ইসলামের জুডিও খ্রিস্টান এবং পৌত্তলিক ভিত্তি

Print Friendly, PDF & Email

সূচিপত্র

ভূমিকা

জুডিও খ্রিস্ট ধর্মের মতই ইসলাম ধর্মের সাথে সেই শুরু থেকেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পৌত্তলিকতার নানান প্রথা। ইসলাম ধর্মটি সত্যিকার অর্থে পৌত্তলিকতা, ইহুদি-খ্রিস্টান-সাবেইন-জরাথুস্ট্রবাদের একটি সংমিশ্রণ। মুহাম্মদ তার জীবনে বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপকথা শুনেছেন। তিনি যেসব ধর্মের মানুষদের সংস্পর্শে এসেছেন, দেখেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু অংশ তিনি হয়তো সত্য বলে মনে করেছেন, অথবা তার মনে যে কথাগুলো খুব প্রভাব বিস্তার করেছে, পরবর্তীতে সেগুলো তিনি নিজ ধর্মে গ্রহণ করেছেন। এই লেখাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে এটি প্রমাণ করা যে, নবী মুহাম্মদ তার নতুন ধর্মের প্রায় সকল নিয়মকানুনই সেই সময়ে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্ম থেকে গ্রহণ করেছেন এবং নিজের মত করে কিছুটা সংশোধন করে নিয়েছেন। সেইসাথে এটিও প্রমাণ করা যে, ইসলামের দাবী অনুসারে বাদবাকি সকল ধর্মই পৌত্তলিকতা দ্বারা দূষিত হয়েছে, শুধুমাত্র ইসলামই পৌত্তলিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত, এই দাবীকে ভুল প্রমাণ করা। পড়ার সময় মনে রাখতে হবে, ইসলাম সত্য নাকি মিথ্যা ধর্ম, সেটি এই লেখাটির আলোচ্য বিষয় নয়।

ইসলামপন্থী বিখ্যাত আলেমগণ সেইসব পৌত্তলিক প্রথাগুলোকেই ইসলামের সাথে সম্পর্কিত করার জন্য সেইসব প্রথাগুলোকে ইব্রাহীমের দ্বীন হিসেবে উল্লেখ করেন, সেগুলোকে মুসলিমদের সংস্কৃতি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন বটে। কিন্তু একটু ভালভাবে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, সেগুলো আসলে পৌত্তলিক প্রথাই। ইসলাম পৌত্তলিকতার যেভাবে কঠিন বিরোধীতা করে, ক্ষেত্রবিশেষে আবার ইসলামিক আলেমগণই ইসলামে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত পৌত্তলিক নানা প্রথার পক্ষে সাফাই গায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরে চুম্বনের বিষয়টি। কিংবা শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর মারার বিষয়টি। একটি পাথরের কোন ক্ষমতা থাকতে পারে না। তার কোন পাথরকে চুমু দিয়ে পাপ মোচন করা যাবে, এরকম ধারণা প্রাচীন পৌত্তলিক ধারণাই। শিবের লিঙ্গ নামক পাথরের মূর্তিকে হিন্দুরা শত বছর ধরে পুজা করে আসছে, কিন্তু শিবের লিঙ্গের নামে কোন পাথরের কোন ক্ষমতা থাকতে পারে না। সেই জ্ঞানবুদ্ধিহীন, প্রাণহীন কোন পাথরকে সম্মান করাও কোন মানুষের জন্য সম্মানজনক হতে পারে না। মূর্তিপুজার বিরুদ্ধে মুসলিমরা এই যুক্তিই দিয়ে থাকেন। কিন্তু একইসাথে কালো পাথরকে শ্রদ্ধা ভক্তি সহকারে চুমু দেন, পরকালে সেই পাথর তাদের পক্ষে সাক্ষী দেবে এই আশায়। এর অর্থ, তারাও আসলে পাথরকে খুশি রাখতেই চায়। আবার, শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপও তো পৌত্তলিকতাই। কোন স্তম্ভকে শ্রদ্ধা সহকারে ভক্তি কিংবা প্রতীক হিসেবে ঘৃণা করা, পাথর ছুড়ে মারা, এগুলো তো আসলে একই বিষয়। মূল বিষয়টি হচ্ছে, অলৌকিক সত্ত্বার প্রতীক তৈরি করা এবং সেটিকে ভক্তি বা ঘৃণা করা। যদিও মুসলিমগণ পৌত্তলিকতার এইসব স্পষ্ট উদাহরণ স্বীকার করবেন না। ইসলামপন্থীগণ সেগুলো বিশ্বাস করে এখনো পালন করেন, লালন করেন, এবং এগুলোর সপক্ষে কথা বলেন। কিন্তু একই সাথে তারাই আবার অন্য ধর্মের পৌত্তলিকতার চরম বিরোধীতাও করেন। এই লেখাটির উদ্দেশ্য তা নিয়ে বিতর্ক করা নয়। কারণ যত প্রমাণই থাকুক, সেগুলো ইসলামপন্থীগণ মেনে নেবেন না সেটি জানা কথা। তবে ইসলামের পৌত্তলিক ভিত্তিকে জানা, বোঝা এবং পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আশাকরি আগ্রহী পাঠকগণ মন দিয়ে লেখাটি পড়বেন, রেফারেন্সগুলো ক্রস চেক করবেন এবং নিজেরাই যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে চিন্তাভাবনা করবে।

পৌত্তলিকতা অর্থ

পৌত্তলিক শব্দটি লাতিন ‘‘প্যাগানাস’’ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘‘ক্ষেত্র বা গ্রামের বাসিন্দা’’। খ্রিস্টানগণ ধর্ম প্রচারের সময় গ্রাম্য বা যারা শহরের অন্তর্ভূক্ত নয় তাদেরকে প্যাগান হিসেবে বিবেচনা করতো এবং তাদের বর্বর বলে প্রচার করতো। এটি পৌত্তলিকতার পুরনো সংজ্ঞা, বর্তমানে পৌত্তলিকতার সংজ্ঞা একটু ভিন্ন। জড় পদার্থকে বিশেষ করে পাথর বা ছবি বা স্তম্ভ বা এরকম যেকোন কিছুকেই কোন ব্যক্তি বা ঈশ্বর বা দেবদেবী বা শুভ অশুভ চরিত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা সেইসবকে শ্রদ্ধা ভক্তি কিংবা ঘৃণা প্রদর্শন, এরকম যাবতীয় কাজকেই পৌত্তলিকতা বলা হয়। যেমন কেউ যদি রবীন্দ্রনাথের মূর্তি বা প্রতীক বা প্রতীমা তৈরি করে সেই মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, সেটিও যেমন পৌত্তলিকতা, একইভাবে কেউ যদি ঘৃণার প্রকাশ করতে কারো কুশপুত্তলিকা তৈরি করে সেটিকে জুতাপেটা করে, বা সেটিকে আগুনে পোড়ায়, সেটিও পৌত্তলিকতার অন্তর্ভূক্ত।

মরু আরব এবং জমজম কুপের গুরুত্ব

প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের মতই মক্কায় গোত্র গোত্র মারামারি, যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই ছিল। আরব বেদুইনরা যুদ্ধবাজ জাতি, তারা একে অন্যের সাথে যুদ্ধ না করে বেশিদিন থাকতে পারতো না। ছোটখাটো ব্যাপার, বংশমর্যাদা রক্ষা কিংবা খুনের বদলে খুন, এই নিয়ে তারা একে অপরকে হত্যা করতো। স্বাভাবিকভাবেই, মরুভূমি অঞ্চলে যুদ্ধবিগ্রহের সময় যুদ্ধরত দুপক্ষেরই পানির দরকার হয়ে পড়তো। তাই গোত্রগুলো নিজ নিজ স্বার্থেই মরুভূমির গুরুত্বপূর্ণ কুপগুলোকে যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখতো। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলেই এরকম উদাহরণ রয়েছে। তাদের মধ্যে এক অলিখিত চুক্তি ছিল এমন যে, দুই পক্ষ যতই মারামারি করুক, হত্যা লুণ্ঠন করুক না কেন, কুপের পানি থাকবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। কুপের কাছে কেউ পানি খেতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের আক্রমণ করবে না। কিছু কিছু মরূদ্যানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়াই ছিল নিষিদ্ধ। মরূদ্যানগুলোতে সাধারণত গোত্রগুলো তাদের স্ত্রী এবং শিশু পুত্রকন্যাদের লুকিয়ে রাখতো, সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গচ্ছিত রাখতো মরূদ্যান গুলোর দায়িত্বে যারা থাকে তাদের কাছে। তাই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মরূদ্যানগুলো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু তাদের মধ্যে খুব বেশি বর্বর বেদুইন গোত্রগুলো এই নিয়মও মানতে চাইতো না। তাদের মধ্যে লোভের জন্ম হচ্ছিল, মরূদ্যানগুলোতে গচ্ছিত মূল্যবান সামগ্রীগুলোর জন্য। মাঝে মাঝেই দেখা যেত, যুদ্ধরত অবস্থায় একপক্ষ পানিপানের জন্য মরূদ্যানে গিয়েছে, প্রতিপক্ষ সেখানে গিয়েই তাদের কচুকাটা করে আসছে। লুটপাট করে বিপক্ষ দলের নারীদের ধরে নিয়ে এসেছে। তাই সবগুলো গোত্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু অঞ্চলের প্রয়োজন হলো, সেই স্থানগুলো যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখা। কেউ সেখানে আক্রমণ করবে না এবং প্রয়োজন হলে সেখানে স্ত্রী কন্যা এবং সম্পদ অন্তত লুকিয়ে রাখা যাবে। তাই সেই মরূদ্যানগুলোর ওপর ধীরে ধীরে ধর্মীয় মাহাত্ম্য আরোপ করা শুরু হলো। মরূদ্যানগুলোতে বিভিন্ন গোত্রগুলোর, যুদ্ধরত প্রতিটি পক্ষের প্রধান দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন শুরু হলো, তাদের প্রতিনিধিত্ব এবং অংশীদারিত্ব কায়েম করা হলো। যেন অন্তত সেই দেবদেবীর মূর্তির সম্মান রক্ষার্থে একপক্ষ আরেকপক্ষের ওপর অন্তত মরূদ্যানে আক্রমণ না করে। কারণ প্রায় প্রতিটি গোত্রই সেখানে তাদের প্রধান দেবতার মূর্তি বসিয়ে রাখতো। সেটা ছিল আসলে গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক চুক্তি, যা ধর্ম ও ঈশ্বরের ভয় দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছিল। খেয়াল করলে দেখবেন, এই যুদ্ধবাজ বর্বর অঞ্চলগুলোর দেবদেবী কিংবা ঈশ্বরগুলো সর্বদাই ভীতি সৃষ্টিকারী। কারণ ভয় দেখানো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। আর সেই সব মরূদ্যানগুলোকে বলা হতো নিষিদ্ধ অঞ্চল, অর্থাৎ এই অঞ্চলে রক্তপাত নিষেধ। যেন সেই দেবতার মূর্তির সম্মান রেখে অন্তত মরূদ্যানে দুই পক্ষের নেতারা বসে শান্তির আলোচনা চালাতে পারে।

মক্কার যমযম কুপ সেই আমল থেকেই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল, সেটা ছিল একইসাথে একটি সাধারণমানের বাণিজ্য রুট যেখানে বাণিজ্য কাফেলাগুলো পানি পান করতে আসতো। আরবের অধিকাংশ গোত্রের প্রয়োজন ছিল একটি মুক্তাঞ্চল, যেখানে তারা প্রতিটি পক্ষের সাথে শান্তি আলোচনা, বিভিন্ন গোত্রের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের চুক্তি করতে পারবে। কিন্তু আরবের একগোত্র তো অন্যগোত্রের মাতবরি মানবে না। তাহলে উপায় কী? উপায় ছিল এটাই যে, কাবায় প্রতিটি গোত্রের পূজনীয় প্রধান মূর্তিটিকে স্থাপন, প্রতিনিধিত্ব এবং অংশিদারিত্ব। সেখানে প্রধান মূর্তি থাকলে এবং সে যথাযোগ্য সম্মানের সাথে পূজিত হলে বিভিন্ন গোত্রের এক ধরণের অধিকারবোধের জন্ম নেয়, তারা কাবাকে নিজেদের অংশ ভাবতে শুরু করে। ধর্মীয়ভাবে সমান অংশিদারিত্ব থাকলে শান্তি আলোচনা, অর্থনৈতিক আলোচনা ইত্যাদি সেসময়ে ফলপ্রসূ হয়ে উঠতো। তাই কাবা হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক দিয়ে সেই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মূর্তিগুলো ছিল এক একটি গোত্রের সম্মানের প্রতীক, কাবায় এক একটি ছোট ছোট সংস্কৃতির প্রতিনিধি। উপরের আলোচনাগুলো সবই সেইসময়ের অবস্থা এবং ইতিহাস পর্যালোচনা করার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ধারণা। এর কোন তথ্যপ্রমাণ সেভাবে দেয়া সম্ভব নয়, তবে যৌক্তিকভাবে ভাবলে এরকমই হওয়াই স্বাভাবিক মনে হয়।

যমযম কুপ এবং কাবাও একই কারণে আরবের অন্যান্য মরূদ্যান এবং উপাসনালয়গুলর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত ছিল। সীরাত থেকে জানা যায়, মুহাম্মদের পৌত্তলিক দাদা আবদুল মুত্তালিবই যমযম কুপ খনন করেছিলেন এবং যমযম কুপের গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার উদ্দেশ্যে বিবি হাজেরা এবং ইসমাইলের গল্পটি যমযম কুপের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন। যদিও মুহাম্মদের মক্কা বিজয়ের পরে যমযম কুপের ওপর অমুসলিমদের আর কোন অধিকার থাকেনি, এটি শুধুমাত্র মুসলমানদের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল। যা আবদুল মুত্তালিবের চিন্তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আবদুল মুত্তালিব যে পৌত্তলিক ছিলেন, তার প্রমাণ পরবর্তীতে দেয়া হবে [1]

পৌত্তলিক 2
পৌত্তলিক 4
পৌত্তলিক 6
পৌত্তলিক 8

ইসলামের সূতিকাগার পৌত্তলিক কাবা

ইসলাম ধর্মের সাথে যে নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সেই নামটি হচ্ছে মক্কার কাবা। মুহাম্মদের জন্মের অনেক আগে থেকেই কাবা মক্কার সেই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো। মুহাম্মদের মক্কাবিজয়ের আগ পর্যন্ত কাবা এবং তার চারপাশের অঞ্চল প্রধানত সেক্যুলার, বহুত্ববাদী, বৈচিত্র্যময় ছিল বলেই প্রমাণ পাওয়া যায়। নানা ধর্মের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল সেই সময়ের কাবা। কাবায় সেসময়ে ছিল অসংখ্য দেবতা, অপদেবতা, উপদেবতা, আদিবাসীদের আঞ্চলিক দেবতা ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি। এমনকি ছিল জ্বীন থেকে শুরু করে নানা ধরণের অলৌকিক প্রাণী, পূর্বপুরুষের চিহ্ন, সাহিত্য সংগীত চিত্রকলা। সেখানে যেমন ছিল হুবাল দেবতার মূর্তি, তেমনি ছিল আব্রাহামিক ধর্ম অর্থাৎ ইহুদি খ্রিস্টান ধর্মের নবী ইব্রাহিম ও তার সন্তানের চিত্র। ধর্ম পালনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সেখানে ছিল, যার যে ধর্ম খুশী বেছে নেয়ার এবং সেই অনুসারে জীবনযাপনের অধিকার ছিল। আরবের নানা গোত্র সেখানে আসতো দেবদেবীর কাছে প্রার্থনা করতে, মানত করতে। প্রাক-ইসলামী আরব ছিল পৌত্তলিক, বহুত্ববাদী সংস্কৃতি, সেখানে রীতিমত কাব্যের লড়াই চলতো, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা হতো। কাবা ছিল হুবাল নামে এক দেবতার প্রতি উৎসর্গিত। হুবালই ছিল কাবার এবং মক্কার প্রধান দেবতা। সেই সাথে তার তিন কন্যা, তিন প্রধান দেবী লাত,উজ্জা ও মানাতের মূর্তি ছিল। একই সাথে ছিল আব্রাহামিক ধর্মের নবী ইব্রাহিমের মূর্তি। এর অর্থ হচ্ছে, সকল ধর্ম এবং মতের মানুষের সমান অংশগ্রহণ ছিল সেই মক্কায়। এর অর্থ হচ্ছে, যার যার ধর্ম তার তার, কাবা ছিল সবার।

মুহাম্মদের নতুন ধর্ম নিয়ে মক্কার কুরাইশদের প্রাথমিকভাবে কোন সমস্যা ছিল না। মুহাম্মদ তার নিজ ধর্ম প্রচার করতে শুরু করার পরেও পৌত্তলিকরা তাকে শুরুতে বাধা দেয়নি। যার প্রমাণ পাওয়া যায় সীরাত গ্রন্থগুলো থেকে। তাদের সাথে মুহাম্মদের শত্রুতার সুচনা হয় যখন মুহাম্মদ অন্য ধর্ম ও দেবদেবী সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য এবং কটূক্তি শুরু করে। এর অর্থ হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ অন্য ধর্মের অবমাননা না করে নিজ ধর্ম প্রচার করতে থাকলে তাকে কেউই কিছু বলতো না। কুরাইশদের আপত্তি আসলে ছিল অন্য ধর্মের অবমাননা নিয়ে। মুহাম্মদ যদি অন্য ধর্ম ধ্বংস এবং উচ্ছেদের কথা না বলতো, শুধুমাত্র নিজ ধর্ম প্রচার করতো, তাহলে কেউই তাকে বাধা দিতো না। এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এই লেখাটিতে [2]

একটি নতুন ধর্মের প্রয়োজনীয়তা

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতন (পশ্চিমাঞ্চল) সম্পর্কে জানা এবং বোঝা একেশ্বরবাদের বিকাশ এবং ইসলামের সুচনা সম্পর্কে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে রোমান সাম্রাজ্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল, এবং বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হচ্ছিল না। ৪১০ খ্রিষ্টাব্দে মূলত পতন ঘটে রোম শহরের। এরপর থেকে শত্রুর মোকাবেলা করে কাটাতে হয় বহু বছর। ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতাচ্যুত হন সম্রাট রমুলাস অগাস্টাস। বস্তুত ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দেই পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের অনানুষ্ঠানিক পতন ঘটে যায়। যদিও রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তখনও টিকে থাকে। এত বিশাল এক সাম্রাজ্যের এহেন ভয়াবহ অবস্থা আসলে নতুন সাম্রাজ্য তৈরির প্রেরনা এবং ছোট ছোট সৈন্যদল গঠনের দিকেই মানুষকে এগিয়ে নেয়। ঐতিহাসিকভাবেই এটি সত্য যে, বিশাল কোন সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথেই ছোট ছোট গোত্র বা দস্যুদলগুলো ক্ষমতাশালী হতে শুরু করে, যারা এতদিন বড় সাম্রাজ্যের ভয়ে সংগঠিত হতে পারেনি। সেইসাথে রোমান সাম্রাজ্যের দুরাবস্থা এটিও শিক্ষা দেয় যে, বৃহৎ সাম্রাজ্য শুধু অস্ত্রের জোরে তৈরি করলেই হয় না। মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ভীতি তৈরি করা, আতঙ্কিত করা এবং একই ধর্মের শুধুমাত্র একক কোন ঈশ্বরের অনুসারীতে পরিণত করাটি জরুরি। এতে শাসন কাজ সহজ হয়, সবাইকে একই আইন দ্বারা শাসন ও শোষণ করা সম্ভব হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন আইন এবং বিচার ব্যবস্থা, বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন দেবদেবীর উপাসনা এবং ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের ভিন্ন ভিন্ন আচরণ আসলে সাম্রাজ্য তৈরির ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। প্রজা বিদ্রোহ এবং বাইরের শত্রুদের আক্রমণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। তাই একটি একক ভাষা, একক ঈশ্বর, একই উপাসনা পদ্ধতি, একই আইন, কেন্দ্রীয় শাসকের প্রতি আনুগত্য, এগুলো সাম্রাজ্য গঠনের অন্যতম নিয়ামক হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিভিন্ন স্থানে একেশ্বরবাদের নানা রূপ এই সময়ে দেখা যায়, যার প্রধান কারণ ছিল রাজনীতি, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা।

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে, এমনকি মুহাম্মদের সমসাময়িক বেশ কয়েকজন নবীর কথা জানা যায়। এর থেকে বোঝা যায়, নবী হওয়া সেই সময়ে খুব একটা অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না। অনেক গোত্রের অনেক লোকই নিজেকে নবী দাবী করতো এবং নানা ধরণের জাদু দেখিয়ে মানুষের মধ্যে নিজ ধর্ম প্রচার করতো। অনেক সময় জাদু, অনেক সময় দলবল, অনেক সময় আক্রমণ করে ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করাই ছিল তাদের কৌশল। আজকের দিনে যেমন বাঙলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পীরবাবাদের উৎপাত, সেরকম না হলেই নবীদের উপদ্রোব সেই সময়ে আরবে অনেকটা একই আদলেরই ছিল। নিচে মুহাম্মদের সমসাময়িক কয়েকজন নবীর দাবীদারের নাম দেয়া হচ্ছে, মুহাম্মদের ক্ষমতাবান হওয়ার পরে তার সেনাবাহিনী এদের প্রায় সবাইকেই হত্যা করে। এই নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা হবে, আপাতত তাদের সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেয়া হচ্ছে।

  • তোলাইহা ইবনে খোওয়াইলেদ আল-আসাদীঃ মদীনার পাশে বনু আসাদ নামে একটি গোত্র ছিল। তোলাইহা ছিলেন সেই গোত্রের প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি। মুহাম্মদের জীবদ্দশায় সে মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করে এবং মুহাম্মদের মতই দলবল গঠন করে। আবু বকরের আমলে খালেদ ইবনে ওয়ালিদ তাকে যুদ্ধে পরাজিত করে।
  • সাজাহ বিনতে হারেশঃ মুহাম্মদের সময়ে একজন মহিলা নবীরও আবির্ভাব ঘটে। তিনি ছিলেন বনি তামীম গোত্রের একজন নারী সাজাহ বিনতে হারেস। পরবর্তীতে আরেক নবীর দাবীদার মোসায়লামা যাকে মুসলিমগণ মোসায়লামাতুল কাজ্জাব নামে ডাকে, তার সাথে তার বিয়েও হয়েছিল। মোসায়লামা নিহত হওয়ার পর সাজাহ ইসলাম গ্রহণ করে এবং বসরায় হিযরত করে, সেখানেই সে হিজরী ৫৫/৬৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করে।
  • মালেক ইবনে নোওয়াইবাঃ তিনি ছিলেন আরবে পৌত্তলিক যুগের একজন কবি। আবু বকরের আমলে নবীর দাবীদার হওয়ার অভিযোগে তাকে হত্যা করে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ।
  • আল-আসওয়াদ আল আনাসীঃ নিজেকে নবী বলে দাবি করে এই ভবিষ্যত বক্তা। ইয়েমেনের বেদুইন গোত্রগুলো তার প্রতি সমর্থন জানায়। নাজরানও হানিফ গোত্রে সে প্রভাব বিস্তার করে। মুহাম্মদ তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
  • মোসায়লামাতুল কাজ্জাবঃ উনি সেই সময়ের নবীদের মধ্যে মুহাম্মদের পরে সবচেয়ে বিখ্যাত। বনু হানিফা গোত্রের এই নবী মুহাম্মদকে চিঠি লিখে পরস্পরকে মেনে নেয়ার এবং সহাবস্থানের আহবান জানান। মুহাম্মদ তা প্রত্যাখ্যান করে তাকে কাজ্জাব বা মহামিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেন। খালেদ ইবনে ওয়ালিদের হাতে ইনিও নিহত হন।

মুহাম্মদের পৌত্তলিক বংশ

বর্তমান সময়ে বেশীরভাগ মুসলিমই হয়তো জানেন না, অথবা স্বীকার করতে চান না যে, নবী মুহাম্মদের জন্ম হয়েছিল একটি মুশরিক পরিবারে, যেখানে নবী মুহাম্মদ নিজেই তার বাবা মা চাচা সকলকে জাহান্নামী বলে ঘোষণা করে গেছে। আসুন সহিহ হাদিস থেকে বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাই করে নিই। নিচের হাদিসগুলো থেকে জানা যায়, চাচা আবু তালিব এবং দাদা আবদুল মুত্তালিব, দুইজনই ছিলেন মুশরিক এবং জাহান্নামী।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২০/ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৮৬৩. মুশরিক ব্যক্তি মৃত্যুকালে (কালিমা-ই-তাওহীদ) লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু উচ্চারণ করলে।
১২৭৭। ইসহাক (রহঃ) … সায়ীদ ইবনু মূসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল ইবনু হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়্যা ইবনু মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেন, চাচাজান! ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর অসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব।
আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হবে? এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে কালিমা পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক নাযিল করেন, ‏مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ‏ ‏ الآيَةَ নবীর জন্য সঙ্গত নয় … (সূরা তাওবাঃ ১১৩)।
( আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সংগত নয় যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী। )
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৯. মৃত্যু যন্ত্রনা আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার, মুশরিকদের ব্যাপারে ইসতিগফার (ইস্তিগফার) রহিত হওয়ার ও মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরনকারীর জাহান্নামী হওয়ার এবং তার কোনমতেই পরিত্রান না পাওয়ার দলীল।
৩৯। হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া আত তূজীবী (রহঃ) … সাঈদ ইবনু মূসায়্যাব (রহঃ)-এর সুত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ননা করেন যে, আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে উপস্থিত হলেন। সেখানে আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমায়্যা ইবনু মুগীরাকে দেখতে পেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচাজানো! আপনি কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলুন। আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য (এর উসিলায়) সাক্ষ্য দিব। আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমায়্যা বলল, হে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার ঐ কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন।
আবূ তালিব শেষ কথাটি এ বললেন যে, তিনি আবদুল মুত্তালিবের দ্বীনের উপরই রয়েছেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- বলতে অস্বীকার করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আপনার জন্য অবশ্যই ইসতিগফার- করতে থাকব, যতক্ষন না আমাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়, এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তায়াআলা নাযিল করেনঃ (অর্থ) আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের সঙ্গত নয় যখন সূস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী। (সূরা তাওবাঃ ১১৩) আর আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে আবূ তালিবের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে লক্ষ করে ইরশাদ করেনঃ (অর্থ) (হে রাসুল) আপনি যাকে চাইবেন তাকে পথ দেখাতে পারবেন না কিন্তু আল্লাহ পথ দেখান, যাকে ইচ্ছা করেন। আর তিনই সম্যক জ্ঞাত আছেন কাদের ভাগ্যে হিদায়াত আছে সে সষ্পর্কে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ)

আল-লুলু ওয়াল মারজান
১/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ১/৯. ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলা ঈমানের প্রথম।
১৬. মুসায়্যিব ইবনু হাযন্ বলেন, যখন আবূ তালেবের মৃত্যু ঘণিয়ে আসে তার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তার নিকট আবূ জাহল বিন হিশাম ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ ইবনু মুগীরাকে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবকে বললেন, হে চাচা! কালিমা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ বল, আমি তোমার জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার নিকট এর সাক্ষ্য দিবো। আবূ জাহল ও আব্দূল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ বলল, হে আবূ তালিব! তুমি ‘আব্দূল মুত্তালিব এর দ্বীন থেকে বিমুখ হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঐ কালিমা বার বার উপস্থাপন করতে থাকেন এবং তারা দু’জন বার বার ঐ কথা পুনরাবৃত্তি করতে থাকে এবং আবূ তালিবের সর্বশেষ কথা ছিল সে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপরে (মৃত্যু বরণ করল) এবং সে লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ বলতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকবো। যতক্ষণ না আমাকে এ থেকে নিষেধ করা হয়। তখন মহান আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৩: জানাযা, অধ্যায় ৮১, হাঃ ১৩৬০; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, হাঃ ২৪
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ)

সহিহ হাদিস থেকে এটিও জানা যায়, মুহাম্মদের পিতা এবং মাতা উভয়ই জাহান্নামী।

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছদঃ ৮২. কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী জাহান্নামী; সে কোন শাফায়াত পাবে না এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী বান্দার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কও তার উপকারে আসবে না
৩৯৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। জনৈক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা কোথায় আছেন (জান্নাতে না জাহান্নামে)? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নামে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি যখন পিছনে ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি ডাকলেন এবং বললেনঃ আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে।”
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৬/ জানাযা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬/৪৮. মুশরিকদের কবর যিয়ারত।
১/১৫৭২। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করেন। তিনি কান্নাকাটি করেন এবং তাঁর সাথের লোকেদেরও কাঁদান। অতঃপর তিনি বলেন : আমি আমার রবের নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আমি আমার রবের নিকট তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়।
মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ ইরওয়াহ ৭৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২১/ জানাজা
পরিচ্ছদঃ ১০১/ মুশরিকের কবর যিয়ারত করা
২০৩৮। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাতার কবর যিয়ারত করার সময় ক্রন্দন করলেন, তার আশ পাশের সবাইও ক্রন্দন করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আম্মার মাগাফিরাতের অনুমতি চাইলাম কিন্তু আমাকে তার অনুমতি প্রদান করা হল না। অতঃপর তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তার অনুমতি দেওয়া হয়। তাই তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা তা তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
(সহীহ। ইবন মাজাহ ১৫৭২, ইরউয়াউল গালীল ৭৭২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উপরের হাদিসগুলো থেকে বেশ পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়, নবী মুহাম্মদের জন্ম হয়েছিল একটি কাফের ও মুশরিক অর্থাৎ পৌত্তলিক পরিবারে। সেই হিসেবে নবী মুহাম্মদের বেড়ে ওঠাও হয়েছে পৌত্তলিক পরিবেশে, পৌত্তলিক সংস্কৃতির মধ্যে।

মুহাম্মদের কৈশোর এবং পৌত্তলিকতা

মুসলিমদের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত গল্প হচ্ছে, মুহাম্মদ যৌবনে কাবার হাজরে আসওয়াদ পাথরের স্থানান্তরণ নিয়ে একটি প্রায় বেঁঁধে যাওয়া যুদ্ধ থামিয়েছিলেন নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, হিলফুল ফুজুল নামক সংগঠন তৈরির মাধ্যমে। সেই বিষয়ে একটু পরেই আলোচনা হবে। সেসময়েই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন কাবার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব। মূলত সেই সময় থেকেই তার মাথায় এই চিন্তার উদ্ভব হয়, যে গোত্রগুলোর মধ্যে এক ধরণের ভ্রাতৃত্ববোধ কায়েম করতে পারলে আরব ভূমিতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গঠন করা সম্ভব। কিন্তু গোত্রগুলো একে অপরের শত্রু থাকার কারণে অন্যান্য শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলো সহজেই তাদের কাবু করতে পারতো। মুহাম্মদের আগে থেকেই এই ধরণের কিছু চেষ্টা হয়েছিল, যেন পুরো আরব ভূমিকে একই সাম্রাজ্যের অধীনে নিয়ে আসা যায়। এমনটি ঘটা খুবই স্বাভাবিক যে, মুহাম্মদও সেই সময়ে স্বপ্ন দেখতে লাগলো, একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর। একটি সাম্রাজ্যের। তাই একসময়ে মুসলমানগণ জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়লেও তিনি পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে কাবার দিকে মুখ করে নামাজের নিয়ম প্রবর্তন করেন। এবং পৌত্তলিকরা যেভাবে কাবাকে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছিল, তিনিও একই কায়দায় কল্পিত কিছু উপকথাকে প্রয়োজনমত সংযোজন বিয়োজন করে কাবার ওপর মুসলমানদের দখলদারিত্ব আরোপ করেন। যদিও কাবা পরিষ্কারভাবেই পৌত্তলিকদের উপাসনালয় ছিল। হাদিস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ অসংখ্য দেবদেবীর মূর্তিতে পরিপূর্ণ পৌত্তলিকদের তীর্থস্থান কাবার নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিল।

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩/ হায়েয
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সতর ঢাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা
৬৬৪। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মায়মূন, ইসহাক ইবন মানসুর ও মুহাম্মাদ ইবন রাফি’ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কাবা নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস (রাঃ) পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আব্বাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, পাথর বহনের সুবিধার্থে তোমার লুঙ্গি কাঁধের ওপর তুলে নাও। এরপর তিনি এরুপ করলেন। সাথে সাথেই তিনি (বেহুশ হয়ে) মাটিতে পড়ে গেলেন। আর তার উভয় চোখ আকাশের দিকে নিবদ্ধ হল। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, আমার লুঙ্গি! আমার লুঙ্গি! এর পর তার লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। ইবনু রাফি তাঁর রিওয়ায়েতে কাঁধের স্থলে ঘাড়ের উল্লেখ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

বালক মুহাম্মদ
শিল্পীর আঁকা তরুণ মুহাম্মদ

ইসলামপূর্ব মক্কার একেশ্বরবাদীগণ

মুহাম্মদের পুর্বে মক্কায় একেশ্বরবাদীগণের একেশ্বরবাদের প্রচার করতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাদের এই একেশ্বরবাদী আন্দোলন সফল হয়নি। ব্যর্থ আন্দোলনটির অনেককেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, অনেকে হয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার। এদের মধ্যে প্রধান ছিলেন যায়দ ইবনে আমর ইবন নুফায়ল, ওয়ারাকা ইবনে নওফল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল ওযযা, উছমান ইবন হুয়ায়রিছ ইবনে আসাদ ইবন আব্দুল ওযযা ও আব্দুল্লাহ ইবন জাহশ, আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা উমাইয়া ছিলেন তার মা ৷ মুহাম্মদের স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহ্শ হলেন তার বোন ৷এছাড়াও মুহাম্মদের মাধ্যমে ইসলাম কবুল করা সাইদ বিন জায়েদ সহ আরো কয়েকজন ছিলেন, যারা পূর্ব থেকেই একেশ্বরবাদী ছিলেন।

যায়দ ইবনে আমর

মুহাম্মদ সর্বপ্রথম যায়দ ইবনে আমর ইবন নুফায়ল এর কাছ থেকেই দ্বীনে ইব্রাহিম ধর্ম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। এই যায়দ ইবনে আমরের ছেলে ছিলেন সাইদ, যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মুহাম্মদের একজন প্রখ্যাত সাহাবী ছিলেন। সাইদের কাছে মুহাম্মদ বলেছেন যে, যায়দ ইবনে আমর কেয়ামতের ময়দানে একাই এক উম্মত হিসেবে আবির্ভূত হবেন। এই যায়দ ইবনে আমর ইবন নুফায়লের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন ওয়ারাকা ইবনে নওফল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল ওযযা, যিনি ছিলেন মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের চাচাতো ভাই। ওয়ারাকা ইবনে নওফল যায়দ ইবনে আমরের মৃত্যুতে একটি শোকগাথাও রচনা করেছিলেন। [3]

পৌত্তলিক 11
পৌত্তলিক 13

যায়দ ইবনে আমরের ঘটনাটি বুখারী এবং নাসাই শরীফেও বর্ণনা করা আছে [4]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৭২/ যবহ ও শিকার
পরিচ্ছেদঃ ৭২/১৬. যে জন্তুকে দেব-দেবী ও মূর্তির নামে যবহ করা হয়।
৫৪৯৯. ’’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বালদাহ’র নিম্নাঞ্চলে যায়দ ইবনু ’আমর ইবনু নবীাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অহী অবতীর্ণ হবার পূর্বের ঘটনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দস্তরখান বিছানো হল। তাতে গোশত ছিল। তখন যায়দ ইবনু ’আমর তা থেকে খেতে অস্বীকার করলেন। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের দেব-দেবীর নামে যা যবহ কর, তা থেকে আমি খাই না। আমি কেবল খাই যা আল্লাহর নামে যবহ করা হয়েছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৯০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

ওয়ারাকা বিন নওফলের ভূমিকা

ওয়ারাকা ইবনে নওফল ইবনে আসাদ ইবনে আবদ-আল-উজ্জা ইবনে কুসাই আল-কুরাইশ ছিলেন একজন আরব ধর্মযাজক। তিনি ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং আরবি ভাষায় খ্রীস্টানদের ইনজীল কিতাব অনুবাদ করতেন তবে তিনি সম্পূর্ণ অনুবাদ সম্পন্ন করতে পারেন নি। তিনি ইহুদী ও খ্রীস্টধর্ম বিষয়ে পণ্ডিত ছিলেন এবং আব্রাহামিক ধর্মের গল্পগুলো যেমন নুহের গল্প, আদম হাওয়া কিংবা ইব্রাহিমের গল্প, সোলায়মান বা দাউদের গল্প, এগুলো সম্পর্কে ভালভাবে জানতেন। তিনি ছিলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের (মুহাম্মাদে প্রথম স্ত্রী) চাচাতো ভাই। হেরা পাহারের গুহায় গিয়ে প্রার্থনা করার সময় মুহাম্মদ একবার ভয় পেলে খাজিদা তাকে ওয়ারাকা বিন নওফলের কাছে নিয়ে আসেন এবং নওফল মুহাম্মদকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, মুহাম্মদ নবী হয়ে গেছেন। একইসাথে ভবিষ্যতবানী করেন যে, মক্কার কুরাইশরা তাকে বহিষ্কার করবে। কারণ ইতিপূর্বে তার খুবই ঘনিষ্ট সহচর যায়দ ইবনে আমরের সাথেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তার সম্পর্কে একটি জইফ হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি জান্নাতী [5], হাদিসটি জইফ হওয়ায় এখানে উল্লেখ করা হলো না। তবে বুখারীতে তার সম্পর্কে পরিষ্কার বিবরণ পাওয়া যায় [6]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪৫৯০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৯৫৩ – ৪৯৫৪
৪৫৯০। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র ও সাঈদ ইবনু মারওয়ান (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহী শুরু হয়েছিল। ঐ সময় তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন, তা প্রভাতের আলোর মতই সুস্পষ্ট হত। এরপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে উঠলো। তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং পরিবার-পরিজনের কাছে আসার পূর্বে সেখানে একটানা কয়েকদিন পর্যন্ত তাহান্নুস করতেন। তাহান্নুস মানে বিশেষ নিয়মের ইবাদত। এজন্য তিনি কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদিজা (রাঃ) কাছে ফিরে এসে পুনরায় অনুরূপ কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। অবশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় আকস্মিক তাঁর কাছে সত্যবানী এসে পৌঁছল। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন, পড়ুন। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি পড়তে পারিনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন। এতে আমি খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারিনা। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি দ্বিতীয়বারের মত আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন। এবারও আমি খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি পড়তে পারিনা। এরপর তিনি তৃতীয়বারের মত আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন। এবারও আমি খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড) হতে। পাঠ করুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”।
এরপর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। এসময় তাঁর কাঁধের পেশী ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। খাদিজার কাছে পৌঁছেই তিনি বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তখন সকলেই তাঁকে বস্ত্রাবৃত করল। অবশেষে তাঁর ভীতি কেটে গেলে তিনি খাদিজাকে বললেন, খাদিজা আমার কি হল? আমি আমার নিজের সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। এরপর তিনি তাঁকে সব খুলে বললেন। একথা শুনে খাদিজা (রাঃ) বললেন, কখনো নয়। আপনার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহর কসম! আল্লাহ কখনো আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেন, সত্য কথা বলেন, অসহায় লোকদের কষ্ট লাঘব করে দেন, নিঃস্ব লোকদের উপার্জন করে দেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং সত্যের পথে আগত বিপদাপদে লোকদের সাহায্য করে থাকেন। তারপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনু নাওফালের কাছে গেলেন। তিনি জাহেলী যুগে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবীতে বই লিখতেন। আর তিনি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী আরবীতে ইনজীল কিতাব অনুবাদ করে লিখতেন। তিনি খুব বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
খাদিজা (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলতে চায় তা শুনুন। ওয়ারাকা বললেন, হে আমার ভাতিজা! তুমি কি দেখেছ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছেন তা খুলে বললেন। ওয়ারাকা বললেন, এটা তো সেই ফেরেশতা যাকে পাঠানো হয়েছিল মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে। আহ! আমি যদি যুবক হতাম। আহ! সেসময় আমি যদি জীবিত থাকতাম। এরপর তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করলে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যই তারা কি আমাকে তাড়িয়ে দিবে? ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ, তারা তোমাকে তাড়িয়ে দিবে। তুমি যে দাওয়াত নিয়ে এসেছ, এ দাওয়াত যেই নিয়ে এসেছে তাকেই কষ্ট দেয়া হয়েছে। তোমার নবুয়তকালে আমি জীবিত থাকলে অবশ্যই আমি বলিষ্ঠভাবে তোমাকে সাহায্য করতাম। কিন্তু কিছুদিন পরেই ওয়ারাকা ইন্তেকাল করলেন এবং ওহী নাযিলও বেশ কিছিদিন ধরে বন্ধ ছিল যে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী বন্ধ থাকা সময়কাল সম্পর্কে আলোচনার মাঝে বলেন, একবার আমি পথে হাঁটছিলাম, তখন আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উপরে তুলেই আমি দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন তিনি আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছেন। আমি এতে ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। সুতরাং সকলেই আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন” (সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত ০১-০৫)। আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আরবরা জাহেলী যুগে সেসব মূর্তির পূজা করত তাদের الرجز বলে ঐসব মূর্তিকে বুঝানো হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে ওহীর সিলসিলা অব্যাহত থাকে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

ওয়ারাকার মৃত্যু ও ওহী বন্ধ

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ওয়ারাকা জীবিত থাকাকালীন মুহাম্মদের কাছে নিয়মিত ওহী নাজিল হতে থাকে, কিন্তু তার মৃত্যুর পরেই তার কাছে ওহী নাজিল বন্ধ হয়ে যায়। মুহাম্মদ এসময়ে এতই ভেঙ্গে পড়েন যে, তিনি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। কেন ওহী আসা বন্ধ ছিল, কেনই বা তিনি আত্মহত্যা করতে পাহাড়ের চুড়ায় যেতেন, সেগুলো যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। [7] [8]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ (6982)
অধ্যায়ঃ ৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
…এরপর কিছু দিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওয়াহীও বন্ধ থাকে। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার কারণে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিবরীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিবরীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী

চিকিৎসক হারিস ইবনে কালাদা

হারিস ইবনে কালাদা ছিলেন মুহাম্মদের আমলের একজন আরব চিকিৎসক। কথিত আছে যে, তিনি ইসলামের আবির্ভাবের আগে চিকিৎসা বিষয়ক জ্ঞান আহরণের জন্য গুন্দেশপুর ভ্রমণ করেছিলেন। অসংখ্য ইসলামিক গ্রন্থে তার সম্পর্কে কিছু কিছু বিবরণ পাওয়া যায়, তবে বিস্তারিত জানা যায় না। এরকম হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, তিনি সেই সময়ে রীতিমত মানুষের চিকিৎসা করতেন এবং শরীর, স্বাস্থ্য, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ইত্যাদি বিষয়ক পরামর্শ দিতেন এবং আলোচনা করতেন। আসুন উনার সম্পর্কে একটি ফতোয়া দেখি,

২১৯৯. প্রশ্ন
আমি একজন আলেমকে স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে নিম্নোক্ত হাদীসটি বলতে শুনেছি।
المعدة بيت الداء، والحمية رأس الدواء، وأعط كل بدن ما عودته
(অর্থাৎ) উদর হল সর্বরোগের কেন্দ্র। আর খাদ্য-সংযম সর্বরোগের মহৌষধ। দেহকে তা-ই দাও, যাতে তাকে অভ্যস্ত করেছ। জানার বিষয় হল, এটি কি হাদীস। হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত কথাটি কোথাও হাদীস হিসেবে উল্লেখেতি হলেও হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে প্রমাণিত নয়; বরং তা আরবের প্রসিদ্ধ চিকিৎসক হারিস ইবনে কালদাহ-এর উক্তি।
অতএব তা হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না।
-আলমাকাসিদুল হাসানাহ পৃ. ৬১১; কাশফুল খাফা ২/৯৩; আদ্দুরারুল মুনতাছিরাহ ১৬৮; আল লাআলিল মানসুরাহ ১৪৫; আলফাওয়াইদুল মাজমূআহ ১৬৬; যাদুল মাসীর ৩/১৮৮; রুহুল মাআনী ৫/১১০; তাফসীরে কুরতুবী ৭/১৯২

শুধু তাই নয়, উনার সম্পর্কে কিছু জইফ হাদিসও পাওয়া যায়। জইফ হাদিসগুলো সঠিক হয়ে থাকলে, মুহাম্মদ তার কাছে মানুষকে চিকিৎসা নেয়ার জন্য পাঠাতেন বলেই মনে হয়। উনি গ্রীসের চিকিৎসকদের গ্রন্থগুলো আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন বলেও কিছু কিছু সূত্র থেকে জানা যায়।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৪২২৪-[৬৬] সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি মারাত্মকভাবে পীড়িত হয়ে পড়লাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ-খবর নিতে তাশরিফ আনলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের হাতখানা আমার দু’ স্তনের মাঝখানে (বুকের উপর) রাখলেন। তাতে আমি আমার কলিজায় শীতলতা অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি একজন হৃদ-বেদনার রোগী। সুতরাং তুমি সাক্বীফ গোত্রীয় হারিস ইবনু কালদাহ্-এর নিকট যাও। সে একজন চিকিৎসক। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে যেন অবশ্যই মদীনার সাতটি ‘আজওয়াহ্ খেজুর বীচিসহ পিষে তোমার মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়। (আবূ দাঊদ)[1]
[1] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮৭৫, য‘ঈফুল জামি‘উস্ সগীর ২০৩৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিতু ত্ববারানী ৫৩৪৬, য‘ঈফুল জামি‘ ২০৩৩।
হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো মুজাহিদ সা‘দ হতে বর্ণনা করাটা মুরসাল। আবূ যুর্‘আহ্ আর্ রাযী এমনটিই বলেছেন। বিস্তারিত দেখুন- ‘আওনুল মা‘বূদ ১০/২৫৫ পৃঃ, হাঃ ৩৮৭৫।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)
বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২২/ চিকিৎসা
পরিচ্ছেদঃ ১২. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে।
৩৮৩৫. ইসহাক ইবন ইসমাইল (রহঃ) …. সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি পীড়িত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখার জন্য আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের উপর রাখলে আমি তাঁর শৈত্যতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেনঃ তুমি হার্টের রুগী। কাজেই তুমি ছাকীফ গোত্রের অধিবাসী হারিছা ইবন কালদার নিকট যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদীনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে, তা বীচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরী করে দেয়।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)
বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

পূর্ববর্তী নবীদের গল্প জানা

একটি প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক যে, মুহাম্মদ যদি লিখতে পড়তে না জেনে থাকেন, তাহলে পূর্ববর্তী নবীদের গল্প তিনি কীভাবে জানলেন? এর উত্তর হাদিস থেকেই জানা যায়। হাদিসেই বর্ণিত আছে, মুহাম্মদের আমলে ইহুদি খ্রিস্টানগণ হিব্রুভাষায় তাদের গ্রন্থ মানুষকে পড়ে শোনাতেন এবং আরবিতে অনুবাদও করে শোনাতেন। মুহাম্মদ তার অনুসারীদের বারবার নিষেধ করতেন তাদের কাছে কিছু জিজ্ঞেস না করতে। সেইসাথে, কোরআনেই এই বিষয়ে পরিষ্কার আয়াত রয়েছে, যা পড়লে বোঝা যায় যে, সেই সময়ের পৌত্তলিক কুরাইশ এবং অন্যান্যরাও মুহাম্মদের এই আয়াতগুলো নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতো [9] [10] [11]

তারা বলে- ‘এগুলো পূর্ব যুগের কাহিনী যা সে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)] লিখিয়ে নিয়েছে আর এগুলোই তার কাছে সকাল-সন্ধ্যা শোনানো হয়।’
— Taisirul Quran
এবং তারা বলেঃ এগুলিতো সেকালের উপকথা যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলি সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়।
— Sheikh Mujibur Rahman
তারা বলে, ‘এটি প্রাচীনকালের উপকথা যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করা হয়।
— Rawai Al-bayan
তারা আরও বলে, ‘এগুলো তো সে কালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; তারপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে পাঠ করা হয়।’
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
And they say, “Legends of the former peoples which he has written down, and they are dictated to him morning and afternoon.”
— Saheeh International

এভাবেই আমি নিদর্শনগুলোকে বার বার নানাভাবে বর্ননা করি। যার ফলে তারা (অর্থাৎ অবিশ্বাসীরা) বলে, তুমি (এসব কথা অন্যের কাছ থেকে) শিখে নিয়েছ, বস্তুত আমি জ্ঞানী লোকদের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করি।
— Taisirul Quran
এ রূপেই আমি নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করি, যেন লোকেরা না বলে – তুমি কারও নিকট থেকে পাঠ করে নিয়েছ, আর যেন আমি একে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য প্রকাশ করে দিই।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর এভাবেই আমি নানাভাবে আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি এবং যাতে তারা বলে, তুমি পাঠ করেছ এবং আমি যাতে বর্ণনা করি, এ কুরআন এমন কওমের জন্য যারা জানে।
— Rawai Al-bayan
আর এভাবেই আমরা নানাভাবে আয়াতসমূহ বিবৃত করি [১] এবং যাতে তারা বলে, ‘আপনি পড়ে নিয়েছেন [২]’, আর যাতে আমরা এটাকে [৩] সুস্পষ্টভাবে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বর্ণনা করি [৪]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
And thus do We diversify the verses so they [i.e., the disbelievers] will say, “You have studied,”1 and so We may make it [i.e., the Qur’ān] clear for a people who know.
— Saheeh International

আমি জানি, তারা বলে, ‘এক মানুষ তাকে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)-কে] শিখিয়ে দেয়।’ অথচ দুষ্টবুদ্ধি প্রণোদিত হয়ে তারা যে লোকটির কথা বলছে তার ভাষা তো অনারব, অপরপক্ষে কুরআনের ভাষা হল স্পষ্ট আরবী।
— Taisirul Quran
আমিতো জানিই তারা বলেঃ তাকে শিক্ষা দেয় জনৈক ব্যক্তি। তারা যার প্রতি এটা আরোপ করে তার ভাষাতো আরাবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরাবী ভাষা
— Sheikh Mujibur Rahman
আর আমি অবশ্যই জানি যে, তারা বলে, তাকে তো শিক্ষা দেয় একজন মানুষ, যার দিকে তারা ঈঙ্গিত করছে, তার ভাষা হচ্ছে অনারবী। অথচ এটা হচ্ছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষা।
— Rawai Al-bayan
আর আমরা অবশ্যই জানি যে, তারা বলে, ‘তাকে তো কেবল একজন মানুষ [১] শিক্ষা দেয়’। তারা যার প্রতি এটাকে সম্পর্কযুক্ত করার জন্য ঝুঁকছে তার ভাষা তো আরবী নয়; অথচ এটা- কুরআন- হচ্ছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষা।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯৯. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর বাণীঃ আহলে কিতাবদের কাছে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না। আবুল ইয়ামান (রহঃ) বলেন, শুয়াইব (রহঃ), ইমাম যুহরী (রহঃ) হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মু’আবিয়া (রাঃ) কে মদীনায় বসবাসরত কুরায়শ বংশীয় কতিপয় লোককে আলাপ-আলোচনা করতে শুনেছেন। তখন কা’ব আহযাবের কথা এসে যায়। মু’আবিয়া (রাঃ) বললেন, যারা পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেন, তাদের মধ্যে তিনি অধিকতর সত্যবাদী, যদিও বর্ণিত বিষয়সমূহ ভিত্তিহীন
৬৮৫৯। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব হিব্রু ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের সামনে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। (এই প্রেক্ষিতে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আহলে কিতাবকে তোমরা সত্যবাদী মনে করো না এবং তাদেরকে মিথ্যাবাদীও ভেবো না। তোমরা বলে দাও, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ন হয়েছে এর প্রতি …. শেষ পর্যন্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯৯. রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর বাণীঃ আহলে কিতাবদের কাছে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না। আবুল ইয়ামান (রহঃ) বলেন, শুয়াইব (রহঃ), ইমাম যুহরী (রহঃ) হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মু’আবিয়া (রাঃ) কে মদীনায় বসবাসরত কুরায়শ বংশীয় কতিপয় লোককে আলাপ-আলোচনা করতে শুনেছেন। তখন কা’ব আহযাবের কথা এসে যায়। মু’আবিয়া (রাঃ) বললেন, যারা পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেন, তাদের মধ্যে তিনি অধিকতর সত্যবাদী, যদিও বর্ণিত বিষয়সমূহ ভিত্তিহীন
৬৮৬০। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কিভাবে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা কর? অথচ তোমাদের কিতাব (আল-কুরআন) তাঁর রাসূলের উপর সদ্য নাযিল হয়েছে, তা তোমরা পড়ছ। যা পূত-পবিত্র ও নির্ভেজাল। এই কিতাব তোমাদেরকে বলে দিচ্ছে, আহলে কিতাবগণ আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তন ও বিকৃত করে দিয়েছে। তারা স্বহস্তে কিতাব লিখে তা আল্লাহর কিতাব বলে ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তার দ্বারা সামান্য সুবিধা লাভ করতে পারে। তোমাদের কাছে যে (কিতাব ও সুন্নাহর) ইল্‌ম রয়েছে তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করছে না? আল্লাহর কসম! আমরা তো তাদের কাউকে দেখিনি কখনো তোমাদের উপর অবতীর্ণ কিতাবের বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবন ‘উতবাহ (রহঃ)

তাফসীর গ্রন্থগুলো থেকে আসুন দেখে নিই, সেই সময়ের কাফেরদের বক্তব্যগুলো যা জেনে নেয়া প্রয়োজন। বলাবাহুল্য যে, মুসলিমরা কাফেরদের এই কথাগুলো বিশ্বাস করে না, তাই তাদের গ্রন্থেও এগুলো মিথ্যা কথা সেটিই লেখা থাকবে। যে যুক্তিগুলো মুসলিমদের পক্ষে যায়, মুসলিমদের গ্রন্থে সেগুলোই থাকবে। কাফেরদের যুক্তিগুলো নিশ্চয়ই মুসলিমরা তাদের গ্রন্থে লিখবে না [12]

পৌত্তলিক 15

কুরাইশ বংশ এবং নবীর বংশপ্রেম

নবী মুহাম্মদ তার পৌত্তলিক বংশ নিয়ে খুবই গর্বিত ছিলেন। বহুস্থানেই এমন পাওয়া যায়, যে তিনি গর্ব করে নিজেকে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র বলে দাবী করছে। পৌত্তলিক কুরাইশ বংশ এবং তার পৌত্তলিক বাপদাদা নিয়ে তার গর্বের সীমা ছিল না।

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ২৮. হুনায়নের যুদ্ধ
৪৪৬৫। আহমাদ ইবনু জানাব মিসসিসী (রহঃ) … আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বারা (রাঃ) এর নিকট এসে বললো, আপনারা কি হুনায়নের দিনে পলায়ন করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি পলায়ন করেন নি। কিন্তু কিছু সংখ্যক অতি ব্যস্ত ও বর্মহীন লোক হাওয়ায়িন গোত্রের দিকে গিয়েছিল। আর তারা ছিল তীরন্দায সম্প্রদায়। তারা তাদের প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে তীর ছুড়লো, যেন সেগুলো পঙ্গপালের পায়ের মত। তখন তারা পিছন দিকে হটে গেল। আর লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এগিয়ে এলো। আবূ সুফিয়ান ইবনু হারেস (রাঃ) তাঁর খচ্চর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দুআ করলেন এবং তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর নবী, একথা মিথ্যে নয়। আমি আবদূল মুত্তালিব এর পুত্র। “ইয়া আল্লাহ! আপনার সাহায্য নাযিল করুন”।
বারা (রাঃ) বললেনঃ, আল্লাহর কসম! যুদ্ধের-উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠল, তখন আমরা তার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই যিনি যুদ্ধে তাঁর অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়াতে সাহসী হত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ইসহাক (রহঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ৫৬/৯৭. পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজের সওয়ারী থেকে নামা ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।
২৯৩০. বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবূ উমারা! হুনায়নের দিন আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার ছাড়াই অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বানূ হাওয়াযিন ও বানূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর সাদা খচ্চরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারিস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন। (২৮৬৪) (মুসলিম ৩২/২৮ হাঃ ১৭৭৬, আহমাদ ১৮৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ)

একইসাথে, মুহাম্মদ কুরাইশ বংশকে সম্মানিত বংশ এবং খিলাফতের দাবীদার হিসেবে বলে গেছেন। এত সময় ধরে পৌত্তলিকতার চর্চা করা কুরাইশ বংশ কেন এত সম্মানের অধিকারী হয়ে যাবে, কেয়ামত পর্যন্ত তারাই শাসক হিসেবে নির্বাচিত হবে, এটি কেমন কথা! এর চাইতে তো ইহুদি খ্রিস্টানগণ দ্বীনে ইব্রাহীমের অনেক কাছাকাছি ছিল। ইসলামে অসংখ্য হাদিসে কুরাইশ বংশকে শাসন করার জন্য, বিশেষ মর্যাদার অধিকারী বংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, কুরাইশ বংশের একজন অযোগ্য ব্যক্তিও অন্যান্য গোত্রের একজন যোগ্য ব্যক্তির চাইতে বিশেষ সম্মানের অধিকারী হবে, শুধুমাত্র তার জন্ম কুরাইশ বংশে হয়েছে এই কারণে। আসুন হাদিসগুলো পড়ে দেখি, [13] [14] [15] [16]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৪/ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন
পরিচ্ছেদঃ ১. জনগন কুরায়শ এর অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শ এর জন্য
৪৫৫০। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কানাব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জনগণ এর বিষয়ে (প্রশাসনিক ব্যাপারে) কুরায়শদের অনুসারী। মুসলিমরা তাদের মুসলিমদের এবং কাফেররা তাঁদের কাফেরদের (অনুসারী)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৩৪। প্রশাসন ও নেতৃত্ব
পরিচ্ছেদঃ ১. জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত
৪৫৯৭-(৩/১৮১৯) ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) ….. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন ভাল-মন্দ উভয় ব্যাপারেই কুরায়শদের অনুসারী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৫২, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৫৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৬. আমীর কুরাইশদের থেকে হবে
৬৬৫৪। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, তারা কুরাইশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট ছিলেন। তখন মুআবিয়া (রাঃ) এর নিকট সংবাদ পৌছল যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, অচিরেই কাহতান গোত্র থেকে একজন বাদশাহ হবেন। এ শুনে তিনি ক্ষুদ্ধ হলেন এবং দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহ তা’আলার যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, তারপর তিনি বললেন, যা হোক! আমার নিকট এ মর্মে সংবাদ পৌছেছে যে, তোমাদের কতিপয় ব্যাক্তি এরূপ কথা বলে থাকে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত নেই। এরাই তোমাদের মাঝে সবচেয়ে অজ্ঞ। সুতরাং তোমরা এ সকল মনগড়া কথা থেকে যা স্বয়ং বক্তাকেই পথভ্রষ্ট করে সতর্ক থাক। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, (খিলাফতের) এ বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতদিন তারা দ্বীনের উপর কায়েম থাকবে। যে কেউ তাদের সঙ্গে বিরোধিতা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তাকেই অধোমুখে নিপতিত করবেন। নুআয়ম (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সুত্রে শুআয়ব এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৬. আমীর কুরাইশদের থেকে হবে
৬৬৫৫। আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (খিলাফতের) এই বিষয়টি সর্বদাই কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতদিন তাদের থেকে দু’জন লোকও অবশিষ্ট থাকবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

একইসাথে, নবী মুহাম্মদ সকল মুসলমানের জন্য কুরাইশ আমীরের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন [17]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮২/ আহকাম
পরিচ্ছেদঃ ৩০০৮. ইমামের আনুগত্য ও মান্যতা, যতক্ষন তা নাফরমানীর কাজ না হয়
৬৬৫৮। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ তার আমীর (ক্ষমতাসীন) থেকে এমন কিছু দেখে, যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে কেউ জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দুরে সরে মরবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

অসংখ্য সহিহ হাদিসে নবী মুহাম্মদের বংশের প্রশংসা করা হয়েছে, এবং তার বংশকে সবচাইতে উঁচু স্থান দেয়া হয়েছে। নিচের হাদিসটি পড়ুন- [18] [19]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. আনসারগণের ও কুরাইশদের মর্যাদা
৩৯০৫। মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রহঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ কুরাইশদেরকে অপদস্ত করার ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে অপদগ্ৰস্ত করবেন।
সহীহঃ সহীহাহ (১১৭৮)।
আবূ ঈসা বলেন, এ সনদ সূত্রে হাদীসটি গারীব। আবদ ইবনু হুমাইদ-ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু সা’দ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি সালিহ ইবনু কাঈসান হতে, তিনি ইবনু শিহাব (রাহঃ) হতে উক্ত সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪৪। ফাযীলাত
পরিচ্ছেদঃ ১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশের ফযীলত এবং নুবুওয়াত প্রাপ্তির আগে (তাকে) পাথরের সালাম করা প্রসঙ্গ
৫৮৩২-(১/২২৭৬) মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী ও মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহম (রহঃ) …… আবূ আম্মার শাদ্দাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ওয়াসিলাহ্ ইবনু আসকা (রহঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ মহান আল্লাহ ইসমাঈল (আঃ) এর সন্তানদের থেকে কিনানাহ-কে চয়ন করে নিয়েছেন, আর কিনানাহ (‘র বংশ) হতে, কুরায়শ’ কে বাছাই করে নিয়েছেন আর কুরায়শ (বংশ) হতে বানু হাশিমকে বাছাই করে নিয়েছেন এবং বানু হাশিম হতে আমাকে বাছাই করে নিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭৩৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৭৭০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

একইসাথে, রাজত্ব করার জন্য মুহাম্মদ কুরাইশ বংশকে নির্ধারণ করে গেছেন, আর আযান দেয়ার জন্য নির্ধারণ করে গেছেন হাবশী বা কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের। ধরা যাক, একজন বাঙালি মানুষ নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বেশি যোগ্য। অথচ, যোগ্যতা থাকার পরেও সে কুরাইশ না হওয়ার কারণে খলিফা হতে পারবে না [20]

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৪৬/ রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তার সাহাবীগণের মর্যাদা
পরিচ্ছেদঃ ৭২. ইয়ামানের মর্যাদা
৩৯৩৬। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাজত্ব কুরাইশদের মাঝে, বিচার-বিধান আনসারদের মধ্যে, (সুমধুর সুরে) আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানতদারি আযদ অর্থাৎ ইয়ামানবাসীদের মাঝে।
সহীহঃ সহীহাহ (১০৮৩)।
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি মু’আবিয়াহ ইবনু সালিহ হতে, তিনি আবূ মারইয়াম আল-আনসারী হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়। এ হাদীস যাইদ ইবনু হুবাবের বর্ণিত হাদীসটির তুলনায় অনেক বেশি সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

হিলফুল ফুজুল সংগঠন

একটি দাবী প্রায়শই মুসলিমদের পক্ষ থেকে শোনা যায়, সেটি হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ যৌবনের সময়েই হিলফুল ফুজুল নামক সংগঠন তৈরি করে মক্কার তরুনদের নেতা হয়ে যান! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, হিলফুল ফুজুল সংগঠনটি তৈরি করেছিলেন মুহাম্মদের পৌত্তলিক চাচা আয যুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিব যিনি মুহাম্মদের ধর্ম প্রচারের বহু পূর্বেই নানা জনকল্যানমূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তার ভাই আবু তালিবের সাথে তিনি তীর্থযাত্রীদের জন্য খাবার ও পানীয় সরবরাহের পারিবারিক বাধ্যবাধকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তরুণ মুহম্মদ এর যৌথ অভিভাবকত্বও পালন করেছেন। বলা হয় যে, ৫৮৪ সালে তিনি মুহাম্মদকে ইয়েমেনের সফরে নিয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন হিলফুল ফুজুলের প্রস্তাবক এবং জনক। বিষয়টি জানা যায় আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া এবং তাবাকাত আল কাবীর গ্রন্থ থেকে [21] [22]। মুসলিমগণ একজন পৌত্তলিক আরবের ভাল একটি কাজ তাকে যথাযোগ্য সম্মান না দিয়ে, তাকে বিষয়টির ক্রেডিট না দিয়ে পুরোপুরি বিষয়টি মুহাম্মদের নামে চালিয়ে দেন, যা খুবই অন্যায্য একটি কাজ। বস্তুতপক্ষে মুহাম্মদ ছিলেন সেই সংগঠনের একজন কর্মী, মূল কাজটি এবং সেই চুক্তির প্রস্তাবক ছিলেন তার পৌত্তলিক চাচা যুবায়ের। অর্থাৎ, হিলফুল ফুজুলের কৃতিত্ব যদি কাউকে দিতেই হয়, দিতে হবে একজন পৌত্তলিক আরবকে।

পৌত্তলিক 17
পৌত্তলিক 19
মুহাম্মদ ও হাজরে আসওয়াদ

হেরাগুহায় পৌত্তলিক প্রার্থনা

হেরা পর্বতের গুহায় নবী মুহাম্মদের যাতায়াত সম্পর্কে আমরা সকলেই কমবেশি জানি। সেখানেই নবী মুহাম্মদের ওপর কথিত ওহী নাজিলের সুচনা হয়েছিল। নবী মুহাম্মদ মাঝে মাঝেই কয়েকদিনের জন্য হেরা পাহাড়ের গুহায় চলে যেতেন, সেখানে একাকী প্রার্থনা করতেন বলে জানা যায়। কিন্তু এই প্রার্থনাটি কী ইসলামিক ছিল? এই ধরণের প্রার্থনা কী নবী মুহাম্মদের আবিষ্কার ছিল? নাকি এটি তার পূর্বেই একধরনের পৌত্তলিক উপাসনা হিসেবে বিবেচিত হতো? উল্লেখ্য, এই ধরণের প্রার্থনাকে taḥannuth (تَحَنُّث) বলা হয়। আসুন বিষয়টি যাচাই করে দেখি।

ইবনু ইসহাক বলেন, ‘এভাবে নিঃসঙ্গ ইবাদত জাহেলিয়াতের রীতি ছিল। তাঁর কওম পূর্ব থেকেই যেমন আশূরার ছিয়াম পালন করত, তেমনি হেরা গুহায় নিঃসঙ্গ ইবাদত করত। আবদুল মুত্ত্বালিব এটি প্রথম করেন’। এবং আমরা জানি যে, আবদুল মুত্ত্বালিব ছিলেন একজন পৌত্তলিক, যেই রেফারেন্স উপরে দেয়া হয়েছে। তাই হেরা গুহায় “তাহান্নুস” নামক এই প্রার্থনাও ছিল একটি পৌত্তলিক প্রথা। এর অর্থ হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ আসলে পৌত্তলিক প্রথায় হেরা গুহায় প্রার্থনা করতেন এবং পৌত্তলিক রীতিতে প্রার্থনা করেই তিনি আল্লাহর ওহী লাভ করেছেন। [23]

পৌত্তলিক 22

আল্লাহ ও জিব্রাইলের অজ্ঞতা

আমরা সকলেই জানি, আল্লাহ পাক মহাবিশ্ব সৃষ্টি এবং মানুষকে হিদায়াত দেয়ার মহাপরিকল্পনা করেছিলেন সেই সৃষ্টির শুরুতেই। কিন্তু নবী মুহাম্মদের কাছে প্রথম ওহী নাজিলের সময় আল্লাহ বা জিব্রাইলের ধারনাই ছিল না, মুহাম্মদ যে নিরক্ষর। মুহাম্মদ সম্পর্কে কিছু না জেনেই ওহী পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছিল! সেকারণেই জিব্রাইল বারবার চাপাচাপি করে মুহাম্মদকে পড়তে বলছিলেন। কিন্তু চাপাচাপি করে কী নিরক্ষর মানুষকে কিছু পড়ানো সম্ভব? সেটি হলে প্রতিটি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বুকে কয়েকবার জড়িয়ে ধরে চাপ দিয়েই সার্টিফিকেট দিয়ে দিতো। জিব্রাইলের এরকম আহাম্মকি না করে তাকে পড়তে শেখানোই যৌক্তিক ছিল। কিন্তু বোকা জিব্রাইল আসল কাজ না করে বারবার মুহাম্মদকে বুকে চাপাচাপি করেন, কিন্তু তাতেও তেমন কোন ফল হয়নি।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা
পরিচ্ছেদঃ ৯১/১. রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওয়াহীর শুরু হয় ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে।
৬৯৮২. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহীর শুরু হয় ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মত উদ্ভাসিত হতো। তিনি হেরা গুহায় গিয়ে সেখানে বেশ কয়েক রাত ‘ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন এবং এজন্য খাদ্য দ্রব্যও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এরপর খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে আসতেন এবং তিনি তাকে এরূপ খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে দিতেন। শেষে তাঁর কাছে সত্যের বাণী (ওয়াহী) আসল। আর এ সময় তিনি হেরা গুহায় ছিলেন।
সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বলল, আপনি পড়ুন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললামঃ আমি তো পাঠক নই। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এমনকি এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি পাঠক নই। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠক নই। এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে শক্ত করে এমন চেপে ধরলেন যে, এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন……যা সে জানত না (সূরাহ আল-আলাক ৯৬/১-৫) এ আয়াত পর্যন্ত।
… (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫১১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

ইসলামপূর্ব আল্লাহ কে ছিলেন?

মুহাম্মদের বাবার নাম ছিল আবদ আল্লাহ্‌ ইবন আবদ আল মুত্তালিব; আবদ আল্লাহ অর্থ ‘আল্লাহ্‌-এর দাস’। এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ নামটি ইসলামের আবির্ভাবের পুর্বে আরবে প্রচলিত ছিল, একজন দেবতার নাম হিসেবে। কিন্তু তা কেবল সৃষ্টিকারী সত্ত্বা বোঝাতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বিশ্বাস করা হতো যে, পৃথিবী পরিচালনার জন্য অন্যান্য দেবদেবীদের তৈরি করা হয়েছে। প্রাক-ইসলামী খ্রিস্টান, ইহুদি ও হানাফি নামে পরিচিত একেশ্বরবাদী আরবরা ‘বিসমিল্লাহ্‌’ শব্দটিও ব্যবহার করত। আরবের শিলালিপিগুলিতে ইসলামের আবির্ভাবের কয়েক শতাব্দীর আগেও ‘আল্লাহ্‌’-কে সর্বোচ্চ দেবতা বা সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামের আজকের দিনে আল্লাহ্‌ বলতে যেমন একমাত্র ঈশ্বর বোঝায়, ইসলাম আবির্ভাবের পুর্বে আরবে তা ছিল না। আল্লাহ শব্দটির ইতিহাস ইসলামের চেয়ে পুরনো এবং প্রচলিত। ‘আল্লাহ্‌’ শব্দটির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মতামত পাওয়া যায়। হিব্রু বাইবেলে ইলোহিম (Hebrew: אֱלֹהִים‎ [(ʔ)eloˈ(h)im]) বলতে সাধারণত একক উপাস্যকে বোঝায়। হিব্রু লিপিতে এলোহিম লিখতে যেসকল অক্ষরের প্রয়োজন হয়, সেই অক্ষরগুলি হ’ল, ডান থেকে বাম: আলেফলামেদ-হে-ইউদ-মেম। পাঠক লক্ষ্য করে পড়ুন। সূরা বাকারা শুরু হয়েছে আলীফ, লাম, মীম শব্দ দ্বারা।

পৌত্তলিক 24
হিব্রু লিপিতে এলোহিম। অক্ষরগুলি হ’ল, ডান থেকে বাম: আলেফ-লামেদ-হে-ইউদ-মেম

ইলোহা শব্দটি হচ্ছে ইলোহিমের বহুবচন। বেশিরভাগ গবেষকের মতে আল্লাহ শব্দটি হিব্রু ইলোহা শব্দটি থেকেই উৎপত্তি, যা আসলে ইহুদিদের একেশ্বরকে নির্দেশ করে। কিন্তু মক্কায় আল্লাহকে একক এবং সর্বশক্তিমান সত্ত্বা হিসেবে গণ্য করা হতো না। মক্কার আরবদের মধ্যে একাংশ আল্লাহকে সর্বোচ্চ দেবতা হিসেবে মান্য করতো, অন্যান্য অংশ অন্য নানা দেবদেবীর উপাসনা করতো। বেশিরভাগ আরবই একক এবং অদ্বিতীয় ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে নয়, বরং পৃথিবী-সৃষ্টিকারী সত্ত্বা হিসেবে আল্লাহকে মানতো। হিন্দুদের মধ্যে যেমন আদি ব্রহ্ম, তার থেকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শীব। কেউ বিষ্ণুর পুজা করেন, কেউ শিবের, তবে বেশিরভাগ হিন্দুদের মধ্যে আদি ব্রহ্ম তেমন পুজনীয় কেউ নয়। কেউ কেউ অবশ্য করেন।

একবার মুসলিমদের পবিত্র স্থান কাবা শরীফ ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা হচ্ছিল, ইয়েমেনের বাদশাহ আবরাহা বিশাল হস্তিবাহিনী পাঠিয়ে কাবা শরীফ ভেঙ্গে ফেলার ব্যাপারে মনস্থির করলেন। সেসময়ের কোরায়েশ নেতা এবং ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদের দাদা আবদুল মুত্তালিব এই আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য তার উট-ভেড়া আর পরিবার নিয়ে কাবা ছেড়ে দূরে চলে যাচ্ছিলেন। তখন অন্যান্য লোকজন জিজ্ঞেস করলো, “হে আবদুল মুত্তালিব, আপনি পবিত্র কাবাঘর রক্ষা না করে পালাচ্ছেন কেন?” আবদুল মুত্তালিব জবাব দিয়েছিল, “কাবা আল্লাহর ঘর, আল্লাহর সম্মান, আল্লাহই এর মালিক, তাই সেটা তিনিই রক্ষা করবেন। আর আমার উটগুলো এবং পরিবারের মালিক আমি, সেগুলো রক্ষার দায়িত্ব আমার। আল্লাহ আল্লাহর কাজ করুক, আমি আমার কর্তব্য করি।”

৬২৪ খিস্টাব্দে বদরের যুদ্ধে মূর্তিপূজারীগণ মুহাম্মাদ এর অনুসারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধে আবু সুফিয়ান এবং মুহাম্মদের বাহিনী, উভয় পক্ষই আল্লাহ নামে যুদ্ধ শুরু করে। এখানে একটি উদাহরণ দেয়া হলো, যেখানে দেখা যাচ্ছে পৌত্তলিক কাফেররাও আল্লাহর নামে শপথ করতো। [24]

পৌত্তলিক 26

হুবাল দেবতা কে ছিলেন?

হুবাল প্রাক ইসলামিক যুগের একজন উপাস্য দেবতার নাম। মক্কা নগরীর কাবাঘরে হুবালের মূর্তি স্থাপিত ছিলো। তার মূর্তিটি মনুষ্যাকৃতির ছিলো। হুবাল অনুসারীগণ তার সামনে রক্ষিত তীরের সাহায্যে দেবতার মতামত নিতো। হুবাল সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। উত্তর আরবে (সিরিয়া এবং ইরাক) প্রাপ্ত নবতাইয়া লিপিতে হুবালের কথা বর্ণিত আছে। হুবাল বিশেষ কোন ক্ষমতার(যেমন বৃষ্টির দেবতা বাআল) দেবতা ছিলেন তা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। হুবালের উপাসনা এবং রক্ষনাবেক্ষণের ভার ছিলো মক্কার কুরাইশ বংশের উপর।

৬৩০ খিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ কাবাঘরের রক্ষিত হুবাল সহ ৩৬০টি মূর্তি ভেঙে ফেলে। হিশাম ইবনে আল কালবি লিখিত কিতাব আল-আসনাম (দেবতাদের বই) বইয়ে হুবালের মূর্তির ডান হাত ভাঙা ছিল এবং তা সোনার হাত দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিলো বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত লেখা হয়েছে এই লেখাটিতে [25]

পৌত্তলিক দেবতা হুবাল
মক্কার সর্বোচ্চ দেবতা হুবাল
পৌত্তলিক 29
মেসোপটেমিয়ার স্রষ্টা দেবতা এল বা ইলাহ

পৌত্তলিক আরবে আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা খুব স্পষ্ট ছিল না। তাদের ধারণা ছিলো যে, আল্লাহর আরো সঙ্গী-সাথী আছে, যাদেরকে তারা অধীনস্থ দেবতা হিসেবে পূজা করতো। তাদের মধ্যে কিছু অংশ মনে করতো, আল্লাহর সঙ্গে জ্বিনজাতির কোনো সম্পর্ক আছে। কিছু কিছু গোত্র হুবালকেই আল্লাহ মনে করতো এবং লা’ত, উজ্জা, মানাতকে তারা আল্লাহর কন্যা সাব্যস্থ করেছিলো। তারা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় আল্লাহকে ডাকতো।

মুহাম্মদের নব্যুয়তের আগে যায়দ ইবনে আমর এর সাথে সাক্ষাতের পরে মুহাম্মদ নানা সময়ে আল্লাহর উপাসনা করতেন বলে জানা যায়। তবে সেই সময়ে যেই আল্লাহর উপাসনা তিনি করতেন তা পরবর্তীতে তার প্রবর্তিত ধর্মের আল্লাহ এই দুইটি একই বৈশিষ্ট্যের ছিল না। মূলত ইসলামের আল্লাহও অন্যান্য দেবদেবীর মত হাত পা মাথা এবং আকার আকৃতি সম্পন্ন এক অলৌকিক সত্ত্বা হিসেবেই ইসলামে স্বীকৃত। ইসলামে আল্লাহর যে আকার আকৃতি আছে, হাত পা মাথা সবই আছে, সেটি বিস্তারিতভাবে এই লেখাটিতে বর্ণিত আছে [26]। এরকম ঈশ্বর শুধু যে আরবেই তা নয়, বহু সভ্যতাতেই পাওয়া যায়। বস্তুতপক্ষে মক্কার আল্লাহ পৌত্তলিকদের কাছে ছিল একজন পৌত্তলিক দেবতা, সেমেটিক ধর্মের অনুসারীদের কাছে ছিল সেমেটিক ঈশ্বর আর অন্যান্যদের কাছে ছিল সর্বোচ্চ ঈশ্বর। মুহাম্মদ একেই একমাত্র ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা দেন, যেই সত্ত্বাকে যায়দ ইবনে আমর ইব্রাহীমের ঈশ্বর বলে অভিহিত করেছিল।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৯০৫. যুদ্ধক্ষেত্রে ঝগড়া ও মতবিরোধ করা অপছন্দনীয়। কেউ যদি ইমামের আবাধ্যতা করে তার শাস্তি। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আর তোমরা ঝগড়া-বিবাদ করবে না, করলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। (৮ঃ ৪৬) الرِّيحُ অর্থ যুদ্ধ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ২৮২৫, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৩০৩৯
২৮২৫। আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) কে পঞ্চাশজন পদাতিক যোদ্ধার উপর আমীর নিযুক্ত করেন এবং বলেন, তোমরা দেখ যে, আমাদের কে পক্ষীকুল ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে, তথাপি তোমরা আমার নিকট হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। আর যদি তোমরা দেখ যে, আমরা শত্রু দলকে পরাস্ত করেছি এবং আমরা তাদেরকে পদদলিত করেছি, তখনও আমার পক্ষ হতে সংবাদ প্রেরণ করা ব্যতীত স্ব-স্থান ত্যাগ করবে না। অনন্তর মুসলিমগণ কাফিরদেরকে যুদ্ধে পরাস্ত করে দিল। বারা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি মুশরিকদের মহিলাদেরকে দেখতে পেলাম তারা নিজ পরিধেয় বস্ত্র উপরে উঠিয়ে পলায়ন করছে। যাতে পায়ের অলঙ্কার ও পায়ের নলা উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছ।
তখন আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) এর সহযোগীগণ বলতে লাগলেন, ‘লোক সকল! এখন তোমরা গনীমতের মাল সংগ্রহ কর। তোমাদের সাথীরা বিজয় লাভ করেছ। আর অপেক্ষা কিসের? তখন আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা বলেছিলেন, তা তোমরা ভুলে গিয়েছ?’ তারা বললেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমরা লোকদের সাধে মিলিত হয়ে গনীমতের মাল সংগ্রহে অংশগ্রহণ করব।’ তারপ যখন তারা স্ব-স্থান ত্যাগ করে নিজেদের লোকজনের নিকট পৌঁছল, তখন (কাফিরগণ কর্তৃক) তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয় আর তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে থাকেন। এটা সে সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে পেছন থেকে ডাকছিলেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বারজন লোক ব্যতীত অপর কেউই অবশিষ্ট ছিল না। কাফিরগণ এ সুযোগে মুসলিমদের সত্তর বক্তিকে শহীদ করে ফেলে। এর পূর্বে বদর যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীগণ মুশরিকদের সত্তরজনকে বন্দী ও সত্তরজনকে নিহত করেন। এ সময় আবূ সুফিয়ান তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি মুহাম্মদ জীবিত আছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উত্তর দিতে নিষেধ করেন। পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল লোকদের মধ্যে কি আবূ কুহাফার পুত্র (আবূ বকর (রাঃ) জীবিত আছে?’ পুনরায় তিনবার আওয়াজ দিল, ‘লোকদের মধ্যে কি খাত্তাবের পুত্র (উমর (রাঃ) জীবিত আছে?’ তারপর সে নিজ লোকদের নিকট গিয়ে বলল, ‘এরা সবাই নিহত হয়েছে।’ এ সময় উমর (রাঃ) ধৈর্যধারণ করতে পারলেন না। তিনি বলে উঠলেন, ‘ওহে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর শপথ, তুমি মিথ্যা বলেছো। যাদের তুমি নাম উচ্চারণরণ করেছো তারা সবাই জীবিত আছেন। তোমাদের জন্য চরম পরিণতি অবশিষ্ট রয়েছে।’
আবূ সুফিয়ান বলল, আজ বদরের দিনের প্রতিশোধ। যুদ্ধ তো বালতির ন্যায়। তোমরা তোমাদের লোকজনের মধ্যে নাক-কান কর্তিত দেখবে, আমি এর আদেশ করিনি কিন্তু তা আমি অপছন্দও করিনি। এরপর বলতে লাগল, ‘হে হুবাল (মূর্তি)! তুমি উন্নত শির হও।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তোমরা এর উত্তর দিবে না?’ তারা বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বলব?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা বল, আল্লাহ তা‘আলাই সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, তিনিই মাহিমান্বিত।’ আবূ সুফিয়ান বলল, আমাদের উয্যা (দেবতা) রয়েছে, তোমাদের উয্যা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এর উত্তর দিবে না?’ বারা (রাঃ) বলেন, ‘সাহাবাগণ বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি বলব?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমরা বল আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী বন্ধু, তোমাদের কোন সাহায্যকারী বন্ধু নেই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ)

অন্যান্য প্রাচীন দেবতারা

আল ইলাহ বা আল্লাহ শব্দটি বহুযুগ ধরেই আরব ভাষায় প্রচলিত রয়েছে সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে। মনে করা হতো আল্লাহ হচ্ছেন দেবমণ্ডলীর প্রধান দেবতা, ঠিক যেমন গ্রিক মিথলজিতে জিউস কিংবা রোমান মিথলজিতে জুপিটার কিংবা মিশরীয় পুরাণে আমান (কোন কোন উচ্চারণে আমুন বা আমেন)।

মক্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেবতাদের অন্যতম ছিলেন হুবাল। কাবায় তার একটি মূর্তি পূজা করা হত। কাবা তার প্রতি উৎসর্গিত ছিল। মুহাম্মদের জীবনী থেকে জানা যায়, প্রথম জীবনে তিনি হুবাল দেবতার সম্মুখেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। সেই সময়ের ৩৬০টি দেবমূর্তির মধ্যে তার মূর্তিটিই ছিল সবচাইতে বড় এবং শ্রেষ্ঠ। সম্ভবত এই ৩৬০ জন দেবতা বছরের প্রত্যেকটি দিনের প্রতিনিধি ছিলেন।

মক্কাবাসীদের আরেকটি অন্যতম দেবতা ছিলেন মানাফ(আরবি: مناف‎)। কিছু কিছু সূত্র অনুসারে, তিনি ছিলেন নারী ও ঋতুস্রাবের দেবতা। মুহাম্মদের প্র-প্র-পিতামহ এবং প্রপিতামহ দুইজনার নামের সাথেই ছিল মানাফ, অর্থাৎ তারা ছিলেন মানাফ দেবতার দাস।

  • আবদ মানাফ ইবনে কুসাই: মুহাম্মদের প্র-প্র-পিতামহ
  • হাশিম ইবনে আবদ মানাফ: মুহাম্মদের প্রপিতামহ
  • ওয়াহাব ইবনে আবদ মান্নাফ: মুহাম্মদের নানা অর্থাৎ মাতা আমিনার পিতা
পৌত্তলিক লাত মানাত উজ্জা
লাত মানাত উজ্জা

মক্কায় তিন প্রধান দেবী ছিলেন লাত, উজ্জা ও মানাত। এদের প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা এবং কাজের ক্ষেত্র ছিল এবং তাইফের কাছে মূর্তি সহ মন্দিরও ছিল। সেই সকল মূর্তিই পরিবর্তীতে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

  • আল-লাত (আরবি: اللات‎) বা আল্লাত ছিলেন পাতালের দেবী। আল-লাত ছিলো মেসোপটেমীয়দের পাতালের দেবী, যিনি এরেশকিগাল নামে পরিচিত, কার্থেজে তাকে আল্লাতু নামে ডাকা হতো।
  • আল-উজ্জা (আরবি: العزى‎, অর্থাৎ ‘সর্বশক্তিময়ী’) ছিলেন আরবের উর্বরতার দেবী। যুদ্ধে রক্ষা ও জয়ের জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হত। হুবাল দেবতার মতই উজ্জাকেও সমৃদ্ধি ও কল্যাণের আশায় কুরাইশরা পূজা করত। মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদের নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তার একটি অভিযানের মাধ্যমে নাখলা নামক স্থানে উজ্জার প্রতি উৎসর্গীকৃত একমাত্র মন্দির ও তার ভেতরে অবস্থিত উজ্জার মূর্তি দুটোই ধ্বংস করে দেন।
  • মানাত (আরবি: مناة‎) ছিলেন ভাগ্যের দেবী। মানাতের একটি মূর্তি মদিনা ও মক্কার মাঝে কাদাদের আল-মুশাল্লালের কাছে সমুদ্রতীরে নির্মিত হয়েছিল। বানু আউস ও বানু খাজরাজ এবং মক্কা ও মদিনা সহ উক্ত অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত এলাকার সবাই মনাতকে শ্রদ্ধা জানাত। আউস, খাজরাজ, ইয়াথরিব ও অন্যান্য সব আরবরা মনাতকে দর্শন না করলে এবং মস্তক মুণ্ডন না করলে তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ হয় না বলে মনে করত। মানাতের মন্দির মুহাম্মদের নির্দেশে সাদ ইবনে যায়িদ আল আশহালি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস করেন ।
আল-লাত, আল উজ্জা, মানাত
আল-লাত, আল উজ্জা, মানাত

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেবদেবী

  • ওয়াদ (আরবি: ود‎) ছিলেন প্রেম ও বন্ধুত্বের দেবতা। মনে করা হত, ওয়াদের কাছে সাপেরা পবিত্র।
  • আম (আরবি: أم‎) ছিলেন চাঁদের দেবতা। আবহাওয়ার (বিশেষত বজ্রপাত) সঙ্গে তাঁর যোগের জন্য তাঁকে পূজা করা হত।
  • তালাব (আরবি: تألب‎) ছিলেন দক্ষিণ আরবে পূজিত এক দেবতা। বিশেষত শেবা অঞ্চলে তাঁর পূজা হত। তিনিও ছিলেন চন্দ্রদেবতা। তাঁর কল থেকে পরামর্শ নেওয়া হত।
  • ধুল-বালাসা (আরবি: ذو الحلاس‎) ছিলেন দক্ষিণ আরবের এক ওর্যাদকল দেবতা। তাঁকে শ্বেতপাথরের মূর্তিতে পূজা করা হত।
  • আল-কায়ুম (আরবি: القوم‎) ছিলেন নাবাতিয়ান যুদ্ধ ও রাত্রি দেবতা। এছাড়া তিনি ছিলেন ক্যারাভানের রক্ষক।
  • দুশারা (আরবি: ذو الشرى‎) ছিলেন নাবাতিয়ান পর্বতদেবতা।

অন্যান্য অলৌকিক সত্ত্বা

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবের মানুষ বেশ কিছু অলৌকিক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বাগুলো হচ্ছে,

  • জ্বীন (বা জিনি, আরবি: جنjinn) হল এমন এক অতিলৌকিক সত্ত্বা যাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে। এরা ভাল বা খারাপ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খারাপ জ্বীনেরা মানুষদের কুপথে চালনা করে বিনষ্ট করত। মুহাম্মদ আরবে সেই সময়ে প্রচলিত জ্বীন বিষয়ক উপকথাগুলো তার ধর্মে গ্রহণ করেন।
  • মারিদ (আরবি: ماردmārid) হল সবচেয়ে শক্তিশালী জ্বীন। বলা হয় এদের শক্তি অনেক। এরা খুবই উদ্ধত ও অহংকারী। অন্যান্য জ্বীনের মতো এদের ইচ্ছাশক্তি আছে। কিন্তু এদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা যায়। এরা নশ্বরদের ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারে। তবে যুদ্ধ করে, শাস্তি দিয়ে, অনুষ্ঠান পালন করে বা সহজভাবে তুষ্ট করে এদের ব্যবহার করতে হয়।
  • ইফ্রিত (আরবি: عفريت‘ifrīt) হল নরকের জিন। এদের স্থান দেবদূত ও শয়তানদের নিচে। এরা শক্তিমত্তা ও চাতুর্যের জন্য কুখ্যাত। এরা অগ্নিময় ডানাওয়ালা জীব। এরা পুরুষ বা নারী হয়। মাটির তলায় বা ধ্বংসাবশেষে এদের বাস। প্রাচীন আরব উপজাতীয় ক্ষেত্রে রাজা, উপজাতি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ইলফ্রিতরা বাস করত। তারা একে অপরকে বিয়ে করত। তবে তারা মানুষকেও বিয়ে করতে পারত। সাধারণ অস্ত্র বা শক্তি প্রয়োগ করে তাদের ক্ষতি করা যেত না। জাদুর সাহায্যেই মানুষে তাদের হত্যা করতে বা বন্দী করতে পারত। জিনের মতো, ইলফ্রিতরাও হয় বিশ্বাসী নয় অবিশ্বাসী, হয় ভাল নয় মন্দ হত। তবে সাধরণত তাদের খারাপ ও নিষ্ঠুর আকারেই চিত্রিত করা হত।
  • নাসনাস (আরবি: نسناسnasnās) অর্ধেক মানুষ। এদের অর্ধেক মাথা, অর্ধেক দেহ, একটি হাত, একটি পা থাকত। এর সাহায্যে তারা সহজে চলাফেরা করতে পারত। মনে করা হয়, নাসনাসরা শিক নামে এক দানব ও এক মানুষের বংশধর।
  • ঘোউল (আরবি: غولghūl) হল মরুভূমিতে বসবাসকারী রূপান্তরের ক্ষমতাশালী দৈত্য। এরা জন্তু-জানোয়ারের রূপ ধারণ করতে পারে। বিশেষত হায়নার রূপ ধারণকরে এরা। অসাবধানী পথিকদের মরুভূমিতে পথভ্রষ্ট করে এরা খেয়ে ফেলে। এই দৈত্যরা ছোটো ছেলেমেয়েদের খায়, কবরখানায় হানা দেয়, রক্ত পান করেন, মৃতদেহ খায় আর যাকে খেয়েছে তার রূপ ধরে। শেষোক্ত অভ্যাসটির জন্য কবরখানায় হানাদার বা নৃশংস কাজে আনন্দ পাওয়া মানুষদেরও অনেক সময় ঘোউল বলা হয়।
  • বাহামুত (আরবি: بهموتBahamūt) হল একটি বিশাল মাছ। এটি পৃথিবীকে ধরে রাখে। কোনো কোনো মূর্তিতে এটির মাথা জলহস্তি বা হাতির মতো।

কোরআন হাদিসে জ্বীন সম্পর্কে নানা হাস্যকর কথা বলা হয়েছে। আসুন কিছু হাস্যকর হাদিস পড়ে দেখি। পড়ার আগে জেনে নিই, অগ্নিশিখা কোন বস্তু বা পদার্থ নয়। এটি বাতাসের সাথে পদার্থের একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া, যা আমাদের চোখে অগ্নিশিখার মত লাগে।

রিয়াযুস স্বা-লিহীন
অধ্যায়ঃ ১৯/ বিবিধ চিত্তকর্ষী হাদিসসমূহ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৩৭০ : দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
৩৯/১৮৫৫। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ফিরিশতাদেরকে জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। (অর্থাৎ মাটি থেকে)।’’ (মুসলিম) (1)
(1) মুসলিম ২৯৯৬, আহমাদ ২৪৬৬৮, ২৪৮২৬
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে জ্বীনেরা হাড্ডি এবং গোবর খায়। তার অর্থ তাদের পাকস্থলি আছে এবং তাদের মলমূত্র ত্যাগেরও দরকার হয়। এই ধরণের অলৌকিক প্রাণীদের অঞ্চলে হাড্ডি ও গোবরের উৎপাদন ও সরবরাহ কেমন, তা জানা গেলে বেশ হতো।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৩/ আনসারগণ (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম)-এর মর্যাদা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৩/৩২. জ্বিনদের উল্লেখ।
৩৮৬০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযু ও ইস্তিন্জার ব্যবহারের জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে পিছনে পিছনে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি তাকিয়ে বললেন, কে? আমি বললাম, আমি আবূ হুরাইরাহ। তিনি বললেন, আমাকে কয়েকটি পাথর তালাশ করে দাও। আমি তা দিয়ে ইস্তিন্জা করব। (১) তবে, হাড় এবং গোবর আনবে না। আমি আমার কাপড়ের কিনারায় কয়েকটি পাথর এনে তাঁর কাছে রেখে দিলাম এবং আমি সেখান থেকে কিছুটা দূরে গেলাম। তিনি যখন ইস্তিন্জা হতে বেরোলেন, তখন আমি এগিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হাড় ও গোবর এর ব্যাপার কী? তিনি বললেন, এগুলো জ্বিনের খাবার। আমার কাছে নাসীবীন (২) নামের জায়গা হতে জ্বিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা ভাল জ্বিন ছিল। তারা আমার কাছে খাদ্যদ্রব্যের আবেদন জানাল। তখন আমি আল্লাহর নিকট দু‘আ করলাম যে, যখন কোন হাড্ডি বা গোবর তারা লাভ করে তখন তারা যেন তাতে খাদ্য পায়। (৩) (১৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পরবর্তীতে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত ফেরেশতাগণ

সর্বশক্তিমান এবং মহাবিশ্বের একক ক্ষমতার অধিকার, যার ইচ্ছে ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব নয়, যিনি ইচ্ছে করলেই সাথে সাথে তা হয়ে যায়, সেই আল্লাহ পাকের পৃথিবী পরিচালনার কাজে সহায়তার জন্য একটি বৃহৎ মন্ত্রীসভা বা ফেরেশতা সভা রয়েছে। বিভিন্ন ফেরেশতা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে নিয়োজিত আছেন। এই ধরণের বিশ্বাস কতটুকু পৌত্তলিক এবং কতটুকু পৌত্তলিকতা থেকে জন্ম নেয়া একেশ্বরবাদীতা, তা পাঠকগণই বিবেনা করবেন। আসুন ইসলামের ফেরেশতাদের সম্পর্কে জেনে নিই।

  • হামালাত আল-আরশ: যেসমস্ত ফেরেশতা আল্লাহর আরশ ধরে রাখে।
  • জিবরাইল (আ.): আল্লাহর দূত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। কাজ, বার্তা প্রেরণ।
  • মিকাইল (আ.): ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  • ইসরাফিল (আ.):এই ফেরেস্তা কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘোষণা করবেন।
  • আজরাইল (আ.): ইনি মৃত্যুর ফেরেশতা ও প্রাণ হরণ করেন।
  • সাতটি বেহেশতের ফেরেশতাগণ।
  • হাফাজা বা তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাগণ।
  • মুনকার ও নাকীর: কবরে প্রশ্নকারী ফেরেশতাদ্বয়।
  • দারদায়িল
  • মালিক: জাহান্নাম বা নরক তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশতা।
  • রেদওয়ান: জান্নাত বা স্বর্গ তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশতা।
  • জাবানিয়া: জাহান্নামে দায়িত্ব পালনকারী ফেরেশতাগণ।
  • নিয়ম শৃঙ্খলা পালনকারী ফেরেশতাগণ।

এসব ফেরেশতাদের সম্পর্কে ইসলামে নানা কথাই বলা হয়েছে। হিন্দু ধর্মে যেমন দূর্গা দেবীর দশ হাত, ব্রহ্মা দেবতার তিনমাথার কথা বলা আছে, ইসলামেও একইভাবে জিব্রাইলের ৬০০ ডানার কথা বলা আছে। কিন্তু মহাবিশ্বে ভ্রমণের জন্য পাখনা কেন লাগে, আর এতগুলো পাখনা থাকার উপকারীতা কী, বেশি পাখনা থাকলে কীভাবে উড়ার ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে ভাবলে এগুলো খুব হাস্যকর বিষয় বলেই মনে হবে।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পরিচ্ছদঃ ৫৯/৭. তোমাদের কেউ যখন আমীন বলে আর আকাশের ফেরেশতাগণও আমীন বলে। অতঃপর একের আমীন অন্যের আমীনের সঙ্গে মিলিতভাবে উচ্চারিত হয় তখন পূর্বের পাপরাশি মুছে দেয়া হয়।
৩২৩২. আবূ ইসহাক শায়বানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যির ইবনু হুবাইশ (রাঃ)-কে মহান আল্লাহর এ বাণীঃ ‘‘অবশেষে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের দূরত্ব রইল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি যা ওয়াহী করার ছিল, তা ওয়াহী করলেন’’- (আন্-নাজম ৯-১০)। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈল (আঃ)-কে দেখেছেন। তাঁর ছয়শ’টি ডানা ছিল। (৪৮৫৬, ৪৮৫৭) (মুসলিম ১/৭৬ হাঃ ১৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০০২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

রাশিয়ান বাইবেলে ঈশ্বরের আরশ
রাশিয়ান বাইবেলে ঈশ্বরের আরশ

লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এই ফেরেশতাদের প্রতিটি চরিত্র মিশরীয়, গ্রীক, রোমান, বা আরও পুরনো সভ্যতাগুলোতে নানাভাবে বর্ণিত ছিল। আরবেও সেই গল্পগুলো প্রচলিত ছিল উপকথা হিসেবে। সম্ভবত মুহাম্মদ ছোটবেলা থেকেই নানাজনার কাছে এইসব গল্প শুনে বেড়ে উঠেছে। যার ফলশ্রুতিতে সেই সব দেবদেবী হয়ে উঠেছে ইসলামি ফেরেশতা। এদের মধ্যে সবচাইতে আকর্ষনীয় চরিত্র ছিল শয়তানের চরিত্র।

কোরআনে শয়তানের আয়াত

বেশিরভাগ মুসলিমই জানেন না যে, কোরআনে একবার লাত ও উজ্জা দেবীর প্রশংসা করে সূরা নাজিল হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মুহাম্মদ দাবী করেন যে, এই আয়াতগুলো শয়তান তার মুখ দিয়ে বলিয়ে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সূরা নাজমের যে আয়াতগুলো নাজিল হয় সেগুলো হচ্ছে,

তোমরা কী ভেবে দেখেছো লাত ও উযযা সম্পর্কে?
এবং আরেক (দেবী) মানাত সম্পর্কে?
তাঁরা হলেন খুব-ই উঁচু পর্যায়ের (ক্ষমতাবান) দেবী
তাদের কাছে সাহায্যও চাওয়া যায়
( শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত আয়াত )

আরেকটি অনুবাদে,

তোমরা কী ভেবে দেখেছো লাত ও উযযা সম্পর্কে?
এবং আরেক (দেবী) মানাত সম্পর্কে?

এঁঁরা হচ্ছে সেই উড়ন্ত সারস।
তাই এদের মধ্যস্ততা আশা করা যেতে পারে।

পরে মুহাম্মদ নিজেই আবার এই শেষের দুই আয়াত তার অনুসারীদের বাদ দিয়ে সংশোধনমূলক আয়াত নাজিল করে। এবং সূরাটির অন্যান্য আয়াত নাজিল হয়।

তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।
এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?

পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে। ( সংশোধিত আয়াত )

এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণাদি দেয়া হয়েছে এই লেখাটিতে [27]

প্রমিথিউস, লোকি এবং শয়তান

গ্রিক মিথলজি অনুসারে স্বর্গের রাজা দেবতা জিউসের বিরোধীতা করে প্রমিথিউস স্বর্গে যান এবং মানুষের জন্য সূর্যের কাছ থেকে মশাল জ্বালিয়ে আনেন এবং মানুষকে আগুন উপহার দেন। শাস্তি স্বরূপ জিউস প্রমিথিউসকে পাহাড়ের সাথে শৃঙ্খলিত করে রাখেন এবং তার উপর বর্বর অত্যাচার চালান। একটি ঈগল রোজ এসে প্রমিথিউস এর কলিজা খেয়ে যেত আর সেখনে জন্ম নিত নতুন আরেকটি কলিজা। আবার ঈগল এসে খেয়ে গেলে নতুন কলিজা জন্মাতো প্রমিথিউস এর। এখানে ঈগল হল জিউসের প্রতীক। এভাবেই জিউস তাকে শাস্তি দিতেন। আবার নরডিক মিথলজিতে লোকির চরিত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ। সে দেবতা ওডিনের সিংহাসন চায় এবং সে কারণে নানা ছলচাতুরি করে। এরকম চরিত্র প্রায় সকল মিথলজিতেই পাওয়া যায়, কারণ সুপারহিরোকে সুপারহিরো বানাবার জন্য সকল গল্পেই দরকার হয় একজন সুপার ভিলেনের। থ্যানোস ছাড়া যেমন এভেঞ্জার সিরিজ কেউ দেখতে যাবে না, জোকার ছাড়া যেমন ব্যাটম্যান অচল, তেমনি সকল চিত্রনাট্যেই একজন ভিলেন চরিত্র জরুরি। আব্রাহামিক ধর্মের গল্পগুলোতে এই ভিলেন চরিত্রটি হচ্ছে শয়তান।

প্রাচীনকালে মানুষ বিমূর্ত চিন্তাভাবনা করতে সক্ষম ছিল না। মানুষের মস্তিষ্ক তখনো বিমূর্ত চিন্তার জন্য সক্ষম ছিল না বলে, তারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনা, আবেগ অনুভূতির বিষয়গুলোকে মূর্তিমান সত্ত্বা হিসেবে চিন্তা করতো। যেমন আগুনকে দেখে তারা আগুনের দেবতা কল্পনা করতো, যে মানুষই মত। আবার বজ্রপাত দেখলে, নদীতে পানির স্রোত দেখলে, ভূমিকম্প দেখলে, এগুলো সবগুলোকেই তারা মানুষের মত এক একটি শক্তিশালী চরিত্র মনে করতো, এবং সেগুলোকে দেবদেবী নাম দিয়ে পুজা করতো। এগুলোই পৌত্তলিকতার চিহ্ন। আব্রাহামিক ধর্মগুলোও মানুষের ভেতরের রাগ, হিংসা, খারাপ বিষয়াদিকে চিত্রিত করেছে শয়তান হিসেবে, যা পৌত্তলিকতারই আরেক রূপ। একইসাথে, ইসলামে শয়তানের চরিত্র কিছু একদমই মানুষের মত। শয়তান সম্পর্কে বিস্তারিত পরবর্তীতে লেখা হবে, আপাতত কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে শয়তান ডিম পাড়ে এবং ছানা জন্ম দেয়।

রিয়াযুস স্বা-লিহীন
১৯/ বিবিধ চিত্তকর্ষী হাদিসসমূহ
পরিচ্ছেদঃ ৩৭০ : দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
৩৫/১৮৫১। সালমান ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি (মওকূফ সূত্রে) বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘তুমি যদি পার, তাহলে সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশকারী হবে না এবং সেখান থেকে সর্বশেষ প্রস্থান-কারী হবে না। কারণ, বাজার শয়তানের আড্ডা স্থল; সেখানে সে আপন ঝাণ্ডা গাড়ে।’ (মুসলিম)(1)
বারক্বানী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশকারী হয়ো না এবং সেখান থেকে সর্বশেষ প্রস্থান-কারী হয়ো না। কারণ, সেখানে শয়তান ডিম পাড়ে এবং ছানা জন্ম দেয়।’’
(1) সহীহুল বুখারী ৩৬৩৪, মুসলিম ২৪৫১
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

শয়তান এমনই এক চরিত্র যা মানুষের মুখে ঢুকে যেতে পারে।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-৪ঃ সলাত
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১৯. প্রথম অনুচ্ছেদ – সলাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়িয ও যে সব কাজ করা জায়িয
৯৮৫-(৮) আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সলাতে তোমাদের কারো ‘হাই’ আসলে যথাসাধ্য তা আটকে রাখবে। কারণ (‘হাই’ দেয়ার সময়) শায়ত্বন (শয়তান) (মুখে) ঢুকে যায়। (মুসলিম)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

শয়তান প্রসাব করে, এর অর্থ শয়তান পানিও পান করে।

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ১৯/ তাহাজ্জুদ
পরিচ্ছদঃ ১৯/১৩. সলাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লে তার কানে শয়তান পেশাব করে দেয়।
১১৪৪. ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক ব্যক্তির ব্যাপারে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন- সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাতের জন্য জাগ্রত হয়নি, তখন তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ইরশাদ করলেনঃ শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে। (৩২৭০; মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৭৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-৪ঃ সলাত
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ৩৩. প্রথম অনুচ্ছেদ – ক্বিয়ামুল লায়ল-এর প্রতি উৎসাহ দান
১২২১-(৩) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে এক লোক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তাঁকে বলা হলো, লোকটি সকাল পর্যন্ত একটানা ঘুমিয়ে থাকে, সলাতের জন্যে উঠে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, এ লোকের কানে অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তার দু’কানে শায়ত্বন (শয়তান) পেশাব করে দিয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)
সহীহ : বুখারী ৩২৭০, মুসলিম ৭৭৪।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আরো বলা আছে, শয়তান বামহাতে খায় এবং পানিও বামহাতে পান করে।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২১/ খাদ্যদ্রব্য
পরিচ্ছদঃ ৪৭১. ডান হাতে খাওয়া সম্পর্কে।
৩৭৩৪. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ………… ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন তার ডান হাত দিয়ে খায় এবং যখন পানি পান করে, তখন যেন ডান হাতে পান করে। কেননা, শয়তান বাম হাতে খায় এবং পানি পান করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কাবার নির্মান সম্পর্কিত সমস্যাবলী

কাবা প্রথম কখন নির্মিত হয়েছিল, এই বিষয়ে ইসলামিক আলেমদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ। কিছু আলেমের মতে আদমই কাবা নির্মান করেছিল, কিছু আলেমের মতে ইব্রাহীমই প্রথম কাবা নির্মান করেন। এই নিয়ে কোরআনেও আছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর প্রথম প্রার্থনা গৃহ হচ্ছে কাবা, যা নির্মান করেছিল ইব্রাহীম এবং ইব্রাহীমের সময়ই আল্লাহ একে সালাত বা প্রার্থনার স্থান হিসেবে ঘোষনা দিয়েছিল [28]

এবং স্মরণ কর যখন আমি কা‘বাগৃহকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপদস্থল করলাম এবং বললাম, ‘মাকামে ইবরাহীমকে সলাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর’ এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে বলেছিলাম, ‘আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী এবং রুকূ ও সাজদাহকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে’।
— Taisirul Quran
এবং যখন আমি কা‘বা গৃহকে মানব জাতির জন্য সুরক্ষিত স্থান ও পুণ্যধাম করেছিলাম, এবং মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের জায়গা নির্ধারণ করেছিলাম; এবং আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী ও ই’তিকাফকারী এবং রুকু ও সাজদাহকারীদের জন্য পবিত্র রেখ।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর স্মরণ কর, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (আদেশ দিলাম যে,) ‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর’। আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ‘ইতিকাফকারী ও রুকূকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর’।
— Rawai Al-bayan
আর স্মরণ করুন, যখন আমরা কা’বা ঘরকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান রূপে গ্রহণ করো। আর ইবরাহীম ও ইসমা’ঈলকে আদেশ দিয়েছিলাম তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী, রুকূ’ ও সিজদাকারীদের জন্য আমার ঘরকে পবিত্র রাখতে।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

পৌত্তলিক 34

আবার, কোরআনের সূরা ইমরানে আবার বলা হয়েছে, [29] [30]

নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল, তাতো মক্কা্য়, যা বরকতমন্ডিত এবং সারা জাহানের জন্য পথপ্রদর্শক।
— Taisirul Quran
নিশ্চয়ই সর্ব প্রথম গৃহ, যা মানবমন্ডলীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা ঐ ঘর যা বাক্কায় (মাক্কায়) অবিস্থত; ওটি সৌভাগ্যযুক্ত এবং সমস্ত বিশ্ববাসীর জন্য পথ প্রদর্শক।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য।
— Rawai Al-bayan
নিশ্চয় মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায়, বরকতময় ও সৃষ্টিজগতের দিশারী হিসাবে।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে (যেমন) মাক্বামে ইবরাহীম(ইবরাহীমের দাঁড়ানোর জায়গা)। যে কেউ তাতে প্রবেশ করবে নিরাপদ হবে। আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হাজ্জ করা লোকেদের উপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।
— Taisirul Quran
ওর মধ্যে প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান রয়েছে, মাকামে ইবরাহীম উক্ত নিদর্শনসমূহের অন্যতম। আর যে ওর মধ্যে প্রবেশ করে সে নিরাপত্তা প্রাপ্ত হয় এবং আল্লাহর উদ্দেশে এই গৃহের হাজ্জ করা সেই সব মানুষের কর্তব্য যারা সফর করার আর্থিক সামর্থ্য রাখে এবং যদি কেহ অস্বীকার করে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসী হতে প্রত্যাশামুক্ত।
— Sheikh Mujibur Rahman
তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহীম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।
— Rawai Al-bayan
তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্ব করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য। আর যে কেউ কুফরী করল সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

অন্যদিকে হাদিসে বলা রয়েছে একদমই গোলমেলে কথা। মুহাম্মদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সর্বপ্রথম মসজিদ বা প্রার্থনা গৃহ কোনটি। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, কাবা। কাবা নির্মানের চল্লিশ বছর পরে নির্মান হয় মসজিদে আকসা। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, আল আকসা মসজিদ বা টেম্পল অফ জেরুজালেম ৯৫৮-৯৫১ খ্রিস্টপুর্বে নির্মিত হয়েছে বলে জানা যায়। এবং আব্রাহামিক ধর্মগুলো অনুসারে ইব্রাহিমের জন্ম হওয়ারে কথা খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ বছরে এবং মৃত্যুও আল আকসা মসজিদ নির্মানের বহু পুর্বে। এর অর্থ হচ্ছে, মুহাম্মদ এই উপাসনালয়গুলো তৈরির এবং নবীদের সময়কাল সম্পর্কে ঠিকভাবে জানতেন না।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০০৯. يَزِفُّونَ অর্থ দ্রুত চলা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৩১২৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৩৩৬৬
৩১২৭। মূসা ইবনু ইসলামাঈল (রহঃ) … আবূ যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ তৈরি করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরীর) মাঝে কত ব্যাবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (তিনি আরো বললেন) এরপর তোমার যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৫। মাসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ১০৪৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৫২০
১০৪৮-(১/৫২০) আবূ কামিল আল জাহদারী, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! পৃথিবীতে কোন মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি (মাসজিদটি)। তিনি বললেন, আল মাসজিদুল আকসা বা বায়তুল মাকদিস। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এ দু’টি মসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (তিনি আরো বললেন) যে স্থানেই সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তুমি সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কারণ সে জায়গাটাও মাসজিদ।
আবূ কামিল বর্ণিত হাদীসে আছে, তাই যেখানেই সালাতের সময় হবে তুমি সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কারণ সেটিও মাসজিদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১০৪২, ইসলামিক সেন্টার ১০৫২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

কাবার কসম এবং ইহুদির সংশোধন

নবী মুহাম্মদ সহ মক্কার কুরাইশগণ কাবার কসম কাটতেন বলে জানা যায়। একজন ইহুদি এসে মুহাম্মদের এই কাজটি সংশোধন করে দিয়ে যান। কারণ কাবার কসম বলা শিরক। আল্লাহ এবং তার ফেরেশতা জিব্রাইল সংশোধন করার আগে ইহুদি ব্যাক্তি এসে কীভাবে মুহাম্মদের এত বড় ভুল সংশোধন করে দিলো, তা বোধগম্য নয়। যেখানে শিরক নাকি আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচাইতে ভয়াবহ অপরাধ। এত মারাত্মক ব্যাপার আল্লাহ কেন আগেই সংশোধন করে দিলেন না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৫/ মানত ও কসম
পরিচ্ছেদঃ ৮. কাবার কসম করা
৩৭৭৪. ইউসুফ ইন ঈসা (রহঃ) … জুহায়না গোত্রের এক মহিলা থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আপনারা তো আল্লাহর সাথে শরীক ও তার সমকক্ষ স্থির করে থাকেন। আপনারা বলে থাকেনঃ যা আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন আর যা তুমি ইচ্ছা কর। আর আপনারা আরো বলে থাকেন, কাবার কসম! তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন যে, যখন কসম করার ইচ্ছা করবে, তখন বলবেঃ কাবার রবের কসম! আরো বলবেঃ আল্লাহ্ যা চেয়েছেন। এরপর তুমি চেয়েছ।
তাহক্বীকঃ সহীহ। সহীহাহ ১৩৬।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কিবলা পরিবর্তন

ইসলাম আবির্ভাবের বহুকাল আগে থেকেই দেবদেবীর মূর্তিতে পরিপূর্ণ মক্কা কাবায় বছরে একবার তীর্থযাত্রীদের সমাগম হতো। অপবিত্র কাপড় পরে এই উপাসনা নিষিদ্ধ ছিল বিধায় সেলাই বিহীন কাপড় সেখানে গিয়ে পরতে হতো। কিছু কিছু গোত্র সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়েও কাবা প্রদক্ষিণ করতো। কাবাকে বাম দিকে রেখে ডান দিক থেকে সাতবার চক্কর দেয়ার নিয়ম সেই সময়েই ছিল। ঘোরার সময় কালো পাথরকে চুম্বন করা ও মাথা নোয়ানোর নিয়ম ছিল। মক্কার দুই পর্বত সাফা ও মারওয়ার মধ্যে দৌড়ানো থেকে শুরু করে শয়তানকে পাথর মারার প্রতিটি পুরনো প্যাগান ধর্মগুলোর ইসলামি সংস্করণ। দেবতার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সেই সময়ে গরু উট ছাগল ইত্যাদি কোরবানি দেয়াও ছিল পৌত্তলিক প্রথা।

ইসলামের প্রাথমিক সময়ে মুসলমানদের কেবলা ছিল পৌত্তলিক দেবদেবীর মূর্তিতে পরিপূর্ণ কাবা। এরপরে ইহুদিদের দলে টানার জন্য মুহাম্মদ কিবলা পরিবর্তন করে ইহুদিদের মতই ছিল বায়তুল মোকাদ্দাসের দিক মুখ করে নামাজ আদায় করতে শুরু করেন৷ ইহুদিরা সেই সময়ে মানমর্যাদার দিক দিয়ে সম্ভ্রান্ত ছিলেন, নবীদের বর্ণিত ঈশ্বরের আশির্বাদ ধন্য জাতি হিসেবে তারা সামাজিক সম্মান লাভ করতেন। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেও তারা প্রভাবশালী ছিলেন। মুহাম্মদ তার নতুন ধর্মের নানা প্রথা ইহুদীদের থেকে নিয়েছিলেন। মুহাম্মদের প্রত্যাশা ছিল, হয়তো ইহুদীরা তাকে তাদের নবী হিসেবে মেনে নেবে।

ইহুদীদের মধ্যে সেই সময়ে দরিদ্রদের সম্পদের একটা অংশ দেয়ার প্রথা ছিল, যাকে বলা হয় Tzedakah বা Ṣedaqah। মুহাম্মদ এই প্রথাটিকে গ্রহণ করেন সাদাকাহ ও যাকাত নামকরণের মাধ্যমে। ইহুদীদের মধ্যে শুকরের খাওয়া হারাম ছিল, মুহাম্মদের নতুন ধর্মের ওজু এবং নামাজের সাথে সাবেইনদের ধর্মের প্রার্থনা ও ইহুদি ধর্মের প্রার্থনারীতির অনেকটাই মিলে যায়। ইহুদীরা শনিবার, খ্রিস্টানরা রবিবারকে প্রার্থনার জন্য বিশেষ দিন হিসেবে পালন করতো, মুহাম্মদ সেটাকে করেন শুক্রবারে। আরব পৌত্তলিক ও ইহুদীদের মধ্যে উপবাস প্রচলিত ছিল, যা তিনি গ্রহণ করেন রোজা নাম দিয়ে। এমনকি, এখনকার সময়ে সুন্নতে খৎনার ধারণাও ইহুদীদের অনুকরণে যুক্ত হয়। ইহুদীরা সেই সময়ে একজন নবীর আবির্ভাবের অপেক্ষায় ছিল, মুহাম্মদ মদিনা হিজরতের পরে কিছু সময়ে পর্যন্ত ভেবেছিল সে নিজেকে নবী দাবী করলে ইহুদীদের সাথে তার মিত্রতা তৈরি হবে।

কিন্তু পরবর্তীতে ইহুদীরা মুহাম্মদকে ভণ্ড এবং পাগল আখ্যা দিলে মুহাম্মদ পরবর্তী জীবনে ইহুদীদের ভালভাবেই ঘৃণা করতেন। এমনকি, বহু ইহুদী গোত্রকে দিনের মধ্যে উধাও করে ফেলা হয়। তাদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালানো হয়। তাদের নারী এবং শিশুদের যৌনদাস বানানও হয়। মুহাম্মদের জীবনের শেষ ওয়াসিতের একটি ছিল ইহুদি নাসারা ও পৌত্তলিক সবাইকে আরব উপদ্বীপ থেকে বিতারিত করার নির্দেশনা। সেই নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছে এখানে [31]। কিন্তু শুরুর দিকে ব্যাপারটি এরকম ছিল না। শুরুতে মুহাম্মদের সাথে ইহুদিদের সখ্যতাই ছিল। কিন্তু শত্রুতা সৃষ্টির পরেই মুহাম্মদ কিবলা সরিয়ে নেন।

সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫/ নামাজ প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদঃ ২২/ কিবলামুখী হওয়া ফরজ প্রসঙ্গে
৪৮৯। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) … বা’রা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ষোল মাস বা সতর মাস (বর্ণনাকারী সুফিয়ানের সন্দেহ) বায়তুল মুকাদ্দাস অভিমুখী হয়ে সালাত আদায় করি। পরে তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) কাবার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
সহিহ, ইরউয়াউল গালীল হাঃ ৪৯০, বুখারি হাঃ ৪৪৯২, মুসলিম (ইসলামিক সেন্টার) হাঃ ১০৬৬
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫/ মসজিদ ও সালাতের স্থান
পরিচ্ছেদঃ ২. বায়তুল মুকাদ্দাস হতে কা’বার দিকে কিবলা পরিবর্তন
১০৬১। শায়বান ইবনু ফাররূখ ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা কুবাতে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিল, ইতিমধ্যে একজন লোক এসে বলল, এ রাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং কাবার দিকে মুখ করবার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। অতএব, তোমরাও কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়াও। তাদের চেহারা ছিল তখন সিরিয়ার দিকে। অতঃপর তারা কা’বার দিকে ঘূরে গেলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

আল-লুলু ওয়াল মারজান
৫/ মাসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ ৫/২. বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে কা’বার দিকে কিবলা পরিবর্তন।
৩০৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা লোকেরা কুবা নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন যে, এ রাতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হয়েছে। আর তাঁকে কা‘বামুখী হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই তোমারা কা‘বার দিকে মুখ কর। তখন তাঁদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মুকাদ্দাসের) দিকে। একথা শুনে তাঁরা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮। সালাত, অধ্যায় ৩২, হাঃ ৪০৩; মুসলিম, পর্ব ৫ মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা, অধ্যায় ২, হাঃ ৫২৬
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

১৬/১৭ মাসের এই কিবলা পরিবর্তন, এরপরে ইহুদিদের কাছ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আবার কাবার দিকে মুখ ফেরানো, এগুলো যে ইহুদিদের আকৃষ্ট করার জন্য করা হয়েছিল, তাফসীরে তা খুব সরাসরিই বলা আছে। প্রথমে আমরা তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন থেকে পড়ি। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ শফি বিন মুহাম্মাদ ইয়াসিন উসমানি দেওবন্দি বা মুফতি মুহাম্মদ শফি ছিলেন পাকিস্তানের দেওবন্দি ধারার বিখ্যাত সুন্নি ইসলামি পণ্ডিত। তিনি একজন হানাফী আইনজ্ঞ এবং মুফতি। তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের প্রধান মুফতিও ছিলেন। তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন সারা পৃথিবীতেই একটি অত্যন্ত বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ হিসেবে গণ্য [32]

পৌত্তলিক 36

পুরো বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাফসীরে জালালাইনেও [33]

পৌত্তলিক 38

প্রায় প্রতিটি প্যাগান প্রথাকে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত করতে মুহাম্মদ আরবে প্রচলিত নানা উপকথার সাথে মিলিয়ে নিজের উদ্ভাবিত নানা গল্পের সৃষ্টি করেছিল। যেখানে ইব্রাহিম বলে কেউ ছিল বা সে মক্কায় এসেছিল এরকম কোন বাস্তব প্রমাণই পাওয়া যায় না, সেখানে মুহাম্মদের প্রচারিত গল্পে ইব্রাহিমকে মক্কায় এসে কাবার পুনঃনির্মাণ করেছিল বলে দাবী করা হয়। সেই সাথে, নিজেকে ইসমাইলের বংশধর দাবী করার মধ্যেও তার ইহুদীদের নবী হওয়ার বাসনা প্রকাশ পায়। প্রাচীন প্যাগান ধর্মগুলোর নানা অনুষ্ঠান, প্রথা নিয়ে খানিকটা অনুসন্ধান করলেই দেখা যায়, হজ্বের পুরো অনুষ্ঠানই প্যাগান ধর্মগুলো থেকে ইসলামীকরণের মাধ্যমে নেয়া।

সবচাইতে ভয়াবহ যেই বিষয়টা ছিল, সেই মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে হারিয়ে গিয়েছিল হাজার বছরের আরবের সংস্কৃতি, সভ্যতা, আচার অনুষ্ঠান। মক্কা বিজয়ের পরে কাবায় একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় মুহাম্মদ এবং ইসলামের। নষ্ট করা হয় শত শত বছরের আরব শিল্পকলা , সাহিত্য, কবিতা, ক্রমশ নিষিদ্ধ করা হয় সংগীত, অন্যান্য সকল ধর্মকেই। এমনকি, পুরনো বই পুস্তকও ধ্বংস করা হয় ইসলাম অবমাননার দায়।

শালোম আলেইকেম

শালোম আলেইকেম (/ʃəˌlɒm əˈleɪxəm, ˌʃoʊləm-/; হিব্রু ভাষায়: שָׁלוֹם עֲלֵיכֶם‎ shālôm ʻalêḵem) হিব্রু উচ্চারণ: [ʃaˈlom ʕaˈleχem] হিব্রু ভাষার একটি কথ্য অভিবাদন বা শুভেচ্ছা বাক্য, যার অর্থ “আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” এর যথার্থ প্রতিত্তোর হল আলেইকেম শালোম (“আপনার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক”) (হিব্রু ভাষায়: עֲלֵיכֶם שָׁלוֹם‎)। এটি সমগ্র বিশ্বেই ইহুদিদের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছাবার্তা হিসেবে প্রচলিত। জেরুজালেম তালমুদ বা প্যালেস্টাইন তালমুদে এটি ছয়বার উল্লেখ করা হয়েছে। এটি পৌত্তলিক প্রথা না হলেও, ইহুদিদের প্রথা, যা মুহাম্মদ ইসলামে সংযুক্ত করে। এটির আরবি সংস্করণ হচ্ছে আসসালামু আলাইকুম (“আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক”)। যার প্রতিত্তোরে বলা হয় ওয়া আলাইকুম সালাম (“আপনার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক”)। (আরবি ভাষায় السلام عليكم) আস-সালামু আলাইকুম এবং এর রূপভেদগুলো বিভিন্ন ধর্মের আরবরা সালাম হিসাবে ব্যবহার করে। আরামীয় এবং ধ্রুপদী সিরিয়াক ভাষায় Shlomo ‘aleykhun (ܫܠܳܡܳܐ ܥܰܠܶܝܟ̣ܽܘܢ) ব্যবহার করে যার অর্থ আপনাকে জানাই শান্তির বার্তা। খ্রিস্টানদের মধ্যে ক্যাথলিক এবং অর্থডক্স গীর্জাতে তোমরা শান্তিতে রও (গ্রিকে: “Εἰρήνη πᾶσι”, লাতিন ভাষায়: “Pax vobiscum”) বলে একজন বিশপ বা যাজক প্রাথমিকভাবে অভিবাদন করে থাকেন। বাইবেলে বর্ণিত চরিত্রগুলোকে একে অপরকে šālôm lǝkā (šālôm to you, m. singular) or šālôm lākem (plural) বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়।

প্রাচীন পৌত্তলিক প্রথা হজ্ব

আরবের বিভিন্ন গোত্র কাবায় মূর্তিগুলো দেখতে প্রতিবছর সেখানে হজ্ব করতে আসতো। হযরত মুহাম্মদ সেই পুরনো প্রথাকেই ইসলামের অন্তর্ভুক্ত করেন, এবং কিছুটা সংশোধন করেন। হজ্বের অধিকাংশ নিয়মই ইসলামের মূল চেতনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। হজ্ব পরিষ্কারভাবেই একটি পৌত্তলিক প্রথা, মুহাম্মদ যেই প্রথাকে মক্কার অর্থনীতি সচল রাখার জন্য ইসলামে গ্রহণ করেন। যেই ইসলাম সরাসরি নারী পুরুষের প্রকাশ্যে মেলামেশার বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থান নেয়, সেখানে এই ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসবে নারী পুরুষ একই সাথে এক কাপড়ে পালন করে। যেই ধর্মে মূর্তি পূজা, প্রতিমা তৈরি, পাথরের তৈরি কিছুকে সম্মান জানানো, শ্রদ্ধা জানানো সর্বাধিক ঘৃণিত পাপ বা শেরক বলে বিবেচিত হয়, সেই ধর্মে হাজরে আসওয়াদ নামক কালো পাথর চুম্বন করে শ্রদ্ধা জানানো, শয়তানের উদ্দেশ্যে ঢিল ছোড়া, কাবার মত নিছক একটি ঘরকে প্রদক্ষিণ করে সাতবার ঘোরা, তাকে উদ্দেশ্য করে সিজদা করা খুবই অদ্ভুত স্ববিরোধী। কারণ এগুলো সবই পুরনো প্যাগান প্রথার কিছুটা সংশোধিত রূপ। সেকারণেই কাবায় দেবতার সন্তুষ্টিলাভের জন্য পৌত্তলিক পশুবলি পরিণত হলো কোরবানিতে। কাজ একই, কিন্তু গল্পগুলো ভিন্ন।

পুরনো পৌত্তলিক নিয়মে হজ্বে নারী পুরুষ একইসাথে প্রার্থনা করতো, পৌত্তলিকদের মধ্যে নারী পুরুষের জন্য আলাদা প্রার্থনার ব্যবস্থা ছিল না। সেই সাথে কাবায় ছিল নারী দেবীও, এমনকি মেরীর কিছু ছবিও কাবায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত বেশ গৌরবের সাথেই ছিল। কিন্তু সব কথার মধ্যে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হচ্ছে, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ মোটেও হজ্ব প্রথার প্রবর্তক নন। তিনি শুধুমাত্র পৌত্তলিক প্রথাটিকে নিজ ধর্মে সংযোজন করেছেন। হজ্বের নিয়ম যেমন নারী পুরুষ একসাথে হজ্জ্ব করা, সেলাইহীন সাদা কাপড় পড়া, সাতবার প্রদক্ষিণ, শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারা, কালো পাথরে চুম্বন করা, এগুলো সবই ছিল প্রাচীন প্যাগান প্রথা।

সাতবার তাওয়াফ করা

কোন বস্তুকে সাতবার চক্রাকারে প্রদক্ষিণ করা সরাসরি পৌত্তলিক প্রথা। আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে এরকম প্রথা খুব বেশি নেই। বরঞ্চ হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মে এরকম অসংখ্য প্রথা রয়েছে।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২২/ হজ্ব (হাজ্জ)
পরিচ্ছেদঃ ১০৪০. সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা’য়ী করা।
১৪৪৫। আহমদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ‘আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে বললাম, আপনার কি সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করতে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, হাঁ। কেননা তা ছিল জাহেলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজেই হাজ্জ (হজ্জ) বা ‘উমরাকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সা’য়ী করায় কোন দোষ নেই। (২ঃ ১৫৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আসিম আল আহওয়াল (রহঃ)

পৌত্তলিক 40
হিন্দু ধর্মে আগুনকে ঘিরে সাতপাক

সীরাত গ্রন্থ থেকেও জানা যায়, সেই সময়ে আরবের পৌত্তলিকগণ উলঙ্গ হয়ে কাবা তাওয়াফ করতেন [34], নবী মুহাম্মদ উলঙ্গ হওয়াটি বন্ধ করে সংশোধন করে বাদবাকি প্রথাকে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত করেন।

পৌত্তলিক 42

পৌত্তলিক ইহরাম বাধা

আরবের পৌত্তলিকরা আগে কীভাবে ইহরাম বাঁধত, কার উদ্দেশ্যে বাঁধত, তা জানা যায় এই হাদিস থেকে,

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২২/ হজ্ব (হাজ্জ)
পরিচ্ছেদঃ ১০৩৯. সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সা’য়ী করা ওয়াজিব এবং একে আল্লাহর নিদর্শন বানানো হয়েছে
১৫৪১। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … ‘উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? (অনুবাদঃ) সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কা’বাঘরে হাজ্জ (হজ্জ) বা ‘উমরা সম্পন্ন করে, এ দু’টির মাঝে যাতায়াত করলে তাঁর কোন দোষ নেই। (২ঃ ১৫৮) (আমার ধারনা যে,) সাফা-মারওয়ার মাঝে কেউ সা’য়ী না করলে তাঁর কোন দোষ নেই। তখন তিনি (‘আয়িশা (রাঃ)) বললেন, হে ভাতিজা! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়। কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তাই হতো, তাহলে আয়াতের শব্দবিন্যাস এভাবে হতো لاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَتَطَوَّفَ بِهِمَا দুটোর মাঝে সা’য়ী না করায় কোন দোষ নেই!
কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহনের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তাঁর নামেই তাঁরা ইহরাম বাঁধত। সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাঁধত তাঁরা সাফা-মারওয়া সা’য়ী করাকে দোষ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করাকে দূষণীয় মনে করতাম (এখান কি করবো?) এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ পাক ‏(‏إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ‏)‏ الآيَةَ অবতীর্ণ করেন।
‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সা’য়ী করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দু’য়ের সা’য়ী পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবূ বকর ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) কে ঘটনাটি জানোলাম। তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে ‘আয়িশা (রাঃ) ব্যতীত বহু ‘আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যারা ইহরাম বাঁধত তাঁরা সকলেই সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাতে হল না, তখন সাহাবাগন বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেন নি। কাজেই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা’য়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা অবতীর্ণ করেন ‏(‏إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ‏)‏ الآيَةَ
আবূ বকর (রাঃ) আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু’ প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ যারা জাহেলী যুগে সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সা’য়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সা’য়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্বিধার কারন ছিল আল্লাহ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেন নি? অবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সা’য়ী করার কথা উল্লেখ করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ (রহঃ)

হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর

হাজরে আসওয়াদ হল একটি কালো রঙের প্রাচীন পাথর। পাথরটি খুব সম্ভবত আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসা কোন উল্কাপিণ্ড, যা দেখে প্রাচীনকালের মানুষ ভেবেছিল এটি স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোন পাথর। এরকম উল্কাপাতের সময় সাধারণত পাথরগুলো উজ্জল আগুনের মত মনে হয়, মাটিতে নেমে আসার পরে দেখা যায় এটি পুড়ে যাওয়া কোন পাথরের মত মনে হচ্ছে। প্রচণ্ড গতিতে বায়ূমণ্ডলের মধ্যে প্রবেশ করার কারণে উল্কাগুলো আগুনের মত জ্বলতে থাকে, পরে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়। প্রাচীনকালের মানুষের বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় তারা এগুলো সম্পর্কে নানা অলৌকিক কেচ্ছাকাহিনী তৈরি করতো। মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর আদম ও হাওয়ার সময় থেকে পৃথিবীতে রয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে এর বাইরের খোলসের আকৃতি খানিকটা নারী দেহের জননাঙ্গের মত মনে হয়। প্রাচীনকালে যোনী পুজা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলেই জনপ্রিয় ছিল, যাকে উর্বরতা এবং মাতৃরূপ হিসেবে পুজা করা হতো।

হাজরে আসওয়াদ
পৌত্তলিক 45
হিন্দু আদি শক্তি দেবী লজ্জা ঘাউরি

সেই সময়ে নারীর যোনী ও ঋতুস্রাবকে উর্বরতার প্রতীক এবং পবিত্র মনে করা হতো। বিভিন্ন অঞ্চলে রীতিমত পূজা করা হতো নারীর যোনীকে। হিন্দু ধর্ম সহ বেশ কিছু প্রাচীন ধর্মেই আদি শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় লজ্জা গৌরীর কথা, যাকে বলা হয় সকল দেবদেবীর মাতা। উল্লেখ্য, হাজরে আসওয়াদ চুমু দেয়া রীতি রয়েছে।

মুহাম্মদ ছোটবেলায় হিলফুল ফুজুল নামক একটি সংগঠনের একজন কর্মী ছিলেন, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে মুহাম্মদ খুব সোচ্চার থাকলেও, বাল্যকালের স্মৃতি বিজড়িত এই কালো পাথরের প্রতি তার ভালবাসার কারণে তিনি পাথরটি কাবাতেই রেখে দেন, এবং এই কালো পাথরকে সম্মানও করেন। যার ফলাফল হিসেবে এই কালো পাথর মুসলিমদের কাছে পরম পুজনীয় এবং সম্মানিত।

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৯/ হাজ্জ (হজ্জ)
পরিচ্ছেদঃ হাজরে আসওয়াদ রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের ফযীলত।
৮৭৮. কুতায়বা (রহঃ) ……. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ন হয়েছিল তখন সেটি ছিল দুধ থেকেও শুভ্র। মানুষের গুণাহ- খাতা এটিকে এমন কালো করে দিয়েছে। – মিশকাত ২৫৭৭, তা’লীকুর রাগীব ২/১২৩, আল হাজ্জুল কাবীর, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭৭ (আল মাদানী প্রকাশনী)
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

হাদীস সম্ভার
১০/ হজ্জ
পরিচ্ছেদঃ রুকনদ্বয়ের মাহাত্ম্য
(১১৬৪) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের পদ্মরাগরাজির দুই পদ্মরাগ। আল্লাহ এ দু’য়ের নূর (প্রভা) কে নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন। যদি উভয়মণির প্রভাকে তিনি নিষ্প্রভ না করতেন, তাহলে উদয় ও অস্তাচল (দিগদিগন্ত) কে উভয়ে জ্যোতির্ময় করে রাখত।
(তিরমিযী ৮৭৮, সহীহুল জামে ১৬৩৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)

শুধু তাই নয়, মুহাম্মদ এমন কথাও বলেছে যে, কিয়ামতের দিনে এই কালো পাথর মানুষের পক্ষে বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। অর্থাৎ এই কালো পাথরের কিছু না কিছু ক্ষমতা তো অবশ্যই আছে, এবং একে খুশি রাখাও জান্নাতে ইয়াওযার জনয জরুরি। মূর্তি এবং পাথরের কোন ক্ষমতা নেই, এই দাবী করা মুহাম্মদের মুখে যখন এরকম স্ববিরোধী বক্তব্য শোনা যায়, তখন হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে পারি না।

সুনান ইবনু মাজাহ
১৯/ হজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১৯/২৭. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা
২/২৯৪৪। সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে উপস্থিত করা হবে। তার দু‘টি চোখ থাকবে, তা দিয়ে সে দেখবে, যবান থাকবে তা দিয়ে সে কথা বলবে এবং সে এমন লোকের অনুকূলে সাক্ষ্য দিবে যে তাকে সত্যতার সাথে চুমা দিয়েছে।
তিরমিযী ৯৬১, আহমাদ ২২১৬, ২৩৯৪, ২৬৩৮, ২৭৯৩, ৩৫০১, দারেমী ১৮৩৯, মিশকাত ২৫৭৮, আত-তালীক আলা ইবনু খুযাইমাহ ২৭৩৫, ২৭৩৬।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৭/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে
৯৬১। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! এই পাথরকে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। যে লোক সত্য হৃদয়ে একে পর্শ করবে তার সম্বন্ধে এই পাথর আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে সাক্ষ্য দিবে।
— সহীহ, মিশকাত (২৫৭৮), তা’লীকুর রাগীব (২/১২২), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২৭৩৫)
এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

সুনান আদ-দারেমী
৫. হজ্জ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফযীলত
১৮৭৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে আল্লাহ এমন অবস্থায় পুন:উত্থিত করবেন যে, এর দু‘টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সেটি দেখবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সেটি কথা বলবে এবং যে ব্যক্তি তাকে যথাযথভাবে চুম্বন করেছে, সেটি সেই লোকের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।(1)
সালমান (তার বর্ণনায়) বলেন: যে ব্যক্তি তাকে চুম্বন করেছে, তার জন্য (অর্থাৎ ‘যথাযথভাবে’ শব্দটি ব্যতীত)।
(1) তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: [35]
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১১, ৩৭১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০০৫ তে।
এছাড়া, তাবারানী, আল কাবীর ১২/৬৩ নং ১২৪৭৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

এই নিয়ে ঝামেলা আরো বাড়ে, যখন মুহাম্মদ সরাসরি এই পাথরের ফজিলত বর্ণনা করেন, এবং ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আবার এই একই পাথরকে ক্ষমতাহীন পাথর বলে আখ্যায়িত করেন! বলেন যে, এই পাথর কারো ক্ষতি বা উপকার কিছুই করতে পারে না। যা সরাসরি উপরের হাদিসগুলোর নির্দেশনার বিরোধী।

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. তাওয়াফের সময় হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা মুস্তাহাব
২৯৩৯। খালফ ইবনু হিশাম, মুকাদ্দমী, আবূ কামিল ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি টাক মাথাওয়ালা অর্থাৎ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে কালো পাথর হাজারে আসওয়াদ চুমো দিতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে চুন্বন করব এবং আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর, তুমি কারও ক্ষতিও করতে পার না এবং উপকারও করতে পার না। আমি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমায় চুম্বন করতাম না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ)

ওজুও ছিল পৌত্তলিক প্রথা

প্রার্থনার পূর্বে পরিচ্ছন্ন হওয়া প্রায় সকল ধর্মেই একটি প্রচলিত বিধান। ইসলামের ওজু আরব অঞ্চলে ইসলামের আবির্ভাবের পুর্ব থেকেই প্রচলিত ছিল, যা অনেক সূত্র থেকেই জানা যায়। একটি সূত্র উল্লেখ করা হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, মুহাম্মদের দাদা আবদুল মুত্তালিব ওজুর জন্য যমযমের পানির একটি অংশ নির্ধারণ করেন [36]

পৌত্তলিক 47

নামাজ/সালাতও ছিল পৌত্তলিক প্রথা

অন্যান্য বিষয়গুলোর মত ইসলামের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নামাজও ছিল প্রাচীন পৌত্তলিক প্রথা। নবী মুহাম্মদের সময়ে, আগে এবং পরে পৌত্তলিকরাও যে নামাজ পড়তো, তার প্রমাণ হাদিসগুলোর অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়। যেমন ধরুন, হযরত উমরকে যিনি হত্যা করেন, সেই পৌত্তলিক কাফের মুসলিমদের মতই কেবলামুখি হয়ে নামাজ পড়তো, এবং হজ্জ্বও করতো।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০৮৭. উসমান ইবন আফফান (রাঃ) এর প্রতি বায়’আত ও তার উপর (জনগনের) ঐক্যমত হওয়ার ঘটনা এবং এতে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এর শাহাদাতের বর্ণনা
৩৪৩৫। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে আহত হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মদিনায় দেখেছি যে তিনি হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) ও উসমান ইবনু হুনায়ফ এর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন, (ইরাক বাসীর উপর কর ধার্যের ব্যাপারে) তোমরা এটা কী করলে? তোমরা কী আশঙ্কা করছ যে তোমরা ইরাক ভূমির উপর যে কর ধার্য করেছ তা বহনে ঐ ভূখন্ড অক্ষম? তারা বললেন, আমরা যে পরিমাণ কর ধার্য করেছি, ঐ ভূখন্ড তা বহনে সক্ষম। এতে অতিরিক্ত কোন বোঝা চাপান হয়নি। তখন উমর (রাঃ) বললেন, তোমরা পুনঃচিন্তা করে দেখ যে তোমরা এ ভূখন্ডের উপর যে কর আরোপ করেছ তা বহনে সক্ষম নয়? বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, না (সাধ্যাতীত কর আরোপ করা হয় নি) এরপর উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থ রাখেন তবে ইরাকের বিধবাগণকে এমন অবস্থায় রেখে যাব যে তারা আমার পরে কখনো অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর চতুর্থ দিন তিনি (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন। যেদিন প্রত্যুষে তিনি আহত হন, আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না। উমর (রাঃ) (সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করার প্রাক্কালে) দু’কাতারের মধ্যে দিয়ে চলার সময় বলতেন, কাতার সোজা করে নাও। যখন দেখতেন কাতারে কোন ত্রুটি নেই তখন তাকবীর বলতেন। তিনি অধিকাংশ সময় সূরা ইউসূফ, সূরা নাহল অথবা এ ধরনের (দীর্ঘ) সূরা (ফজরের) প্রথম রাক’আতে তিলাওয়াত করতেন, যেন অধিক পরিমাণে লোক প্রথম রাকআতে শরীক হতে পারেন। (সেদিন) তাকবীর বলার পরেই আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একটি কুকুর আমাকে আঘাত করেছে অথবা বললেন, আমাকে আক্রমণ করেছে। ঘাতক “ইলজ” দ্রুত পলায়নের সময় দু’ধারী খঞ্জর দিয়ে ডানে বামে আঘাত করে চলছে। এভাবে তেরো জনকে আহত করল। এদের মধ্যে সাতজন শহীদ হলেন।
এ অবস্থা দৃষ্টে এক মুসলিম তার লম্বা চাঁদরটি ঘাতকের উপর ফেলে দিলেন। ঘাতক যখন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে যাবে তখন সে আত্মহত্যা করল। উমর (রাঃ) আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এর হাত ধরে আগে এগিয়ে দিলেন। উমর (রাঃ) এর নিকটবর্তী যারা ছিল শুধুমাত্র তারাই ব্যপারটি দেখতে পেল। আর মসজিদের প্রান্তে যারা ছিল তারা ব্যাপারটি এর বেশী বুঝতে পারল না যে উমর (রাঃ) এর কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না। তাই তারা ‘সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ’ বলতে লাগলেন। আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তাঁদেরকে নিয়ে সংক্ষেপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। যখন মুসল্লীগণ চলে গেলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন, হে ইবনু আব্বাস (রাঃ) দেখ তো কে আমাকে আঘাত করল। তিনি কিছুক্ষণ অনুসন্ধান করে এসে বললেন, মুগীরা ইবনু শো’বা (রাঃ) এর গোলাম (আবূ লুলু)। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ কারীগর গোলামটি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তার সর্বনাশ করুন। আমি তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার মৃত্যু ইসলামের দাবীদার কোন ব্যাক্তির হাতে ঘটান নি। হে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তুমি এবং তোমার পিতা মদিনায় কাফির গোলামের সংখ্যা বৃদ্ধি পছন্দ করতে। আব্বাস (রাঃ) এর নিকট অনেক অমুসলিম গোলাম ছিল।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চান তবে আমি কাজ করে ফেলি অর্থাৎ আমি তাদেরকে হত্যা করে ফেলি। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি ভুল বলছ। (তুমি তা করতে পার না) কেননা তারা তোমাদের ভাষায় কথা বলে তোমাদের কেবলামুখী হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তোমাদের ন্যায় হাজ্জ (হজ্জ) করে।
তারপর তাঁকে তাঁর ঘরে নেয়া হল। আমরা তাঁর সাথে চললাম। মানুষের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ইতিপূর্বে তাদের উপর এতবড় মুসীবত আর আসেনি। কেউ কেউ বলছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। আবার কেউ বলছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। তারপর খেজুরের শরবত আনা হল তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা তার পেট থেকে বেরিয়ে পড়ল। এরপর দুধ আনা হল, তিনি তা পান করলেন; তাও তার পেট থেকে বেরিয়ে পড়ল। তখন সকলই বুঝতে পারলেন, মৃত্যু তাঁর অবশ্যম্ভাবী। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। অন্যান্য লোকজনও আসতে শুরু করল। সকলেই তার প্রশংসা করতে লাগল।
তখন যুবক বয়সী একটি লোক এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন। আপনার জন্য আল্লাহর সু-সংবাদ রয়েছে; আপনি তা গ্রহণ করুন। আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য গ্রহণ করেছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই আপনি তা গ্রহণ করেছেন, যে সম্পর্কে আপনি নিজেই অবগত আছেন তারপর আপনি খলীফা হয়ে ন্যায বিচার করেছেন। তারপর আপনি শাহাদাত লাভ করেছেন। উমর (রাঃ) বললেন, আমি পছন্দ করি যে তা আমার জন্য ক্ষতিকর বা লাভজনক না হয়ে সমান হয়ে যাক। যখন যুবকটি চলে যেতে উদ্যত হল তখন তার (পরিহিত) লঙ্গিটি মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছিল। (এ দেখে) উমর (রাঃ) বললেন, যুবকটিকে আমার নিকট ডেকে আন। (ছেলেটি আসল) তিনি বললেন- হে ভাতিজা, তোমার কাপড়টি উঠিয়ে নাও। এটা তোমার কাপড়ের পরিচ্ছিন্নতার উপর এবং তোমার রবের নিকটও পছন্দনীয়।
(তারপর তিনি বললেন) হে আবদুল্লাহ ইবনু উমর তুমি হিসাব করে দেখ আমার ঋণের পরিমাণ কত। তাঁরা হিসাব করে দেখতে পেলেন ছিয়াশি হাজার (দিরহাম) বা এর কাছাকাছি। তিনি বললেন, যদি উমরের পরিবার পরিজনের মাল দ্বারা তা পরিশোধ হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে পরিশোধ করে দাও। অন্যথায় আদি ইবনু কা’ব এর বংশধরদের নিকট থেকে সাহায্য গ্রহণ কর। তাদের মাল দিয়েও যদি ঋণ পরিশোধ না হয় তবে কুরাইশ কবিলা থেকে সাহায্য গ্রহণ করবে এর বাহিরে কারো সাহায্য গ্রহণ করবে না। আমার পক্ষ থেকে তাড়াতাড়ি ঋণ আদায় করে দাও। উম্মূল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) এর খেদমতে তুমি যাও এবং বল উমর আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে। আমীরুল মু’মিনীন, শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মু’মিনগণের আমীর নই। তাঁকে বল উমর ইবনু খাত্তাব তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হওয়ার অনুমতি চাচ্ছেন।
ইবনু উমর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) এর খেদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ কর, তিনি দেখলেন, আয়িশা (রাঃ) বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তা আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যপারে আমার উপরে তাঁকে অগ্রাধিকার প্রদান করছি। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) যখন ফিরে আসছেন তখন বলা হল- এই যে আবদুল্লাহ ফিরে আসছে। তিনি বললেন আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যাক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, কি সংবাদ? তিনি বললেন, আমীরুল মু’মিনীন, আপনি যা আকাঙ্ক্ষা করেছেন, তাই হয়েছে, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। উমর (রাঃ) বললেন, আলহামদুল্লিাহ। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার ওফাত হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাঁকে (আয়িশা (রাঃ) আমার সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তবে আমাকে প্রবেশ করাবে আর যদি তিনি অনুমতি না দেন তবে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে।
এ সময় উম্মূল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ) কে কতিপয় মহিলাসহ আসতে দেখে আমরা উঠে পড়লাম। হাফসা (রাঃ) তাঁর কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন। তারপর পুরুষগণ এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলে, তিনি ঘরের ভিতর চলে (গেলেন) ঘরের ভেতর হতেও আমরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন, আপনি ওয়াসিয়াত করুন এবং খলীফা মনোনীত করুন। উমর (রাঃ) বললেন, খিলাফতের জন্য এ কয়েকজন ব্যতীত অন্য কাউকে আমি যোগ্য পাচ্ছিনা, যাঁদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইন্তেকালের সময় রাযী ও খুশী ছিলেন। তারপর তিনি তাদের নাম বললেন, আলী, উসমান, যুবায়র, তালহা, সা’স ও আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এবং বললেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তোমাদের সাথে থাকবে। কিন্তু সে খিলাফত লাভ করতে পারবে না। তা ছিল শুধু সান্তনা হিসাবে।
যদি খিলাফতের দায়িত্ব সা’দের (রাঃ) উপর ন্যাস্ত করা হয় তবে তিনি এর জন্য যোগ্যতম ব্যাক্তি। এর যদি তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ খলীফা নির্বাচিত হন তবে তিনি যেন সর্ব বিষয়ে সা‘দের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আমি তাঁকে (কুফার গভর্নরের পদ থেকে) অযোগ্যতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করি না। আমার পরে (নির্বাচিত) খলীফাকে আমি ওয়াসিয়াত করছি, তিনি যেন প্রথম যুগের মুহাজিরগণের হক সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাদের মান-সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। এবং আমি তাঁকে আনসার সাহাবীগণের যাঁরা মুহাজিরগণের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করে আসছিলেন এবং ঈমান এনেছেন, তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওয়াসিয়াত করছি যে তাঁদের মধ্যে নেককারগণের ওযর আপত্তি যেন গ্রহণ করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে কারোর ভুলত্রুটি হলে তা যেন ক্ষমা করে দেয়া হয়।
আমি তাঁকে এ ওয়াসিয়াতও করছি যে, তিনি যেন রাজ্যের বিভিন্ন শহরের আধিবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করেন। কেননা তাঁরাও ইসলামের হেফাযতকারী। এবং তারাই ধন-সম্পদের যোগানদাতা। তারাই শত্রুদের চোখের কাঁটা। তাদের থেকে তাদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কেবলমাত্র তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ যাকাত আদায় করা হয়। আমি তাঁকে পল্লীবাসীদের সহিত সদ্ব্যবহার করারও ওসিয়ত করছি। কেননা তাঁরাই আরবের ভিত্তি এবং ইসলামের মূল শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এনে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া হয়। আমি তাঁকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মীদের (অর্থাৎ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়াত করছি যে, তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়। (তারা কোন শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে) তাদের পক্ষাবিলম্বে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া (কর) যেন চাপানো না হয়।
উমর (রাঃ) এর ইন্তেকাল হয়ে গেলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) কে সালাম করলেন এবং বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি (আয়িশা (রাঃ) বললেন, তাকে প্রবেশ করাও। এরপর তাঁকে প্রবেশ করান হল এবং তার সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন করা হল। যখন তাঁর দাফন সম্পন্ন হল, তখন ঐ ব্যাক্তিবর্গ একত্রিত হলেন। তখন আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্য থেকে তিনজনের উপর ছেড়ে দাও। তখন যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি, আমরা বিষয়টি আলী (রাঃ) এর উপর অর্পণ করলাম। তালহা (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি উসমান (রাঃ) এর উপর ন্যাস্ত করলাম। সা‘দ (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এর উপর ন্যাস্ত করলাম। তারপর আবদুর রহমান (রাঃ), উসমান ও আলী (রাঃ) কে বললেন, আপনাদের দু’জনের মধ্য থেকে কে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে ইচ্ছা করেন? (একজন অব্যাহতি দিলে) এ দায়িত্ব অপর জনের উপর অর্পণ করব। আল্লাহ ও ইসলামের হক আদায় করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে। কে অধিকতর যোগ্য সে সম্পর্কে দু’জনেরই চিন্তা করা উচিৎ। ব্যাক্তিদ্বয় [উসমান ও আলী (রাঃ)] নীরব থাকলেন।
তখন আবদুর রাহমান (রাঃ) নিজেই বললেন, আপনারা এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যাস্ত করতে পরেন কি? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আপনাদের মধ্যকার যোগ্যতম ব্যাক্তিকে নির্বাচিত করতে একটুও ত্রুটি করব না। তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। তাদের একজনের [আলী (রাঃ) এর] হাত ধরে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আপনার যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ত এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামীতা রয়েছে আপনিও ভালভাবে জানেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এটা আপনার জন্য জরুরী হবে যে যদি আপনাকে খলীফা মনোনীত করি তাহলে আপনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। আর যদি উসমান (রাঃ) কে মনোনিত করি তবে আপনি তাঁর কথা শুনবেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। তারপর তিনি অপরজনের [উসমানের (রাঃ)] সঙ্গে একান্তে অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে অঙ্গীকার গ্রহণ করে, তিনি বললেন, হে উসমান (রাঃ) আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি [আবদুর রহমান (রাঃ)], তাঁর হাতে বায়’আত করলেন। তারপর আলী (রাঃ) তাঁর [উসমান (রাঃ) এর বায়’আত করলেন)। এরপর মদিনাবাসীগণ অগ্রসর হয়ে সকলেই বায়’আত করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)

পৌত্তলিক 49
পৌত্তলিক 51

একইসাথে, মুহাম্মদ তার বাল্যকালের প্রেমিকা ও চাচাতো বোন উম্মে হানীকে নিয়ে একসাথে নামাজ পড়তো বলেও জানা যায়[37] । বেশিরভাগ সূত্র থেকে জানা যায়, উম্মে হানী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন মক্কা বিজয়ের পরে [38] । তাহলে হিজরতের পূর্বে মুহাম্মদ মক্কায় থাকাকালীন সময়ই উনারা একসাথে কেন নামাজ আদায় করতেন? সেই রাতে তো উম্মে হানী মুসলিমই ছিলেন না, তাহলে রাতের বেলা তারা নামাজ আদায় না করে থাকলে কী করতেন? আবু তালিবের কন্যা কেন কাফির অবস্থাতেই নামাজ আদায় করতেন? আসুন বর্ণনাগুলো পড়ি [39] [40],

পৌত্তলিক 53
পৌত্তলিক 55
পৌত্তলিক 57

সিয়াম বা রোজা ও পৌত্তলিকতা

পৌত্তলিক কুরাইশদের মধ্যে ‘আশুরার সিয়াম’ পালন প্রচলিত ছিল, একইসাথে প্রচলিত ছিল ‘রমাদানে তাহান্নুস’। তারা এই রমজানে জনকল্যাণমূলক কাজ করতো [41], বিষয়টি পরিষ্কারভাবেই বর্ণনা করা আছে বুখারী শরীফের হাদিসে।

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলি যুগে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন কুরাইশগণ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। যখন হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন, তিনি নিজেও আশূরার সাওম পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনে আদেশ দিতেন। যখন রমযানের সাওম ফরয করা হল, (তখন ‘আশূরার সাওম ঐচ্ছিক করে দেওয়া হল)। তখন যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন আর যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৩/ সাওম বা রোজা
পরিচ্ছেদঃ ১২৫১. আশুরার দিনে সাওম পালন করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ১৮৭৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২০০৪
১৮৭৮। আবূ মা’মার (রহঃ) … ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আলাইহিস সালাম) সাওম পালন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে সাওম পালন করেন এবং সাওম পালনের নির্দেশ দেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

ইসলামের পূর্বে ঈদ

হাদিস থেকে এটিও পরিষ্কারভাবে জানা যায় যে, ইসলামের পূর্ব থেকেই মদিনার অমুসলিমরা বছরে দুইটি উৎসব নওরোজ( নববর্ষ) বা নায়মূক এবং মেহেরজান এই দুইটি পালন করতো। মুহাম্মদ জাহেলী যুগের পৌত্তলিকদের ঈদের দিনের বদলে দুইটি ঈদের দিন চালু করেন।

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – দু’ ঈদের সালাত
১৪৩৯-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করার পর তাদের দু’টি দিন ছিল। এ দিন দু’টিতে তারা খেলাধূলা ও আমোদ-প্রমোদ করত। (এ দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এ দু’টি দিন কি? তারা বলল ইসলামের পূর্বে জাহিলিয়্যাতের সময় এ দিন দু’টিতে আমরা খেলাধূলা করতাম। (এ কথা শ্রবণে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ দু’দিনের পরিবর্তে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য আরো উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন। এর একটি হলো ঈদুল আযহার দিন ও অপরটি ঈদুল ফিতরের দিন। (আবূ দাঊদ)[1]
[1] সহীহ : আবূ দাঊদ ১১৩৪, আহমাদ ১৩৬২২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১০৯১।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৯/ উভয় ঈদের নামায
পরিচ্ছেদঃ ১/ পরিচ্ছেদ নাই
১৫৫৯। আলী ইবন হুজর (রহঃ) … আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়াত যুগের অধিবাসীদের জন্য প্রত্যেক বৎসরে দু’টি দিন ছিল, যাতে তারা খেল-তামশা করতো। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন তখন তিনি বললেন, তোমাদের জন্য দু’টি দিন ছিল, যাতে তোমরা খেল-তামশা করতে। এখন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য উক্ত দু’দিনের পরিবর্তে তার চেয়েও অধিকতর উত্তম দু’টি দিন নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন।
[সহীহ। আস-সহীহাহ ২০২১, মিশকাত ১৪৩৯]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২/ সালাত (নামায)
পরিচ্ছেদঃ ২৫১. দুই ঈদের নামায।
১১৩৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) ………… আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নায়মূক ও মেহেরজান) খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহেলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কোরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ। (তিরমিযী, নাসাঈ)
নাসায়ী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, হাঃ১১৫৫), আহমাদ (৩/১৭৮), হুমাইদ হতে আনাস সূত্রে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
২/ সালাত
পরিচ্ছেদঃ ২৪৫. দুই ঈদের সালাত
১১৩৪। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে এসে দেখেন, মদীনাহবাসীরা নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ দু‘টি দিন কিসের? সকলেই বললো, জাহিলী যুগে আমরা এ দু’ দিন খেলাধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ তোমাদের এ দু’ দিনের পরিবর্তে উত্তম দু‘টি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্বরের দিন।[1]
সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৩/ সাওম বা রোজা
পরিচ্ছেদঃ ১২৫১. আশুরার দিনে সাওম পালন করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ১৮৭৯, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২০০৫
১৮৭৯। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনকে ইয়াহুদীগণ ঈদ মনে করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরাও এ দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ মূসা আল- আশ’আরী (রাঃ)

যাকাত ছিল প্রাক ইসলামিক প্রথা

ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে ইহুদিদের টেজেডাকাহ বা Tzedakah বা ভিন্ন উচ্চারণে সাদাকাহ বা Ṣedaqah দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। টেজেডাকাহ একটি হিব্রু শব্দ যার সাধারণ অর্থ দানশীলতা বা সঠিক ও ন্যায়বিচার করার জন্য দান করার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। ইহুদি ধর্মে টেজেদাকাহ (দাতব্য বা দান)কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কাজ হিসাবে দেখা হয়। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে অনাহারে থাকা মানুষদের খাবারের জন্য তাদের জমির অংশ ছেড়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ফসল কাটার সময় যে শস্য বাদ পড়েছে তা তুলতে নিষেধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে দীর্ঘ আলোচনা করা হবে, তাই আপাতত এই বিষয়টি আলোচনা থেকে বাদ রাখা হচ্ছে।

পৌত্তলিক 59

খৎনা এবং আকিকা দেয়া

বুখারী শরীফেই পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে যে, সেই সময়ে আরবগণ খৎনা করতো। এর অর্থ হচ্ছে, খৎনা ইহুদী এবং আরবদের মধ্যে ছিল একটি প্রচলিত প্রথা। নবী মুহাম্মদ মক্কায় জন্মগ্রহণ করে ছোটবেলা থেকেই খৎনা করা দেখেছেন, ইহুদিদেরও একই কাজ করতে দেখেছেন। তাই সেটি ইসলামের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করেন [42]

পৌত্তলিক 61

সেইসাথে আবদুল মুত্তালিব প্রচলিত পৌত্তলিক প্রথা অনুসারে সপ্তম দিনে শিশু মুহাম্মদকে খতনা করিয়েছিল, নামকরণও করেছিল [43]

পৌত্তলিক 63

হাদিস থেকে জানা যায়, ইসলামে আকীকার এই পৌত্তলিক প্রথাটিও অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
১০/ কুরবানী নিয়ম-কানুন
পরিচ্ছেদঃ ২১. আক্বীকাহর বর্ণনা
২৮৩৭। সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আক্বীকাহর সাথে বন্ধক থাকে। সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আক্বীকাহ করতে হয়, মাথা মুড়াতে হয় এবং (মাথায়) রক্ত মাখাতে হয়। কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, রক্ত কিভাবে মাখতে হয়? তিনি বলেন, আক্বীকাহর পশু যবাহ করে তা থেকে একটু পশম দিয়ে তাতে রক্ত মেখে তা বাচ্চার মাথায় নরম তালুতে রেখে দিবে। অতঃপর মাথা থেকে সূতার ন্যায় রক্ত গড়িয়ে পড়লে মাথা ধুইয়ে তা ন্যাড়া করবে। আবূ দাঊদ বলেন, ‘রক্তমাখার’ শব্দটি হাম্মামের ধারণামূলক, অন্যরা তা বর্জন করেছেন। আবূ দাঊদ বলেন, এখন এ হাদীস আমলযোগ্য নয়।[1]
[1]. সহীহঃ তবে ويدمى কথাটি বাদে। মাহফূয হলো و يسمى যেমন নীচের বর্ণনাটি। ইরওয়া (১১৬৫)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
১০/ কুরবানী নিয়ম-কানুন
পরিচ্ছেদঃ ২১. আক্বীকাহর বর্ণনা
২৮৪৩। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমাদের কারো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে একটি বকরী যবাহ করতো এবং শিশুর মাথায় ঐ পশুর রক্ত মেখে দিতো। অতঃপর আল্লাহ যখন দীনে ইসলাম আনলেন, ‘আমরা বকরী যবাহ করতাম, শিশুর মাথা মুন্ডন করতাম এবং তাতে যা‘ফরান মাখতাম।[1]
[1]. হাসান সহীহ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ বুরায়দাহ ইবনু হুসাইব আল-আসলামী (রাঃ)

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
১০/ কুরবানী নিয়ম-কানুন
পরিচ্ছেদঃ ২১. আক্বীকাহর বর্ণনা
২৮৪২। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতার ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আক্বীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ কষ্ট পছন্দ করেন না। হয় তো সেজন্যই তিনি আক্বীকাহকে কষ্ট নামকরণ করেছেন। তিনি বলেনঃ যার কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে, সে যেন তার পক্ষ থেকে আক্বীকাহ করে। সে যেন ছেলের পক্ষ থেকে সমবয়স্ক দু’টি বকরী এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী যবাহ করে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফারা‘আ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ ফারা‘আ বৈধ। তোমরা যদি একে এ সময় পর্যন্ত ছেড়ে দাও যে, তা বয়স্ক, শক্তিশালী, ইবনু মাখাদ কিংবা ইবনু লাবূন হয়, তারপর তা কোনো বিধবাকে দিয়ে দাও বা আল্লাহর পথে বাহন হিসেবে প্রদান করো, তাহলে এ কাজ একে যবাহ করে এর গোশত ও লোম চটচটে করার চেয়ে উত্তম হবে। অথবা তোমার উটকে ভারাক্রান্ত করা ও তোমার দুধের পাত্র উপুর করে দেয়ার চেয়ে উত্তম হবে।[1]
[1]. হাসান।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)

দেনমোহর ছিল পৌত্তলিক প্রথা

দেনমোহর প্রথা নিয়ে অনেক মুসলিমই খুবই গর্বের সাথে বলেন, দেনমোহর নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেয়। এটি নাকি ইসলামের আবিষ্কার এবং মুসলিমগণ এই নিয়ে অনেক বক্তব্যই দেন। কিন্তু ইসলামই যদি এই প্রথার প্রবর্তক হয়, ইসলাম আসার পুর্বে মুহাম্মদ খাদিজাকে বিয়ের সময় কেন দেনমোহর দিলো? তার মানে কী এই নয় যে, ইসলাম আরবের এই পৌত্তলিক প্রথাটি নিজের ধর্মে স্থান দিয়েছে [44]? সেইসাথে, দেনমোহর আসলে কী সেটিও জেনে নেয়া প্রয়োজন, তাই এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন [45]

মুহাম্মদ খাজিদার বিয়েতে দেনমোহর

একত্রে চার স্ত্রী রাখা

অনেক মুসলিমই খুব গর্বের সাথে দাবি করেন যে, ইসলামের পূর্বে নাকি যতখুশি স্ত্রী রাখার নিয়ম ছিল। ইসলাম এসেই প্রথম স্ত্রীর সংখ্যা চারে সীমাবদ্ধ করে দেয়, যেটাকে ইসলামের অনুসারিগণ খুব বিশাল নারী অধিকার বলে দাবী করে। চার স্ত্রী রাখা কীভাবে নারী অধিকারের প্রমাণ দেয়, তা আমার জানা নেই, কিন্তু মুসলিমদের এই দাবিটিও নোংরা মিথ্যাচার। কারণ মুহাম্মদ এই নিয়মটি শুধুমাত্র কপি করেছেন, ইহুদি ধর্ম থেকে। আরব পৌত্তলিকদের মধ্যে যতখুশী বহুবিবাহের প্রচলন ছিল বটে, কিন্তু ইহুদিদের মধ্যে বহু পূর্ব থেকেই স্ত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ চারে সীমাবদ্ধ ছিল। আসুন ইহুদি ধর্মে সর্বোচ্চ চার স্ত্রী রাখার নিয়মটি জেনে নিই। উল্লেখ্য, ইহুদি ধর্মের তালমুদে এটিও বর্ণিত আছে যে, সামর্থ্য থাকলেই শুধুমাত্র একাধিক স্ত্রী রাখা যাবে। যেটিও ইসলাম সরাসরি কপি করেছে। ইহুদিদের ব্যাবিলনীয় তালমুদের ইংরেজি অনুবাদ থেকে সরাসরি নিচে দেয়া হলো [46], এখানে টিকা ৫ লক্ষ্য করুন –

And is he allowed? – To marry four wives.

পৌত্তলিক 66
Judaism 4 wives

এবারে ব্যবিলনীয় তালমুদের 65a ভার্সে চলে যাই, [47]

Raba said: A man may marry wives in addition to his first wife; provided only that he possesses the means to maintain them

A man may marry wives in addition to his first wife; provided only that he possesses the means to maintain them

ইসলামের সৃষ্টিতত্ত্ব

ইসলামের মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহনক্ষত্রের সৃষ্টি সম্পর্কে বেশিরভাগ বর্ণনাই প্রাচীন বাইবেল এবং ইহুদীদের সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে সরাসরি কপি করা। এর সাথে আরো যুক্ত হয়েছে সেই সময়ে প্রভাববিস্তারকারী নানা মতবাদের। আসুন সেসব সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক। উল্লেখ্য, এখানে অল্প কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে।

থেলিসের পানিদর্শন, বাইবেল ও কোরআন

ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। অর্থাৎ মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বের সকল পদার্থ সৃষ্টির পূর্বে পানি তৈরি হয়েছে। ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে পানিই জগতের একটি আদিবস্তু। হাইড্রোজেন তৈরির আগেই পানি বানানোর চিন্তা খুবই অবৈজ্ঞানিক এবং হাস্যকর কথা। কারণ পানি তৈরিতে হাইড্রোজেন প্রয়োজন হয়। হাইড্রোজেনের আগে পানির অস্তিত্ব সম্ভব নয়। এবং হাইড্রোজেনের সৃষ্টি মহাবিশ্বের উৎপত্তির সাথে সাথে। কোরআন এই ধারণাগুলো গ্রহণ করেছে তার আগে রচিত বাইবেল থেকে। প্রাচীন মেসোপটিমিয়ান সভ্যতায় এবং মহাভারতেও একই রকম তথ্য পাওয়া যায়। এই সকল ভুল তথ্য যে আসলে প্রাচীন দার্শনিক থেলিসের দ্বারা প্রভাবিত, তা বুঝতে খুব সমস্যা হয় না।

প্রাচীনকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং যাকে রীতিমত দর্শনের জনক হিসেবেও ধরা হয়, তার নাম থেলিস বা মাইলেটাসের থেলিস। তার জন্ম অনুমানিক ৬২৪–৬২৫ খ্রিস্টপূর্ব মৃত্যু ৫৬৯-৫৮৬ খ্রিস্টপূর্ব সালে। তিনি ছিলেন প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক, এবং তার মতবাদই সারা পৃথিবীতে একসময় সবচাইতে প্রভাবশালী মতবাদ বলে বিবেচিত হতো। তিনি মনে করতেন, “সবকিছুর আদিমতম উপাদান হচ্ছে পানি”[48] । তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী দার্শনিক এবং তার এই মতবাদও অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় পরবর্তী সময়ের প্রায় সকল দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের ওপরই এই মতবাদ প্রভাব বিস্তার করেছে। সেই প্রভাব আমরা দেখতে পাই বাইবেলের মধ্যে, একইসাথে কোরআনের মধ্যেও।

পৌত্তলিক 70

কোরআনে বলা হয়েছে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর [49]

তিনিই সর্বশক্তিমান, যিনি সৃজন করিয়াছেন আসমান ও জমীনকে ছয় দিবসে আর তিনি সিংহাসনে আসীন ছিলেন যা ছিল পানির উপরে

হাদিসেও অসংখ্যবার বলা হয়েছে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। কিন্তু যখন মহাবিশ্বের পদার্থসমূহ তৈরি হয়নি, তখন পানি আসলো কোথা থেকে? [50]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৯৭/ তাওহীদ
পরিচ্ছেদঃ ৯৭/২২. আল্লাহর বাণীঃ তখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল- (সূরাহ হূদ ১১/৭)। তিনি আরশে ‘আযীমের প্রতিপালক- (সূরাহ আত্-তাওবাহ ৯/১২৯)।
৭৪২৭. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সব মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে। (আমার হুঁশ ফিরলে) তখন আমি মূসা (আঃ)-কে আরশের একটি পায়া ধরে দাঁড়ানো দেখতে পাব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

এবারে আসুন দেখা যাক, কোরআনের বহু পূর্বে লিখিত বাইবেলে কী বলা আছে [51]

আদিপুস্তক ১
১ শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না।
অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
৬ তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক।”
তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন। এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল।
৯ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়।” এবং তা-ই হল।

এবারে আসুন হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ মহাভারতে মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে কী বলা আছে তা পড়ি,[52]

প্রথমে কেবল একমাত্র সনাতন ভগবান্ ব্রহ্মা বিদ্যামান ছিলেন। অনন্তর তাঁহার মরীচি, অত্রি,অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু ও বশিষ্ঠ এই সাত অগ্নিতুল্য পুত্রের উৎপত্তি হয়।
সমগ্র বিশ্ব এক ঘোরতর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, পরমব্রহ্ম নিজ তেজে সেই অন্ধকার দূর করে জল সৃষ্টি করলেন। সেই জলে সৃষ্টির বীজ নিক্ষেপ করলে একটি অতিকায় সুবর্ণ অণ্ড বা ডিম সৃষ্টি হয়। সেই অণ্ডের মধ্যে পরমব্রহ্ম স্বয়ং প্রবেশ করেন। এরপর অণ্ড দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এর একভাগ দ্বারা আকাশ ও অপর ভাগ দ্বারা ভূমণ্ডল তৈরি হয়। এরপর ব্রহ্মা মন থেকে দশজন প্রজাপতি সৃষ্টি করেন। এই প্রজাপতিরাই মানবজাতির আদিপিতা। এই দশজন প্রজাপতি হলেন- অঙ্গিরা, অত্রি, ক্রতু, দক্ষ, নারদ,পুলস্ত্য, পুলহ, বশিষ্ঠ, ভৃগু ও মরীচি। ব্রহ্মার আদেশে এঁরা বিভিন্ন প্রাণী সৃষ্টি করলেন। বাকি একজন অর্থাৎ নারদকে সৃষ্টি রক্ষার ভার দিলেন। কিন্তু ব্রহ্ম-সাধনায় বিঘ্ন হবে বলে নারদ সে ভার গ্রহণ করলেন না। এই কারণে ব্রহ্মা তাঁকে মানুষ ও গন্ধর্বরূপে জন্মগ্রহণ করার অভিশাপ দিলেন।

ছয়দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি

আমরা জানি যে, দিন রাতের হিসেবের জন্য প্রয়োজন হয় একটি গ্রহের নিজ অক্ষের ওপর ঘুর্ণন এবং পার্শ্ববর্তী একটি নক্ষত্রের, যেমন পৃথিবীর জন্য রয়েছে সূর্য। কিন্তু মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে দিনরাত বলে কিছু থাকার কথা নয়। কারণ বৃহৎ সম্প্রসারণ তত্ত্ব থেকে আমরা জানি, মহাবিশ্বের উদ্ভবের পুর্বে আমরা যাকে সময় বলে বুঝি, সেই সময় বলে কিছুর অস্তিত্বই ছিল না। তাহলে তিনি ছয় দিনে বা আটদিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করলেন কীভাবে? আর দিনের হিসেব তখনই থাকতে পারে, যখন কোন গ্রহে কেউ অবস্থা করবে এবং সেই গ্রহের নিকটবর্তী একটি নক্ষত্র থাকবে। তাহলে আল্লাহ কী কোন গ্রহে থাকেন? উনি কি এলিয়েন? [53] [54]

নি:সন্দেহ, তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ , যিনি আসমান ও জমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করিয়াছেন, অনন্তর সিংহাসনে সমাসীন হইয়াছেন, তিনিই দিনকে রাত্রির দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, যাহা উহার পিছনে দৌড়াইয়া চলে এবং তিনিই চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্রসমূহকে তাহার নির্দেশাধীন করিয়াছেন।

তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ তিনি আকাশ ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করিয়াছেন ছয় দিবসে, তৎপর তিনি অধিষ্ঠিত হন আরশের উপর।

শুধু তাই নয়, সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুসারে, মুহাম্মদ একদম ধরে ধরে বলে দিয়েছেন, কোন দিন আল্লাহ কী কী সৃষ্টি করেছেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টি বা সূর্যের সৃষ্টির পুর্বে শনি রবি সোমবার কোথা থেকে আসলো, সেটিই প্রশ্ন। কারণ এই বারগুলো সূর্য বা নিকটবর্তী নক্ষত্রের ওপর নির্ভরশীল।

সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৫২। কিয়ামাত, জান্নাত ও জান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছদঃ ১. সৃষ্টির সূচনা এবং আদাম (আঃ) এর সৃষ্টি
৬৯৪৭-(২৭/২৭৮৯) সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও হারূন ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ….. আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তা’আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি বিপদাপদ সৃষ্টি করেন। তিনি নূর সৃষ্টি করেন বুধবার দিন। তিনি বৃহস্পতিবার দিন পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর জুমুআর দিনের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ আসর থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ মাখলুক আদাম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৯৭,ইসলামিক সেন্টার ৬৮৫১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৩/ কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ
পরিচ্ছদঃ ২. সৃষ্টির সূচনা এবং আদম (আঃ) এর সৃষ্টি
৬৭৯৭। সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও হারুন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তাআলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন। রোববার দিন তিনি এতে পর্বত সৃষ্টি করেন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি আপদ বিপদ সৃষ্টি করেন। বুধবার দিন তিনি নূর সৃষ্টি করেন। বৃহস্পতিবার দিন তিনি পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ জুমুআর দিনের সময়সমূহের শেষ মুহূর্তে (মাখলূক) আসর থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এই বর্ণনাগুলো অনেকটাই বাইবেলের বর্ণনার সাথে মিলে যায়। আসুন বাইবেলে কী বলা আছে সেটিও দেখে নিই [51]। উল্লেখ্য, বাইবেলেও বলা হয়েছে সূর্যের আগেই পৃথিবীতে গাছপালা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেই কথাগুলো কতটা হাস্যকর তা পাঠকই বিবেচনা করবেন।

10 ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর।” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
11 তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক। ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক। এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক।” আর তাই-ই হল।
12 পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উত্পন্ন হল। আবার ফলদায়ী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
13 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে হল তৃতীয় দিন।
14 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক। এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে। এই আলোগুলি বিশেষ সভাশুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে।
15 পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে।” এবং তা-ই হল।
16 তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন। ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য। ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন।
17 পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন।
18 দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন। এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।
19 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে চতুর্থ দিন হল।
20 তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক।”
21 সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন। অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি। যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন। এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে।
22 ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন। ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন। ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন।
23 সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল। এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল।
24 তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উত্পন্ন হোক। নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক।” তখন য়েমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল।
25 সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন। বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে।
26 তখন ঈশ্বর বললেন, “এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি। আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব। মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত। তারা সমুদ্রের সমস্ত মাছের ওপরে আর আকাশের সমস্ত পাখীর ওপরে কর্তৃত্ত্ব করবে। তারা পৃথিবীর সমস্ত বড় জানোয়ার আর বুকে হাঁটা সমস্ত ছোট প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে।”
27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব। ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন।
28 ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের বহু সন্তানসন্ততি হোক। মানুষে মানুষে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো এবং তোমরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ভার নাও, সমুদ্রে মাছেদের এবং বাতাসে পাখিদের শাসন করো। মাটির ওপর যা কিছু নড়েচড়ে, যাবতীয় প্রাণীকে তোমরা শাসন করো।”
29 ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদাযী গাছপালা দিচ্ছি। ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উত্‌পাদন করে। এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য।
30 এবং জানোয়ারদের সমস্ত সবুজ গাছপালা দিচ্ছি। তাদের খাদ্য হবে সবুজ গাছপালা। পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটির উপরে বুকে হাঁটে য়েসব কীট সবাই ঐ খাদ্য খাবে।” এবং এই সব কিছুই সম্পন্ন হল।
31 ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেসব কিছু দেখলেন এবং ঈশ্বর দেখলেন সমস্ত সৃষ্টিই খুব ভাল হয়েছে। সন্ধ্যা হল, তারপর সকাল হল। এভাবে ষষ্ঠ দিন হল।

সাত আসমান ও সাত জমিন

বিজ্ঞানের জগতে আকাশ বা আসমান বলতে নির্দিষ্ট কিছু বা কোন বস্তুকে বোঝানো হয় না। বরঞ্চ আমরা উপরে যা দেখি সবই আকাশের অন্তর্ভূক্ত। আমরা দিনের বেলা পৃথিবীর আকাশকে নীল দেখতে পাই। বস্তুতপক্ষে এটি আমাদের এক ধরণের দৃষ্টিবিভ্রম। আলোর বিক্ষেপণের কারণে আকাশ নীল দেখায়। কোন কণিকার ওপর আলো পড়লে সেই কণিকা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, যাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, সেই আলোর বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। আলোর বিক্ষেপণ এর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক। বেগুনি ও নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। তাই আকাশে এই আলো দুইটির বিক্ষেপণ বেশি হয়। আবার আমাদের চোখ বেগুনি অপেক্ষা নীল বর্ণের আলোর প্রতি অধিক সংবেদনশীল। তাই আকাশ নীল দেখায়।

ইসলামের সৃষ্টিতত্ত্ব অনুসারে আল্লাহ সাতটি আসমান এবং সাতটি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন [55]

আল্লাহই সাত আসমান বানিয়েছেন আর ওগুলোর মত পৃথিবীও, সবগুলোর মাঝে (অর্থাৎ সকল আসমানে আর সকল যমীনে) নেমে আসে আল্লাহর নির্দেশ যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান আর আল্লাহ (স্বীয়) জ্ঞানে সব কিছুকে ঘিরে রেখেছেন।
— Taisirul Quran
আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণ। ওগুলির মধ্যে নেমে আসে তাঁর নির্দেশ; ফলে তোমরা বুঝতে পার যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনি আল্লাহ, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ যমীন সৃষ্টি করেছেন; এগুলির মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞানতো সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে।
— Rawai Al-bayan
তিনি আল্লাহ্‌, যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং অনুরূপ যমীন, তাদের মধ্যে নেমে আসে তাঁর নির্দেশ; যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং জ্ঞানে আল্লাহ্‌ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

এসব কারণেই অনেক ইসলামিক আলেম প্রায়শই দাবী করেন যে, মাটির নিচে আরো পৃথিবী রয়েছে, সেখানেও মানুষ আছে। বিশেষ করে এই বিষয়ে মুফতি ইব্রাহীমের অনেকগুলো ভিডিও রয়েছে।

অনেক মুসলিমই এই সাত আসমানকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সাতটি স্তরের সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে থাকেন কোরআনকে বিজ্ঞানসম্মত করার ইচ্ছে নিয়ে। তবে তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় কোরআনেরই আয়াত দ্বারা, যেখানে বর্ণিত আছে, আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছেন। আসমানগুলোকে বায়ুমণ্ডলের স্তর হিসেবে ব্যাখ্যা দিলে এটিও মেনে নিতে হবে যে, সূর্য নামক নক্ষত্রটি বায়ুমণ্ডলের প্রথম স্তরে অবস্থিত। যেটি হবে আরো হাস্যকর ব্যাখ্যা। আসুন কোরআনের সেই আয়াত দুইটি পড়ে নিই [56] [57]

নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি। এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।

আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।

তাফসীরে জালালাইনে এই আসমানগুলো কী পদার্থে তৈরি তার পরিষ্কারভাবেই বলা আছে [58]

পৌত্তলিক 72

প্রাচীনকালের ধর্মীয় বা পৌরাণিক সৃষ্টিতত্ত্বে ধারণা করা হতো যে, পৃথিবীর ওপর সাতটি আসমান বা আকাশমণ্ডলের সাতটি স্তর রয়েছে, একই সাথে মাটির নিচেও রয়েছে সাতটি পৃথিবী। প্রাচীনকালে এগুলি দেবদেবী বা অতিপ্রাকৃতিক সত্ত্বা সমূহের আবাসস্থল হিসেবে গণ্য করা হতো। দৃশ্যমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু যেমন গ্রহ-নক্ষত্র, এসবকে এই আসমানসমূহের সাথে সম্পর্কিত করা হত।

প্রাচীন মেসোপটেমিয়ান সভ্যতায় সপ্ত আসমানের ধারণা বিকশিত হয়েছিল [59]। সুমেরীয় ভাষায় স্বর্গ (আসমান বা আকাশ) ও পৃথিবীকে (জমিন) বলা হত “আন” এবং “কি”। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষের দিকে সুমেরীয় জাদুমন্ত্রে সপ্তস্বর্গের উল্লেখ আছে, যেমন একটিতে এরকম লেখা “আন-ইমিনবি কি-ইমিনবি” (“স্বর্গ সাতটি, পৃথিবী সাতটি”) [60]। মেসোপটেমীয় ধর্মে সাধারণত স্বর্গ মানুষের জন্য কোন স্থান নয়। যেমন গিলগামেশের মহাকাব্যে বীর গিলগামেশ তার বন্ধু এনকিদুকে বলছেন, “স্বর্গে কে যেতে পারে বন্ধু? শুধু দেবতারাই শামাশের (সূর্যদেবের) সঙ্গে চিরকাল থাকবে।”

হিন্দু ধর্মেও সাত স্বর্গের কথা বলা হয়েছে। স্বর্গকে”স্বর্গলোক” বা ঊর্ধ্বলোকও বলা হয়। পুরাণ অনুসারে ব্রহ্মাণ্ডের ঊর্ধ্বাংশ সাতটি লোক বা জগতের সমন্বয়ে গঠিত। পর্যায়ক্রমে এগুলি হচ্ছেঃ ভূলোক (পৃথ্বীলোক বা পৃথিবী), ভুবর্লোক, স্বর্লোক, মহর্লোক, জনলোক, তপোলোক এবং সবার ঊর্ধ্বে সত্যলোক বা ব্রহ্মলোক। হিন্দু পুরাণ এবং অথর্ববেদে ১৪ টি লোকের কথা বলা হয়েছে। এর সাতটি স্বর্গ; বাকি সাতটি পাতাল বা নরক। সপ্তস্বর্গের ঠিক নিচেই সপ্তপাতাল অবস্থিত [61]। স্বর্গের রাজধানী হচ্ছে অমরাবতী এবং ঐরাবত স্বর্গের প্রবেশদ্বার পাহারা দিচ্ছে। দেবরাজ ইন্দ্র সেখানে স্বসভায় (ইন্দ্রলোক/ইন্দ্রপুরী) বিরাজমান।

ইহুদিদের পবিত্র গ্রন্থ তালমুদ অনুসারে মহাবিশ্ব সপ্ত স্বর্গ বা সাত আসমানসমূহ (হিব্রু ভাষায়: שָׁמַיִם‎ “শামাইম”; এই শব্দেরই আরবি স্বগত্রীয় শব্দ “সামাওয়াত”) সমন্বয়ে গঠিত [62]। এগুলির নামঃ

  • বিলোন (וילון)
  • রাকিয়া (רקיע)
  • শেহাকিম (שחקים)
  • যেবুল (זבול)
  • মা’ওন (מעון)
  • মাখোন/মাকোন (מכון)
  • আরাবথ (ערבות) – সপ্তম স্বর্গ যেখানে ‘ওফানিম’ (যিহিষ্কেলের পুস্তকে বর্ণিত ঈশ্বরের স্বর্গীয় রথের চক্ররূপী রক্ষী), সরাফগণ (‘সেরাফিম’ – উচ্চপদের স্বর্গদূত বা ফেরেশতা অথবা এক জাতের আগ্নেয় স্বর্গীয় সত্তা), ‘হায়োথ’ বা ‘খায়োৎ’ (আরশ বহনকারী ফেরেশতা বা ঈশ্বরের আসনবাহক স্বর্গদূত) এবং প্রভূর সিংহাসন অবস্থিত [63]

ইহুদিদের ‘মেরকাবাহ’ (স্বর্গীয় রথ) ও ‘হেখালৎ’ (“প্রাসাদসমূহ”) সাহিত্যে সপ্তস্বর্গ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। হনোকের ৩য় পুস্তকে এর বর্ণনা পাওয়া যায় [64]

খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুসারেও বাইবেলে কয়েকটি আসমানের কথা বলা হয়েছে। বাইবেলের নূতন নিয়মে তৃতীয় স্বর্গের একটি স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। ৫৫ খ্রিষ্টাব্দে রোম সাম্রাজ্যের অধীন ম্যাসেডোনিয়ায় লিখিত একটি পৌলীয় পত্র এই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে [65]। যদিও মধ্যযুগীয় কালক্রমে খ্রিস্টান চিন্তাবিদরা মূল সপ্ত স্বর্গের দশ স্বর্গ করে ফেলেন, তবে পূর্বযুগের খ্রিস্টানগণ আসমানকে সাতটিই ভাবতেন বলে বোঝা যায়।

আমি খ্রীষ্টে আশ্রিত একটি লোককে জানি, চোদ্দ বছর আগে যে তৃতীয় স্বর্গে ধরা পড়েছিল, সশরীরে না অশরীরে তা জানি না, ঈশ্বর জানেন৷ এই লোকটির ব্যাপার আমি জানি, সশরীরে কি অশরীরে, তা আমি জানি

পৃথিবী স্থির এবং নড়াচড়া করে না

পৌত্তলিক 74

কোরআনে খুব পরিষ্কারভাবেই পৃথিবীকে স্থির এবং নড়াচড়া করে না বলে ঘোষনা করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান এবং নিজ অক্ষের ওপরও সে ঘুরছে, অনেকটা উপরের ছবির মত [66]

আল্লাহই আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন যাতে ও দু’টো টলে না যায়। ও দু’টো যদি টলে যায় তাহলে তিনি ছাড়া কে ও দু’টোকে স্থির রাখবে? তিনি পরম সহিষ্ণু, পরম ক্ষমাশীল।
— Taisirul Quran
আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন যাতে ওরা স্থানচ্যূত না হয়, ওরা স্থানচ্যূত হলে তিনি ব্যতীত কে ওদেরকে সংরক্ষণ করবে? তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।
— Rawai Al-bayan
নিশ্চয় আল্লাহ্‌ আসমানসমূহ ও যমীনকে ধারণ করেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়, আর যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া কেউ নেই যে, তাদেরকে ধরে রাখতে পারে [১]। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, অসীম ক্ষমাপরায়ণ।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

কোরআনে এটিও বলা আছে যে, পৃথিবীর পর্বতমালার কারণে পৃথিবী ঢলে পড়ছে না। এর অর্থ হচ্ছে, পাহাড় পর্বত না থাকলে পৃথিবীর ঢলে পড়ার সম্ভাবনা ছিল! [67]

তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করেছেন স্তম্ভ ছাড়া যা তোমরা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন দৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান পর্বতমালা যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে নড়াচড়া না করে আর তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সকল প্রকার জীবজন্তু, আর আমিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তাতে উদ্গত করি যাবতীয় কল্যাণকর উদ্ভিদ।
— Taisirul Quran
তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখছ। তিনিই পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পবর্তমালা যাতে এটা তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্ব প্রকার জীব-জন্তু এবং আমিই আকাশ হতে বারি বর্ষণ করে এতে উদ্ভব করি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদ।
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যা তোমরা দেখছ, আর যমীনে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পাহাড়, যাতে তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে, আর তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রত্যেক প্রকারের প্রাণী; আর আসমান থেকে আমি পানি পাঠাই। অতঃপর তাতে আমি জোড়ায় জোড়ায় কল্যাণকর উদ্ভিদ জন্মাই।
— Rawai Al-bayan
তিনি আসমানসমূহ নির্মাণ করেছেন খুঁটি ছাড়া—তোমরা এটা দেখতে পাচ্ছ; তিনিই যমীনে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা যাতে এটা তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব ধরনের জীব-জন্তু। আর আমরা আকাশ হতে বারি বর্ষণ করি তারপর এতে উদ্গত করি সব ধরণের কল্যাণকর উদ্ভিদ।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

আসুন তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে পড়ি, [68]

পৌত্তলিক 76

জাকারিয়া আল-কাজউইনি হচ্ছেন ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইসলামি স্বর্ণযুগের একজন ফারসী জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি ইরানের কাজউইন শহরে ৬০০ হিজরি/ ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নবী মুহাম্মাদের একজন বিশিষ্ট সাহাবী আনাস ইবনে মালিকের বংশধর। উনার গ্রন্থ The Wonders of Creation, Translated into Turkish from Arabic. Istanbul: ca. 1553 থেকে আমরা পৃথিবী ও মহাবিশ্বের ইসলামিক ধারণা পাই নিচের ছবিটির মত।

পৌত্তলিক 78

এবারে আসুন শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেদ আল উসাইমীন রচিত ফতোয়ায়ে আরকানুল ইসলাম থেকে একটি বিখ্যাত ফতোয়া দেখে নিই, [69] [70]

প্রশ্ন: (১৬) সূর্য কি পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে?
উত্তর: মান্যবর শাইখ উত্তরে বলেন যে, শরী‘আতের প্রকাশ্য দলীলগুলো প্রমাণ করে যে, সূর্যই পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরে। এ ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রির আগমণ ঘটে। আমাদের হাতে এ দলীলগুলোর চেয়ে বেশি শক্তিশালী এমন কোনো দলীল নেই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘূরার দলীলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি। সূর্য ঘুরার দলীলগুলো হলো আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأۡتِي بِٱلشَّمۡسِ مِنَ ٱلۡمَشۡرِقِ فَأۡتِ بِهَا مِنَ ٱلۡمَغۡرِبِ﴾ [البقرة: ٢٥٨]
“আল্লাহ তা‘আলা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৮] সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলীল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর উপর পরিভ্রমণ করে।
২) আল্লাহ বলেন,
﴿فَلَمَّا رَءَا ٱلشَّمۡسَ بَازِغَةٗ قَالَ هَٰذَا رَبِّي هَٰذَآ أَكۡبَرُۖ فَلَمَّآ أَفَلَتۡ قَالَ يَٰقَوۡمِ إِنِّي بَرِيٓءٞ مِّمَّا تُشۡرِكُونَ ٧٨﴾ [الانعام: ٧٨]
“অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অবস্থায় উঠতে দেখলেন তখন বললেন, এটি আমার রব, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৭৮]
এখানে নির্ধারণ হয়ে গেল যে, সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়। একথা বলা হয় নি যে, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেল। পৃথিবী যদি ঘূরত তাহলে অবশ্যই তা বলা হত।
৩) আল্লাহ বলেন,
﴿وَتَرَى ٱلشَّمۡسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَٰوَرُ عَن كَهۡفِهِمۡ ذَاتَ ٱلۡيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقۡرِضُهُمۡ ذَاتَ ٱلشِّمَالِ﴾ [الكهف: ١٧]
“তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ১৭] পাশ কেটে ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদিনড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলতেন সূর্য থেকে গুহা পাশ কেটে যায়। উদয় হওয়া এবং অস্ত যাওয়াকে সূর্যের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা থেকে বুঝা যায় যে, সূর্যই ঘুরে। পৃথিবী নয়।
৪) আল্লাহ বলেন,
﴿وَهُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ فِي فَلَكٖ يَسۡبَحُونَ ٣٣﴾ [الانبياء: ٣٣]
“এবং তিনিই দিবা-নিশি এবং চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সবাই আপন আপন কক্ষ পথে বিচরণ করে।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৩]
ইবন আব্বাস বলেন, লাটিম যেমন তার কেন্দ্র বিন্দুর চার দিকে ঘুরতে থাকে, সূর্যও তেমনিভাবে ঘুরে।
৫) আল্লাহ বলেন,
﴿يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثٗا﴾ [الاعراف: ٥٤]
“তিনি রাতকে আচ্ছাদিত করেন দিনের মাধ্যমে, দিন দৌড়ে দৌড়ে রাতের পিছনে আসে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৫৪]
আয়াতে রাতকে দিনের অনুসন্ধানকারী বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী পিছনে পিছনে দ্রুত অনুসন্ধান করে থাকে। এটা জানা কথা যে, দিবা-রাত্রি সূর্যের অনুসারী।
৬) আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ بِٱلۡحَقِّۖ يُكَوِّرُ ٱلَّيۡلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيۡلِۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ يَجۡرِي لِأَجَلٖ مُّسَمًّىۗ أَلَا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡغَفَّٰرُ ٥﴾ [الزمر: ٥]
“তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫]
আয়াতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, পৃথিবীর উপরে দিবা-রাত্রি চলমান রয়েছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো তাহলে তিনি বলতেন, দিবা-রাত্রির উপর পৃথিবীকে ঘূরান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “সূর্য এবং চন্দ্রের প্রত্যেকেই চলমান”। এ সমস্ত দলীলের মাধ্যমে জানা গেল যে, সুস্পষ্টভাবেই সূর্য ও চন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করছে। এ কথা সুস্পষ্ট যে, চলমান বস্তুকে বশীভুত করা এবং কাজে লাগানো একস্থানে অবস্থানকারী বস্তুকে কাজে লাগানোর চেয়ে অধিক যুক্তিসঙ্গত।
৭) আল্লাহ বলেন,
﴿وَٱلشَّمۡسِ وَضُحَىٰهَا ١ وَٱلۡقَمَرِ إِذَا تَلَىٰهَا ٢﴾ [الشمس: ١، ٢]
“শপথ সূর্যের ও তার কিরণের, শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে।” [সূরা আশ-শামস, আয়াত: ১-২]
এখানে বলা হয়েছে যে, চন্দ্র সূর্যের পরে আসে। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সূর্য এবং চন্দ্র চলাচল করে এবং পৃথিবীর উপর ঘুরে। পৃথিবী যদি চন্দ্র বা সূর্যের চার দিকে ঘুরত, তাহলে চন্দ্র সূর্যকে অনুসরণ করতনা। বরং চন্দ্র একবার সূর্যকে, আর একবার সূর্য চন্দ্রকে অনুসরণ করত। কেননা সূর্য চন্দ্রের অনেক উপরে। এ আয়াত দিয়ে পৃথিবী স্থীর থাকার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করার ভিতরে চিন্তা-ভাবনার বিষয় রয়েছে।
৮) মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَٱلشَّمۡسُ تَجۡرِي لِمُسۡتَقَرّٖ لَّهَاۚ ذَٰلِكَ تَقۡدِيرُ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡعَلِيمِ ٣٨ وَٱلۡقَمَرَ قَدَّرۡنَٰهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَٱلۡعُرۡجُونِ ٱلۡقَدِيمِ ٣٩ لَا ٱلشَّمۡسُ يَنۢبَغِي لَهَآ أَن تُدۡرِكَ ٱلۡقَمَرَ وَلَا ٱلَّيۡلُ سَابِقُ ٱلنَّهَارِۚ وَكُلّٞ فِي فَلَكٖ يَسۡبَحُونَ ٤٠﴾ [يس: ٣٨، ٤٠]
“সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নির্ধারণ। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে চন্দ্রকে নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। রাতের পক্ষেও দিনের অগ্রবতী হওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৩৮-৪০]
সূর্যের চলা এবং এ চলাকে মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্ধারণ বলে ব্যাখ্যা করা এটাই প্রমাণ করে যে, সূর্য প্রকৃতভাবেই চলমান। আর এ চলাচলের কারণেই দিবা-রাত্রি এবং ঋতুর পরিবর্তন হয়। চন্দ্রের জন্য মঞ্জিল নির্ধারণ করার অর্থ এ যে, সে তার মঞ্জিলসমূহে স্থানান্তরিত হয়। যদি পৃথিবী ঘুরত, তাহলে পৃথিবীর জন্য মঞ্জিল নির্ধারণ করা হত। চন্দ্রের জন্য নয়। সূর্য কর্তৃক চন্দ্রকে ধরতে না পারা এবং দিনের অগ্রে রাত থাকা সূর্য, চন্দ্র, দিন এবং রাতের চলাচলের প্রমাণ বহন করে।
৯) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবু যরকে বলেছেন,
«أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا»
“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস্ত যায় তখন কোথায় যায়? আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় ‘আরশের নিচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। সে দিন বেশি দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।”[1]
এটি হবে কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে। আল্লাহ সূর্যকে বলবেন, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফেরত যাও, অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সূর্য পৃথিবীর উপরে ঘুরছে এবং তার এ ঘুরার মাধ্যমেই উদয়-অস্ত সংঘটিত হচ্ছে।
১০) অসংখ্য হাদীসের মাধ্যমে জানা যায় যে, উদয় হওয়া, অস্ত যাওয়া এবং ঢলে যাওয়া এ কাজগুলো সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো সূর্য থেকে প্রকাশিত হওয়া খুবই সুস্পষ্ট। পৃথিবী হতে নয়। হয়তো এ ব্যাপারে আরো দলীল-প্রমাণ রয়েছে। সেগুলো আমার এ মুহূর্তে মনে আসছেনা। তবে আমি যা উল্লেখ করলাম, এ বিষয়টির দ্বার উম্মুক্ত করবে এবং আমি যা উদ্দেশ্য করেছি, তা পূরণে যথেষ্ট হবে। আল্লাহর তাওফীক চাচ্ছি!
[1] সহীহ বুখারী, অধ্যায়: বাদউল খালক; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান

পৌত্তলিক 80
পৌত্তলিক 82
পৌত্তলিক 84

সূর্য রাতের বেলা কই যায়?

প্রাচীনকালে যেহেতু মানুষের পৃথিবী এবং সূর্যের ঘুর্ণন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা ছিল না, তাই প্রাচীনকালের প্রায় সব ধর্মেই পৃথিবীকে স্থির এবং সূর্যকে একটি চলমান আগুন গোলক হিসেবে ধারনা করা হতো। সেই সাথে সূর্যের দেবতা, তাদের রথ, এসবের বিবরণও অসংখ্য পৌত্তলিক ধর্মগুলোতে পাওয়া যায়।

ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, সূর্য রাতের বেলা আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে ইবাদত বন্দেগী করে, এবং সকাল বেলা আল্লাহ অনুমতি দিলে সে আবারো উদিত হয়। আমরা যারা পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি, পৃথিবী গোলাকৃতি, এবং কোন না কোন অঞ্চলে কখনো না কখনো সূর্য আলো দিচ্ছে, একপাশে দিন হলে আরেকপাশে রাত হচ্ছে, এই কথাগুলোর সম্পুর্ণ বিপরীতে চলে যাচ্ছে হাদিসের এই কথাগুলো। [71] [72] [73]

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৫/ কুরআনের হরুফ এবং কিরাত
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই।
৩৯৬১. উবায়দুল্লাহ্ ইবন উমার (রহঃ) …… আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে একটি গাধার পেছনে সওয়ার ছিলাম। এ সময় সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি জান, সূর্য কোথায় অস্তমিত হয়? আমি বলি, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে অধিক অবহিত। তিনি বলেন عَيْنِ حَامِيَةٍ এটি অর্থাৎ গরম প্রসবণের মধ্যে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
২৯৭২। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি জানো, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদায় পড়ে যায়। এরপর সে পুনঃ উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। আর অচিরেই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে যে পথে এসেছ, সে পথে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে–এটাই মর্ম হল আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর সূর্য গমন করে তার নির্দিষ্ট গন্ত্যব্যের দিকে, এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
(কুরআন ৩৬:৩৮)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم “এবং সূর্য ভ্রমন করে তার নির্দৃিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রন।”
৪৪৩৯ আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যাস্তের সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জানো সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত আয়াত‏وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ‏ এ এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশলী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم “এবং সূর্য ভ্রমন করে তার নির্দৃিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রন।”
৪৪৪০। হুমায়দী (রহঃ) … আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর বাণীঃمُسْتَقَرُّ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না
২৯৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়।
সে আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদৃষ্টস্থলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না
২৯৮। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উপবিষ্ট ছিলেন। সূর্য অন্তমিত হলে তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তার গন্তব্য স্থলে যায় এবং আল্লাহর কাছে সিজদার অনুমতি চায়। তখন তাকে অনুমতি দেয়া হয়। পরে একদিন যখন তাকে বলা হবে যেদিক থেকে এসেছো সেদিকে ফিরে যাও। অনন্তর তা অস্থাচল থেকে উদিত হবে। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদের কিরাআত অনুসারে তিলাওয়াত করেনঃذَلِكَ مُسْتَقَرٌّ لَهَا এ তার গন্তব্যস্থল
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না
২৯৯। আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আামরা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেوَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا “এবং সূর্য ভ্রমণ করে উহার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিবে” (৩৬ঃ ৩৮) এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ আরশের নিচে তার গন্তব্য স্থল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ হাদিসে কুদসি
১/ বিবিধ হাদিসসমূহ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রশংসামূলক কতক বাক্যের ফযিলত
১৬১. আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন তার উপর একটি পাড়যুক্ত চাদর ছিল। তিনি বলেন: এটা ছিল সূর্যাস্তের সময়, তিনি আমাকে বলেন: “হে আবূ যর তুমি জান এটা কোথায় অস্ত যায়?” তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বলেন: সূর্যাস্ত যায় একটি কর্দমাক্ত ঝর্ণায়, সে চলতে থাকে অবশেষে আরশের নিচে তার রবের জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, যখন বের হওয়ার সময় আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন, ফলে সে বের হয় ও উদিত হয়। তিনি যখন তাকে যেখানে অস্ত গিয়েছে সেখান থেকে উদিত করার ইচ্ছা করবেন আটকে দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব আমার পথ তো দীর্ঘ, আল্লাহ বলবেন: যেখান থেকে ডুবেছে সেখান থেকেই উদিত হও, এটাই সে সময় যখন ব্যক্তিকে তার ঈমান উপকার করবে না”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ৬৫/৩৬/১. আল্লাহর বাণীঃ আর সূর্য নিজ গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (সূরাহ ইয়াসীন ৩৬/৩৮)
৪৮০২. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জান সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ এ আয়াতের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের পানে, এ হল পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ৬৫/৩৬/১. আল্লাহর বাণীঃ আর সূর্য নিজ গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (সূরাহ ইয়াসীন ৩৬/৩৮)
৪৮০৩. আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর বাণীঃ وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৯৭/ তাওহীদ
পরিচ্ছেদঃ ৯৭/২৩. আল্লাহর বাণীঃ ফেরেশতা এবং রূহ্ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়- (সূরা আল মা‘আরিজ ৭০/৪)। এবং আল্লাহর বাণীঃ তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে- (সূরাহ ফাত্বির ৩৫/১০)।
৭৪৩৩. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছি, ‘‘আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে’’ আল্লাহর এ কথা সম্পর্কে। তিনি বলেছেনঃ সূর্যের নির্দিষ্ট গন্তব্য হল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১। ঈমান [বিশ্বাস]
পরিচ্ছেদঃ ৭২. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না।
২৮৯-(২৫০/১৫৯) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ) ….. আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয় উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথারীতি আরশের নীচে তার অবস্থানে যাবে। তাকে বলা হবে, উঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (কুরআনের বাণী) “কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জান? সেদিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি”- (সূরাহ আল আনআম ৬ঃ ১৫৮)*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩০৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

পৃথিবী

পৃথিবী সমতলভাবে বিছানো

মহাবিশ্ব

সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের ধারণা ছিল, পৃথিবী একটি সমতল রুটির মত। অনেক প্রাচীন উপকথায় পাওয়া যায়, পৃথিবী একটি থালা যা কোন কচ্ছপ বা মাছের পিঠে রয়েছে। ইসলামের বিশ্বাসও সেই দিক দিয়ে কাছাকাছি। কোরআনে পরিষ্কারভাবেই বলা হয়েছে, পৃথিবীকে নাকি সমতল করে বিছানো হয়েছে!

এবং পৃথিবীর দিকে যে, তা কিভাবে সমতল বিছানো হয়েছে?
কুরআন ৮৮ঃ২০

যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।
কুরআন সুরা বাকারা ২:২২

তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।
কুরআন সুরা ত্বা-হা ২০:৫৩

আমি পৃথিবীকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।
কুরআন সুরা যারিয়া’ত ৫১:৪৮

আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা।
কুরআন সুরা নূহ ৭১:১৯

আমি কি করিনি পৃথিবীকে বিছানা ?
কুরআন সুরা নাবা ৭৮:৬

আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।
কুরআন সুরা হিজর ১৫:১৯

পৃথিবীর সমতল হওয়ার ব্যাপারে আসুন তাফসীরে জালালাইন, যা ১০০৪ হিজরি সালে লিখিত হয়েছিল, সেখান থেকে একটি পৃষ্ঠা দেখে নিই, [74]

পৌত্তলিক 88

এবারে তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে আরো খানিকটা অংশ পড়ি, [75]

পৌত্তলিক 90
পৌত্তলিক 92

একইসাথে, হাদিসেও বর্ণিত আছে যে, পৃথিবীর ডানে এবং বামে একটি শেষ প্রান্ত রয়েছে। যা নবী মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন।

সুনান ইবনু মাজাহ
১৯/ হজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১৯/১৫. তালবিয়া
৪/২৯২১। সাহল ইবনে সাদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিই তালবিয়া পাঠ করে, সাথে সাথে তার ডান ও বাঁ দিকের পাথর, গাছপালা অথবা মাটি, এমনকি দুনিয়ার সর্বশেষ প্রান্ত উভয় দিকের সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে।
তিরমিযী ৮২৮, মিশকাত ২৫৫০, রাওদুন নাদীর ২/১১৮।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা’দ (রাঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৭/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১৪. তালবিয়া ও কুরবানীর ফযীলত
৮২৮। সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডান ও বামে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি সবকিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে। এমনকি পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্ত পর্যন্ত (তালবিয়া পাঠকারীদের দ্বারা) পূর্ণ হয়ে যায়।
— সহীহ, মিশকাত (২৫৫০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা’দ (রাঃ)

আসমান ও পৃথিবীর মাঝে দূরত্ব

একটি বিখ্যাত হাদিসে আসমান এবং জমিনের দূরত্ব বলেছেন নবী মুহাম্মদ। তবে হাদিসটি সহিহ কিনা সে বিষয়ে আলেমদের মতভেদ আছে। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম হাদীছটি সহীহ বলেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি হাসান গরীব। ইমাম আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে যঈফা, হাদীছ নং- ১২৪৭। হাদিসটি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া সহ অনেকগুলো ইসলামের গুরুত্বপুর্ণ গ্রন্থে বর্ণিত আছে।

পৌত্তলিক 94

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আকীদাগ্রন্থ ডঃ সালেহ ফাওযানের লিখিত শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া গ্রন্থেও এই হাদিসটি এসেছে, [76]

পৌত্তলিক 96

চাঁদের জ্যোতি রয়েছে

বাইবেলের ভুল তথ্যটির মত ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে চাঁদের নিজস্ব আলো রয়েছে। অথচ আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানি, চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই, তার আলো হচ্ছে সূর্যের প্রতিফলিত আলো। শুরুতে বাইবেলের বক্তব্য দেখে নিই [51]

16 তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন। ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য। ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন।

এবারে আসুন ইসলামে কী বলা আছে সেটি দেখে নিই [77] [78] [79] [80]

তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদীপ্ত, আর চন্দ্রকে করেছেন আলোকময় আর তার (হ্রাস বৃদ্ধির) মানযিলসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বৎসর গুণে (সময়ের) হিসাব রাখতে পার। আল্লাহ এটা অনর্থক সৃষ্টি করেননি, তিনি নিদর্শনগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।
— Taisirul Quran
আল্লাহ এমন, যিনি সূর্যকে দীপ্তিমান এবং চাঁদকে আলোকময় বানিয়েছেন এবং ওর (গতির) জন্য মানযিলসমূহ নির্ধারিত করেছেন যাতে তোমরা বছরসমূহের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পার; আল্লাহ এসব বস্তু অযথা সৃষ্টি করেননি, তিনি এই প্রমাণসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন ঐসব লোকের জন্য যারা জ্ঞানবান।
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে আলোময় আর তার জন্য নির্ধারণ করেছেন বিভিন্ন মনযিল, যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ এগুলো অবশ্যই যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।
— Rawai Al-bayan
তিনি সূর্যকে দীপ্তিময় ও চাঁদকে আলোকময় করেছেন এবং তার জন্য মনযিল নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পার। আল্লাহ্‌ এগুলোকে যথাযথ ভাবেই সৃষ্টি করেছেন [১]। তিনি এসব নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করেন এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা জানে।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র
— Taisirul Quran
কত মহান তিনি, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন তারকারাজি এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও জ্যোতির্ময় চাঁদ!
— Sheikh Mujibur Rahman
বরকতময় সে সত্তা যিনি আসমানে সৃষ্টি করেছেন বিশালকায় গ্রহসমূহ। আর তাতে প্রদীপ ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ সৃষ্টি করেছেন
— Rawai Al-bayan
কত বরকতময় তিনি যিনি নভোমণ্ডলে সৃষ্টি করেছেন বিশাল তারকাপুঞ্জ এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্ৰদীপ [১] ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

আর তাদের মাঝে চাঁদকে বানিয়েছেন আলো এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ।
— Taisirul Quran
এবং সেখানে চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোক রূপে ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপ রূপে;
— Sheikh Mujibur Rahman
আর এগুলোর মধ্যে চাঁদকে সৃষ্টি করেছেন আলো আর সূর্যকে সৃষ্টি করেছেন প্রদীপরূপে’।
— Rawai Al-bayan
আর সেখানে চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোকরূপে ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে;
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

চাঁদ হয়ে যাবে আলোকহীন
— Taisirul Quran
এবং চক্ষু হয়ে পড়বে জ্যোতিহীন।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর চাঁদ কিরণহীন হবে,
— Rawai Al-bayan
এবং চাঁদ হয়ে পড়বে কিরণহীন [১],
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তাফসীর গ্রন্থগুলো থেকেও এর প্রচুর প্রমাণ মেলে [81] [82]

পৌত্তলিক 98
পৌত্তলিক 100

সহীহ্ হাদীস থেকেও প্রমান করা যায় যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল [83]

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪৯/ সৃষ্টির সূচনা
পরিচ্ছদঃ ১৯৮৬. চন্দ্র ও সূর্য উভয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে আবর্তন করে। এর জন্য মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, উভয়ের আবর্তন চাকার আবর্তনের অনুরূপ। আর অন্যেরা বলেন, উভয় এমন এক নির্দিষ্ট হিসাব ও স্থানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা তারা অর্থাৎ চন্দ্র ও সূর্য লঙ্ঘন করতে পারে না। حُسْبَانٌ হল حِسَابٍ শব্দের বহুবচন, যেমন شِهَابٍ এর বহুবচন شُهْبَانٍ – ضُحَاهَا এর অর্থ জ্যোতি। أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ চন্দ্র সূর্যের একটির জ্যোতি অপরটিকে ঢাকতে পারে না, আর তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। سَابِقُ النَّهَارِ রাত দিনকে দ্রুত অতিক্রম করে। উভয়ে দ্রুত অতিক্রম করতে চায়। نَسْلَخُ আমি উভয়ের একটিকে অপরটি হতে বের করে আনি আর তাদের প্রতিটি চালিত করা হয় وَاهِيَةٌ এবং وَهْيُهَا এর অর্থ তার বিদীর্ণ হওয়া। أَرْجَائِهَا তার সেই অংশ যা বিদীর্ণ হয়নি আর তারা তার উভয় পার্শ্বে থাকবে। যেমন তোমার উক্তি عَلَى أَرْجَاءِ الْبِئْرِ কূপের তীরে أَغْطَشَ وَجَنَّ অন্ধকার ছেয়ে গেল। হাসান বসরী বলেন كُوِّرَتْ অর্থ লেপটিয়ে দেয়া হবে, যাতে তার জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর বলা হয়ে থাকে وَاللَّيْلِ وَمَا وَسَقَ এর অর্থ আর শপথ রজনীর এবং তার যে জীবজন্তু একত্রিত করল। اتَّسَقَ বরাবর হল। بُرُوجًا চন্দ্র সূর্যের কক্ষ ও নির্ধারিত স্থান। الْحَرُورُ গরম বাতাস যা দিনের বেলায় সূর্যের সাথে প্রবাহিত হয়। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, حَرُورُ রাত্রিবেলার আর سَمُومُ দিনের বেলার লু হাওয়া। বলা হয় يُولِجُ অর্থ প্রবিষ্ট করে বা করবে وَلِيجَةً অর্থ এমন প্রতিটি বস্তু যা তুমি অন্যটির মধ্যে ঢুকিয়েছ।
২৯৭৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন চন্দ্র ও সূর্য় উভয়কে লেপটিয়ে দেয়া হবে।

উপসংহার

উপরের দীর্ঘ আলোচনা থেকে এটি খুবই পরিষ্কার যে, ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের সময় মুহাম্মদ তার আশেপাশের মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপকথা এবং ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারেম, এরপরে চারপাশের সকল ধর্মকে একত্র করে সংযোজন বিয়োজন করে তার নতুন ধর্মটি প্রতিষ্ঠা করেন। এইসকল বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন তুললে ইসলামিক এপোলোজিস্টগণ এসব পুরনো প্রথাকে দ্বীনে ইব্রাহীম হিসেবে উল্লেখ করেন, এগুলো আল্লাহর দেয়া বিধান বলেই দাবী করে থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা কোন প্রমাণ দিতে পারেন না। আর এইসকল বিবরণ একত্রে পড়ার পরে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, মুহাম্মদ আসলে কোথা থেকে কোন অংশটুকু তার ধর্ম নিয়েছেন।

লেখাটি অনেকদিন আগের, কিন্তু লেখাটির রেফারেন্সিং এবং তথ্যে কিছু ভুল থাকায় লেখাটি নিয়ে কয়েকজন সমালোচনা করেন। সমালোচনাগুলো সঠিক হওয়ায় লেখাটি একদম নতুনভাবে তৈরি করা হলো। দীর্ঘদিন লেখাটি ড্রাফটে ছিল, লেখাটি সংশোধন করে আবারো প্রকাশ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে লেখাটিতে আরো কিছু পয়েন্ট যুক্ত করা হবে। পাঠকদের মধ্যে যদি কেউ কিছু যুক্ত করতে চান, তারা কমেন্ট বক্সে সেগুলো উল্লেখ করতে পারেন। আশাকরি পাঠকগণ লেখাটি পড়বেন এবং তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাই করে দেখবেন।

তথ্যসূত্রঃ

  1. সীরাতে রাসুলাল্লাহ , ইবনে ইসহাক, অনুবাদঃ শহীদ আখন্দ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৮৩-৮৬ []
  2. ধর্ম অবমাননা, সাম্প্রদায়িকতা এবং মূর্তি ভাঙ্গার সুন্নত []
  3. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৯ -৪৫২ []
  4. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫৪৯৯ []
  5. সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ২২৯১ []
  6. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪৫৯০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৯৫৩ – ৪৯৫৪ ৪৫৯০ []
  7. সহীহ বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নম্বরঃ ৬৯৮২ []
  8. সহিহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, খণ্ড ৬, ডাউনলোড লিঙ্ক দেখুন, পৃষ্ঠা ২৮৭ []
  9. সূরা ফুরকান, আয়াত ৫ []
  10. সূরা আনআম, আয়াত ১০৫ []
  11. সূরা নাহল, আয়াত ১০৩ []
  12. তাফসীরে জালালাইন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৯-৫৩০ []
  13. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৫৫০ []
  14. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৪৫৯৭ []
  15. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৪ []
  16. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৫ []
  17. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৬৫৮ []
  18. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ৩৯০৫ []
  19. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৫৮৩২ []
  20. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ৩৯৩৬ []
  21. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৫৭৭ []
  22. তাবাকাত আল কাবীর, ইবনে সাদ, পৃষ্ঠা ১৪৩ []
  23. সীরাতুর রাসুল (ছাঃ), নবীদের কাহিনী-৩, মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালীব, পৃষ্ঠা ৮২ []
  24. সীরাতুন নবী (সাঃ), ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৮ []
  25. ধর্ম অবমাননা, সাম্প্রদায়িকতা এবং মূর্তি ভাঙ্গার সুন্নত []
  26. আল্লাহর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং স্বভাব চরিত্র []
  27. শয়তানের আয়াত বা স্যাটানিক ভার্সেস []
  28. কোরআন সূরা বাকারা আয়াত ১২৫ []
  29. সূরা আল ইমরান, আয়াত ৯৬ []
  30. সূরা আল ইমরান, আয়াত ৯৭ []
  31. ইসলামি শরিয়া রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার []
  32. তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১২ []
  33. তাফসীরে জালালাইন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৪ []
  34. সীরাতুল মুস্তফা (সা), খণ্ড ৩, আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী (রহ.) []
  35. তিরমিযী, ৯৬১; ইবনু মাজাহ, হাজ্জ ২৯৪৪; আহমাদ ২২১৬, ২৩৯৪, ২৬৩৮, ২৭৯৩, ৩৫০১ – অনুবাদক[]
  36. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ৪৬১, ৪৬২ []
  37. উম্মে হানী- মুহাম্মদের গোপন প্রণয় []
  38. সীরাতুল মুস্তফা (সা), আল্লামা ইদরিস কান্ধলবী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩ []
  39. তাফসির ইবন কাসির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫১ []
  40. সীরাতুন নবী (সা.), ইবন হিশাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৬ []
  41. ইরশাদুস সারী লি শারহি সাহিহিল বুখারী, ১০/১২০ []
  42. সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৭ []
  43. আর রাহীকুল মাখতুম, আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা ৭৬ []
  44. সিরাতুন নবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৮ []
  45. দেনমোহর | ইসলামে নারীর লজ্জাস্থান ভোগের মূল্য []
  46. Babylonian Talmud: Yevamoth 44a. halakhah.com []
  47. Babylonian Talmud: Yevamoth 65a. halakhah.com []
  48. মো. আবদুল হালিম (মে ২০০৩)। দার্শনিক প্রবন্ধাবলি : তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ। প্রকাশকঃ বাংলা একাডেমি []
  49. কুরআন ১১ঃ৭ []
  50. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৭৪২৭ []
  51. বাইবেল, আদিপুস্তক ১ [][][]
  52. মহাভারত, শান্তিপপর্ব, অষ্টাধিকদ্বিশততম অধ্যায়, প্রজাপতি বিবরণ-সৃষ্টিবিস্তার []
  53. কুরআন ৭ঃ৫৪ []
  54. কুরআন ১০:৩ []
  55. কোরআন ৬৫ঃ১২ []
  56. কোরআন ৩৭ঃ ৬-১০ []
  57. কোরআন ৬৭ঃ৫ []
  58. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫ []
  59. Barnard, Jody A. (2012). The Mysticism of Hebrews: Exploring the Role of Jewish Apocalyptic Mysticism in the Epistle to the Hebrews. Mohr Siebeck. p. 62. ISBN 978-3-16-151881-2. Retrieved 3 June 2015 []
  60. Horowitz, Wayne (1998). Mesopotamian Cosmic Geography. Eisenbrauns. p. 208. ISBN 0-931464-99-4. Retrieved 3 June 2015 []
  61. শিব পুরাণ, বি. কে. চতুর্বেদী (২০০৪), ডায়মন্ড পকেট বুকস, পৃষ্ঠা ১২৪, আইএসবিএন 8171827217 []
  62. “Angelology”. Jewish Encyclopedia. Retrieved 16 June 2015 []
  63. Hagigah 12b []
  64. Scholem, Gershom (1965). Jewish Gnosticism, Merkabah Mysticism, and the Talmudic Tradition. New York: Jewish Theological Seminary of America. OCLC 635020 []
  65. ২য় করিন্থীয় ১২.২-৪ []
  66. কুরআন ৩৫ঃ৪১ []
  67. কুরআন ৩১ঃ১০ []
  68. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯ []
  69. ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ঈমান, শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) []
  70. ফতোয়ায়ে আরকানুল ইসলাম, শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেদ আল উসাইমীন, পৃষ্ঠা ৩৭, ৩৮, ৩৯ []
  71. রাতে আরশের নিচে সূর্যের যাওয়ার হাদিসটি কেন বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল? []
  72. কুরআন হাদিস অনুসারে সূর্য কি পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে? []
  73. নিকটবর্তী আসমানে আল্লাহ পাক []
  74. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৪৯ []
  75. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২১৬, ২১৭ []
  76. শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া, ডঃ সালেহ ফাওযান, অনুবাদ: শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী []
  77. সূরা ইউনুস আয়াত ৫ []
  78. সূরা আল-ফুরকান আয়াত ৬১ []
  79. সূরা নূহ আয়াত নং ১৬ []
  80. সূরা আল-ক্বিয়ামাহ আয়াত ৮ []
  81. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০০ []
  82. তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩৮ []
  83. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬১ []
আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

8 thoughts on “ইসলামের জুডিও খ্রিস্টান এবং পৌত্তলিক ভিত্তি

  • ফেব্রুয়ারী 10, 2020 at 4:39 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    কমেন্ট গুলো খুজে পাচ্ছি কেন? কমেন্টের মধ্য একটি লিঙ্ক দেয়া ছিল যেখানে বলা ছিল কোরাইশরা ইসমাইল আঃ এর বংশধর

    Reply
  • ডিসেম্বর 16, 2020 at 5:04 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    যদি আমি পাকিস্থানের লেখকের বই থেকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কাহিনী টা পড়ি; তাহলে তো পাকিস্থান মিলিটারিরাই নায়ক দল হবে তাই না ??? তাই সংশয় নিরসন করতে হলে, দুই পক্ষের বই এ পড়তে হবে, জানতে হবে, এমনকি প্রয়োজনে বিচার বিশ্লেষণ এবং যারা এইসব বিষয়ে সঠিক টা জানে তাদের সরনাপন্ন হতে হবে। তারপর সব কিছু মিলিয়ে নিজের বিবেক দিয়ে চিন্তা করলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    Reply
  • ফেব্রুয়ারী 16, 2021 at 12:54 অপরাহ্ন
    Permalink

    বাকি সব বাদ দিলাম।
    হাজরে আসওয়াদ আপনার কাছে স্ত্রী লিঙ্গের মতো দেখতে মনে হলো কোন দিক থেকে?
    সব কিছুতেই নারীদের শরীর আর যোনতা খুঁজে পাও। এতোটা নষ্ট মস্তিক নিয়ে কিভাবে চলাফেরা করো তোমরা এই সমাজে?

    Reply
  • নভেম্বর 16, 2021 at 3:00 অপরাহ্ন
    Permalink

    কিবলা চেঞ্জ নিয়ে আমার দ্বিমত রয়েছে। মুসলিমরা প্রচার করে তাদের প্রথম কিবলা ছিল আল আকসা, যেটি একসময় চেঞ্জ করে ক্কাবা করা হয়। কিন্তু কুরআন হাদিস অনুসারে কথাটি সত্যি নয়।

    মুহাম্মদ নবী দাবি করার পর মক্কায় ছিলেন ১৩ বছর। শুরু থেকেই তিনি ক্কাবা কে ইব্রাহীমের ঘর দাবি করে এসেছেন। আরব পৌত্তলিকরাও ক্কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করত দিনে ৩ বার। মুহাম্মাদও নবী দাবি করার পরেও ক্কাবার দিকে মুখ করেই নামাজ পড়ত। তাছাড়া ৫ ওয়াক্ত নামার ফরজ হয়েছিল নবুয়তের ১০/১১ তম বছরে৷ আর হিজরত হয় ১৩ তম বছরে। এই মাঝের দুই বছরও সকল মুসলিম ক্কাবার দিকে মুখ করেই ফরজ নামাজ পড়তেন।

    মুহাম্মাদ আল আকসা কে কিবলা করেন মদিনায় মাইগ্রেট করার পর। মদিনার লোকজন মূলত ইহুদী-খৃষ্টান হওয়ায় তাদের মাঝে নিজেকে নবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই মুহাম্মাদ মদিনা যাবার পর থেকে ক্কাবা কে বাদ দিয়ে আল আকসার দিকে মুখ করে সালাত আদায় শুরু করে৷ কিন্তু ইহুদীরা ওনাকে নবী গিসেবে গ্রহণ না করলে মদিনা যাবার ১৬/১৭ মাস পরে উনি আবার কিবলা চেঞ্জ করে ক্কাবায় ফিরে আসে। আল আকসা মুসলিমদের কিবলা ছিল মাত্র ১৬/১৭ মাসের জন্য। নিচে কিছু প্রমাণ দিচ্ছি—-
    2:143
    Sahih International
    And thus we have made you a just community that you will be witnesses over the people and the Messenger will be a witness over you. And We did not make the qiblah which you used to face except that We might make evident who would follow the Messenger from who would turn back on his heels. And indeed, it is difficult except for those whom Allah has guided. And never would Allah have caused you to lose your faith. Indeed Allah is, to the people, Kind and Merciful.
    বাকারার ১৪৩ নাম্বার আয়াতের তাফসিরে জালালিল স্পষ্ট করে লিখেছেন যে বাইতুল মুকাদ্দাস কিবলা ছিল মাত্র ১৬/১৭ মাসের জন্য। এবং মুহাম্মাদ নবুয়তের ১৩ তম বছরে মক্কা থেকে মদিনা যাবার পরের “ইহুদীদের মন জয় করার উদ্দেশ্য” ক্কাবা কে বাদ দিয়ে আল আকসা কে কিবলা করেন। ইবনে কাথিরেও উল্লেখ আছে তা। https://www.altafsir.com/Tafasir.asp?tMadhNo=1&tTafsirNo=74&tSoraNo=2&tAyahNo=143&tDisplay=yes&UserProfile=0&LanguageId=2

    আবার এই ১৪৩ নাম্বার আয়াতটি পড়লেও কিন্তু বুঝা যায়। এই আয়াতটি কিবলা চেঞ্জ হবার পরেই নাজিল হয়েছে৷ আয়াতে বলা হচ্ছে, আল আকসাকে কিবলা এজন্যই করেছিলাম যেন বুঝতে পারি যে কারা নবীর সঙ্গে থাকে আর কারা উল্টো দিকে ফিরে। পরে বলা এটি কঠিন ছিল, যদিও তোমাদের ইমান নষ্ট করা আল্লাহর উদ্দেশ্য নয়,,,,

    এখানে ঈমান হারানো বা পিছটান দেয়ার কথা আসল কেন? এসেছে কারণ ১৩ বছর ধরে মুহাম্মাদ ক্কাবাকেই ইব্রাহীমের ঘর দাবি করে সেটির দিকে মুখ করে সেজদাহ দিত। এবং ক্কাবা কে সেজদাহ করাটাও মক্কার মানুষের জন্য ন্যাচারাল ছিল। বাট মদিনায় যখন মুসলিমরা হিজরত করে আসছিল, এসে দেখে ১৩ বছরের সেজদাহ করার দিক ক্কাবা চেঞ্জ করে এখন ইহুদীদের অনুসরণ করা হচ্ছে। সুতরাং মক্কার মুসলিমদের ঈমানে টান পড়াই স্বাভাবিক।

    তাছাড়া হাদিসেও আছে আল আকসা কিবলা ছিল মাত্র ১৬/১৭ মাসের জন্য।

    Sunan an-Nasa’i 488
    It was narrated that Al-Bara’ said:
    “We prayed toward Bait Al-Maqdis (Jerusalem) with the Messenger of Allah (ﷺ) for sixteen or seventeen months – Safwan was not sure – then it was changed to the Qiblah.”

    https://sunnah.com/nasai:488

    মুসলিমরা এই সত্যটি লুকায় কেন? কারণ মুহাম্মাদের সকল কাজ যে পলিটিক্যাল, যে এলাকার মানুষ যেটি প্রেফার করে উনি যে বারবার সেই অনুসারে তাদের মোটিভেট করার চেষ্টা করেছেন, বারবার কিবলা পরিবর্তন তো সেটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়। এজন্যই কিবলা নিয়ে তারা মিথ্যাচার করে।

    Reply
    • আসিফ মহিউদ্দীন
      নভেম্বর 16, 2021 at 3:43 অপরাহ্ন
      Permalink

      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।। এই বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলাম কেন জানি! এখন যুক্ত করে দিয়েছি। কৃতজ্ঞতা জানবেন।

      Reply
  • নভেম্বর 18, 2021 at 12:07 অপরাহ্ন
    Permalink

    Asif mohiuddin….do you know why Ehudi and Arabian people ask 3 questions to Muhammod ( sallahu alyhe wa sallam)….example: Zulkarnain ( alyhis salam) …Roh….young people in the cave ( sura kahaf) ?….it is because they want to test him…Later Allah answer the question. The problem for you that…you think too much. Please use your brain and return to islam.please.thank you

    Reply
  • নভেম্বর 19, 2021 at 9:58 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    আপনার নবীজী সাঃ প্রায় একমাস পরে ইহুদিদের সেই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। যদি সত্যিই তিনি নবী হয়ে থাকেন, তাহলে তৎক্ষণাৎ কেন আল্লাহর কাছ থেকে ওহীর মাধ্যমে উত্তর দিতে পারেন নি? কারণ তিনি আসলে নবী ছিলেন না এবং ওহী ও পেতেন না। এই একমাস সময় তিনি প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে ব্যয় করেছেন৷ নবীজীর স্ত্রী খাদিজার চাচাতো ভাই ছিল ইহুদি ধর্ম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত। তার ইহুদি ধর্ম সম্পর্কে ছিল বিপুল জ্ঞান।

    আর এই একমাস উত্তর দিতে না পারার কারণ হিসেবে নবী মুহাম্মদ বলেছিলেন তিনি নাকি ইনশাআল্লাহ না বলার জন্য আল্লাহ তাকে একমাস অপেক্ষা করিয়েছেন। আসলে মানুষের তিনটা হাত- বামহাত, ডানহাত, অজুহাত৷ আমি এই ইনশাআল্লাহ না বলার জন্য একমাস পরে ওহী আসাকে অজুহাত ছাড়া কিছু বলব না। কারণ ওই তিনটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একমাস যথেষ্ট সময় ছিল।

    Reply
    • নভেম্বর 19, 2021 at 12:24 অপরাহ্ন
      Permalink

      Without allah’s help nothing can happen…2nd ….after got 3 answer from 3 questions….ehudi people do not make any protest.thank you

      Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: