At-Tariq
আত-তারিক: 4
মূল আরবি
إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ
English Translations
There is no soul but that it has over it a protector.
There is no human being but has a protector over him (or her) (i.e. angels incharge of each human being guarding him, writing his good and bad deeds, etc.)
-there is no human being, but there is a watcher over him.
There is no living being but there is a protector over it.
No human soul but hath a guardian over it.
There is no soul but has a protector over it.
বাংলা অনুবাদ
প্রত্যেক আত্মার সাথে একজন সংরক্ষক আছে।
প্রত্যেক জীবের উপরই সংরক্ষক রয়েছে।
প্রত্যেক জীবের উপরই সংরক্ষক রয়েছে।
প্রত্যেক জীবের উপরই তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।
নিশ্চয়ই প্রত্যেক জীবের ওপরই এক সংরক্ষক রয়েছে।
৪. প্রত্যেকের জন্যে একজন ফিরিশতা নিয়োজিত রয়েছেন যিনি কিয়ামত দিবসের হিসাবের জন্য আমল সংরক্ষণ করেন।
তাফসীর
86:1
প্রত্যেক জীবের উপরই তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে [১]।
[১] এটা শপথের জওয়াব। حافظ শব্দের অর্থ তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা‘আলা আকাশ ও নক্ষত্রের শপথ করে বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের ওপর তত্ত্বাবধায়ক বা আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। সে তার সমস্ত কাজকর্ম ও নড়াচড়া দেখে, জানে। [ফাতহুল কাদীর] এর পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের চিন্তা করা উচিত যে, সে দুনিয়াতে যা কিছু করছে, তা সবই কেয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশের জন্যে আল্লাহ্র কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাই কোন সময় আখেরাত ও কেয়ামতের চিন্তা থেকে গাফেল হওয়া অনুচিত। এখানে حافظ শব্দ একবচনে উল্লেখ করা হলেও তারা যে একাধিক তা অন্য আয়াত থেকে জানা যায়। অন্য আয়াতে আছে وَاِنَّ عَلَيْكُمْ لَهَفِظِيْنَ ٭ كِرَامًا كٰتِبِيْنَ “নিশ্চয় তোমাদের উপর নিয়োজিত রয়েছে তত্ত্বাবধায়করা, সম্মানিত লেখকরা”। [সূরা আল-ইনফিতার; ১০-১১]
তাছাড়া حافظ এর অপর অর্থ আপদ-বিপদ থেকে হেফাযতকারী ও হয়ে থাকে। [ইবন কাসীর] আল্লাহ্ তা‘আলা প্রত্যেক মানুষের হেফাযতের জন্যে ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন। তারা দিন-রাত মানুষের হেফাযতে নিয়োজিত থাকে। তবে আল্লাহ্ তা’আলা যার জন্যে যে বিপদ অবধারিত করে দিয়েছেন, তারা সে বিপদ থেকে হেফাযত করে না। অন্য এক আয়াতে একথা পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে,
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ
অর্থাৎ মানুষের জন্যে পালাক্রমে আগমনকারী পাহারাদার ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। তারা আল্লাহ্র আদেশে সামনে ও পেছনে থেকে তার হেফাযত করে। [সূরা আর-রা‘দ: ১১]
অথবা হেফাযতকারী বলতে এখানে আল্লাহ্কেই বুঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] তিনি আকাশ ও পৃথিবীর ছোট বড় সকল সৃষ্টির দেখাশুনা, তত্ত্বাবধান ও হেফাযত করছেন। তিনিই সব জিনিসকে অস্তিত্ব দান করেছেন তিনিই সবকিছুকে টিকিয়ে রেখেছেন। তিনি সব জিনিসকে ধারণ করেছেন বলেই প্রত্যেকটি জিনিস তার নিজের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আছে। তিনি সব জিনিসকে তার যাবতীয় প্ৰায়োজন পূর্ণ করার এবং তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত বিপদমুক্ত রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বিষয়টির জন্য আকাশের ও রাতের অন্ধকারে আত্মপ্রকাশকারী প্ৰত্যেকটি গ্রহ ও তারকার কসম খাওয়া হয়েছে।
[সূরা আত-তারিক (৮৬): আয়াত ৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন: [হে পরম করুণাময়, আমি আপনার নিকট রাত ও দিনের অশুভ আগন্তুকদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, তবে এমন আগন্তুক ব্যতীত যে কল্যাণ নিয়ে আসে।] আর জরীর আগন্তুক সম্পর্কে বলেছেন:তোমার কাছে হৃদয়ের শিকারী আগন্তুক হিসেবে এসেছে, অথচ এটি … সাক্ষাতের সময় নয়, সুতরাং শান্তিতে ফিরে যাও।এরপর তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: (আর কিসে আপনাকে জানাবে আগন্তুক কী? তা হলো উজ্জ্বল নক্ষত্র)। আর ‘থাকিব’ মানে হলো জ্যোতির্ময়। এখান থেকেই এসেছে 'উজ্জ্বল অগ্নিশিখা' «১»। বলা হয় ‘থাকাবা ইয়াথকুবু’ যখন তা আলোকিত হয়। আর ‘থুকুব’ মানে তার আলো।
আর আরবরা বলে: তোমার আগুন প্রজ্বলিত করো, অর্থাৎ তা আলোকিত করো। কবি বলেছেন:সে মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিল যতক্ষণ না সেটি মনে হচ্ছিল … উচ্চস্থানে প্রদীপ্ত কাঠ দিয়ে জ্বালানো আগুন।‘থুকুব’ হলো এমন সূক্ষ্ম কাঠ যা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। মুজাহিদ বলেন: ‘থাকিব’ হলো প্রদীপ্ত। কুশায়রী বলেন: অধিকাংশের মতে 'তারিক' ও 'থাকিব' হলো সাধারণ বিশেষ্য যা দ্বারা ব্যাপক অর্থ বোঝানো হয়েছে, যেমনটি আমরা মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছি। (আর কিসে আপনাকে জানাবে আগন্তুক কী?)—এটি শপথকৃত বিষয়টির গুরুত্ব প্রকাশের জন্য। সুফিয়ান বলেন: কুরআনে যেখানেই ‘ওয়া মা আদরাকা’ (কিসে আপনাকে জানাবে) আছে, সে বিষয়ে আল্লাহ তাঁকে অবহিত করেছেন।
আর যে বিষয়ে ‘ওয়া মা ইয়ুদরিকা’ বলা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁকে জানানো হয়নি। [সূরা আত-তারিক (৮৬): আয়াত ৪]প্রত্যেকটি নফসের ওপর অবশ্যই একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে (৪)কাতাদাহ বলেন: তারা হলেন এমন রক্ষক যারা আপনার রিযিক, আমল এবং আয়ু রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: তার সহচর ফেরেশতা তার ভালো বা মন্দের আমলগুলো সংরক্ষণ করে। আর এটিই হলো শপথের উত্তর। কেউ কেউ বলেছেন: শপথের উত্তর হলো ‘নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম’—এটি তিরমিযী মুহাম্মদ বিন আলীর বক্তব্য। আর ‘ইন’ শব্দটি ‘ইন্না’ থেকে লাঘবকৃত, এবং ‘মা’ শব্দটি গুরুত্বের জন্য; অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই প্রতিটি নফসের ওপর একজন সংরক্ষক রয়েছে’।
আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো প্রতিটি নফসের ওপর অবশ্যই একজন রক্ষক রয়েছে, যে তাকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে যতক্ষণ না তাকে নিয়তির কাছে সোপর্দ করা হয়। আল-ফাররা বলেন: আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একজন রক্ষক তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করেন যতক্ষণ না তাকে তাকদিরের হাতে ন্যস্ত করা হয়; কালবীও একই কথা বলেছেন। আবু উমামাহ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: [মুমিনের জন্য একশ ষাটজন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়েছে যারা তার থেকে এমন সব অনিষ্ট দূর করে যা তার জন্য নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে চোখের জন্য সাতজন ফেরেশতা রয়েছে যারা তার থেকে অনিষ্ট দূর করে, যেভাবে মধুর পাত্র থেকে মাছি দূর করা হয়।
বান্দাকে যদি চোখের পলকের জন্য তার নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে শয়তানরা তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যেত।] আর ইবনে আমির, আসিম ও হামযাহ মীম-এ তাশদীদসহ ‘লাম্মা’ পড়েছেন, অর্থাৎ প্রতিটি নফসের ওপর অবশ্যই একজন রক্ষক রয়েছে, এবং এটি একটি আরবি উপভাষা।(১). সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১০।(২). অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট নক্ষত্র যেমন সুরাইয়া বা শনি উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন।
