Al-A'la
আল-আলা: 1
মূল আরবি
سَبِّحِ ٱسْمَ رَبِّكَ ٱلْأَعْلَى
English Translations
Exalt the name of your Lord, the Most High,
Glorify the Name of your Lord, the Most High,
Pronounce the purity of the name of your most exalted Lord,
Glorify the name of your Lord, the Most High,
Praise the name of thy Lord the Most High,
Glorify the name of thy Guardian-Lord Most High,
বাংলা অনুবাদ
তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
তুমি তোমার সুমহান রবের নামের তাসবীহ পাঠ কর,
তুমি তোমার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
আপনি আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন,
তুমি তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর,
১. আপনি সে প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করুন যখন আপনি তাঁর নাম নিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন ও সম্মান প্রদর্শন করেন। যিনি তাঁর সৃষ্টির উপর সমুন্নত রয়েছেন।
তাফসীর
এ সূরাটি যে মক্কী সূরা তার প্রমাণ এই যে, হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “নবী করীম (সঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে যারা সর্ব প্রথম আমাদের নিকট (মদীনায়) আসেন তারা হলেন হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের (রাঃ) এবং হযরত ইবনে উম্মি মাকতুম (রাঃ)। তাঁরা আমাদেরকে কুরআন পড়াতে শুরু করেন। অতঃপর হযরত বিলাল (রাঃ), হযরত আম্মার (রাঃ) এবং হযরত সা'দ (রাঃ) আগমন করেন। তারপর হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বিশজন সাহাবী সমভিব্যাহারে আমাদের কছে আসেন। তারপর নবী করীম (সঃ) আসেন। আমি মদিনাবাসীকে অন্য কোন ব্যাপারে এতো বেশী খুশী হতে দেখিনি যতোটা খুশী তারা নবী (সঃ) এবং তাঁর সহচরদের আগমনে হয়েছিলেন।
ছোট ছোট শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকরা পর্যন্ত আনন্দে কোলাহল শুরু করে যে, ইনি হলেন আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) রাসুলুল্লাহ্ (সঃ)-এর আগমনের পূর্বেই আমি(আরবি) সূরাটি, এ ধরনের অন্যান্য সূরাগুলোর সাথে মুখস্থ করে ফেলেছিলাম।”মুসনাদে আহমদে হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) (আরবি) এই সূরাটিকে খুবই ভালবাসতেন। সহীহ্ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) হযরত মুআয (রাঃ)-কে বলেনঃ “কেন তুমি নামাযে(আরবি) এই সূরাগুলো পড় না?” মুসনাদে আহমদে আরও বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সঃ) উভয় ঈদের নামাযে , (আরবি) এবং এ সূরা দুটি পাঠ করতেন।
যদি ঘটনাক্রমে একই দিনে জুমআ ও ঈদের নামায পড়ে যেতো তবে তিনি উভয় নামাযেই এই সূরা দুটি পড়তেন। (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিম, সুনানে আবী দাউদ, জামে তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী এবং সুনানে ইবনে মাজাহতেও বর্ণিত হয়েছে)মুসনাদে আহমদে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বেতরের নামাযে (আরবি) এবং (আরবি) এই সূরাগুলো পাঠ করতেন। অন্য একটি বর্ণনায় আরো বাড়িয়ে বলা হয়েছে যে, (আরবি) এবং(আরবি) এই সূরা দু’টিও পড়তেন। (এই হাদীসটিও নানাভাবে বহুসংখ্যক সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তবে, এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী)১-১৩ নং আয়াতের তাফসীরমুসনাদে আহমদে হযরত উকবা ইবনে আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবি) অবতীর্ণ হয় তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) সাহাবীদেরকে বলেনঃ “এটাকে তোমরা রুকুর মধ্যে গ্রহণ করে নাও।” তারপর যখন (আরবি) অবতীর্ণ হলো তখন তিনি বললেনঃ “এটাকে তোমরা তোমাদের সিজদাহ্নর মধ্যে গ্রহণ কর।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) ও ইমাম ইবনে মাজা (রঃ) ও বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যখন (আরবি) পাঠ করতেন তখন তিনি (আরবি)বলতেন।
[এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম আবু দাউদ (রঃ)]হযরত আলী (রাঃ) হতেও এটা বর্ণিত আছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) (আরবি) পাঠ করে বলতেন এবং যখন তিনি (আরবি)এ সূরাটি পাঠ করতেন এবং শেষে, (আরবি) পড়তেন তখন বলতেন। (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আল্লাহ্ তা'আলা এখানে বলেনঃ তুমি তোমার সুমহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যিনি সমস্ত মাখলুককে সৃষ্টি করেছেন এবং সকলকে সুন্দর ও উন্নত আকৃতি দান করেছেন। যিনি মানুষকে সৌভাগ্যের বলতেন পনির্দেৰেছেন। যিনি পশুদের চারণভূমিতে তৃণ ও সবুজ ঘাসের ব্যবস্থা ফোন আল্লাহ্ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “(হযরত মুসা বললেন) আমাদের প্রতিপালক তিনি যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথ নির্দেশ করেছেন।” (২০ ৫০) যেমন সহীহ মুসলিমে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আসমান ও জমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সৃষ্ট জীবের ভাগ্যলিপি নির্ধারণ করেছেন।
সেই সময় তার আরশ ছিল পানির উপর।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেন, পরে ওকে ধূসর আবর্জনায় পরিণত করেন। আরবের কোন কোন ভাষা-বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, এখানে (আরবি) শব্দটিকে যদিও শেষে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে এটাকে প্রথমে ধরে নিতে হবে। অর্থাৎ যিনি ঘাস, তৃণ, শস্য, গাঢ় সবুজ রঙের করে সৃষ্টি করেছেন, তারপর ওকে বিশুদ্ধ করেছেন। এরপর আল্লাহ্ পাক স্বীয় নবী (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ) তোমাকে আমি নিশ্চয়ই পাঠ করাবো, ফলে তুমি বিস্মৃত হবে না। তবে হ্যা যদি স্বয়ং আল্লাহ্ কোন আয়াত ভুলিয়ে দিতে চান তবে সেটা স্বতন্ত্র কথা।
ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এ অর্থই পছন্দ করেন এবং তাতে এ আয়াতের অর্থ হবেঃ যে কুরআন আমি তোমাকে পড়াচ্ছি তা ভুলে যেয়ো না। তবে হ্যা, আমি যে অংশ মানসুখ করে দেই সেটা ভিন্ন কথা। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ আল্লাহর কাছে তাঁর বান্দাদের প্রকাশ্য ও গোপনীয় সমস্ত আমল বা কাজ এবং আকীদা বা বিশ্বাস সবই সুস্পষ্ট। হে নবী (সঃ)! আমি তোমার উপর ভাল কাজ, ভাল কথা, শরীয়তের হুকুম-আহকাম সহজ করে দিবো। এতে কোন প্রকার সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য থাকবে না। থাকবে না কোন প্রকার বক্রতা। তুমি এমন জায়গায় উপদেশ দাও যেখানে উপদেশ হয় ফলপ্রসূ। এতে বুঝা যায় যে, অযোগ্য নালায়েকদেরকে শিক্ষাদান করা উচিত নয়।
যেমন আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ “যদি তোমরা কারো সাথে এমন কথা বল যা তার জন্যে বোধগম্য নয়, তবে তোমাদের কল্যাণকর কথা তার জন্যে অকল্যাণ বয়ে আনবে। তাতে ফিত্না-ফাসা ব। বরং মানুষের সাথে তোমরা তাদের বোধগম্য বিষয়ে কথা বলো, যাতে মানুষ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে না পারে।” এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ এই কুরআন থেকে তারাই নসীহত বা উপদেশ লাভ করবে যাদের অন্তরে আল্লাহ্ ভীতি রয়েছে এবং যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ভয় মনে পোষণ করে। পক্ষান্তরে, যারা হতভাগ্য তারা এ কুরআন থেকে কোন শিক্ষা বা উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে না।
তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। যেখানে কোনরূপ আরাম-আয়েশ ও শান্তি-সুখ নেই, বরং আছে চিরস্থায়ী আযাব ও নানা প্রকার যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।যারা আসল জাহান্নামী তারা না মৃত্যুবরণ করবে, না শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পাবে। তবে যাদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা দয়া করার ইচ্ছা রাখেন তারা জাহান্নামের আগুনে পতিত হবার সাথে সাথেই পুড়ে মারা যাবে। তারপর সুপারিশকারী লোকেরা গিয়ে তাদের জন্যে সুপারিশ করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম হতে বের করে এনে জীবনদানকারী ঝর্ণায় ফেলে দিবেন। তাদের উপর জান্নাতের ঐ ঝর্ণাধারা পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তারা সজীব হয়ে উঠবে যেমনভাবে বন্যায় নিক্ষেপিত বস্তুর (আবর্জনা স্কুপের) মাঝে বীজ গজিয়ে ওঠে।” তারপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “তোমরা দেখো না যে, ঐ উদ্ভিদ প্রথমে সবুজ হয়, তারপর হলদে হয় এবং শেষে পূর্ণ সজীবতা লাভ করে থাকে?” তখন সাহাবীদের কোন একজন বললেনঃ “নবীপাক (সঃ), কথাগুলো এমনভাবে বললেন যে, যেন তিনি জঙ্গলেই ছিলেন।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদে হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে।
তাছাড়া এটা বিভিন্ন শব্দে আরো বহু হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে)আল্লাহ্ তা'আলা জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে কুরআন কারীমে বলেছেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “জাহান্নামীরা চীৎকার করে বলবেঃ হে (জাহান্নামের দারোগা) মালিক! আপনার প্রতিপালককে বলুন যে, তিনি যেন আমাদের মৃত্যু ঘটিয়ে দেন। তখন জবাবে তাদেরকে বলা হবেঃ তোমাদেরকে এখানেই পড়ে থাকতে হবে।” (৪৩:৭৭) আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)তাদের মৃত্যুও ঘটানো হবে না এবং তাদের আযাবও হালকা করা করেন। (০৫:৬)এই অর্থ সম্বলিত আরো আয়াত রয়েছে।
আপনি আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন [১] ,
সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ
এ সূরা মক্কায় নাযিল হওয়া প্রাচীন সূরাসমূহের অন্যতম। বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মধ্যে সর্বপ্রথম মুস‘আব ইবনে উমায়ের এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে উম্মে মাকতুমই মদীনায় হিজরত করে আসেন। তারা দু‘জনই আমাদেরকে কুরআন পড়ে শোনাতেন। তারপর আম্মার, বিলাল ও সা‘দ আসলেন। তারপর উমর ইবনুল খাত্তাব আসলেন বিশজনকে সাথে নিয়ে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন, মদীনাবাসীগণ তার আগমনে যে রকম খুশী হয়েছিলেন তেমন আর কারও আগমনে খুশী হননি। এমনকি আমি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে একথা বলতে শুনেছি যে, এই হলো আল্লাহ্র রাসূল।
তিনি আমাদের মাঝে তাশরীফ রেখেছেন। তিনি আসার আগেই আমি ‘সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ‘লা’ এবং এ ধরনের আরও কিছু সূরা পড়ে নিয়েছিলাম।” [বুখারী: ৪৯৪১, ৩৯২৪, ৩৯২৫, ৪৯৯৫] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন, “তুমি কেন ‘সাব্বিহিস্মা রাব্বিকাল আ‘লা, ওয়াস শামছি ওয়া দুহাহা, ওয়াল্লাইলে ইযা ইয়াগসা” এ সূরাগুলো দিয়ে সালাত পড়ালে না?” [বুখারী: ৭০৫, মুসলিম: ৪৬৫] অন্য হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের সালাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশীয়াহ’ পড়তেন।
আর যদি জুম‘আর দিনে ঈদ হতো তবে তিনি দুটাতেই এ সূরা দুটি দিয়ে সালাত পড়াতেন।” [মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৭৭] কোন কোন হাদীসে এসেছে যে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুম‘আ ও দুই ঈদের সালাতে “সাব্বিবহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশীয়াহ’ দিয়ে সালাত পড়াতেন। এমনকি কখনো যদি জুম‘আ ও ঈদের সালাতও একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়ে যেত তখন তিনি উভয় সালাতে এ দু’ সূরাই পড়তেন। [মুসলিম: ৮৭৮, আবুদাউদ: ১১২২, তিরমিয়ী: ৫৩৩, নাসায়ী: ১৪২৪, ১৫৬৮, ১৫৯০, ইবনে মাজহ: ১২৮১] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের সালাতে “সাব্বিবহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা, কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন এবং কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, পড়তেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি এর সাথে ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’ও পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪০৬, ৫/১২৩, আবুদাউদ: ১৪২৪, মুস্তাদরাকে হাকিম: ১/৩০৫] ইবনে আব্বাসরা দিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই এ আয়াত পড়তেন তখন বলতেন, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা’। [আবু দাউদ: ৮৮৩, মুসনাদে আহমাদ: ১/২৩২, মুস্তাদরাকে হাকিম:১/২৬৩]
--------------------
[১] আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দাদেরকে তাঁর তাসবীহ বা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করার নির্দেশ দিচ্ছেন। যে পবিত্ৰতা ঘোষণার মাধ্যমে আল্লাহ্র যিকির, ইবাদাত, তাঁর মাহাত্নের জন্য বিনয়, দৈন্যদশা ও হীনাবস্থা প্ৰকাশ পায়। আর তাঁর তাসবীহ যেন তাঁর সত্তার মাহাত্ম উপযোগী হয়। যেন তাঁকে তাঁর সুন্দর সুন্দর নামসমূহ দিয়েই সেগুলোর মহান অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখেই কেবল আহ্বান করা হয়। [সা‘দী]
[সূরা আল-আ'লা (৮৭): আয়াত ১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আ'লার তাফসীর]অধিকাংশ আলিমের মতে সূরা "আল-আ'লা" মক্কী। আর আদ-দাহহাক বলেছেন: এটি মাদানী। এটি উনিশটি আয়াত বিশিষ্ট।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আল-আ'লা (৮৭): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন (১)পাঠকের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে 'আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন' পাঠ করবে, তখন এর অব্যবহিত পরেই বলবে: 'আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি'। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেছেন এবং সাহাবী ও তাবিঈদের একদলও এটি বলেছেন, যা সামনে আসছে।
জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহর হিজকিল নামক এক ফেরেশতা আছেন, যাঁর আঠারো হাজার ডানা রয়েছে; এক ডানা থেকে অন্য ডানার দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। তাঁর মনে একটি খটকা দেখা দিল: তিনি কি আরশ সম্পূর্ণ দেখতে সক্ষম? তখন আল্লাহ তাঁর ডানার সংখ্যা অনুরূপ বাড়িয়ে দিলেন, ফলে তাঁর ছত্রিশ হাজার ডানা হয়ে গেল এবং এক ডানা থেকে অন্য ডানার দূরত্ব ছিল পাঁচশ বছরের পথ। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ওহী পাঠালেন: হে ফেরেশতা, ওড়ো। তিনি বিশ হাজার বছর পরিমাণ সময় উড়লেন, কিন্তু আরশের কোনো পায়ার অগ্রভাগেও পৌঁছাতে পারলেন না।
এরপর আল্লাহ তাঁর ডানা ও শক্তি দ্বিগুণ করে দিলেন এবং তাঁকে ওড়ার আদেশ দিলেন। তিনি আরও ত্রিশ হাজার বছর উড়লেন, তবুও পৌঁছাতে পারলেন না। তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: হে ফেরেশতা, তুমি তোমার ডানা ও শক্তি নিয়ে যদি শিংগায় ফুঁ দেওয়ার আগ পর্যন্ত উড়তে থাকো, তবুও আমার আরশের খুঁটির নাগাল পাবে না। তখন ফেরেশতা বললেন: 'আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি'। এরপর মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: 'আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন'। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা একে তোমাদের সিজদাহয় নির্ধারণ করো"। সা'লাবী তাঁর 'কিতাবুল আরাইস' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
ইবনে আব্বাস ও আস-সুদ্দী বলেন: 'আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন' এর অর্থ হলো- আপনার সুউচ্চ রবের মহিমা ঘোষণা করুন। আর এখানে 'নাম' শব্দটি একটি সংযোগ বা অতিরিক্ত পদ, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামধারী সত্তার মহিমা প্রকাশ করা; যেমনটি লাবীদ বলেছেন:এক বছর পর্যন্ত, অতঃপর তোমাদের উভয়ের ওপর (আল্লাহর) নামের শান্তি বর্ষিত হোক «১»(১). এর পূর্ণ চরণটি হলো:আর যে ব্যক্তি পূর্ণ এক বছর ক্রন্দন করে, সে তো ওজর পেশ করল এই পংক্তিটি তাঁর একটি কাসিদা থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর দুই কন্যাকে সম্বোধন করেছেন। এর শুরুটা হলো:আমার দুই কন্যা কামনা করে যে তাদের পিতা বেঁচে থাকুক ...
অথচ আমি তো রাবিয়া কিংবা মুদার গোত্রের একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নই।
পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা
৮৫সূরা আল-বুরুজএটি মক্কী এবং এর আয়াত সংখ্যা বাইশ। ইবনে আদ্দুরৈস, আন-নাহহাস এবং ইবনে মারদাওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ওয়াসসামায়ি যাতিল বুরুজ
মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।ইমাম আহমাদ আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শেষ ইশার সালাতে ‘ওয়াসসামায়ি যাতিল বুরুজ’ এবং ‘ওয়াসসামায়ি ওয়াত্তারিক’ পাঠ করতেন।ইমাম আহমাদ আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার সালাতে আকাশ সংবলিত সূরাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।তিয়ালিসি, ইবনে আবি শায়বা (মুসান্নাফ গ্রন্থে), আহমাদ, দারেমি, আবু দাউদ, তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন), নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, তাবারানি এবং বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে জাবের ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহর ও আসরের সালাতে ‘ওয়াসসামায়ি ওয়াত্তারিক’ এবং ‘ওয়াসসামায়ি যাতিল বুরুজ’ পাঠ করতেন।সাঈদ ইবনে মানসুর জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: তুমি তাদের নিয়ে ইশার সালাতে (সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা) (সূরা আল-আ’লা, আয়াত: ১), (ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা) (সূরা আল-লাইল, আয়াত: ১) এবং ওয়াসসামায়ি যাতিল বুরুজ
পাঠ করো।
ইবনে আদ-দোরইদ, আন-নাহহাস তাঁর ‘নাসেখ’ গ্রন্থে, ইবনে মারদাওয়াইহ এবং আল-বাইহাকী বিভিন্ন সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফজর
মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।এবং ইবনে মারদাওয়াইহ আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফজর
মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।এবং আন-নাসায়ী জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,) "হে মুয়ায! তুমি কি ফিতনাকারী? তুমি কেন (সাব্বিহ ইসমা রাব্বিকাল আ'লা) (সূরা আল-আ'লা, আয়াত: ১), (ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা) (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ১), আল-ফজর
এবং ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা
(সূরা আল-লাইল, আয়াত: ১) পাঠ করলে না?"ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর বাণী: আল-ফজর
সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি একটি শপথ যা দ্বারা আল্লাহ শপথ করেছেন।এবং ইবনে আবি শাইবাহ মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা তা দিয়ে শপথ করেন, কিন্তু আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করার অধিকার কারো নেই।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে৯১সূরা আশ-শামসমক্কী এবং এর আয়াত সংখ্যা পনেরোসূরার ভূমিকা: ইবনে আদ্দুরইস, আন-নাহহাস, ইবনে মারদুবাইহ এবং আল-বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সূরা 'ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা' মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছেইবনে মারদুবাইহ ইবনে যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেনইমাম আহমাদ, তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন) এবং নাসাঈ বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাতে 'ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা' এবং এর সদৃশ সূরাসমূহ পাঠ করতেনতাবারানী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ফজরের সালাতে 'ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা' (সূরা আল-লাইল, আয়াত ১) এবং 'ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা' পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছিলেনবায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ উকবাহ ইবনে আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের চাশতের দুই রাকাত সালাত সংশ্লিষ্ট দুই সূরা— 'ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা' এবং 'ওয়াদ-দুহা' দিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেনতাবারানী নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই ঈদের সালাতে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা' (সূরা আল-আ’লা, আয়াত ১) এবং 'ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা' পাঠ করতেন আয়াত ১ - ১৫
