Nuh

নূহ: 12

71:12
টেক্সট কপি
71 নূহ Nuh · 28 আয়াত نوح

মূল আরবি

وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَٰلٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّـٰتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَـٰرًا

English Translations

Sahih International

And give you increase in wealth and children and provide for you gardens and provide for you rivers.

Muhsin Khan

'And give you increase in wealth and children, and bestow on you gardens and bestow on you rivers."

Taqi Usmani

and will help you with riches and sons, and will cause gardens to grow for you, and cause rivers to flow for you.

Abul Ala Maududi

and will provide you with wealth and children, and will bestow upon you gardens and rivers.

Pickthall

And will help you with wealth and sons, and will assign unto you Gardens and will assign unto you rivers.

Yusuf Ali

"'Give you increase in wealth and sons; and bestow on you gardens and bestow on you rivers (of flowing water).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এবং তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’

ফাতহুল মাজীদ

তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য বাগানসমূহ সৃষ্টি করবেন ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।

মুখতাসার

১২. আর তোমাদেরকে অধিক ধন-সম্পদ ও সন্তান দান করবেন। আরো তোমাদেরকে দান করবেন বাগানসমূহ; যা থেকে তোমরা ফল ভক্ষণ করবে এবং তোমাদেরকে নদী-নালাও দান করবেন যা থেকে তোমরা পানি পান করবে। উপরন্তু তোমাদের শস্যাদি ও পশুকে পানি পান করাবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

71:5

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘এবং তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা [১]।

[১] একথাটি পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্-দ্রোহিতার আচরণ মানুষের জীবনকে শুধু আখেরাতেই নয় দুনিয়াতেও সংকীর্ণ করে দেয়। অপর পক্ষে কোন জাতি যদি অবাধ্যতার বদলে ঈমান, তাকওয়া এবং আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধ মেনে চলার পথ অনুসরণ করে তাহলে তা শুধু আখেরাতের জন্যই কল্যাণ কর হয় না, দুনিয়াতেও তার ওপর আল্লাহ্র অশেষ নিয়ামত বৰ্ষিত হতে থাকে। অন্যত্র বলা হয়েছে, “আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার দুনিয়ার জীবন হবে সংকীর্ণ। আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাবো।” [সূরা ত্বা-হা ১২৪] আরও বলা হয়েছে, “আহলে কিতাব যদি তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত ‘তাওরাত’, ‘ইঞ্জীল’ ও অন্যান্য আসমানী কিতাবের বিধানাবলী মেনে চলতো তাহলে তাদের জন্য ওপর থেকেও রিযিক বর্ষিত হতো এবং নীচ থেকেও ফুটে বের হতো।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ৬৬]।

আরও বলা হয়েছেঃ “জনপদসমূহের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়ার নীতি অনুসরণ করতো তাহলে আমি তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতের দরজাসমূহ খুলে দিতাম। [সূরা আল-আ‘রাফ : ৯৬] অনুরূপভাবে হূদ আলাইহিস সালাম তার কওমের লোকদের বললেন, “হে আমার কওমের লোকেরা, তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তার দিকে ফিরে যাও। তিনি তোমাদের ওপর আসমান থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি ও ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দেবেন।” [সূরা হূদ: ৫২] খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে মক্কার লোকদের সম্বোধন করে সেখানে আরও বলা হয়েছে “আর তোমরা যদি তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আস তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন।” [সূরা হূদ: ৩] এ থেকে আলেমগণ বলেন যে, গোনাহ্ থেকে তাওবাহ ও ইস্তেগফার করলে আল্লাহ্ তা‘আলা যথাস্থানে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, দুর্ভিক্ষ হতে দেন না।

এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত হয়। বিভিন্ন হাদীস থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। সালফে সালেহীনও বৃষ্টির জন্য সালাতের সময় এ পদ্ধতির প্রতি জোর দিতেন। কুরআন মজীদের এ নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতে গিয়ে একবার দুর্ভিক্ষের সময় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃষ্টির জন্য দো‘আ করতে বের হলেন এবং শুধু ইসতিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করেই শেষ করলেন। সবাই বললো, “হে আমীরুল মু‘মিনীন! আপনিতো আদৌ দো‘আ করলেন না। তিনি বললেন, আমি আসমানের ঐসব দরজায় করাঘাত করেছি যেখানে থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়। একথা বলেই তিনি সূরা নূহের এ আয়াতগুলো তাদের পাঠ করে শুনালেন।

অনুরূপ একবার এক ব্যক্তি হাসান বাসরীর মজলিসে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করলে তিনি বললেন, আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। অপর এক ব্যক্তি দারিদ্রের অভিযোগ করলো। তৃতীয় এক ব্যক্তি বললো, আমার কোন ছেলে মেয়ে নেই। চতুর্থ এক ব্যক্তি বললো, আমার ফসলের মাঠে ফলন খুব কম হচ্ছে। তিনি সবাইকে একই জবাব দিলেন। অর্থাৎ আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। লোকেরা বললো, কি ব্যাপার যে, আপনি প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের একই প্রতিকার বলে দিচ্ছেন ? তখন তিনি সূরা নূহের এ আয়াতগুলো পাঠ করে শুনালেন। [দেখুন, ইবন কাসীর; কুরতুবী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা নূহ (৭১): আয়াত ১০ হতে ১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তাদেরকে উচ্চস্বরে আহ্বান করেছি) অর্থাৎ তাদের নিকট প্রকাশ্যভাবে দাওয়াত পেশ করেছি। এটি 'দা'আওতুহুম' ক্রিয়া দ্বারা 'নাসব' (দ্বিতীয়া বিভক্তি) হয়েছে 'মাসদার' বা ক্রিয়ামূল হিসেবে; কারণ আহ্বানের দুটি প্রকারের একটি হলো উচ্চস্বরে ডাকা। এটি ঠিক 'কাআদা আল-কুরফুসা' (সে উবু হয়ে বসল) বাক্যে 'আল-কুরফুসা' শব্দের নাসব হওয়ার মতো, কারণ এটি বসার একটি বিশেষ ধরণ। অথবা এর অর্থ হলো—'আমি তাদেরকে আহ্বান করার মাধ্যমে তাদের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলেছি'। এটি 'দা'আ' ক্রিয়ার মাসদারের বিশেষণ হওয়াও সম্ভব, অর্থাৎ 'উচ্চকণ্ঠের আহ্বান'।

আবার এটি 'হাল' বা অবস্থা নির্দেশক হিসেবে মাসদার হতে পারে, অর্থাৎ 'আমি তাদেরকে আহ্বানের ক্ষেত্রে উচ্চকণ্ঠ হওয়া অবস্থায় ডেকেছি'। (অতঃপর আমি তাদের নিকট প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছি এবং অত্যন্ত গোপনেও বলেছি) অর্থাৎ আমি কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। মুজাহিদ বলেন: 'আমি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছি' এর অর্থ হলো—আমি উচ্চৈঃস্বরে বলেছি; আর 'আমি অত্যন্ত গোপনে বলেছি' এর অর্থ হলো—দাওয়াত প্রদানের সময় আমি তাদের একজনের থেকে অন্যজনের বিষয়টি গোপন রেখেছি। আবার বলা হয়েছে: 'আমি তাদের নিকট গোপনে বলেছি' এর অর্থ হলো—আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ঘরে ঘরে গিয়েছি।

নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে এই সবকিছুই ছিল তাদের জন্য দাওয়াতের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা এবং আহ্বানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নম্রতা ও কৌশল অবলম্বন। 'ইন্নী আ'লানতু' বাক্যে 'ইয়া' বর্ণটিকে ফাতহাহ (যবর) দিয়ে পাঠ করেছেন মক্কা ও মদীনার কারীগণ এবং আবু আমর। আর অবশিষ্ট কারীগণ একে সাকিন (স্থির) পড়েছেন। ‌‌[সূরা নূহ (৭১): আয়াত ১০ হতে ১২]অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। (১০) তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন। (১১) এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যানসমূহ স্থাপন করবেন ও প্রবাহিত করবেন নহরসমূহ।

(১২)এতে তিনটি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে। প্রথমটি—মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো) অর্থাৎ তোমরা ঈমানের একনিষ্ঠতার সাথে তোমাদের অতীত গুনাহসমূহ থেকে তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করো। (নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল) এটি তাঁর পক্ষ থেকে তওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান। হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (ক্ষমা প্রার্থনা গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়)। ফুদায়েল বলেন: বান্দা যখন বলে 'আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই', তখন এর ব্যাখ্যা হলো—'হে আল্লাহ!

আমার পদস্খলন ক্ষমা করুন'। দ্বিতীয় মাসআলা—মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি তোমাদের ওপর আকাশকে প্রচুর বৃষ্টিবর্ষণকারী হিসেবে পাঠাবেন) অর্থাৎ তিনি আকাশের পানি বর্ষণ করবেন, এখানে একটি শব্দ ঊহ্য রয়েছে। আবার বলা হয়েছে: 'আস-সামা' অর্থ বৃষ্টি, অর্থাৎ তিনি প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। কবি বলেন:যখন কোনো কওমের ভূমিতে আকাশ (বৃষ্টি) পতিত হয় … তখন আমরা সেখানে পশু চরাই, যদিও তারা রাগান্বিত হয়।(১) তিনি হলেন মুআউওয়িদ আল-হুকামা, মুয়াবিয়া বিন মালিক।