Ash-Shuraa

আশ-শূরা: 25

42:25
টেক্সট কপি
42 আশ-শূরা Ash-Shuraa · 53 আয়াত الشورى

মূল আরবি

وَهُوَ ٱلَّذِى يَقْبَلُ ٱلتَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِۦ وَيَعْفُوا۟ عَنِ ٱلسَّيِّـَٔاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ

English Translations

Sahih International

And it is He who accepts repentance from His servants and pardons misdeeds, and He knows what you do.

Muhsin Khan

And He it is Who accepts repentance from His slaves, and forgives sins, and He knows what you do.

Taqi Usmani

And He is the One who accepts repentance from His servants and forgives evil deeds and knows whatever you do.

Abul Ala Maududi

He it is Who accepts repentance from His servants and forgives sins and knows all what you do,

Pickthall

And He it is Who accepteth repentance from His bondmen, and pardoneth the evil deeds, and knoweth what ye do,

Yusuf Ali

He is the One that accepts repentance from His Servants and forgives sins: and He knows all that ye do.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তিনি তাঁর বান্দাহদের তাওবাহ ক্ববূল করেন, পাপ ক্ষমা করেন আর তিনি জানেন তোমরা যা কর।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কর, তা তিনি জানেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবাহ কবূল করেন এবং পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন ও পাপসমূহ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন।

ফাতহুল মাজীদ

তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন।

মুখতাসার

২৫. তিনি স্বীয় বান্দারা কুফরী ও শিরকের পাপ হতে তাওবা করলে তখন তা কবুল করেন এবং তাদের কৃতপাপ মার্জনা করেন। তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সবই জানেন। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন থাকে না এবং তিনি এর প্রতিদান দিবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৫-২৮ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহ এবং দয়ার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, বান্দা যত বড়ই পাপী হোক না কেন, যখন সে তার অসৎ ও পাপ কার্য হতে বিরত থাকে এবং আন্তরিকতার সাথে তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ে ও বিশুদ্ধ অন্তরে তাওবা করে তখন তিনি স্বীয় দয়া ও করুণা দ্বারা তাকে ঢেকে নেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন ও স্বীয় অনুগ্রহ তার অবস্থার অনুরূপ করে দেন। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি মন্দকর্ম করে অথবা নিজের উপর যুলুম করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, দয়ালু পায়।”(৪:১১০)হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দার তাওবায় ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশী খুশী হন যার উষ্ট্ৰীটি মরু প্রান্তরে হারিয়ে গেছে, যার উপর তার পানাহারের জিনিসও রয়েছে।

লোকটি উস্ত্রীর খোঁজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে একটি গাছের নীচে বসে পড়লো এবং নিজের জীবনের আশাও ত্যাগ করলো। উস্ত্রী হতে সে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে পড়লো। এমতাবস্থায় হঠাৎ সে দেখে যে, উষ্ট্ৰীটি তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালো এবং ওর লাগাম ধরে নিলো এবং সে এতো বেশী খুশী হলো যে, আত্মভোলা হয়ে বলে ফেললোঃ “হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা এবং আমি আপনার প্রতিপালক। অত্যাধিক খুশীর কারণেই সে এরূপ ভুল করলো।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “বান্দা তাওবা করলে আল্লাহ এতো বেশী খুশী হন যে, ঐ লোকটিও এরূপ খুশী হয় না যে এমন জায়গায় তার হারানো জন্তুটি পেয়েছে যেখানে পানির অভাবে) পিপাসায় তার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবার সে আশংকা করছিল।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ “যদি কোন লোক কোন নারীর সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে তবে সে তাকে বিয়ে করতে পারে কি?উত্তরে তিনি বলেনঃ “এতে কোন দোষ নেই (অর্থাৎ সে তাকে বিয়ে করতে পারে)।” অতঃপর তিনি ...

(আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ করেন। (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) ও ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)মহান আল্লাহ বলেনঃ “তিনি পাপ মোচন করেন।” অর্থাৎ তিনি ভবিষ্যতের জন্য তাওবা কবুল করেন এবং অতীতের পাপরাশি ক্ষমা করে দেন।আল্লাহ তাআলার উক্তিঃ “তোমরা যা কর তা তিনি জানেন।' অর্থাৎ তিনি তোমাদের কথা ও কাজ সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল। তথাপি যে তার দিকে ঝুঁকে পড়ে তার তাওবা তিনি কবুল করে থাকেন। আল্লাহ পাক বলেনঃ “তিনি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের আহ্বানে সাড়া দেন। অর্থাৎ তারা নিজেদের জন্যে আহ্বান করুক অথবা অন্যদের জন্যে প্রার্থনা করুক, তিনি তাদের প্রার্থনা কবুল করে থাকেন।বর্ণিত আছে যে, হযরত মুআয (রাঃ) সিরিয়ায় অবস্থানরত তার মুজাহিদ সঙ্গীদের মধ্যে ভাষণ দেনঃ “তোমরা ঈমানদার, সুতরাং তোমরা জান্নাতী।

তোমরা যে এই রোমক ও পারসিকদেরকে বন্দী করে রেখেছো, এরাও যে জান্নাতে চলে যেতে পারে এতেও বিস্ময়ের কিছুই নেই। কেননা, যখন তাদের মধ্যে কেউ তোমাদের কোন কাজ করে দেয় তখন তোমরা বলে থাকোঃ “আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন! তুমি খুব ভাল কাজ করেছে। আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, সত্যি তুমি খুব কল্যাণকর কাজ করেছে। আর আল্লাহ তা'আলা তো বলেছেনঃ “তিনি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের আহ্বানে সাড়া দেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ধিত করেন। ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের দু'আ কবূল করে থাকেন।(আরবী)-এই আয়াতের তাফসীর করা হয়েছেঃ যারা কথা মেনে নেয় ও ওর অনুসরণ করে।

যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা শুনে, মানে ও অনুসরণ করে তাদের প্রার্থনা আল্লাহ কবূল করেন। এবং মৃতদেরকে তিনি পুনরুত্থিত করবেন।”(৬:৩৬) হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ (আরবী) আল্লাহ পাকের এই উক্তির তাৎপর্য হচ্ছেঃ তাদের এমন ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ কবুল করে নেয়া যার উপর জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। যে দুনিয়ায় তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করেছে। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবরাহীম নখঈ (রঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ তারা তাদের ভাইদের জন্যে সুপারিশ করবে।

আর তারা আরো বেশী অনুগ্রহ লাভ করবে’ এর তাফসীর হলোঃ তাদের ভাইদের ভাইদের জন্যেও তাদেরকে সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে। মুমিনদের এই মর্যাদার বর্ণনা দেয়ার পর মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ কাফিরদের দুরবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে জীবনোপকরণে প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই বিপর্যয় সৃষ্টি করতো। অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহ তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জীবনোপকরণ দান করলে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে বসতো এবং ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতা প্রকাশ করতে শুরু করে দিতো এবং ভূ-পৃষ্ঠে বিশৃংখলা, অশান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টি করতো।

এজন্যেই হযরত কাতাদা (রঃ)-এর দর্শনপূর্ণ উক্তি হলোঃ “জীবনোপকরণ এটুকুই উত্তম যাতে ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতা প্রকাশ না পায়। এই বিষয়ের পূর্ণ হাদীস যে, “আমি তোমাদের উপর পার্থিব জগতের সুদৃশ্য ও বাহ্যড়ম্বরকেই ভয় করি” পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহর উক্তিঃ কিন্তু তিনি তাঁর ইচ্ছামত পরিমাণেই (জীবনোপকরণ) দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সম্যক জানেন ও দেখেন। অর্থাৎ তিনি বান্দাকে ঐ পরিমাণ রিযক দিয়ে থাকেন যা গ্রহণের তার মধ্যে যোগ্যতা রয়েছে। কে ধনী হওয়ার উপযুক্ত এবং কে দরিদ্র হওয়ার যোগ্য এ জ্ঞান তারই আছে। যেমন হাদীসে কুদসীতে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমার এমন বান্দাও রয়েছে যে, তার মধ্যে ধনশ্বৈর্যের যোগ্যতা রয়েছে, যদি আমি তাকে দরিদ্র বানিয়ে দিই তবে তার দ্বীনও নষ্ট হয়ে যাবে।

পক্ষান্তরে, আমার এমন বান্দাও রয়েছে যে, সে দরিদ্র হওয়ারই যোগ্য। তাকে যদি আমি ধনী করে দিই তবে তার দ্বীন যেন আমি নষ্ট করে দিলাম।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “তারা যখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও তাঁর করুণা বিস্তার করেন। অর্থাৎ মানুষ যখন রহমতের বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষা করতে করতে শেষে নিরাশ হয়ে পড়ে এরূপ পূর্ণ প্রয়োজন এবং কঠিন বিপদের সময় আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকেন। ফলে তাদের নৈরাশ্যও দূর হয়ে যায় এবং অনাবৃষ্টির বিপদ হতে তারা মুক্ত হয়। সাধারণভাবে আল্লাহর রহমত ছড়িয়ে পড়ে। একটি লোক হযরত উমার ইবনে খাত্তাবা (রাঃ)-কে বলেঃ “হে আমীরুল মুমিনীন!

বৃষ্টি-বর্ষণ বন্ধ হয়েছে এবং জনগণ নিরাশ হয়ে পড়েছে (এখন উপায় কিঃ)” উত্তরে হযরত উমার (রাঃ) বললেনঃ “যাও, ইনশাআল্লাহ বৃষ্টি অবশ্যই বর্ষিত হবে।” অতঃপর তিনি ...(আরবী)-এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।মহান আল্লাহর উক্তিঃ “তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসাৰ্হ।' অর্থাৎ সৃষ্টজীবের ব্যবস্থাপনা তাঁরই হাতে। তাঁর সমুদয় কাজ প্রশংসার যোগ্য। মানুষের কিসে মঙ্গল আছে তা তিনি ভালই জানেন। তাঁর কাজ কল্যাণ ও উপকার শূন্য নয়।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন ও পাপসমূহ মোচন করেন [১] এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন।

[১] আলোচ্য আয়াতে তাওবা কবুল করাকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের বিশেষ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা মুমিন বান্দার তাওবায় ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশী খুশী হন, যে কোন ঊষর মরুর বুকে ছিল, তার সাথে ছিল বাহন যার উপর ছিল তার খাদ্য ও পানীয়। এমতাবস্থায় সে ঘুমিয়ে পড়েছিল, জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল যে, বাহনটি তার খাবার ও পানীয়সহ চলে গেছে। সে তার বাহনের খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল। তারপর সে বলল, যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ব ও মারা যাব। সে তার হাতের উপর মাথা রেখে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিল, এমতাবস্থায় সে সচেতন হয়ে দেখল যে, তার বাহন ফিরে এসেছে এবং বাহনের উপর তার খাবার ও পানীয় তেমনিভাবে রয়েছে।

তখন সে আনন্দে ভুল করে বলে ফেলল: আল্লাহ আপনি আমার বান্দা এবং আমি আপনার রব। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার তাওবাতে বাহন ও খাদ্য-পানীয় ফিরে পাওয়া লোকটি থেকেও বেশী খুশী হন। [মুসলিম: ২৭৪৪]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শূরা (৪২): আয়াত ২৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: "নাকি তারা বলে যে, সে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করেছে?" এখানে 'মীম' বর্ণটি সংযোগমূলক, আর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো—তারা কি বলে যে সে মিথ্যা রচনা করেছে? এই বক্তব্যটি পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ যখন বললেন: "এবং বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি" (১) [আশ-শূরা: ১৫], এবং বললেন: "আল্লাহই সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন" (২) [আশ-শূরা: ১৭], তখন বর্ণনার পূর্ণতার জন্য বললেন: "নাকি তারা বলে যে, সে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করেছে?" অর্থাৎ কুরাইশ কাফিররা বলেছিল যে, মুহাম্মদ আল্লাহর নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছেন।

"অতঃপর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে মোহর মেরে দিতেন"—এটি একটি শর্ত এবং এর উত্তর হলো "আপনার অন্তরের ওপর"। কাতাদাহ (রহ.) বলেন: তিনি আপনার অন্তরে মোহর মেরে দিতেন ফলে আপনাকে কুরআন ভুলিয়ে দিতেন। সুতরাং আল্লাহ তাদের অবহিত করলেন যে, তিনি (রাসূল) যদি আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করতেন তবে মুহাম্মদের সাথে সেই আচরণই করতেন যা তিনি এই আয়াতে তাদের জানিয়েছেন। মুজাহিদ ও মুকাতিল (রহ.) বলেন: "যদি আল্লাহ চাইতেন" তবে তাদের কষ্টদায়ক আচরণের বিপরীতে ধৈর্যের মাধ্যমে আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করে দিতেন যাতে তাদের কথা থেকে আপনার অন্তরে কোনো ক্লেশ প্রবেশ না করে।

কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো—যদি তিনি চাইতেন তবে আপনার বিচারশক্তি বিলুপ্ত করে দিতেন। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো—যদি আপনি নিজের মনে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রচনার কল্পনাও করতেন তবে আপনার অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হতো, ইবনে ঈসা এটি বলেছেন। কেউ কেউ বলেন: যদি আল্লাহ চাইতেন তবে কাফিরদের অন্তরে ও জিহ্বায় মোহর মেরে দিতেন এবং দ্রুত তাদের শাস্তি দিতেন। এখানে সম্বোধন রাসূলকে করা হলেও উদ্দেশ্য হলো কাফিররা—ইমাম কুশায়রী এটি উল্লেখ করেছেন। এরপর নতুনভাবে শুরু করে তিনি বলেন: "আর আল্লাহ মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন।" ইবনে আল-আম্বারী বলেন: "আপনার অন্তরে মোহর মেরে দিবেন" পর্যন্ত বাক্যটি পূর্ণ।

কিসায়ী বলেন: এতে শব্দবিন্যাসের আগ-পাছ রয়েছে, এর ভাবার্থ হলো: "আর আল্লাহ মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন", কিন্তু পবিত্র কুরআনের লিপিতে (মুসহাফ) 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যদিও তা ব্যাকরণগতভাবে 'রাফ' (পেশ) অবস্থায় রয়েছে। যেমনটি বিলুপ্ত হয়েছে তাঁর বাণী: "আমরা অচিরেই জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাদের ডাকব" (৩) [আল-আলাক: ১৮] এবং "আর মানুষ প্রার্থনা করে" (৪) [আল-ইসরা: ১১] আয়াতদ্বয় থেকে। আর এটি একারণেও যে, এটি "আপনার অন্তরে মোহর মেরে দিবেন" অংশের সাথে সমন্বিত হয়েছে। যাজ্জাজ বলেন: "নাকি তারা বলে যে, সে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করেছে?"—এই কথাটি এখানে সমাপ্ত।

আর তাঁর বাণী: "আর আল্লাহ মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন" হলো ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ যে নবী (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করে। অর্থাৎ নবী যা নিয়ে এসেছেন তা যদি মিথ্যা হতো তবে আল্লাহ তা মিটিয়ে দিতেন, যেমনটি মিথ্যাবাদীদের ক্ষেত্রে তাঁর চিরাচরিত নিয়ম। "এবং তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন" অর্থাৎ ইসলামকে, অতঃপর একে সুসংহত করেন (৫) "তাঁর বাণীর দ্বারা" অর্থাৎ কুরআন থেকে যা তিনি অবতীর্ণ করেছেন। "নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত"—এটি একটি সাধারণ বক্তব্য, অর্থাৎ বান্দাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত। কেউ কেউ বলেছেন এটি বিশেষ অর্থবোধক।

আর এর অর্থ হলো—আপনি যদি মনে মনে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রচনার ইচ্ছা করতেন তবে তিনি তা জেনে যেতেন এবং আপনার অন্তরে মোহর মেরে দিতেন। ‌‌[সূরা আশ-শূরা (৪২): আয়াত ২৫]এবং তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন ও পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তোমরা যা করো সে সম্পর্কে তিনি জানেন। (২৫)(১). এই সূরার ১৫ নং আয়াত।(২). এই সূরার ১৭ নং আয়াত।(৩). সূরা আল-আলাকের ১৮ নং আয়াত।(৪). সূরা আল-ইসরা-এর ১১ নং আয়াত।(৫). কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "অতঃপর তিনি তা স্পষ্ট করেন"।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে আবি হাতিম রবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব।" তিনি বলেন: মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে তাঁদের সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তারা যদি নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তবে তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদের বাড়িয়ে দেবেন, তাদের জীবিকায় প্রশস্ততা দান করবেন এবং বিশ্ববাসীর ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করবেন।আবদুল্লাহ ইবনে হুমায়িদ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব।" তিনি বলেন: যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে তাকে দান করা এবং যে শুকরিয়া আদায় করে তাকে বাড়িয়ে দেওয়া আল্লাহর ওপর অবধারিত।

আল্লাহ হলেন পরম দাতা, তিনি কৃতজ্ঞদের ভালোবাসেন। অতএব তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো।ইবনে জারির হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব।" তিনি বলেন: (অর্থাৎ বাড়িয়ে দেব) আমার আনুগত্যের মাধ্যমে।ইবনুল মুবারক, ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম এবং বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ আলি ইবনুত সালিহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম সুফিয়ান সাওরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব।" তিনি বলেন: তোমাদের মন যেন দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন না হয়, কারণ দুনিয়া আল্লাহর কাছে এর চেয়েও তুচ্ছ।বরং তিনি বলেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো" এই মর্মে যে, এ নিয়ামত আমার পক্ষ থেকে, তবে "আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব" আমার আনুগত্যের মাধ্যমে।ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ আবু যুহাইর ইয়াহইয়া ইবনে উতারিদ ইবনে মুসআব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যাকে চারটি বস্তু দান করা হয়েছে তাকে অন্য চারটি থেকে বঞ্চিত করা হয়নি।

যাকে কৃতজ্ঞতার গুণ দান করা হয়েছে তাকে নেয়ামত বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত করা হয়নি, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব।" যাকে দুআর তাওফিক দেওয়া হয়েছে তাকে কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়নি, কারণ আল্লাহ বলেন: "তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" যাকে ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) তাওফিক দেওয়া হয়েছে তাকে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত করা হয়নি, কারণ আল্লাহ বলেন: "তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল" (সূরা নূহ, আয়াত: ১০)। এবং যাকে তাওবা করার তাওফিক দেওয়া হয়েছে তাকে তা কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়নি, কারণ আল্লাহ বলেন: "এবং তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন" (সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫)