Al-Jinn

আল-জিন: 18

72:18
টেক্সট কপি
72 আল-জিন Al-Jinn · 28 আয়াত الجن

মূল আরবি

وَأَنَّ ٱلْمَسَـٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا۟ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدًا

English Translations

Sahih International

And [He revealed] that the masjids are for Allāh, so do not invoke with Allāh anyone.

Muhsin Khan

And the mosques are for Allah (Alone), so invoke not anyone along with Allah.

Taqi Usmani

and that masājid (mosques) belong to Allah; so, do not invoke anyone along with Allah,

Abul Ala Maududi

and that “mosques belong to Allah, so do not invoke anyone with Him”;

Pickthall

And the places of worship are only for Allah, so pray not unto anyone along with Allah.

Yusuf Ali

"And the places of worship are for Allah (alone): So invoke not any one along with Allah;

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আরো এই যে, মাসজিদগুলো কেবলমাত্র আল্লাহরই জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য আর কাউকে ডেকো না।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর নিশ্চয় মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং এই যে মাসজিদসমূহ, আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কেহকেও ডেকনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহ্র সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।

ফাতহুল মাজীদ

এবং নিশ্চয়ই সিজদার স্থানসমূহ (সমস্ত ইবাদত) একমাত্র আল্লাহর জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না।

মুখতাসার

১৮. বস্তুতঃ মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য নির্ধারিত; অন্য কারো নয়। তাই তোমরা তাতে তাঁর সাথে অন্য কাউকে আহ্বান করো না। এতে করে তোমরা গির্জা ও চার্চের ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের ন্যায় হয়ে যাবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৮-২৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা’আলা স্বীয় বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন তাঁর ইবাদতের জায়গাকে শিরক হতে পবিত্র রাখে, সেখানে যেন অন্য কাউকেও না ডাকে। কাউকেও যেন আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যে শরীক না করে। ইয়াহূদ ও খৃষ্টানরা তাদের গীর্জা ও মন্দিরে গিয়ে আল্লাহর সাথে অন্যদেরকে শরীক করতো। তাই এই উম্মতকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা যেন এরূপ না করে, বরং নবী (সঃ) এবং উম্মত সবাই যেন একত্ববাদী হয়ে থাকে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় শুধু মসজিদে আকসা ও মসজিদে হারামই বিদ্যমান ছিল। হযরত আ’মাশ (রঃ) এই আয়াতের তাফসীরে এটাও বর্ণনা করেছেন যে, জ্বিনেরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট তাঁর মসজিদে মানবের সাথে নামায পড়ার অনুমতি প্রার্থনা করে।

সুতরাং তাদেরকে যেন বলা হচ্ছেঃ তোমরা নামায পড়তে পার, কিন্তু তাদের সাথে মিশ্রিত হয়ে যেয়ো না।হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেন যে, জ্বিনের রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আরয করলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা তো দূর দূরান্তে থাকি, সুতরাং আপনার মসজিদে নামায পড়তে আসতে পারি কি করে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “উদ্দেশ্য হলো নামায আদায় করা এবং আল্লাহর ইবাদতে লেগে থাকা, তা যেখানেই হোক না কেন।” হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি সাধারণ এটা সমস্ত মসজিদকেই অন্তর্ভুক্ত করে। হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি সিজদার অঙ্গগুলোর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

ভাবার্থ হলোঃ যে অঙ্গগুলোর উপর তোমরা সিজদা কর ওগুলো সবই আল্লাহর। সুতরাং তোমাদের এই অঙ্গগুলোর দ্বারা অন্যদেরকে সিজদা করা হারাম। সহীহ হাদীসে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সাতটি হাড়ের উপর সিজদা করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। ওগুলো হলোঃ কপাল, (হাত দ্বারা ইশারা করে তিনি নাককেও কপালের অন্তর্ভুক্ত করেন), দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের পাতা।”(আরবি)-এ আয়াতের একটি ভাবার্থ হলো এই যে, জ্বিনেরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুখে যখন কুরআন পাঠ শুনলো তখন তারা এমনাবে আগে আগে বেড়ে চললো যে, যেন একে অপরের মাথার উপর দিয়ে চলে যাবে।

দ্বিতীয় ভাবার্থ হলোঃ জ্বিনেরা নিজেদের সম্প্রদায়কে বললোঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীদের (রাঃ) তার প্রতি আনুগত্যের অবস্থা এই যে, যখন তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে যান এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে থাকেন তখন প্রথম হতে শেষ পৃর্যন্ত আনুগত্য ও অনুকরণে এমনভাবে লেগে থাকেন যে, যেন একটা বৃত্ত। তৃতীয় উক্তি এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন জনগণের মধ্যে একত্ববাদ ঘোষণা করেন তখন কাফিররা দাঁত কটমট হয়ে এই দ্বীন ইসলামকে মিটিয়ে দিতে এবং এর আলোকে নির্বাপিত করে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ পাকের ইচ্ছা এর বিপরীত, তিনি এই দ্বীনকে সমুন্নত করতে চান ? এই তৃতীয় উক্তিটিই বেশী একাশমান।

কেননা এর পরেই রয়েছেঃ তুমি বল আমি আমার প্রতিপালককেই ডাকি এবং তাঁর সঙ্গে কাউকেও শরীক করি না।।অর্থাৎ সত্যের আহ্বান ও একত্ববাদের শব্দ যখন কাফিরদের কানে পৌঁছে যার প্রতি তারা বহুদিন হতেই মনঃক্ষুন্ন ছিল তখন তারা কষ্ট প্রদানে, বিরুদ্ধাচরণে এবং অবিশ্বাসকরণে উঠে পড়ে লেগে যায়। আর সত্যকে মিটিয়ে দিতে চায় ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর শত্রুতার উপর একতাবদ্ধ হয়। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ কাফিরদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আমার এক শরীকবিহীন প্রতিপালকের ইবাদতে মগ্ন রয়েছি। আমি তাঁরই আশ্রয়ে আছি। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি। তিনিই আমার আশ্রয়দানস্থল।

তোমরা কখনো আমার নিকট হতে এ আশা করো না যে, আমি অন্য কারো সামনে মাথা নত করবো এবং তার ইবাদত করবো। আমি তোমাদের মতই মানুষ। তোমাদের লাভ-ক্ষতির আমি মালিক নই। আমি তো আল্লাহর এক দাস মাত্র। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আমিও এক বান্দা। তোমাদেরকে হিদায়াত করা বা পথভ্রষ্ট করার ক্ষমতা আমি রাখি না। সবকিছুই আল্লাহর অধিকারভুক্ত। আমি তো শুধু একজন প্রচারক। আমি নিজেই যদি আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করি তবে অবশ্যই তিনি আমাকে শাস্তি দিবেন এবং আমাকে বাঁচাবার কারো ক্ষমতা হবে না। আল্লাহ ছাড়া আমি কোন আশ্রয় স্থল দেখি না। আমার পদমর্যাদা শুধু প্রচারক ও রাসূল হিসেবেই রয়েছে।কারো কারো মতে (আরবি) শব্দের ইসতিসনা বা স্বাতন্ত্র (আরবি)-এর সাথে রয়েছে।

অর্থাৎ আমি লাভ ক্ষতি এবং হিদায়াত ও যালালাতের মালিক নই। আমি তো শুধু তাবলীগ করি ও আল্লাহর বাণী মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে থাকি। আবার এই ইসতিসনা (আরবি)-এর সাথেও হতে পারে। অর্থাৎ আমাকে শুধু আমার রিসালাতের পালনই আল্লাহর আযাব হতে বাঁচাতে পারে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “হে রাসূল (সঃ)! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা তুমি (জনগণের কাছে) পৌঁছিয়ে দাও, আর যদি তুমি তা না কর তাহলে তুমি তার রিসালাত পৌঁছিয়ে দিলে না, আর আল্লাহ তোমাকে লোকদের (অনিষ্ট) হতে রক্ষা করবেন।”(৫:৬৭)ইরশাদ হচ্ছেঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-কে অমান্য করে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে।

যখন এই মুশরিক দানব ও মানবরা কিয়ামতের দিন ভয়াবহ আযাব দেখতে পাবে তখন তারা বুঝতে পারবে কে সাহায্যকারীর দিক দিয়ে দুর্বল এবং কে সংখ্যায় স্বল্প। অর্থাৎ একত্ববাদে বিশ্বাসী মুমিন না তাতে অবিশ্বাসী মুশরিক। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, ঐদিন মুশরিকদের শুধু নাম হিসেবেও কোন সাহায্যকারী থাকবে না এবং মহামহিমান্বিত আল্লাহর সেনাবাহিনীর তুলনায় তাদের সংখ্যা হবে অতি নগণ্য।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহ্রই জন্য। কাজেই আল্লাহ্র সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না [১]।

[১] مساجد শব্দটি مسجد এর বহুবচন। মুফাস্সিরগণ শব্দটি সাধারণভাবে ইবাদাতখানা বা উপাসনালয় অর্থে গ্রহণ করেছেন। তখন আয়াতের এক অর্থ এই যে, মসজিদসমূহ কেবল আল্লাহ্ তা‘আলার ইবাদতের জন্যে নির্মিত হয়েছে। অতএব, তোমরা মসজিদে গিয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সাহায্যের জন্যে ডেকো না। সেগুলোতে আল্লাহ্র ইবাদাতের সাথে সাথে আর কারো ইবাদাত করো না। যেমন ইহুদী ও নাসারারা তাদের উপাসনালয়সমূহে এ ধরনের শির্ক করে থাকে। অনুরূপভাবে মসজিদসমূহকে ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস ও মিথ্যা কর্মকাণ্ড থেকেও পবিত্র রাখতে হবে। হাসান বাস্রী বলেন, সমস্ত পৃথিবীটাই ইবাদাতখানা বা উপাসনালয়।

তাই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো আল্লাহ্র এ পৃথিবীতে কোথাও যেন শির্ক করা না হয়। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাণী থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমার জন্য সমগ্ৰ পৃথিবীকে ইবাদাতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় বানিয়ে দেয়া হয়েছে।” [বুখারী: ৩৩৫, তিরমিয়ী: ৩১৭] সাঈদ ইবনে জুবাইর এর মতে, মসজিদ বলতে যেসব অংগ-প্রত্যংগের সাহায্যে মানুষ সিজদা করে সেগুলো অর্থাৎ হাত, হাঁটু, পা ও কপাল বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতটির অর্থ হলো, সমস্ত অংগ-প্রত্যংগ আল্লাহ্র তৈরী। এগুলোর সাহায্যে একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা যাবে না।

[কুরতুবী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-জিন (৭২): আয়াত ১৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং অত্যন্ত কষ্টদায়ক শাস্তি অর্থাৎ কঠোর। আর ‘আস-সাআদ’ হলো ‘সাঈদা’ ক্রিয়ার মূলধাতু; বলা হয়: সে আরোহণ করল কষ্টসাধ্য আরোহণ। শাস্তিকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে কারণ তা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অর্থাৎ তাকে গ্রাস করে এবং তার ওপর প্রবল হয়, ফলে সে তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। আবু উবাইদাহ বলেন: ‘আস-সাআদ’ একটি মূলধাতু, অর্থাৎ অত্যন্ত কষ্টকর চড়াই বিশিষ্ট আজাব; আর উচ্চ ভূমিতে আরোহণ করা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য। ‘আস-সাউদ’ বলতে বোঝায় দুর্গম গিরিপথ। ইকরিমা বলেন: এটি জাহান্নামের একটি মসৃণ পাথর যার ওপর আরোহণ করতে তাকে বাধ্য করা হবে, যখন সে এর চূড়ায় পৌঁছাবে তখন তাকে পুনরায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

কালবী বলেন: ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরাকে জাহান্নামের আগুনের একটি মসৃণ পাথুরে পাহাড়ে আরোহণ করতে বাধ্য করা হবে। তার সামনের দিক থেকে তাকে শিকল দিয়ে টেনে নেওয়া হবে এবং পেছন থেকে গদা দিয়ে আঘাত করা হবে যতক্ষণ না সে এর চূড়ায় পৌঁছায়; আর সে চল্লিশ বছরেও এর চূড়ায় পৌঁছাতে পারবে না। যখন সে তার শীর্ষে পৌঁছাবে, তখন তাকে পুনরায় নিচে ফেলে দেওয়া হবে, এরপর তাকে আবার আরোহণ করতে বাধ্য করা হবে। এটিই হবে তার চিরস্থায়ী দশা। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: আমি শীঘ্রই তাকে এক সুকঠিন চড়াই আরোহণে বাধ্য করব [মুদ্দাসসির: ১৭]। ‌‌[সূরা আল-জিন (৭২): আয়াত ১৮]এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না (১৮)।এতে ছয়টি মাসআলা রয়েছে: প্রথম মাসআলা— মহান আল্লাহর বাণী: (এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য) এখানে ‘আন্না’ শব্দটি ফাতহ্ যোগে পঠিত।

বলা হয়েছে: এটি মহান আল্লাহর বাণী ‘বলুন, আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে’ [জিন: ১]-এর সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ বলুন: আমার প্রতি ওহি হয়েছে যে, নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য। আল-খলীল বলেন: অর্থাৎ যেহেতু মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য। আর এখানে মসজিদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐসব ঘর যা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করে। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: জিনরা বলেছিল, আমরা কীভাবে মসজিদে আসব এবং আপনার সাথে সালাতে শরিক হব অথচ আমরা আপনার থেকে অনেক দূরে? তখন অবতীর্ণ হয়: ‘এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য’ অর্থাৎ এগুলো আল্লাহর জিকির ও তাঁর আনুগত্যের জন্যই নির্মিত হয়েছে।

হাসান বলেন: এর দ্বারা ভূপৃষ্ঠের প্রতিটি অংশকে বোঝানো হয়েছে, কারণ পুরো পৃথিবীই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সিজদার স্থান। তিনি বলেন: [তোমরা যেখানেই থাকো না কেন সালাত আদায় করো, যেখানেই সালাত পড়বে সেটিই মসজিদ]। আর সহীহ হাদিসে এসেছে: [আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদার স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে]। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব এবং তালক ইবনে হাবীব বলেন: মসজিদসমূহ বলতে সিজদার অঙ্গসমূহকে বোঝানো হয়েছে যার মাধ্যমে বান্দা সিজদা করে; আর সেগুলো হলো উভয় পা, উভয় হাঁটু, উভয় হাত এবং মুখমণ্ডল। তিনি বলেন: এই অঙ্গগুলো আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন, সুতরাং এগুলোর দ্বারা অন্য কাউকে সিজদা করো না, করলে আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করা হবে।

আতা বলেন: তোমার সিজদাহর অঙ্গসমূহ হলো তোমার সেই অঙ্গগুলো যার মাধ্যমে তোমাকে সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং তোমার স্রষ্টা ছাড়া অন্য কারও সামনে সেগুলোকে অবনমিত করো না। সহীহ হাদিসে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এবং তিনি হাত দিয়ে তাঁর নাকের দিকে ইশারা করলেন—উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ)। আব্বাস বলেন, নবী বলেছেন...