An-Nur

আন-নূর: 17

24:17
টেক্সট কপি
24 আন-নূর An-Nur · 64 আয়াত النور

মূল আরবি

يَعِظُكُمُ ٱللَّهُ أَن تَعُودُوا۟ لِمِثْلِهِۦٓ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

English Translations

Sahih International

Allāh warns you against returning to the likes of this [conduct], ever, if you should be believers.

Muhsin Khan

Allah forbids you from it and warns you not to repeat the like of it forever, if you are believers.

Taqi Usmani

Allah admonishes you never to repeat something like this, if you are believers.

Abul Ala Maududi

Allah admonishes you: If you are true believers, never repeat the like of what you did.

Pickthall

Allah admonisheth you that ye repeat not the like thereof ever, if ye are (in truth) believers.

Yusuf Ali

Allah doth admonish you, that ye may never repeat such (conduct), if ye are (true) Believers.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন তোমরা আর কখনো এর (অর্থাৎ এ আচরণের) পুনরাবৃত্তি করো না যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক।

রাওয়াই আল-বায়ান

আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করবে না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেনঃ তোমরা যদি মু’মিন হও তাহলে কখনও অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘তোমরা যদি মুমিন হও তবে কখনো যাতে অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি না করো।’

ফাতহুল মাজীদ

আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘তোমরা যদি মু’মিন হও তবে কখনও অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি কর না।’

মুখতাসার

১৭. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং এ কথার উপদেশও দিচ্ছেন যে, যেন তোমরা এমন অপবাদের দিকে আবার ফিরে না যাও। ফলে তোমরা একজন নিরপরাধকে আবারো অশ্লীলতার অপবাদ দিবে। যদি তোমরা আল্লাহতে বিশ্বাসী হয়ে থাকো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

24:16

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘তোমরা যদি মুমিন হও তবে কখনো যাতে অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি না করো [১]।’

[১] এখানে আল্লাহ্‌ তা‘আলা মুমিনদেরকে যে কোন খারাপ সংবাদ, অপবাদ তাদের কাছে বর্ণনা করা হলে তার সাথে কি আচরণ করতে হবে সে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। তাদেরকে এ সমস্ত অপবাদ মুখে উচ্চারণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। কেননা, মানুষের প্রতিটি কথারই হিসাব দিতে হবে। পক্ষান্তরে যদি কোন কিছু মনে উদ্রেক হয় কিন্তু মুখে উচ্চারণ না করে, তবে তাতে গোনাহ লেখা হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘আল্লাহ্‌ তা‘আলা আমার উম্মতের মনে যা উদিত হয় তা যতক্ষণ পর্যন্ত মুখে না বলে ততক্ষণের জন্য তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ [বুখারীঃ ৫২৬৯, মুসলিমঃ ১২৭]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নূর (২৪): আয়াত ১১ থেকে ২২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আটাশতম মাসআলা- লিয়ান সম্পন্ন হওয়ার জন্য চারটি বিষয় আবশ্যক: শব্দের সংখ্যা—যা ইতিপূর্বে বর্ণিত চারটি সাক্ষ্য। স্থান—আর তা হলো সংশ্লিষ্ট জনপদের সবচেয়ে সম্মানিত স্থানটি নির্বাচন করা; যদি মক্কায় হয় তবে রুকন ও মাকামে ইবরাহিমের নিকট, যদি মদীনায় হয় তবে মিম্বারের নিকট, যদি বাইতুল মাকদিসে হয় তবে সাখরার (পাথরের) নিকট এবং অন্যান্য শহরে হলে তাদের জামে মসজিদসমূহে। যদি তারা উভয়ে কাফির হয়, তবে তাদের এমন স্থানে পাঠানো হবে যাকে তারা পবিত্র ও মহান মনে করে; যদি তারা ইয়াহুদি হয় তবে উপাসনালয়, যদি অগ্নিপূজক হয় তবে অগ্নিমন্দির, আর যদি মূর্তিপূজকদের মতো তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্ম না থাকে, তবে বিচারকের বিচারিক মজলিসেই তাদের লিয়ান সম্পন্ন হবে।

সময়—আর তা হলো আসরের নামাযের পর। লোকসমাগম—আর তা হলো সেখানে অন্তত চারজন বা ততোধিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকা। সুতরাং শব্দ এবং লোকসমাগম হলো শর্ত, আর সময় ও স্থান হলো মুস্তাহাব। ঊনত্রিশতম মাসআলা- যারা বলেন যে, উভয়ের লিয়ান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটবে না, তাদের মতে লিয়ান শেষ হওয়ার আগে যদি তাদের একজনের মৃত্যু হয় তবে অপরজন তার উত্তরাধিকারী হবে। আর যারা বলেন যে, ইমাম বা বিচারকের পক্ষ থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়ার আগে বিচ্ছেদ কার্যকর হয় না, তাদের মতে বিচারকের বিচ্ছেদ ও লিয়ান পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ মারা গেলে অন্যজন উত্তরাধিকারী হবে।

ইমাম শাফিঈর অভিমত অনুযায়ী: যদি স্ত্রী লিয়ান করার পূর্বেই তাদের একজনের মৃত্যু হয়, তবে তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না। ত্রিশতম মাসআলা- ইবনুল কাসসার বলেন: আমাদের নিকট লিয়ানের মাধ্যমে বিচ্ছেদ কোনো 'ফাসখ' (বিবাহ রদ) নয়, এবং এটিই আল-মুদাওওয়ানাহ-এর মাযহাব। কেননা লিয়ানের বিচ্ছেদের বিধান তালাকের বিচ্ছেদের বিধানের সমতুল্য; তাই সহবাস না হওয়া স্ত্রীর ক্ষেত্রে অর্ধেক মোহর প্রদান করা হবে। ইবনুল জাল্লাবের মুখতাসার-এ বর্ণিত হয়েছে: স্ত্রী কিছুই পাবে না, আর এটি এই মতের ওপর ভিত্তি করে যে লিয়ানের বিচ্ছেদ হলো মূলত ফাসখ। ‌‌[সূরা আন-নূর (২৪): আয়াত ১১ থেকে ২২]নিশ্চয় যারা এই অপবাদ নিয়ে এসেছে তারা তোমাদেরই একটি দল; তোমরা একে তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে তাদের কৃত পাপের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

(১১) তোমরা যখন এটি শ্রবণ করলে, তখন মুমিন পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোকদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলে না এবং বললে না, ‘এটা তো এক সুস্পষ্ট অপবাদ?’ (১২) কেন তারা...