Al-A'la
আল-আলা: 7
মূল আরবি
إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ ۚ إِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ
English Translations
Except what Allāh should will. Indeed, He knows what is declared and what is hidden.
Except what Allah, may will, He knows what is apparent and what is hidden.
except that which Allah wills. Indeed He knows what is manifest and what is hidden.
except what Allah should wish. He knows all that is manifest and all that is hidden.
Save that which Allah willeth. Lo! He knoweth the disclosed and that which still is hidden;
Except as Allah wills: For He knoweth what is manifest and what is hidden.
বাংলা অনুবাদ
তবে ওটা বাদে যেটা আল্লাহ (রহিত করার) ইচ্ছে করবেন। তিনি জানেন যা প্রকাশ্য আর যা গোপন।
আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। নিশ্চয় তিনি জানেন, যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন থাকে।
আল্লাহ যা ইচ্ছা করবেন তদ্ব্যতীত, নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত বিষয় জ্ঞাত আছেন,
আল্লাহ্ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া। নিশ্চয় তিনি জানেন যা প্ৰকাশ্য ও যা গোপনীয়।
আল্লাহ যা ইচ্ছা করবেন তদ্ব্যতীত, নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত বিষয় পরিজ্ঞাত আছেন।
৭. তবে আল্লাহ কোনরূপ হেকমত সাপেক্ষে আপনার পক্ষ থেকে যা ভুলিয়ে দিতে চান তা ভিন্ন ব্যাপার। তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবই জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন থাকে না।
তাফসীর
87:1
আল্লাহ্ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া [১]। নিশ্চয় তিনি জানেন যা প্ৰকাশ্য ও যা গোপনীয়।
[১] এই বাক্যটির কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক, কুরআনের কিছু আয়াত রহিত করার এক সুবিদিত পদ্ধতি হচ্ছে প্রথম আদেশের বিপরীতে পরিষ্কার দ্বিতীয় আদেশ নাযিল করা। এর আরেকটি পদ্ধতি হলো সংশ্লিষ্ট আয়াতটিই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সকল মুসলিমের স্মৃতি থেকে মুছে দেয়া। এ সম্পর্কে এক আয়াতে আছে,
مَانَنْسَخْ مِنْ اٰيَةٍ اَوْنُنْسِهَا
অর্থাৎ ‘আমরা কোন আয়াত রহিত করি অথবা আপনার স্মৃতি থেকে উধাও করে দেই’ । [সূরা আল-বাকারাহ: ১০৬] তাই ‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া’ বলে রহিত আয়াতগুলোর কথা বলা হয়েছে। দুই. অথবা আয়াতের উদ্দেশ্য, কখনো সাময়িকভাবে আপনার ভুলে যাওয়া এবং কোন আয়াত বা শব্দ আপনার কোন সময় ভুলে যাওয়া এই ওয়াদার ব্যতিক্রম। যে ব্যাপারে ওয়াদা করা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, আপনি স্থায়ীভাবে কুরআনের কোন শব্দ ভুলে যাবেন না। হাদীসে আছে, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একটি সূরা তেলাওয়াত করলেন এবং মাঝখান থেকে একটি আয়াত বাদ পড়ল।
ওহী লেখক উবাই ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মনে করলেন যে, আয়াতটি বোধ হয় মনসুখ হয়ে গেছে। কিন্তু জিজ্ঞাসার জওয়াবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ মনসুখ হয়নি, আমিই ভুলক্রমে পাঠ করিনি। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪০৭] অন্য হাদীসে এসেছে, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবীকে কোন আয়াত পড়তে শোনে বললেন, আল্লাহ্ তাকে রহমত করুন, আমাকে এ আয়াতটি ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল এখন মনে পড়েছে। [মুসলিম: ৭৮৮] অতএব, উল্লিখিত ব্যতিক্রমের সারমর্ম এই যে, সাময়িকভাবে কোন আয়াত ভুলে যাওয়া অতঃপর তা স্মরণে আসা বর্ণিত প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী নয়।
[দেখুন, কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আল-আ'লা (৮৭): আয়াত ৬ থেকে ৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
وَغَيْثٍ مِنَ الْوَسْمِيِّ حُوٍّ تِلَاعُهُ … تَبَطَّنْتُهُ بِشَيْظَمٍ صَلَتَانِ «১»আর এটিও সম্ভব যে, 'আহওয়া' শব্দটি 'গুসা' (খড়কুটা)-এর বিশেষণ। এর অর্থ হলো: এটি সবুজ সজীব থাকার পর এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। আবু উবাইদাহ বলেন: দহন ও পুরাতন হওয়ার ফলে তিনি এটিকে কালো সাব্যস্ত করেছেন; আর কাঁচা ঘাস শুকিয়ে গেলে কালো হয়ে যায়। আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বলেন: চারণভূমি প্রথমে সবুজ হয়ে জন্মেছে, এরপর যখন শুকিয়ে গেল তখন দহনজনিত কারণে কালো হয়ে গেল এবং খড়কুটাতে পরিণত হলো যা বাতাস ও প্লাবন উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর এটি আল্লাহ তাআলা কাফিরদের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন, দুনিয়ার চাকচিক্য ও সজীবতার পর তার বিলীন হয়ে যাওয়া বোঝাতে।
[সূরা আল-আ'লা (৮৭): আয়াত ৬ থেকে ৮]আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না (৬) তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত; নিশ্চয় তিনি প্রকাশ্য ও যা গোপন থাকে তা জানেন (৭) আর আমি আপনার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব (৮)আল্লাহ তাআলার বাণী 'আমি আপনাকে পাঠ করাব' অর্থাৎ হে মুহাম্মদ, আমি আপনাকে কুরআন শেখাব। 'ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না' অর্থাৎ আপনি তা মুখস্থ রাখবেন; ইবনে ওয়াহাব ইমাম মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সুসংবাদ, তিনি তাঁকে একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন প্রদানের মাধ্যমে এই সুসংবাদ দিয়েছেন। আর তা হলো জিবরাঈল আপনার কাছে ওহীর যা কিছু পাঠ করবেন, আপনি নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও—যিনি লিখতেও পারেন না এবং পড়তেও পারেন না—তা মুখস্থ করে ফেলবেন এবং ভুলে যাবেন না।
ইবনে আবি নাজিহ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ভুলে যাওয়ার ভয়ে ওহী স্মরণ করার চেষ্টা করতেন, তখন বলা হলো: আমি আপনার পক্ষ থেকে এর দায়িত্ব নিয়েছি। মুজাহিদ ও কালবী বলেন: জিবরাঈল (আ.) ওহী নিয়ে নবী (সা.)-এর নিকট অবতরণ করলে আয়াতের শেষ অংশ শেষ করার পূর্বেই তিনি প্রথম অংশ পড়া শুরু করতেন বিস্মৃত হওয়ার ভয়ে। এরপর অবতীর্ণ হয়: 'আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি এরপর আর কিছুই ভুলে যাবেন না', নিশ্চয় আমি আপনার পক্ষ থেকে এর ভার গ্রহণ করেছি। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের প্রেক্ষিত সম্পর্কে আল-ফাররা বলেন: 'আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত', অথচ তিনি চাননি যে আপনি কিছু ভুলে যান।
যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: 'তারা সেখানে স্থায়ী হবে যতদিন আকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার পালনকর্তা যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত' [হুদ: ১০৭]। অথচ তিনি অন্য কিছু ইচ্ছা করবেন না। কথা বলার সময় যেমন বলা হয়: 'তুমি যা চেয়েছ আমি তোমাকে তার সবই দেব যদি না আমি তোমাকে তা থেকে বিরত রাখা ইচ্ছা করি'; অথচ অন্তরের ইচ্ছা থাকে তাকে কিছুই থেকে বঞ্চিত না করার। শপথ করার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে, যেখানে ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয় কিন্তু শপথকারীর নিয়ত থাকে পূর্ণ করার। ইবনে আব্বাস থেকে আবু সালিহ-এর বর্ণনায় রয়েছে: এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কিছুই ভুলে যাননি, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তা ব্যতীত।
সাঈদ কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কিছুই ভুলতেন না, তবে...(১). আল-ওয়াসমি: বসন্তের প্রথম বৃষ্টি, কেননা এটি উদ্ভিদের মাধ্যমে ভূমিতে চিহ্ন অঙ্কন করে। এটি 'ওয়াসম' (চিহ্ন) থেকে উদ্ভূত। আত-তিলা: 'তিলআ'-এর বহুবচন, এটি উচ্চ ও শক্ত ভূমি যেখানে প্লাবনের পানি আবর্তিত হয়, এরপর সেখান থেকে নিচের ভূমিতে গড়িয়ে যায়। এটি উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত উর্বর ভূমি। বলা হয়েছে: তিলআ হলো উপত্যকার উঁচু স্থান থেকে সমতলে পানি প্রবাহের পথ। তাবাত্তানতুহু: আমি তাতে প্রবেশ করেছি। আশ-শাইযাম: মানুষ বা ঘোড়ার মধ্যে দীর্ঘদেহী ও সুঠাম যুবক। আস-সালাতান: ঘোড়ার মধ্যে অত্যন্ত চঞ্চল ও প্রখর হৃদয়ের অধিকারী।(২).
সূরা হুদ, আয়াত ১০৮।
