Al-'Alaq

আল-আলাক: 1

96:1
টেক্সট কপি
96 আল-আলাক Al-'Alaq · 19 আয়াত العلق
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19

মূল আরবি

ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ

English Translations

Sahih International

Recite in the name of your Lord who created –

Muhsin Khan

Read! In the Name of your Lord, Who has created (all that exists),

Taqi Usmani

Read with the name of your Lord who created (every thing),

Abul Ala Maududi

Recite in the name of your Lord Who created,

Pickthall

Read: In the name of thy Lord Who createth,

Yusuf Ali

Proclaim! (or read!) in the name of thy Lord and Cherisher, Who created-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন,

রাওয়াই আল-বায়ান

পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তুমি পাঠ কর তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন –

ফাতহুল মাজীদ

পাঠ কর তোমার‎ পালনকর্তার নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন

মুখতাসার

১. হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক আপনার প্রতি যা ওহী করেন আপনি তা পাঠ করুন সেই রবের নামে শুরু করার মাধ্যমে যিনি কুল মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

কুরআনের এই সূরাটিরই নিম্নের আয়াতগুলো সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়।১-৫ নং আয়াতের তাফসীরহযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রতি অহীর প্রথম সূচনা হয় ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা প্রভাতের প্রকাশের ন্যায় সঠিকরূপে প্রকাশ পেয়ে যেতো। তারপর তিনি হেরাগিরি গুহায় ধ্যান করতে শুরু করেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজার (রাঃ) নিকট থেকে খাদ্য পানীয় নিয়ে তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং কয়েকদিন সেখানে ইবাদত বন্দেগী করে কাটিয়ে দিতেন। তারপর বাসায় এসে খাদ্য পানীয় নিয়ে পুনরায় গমন করতেন।

একদিন হঠাৎ সেখানেই প্রথম অহী অবতীর্ণ হয়। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আপনি পড়ুন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “আমি তো পড়তে জানি না।” ফেরেশতা তখন তাঁকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তাতে তার কষ্ট হলো। তারপর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ “পাঠ করুন। এবারও তিনি বললেনঃ “আমি তো পড়তে জানি না।”ফেরেশতা পুনরায় তাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এবারও তিনি কষ্ট পেলেন। তারপর ফেরেশতা তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ “পড়ুন।” তিনি পূর্বেরই মত জবাব দিলেনঃ “আমি তো পড়তে জানি না। ফেরেশতা তাঁকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন এবং তিনি কষ্ট পেলেন।

তারপর তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন! “পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন-সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড হতে। পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।” রাসূলুল্লাহ (সঃ )কাঁপতে কাঁপতে হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এলেন এবং বললেনঃ “আমাকে চাদর দ্বারা আচ্ছাদিত কর।” তখন তাঁকে চাদর দ্বারা ঢেকে দেয়া হলো। কিছুক্ষণ পর তার ভয় কেটে গেলে তিনি হযরত খাদীজাকে (রাঃ) সব কথা খুলে বললেন এবং তাঁকে জানালেন যে, তিনি তাঁর জীবনের আশংকা করছেন। হযরত খাদীজা (রাঃ) তখন তাঁকে (সান্ত্বনার সুরে) বললেনঃ “আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আল্লাহর কসম!

আল্লাহ আপনাকে কখনো অপদস্থ করবেন না। আপনি আত্মীয় স্বজনের প্রতি আপনার কর্তব্য পালন করে থাকেন, সদা সত্য কথা বলেন, অপরের বোঝা বহন করেন, অতিথি সেবা করেন এবং সত্যের পথে অন্যদেরকে সাহায্য করেন। তারপর হযরত খাদীজা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই অরাকা ইবনে নওফিল ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই এর নিকট গেলেন। আইয়ামে জাহিলিয়্যাতের সময়ে তিনি খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবীতে কিতাব লিখতেন এবং আরবী ভাষায় ইঞ্জিলের অনুবাদ করতেন। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন এবং দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।

হযরত খাদীজা (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ “আপনার ভ্রাতুষ্পত্রের ঘটনা শুনুন।” অরাকা নবী করীম (সঃ) কে জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে ভাতিজা! আপনি কি দেখেছেন?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন। অরাকা ঘটনাটি শুনে বললেনঃ “ইনিই সেই রহস্যময় ফেরেশতা যিনি আল্লাহর প্রেরিত বার্তা নিয়ে হযরত মূসার (আঃ) কাছেও আসতেন। আপনার স্বজাতিরা যখন আপনাকে বের করে দিবে তখন যদি যুবক থাকতাম! হায়, তখন যদি আমি বেঁচে থাকতাম (তবে কতই না ভাল হতো!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর একথা শুনে বললেনঃ “তারা আমাকে বের করে দিবে?” অরাকা উত্তরে বললেনঃ “হ্যা তবে শুধু আপনাকেই নয়, বরং আপনার মত যারাই নবুওয়াত লাভে ধন্য হয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের সাথেই এরূপ শত্রুতা করা হয়েছিল।

ঠিক আছে, আমি যদি ঐ সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে আমি আপনাকে যথাসাধ্য সাহায্য করবো।" এই ঘটনার পর অরাকা অতি অল্পদিনই বেঁচে ছিলেন। আর এদিকে অহী আসাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই নবী করীম (সঃ) মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। কয়েকবার তিনি পর্বত চূড়া থেকে নিজেকে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যেক বারই হযরত জিবরাঈল (আঃ) এসে বলতেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! আপনি আল্লাহ তাআলার সত্য নবী।” এতে নবী করীম (সঃ) আশ্বস্ত হতেন এবং তার মানসিক অস্থিরতা অনেকটা কেটে যেতো। তিনি প্রশান্ত চিত্তে বাড়িতে ফিরতেন। (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও যুহরী (রঃ) হতে হাদীসটি বর্ণিত আছে)কুরআনে নাযিলকৃত আয়াতসমূহের মধ্যে এই আয়াতগুলোই সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। নিজের বান্দার উপর এটাই ছিল আল্লাহর প্রথম নিয়ামত এবং রহমানুর রাহীমের প্রথম রহমত। এখানে মানুষের সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বল আলামীন বলেন যে, তিনি মানুষকে জমাট রক্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।অর্থাৎ জমাট রক্তের মধ্যে নিজের অসীম রহমতে সুন্দর চেহারা দান করেছেন। তারপর নিজের বিশেষ রহমতে জ্ঞান দান করেছেন এবং বান্দা যা জানতো না তা শিক্ষা দিয়েছেন। জ্ঞানের কারণেই আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) সমস্ত ফেরেশতার মধ্যে বিশেষ সম্মান লাভে সমর্থ হয়েছিলেন।

জ্ঞান কখনো মনের মধ্যে থাকে, কখনো মুখের মধ্যে থাকে এবং কখনো কিতাবের মধ্যে লিখিতভাবে বিদ্যমান থাকে। কাজেই জ্ঞান যে তিন প্রকার তা প্রতীয়মান হয়েছে। অর্থাৎ মানসিক জ্ঞান, শাব্দিক জ্ঞান এবং রসমী জ্ঞান। মানসিক এবং শাব্দিক জ্ঞানের জন্য রসমী জ্ঞান প্রয়োজন। কিন্তু রসমী জ্ঞানের জন্যে এ দুটি জ্ঞান না হলেও চলে। এ কারণেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ) কে বলেন, তুমি পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।একটি আসারে রয়েছেঃ, “জ্ঞানকে লিখে নাও।

যে ব্যক্তি নিজের অর্জিত জ্ঞানের উপর আমল করে আল্লাহ তাআলা তাকেই সেই জ্ঞানেরও ওয়ারিস করেন যা তার জানা ছিল না।”

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন [১] –

সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ

নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে প্রমাণিত রয়েছে যে, সূরা আলাক থেকেই ওহীর সূচনা হয় এবং এ সূরার প্রথম পাঁচটি আয়াত مَالَمْ يَعْلَمْ পর্যন্ত সর্ব প্রথম নাযিল হয়। [দেখুন, বুখারী: ৬৯৮২, মুসলিম: ১৬০] অধিকাংশ আলেম এ বিষয়ে একমত। কেউ কেউ সূরা আল-মুদ্দাসসিরকে প্রথম সূরা এবং কেউ সূরা ফাতেহাকে সর্বপ্রথম সূরা বলে অভিহিত করেছেন। তবে প্রথমোক্ত মতটিই বিশুদ্ধ। [আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন: ১/৯৩]

--------------------------

[১] শুধু বলা হয়েছে, “সৃষ্টি করেছেন।” কাকে সৃষ্টি করেছেন তা বলা হয়নি। এ থেকে আপনা আপনিই এ অর্থ বের হয়ে আসে, সেই রবের নাম নিয়ে পড় যিনি স্রষ্টা সমগ্র বিশ্ব-জাহানের, সমগ্র সৃষ্টিজগতের। [আদ্ওয়াউল বায়ান]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আলাক (৯৬): আয়াত ১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আত-তীন (৯৫): আয়াত ৮]আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন? (৮)অর্থাৎ তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বিষয়ে বিচারকদের মধ্যে শিল্পনৈপুণ্যে সর্বাধিক নিখুঁত। বলা হয়েছে: তিনি সত্যের মাধ্যমে ফয়সালা প্রদানে এবং সৃষ্টির মাঝে ন্যায়বিচারে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। এতে কাফেরদের মধ্যে যারা চিরন্তন স্রষ্টাকে স্বীকার করত, তাদের প্রতি স্বীকৃতি বা সমর্থন রয়েছে। আর প্রশ্নবোধক হামজা যখন না-বোধক শব্দের ওপর প্রবেশ করে এবং বাক্যে স্থিরীকরণের (তাওকীফ) অর্থ থাকে, তখন তা হাঁ-বোধক বা দৃঢ় নিশ্চয়তায় পরিণত হয়, যেমন কবি বলেছেন:তোমরা কি আরোহীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নও?

«১» বলা হয়েছে যে: "অতঃপর কিসে তোমাকে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে মিথ্যারোপ করতে প্ররোচিত করে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?" - এই আয়াতটি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত। আবার বলা হয়েছে: এটি বলবৎ আছে, কারণ এ দুটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। ইবনে আব্বাস এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন "আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?" তিলাওয়াত করতেন, তখন বলতেন: "হ্যাঁ, এবং আমি এর ওপর সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত।" তাই এটি পাঠ করা পছন্দনীয়। আল্লাহই ভালো জানেন। ইমাম তিরমিযী আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি সূরা ওয়াত্তীন ওয়াযযাইতুন তিলাওয়াত করবেএবং "আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?" পর্যন্ত পৌঁছাবে, সে যেন বলে: "হ্যাঁ, এবং আমি এর ওপর সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত।" আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

[সূরা আল-আলাকের তাফসীর]সূরা "আল-আলাক"; এটি সর্বসম্মতিক্রমে মক্কী সূরা এবং আবু মুসা ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মতে এটিই কুরআনের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত অংশ। এটি উনিশটি আয়াত বিশিষ্ট।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আল-আলাক (৯৬): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। (১)অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই সূরাটি কুরআনের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত অংশ। জিবরাঈল (আ.) এটি নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে অবতীর্ণ হন যখন তিনি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে এই সূরার প্রথম পাঁচটি আয়াত শিক্ষা দেন।

বলা হয়েছে যে: সর্বপ্রথম নাযিলকৃত অংশ হলো "হে চাদর আবৃতকারী!" [আল-মুদ্দাসসির: ১]; এটি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বলেছেন এবং এটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে «২»। আবার বলা হয়েছে: সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে "ফাতিহাতুল কিতাব" (সূরা ফাতিহা); এটি আবু মাইসারা আল-হামদানী বলেছেন। আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: কুরআন থেকে সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছে(১). জারীরের একটি কাসিদা থেকে যা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রশংসায় রচিত। এর পূর্ণ রূপ হলো:এবং জগতবাসীর মধ্যে দানশীলতায় যাদের হাতের তালু সবচেয়ে আর্দ্র (উদার)। [ ..... ](২). প্রথম সংস্করণের ১৯তম খণ্ডের ৫৮ পৃষ্ঠা এবং দ্বিতীয় সংস্করণের ১৯তম খণ্ডের ৫৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১২)সূরা ইউসুফএটি মক্কী সূরা এবং এর আয়াত সংখ্যা একশত এগারোসূরা ইউসুফের ভূমিকা: আন-নাহহাস, আবুশ শায়খ এবং ইবনে মারদাওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সূরা ইউসুফ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।ইবনে মারদাওয়াইহ ইবনে যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সূরা ইউসুফ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।ইমাম হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন রিফাআ বিন রাফে আস-যুরাকী থেকে যে, তিনি এবং তাঁর খালাতো ভাই মুআয বিন আফরা মক্কায় আসলেন। এটি আনসারদের সেই ছয় ব্যক্তির (আগমনের) পূর্বের ঘটনা।

তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তিনি (রিফাআ) বলেন: আমি বললাম, ‘আমার কাছে (আপনার বাণী) পেশ করুন।’ তখন তিনি তাঁর কাছে ইসলাম পেশ করলেন এবং বললেন: ‘আসমানসমূহ, যমীন এবং পাহাড়সমূহ কে সৃষ্টি করেছেন?’ আমরা বললাম: ‘আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ‘তোমাদের কে সৃষ্টি করেছেন?’ আমরা বললাম: ‘আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে এই মূর্তিগুলো কে বানিয়েছে যাদের তোমরা ইবাদত করো?’ আমরা বললাম: ‘আমরাই বানিয়েছি।’তিনি বললেন: ‘সৃষ্টিকর্তা কি ইবাদতের বেশি হকদার নাকি যা সৃষ্টি করা হয়েছে তা? বরং তোমরাই ইবাদত পাওয়ার বেশি যোগ্য যেহেতু তোমরাই তাদের বানিয়েছ।

আর তোমরা যা কিছু তৈরি করেছ তার চেয়ে আল্লাহই ইবাদতের বেশি হকদার। আমি তোমাদের আল্লাহর ইবাদতের দিকে এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই ও আমি আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদানের দিকে, আর আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, অন্যায়-অবিচার বর্জন এবং মানুষের প্রতি বিদ্বেষ ত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।’আমরা বললাম: ‘আপনি যার দিকে আমাদের আহ্বান জানাচ্ছেন তা যদি মিথ্যাও হতো, তবুও তা হতো উচ্চমর্যাদার বিষয় ও সর্বোত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।’‘আমাদের সওয়ারি দুটি ধরে রাখুন যতক্ষণ না আমরা বাইতুল্লাহ (কাবাগৃহ) ঘুরে আসি।’ তখন মুআয বিন আফরা তাঁর কাছে বসে রইলেন।

তিনি (রিফাআ) বলেন: ‘আমি তওয়াফ করলাম এবং সাতটি তীরের ফলা বের করলাম। তাঁর (নবীজীর) জন্য একটি ফলাফল নির্দিষ্ট করলাম। এরপর বাইতুল্লাহর দিকে মুখ করে সেগুলো নিক্ষেপ করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ যার দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন তা যদি সত্য হয়, তবে তাঁর নির্ধারিত ফলাটি যেন সাতবারই বের হয়।’ তিনি বলেন: ‘আমি নিক্ষেপ করলাম এবং সেটি সাতবারই বের হলো। তখন আমি চিৎকার করে বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তখন লোকজন আমার চারপাশে জড়ো হলো এবং বলতে লাগল: এ তো পাগল, এক ধর্মত্যাগী লোক।’আমি বললাম: ‘বরং একজন মুমিন ব্যক্তি।’ এরপর আমি মক্কার উপরিভাগে আসলাম।

মুআয যখন আমাকে দেখলেন, বললেন: ‘রাফে এমন এক চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছে যা নিয়ে সে যায়নি (অর্থাৎ নূরানী চেহারা)।’তারপর আমি আসলাম এবং ঈমান আনলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সূরা ইউসুফ এবং ‘ইকরা বিসমী রাব্বিকা’ (সূরা আলাক, আয়াত ১) শিক্ষা দিলেন। এরপর আমরা মদীনায় ফিরে গেলাম।