Ibrahim

ইবরাহীম: 42

14:42
14 ইবরাহীম Ibrahim · 52 আয়াত ابراهيم

আরবি

وَلَا تَحْسَبَنَّ ٱللَّهَ غَـٰفِلًا عَمَّا يَعْمَلُ ٱلظَّـٰلِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ ٱلْأَبْصَـٰرُ

English Translations

Sahih International

And never think that Allāh is unaware of what the wrongdoers do. He only delays them [i.e., their account] for a Day when eyes will stare [in horror].

Muhsin Khan

Consider not that Allah is unaware of that which the Zalimun (polytheists, wrong-doers, etc.) do, but He gives them respite up to a Day when the eyes will stare in horror.

Taqi Usmani

Never think that Allah is unaware of what the wrongdoers are doing. He is but giving them respite up to a day when the eyes shall remain upraised (in terror).

Abul Ala Maududi

Do not think Allah is heedless of the evil deeds in which the evil-doers are engaged. He is merely granting them respite until a Day when their eyes shall continue to stare in horror,

Pickthall

Deem not that Allah is unaware of what the wicked do. He but giveth them a respite till a day when eyes will stare (in terror),

Yusuf Ali

Think not that Allah doth not heed the deeds of those who do wrong. He but giveth them respite against a Day when the eyes will fixedly stare in horror,-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যালিমরা যা করছে সে ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে কক্ষনো উদাসীন মনে কর না। তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত ঢিল দিচ্ছেন যেদিন ভয়ে আতঙ্কে চক্ষু স্থির হয়ে যাবে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যালিমরা যা করছে, আল্লাহকে তুমি সে বিষয়ে মোটেই গাফেল মনে করো না, আল্লাহ তো তাদের অবকাশ দিচ্ছেন, ঐ দিন পর্যন্ত যে দিন চোখ পলকহীন তাকিয়ে থাকবে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তুমি কখনও মনে করনা যে, যালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। তবে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর আপনি কখনো মনে করবেন না যে, যালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্‌ গাফিল, তবে তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির।

ফাতহুল মাজীদ

তুমি কখনও মনে কর না যে, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ গাফিল, নিশ্চয়ই তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে।

মুখতাসার

৪২. হে রাসূল! আপনি যালিমদের শাস্তি দেরি হতে দেখে এ কথা মনে করবেন না যে, আল্লাহ তা‘আলা যালিমদের কর্মকাণ্ড তথা তাদের মিথ্যারোপ ও মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া ইত্যাদি থেকে তিনি গাফিল। বরং তিনি সবই জানেন। এগুলোর কোনটিই তাঁর নিকট গোপন নয়। বরং তিনি তাদের শাস্তি কিয়ামতের দিনের অপেক্ষায় রেখেছেন। যেদিন ভয়ঙ্কর কিছু দেখার আতঙ্কে মানুষের চোখগুলো উপরে উঠে যাবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৪২-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “কেউ যেন এটা মনে না করে যে, যারা অসৎকর্ম করে তাদের কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা উদাসীন, তিনি কোন খবর রাখেন, এজন্যেই তারা দুনিয়ায় সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এক একজনের এক এক মুহূর্তের ভালমন্দ কাজ সম্পর্কে পুর্ণ ওয়াকিফহাল। তিনি ইচ্ছা করেই তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, উদ্দেশ্য এই যে, হয় তারা দুষ্কর্ম হতে বিরত থাকবে, না হয় তাদের পাপের বোঝা আরো ভারী হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত কিয়ামতের দিন এসে যাবে, যেই দিনের ভয়াবহতায় তাদের চক্ষুগুলিহয়ে যাবে স্থির ও বিস্ফারিত, ভীত বিহ্বল চিত্তে দৃষ্টি উপরের দিকে উঠিয়ে তারা আহ্বানকারীর শব্দের দিকে ছুটাছুটি করবে।” এখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের কবর হতে পুনরুত্থিত হওয়া ও হাশরের মাঠে দাঁড়াবার জন্যে তাড়াহুড়া করার অবস্থা বর্ণনা করছেন।এ দিন তারা সরাসরি ঐ দিকেই দৌড় দেবে এবং সবাই সেদিন সম্পূর্ণরূপে অনুগত হয়ে যাবে। সেখানে হাজিরহওয়ার জন্যে তারা ব্যাকুল হয়ে ফিরবে। চক্ষ তাদের নীচের দিকে ঝুঁকবে না। ভয় ও ত্রাসের কারণে তাদের চোখে পলক পড়বে না। অন্তরের অবস্থা এমন হবে যে, যেন তা উড়ে যাচ্ছে এবং শূন্য পড়ে আছে। ভয় ও আতংক ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। প্রাণ হয়ে পড়বে কণ্ঠাগত। ভীষণ ভয়ের কারণে তা নিজ স্থান থেকে সরে পড়বে এবং অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাবে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর আপনি কখনো মনে করবেন না যে, যালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্‌ গাফিল [১], তবে তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির [২]।

[১] অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই তোমরা আল্লাহকে গাফেল মনে করো না। এখানে বাহ্যতঃ প্রত্যেক ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হয়েছে, যাকে তার গাফলতি ও শয়তান এ ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। [ফাতহুল কাদীর] পক্ষান্তরে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্বোধন করা হয়, তবে এর উদ্দেশ্য উম্মতের গাফেলদেরকে শোনানো এবং হুশিয়ার করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এরূপ সম্ভাবনাই নেই যে, তিনি আল্লাহ্ তা'আলাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বেখবর অথবা গাফেল মনে করতে পারেন।

[২] অর্থাৎ কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য তাদের সামনে হবে। বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তারা তা দেখতে থাকবে যেন তাদের চোখের মনি স্থির হয়ে গেছে, পলক পড়ছে না। ঠায় এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকবে। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা তা আরো ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে,

"অমোঘ প্রতিশ্রুত সময় আসন্ন হলে হঠাৎ কাফিরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে, তারা বলবে, ‘হায়, দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে উদাসীন; না, আমরা সীমালংঘনকারীই ছিলাম।” [সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৯৭]।