Al-Jathiyah
আল-জাসিয়া: 1
মূল আরবি
حمٓ
English Translations
Ḥā, Meem.
Ha-Mim. [These letters are one of the miracles of the Quran and none but Allah (Alone) knows their meanings].
Hā Mīm .
Ha'. Mim.
Ha. Mim.
Ha-Mim.
বাংলা অনুবাদ
হা-মীম।
হা-মীম।
হা মীম।
হা - মীম।
হা-মীম
১. হা-মীম, এ সব যুক্তাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাকারার শুরুতে করা হয়েছে।
তাফসীর
১-৫ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মাখলুককে হিদায়াত করছেন যে, তারা যেন মহা ক্ষমতাবান আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শনাবলীর উপর চিন্তা ও গবেষণা করে, তাঁর নিয়ামতরাজিকে জানে ও বুঝে, অতঃপর এগুলোর কারণে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তারা যেন এটা দেখে যে, আল্লাহ কত বড় ক্ষমতাবান! যিনি আসমান, যমীন এবং বিভিন্ন প্রকারের সমস্ত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন! ফেরেশতা, দানব, মানব, পশু-পাখী, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি সবকিছুরই স্রষ্টা তিনিই। সমুদ্রের অসংখ্য সৃষ্টজীবেরও সৃষ্টিকর্তা তিনিই। দিবসকে রজনীর পরে এবং রজনীকে দিবসের পিছনে আনয়ন তিনিই করছেন। রাত্রির অন্ধকার এবং দিনের ঔজ্জ্বল্য তাঁরই অধিকারভুক্ত জিনিস।
প্রয়োজনের সময় মেঘমালা হতে পরিমিত পরিমাণে বৃষ্টি তিনিই বর্ষণ করে থাকেন। রিযক দ্বারা বৃষ্টিকে বুঝানো হয়েছে। কেননা, এর দ্বারাই খাদ্য জাতীয় জিনিস উৎপন্ন হয়ে থাকে। শুষ্কভূমি সিক্ত হয় এবং তা হতে নানা প্রকারের শস্য উৎপাদিত হয়। দিবস ও রজনীতে উত্তরা হাওয়া ও দক্ষিণা হাওয়া এবং পুবালী হাওয়া ও পশ্চিমা হাওয়া এবং শুষ্ক ও সিক্ত হাওয়া তিনিই প্রবাহিত করেন। কোন কোন বায়ু মেঘ আনয়ন করে এবং কোন কোন বায়ু মেঘকে পানিপূর্ণ করে। কোন কোন বাতাস রূহের খোরাক হয় এবং এগুলো ছাড়া অন্যান্য কাজের জন্যেও প্রবাহিত হয়ে থাকে। আল্লাহ পাক প্রথমে বলেন যে, এতে নিদর্শন রয়েছে মুমিনদের জন্যে, এরপর বলেছেনঃ এতে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন এবং শেষে বলেছেনঃ এতে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে।
এটা একটা সম্মান বিশিষ্ট অবস্থা হতে অন্য একটা বেশী সম্মান বিশিষ্ট অবস্থার দিকে উন্নত করা। এ আয়াতটি সূরায়ে বাকারার নিম্নের আয়াতটির সাথে সাদৃশ্যযুক্তঃ (আরবী) অর্থাৎ “আকাশ মণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে, যা মানুষের হিত সাধন করে তা সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে, আল্লাহ আকাশ হতে যে বারি বর্ষণ দ্বারা ধরিত্রিকে ওর মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। তাতে এবং ওর মধ্যে যাবতীয় জীব-জন্তুর বিস্তারে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্যে নিদর্শন রয়েছে।"(২:১৬৪) ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) এখানে একটি দীর্ঘ আসার আনয়ন করেছেন, কিন্তু ওটা গারীব।
ওতে মানুষকে চার প্রকারের উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করার কথাও রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
হা - মীম।
[সূরা আল-জাথিয়া (৪৫): আয়াত ১ থেকে ২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আন-নাক্কাশ বলেছেন। আবার বলা হয়েছে: আপনি আপনার রবের পক্ষ থেকে বিজয়ের প্রতীক্ষা করুন, তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী আপনার পরাজয়ের প্রতীক্ষায় রয়েছে। আবার বলা হয়েছে: আল্লাহ আপনার ও তাদের মাঝে ফয়সালা করার প্রতীক্ষা করুন, কেননা তারা আপনার ব্যাপারে কালপরিক্রমার বিপদের প্রতীক্ষা করছে। আর অর্থগুলো কাছাকাছি। আরও বলা হয়েছে: আমি আপনাকে যে সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আপনি তার প্রতীক্ষা করুন, কেননা তারা তাদের দেয়া শাস্তির প্রতিশ্রুতির প্রতীক্ষাকারীদের ন্যায়। আবার বলা হয়েছে: কিয়ামত দিবসের প্রতীক্ষা করুন, কেননা তা চূড়ান্ত মীমাংসার দিন; যদিও তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে না, তথাপি তাদের পরিণাম সেখানেই বিধায় তাদের প্রতীক্ষাকারীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ। [সূরা আল-জাথিয়ার তাফসীর]হাসান, জাবির এবং ইকরিমার মতে সূরা আল-জাথিয়া সম্পূর্ণ মক্কী। ইবনে আব্বাস এবং কাতাদাহ বলেন: একটি আয়াত ব্যতীত, আর তা হলো: "মুমিনদের বলুন তারা যেন তাদের ক্ষমা করে যারা আল্লাহর দিনগুলোর আশা রাখে না" [আল-জাথিয়া: ১৪], যা মদীনায় উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সম্পর্কে নাযিল হয়েছে; আল-মাওয়ারদী এটি উল্লেখ করেছেন। আল-মাহদাভী ও আন-নাহহাস ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি উমর (রা.) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল; হিজরতের পূর্বে মক্কায় মুশরিকদের এক ব্যক্তি তাকে গালি দিয়েছিল, তখন তিনি তাকে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন, ফলে মহান আল্লাহ নাযিল করেন: "মুমিনদের বলুন তারা যেন তাদের ক্ষমা করে যারা আল্লাহর দিনগুলোর আশা রাখে না" [আল-জাথিয়া: ১৪]।
অতঃপর এটি তাঁর বাণী দ্বারা রহিত হয়ে যায়: "তবে মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা কর" [আত-তাওবাহ: ৫]। সুতরাং এই বর্ণনা মতে দ্বিমত ছাড়াই সম্পূর্ণ সূরাটি মক্কী। এটি সাঁয়ত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট। আবার বলা হয়েছে ছত্রিশ।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আল-জাথিয়া (৪৫): আয়াত ১ থেকে ২]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।হা-মীম (১) এই কিতাব পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (২)।মহান আল্লাহর বাণী: "হা-মীম" হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং "তানযীল" তার খবর (বিধেয়)। কেউ কেউ বলেছেন: "হা-মীম" সূরার নাম। আর "তানযীলুল কিতাব" মুবতাদা এবং "মিনাল্লাহ" তার খবর।
"আল-কিতাব" অর্থ কুরআন। "আল-আযীয" অর্থ অপরাজেয়। "আল-হাকীম" অর্থ তাঁর কর্মে প্রজ্ঞাময়। এর সবকিছুর ব্যাখ্যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। [সূরা আল-জাথিয়া (৪৫): আয়াত ৩ থেকে ৫]নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনে মুমিনদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে (৩) এবং তোমাদের সৃষ্টিতে এবং তিনি জীবজন্তু যা ছড়িয়ে দেন তাতে দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে (৪) আর দিন ও রাতের পরিবর্তনে এবং আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেছেন যা দ্বারা তিনি যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে বোধসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে (৫)।(১).
আয়াত ১৪।(২). সূরা আত-তাওবাহ-এর ৫ নং আয়াত।(৩). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড ২৮৭ পৃষ্ঠা এবং ২য় খণ্ড ১৩১ পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় মুদ্রণ।
