Al-Layl

আল-লাইল: 12

92:12
টেক্সট কপি
92 আল-লাইল Al-Layl · 21 আয়াত الليل
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21

মূল আরবি

إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ

English Translations

Sahih International

Indeed, [incumbent] upon Us is guidance.

Muhsin Khan

Truly! Ours it is (to give) guidance,

Taqi Usmani

Of course, it is undertaken by Us to guide,

Abul Ala Maududi

Surely it is for Us to show the Right Way,

Pickthall

Lo! Ours it is (to give) the guidance

Yusuf Ali

Verily We take upon Ourselves to guide,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সঠিক পথ দেখানো অবশ্যই আমারই কাজ

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় পথ প্রদর্শন করাই আমার দায়িত্ব।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমার কাজতো শুধু পথ নির্দেশ করা,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নিশ্চয় আমাদের কাজ শুধু পথনির্দেশ করা,

ফাতহুল মাজীদ

নিশ্চয়ই আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা।

মুখতাসার

১২. আমার দায়িত্ব হলো সুস্পষ্টভাবে সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করা।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১২-২১ নং আয়াতের তাফসীরকাতাদা (রঃ) বলেন যে,(আরবি) এর ভাবার্থ হলোঃ আমার কাজ তো শুধু হালাল হারাম প্রকাশ করে দেয়া। এটাও অর্থ হয় যে, যে ব্যক্তি হিদায়াতের পথে চলেছে নিশ্চয়ই তার আল্লাহর সঙ্গে মিলন ঘটবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তো পরলোকের ও ইহলোকের মালিক। আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।মুসনাদে আহমদে হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে ভাষণে বলতে শুনেনঃ “(হে জনমণ্ডলী!) আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নি সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করছি।” তিনি একথা এতো উচ্চস্বরে বলছিলেন যে, বাজার থেকেও লোক তাঁর কথা শুনতে পাচ্ছিল।

তিনি একথা বারবার বলছিলেন এমন কি তাঁর চাদর মুবারক তাঁর কাঁধ থেকে লুটিয়ে পায়ের কাছে গিয়ে পড়ে।হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন যে জাহান্নামী ব্যক্তি সবচেয়ে কম শাস্তি প্রাপ্ত হবে তার পদদ্বয়ের নিচে দু'টুকরো অগ্নি স্ফুলিঙ্গ রাখা হবে, ঐ আগুনের তাপে লোকটির মগজ ফুটতে থাকবে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)সহীহ মুসলিমে হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যেই জাহান্নামীকে সবচেয়ে হালকা শাস্তি দেয়া হবে তার পদদ্বয়ে আগুনের এক জোড়া ফিতাযুক্ত সেণ্ডেল পরিয়ে দেয়া হবে, সেই আগুনের তাপে তার মাথার মগজ উনুনের উপরের হাঁড়ির পানির মত টগবগ করে ফুটতে থাকবে।

যদিও তাকে সবচেয়ে কম শাস্তি দেয়া হবে তবুও সে মনে করবে যে, তার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কাউকেও দেয়া হচ্ছে না।" মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন, তাতে প্রবেশ করবে সেই নিতান্ত যে হতভাগা। অর্থাৎ এই জাহান্নামে শুধু ঐ লোকদেরকে পরিবেষ্টিত করে শাস্তি দেয়া হবে যারা অস্বীকার করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। যারা ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমল করে না।মুসনাদে আহমদে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ শুধু শকী বা বদকার লোক ছাড়া কেউ জাহান্নামে যাবে না।” জিজ্ঞেস করা হলোঃ “শকী বা বদকার লোক কে?" উত্তরে তিনি বললেনঃ যে আনুগত্যপরায়ণ নয় এবং আল্লাহর ভয়ে যে পাপ কাজ হতে বিরত থাকে।”মুসনাদে আহমদে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, শুধু তারা প্রবেশ করবে না যারা অস্বীকার করে।” জিজ্ঞেস করা হলোঃ “আল্লাহর রাসূল (সঃ)!

অস্বীকারকারী কারা? তিনি উত্তরে বললেনঃ “যারা আমার আনুগত্য করেছে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যারা আমার নাফরমানী করেছে তারাই অস্বীকারকারী।”এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আর জাহান্নাম হতে বহু দূরে রাখা হবে পরম ' মুত্তাকীকে। যে নিজেকে ও নিজের ধন সম্পদকে পবিত্র করার জন্যে, দ্বীন দুনিয়ার পবিত্রতা লাভের জন্যে নিজের ধন মালকে আল্লাহর পথে দান করে। আর সে কারো সাথে এই জন্যে সদ্ব্যবহার করে না যে, তার উপর তার অনুগ্রহ রয়েছে, বরং ঐ ক্ষেত্রেও সে পরকালে জান্নাত লাভের আশা পোষণ করে এবং সেখানে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার সন্তুষ্টি ও সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে।

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “অচিরেই এই ধরনের গুণাবলীর অধিকারী ব্যক্তি সন্তোষ লাভ করবে।” অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে এই আয়াত হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর শানে নাযিল হয়। এমনকি কোন কোন তাফসীরকার বলেন যে, এ ব্যাপারে সবারই মতৈক্য রয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এসবগুণ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রাঃ) অবশ্যই রয়েছেন। কিন্তু এখানে সাধারণভাবে সকল উম্মতের কথা বলা হয়েছে। তবে হযরত আবু বকর (রাঃ) সবারই প্রথমে রয়েছেন। কেননা, তিনি ছিলেন সিদ্দীক, পরহেযগার ও দানশীল। নিজের ধন মাল তিনি মহান প্রতিপালকের আনুগত্যে এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহায্যার্থে মন খুলে দান করতেন।

প্রত্যেকের সাথে তিনি সদ্ব্যবহার করতেন। এতে পার্থিব কোন লাভ বা উপকার আশা করতেন না। কোন বিনিময় তিনি চাইতেন না। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর আনুগত্য। ছোট হোক আর বড় হোক প্রত্যেকেরই উপর হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর অনুগ্রহের ছোঁয়া ছিল। শকীফ গোত্রপতি উরওয়া ইবনে মাসউদকে হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় হযরত আবু বকর (রাঃ) কিছু কড়া কথা শুনিয়ে ছিলেন। এবং ধমকিয়ে ছিলেন। তখন উরওয়া বলেছিলঃ “আমার উপর আপনার এমন কিছু অনুগ্রহ রয়েছে যার প্রতিদান দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যদি তা না হতো তবে আপনাকে অবশ্যই আমি জবাব দিতাম।” একজন বিশিষ্ট গোত্রপতির উপরও যখন হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর এমন অনুগ্রহ ছিল যে, তার সামনে তার মাথা উঁচু করে কথা বলার ক্ষমতা ছিল, তখন অন্যদের কথা আর কি বলা যাবে?

এজন্যেই বলা হয়েছে যে, কারো প্রতি অনুগ্রহের বিনিময়ে পার্থিব কোন উপকার বা প্রতিদান তিনি চাইতেন না। শুধু আল্লাহর দীদার লাভই ছিল তার কাম্য।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জোড়া দান করবে তাকে কিয়ামতের দিন জান্নাতের রক্ষক ডাক দিয়ে বলবেনঃ “হে আল্লাহর বান্দা! এ দিকে আসুন। এই দরজা সবচেয়ে উত্তম।” তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) কোন ব্যক্তিকে কি সকল দরজা থেকে আহ্বান করা হবে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “হ্যাঁ, আর আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, তুমিও হবে তাদের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নিশ্চয় আমাদের কাজ শুধু পথনির্দেশ করা [১] ,

[১] অর্থাৎ হেদায়াত ও প্রদর্শিত সরল পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব আল্লাহ্ তা‘আলার। এ আয়াতের আরেকটি অর্থ হতে পারে, আর তা হলো, হেদায়াতপূর্ণ সরল পথ আল্লাহ্ তা‘আলার সান্নিধ্যে পৌছে দেয়, যেমনিভাবে ভ্রষ্টপথ জাহান্নামে পৌছে দেয়। পবিত্র কুরআনে অন্যত্র আল্লাহ্ বলেছেন, “আর সোজা পথ (দেখাবার দায়িত্ব) আল্লাহ্রই ওপর বার্তায় যখন বাঁকা পথও রয়েছে।” [সূরা আন-নাহল: ৯] [তাবারী, সা‘দী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-লাইল (৯২): আয়াত ১১ থেকে ১৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

যে ব্যক্তি প্রদানের স্থলে কৃপণতা করে (সে কৃপণ)। সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রদানের মাধ্যমে সওয়াব ও প্রশংসা অর্জন করে, সে-ই দানশীল। আর যে ব্যক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিরত থাকার কারণে নিন্দা বা শাস্তির যোগ্য হয়, সে-ই কৃপণ। আর যে ব্যক্তি প্রদানের দ্বারা সওয়াব বা প্রশংসা কোনোটিই পায় না, বরং এর দ্বারা কেবল নিন্দা কুড়ায়, সে দানশীল নয়; বরং সে হলো একজন নিন্দিত শৈথিল্যকারী এবং সে ঐ সকল অপব্যয়ীদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ শয়তানের ভাই বানিয়েছেন এবং তাদের সম্পদের উপর অভিভাবকত্বের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে আবশ্যক করেছেন। আর যে ব্যক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিরত থাকার কারণে শাস্তি বা নিন্দার সম্মুখীন হয় না, বরং এর দ্বারা প্রশংসার যোগ্য হয়, সে ঐ সকল বিবেকবান ও সঠিক পথপ্রাপ্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত, যারা তাদের উত্তম ব্যবস্থাপনা ও সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে অন্যের সম্পদের দেখাশোনার দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

চতুর্থ মাসআলা: ইমাম আল-ফাররা বলেন—এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন: আল্লাহ তাআলা কেন বললেন ‘অচিরেই আমি তার জন্য কঠোরতাকে সহজ করে দেব’? কঠোরতার মধ্যে কি সহজ হওয়ার কিছু আছে? এর উত্তরে বলা হয়: এটি ভাষাগত ব্যবহারের দিক থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: ‘অতঃপর তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন’ [আলে ইমরান: ২১]। মূলত সুসংবাদ বা ‘বিশারা’ বলতে আনন্দদায়ক সংবাদকে বোঝায়, কিন্তু যখন কোনো বক্তব্যে কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ই বর্ণিত হয়, তখন উভয় ক্ষেত্রেই ‘বিশারা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অনুরূপভাবে সহজীকরণ বা ‘তয়সীর’ মূলত আনন্দদায়ক বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে যখন এক বক্তব্যে কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়টিই আসে, তখন উভয়ের জন্যই ‘সহজীকরণ’ শব্দটি প্রযুক্ত হয়।

ইমাম আল-ফাররা আরও বলেন: আল্লাহর বাণী ‘অচিরেই আমি তাকে সহজ করে দেব’ এর অর্থ হলো ‘আমি তাকে প্রস্তুত করে দেব’। আর আরবরা বলে থাকে: ‘মেষগুলো সহজ হয়েছে’, যখন তারা শাবক প্রসব করে অথবা প্রসবের জন্য প্রস্তুত হয়। কবি বলেছেন:তারা দুজন নিজেদের আমাদের নেতা মনে করে, অথচ তারা কেবল এজন্যই আমাদের ওপর নেতৃত্ব দিচ্ছে যে তাদের মেষগুলো বংশবৃদ্ধি করছে বা প্রসবযোগ্য হয়েছে। …  ‌‌[সূরা আল-লাইল (৯২): আয়াত ১১ থেকে ১৩]এবং তার ধন-সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না যখন সে ধ্বংস হবে। (১১) নিশ্চয়ই পথপ্রদর্শন করা আমারই কাজ। (১২) আর নিশ্চয়ই পরকাল ও ইহকাল আমারই মালিকানাধীন।

(১৩)আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তার ধন-সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না যখন সে ধ্বংস হবে) অর্থাৎ যখন সে মারা যাবে। বলা হয়ে থাকে: ব্যক্তিটি ধ্বংস হয়েছে, যখন সে বিনাশপ্রাপ্ত হয়। কবি বলেছেন:আমি ধ্বংসের ভয়ে তাদের থেকে আমার কামনা-বাসনাকে সরিয়ে নিয়েছি। আবু সালিহ এবং যায়েদ বিন আসলাম বলেন: ‘যখন সে ধ্বংস হবে’ এর অর্থ হলো যখন সে জাহান্নামে পতিত হবে। এ থেকেই ‘পতনজনিত মৃত্যু’ (আল-মুতারাদ্দিয়াহ) শব্দটি এসেছে। আর কূপে পড়ে যাওয়াকে বলা হয় ‘রাদিয়া ফিল বি’রি’ বা ‘তারাদ্দা’, অর্থাৎ যখন কেউ কূপে পড়ে যায় অথবা পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে। বলা হয়: ‘আমি জানি না সে কোথায় ধ্বংস হলো?’ অর্থাৎ সে কোথায় হারিয়ে গেল।

এখানে ‘মা’ শব্দটি না-বোধক হতে পারে, অর্থাৎ ‘তার ধন-সম্পদ তার কোনোই উপকারে আসবে না’। আবার এটি প্রশ্নবোধকও হতে পারে।(১). সূরা আলে ইমরানের ২১ নম্বর আয়াত। [ ..... ](২). এই কবিতাটি আবু সাইদা আদ-দুবাইরীর। এর পূর্ববর্তী চরণ হলো:নিশ্চয়ই আমাদের এমন দুজন বৃদ্ধ লোক আছে যারা আমাদের কোনো উপকার করে না; তারা ধনাঢ্য হওয়া সত্ত্বেও তাদের ধন-সম্পদ আমাদের কোনো কাজে লাগে না।