Ibrahim

ইবরাহীম: 18

14:18
14 ইবরাহীম Ibrahim · 52 আয়াত ابراهيم

আরবি

مَّثَلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِرَبِّهِمْ ۖ أَعْمَـٰلُهُمْ كَرَمَادٍ ٱشْتَدَّتْ بِهِ ٱلرِّيحُ فِى يَوْمٍ عَاصِفٍ ۖ لَّا يَقْدِرُونَ مِمَّا كَسَبُوا۟ عَلَىٰ شَىْءٍ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلضَّلَـٰلُ ٱلْبَعِيدُ

English Translations

Sahih International

The example of those who disbelieve in their Lord is [that] their deeds are like ashes which the wind blows forcefully on a stormy day; they are unable [to keep] from what they earned a [single] thing. That is what is extreme error.

Muhsin Khan

The parable of those who disbelieve in their Lord is that their works are as ashes, on which the wind blows furiously on a stormy day, they shall not be able to get aught of what they have earned. That is the straying, far away (from the Right Path).

Taqi Usmani

The deeds of those who refuse to believe in their Lord are like ashes blown away by the wind on a stormy day. They will not be able to gain anything out of what they did. That is the farthest point of straying away from the right path.

Abul Ala Maududi

This is the example of those who disbelieve in their Lord: their works are like ashes upon which the wind blows fiercely on a tempestuous day. They shall find no reward for their deeds. That indeed is the farthest point in straying.

Pickthall

A similitude of those who disbelieve in their Lord: Their works are as ashes which the wind bloweth hard upon a stormy day. They have no control of aught that they have earned. That is the extreme failure.

Yusuf Ali

The parable of those who reject their Lord is that their works are as ashes, on which the wind blows furiously on a tempestuous day: No power have they over aught that they have earned: that is the straying far, far (from the goal).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের ‘আমালের দৃষ্টান্ত হল সেই ছাইয়ের মত যা ঝড়ের দিনে বাতাস প্রচন্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়। নিজেদের উপার্জনের কিছুই তারা কাজে লাগাতে পারে না। এটাই ঘোর গুমরাহী।

রাওয়াই আল-বায়ান

যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করে তাদের আমলসমূহের দৃষ্টান্ত হল এমন ছাইয়ের মত, প্রবল ঘুর্ণিঝড়ের দিনে বাতাস প্রচন্ড বেগে যা বহন করে নিয়ে যায়। তারা যা অর্জন করেছে, তার মাধ্যমে কিছুই করতে পারে না। এ তো ঘোরতর বিভ্রান্তি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যারা তাদের রাব্বকে অস্বীকার করে তাদের উপমা - তাদের কাজসমূহ ছাই সদৃশ যা ঝড়ের দিনে বাতাস প্রচন্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়; যা তারা উপার্জন করে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারেনা; এটাতো ঘোর বিভ্রান্তি।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করে তাদের উপমা হল, তাদের কাজগুলো ছাইয়ের মত যা ঝড়ের দিনে বাতাস প্রচণ্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়। যা তারা উপার্জন করে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারে না। এটা তো ঘোর বিভ্রান্তি।

ফাতহুল মাজীদ

যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের উপমা হচ্ছে তাদের কর্মসমূহ ছাইয়ের মত যা প্রচণ্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ের বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। তারা যা উপার্জন করে তার কিছুই তাদের কাজে লাগাতে পারে না। এটা তো চরম গোমরাহী।

মুখতাসার

১৮. কাফিররা সাদাকা ও দুর্বলের প্রতি দয়ার ন্যায় যে নেক কাজগুলো উপস্থাপন করে সেগুলোর দৃষ্টান্ত হলো এমন ছাইয়ের মতো যাকে ঝড়ের দিনের দমকা বায়ু জোরে উড়িয়ে নিয়ে সর্ব জায়গায় ছিঁটিয়ে দেয়। যার আর কোন নিশানা থাকে না। এভাবেই কাফিরদের আমলগুলো কুফরির তুফানে উড়ে যায়। কিয়ামতের দিন তাদের কোন উপকারে আসবে না। মূলতঃ যে আমলের ভিত্তি ঈমান নয় তা অনেক দূরতম ভ্রষ্টতা।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এটা একটা দৃষ্টান্ত যা আল্লাহ তাআলা এ সব কাফিরের আমলের ব্যাপারে পেশ করেছেন যারা তাঁর সাথে অন্যের উপাসনা করে, রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং যাদের আমলগুলি পায়াহীন বা ভিত্তিহীন অট্টালিকার মত। এর পরিণাম এই দাড়ালো যে, প্রয়োজনের সময় শূন্য হস্ত হয়ে গেল। তাই, মহান আল্লাহ বলেন, কাফিরদের অর্থাৎ আমলগুলির দৃষ্টান্ত কিয়ামতের দিন, যখন তারা সম্পূর্ণরূপে মুখাপেক্ষী থাকবে সাওয়াবের এবং মনে করতে থাকবে যে, হয়তো তারা তাদের সৎ কার্যাবলীর বিনিময় লাভ করবে, কিন্তু আসলে কিছুই পাবে না, বরং নিরাশ হয়ে শুধু হায়, হায় করবে, যেমন ঝড়ের দিন বায়ু প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়ে ভস্ম উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং এদিকে ওদিকে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে দেয়, এই ছাই এর যেমন কোন মূল্য নেই, তেমনই এই কাফিরদের কার্যাবলী মূল্যহীন ও নিষ্ফল হবে। এই ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ছাইগুলি একত্রিত করা যেমন অসম্ভব অনুরূপভাবে তাদের কার্যাবলীর বিনিময় লাভও অসম্ভব। যেমন আল্লাহ তাআলা এক জায়গায় বলেছেনঃ “এই পার্থিব জীবনে যা তারা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, যা যে জাতি নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে তাদের শস্য ক্ষেত্রকে আঘাত করে ও বিনষ্ট করে, আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলুম করেন নাই,তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করে।” অন্য এক স্থানে রয়েছেঃ “হে মুমিনগণ! দানের কথা প্রচার করে এবং ক্লেশ দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল করো না। যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্যে ব্যয় করে থাকে, এবং আল্লাহ ও পরকালের বিশ্বাস করে না; তার উপমা একটি মসৃণ পাথর যার উপর কিছু মাটি থাকে,অতঃপর তার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত তাকে পরিষ্কার করে রেখে দেয়; যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারবে না; আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।”এখানে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “এটা তো ঘোর বিভ্রান্তি।” তাদের চেষ্টা। ও কাজ পায়াহীন এবং অস্থির। কঠিন প্রয়োজনের সময় তারা তাদের এসব কাজের কোনই বিনিময় পাবে না। এটাই হচ্ছে বড়ই দুর্ভাগ্য।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করে তাদের উপমা হল, তাদের কাজগুলো ছাইয়ের মত যা ঝড়ের দিনে বাতাস প্রচণ্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায় [১]। যা তারা উপার্জন করে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারে না। এটা তো ঘোর বিভ্রান্তি।

[১] উদ্দেশ্য এই যে, কাফেরদের ক্রিয়াকর্ম বাহ্যতঃ সৎ হলেও তা আল্লাহ্ তা’আলার কাছে গ্রহণীয় নয়। তাই সব অর্থহীন ও অকেজো। তারা দুনিয়াতে যা করেছে সবই বৃথা ও নিষ্ফল হবে। অন্যত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ “আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করব, তারপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণায় পরিণত করব।” [সূরা আল-ফুরকানঃ ২৩]

“এ পার্থিব জীবনে যা তারা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, ওটা যে জাতি নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে তাদের শষ্যক্ষেত্রকে আঘাত করে ও বিনষ্ট করে।” [সূরা আলে ইমরানঃ ১১৭]

“হে মু’মিনগণ! দানের কথা বলে বেড়িয়ে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল করো না যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে থাকে এবং আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান রাখে না। তার উপমা একটি মসৃণ পাথর যার উপর কিছু মাটি থাকে, তারপর ওটার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত ওটাকে পরিস্কার করে রেখে দেয়। যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারবে না। আল্লাহ্ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।” [সূরা আল-বাকারাহঃ ২৬৪]