Muhammad
মুহাম্মাদ: 29
মূল আরবি
أَمْ حَسِبَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَن لَّن يُخْرِجَ ٱللَّهُ أَضْغَـٰنَهُمْ
English Translations
Or do those in whose hearts is disease think that Allāh would never expose their [feelings of] hatred?
Or do those in whose hearts is a disease (of hypocrisy), think that Allah will not bring to light all their hidden ill-wills?
Do those having malady in their hearts think that Allah will never expose their grudges (against Islam)?
Or do they, in whose hearts there is a sickness, believe that Allah will not bring their failings to light?
Or do those in whose hearts is a disease deem that Allah will not bring to light their (secret) hates?
Or do those in whose hearts is a disease, think that Allah will not bring to light all their rancour?
বাংলা অনুবাদ
যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কক্ষনো তাদের লুকানো বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দিবেন না?
নাকি যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা ধারণা করেছে যে, আল্লাহ তাদের গোপন বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দিবেন না?
যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ তাদের বিদ্বেষ ভাব প্রকাশ করে দিবেননা?
নাকি যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা মনে করে যে, আল্লাহ কখনো তাদের বিদ্বেষভাব প্ৰকাশ করে দেবেন না?
যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি মনে করেছে যে, আল্লাহ তাদের অন্তরের বিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করে দেবেন না?
২৯. যে সব মুনাফিকদের অন্তরে সন্দেহ রয়েছে তারা কি এ ধারণা রাখে যে, আল্লাহ আদৗ তাদের ক্ষোভগুলো বের করে প্রকাশ করবেন না?! অবশ্যই তিনি সেগুলোকে পরীক্ষায় নিপতিত করার মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। যেন সত্যনিষ্ঠ ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং মু’মিন ব্যক্তির পরিচয় ফুটে উঠে। আর কাফির ব্যক্তি অপদস্ত হয়।
তাফসীর
২৯-৩১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেনঃ মুনাফিকদের ধারণা এই যে, আল্লাহ পাক তাদের অভিসন্ধি, ষড়যন্ত্র এবং প্রতারণার কথা মুসলমানদের নিকট প্রকাশ করবেন না। কিন্তু তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আল্লাহ তাআলা তাদের ষড়যন্ত্র ও প্রতারণা এমনভাবে প্রকাশ করবেন যে, প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তি ওগুলো জানতে পারবে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ দুক্রিয়া হতে তারা বেঁচে থাকবে। তাদের বহু কিছু অবস্থার কথা সূরায়ে বারাআতে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে তাদের কপটতাপূর্ণ বহু অভ্যাসের উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এই সূরার অপর নাম ফাযেহা' বা অপমানকারী রেখে দেয়া হয়েছে।
অর্থাৎ এটা হলো মুনাফিকদেরকে অপমানকারী সূরা ।(আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের বহুবচন। (আরবী) বলা হয় হিংসা ও শক্রতাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ইচ্ছা করলে তোমাকে (নবী সঃ-কে) তাদের (মুনাফিকদের) পরিচয় দিতাম। তখন তুমি খোলাখুলিভাবে তাদেরকে জেনে নিতে। কিন্তু আমি এরূপ করিনি। সমস্ত মুনাফিকের পরিচয় আমি প্রদান করিনি, যাতে মাখলুকের উপর তাদের পর্দা পড়ে থাকে। মানুষের কাছে যেন তাদের দোষ ঢাকা থাকে। প্রত্যেকের নিকট যেন তারা লাঞ্ছিত রূপে ধরা না পড়ে। ইসলামী বিষয়গুলো বাহ্যিকতার উপরই বিচার্য। আভ্যন্তরীণ বিষয়ের হিসাব রয়েছে মহান আল্লাহর কাছে।
তিনি প্রকাশ্য ও গোপনীয় সবকিছুই জানেন। তবে মুনাফিকদেরকে তাদের কথা বলার ধরন দেখে চেনা যাবে।আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি মনের মধ্যে কোন কিছু গোপন রাখে, আল্লাহ তা'আলা তার মুখমণ্ডলে ও কথায় তা প্রকাশ করে দেন। অর্থাৎ তার চেহারায় ও কথাবার্তায় তা প্রকাশ পেয়ে যায়।” হাদীসে এসেছেঃ “যে ব্যক্তি কোন রহস্য গোপন রাখে, আল্লাহ তা'আলা তা প্রকাশ করে দেন, ভাল হলে ভাল এবং মন্দ হলে মন্দ।” মানুষের কাজে, কথায় ও বিশ্বাসে যে কপটতা প্রকাশ পায় তা আমরা সহীহ বুখারীর শরাহর প্রারম্ভে পূর্ণভাবে বর্ণনা করেছি। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।
হাদীসে মুনাফিকদের একটি দলকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। হযরত উকবা ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদের মধ্যে ভাষণ দান করেন। আল্লাহ তাআলার হামদ ও সানার পর তিনি বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে কতক লোক মুনাফিক রয়েছে। আমি যাদের নাম নিবো তারা যেন দাঁড়িয়ে যায়।” অতঃপর তিনি বলেনঃ “হে অমুক ব্যক্তি! তুমি দাঁড়াও, হে অমুক লোক! তুমি দাঁড়িয়ে যাও।” শেষ পর্যন্ত তিনি ছত্রিশটি লোকের নাম নিলেন। তারপর বললেনঃ “তোমাদের মধ্যে অথবা তোমাদের মধ্য হতে কতক মুনাফিক রয়েছে, সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর।” এরপরে এই লোকদের মধ্যে একজনের সামনে দিয়ে হযরত উমার (রাঃ) গমন করেন।
ঐ সময় লোকটি কাপড় দিয়ে তার মুখ ঢেকে রেখেছিল। হযরত উমার (রাঃ) লোকটিকে খুব ভালরূপে চিনতেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “ব্যাপার কি?” উত্তরে সে উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করলো। তখন হযরত উমার (রাঃ) তাকে বললেনঃ “সারা দিন তোমার জন্যে দুর্ভোগ (অর্থাৎ তুমি ধ্বংস হও)।" (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে)এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ আমি হুকুম আহকাম দিয়ে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করে তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পরীক্ষা করবো এবং এভাবে জেনে নিবো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর পথে জিহাদকারী কারা এবং ধৈর্যশীল কারা? আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করতে চাই।সমস্ত মুসলমান তো এটা জানে যে, অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ প্রত্যেক জিনিস এবং প্রত্যেক মানুষ ও তার আমল প্রকাশিত হবার পূর্বেই ওগুলো সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
তাহলে এখানে তিনি জেনে নিবেন’ এর ভাবার্থ হলোঃ তিনি তা দুনিয়ার সামনে খুলে দিবেন এবং ঐ অবস্থা দেখবেন ও দেখাবেন। এজন্যেই হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এরূপ স্থলে -এর অর্থ করতেন অর্থাৎ যাতে আমি দেখে নিই।
নাকি যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা মনে করে যে, আল্লাহ কখনো তাদের বিদ্বেষভাব প্ৰকাশ করে দেবেন না [১]?
[১] أضغان শব্দটি صغن এর বহুবচন। এর অর্থ গোপন শক্রতা ও বিদ্বেষ। [বাগভী, ফাতহুল কাদীর]
[سورة محمد (47): الآيات 29 الى 30] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; ফেরেশতারা তাদের পাকড়াও করার সময় তাদের চেহারায় এবং পালানোর সময় তাদের পিঠে আঘাত করার মাধ্যমে এটি ঘটে। আর বলা হয়েছে যে, এটি কিয়ামতের দিন তাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেওয়ার সময় ঘটবে। [সুরা মুহাম্মাদ (৪৭): আয়াত ২৮]এটি এই কারণে যে, তারা সেই পথের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন (২৮)মহান আল্লাহর বাণী: "এটি" অর্থাৎ এটিই তাদের প্রতিদান। "এই কারণে যে, তারা সেই পথের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে" - ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এটি হলো তাওরাতে বর্ণিত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি তাদের গোপন করা।
আর যদি একে মুনাফিকদের ক্ষেত্রে ধরা হয়, তবে তা তাদের অন্তরে লুকায়িত কুফরির প্রতি ইঙ্গিত। "এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে" অর্থাৎ ঈমানকে। "ফলে তিনি তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন" অর্থাৎ সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং এই জাতীয় অন্যান্য যা কিছু তারা করেছিল, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। [সুরা মুহাম্মাদ (৪৭): আয়াত ২৯ থেকে ৩০]যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কখনোই তাদের বিদ্বেষসমূহ প্রকাশ করে দেবেন না? (২৯) আমি ইচ্ছা করলে আপনাকে তাদের পরিচয় দিতাম, ফলে আপনি তাদের লক্ষণ দেখে তাদের চিনতে পারতেন; আর আপনি অবশ্যই তাদের কথার ভঙ্গি থেকে তাদের চিনতে পারবেন।
আল্লাহ তোমাদের আমলসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত (৩০)মহান আল্লাহর বাণী: "যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা কি মনে করে" - ব্যাধি অর্থ নিফাক (কপটতা) ও সন্দেহ, অর্থাৎ তারা মুনাফিক। "আল্লাহ কখনোই তাদের বিদ্বেষসমূহ প্রকাশ করে দেবেন না" - 'আদগান' (বিদ্বেষসমূহ) বলতে অন্তরে লুকায়িত অপছন্দনীয় বিষয়কে বোঝায়। এর অর্থের ব্যাপারে ভিন্নমত রয়েছে; সুদ্দী বলেন: তাদের প্রতারণা। ইবনে আব্বাস বলেন: তাদের হিংসা। কুতরুব বলেন: তাদের শত্রুতা। তিনি কবির পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করেন:হিন্দ-এর পুত্রকে বলো যে, আমি কথার মাধ্যমে এমন কিছু চাইনি … যা বন্ধুর কাছে খারাপ লাগে এবং বিদ্বেষকে দৃঢ় করেআরও বলা হয়েছে: এটি হলো তাদের প্রতিহিংসা।
এর একবচন হলো 'দিগন'। কবি বলেছেন:আর অনেক প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যক্তি হতে আমি নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছি এটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমর ইবনে কুলসুম বলেছেন:নিশ্চয় এক বিদ্বেষের পর অন্য বিদ্বেষ তোমার বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ে … এবং তা ভেতরের সুপ্ত রোগকে বের করে আনে।
