Al-Jinn

আল-জিন: 9

72:9
72 আল-জিন Al-Jinn · 28 আয়াত الجن

আরবি

وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَـٰعِدَ لِلسَّمْعِ ۖ فَمَن يَسْتَمِعِ ٱلْـَٔانَ يَجِدْ لَهُۥ شِهَابًا رَّصَدًا

English Translations

Sahih International

And we used to sit therein in positions for hearing, but whoever listens now will find a burning flame lying in wait for him.

Muhsin Khan

'And verily, we used to sit there in stations, to (steal) a hearing, but any who listens now will find a flaming fire watching him in ambush.

Taqi Usmani

and that we used to sit at places therein to listen; but if one will (try to) listen now, he will find a flame in ambush for him,

Abul Ala Maududi

and that “we would take up stations in the heaven to try to hear but anyone who now attempts to listen finds a shooting meteor in wait for him”;

Pickthall

And we used to sit on places (high) therein to listen. But he who listeneth now findeth a flame in wait for him;

Yusuf Ali

'We used, indeed, to sit there in (hidden) stations, to (steal) a hearing; but any who listen now will find a flaming fire watching him in ambush.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আমরা (আগে) সংবাদ শুনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে তার উপর নিক্ষেপের জন্য সে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডকে লুকিয়ে থাকতে দেখে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর আমরা তো সংবাদ শোনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাটিতে বসতাম, কিন্তু এখন যে শুনতে চাইবে, সে তার জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড পাবে’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শোনার জন্য বসতাম। কিন্তু এখন কেহ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘এও যে, আমরা আগে আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শুনার জন্য বসতাম; কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জলন্ত উল্কাপিণ্ডের সম্মুখীন হয়।

ফাতহুল মাজীদ

আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে (সংবাদ) শুনার জন্য বসতাম; কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ডের সম্মুখীন হয়।

মুখতাসার

৯. ইতিপূর্বে আমরা আসমানে এমন একটি স্থান বের করে নিতাম যেখান থেকে ফিরিশতাদের আদান-প্রদানকৃত সংবাদগুলো আমরা জেনে নিতে পারতাম। অতঃপর আমরা যমীনের গণকদেরকে এর সংবাদ অবিহিত করতাম। কিন্তু বর্তমানে তা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। তাই এখন যে শ্রবণ করে সে নিজের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা প্রস্তুত দেখতে পায়। যখনই সে নিকটবর্তী হয় তখনই তার দিকে এটি প্রেরণ করা হয় এবং এটি তাকে জ্বালিয়ে ফেলে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

72:8

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘এও যে, আমরা আগে আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শুনার জন্য বসতাম [১] কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জলন্ত উল্কাপিণ্ডের সম্মুখীন হয়।

[১] জিনরা আসমানের সংবাদ শোনার জন্যে উপরের দিকে যেত। হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ্ তা‘আলা যখন আকাশে কোন হুকুম জারি করেন তখন সব ফেরেশতা আনুগত্যসূচক পাখা নাড়া দেয়। এরপর তারা পরস্পর সে বিষয়ে আলোচনা করে। শয়তানরা এখান থেকে এগুলো চুরি করে অতীন্দ্ৰিয়বাদীদের কাছে পৌছিয়ে দেয় এবং তাতে নিজেদের পক্ষ থেকে শত শত মিথ্যা বিষয় সংযোজন করে দেয়।’ [বুখারী: ৪৭০১, ৪৮০০]

সার কথা: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে আকাশের খবর চুরির ধারা বিনা বাধায় অব্যাহত ছিল। শয়তানরা নির্বিঘ্নে উপরে আরোহন করে ফেরেশতাগনের কাছে শুনে নিত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত লাভের সময় তার ওহীর হেফাযতের উদ্দেশ্যে চুরির সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হল এবং কোন শয়তান খবর চুরির জন্য উপরে গেলে তাকে লক্ষ্য করে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। চোর বিতাড়নের এই নতুন উদ্যোগ দেখেই শয়তান ও জিনরা চিন্তিত হয়ে পড়ে; কারণ অনুসন্ধানের জন্যে পৃথিবীর কোণে কোণে সন্ধানকারী দল প্রেরণ করেছিল, অতঃপর ‘নাখলাহ্’ নামক স্থানে একদল জিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে কুরআন শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছিল যা আলোচ্য সূরায় বর্ণিত হয়েছে। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর]