্য কেউই কোন হুকুমত ও কর্তৃত্বের অধিকারী থাকবে না। বরং সমস্ত কর্তৃত্ব হবে একমাত্র আল্লাহর।
পুণ্যবানেরা তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যো [১];
[১] পূণ্যবানেরা কি কি নেয়ামতে থাকবে সেটা জানতে হলে আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র একটু দেখতে হবে। অন্যত্র এসেছে, “অবশ্যই পূণ্যবানদের ‘আমলনামা ‘ইল্লিয়্যীনে, ‘ইল্লিয়্যীন সম্পর্কে আপনি কী জানেন? ওটা চিহ্নিত ‘আমলনামা। যারা আল্লাহ্র সান্নিধ্য প্রাপ্ত তারা তা দেখে। পূণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে, তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে। আপনি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবেন। তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করান হবে; ওটার মোহর মিস্কের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। ওটার মিশ্রণ হবে তাস্নীমের; তা একটা প্রস্রবণ, যা থেকে সান্নিধ্যপ্রাপ্তরা পান করে। [সূরা আল-মুতাফফিফীন; ১৮-২৮]
[সূরা আল-ইনফিতার (৮২): আয়াত ১৩ থেকে ১৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-ইনফিতার (৮২): আয়াত ১৩ থেকে ১৯]নিশ্চয়ই পুণ্যবানগণ থাকবে পরম সুখ-শান্তিতে (১৩)। আর নিশ্চয়ই পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে (১৪)। তারা সেখানে প্রবেশ করবে বিচার দিবসে (১৫)। আর তারা সেখান থেকে অনুপস্থিত হতে পারবে না (১৬)। আর কিসে তোমাকে জানাবে যে, বিচার দিবস কী? (১৭)পুনরায় বলি, কিসে তোমাকে জানাবে যে, বিচার দিবস কী? (১৮) যেদিন কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো উপকার করার ক্ষমতা রাখবে না; আর সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর (১৯)।মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই পুণ্যবানগণ থাকবে পরম সুখ-শান্তিতে। আর নিশ্চয়ই পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে) এটি একটি বিভাজন, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: একদল জান্নাতে এবং একদল জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে [আশ-শূরা: ৭]।
এবং তিনি বলেছেন: সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে [আর-রূম: ৪৩]। অতঃপর 'যারা ঈমান এনেছে' সংক্রান্ত দুটি আয়াত। (তারা সেখানে প্রবেশ করবে) অর্থাৎ তার লেলিহান শিখা ও উত্তাপ তাদের স্পর্শ করবে (বিচার দিবসে) অর্থাৎ প্রতিদান ও হিসাবের দিনে। আর এই দিবসের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বুঝাতে এর উল্লেখ পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: করাঘাতকারী। করাঘাতকারী কী? কিসে তোমাকে জানাবে করাঘাতকারী কী? [আল-কারি'আ: ১-৩]। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: কুরআনের যেখানেই 'ওয়ামা আদরাকা' (কিসে তোমাকে জানাবে) বলা হয়েছে, সেখানে আল্লাহ তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সা.-কে) তা জানিয়েছেন।
আর যেখানেই 'ওয়ামা ইউদরিকা' (কিসে তোমাকে ধারণা দেবে) বলা হয়েছে, সেখানে তা তাঁর থেকে গোপন রাখা হয়েছে। (যেদিন কোনো ব্যক্তি ক্ষমতা রাখবে না) ইবনে কাসীর এবং আবু আমর 'ইয়াওমু' শব্দটি পেশ (রাফ) যোগে পড়েছেন 'ইয়াওমুদ দীন'-এর স্থলাভিষিক্ত (বাদাল) হিসেবে অথবা পূর্ববর্তী 'ইয়াওম' শব্দের দিকে প্রতাবর্তন করার কারণে, ফলে এটি 'ইয়াওমুদ দীন'-এর বিশেষণ (সিফাত) হবে। আবার 'হুয়া' (সেটি হয়) উহ্য থাকার কারণেও এটি পেশযুক্ত হওয়া বৈধ। অবশিষ্ট কারীগণ জবর (নসব) যোগে পাঠ করেছেন এই ভিত্তিতে যে, এটি ব্যাকরণগতভাবে পেশের অবস্থানে থাকলেও জবর হয়েছে, কারণ এটি একটি অ-সুসংহত (গায়র মুতামাক্কিন) মুদাফ বা সম্বন্ধযুক্ত পদ।
যেমন আপনি বলেন: জায়েদ যে দিনে দণ্ডায়মান হয় সেটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। আল-মুবাররাদ একটি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:মৃত্যুর দুই দিনের মধ্যে কোন দিন থেকে আমি পালাব? … যে দিন (মৃত্যু) নির্ধারিত হয়নি, নাকি যে দিন নির্ধারিত হয়েছে?এখানে দ্বিতীয় দুটি 'ইয়াওম' শব্দ ইজাফাত বা সম্বন্ধের কারণে মূলত জের (খাফদ) হওয়ার কথা ছিল, যা প্রথম দুটি 'ইয়াওম'-এর ব্যাখ্যা স্বরূপ এসেছে, কিন্তু উচ্চারণে সে দুটি জবরযুক্ত হয়েছে কারণ সেগুলো অ-বিশুদ্ধ (গয়রে মাহজ) ইজাফাতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। আর এটিই আল-ফাররা এবং আজ-জাজ্জাজের পছন্দকৃত অভিমত। একদল বলেছেন: দ্বিতীয় 'ইয়াওম' শব্দটি তার অবস্থানের (মাহাল্ল) ভিত্তিতে জবরযুক্ত হয়েছে, যেন বলা হয়েছে: এমন একদিনে যেদিন কোনো সত্তা অন্য কোনো সত্তার জন্য কোনো কিছুর মালিক হবে না।
আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, এই বিষয়গুলো ওই দিনে সংঘটিত হবে, অথবা এর অর্থ 'তারা ওই দিনে প্রতিদান প্রাপ্ত হবে', কারণ 'আদ-দীন' শব্দটি এর প্রতি ইঙ্গিত করে, অথবা 'উযকুর' (স্মরণ করো) শব্দটি উহ্য থাকার কারণে এটি জবরযুক্ত হয়েছে। (আর সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর) এতে কেউ তাঁর সাথে বিবাদ করবে না, যেমনটি তিনি বলেছেন: আজ রাজত্ব কার? এক ও প্রবল প্রতাপশালী আল্লাহরই। আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জন অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে, আজ কোনো জুলুম নেই [গাফির: ১৬-১৭]। সূরাটি সমাপ্ত হলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
