Ar-Rum
আর-রূম: 43
আরবি
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ ٱلْقَيِّمِ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ ۖ يَوْمَئِذٍ يَصَّدَّعُونَ
English Translations
So direct your face [i.e., self] toward the correct religion before a Day comes from Allāh of which there is no repelling. That Day, they will be divided.
So set you (O Muhammad SAW) your face to (the obedience of Allah, your Lord) the straight and right religion (Islamic Monotheism), before there comes from Allah a Day which none can avert it. On that Day men shall be divided [(in two groups), a group in Paradise and a group in Hell].
Then set your face to the straight Faith before the arrival of a day that will never be repulsed by Allah. On that Day the people will be split apart.
So turn your face exclusively towards the True Faith before there comes the Day whose coming from Allah cannot be averted, the Day when people will split into groups.
So set thy purpose resolutely for the right religion, before the inevitable day cometh from Allah. On that day mankind will be sundered-
But set thou thy face to the right Religion before there come from Allah the Day which there is no chance of averting: on that Day shall men be divided (in two).
বাংলা অনুবাদ
কাজেই তুমি নিজেকে সত্য দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখ, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন দিন (ক্বিয়ামত দিবস) আসার পূর্বে যা কক্ষনো প্রত্যাহার করা হবে না। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে যাবে (দু’ভাগে)।
তাই তুমি তোমার নিজকে সরল-সঠিক দীনের উপর কায়েম রাখ, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেদিন আসার পূর্বে, যা ফেরানো যাবে না। সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে।
তুমি সরল দীনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত কর, আল্লাহর নির্দেশে অনিবার্য দিন আসার পূর্বে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
সুতরাং আপনি সরল-সঠিক দীনে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করুন, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দিন অনিবার্য তা উপস্থিত হওয়ার আগে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
অতএব তুমি তোমাকে সরল সত্য দীনে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখ এমন দিন আসার পূর্বে , যেদিন আল্লাহর নিকট থেকে পালাবার জায়গা নেই, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
৪৩. হে রাসূল! ক্বিয়ামত আসার পূর্বে তুমি তোমার চেহারাকে সরল ইসলাম ধর্মের উদ্দেশ্যে স্থির করো। যাতে কোনরূপ বক্রতা নেই। যেদিন উপস্থিত হলে তাকে রুখে দেওয়ার কেউ থাকবে না, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। কেউ হবে জান্নাতের অধিবাসী। আর কেউ হবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগকারী।
তাফসীর
৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীরএখানে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে সরল সঠিক দ্বীনের উপর দৃঢ় থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর ইবাদত করার হিদায়াত করছেন। তিনি বলেনঃ জান-মাল দিয়ে দৃঢ়ভাবে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড় কিয়ামত আসার পূর্বে। যখন কিয়ামত সংঘটনের আদেশ হয়ে যাবে তখন ঐ সময়কে কেউই বন্ধ করতে পারবে না। সেদিন ভাল ও মন্দ পৃথক হয়ে যাবে। একদল তো যাবে এবং আর একদল জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। কাফির তার কুফরীর বোঝার নীচে চাপা পড়ে যাবে। সৎলোকেরা তাদের কৃত সক্কর্মের কারণে উত্তম ও সুখময় স্থানে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের পুণ্য। অনেকগুণে বাড়িয়ে দিবেন এবং এভাবে তাদেরকে উত্তম বিনিময় প্রদান করবেন। তাদের এক একটি পুণ্য দশগুণ হতে বাড়াতে বাড়াতে সাতশ গুণ পর্যন্ত পৌছিয়ে দেয়া হবে। এভাবে আল্লাহ পাক তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। কাফিরদেরকে আল্লাহ তা'আলা ভালবাসেন না। তা সত্ত্বেও তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে।
সুতরাং আপনি সরল-সঠিক দ্বীনে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করুন, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দিন অনিবার্য তা উপস্থিত হওয়ার আগে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে [১]।
[১] কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ আপনি ইসলামের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকুন। সেদিন আসার পূর্বেই। যেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে, একদল জান্নাতী হবে, আরেকদল হবে জাহান্নামী। [তাবারী] আল্লামা শানকীতী বলেন, এ আয়াত এ সূরার অন্য আয়াতের অনুরূপ যেখানে এসেছে, “আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে। অতএব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তারা জান্নাতে খোশহালে থাকবে; আর যারা কুফরী করেছে এবং আমাদের আয়াতসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাতের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে, পরিণামে তাদেরকেই আযাবের মাঝে উপস্থিত রাখা হবে।” তাছাড়া অন্য সূরায় এসেছে, “এবং সতর্ক করতে পারেন কেয়ামতের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল থাকবে জান্নাতে আরেক দল জলন্ত আগুনে।” [সূরা আশ-শূরা: ৭]।
