At-Tariq
আত-তারিক: 9
মূল আরবি
يَوْمَ تُبْلَى ٱلسَّرَآئِرُ
English Translations
The Day when secrets will be put on trial,
The Day when all the secrets (deeds, prayers, fasting, etc.) will be examined (as to their truth).
on a day when all the secrets will be searched out,
On the Day when man's deepest secrets shall be put to the test
On the day when hidden thoughts shall be searched out.
The Day that (all) things secret will be tested,
বাংলা অনুবাদ
যেদিন (কাজকর্ম আকীদা বিশ্বাস ও নিয়্যাত সম্পর্কিত) গোপন বিষয়াদি যাচাই পরখ করা হবে।
যে দিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষা করা হবে।
যেদিন গোপন বিষয়সমূহ পরীক্ষা করা হবে –
যেদিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে
যেদিন গোপন বিষয়সমূহের যাচাই-বাছাই করা হবে,
৯. সে দিন গোপন বিষয়াদি নিরীক্ষণ করা হবে। ফলে অন্তরগুলো যে সব কামনা ও বিশ্বাস প্রভৃতি পোষণ করতো তা প্রকাশ পাবে। তাতে এগুলোর মধ্যকার ভালো-মন্দের পার্থক্য হবে।
তাফসীর
86:1
যেদিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে [১]
[১] গোপন রহস্য বলতে মানুষের যেসব বিশ্বাস ও সংকল্প অন্তরে লুক্কায়িত ছিল, দুনিয়াতে কেউ জানতনা এবং যেসব কাজকর্ম সে গোপনে করেছিল, কেয়ামতের দিন সে সবগুলোই পরীক্ষিত হবে। বা প্ৰকাশ করে দেয়া হবে। অর্থাৎ তাদের আমলনামা পেশ করা হবে, আর তখন ভাল-মন্দ, উত্তম-অনুত্তম সবই স্পষ্ট হয়ে যাবে। [ফাতহুল কাদীর] আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কেয়ামতের দিন প্ৰত্যেক গাদ্দারের পিছনে একটি পতাকা লাগানো হবে যাতে থাকবে, এটা অমুকের পুত্ৰ অমুকের গাদ্দারী” [বুখারী: ৬১৭৮, মুসলিম: ১৭৩৫] সুতরাং সেদিন মানুষের সব গোপন ভেদ খুলে যাবে। প্রত্যেক ভাল-মন্দ বিশ্বাস ও কর্মের আলামত মানুষের মুখমণ্ডলে শোভা পাবে।
[সূরা আত-তারিক (৮৬): আয়াত ৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আত-তারিক (৮৬): আয়াত ৯]যে দিন গোপন বিষয়সমূহ পরীক্ষিত হবে (৯)এতে দুটি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে: প্রথমত: 'ইয়াওমা' (যে দিন) শব্দটির আমেল বা ক্রিয়াকর্ম সম্পাদনকারী—যাঁদের মতে এর অর্থ মানুষের পুনরুত্থান—তা হলো 'লা-কাদির' (নিশ্চয়ই সক্ষম) শব্দটি। 'রাজ’ইহি' (তার প্রত্যাবর্তনে) শব্দটি এখানে আমেল হবে না; কারণ এটি 'ইন্না'-এর খবরের মাধ্যমে সেলা (সংযুক্ত বাক্য) ও মাওসুলের (যা সংযুক্ত করা হয়েছে) মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে। আর 'ইন্নাহু আলা রাজ’ইহি লা-কাদির'-এর ব্যাপারে অন্যসব অভিমত অনুযায়ী 'ইয়াওমা'র আমেল হবে একটি উহ্য ক্রিয়া। আর 'লা-কাদির' এখানে আমেল হবে না, কারণ এর দ্বারা দুনিয়ার উদ্দেশ্য ব্যক্ত হয়েছে।
আর 'তুবলা' অর্থ পরীক্ষা করা হবে ও যাচাই করা হবে। আবু আল-গুল আত-তুহাভী বলেছেন:তাদের বীরত্ব ম্লান হয় না, যদিও তারা সময়ের পর সময় যুদ্ধের আগুনে দগ্ধ হয়। আবার 'তুবলা বাসালতুহুম' ও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যারা 'তা' বর্ণে পেশ দিয়ে 'তুবলা' বর্ণনা করেছেন, তারা একে 'পরীক্ষা' অর্থে গ্রহণ করেছেন। এই বর্ণনা অনুযায়ী 'বাসালাহ' শব্দের অর্থ হবে 'অপছন্দ করা', যেন কবি বলতে চেয়েছেন: তাতে তাদের কোনো অপছন্দ প্রকাশিত হয়নি। আর 'তুবলা' অর্থ 'জানা যাওয়া'। জনৈক রাজেয (ছন্দকার) বলেছেন:আজকের আগে তুমি আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করতে, কিন্তু আজ আমি তোমাকে চিনেছি এবং তুমিও আমাকে চিনেছ।অর্থাৎ আমি তোমাকে জানি এবং তুমি আমাকে জানো।
আর যারা 'তা' বর্ণে যবর দিয়ে 'তাবলা' বর্ণনা করেছেন, তার অর্থ হলো: যুদ্ধের পৌনঃপুনিকতা সত্ত্বেও তারা দুর্বল হয় না। কেননা কঠিন বিষয়াদি যখন মানুষের ওপর বারবার আপতিত হয়, তখন তা তাকে ভেঙে ফেলে ও দুর্বল করে দেয়। বলা হয়েছে: 'গোপন বিষয়সমূহ পরীক্ষিত হবে' অর্থাৎ তার লুক্কায়িত বিষয়গুলো বের করে আনা হবে এবং প্রকাশ করা হবে। আর তা হলো মানুষ ভালো বা মন্দের যা কিছু গোপন করেছিল এবং ঈমান বা কুফরের যা কিছু অন্তরে পোষণ করেছিল। যেমন আল-আহওয়াস বলেছেন:হৃদয় ও অন্তরের অন্তঃস্থলে তার প্রতি এমন এক ভালোবাসার গোপন রহস্য অবশিষ্ট থাকবে, যে দিন সকল গোপন রহস্য প্রকাশিত হবে।(১).
তিনি একজন ইসলামী যুগের কবি, 'তুহয়াহ' (ত্বা বর্ণে পেশসহ)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আরবদের একটি গোত্রের নাম।(২). মূল পাণ্ডুলিপির কিছু কপিতে এভাবেই এসেছে এবং (খিজানাতুল আদব ১ম খণ্ড, ৩২২ পৃষ্ঠা; মূলের কিছু কপি; আশ-শি'র ওয়াশ-শুআরা; এবং কিতাবুল আগানি ৪র্থ খণ্ড, ২৪২ পৃষ্ঠা, মিশরীয় দারুল কুতুব সংস্করণ): "শীঘ্রই তোমাদের জন্য প্রকাশিত হবে..."।
