As-Sajdah
আস-সাজদা: 5
মূল আরবি
يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ إِلَى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُۥٓ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ
English Translations
He arranges [each] matter from the heaven to the earth; then it will ascend to Him in a Day, the extent of which is a thousand years of those which you count.
He arranges (every) affair from the heavens to the earth, then it (affair) will go up to Him, in one Day, the space whereof is a thousand years of your reckoning (i.e. reckoning of our present world's time).
He manages (every) matter from the sky to the earth, then it (every matter) will ascend to Him in a day the measure of which is one thousand years according to the way you count.
He governs from the heaven to the earth and then the record (of this governance) goes up to Him in a day whose measure is a thousand years in your reckoning.
He directeth the ordinance from the heaven unto the earth; then it ascendeth unto Him in a Day, whereof the measure is a thousand years of that ye reckon.
He rules (all) affairs from the heavens to the earth: in the end will (all affairs) go up to Him, on a Day, the space whereof will be (as) a thousand years of your reckoning.
বাংলা অনুবাদ
তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত কার্য পরিচালনা করেন, অতঃপর সকল বিষয়াদি তাঁরই কাছে একদিন উত্থিত হবে যার পরিমাপ তোমাদের গণনা অনুযায়ী হাজার বছর।
তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে। যেদিনের পরিমাণ হবে তোমাদের গণনায় হাজার বছর।
তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর একদিন সব কিছুই তাঁর সমীপে সমুত্থিত হবে, যে দিনের পরিমাপ হবে তোমাদের হিসাবে হাজার বছরের সমান।
তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর।
তিনি আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন, অবশেষে তা তাঁর নিকটে এমন একদিনে পৌঁছবে, যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।
৫. আল্লাহ আসমান-যমীনের সকল সৃষ্টির কর্ম পরিচালনা করেন। অতঃপর উক্ত পরিচালনার বৃত্তান্ত তাঁর নিকট এমন এক দিনে যাবে যার মেয়াদ হবে হে লোক সকল! তোমাদের দুনিয়ার হিসাবে হাজার বৎসর।
তাফসীর
32:4
তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর [১]।
[১] অৰ্থাৎ সেদিনের পরিমাণ তোমাদের গণনানুসারে এক হাজার বছর হবে। কাতাদাহ বলেন, দুনিয়ার দিনের হিসেবে সে সময়টি হচ্ছে, এক হাজার বছর। তন্মধ্যে পাঁচশত বছর হচ্ছে নাযিল হওয়ার জন্য, আর পাঁচ শত বছর হচ্ছে উপরে উঠার জন্য। মোট: এক হাজার বছর। [তাবারী] অন্যত্র বলা হয়েছে, “সেদিনের পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর হবে।” [সূরা আল-মা'আরিজ:৪] এর এক সহজ উত্তর তো এই যে, সেদিনটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হবে বিধায় মানুষের নিকট অতিশয় দীর্ঘ বলে মনে হবে। এরূপ দীর্ঘানুভূতি নিজ নিজ ঈমান ও আমলানুপাতে হবে। যারা বড় অপরাধী তাদের নিকট সুদীর্ঘ এবং যারা কম অপরাধী তাদের নিকট কম দীর্ঘ বলে বোধ হবে। এমনকি সেদিন কিছু লোকের নিকট এক হাজার বছর বলে মনে হবে, আবার কারো কারো নিকট পাঁচশত বছর বলে মনে হবে। আবার কারো কারো নিকট পঞ্চাশ হাজার বছর বলে মনে হবে। [তাবারী, বাগভী; ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আস-সাজদাহ (৩২): আয়াত ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ সেই সত্তা যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন) তিনি তাদেরকে তাঁর পূর্ণ কুদরতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন যাতে তারা কুরআন শ্রবণ করে এবং তা নিয়ে গবেষণা করে। "সৃষ্টি করেছেন" (খলাকা)-এর অর্থ হলো অনস্তিত্ব থেকে এবং কোনো কিছু না থাকা অবস্থায় নতুনভাবে উদ্ভাবন ও অস্তিত্ব দান করা। "ছয় দিনে" অর্থাৎ রবিবার থেকে জুমার দিনের শেষ পর্যন্ত। হাসান (বসরী) বলেন: পার্থিব দিনসমূহের মধ্য থেকে। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: আল্লাহ যে ছয় দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তার প্রতিটি দিনের পরিমাণ পার্থিব বছরের হিসেবে এক হাজার বছর।
দাহহাক বলেন: ছয় হাজার বছরে, অর্থাৎ আখিরাতের দিনসমূহের হিসেবে ছয় দিনের মেয়াদে। (অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হলেন) এ বিষয়ে আলোচনা সূরা আল-আরাফ এবং সূরা আল-বাকারাসহ (১) অন্যান্য স্থানে অতিবাহিত হয়েছে। এ সম্পর্কে আলিমগণের বিস্তারিত অভিমত আমরা আমাদের "আল-কিতাবুল আসনা ফি শারহি আসমাইল্লাহিল হুসনা" গ্রন্থে সবিস্তারে উল্লেখ করেছি। এখানে "সুম্মা" (অতঃপর) শব্দটি ক্রমিকতা বুঝানোর জন্য নয়, বরং এটি "ওয়াও" (এবং) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই) অর্থাৎ কাফিরদের জন্য এমন কোনো অভিভাবক নেই যে তাদের আজাব থেকে রক্ষা করবে এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই।
ব্যাকরণগতভাবে স্থানভেদে রফ্ (পেশ) হওয়াও জায়েজ। (তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?) অর্থাৎ তাঁর কুদরত ও মাখলুকাত সম্পর্কে চিন্তা করবে না? [সূরা আস-সাজদাহ (৩২): আয়াত ৫]তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় এক হাজার বছর। (৫)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন) ইবনে আব্বাস বলেন: তিনি কাজা ও কদর (ভাগ্য ও ফয়সালা) নাজিল করেন। কেউ কেউ বলেন: তিনি জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে ওহি নাজিল করেন। আমর ইবনে মুররাহ আবদুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: পার্থিব বিষয়াবলি চারজন পরিচালনা করেন: জিবরাইল, মিকাইল, মালাকুল মাউত এবং ইসরাফিল (আলাইহিমুস সালাম)।
জিবরাইল (আ.) বায়ু ও সেনাবাহিনী পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। মিকাইল (আ.) বৃষ্টি ও পানির দায়িত্বে নিয়োজিত। মালাকুল মাউত রুহ কবজ করার দায়িত্বে নিয়োজিত। আর ইসরাফিল (আ.) তাদের নিকট নির্দেশ নিয়ে অবতরণ করেন। বলা হয়ে থাকে: আরশ হলো পরিচালনার (তাদবির) স্থান, যেমনটি আরশের নিচে হলো বিশদ বিবরণের (তাফসিল) স্থান। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হলেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করলেন, প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করে; তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন, আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন" (২) [সূরা আর-রাদ: ২]। আর আসমানসমূহের নিচে হলো বাস্তবায়নের (তাসরিফ) স্থান।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি তা তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বণ্টন করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে" (৩) [সূরা আল-ফরকান: ৫০]।(১). দেখুন ৭ম খণ্ড ২১৯ পৃষ্ঠা এবং ১ম খণ্ড ২৫৪ পৃষ্ঠা।(২). দেখুন ৯ম খণ্ড ২৭৯ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।(৩). দেখুন ১৩তম খণ্ড ৫৭ পৃষ্ঠা।
