An-Nur
আন-নূর: 22
মূল আরবি
وَلَا يَأْتَلِ أُو۟لُوا۟ ٱلْفَضْلِ مِنكُمْ وَٱلسَّعَةِ أَن يُؤْتُوٓا۟ أُو۟لِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينَ وَٱلْمُهَـٰجِرِينَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ وَلْيَعْفُوا۟ وَلْيَصْفَحُوٓا۟ ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ ٱللَّهُ لَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
English Translations
And let not those of virtue among you and wealth swear not to give [aid] to their relatives and the needy and the emigrants for the cause of Allāh, and let them pardon and overlook. Would you not like that Allāh should forgive you? And Allāh is Forgiving and Merciful.
And let not those among you who are blessed with graces and wealth swear not to give (any sort of help) to their kinsmen, Al-Masakin (the poor), and those who left their homes for Allah's Cause. Let them pardon and forgive. Do you not love that Allah should forgive you? And Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful.
The men of grace and wealth among you should not swear against giving (their charitable gifts) to the kinsmen and the poor and to those who have migrated in the way of Allah, and they should forgive and forego. Do you not like that Allah forgives you? Allah is Most-Forgiving, Very-Merciful.
Let those among you who are bounteous and resourceful not swear to withhold giving to the kindred, to the needy, and to those who have forsaken their homes in the cause of Allah; rather, let them forgive and forbear. Do you not wish that Allah should forgive you? Allah is Ever Forgiving, Most Merciful.
And let not those who possess dignity and ease among you swear not to give to the near of kin and to the needy, and to fugitives for the cause of Allah. Let them forgive and show indulgence. Yearn ye not that Allah may forgive you? Allah is Forgiving, Merciful.
Let not those among you who are endued with grace and amplitude of means resolve by oath against helping their kinsmen, those in want, and those who have left their homes in Allah's cause: let them forgive and overlook, do you not wish that Allah should forgive you? For Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful.
বাংলা অনুবাদ
তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন এবং আল্লাহর পথে হিজরাতকারীদেরকে সাহায্য করবে না। তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে ও তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন? আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
আর তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন কসম না করে যে, তারা নিকটাত্মীয়দের, মিসকীনদের ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। আর তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেন? আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তদেরকে এবং আল্লাহর পথে যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবেনা। তারা যেন তাদের দোষ-ক্রটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাওনা যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আর তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্থকে ও আল্লাহ্র রাস্তায় হিজরতকারীদেরকে কিছুই দেবে না; তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে এবং তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমাদের মধ্যে যারা সম্মান ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় যারা হিজরাত করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না এ প্রতিজ্ঞা করে না বসে, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে এবং তাদের দোষ-ত্র“টি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুক? আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
২২. সম্পদে সচ্ছল ও ধর্মীয় সম্মানের অধিকারী ব্যক্তিরা তাদের মুহাজির পরমুখাপেক্ষী গরিব আত্মীয়দেরকে কোন অপরাধে লিপ্ত হওয়ার দরুন কিছু না দেয়ার কসম করবে না। বরং তাদেরকে যেনো তারা ক্ষমা ও মার্জনা করে। তোমরা কি এ কথা পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন যদি তোমরা তাদেরকে ক্ষমা ও মার্জনা করো?! বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। অতএব, তাঁর বান্দারা তাঁরই অনুসরণ করুক। এ আয়াতটি মুলতঃ আবু বকর সিদ্দীক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে যখন তিনি মিসতাহর অপবাদে অংশগ্রহণের জন্য তার খরচ না চালানোর কসম করেন।
তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা ধনবান ও প্রাচুর্যের অধিকারী এবং দান-খয়রাতকারী তারা যেন এরূপ শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত এবং মুহাজিরদেরকে কিছুই দিবে না। এভাবে তাদের দিকে মনোযোগ ফিরানোর পর তাদেরকে আরো নরম করার জন্যে বলেনঃ তারা যদি কোন ভুল-ত্রুটি করে বসে তবে যেন তারা তাদেরকে ক্ষমা করে দেয় এবং তাদের ঐ দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। এটাও আল্লাহ তা'আলার সহনশীলতা, দয়া, স্নেহ ও অনুগ্রহ যে, তিনি তাঁর সৎ বান্দাদেরকে ভাল কাজেরই নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এই আয়াতটি হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, যখন তিনি হযরত মিসতাহ ইবনে আসাসা (রাঃ)-এর প্রতি কোন প্রকার অনুগ্রহ ও সাহায্য সহানুভূতি না করার শপথ করেন।
কেননা, তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর প্রতি অপবাদ রচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যেমন পূর্ববর্তী আয়াতের তাফসীরে এ ঘটনাটি গত হয়েছে। যখন প্রকৃত তথ্য আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ করে দিলেন এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) সম্পূর্ণরূপে দোষমুক্ত হয়ে গেলেন। আর মুসলমানদের অন্তর উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। মুমিনদের তাওবা কবূল করা হলো এবং অপবাদ রচনাকারীদের কাউকে কাউকে শরীয়তের বিধান মতে শাস্তি প্রদান করা হলো তখন মহান আল্লাহ হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর মনোযোগ হযরত মিসতা (রাঃ)-এর দিকে ফিরাতে বলেন, যিনি তার খালাতো ভাই ছিলেন। তিনি যে, পর্বে ছিলেন খুবই দরিদ্র লোক।
হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁকে লালন-পালন করে আসছিলেন। তিনি ছিলেন মুহাজির। কিন্তু ঘটনাক্রমে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর এ ঘটনায় তাঁর মুখ খুলে গিয়েছিল। তাঁর উপর অপবাদের হদও লাগানো হয়েছিল। হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর মুক্ত হস্তে দান করার অভ্যাসের কথাটি ছিল সর্বজন বিদিত। তাঁর দান ছিল আপন ও পর সবারই জন্যে সাধারণ। আয়াতের “তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন?” এই শব্দগুলো হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর কর্ণগোচর হওয়া মাত্রই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তিনি বলে ফেলেনঃ “হ্যা, আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমরা চাই যে, আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন।
আর তখন থেকেই তিনি মিসতাহ। (রাঃ)-এর সাহায্য ও দান পুনরায় চালু করে দেন। এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আমাদেরকে যেন এটাই উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে, আমাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হোক এটা যেমন আমরা কামনা করি অনুরূপভাবে অন্যদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া আমাদের উচিত। আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখার বিষয় যেমন হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেছিলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমি আর কখনো মিসতাহ (রাঃ)-এর উপর খরচ ও সাহায্য সহানুভূতি করব না।” অনুরূপভাবে এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি বলেনঃ “আল্লাহর কসম! মিসতাহ (রাঃ)-এর উপর দৈনিক আমি যা খরচ করতাম তা আর কখনো বন্ধ করবো।” সত্যিই তিনি সিদ্দীকই (সত্যপরায়ণই) ছিলেন।
আর তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্থকে ও আল্লাহ্র রাস্তায় হিজরতকারীদেরকে কিছুই দেবে না; তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে [১]। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন [২]?
[১] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার প্রতি অপবাদের ঘটনায় মুসলিমদের মধ্যে মিসতাহ্ ও হাস্সান জড়িয়ে পড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াত নাযিল হওয়ার পর তাদের প্রতি অপবাদের শাস্তি প্রয়োগ করেন। তারা উভয়েই বিশিষ্ট সাহাবী এবং বদর-যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট সাহাবীদের অন্যতম ছিলেন। কিন্তু তাদের দ্বারা একটি ভুল হয়ে যায় এবং তারা খাঁটি তাওবাহর তাওফীক লাভ করেন। আল্লাহ্ তা‘আলা যেমন আয়েশার দোষমুক্ততা প্রকাশ্যে আয়াত নাযিল করেন, এমনিভাবে এই মুসলিমদের তাওবাহ কবুল করা ও ক্ষমা করার কথাও ঘোষণা করে দেন।
মিসতাহ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর আত্মীয় ও নিঃস্ব ছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে আর্থিক সাহায্য করতেন। যখন অপবাদের ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার কথা প্রমাণিত হল, তখন কন্যা-বৎসল পিতা আবু বকর সিদ্দীক কন্যাকে এমন কষ্টদানের কারণে স্বাভাবিকভাবেই মিসতাহর প্রতি ভীষণ অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি কসম করে বসলেন, ভবিষ্যতে তাকে কোনরূপ আর্থিক সাহায্য করবেন না। বলাবাহুল্য, কোন বিশেষ ফকীরকে আর্থিক সাহায্য নির্দিষ্টভাবে কোন বিশেষ মুসলিমের উপর ওয়াজিব নয়। কেউ কাউকে আর্থিক সাহায্য করার পর যদি বন্ধ করে দেয়, তবে গোনাহর কোন কারণ নেই।
কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের দলকে আল্লাহ্ তা‘আলা বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ দলরূপে গঠন করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তাই একদিকে বিচ্যুতিকারীদেরকে খাঁটি তাওবাহ এবং ভবিষ্যত সংশোধনের নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করেছেন এবং অপরদিকে যারা স্বাভাবিক মনোকষ্টের কারণে গরীবদের সাহায্য ত্যাগ করার কসম করেছিলেন, তাদেরকেও আদর্শ চরিত্রের শিক্ষা আলোচ্য আয়াতে দান করেছেন। তাদেরকে বলা হয়েছে, তারা যেন কসম ভঙ্গ করে কাফফারা দিয়ে দেয়। গরীবদের আর্থিক সাহায্য থেকে হাত গুটিয়ে নেয়া তাদের উচ্চমর্যাদার পক্ষে সমীচীন নয়। আল্লাহ্ তা‘আলা যেমন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তেমনি তাদেরও ক্ষমা ও মার্জনা প্রদর্শন করা উচিত।
[দেখুন-কুরতুবী]
[২] আয়াতের শেষ বাক্যে বলা হয়েছেঃ তোমরা কি পছন্দ করা না যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের গোনাহ মাফ করবেন? আয়াত শুনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তৎক্ষণাৎ বলে উঠলেনঃ
بَلىٰ وَاللّٰهِ يَا رَبَّنَا إنَّا لَنُحِبُّ أَنْ تَعْفِرَلَنَا
অর্থাৎ আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ্ আমাকে মাফ করুন, আমি অবশ্যই তা পছন্দ করি। এরপর তিনি মিসতাহর আর্থিক সাহায্য পুনর্বহাল করে দেন এবং বলেনঃ এ সাহায্য কোনদিন বন্ধ হবে না। [বুখারীঃ ৪৭৫৭, মুসলিমঃ ২৭৭০]
[সূরা আন-নূর (২৪): আয়াত ১১ থেকে ২২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আটাশতম মাসআলা- লিয়ান সম্পন্ন হওয়ার জন্য চারটি বিষয় আবশ্যক: শব্দের সংখ্যা—যা ইতিপূর্বে বর্ণিত চারটি সাক্ষ্য। স্থান—আর তা হলো সংশ্লিষ্ট জনপদের সবচেয়ে সম্মানিত স্থানটি নির্বাচন করা; যদি মক্কায় হয় তবে রুকন ও মাকামে ইবরাহিমের নিকট, যদি মদীনায় হয় তবে মিম্বারের নিকট, যদি বাইতুল মাকদিসে হয় তবে সাখরার (পাথরের) নিকট এবং অন্যান্য শহরে হলে তাদের জামে মসজিদসমূহে। যদি তারা উভয়ে কাফির হয়, তবে তাদের এমন স্থানে পাঠানো হবে যাকে তারা পবিত্র ও মহান মনে করে; যদি তারা ইয়াহুদি হয় তবে উপাসনালয়, যদি অগ্নিপূজক হয় তবে অগ্নিমন্দির, আর যদি মূর্তিপূজকদের মতো তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্ম না থাকে, তবে বিচারকের বিচারিক মজলিসেই তাদের লিয়ান সম্পন্ন হবে।
সময়—আর তা হলো আসরের নামাযের পর। লোকসমাগম—আর তা হলো সেখানে অন্তত চারজন বা ততোধিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকা। সুতরাং শব্দ এবং লোকসমাগম হলো শর্ত, আর সময় ও স্থান হলো মুস্তাহাব। ঊনত্রিশতম মাসআলা- যারা বলেন যে, উভয়ের লিয়ান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটবে না, তাদের মতে লিয়ান শেষ হওয়ার আগে যদি তাদের একজনের মৃত্যু হয় তবে অপরজন তার উত্তরাধিকারী হবে। আর যারা বলেন যে, ইমাম বা বিচারকের পক্ষ থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়ার আগে বিচ্ছেদ কার্যকর হয় না, তাদের মতে বিচারকের বিচ্ছেদ ও লিয়ান পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ মারা গেলে অন্যজন উত্তরাধিকারী হবে।
ইমাম শাফিঈর অভিমত অনুযায়ী: যদি স্ত্রী লিয়ান করার পূর্বেই তাদের একজনের মৃত্যু হয়, তবে তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না। ত্রিশতম মাসআলা- ইবনুল কাসসার বলেন: আমাদের নিকট লিয়ানের মাধ্যমে বিচ্ছেদ কোনো 'ফাসখ' (বিবাহ রদ) নয়, এবং এটিই আল-মুদাওওয়ানাহ-এর মাযহাব। কেননা লিয়ানের বিচ্ছেদের বিধান তালাকের বিচ্ছেদের বিধানের সমতুল্য; তাই সহবাস না হওয়া স্ত্রীর ক্ষেত্রে অর্ধেক মোহর প্রদান করা হবে। ইবনুল জাল্লাবের মুখতাসার-এ বর্ণিত হয়েছে: স্ত্রী কিছুই পাবে না, আর এটি এই মতের ওপর ভিত্তি করে যে লিয়ানের বিচ্ছেদ হলো মূলত ফাসখ। [সূরা আন-নূর (২৪): আয়াত ১১ থেকে ২২]নিশ্চয় যারা এই অপবাদ নিয়ে এসেছে তারা তোমাদেরই একটি দল; তোমরা একে তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে তাদের কৃত পাপের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
(১১) তোমরা যখন এটি শ্রবণ করলে, তখন মুমিন পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোকদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলে না এবং বললে না, ‘এটা তো এক সুস্পষ্ট অপবাদ?’ (১২) কেন তারা...
পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা
ইবনে জারীর ও ইবনে আবি হাতেম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী যারা সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতায় ব্যয় করে
সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: অর্থাৎ অনটন ও প্রাচুর্যের সময়। এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী
- এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: তারা ক্রোধের সময় তা দমন করে; যেমনটি আল্লাহর বাণী— (এবং যখন তারা ক্রোধান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়) (সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৩৭)। তারা এমন বিষয়ে ক্রোধান্বিত হন যাতে লিপ্ত হওয়া হারাম ছিল, অতঃপর তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ক্ষমা ও মার্জনা করে দেন। এবং যারা মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল
— এটি আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: (তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন শপথ না করে...
) (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২২) শেষ পর্যন্ত।তিনি বলেন: তোমরা তাদের ভরণ-পোষণ না দেওয়ার বিষয়ে শপথ করো না, বরং তাদের ক্ষমা ও মার্জনা করো।ইবনুল আম্বারী ‘কিতাবুল ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা’-তে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাফে ইবনুল আজরাক তাঁকে বললেন: আল্লাহর বাণী ‘ক্রোধ সংবরণকারী’ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন, ‘সংবরণকারী’ কারা? তিনি বললেন: যারা ক্রোধকে আটকে রাখে বা দমন করে। আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম বলেছেন: ‘আমি আমার কওমকে ভয় করলাম এবং তাদের যুদ্ধের মোকাবিলায় ধৈর্য ধরলাম, আর কওমও তাদের যুদ্ধের ভয়ে নিস্তব্ধ ও সংবরণকারী হয়ে রইল’।
ইবনে আবি হাতেম আবুল আলিয়াহ থেকে এবং যারা মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল
আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন— এটি ক্রীতদাসদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।ইবনুল মুনযির ও ইবনে আবি হাতেম মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকে এবং যারা মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল
আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন— তারা কোনো বিষয়ে ক্রোধান্বিত হলে মানুষকে ক্ষমা ও মার্জনা করে দেন। আর যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে মুহসিন বা সৎকর্মশীল। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন
। আমার নিকট পৌঁছেছে যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে বলেছেন: ‘আমার উম্মতের মধ্যে এদের সংখ্যা কম, তবে আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন সে ব্যতীত; আর পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে তারা সংখ্যায় অনেক ছিল’।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর ও ইবনুল মুনযির আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী
আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি ক্রোধ বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করে, আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা ও ঈমানে ভরপুর করে দেন।
আমি তোমাদের কাছে এমন একটি কথা স্বীকার করলাম—অথচ আল্লাহ জানেন যে আমি তা থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ—যাতে তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো। আল্লাহর শপথ, আমি নিজের জন্য এবং তোমাদের জন্য ইউসুফ (আ.)-এর পিতার (ইয়াকুব আ.) সেই বাণী ছাড়া আর কোনো উদাহরণ খুঁজে পাচ্ছি না: 'সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়; আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল' (সূরা ইউসুফ, আয়াত ১৮)।অতঃপর আমি মুখ ফিরিয়ে আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। তখন আমি জানতাম যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ অবশ্যই আমার নির্দোষিতা প্রমাণ করে দেবেন। কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমি কখনোই ভাবিনি যে আল্লাহ আমার ব্যাপারে এমন ওহী নাজিল করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে।
আমার নিজের দৃষ্টিতে আমি নিজেকে এতটাই নগণ্য মনে করতাম যে আল্লাহ আমার ব্যাপারে তিলাওয়াতযোগ্য কোনো কালাম নাজিল করবেন! বরং আমি আশা করছিলাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো স্বপ্নে এমন কোনো দৃশ্য দেখবেন যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করবেন। আয়েশা (রা.) বলেন: আল্লাহর শপথ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও তাঁর মজলিস ত্যাগ করেননি এবং পরিবারের কেউও ঘর থেকে বের হননি, এমতাবস্থায় তাঁর ওপর ওহী নাজিল শুরু হলো। ওহী নাজিলের সময়কার সেই তীব্র কষ্ট তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, এমনকি তাঁর শরীর থেকে মুক্তার দানার মতো ঘাম ঝরতে লাগল।
অথচ সেটি ছিল শীতকাল। তাঁর ওপর যে মহান বাণী অবতীর্ণ হচ্ছিল, তার ভারেই এমনটি হচ্ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর থেকে ওহীর সেই অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি হাসছিলেন। তিনি প্রথম যে কথাটি বললেন তা হলো: 'হে আয়েশা! সুসংবাদ গ্রহণ করো, আল্লাহ তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।' তখন আমার মা আমাকে বললেন: 'উঠে তাঁর কাছে যাও।' আমি বললাম: 'আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর দিকে যাব না এবং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রশংসা করব না, যিনি আমার নির্দোষিতা অবতীর্ণ করেছেন।'আর আল্লাহ নাজিল করলেন: 'নিশ্চয়ই যারা এই অপবাদ রটনা করেছে তারা তোমাদেরই একটি দল'—এই আয়াত থেকে পরবর্তী পূর্ণ দশটি আয়াত।যখন আল্লাহ আমার নির্দোষিতার স্বপক্ষে এই আয়াতগুলো নাজিল করলেন, তখন আবু বকর (রা.), যিনি নিকটাত্মীয় হওয়া এবং অভাবী হওয়ার কারণে মিসতাহ ইবনে উসাসাহকে আর্থিক সাহায্য করতেন, তিনি বললেন: 'আল্লাহর শপথ, আয়েশা সম্পর্কে সে যা বলেছে তার পর আমি কখনোই তাকে আর কিছু দান করব না।' তখন আল্লাহ নাজিল করলেন: 'তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন নিকটাত্মীয় ও অভাবীদের দান না করার শপথ গ্রহণ না করে...' (সূরা আন-নূর, আয়াত ২২) 'রহীম' (পরম দয়ালু) পর্যন্ত।
তখন আবু বকর (রা.) বললেন: 'আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমি চাই যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন।' অতঃপর তিনি মিসতাহকে যে অর্থ সাহায্য করতেন তা পুনরায় দেওয়া শুরু করলেন এবং বললেন: 'আল্লাহর শপথ, আমি কখনোই তার এই সাহায্য বন্ধ করব না।' আয়েশা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা.)-কেও আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: 'হে জয়নাব! তুমি কী জানো বা কী দেখেছো?' তিনি বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার কান ও চোখকে (মিথ্যা বলা বা দেখা থেকে) হিফাযত করি। আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না।' আয়েশা (রা.) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই আমার সাথে মর্যাদার দিক থেকে প্রতিযোগিতায় আসতেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে তাঁর তাকওয়ার কারণে হিফাযত করেছেন।
তবে তাঁর বোন হামনাহ তাঁর পক্ষ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল এবং অপবাদ রটনাকারীদের সাথে সেও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো।ইমাম বুখারী, তিরমিযী, ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদাওয়াই আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমার সম্পর্কে সেই চর্চা হচ্ছিল যার ব্যাপারে আমি কিছুই জানতাম না—তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন: 'অতঃপর শোনো, তোমরা আমাকে এমন কিছু লোকের ব্যাপারে পরামর্শ দাও যারা আমার পরিবারকে অপবাদ দিয়ে কষ্ট দিয়েছে।
আল্লাহর শপথ, আমি আমার পরিবার সম্পর্কে মন্দ কিছুই জানি না। আর তারা এমন একজনের সাথে অপবাদ জুড়ে দিয়েছে যার সম্পর্কেও আমি কখনো মন্দ কিছু জানতাম না। সে কখনো আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে প্রবেশ করত না এবং আমি যখনই সফরে গিয়েছি, সে কেবল আমার সাথেই সফরে থাকত।'
অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং বললেন: অতঃপর, হে আয়েশা! তুমি যদি কোনো মন্দ কাজ করে থাকো বা জুলুম করে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে তওবা করো। কেননা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন।তিনি (আয়েশা) বললেন: আনসারদের একজন নারী এসেছিলেন এবং দরজায় বসে ছিলেন। তখন আমি বললাম: আপনি কি এই নারীর সামনে কিছু বলতে লজ্জাবোধ করছেন না? অতঃপর আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) উপদেশ প্রদান করলেন। তখন আমি আমার পিতার দিকে ফিরে বললাম: আপনি এর উত্তর দিন। তিনি বললেন: আমি কী বলব? তখন আমি আমার মায়ের দিকে ফিরে বললাম: আপনি উত্তর দিন।
তিনি বললেন: আমি কী বলব? যখন তারা কেউ উত্তর দিলেন না, তখন আমি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করলাম, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলাম এবং বললাম: অতঃপর—আল্লাহর শপথ—যদি আমি আপনাদের বলি যে আমি তা করিনি—অথচ আল্লাহ সাক্ষী যে আমি সত্যবাদিনী—তবে তা আপনাদের কাছে কোনো উপকারে আসবে না, কারণ আপনারা তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তা আপনাদের অন্তরে গেঁথে গেছে।আর যদি আমি বলি যে আমি তা করেছি—অথচ আল্লাহ জানেন যে আমি তা করিনি—তবে আপনারা অবশ্যই বলবেন যে সে নিজের ওপর তা স্বীকার করে নিয়েছে। আর আমি—আল্লাহর শপথ—আমার ও আপনাদের জন্য কোনো উদাহরণ খুঁজে পাচ্ছি না।আমি ইয়াকুবের নাম স্মরণ করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু আমি কেবল ইউসুফের পিতার কথাটিই মনে করতে পারলাম যখন তিনি বলেছিলেন: সুতরাং সুন্দর ধৈর্যই শ্রেয়; আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল
(সূরা ইউসুফ, আয়াত ১৮)।সেই মুহূর্তেই আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর ওহি অবতীর্ণ হতে শুরু করল এবং আমরা চুপ হয়ে গেলাম।
অতঃপর তাঁর ওপর থেকে ওহির সেই গাম্ভীর্যপূর্ণ অবস্থা দূর হলো।তখন আমি তাঁর চেহারায় খুশির আভা দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি কপাল মুছতে মুছতে বলছিলেন: হে আয়েশা! সুসংবাদ গ্রহণ করো, আল্লাহ তোমার পবিত্রতা অবতীর্ণ করেছেন। আয়েশা (রা.) বললেন: আমি আগের চেয়েও বেশি রাগান্বিত ছিলাম। তখন আমার পিতামাতা আমাকে বললেন: ওঠো, তাঁর কাছে যাও। আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর কাছে যাব না এবং আমি তাঁর প্রশংসাও করব না, বরং আমি কেবল আল্লাহরই প্রশংসা করব যিনি আমার নির্দোষিতার প্রমাণ নাযিল করেছেন। আপনারা তো সেই অপবাদ শুনেছিলেন, কিন্তু আপনারা তা অস্বীকার করেননি বা তা পরিবর্তন করেননি।
আয়েশা বলতেন: জয়নব বিনতে জাহাশকে আল্লাহ তাঁর দ্বীনদারির কারণে রক্ষা করেছিলেন, তাই তিনি কল্যাণকর কথা ছাড়া আর কিছুই বলেননি। কিন্তু তার বোন হামনাহ যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাদের সাথে ধ্বংস হলো। যারা এই অপবাদ নিয়ে আলোচনা করেছিল তারা হলো মিসতাহ, হাসান বিন সাবিত এবং মুনাফিক আবদুল্লাহ বিন উবাই। সে-ই মূলত এই কথাগুলো ছড়িয়েছে এবং পুঞ্জীভূত করেছে, আর সে-ই তাদের মধ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল—সে এবং হামনাহ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আবু বকর শপথ করলেন যে তিনি মিসতাহকে আর কখনো কোনো সাহায্য করবেন না। অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ না করে...
(সূরা নূর, আয়াত ২২)।
আয়াতের শেষ পর্যন্ত।এখানে আবু বকরকে বোঝানো হয়েছে।এবং স্বচ্ছলতা (এর অধিকারী), যেন তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তদের দান করে
—এখানে মিসতাহকে বোঝানো হয়েছে।আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন? আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু
। আবু বকর বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! আমরা অবশ্যই চাই যে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। এরপর তিনি তার জন্য (সাহায্য) পুনর্বহাল করলেন যা তিনি আগে করতেন।আহমাদ, বুখারী, সাঈদ বিন মনসুর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে মারদুওয়াই উম্মে রুমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি আয়েশার কাছে থাকা অবস্থায় এক নারী তাঁর কাছে প্রবেশ করল এবং বলল: আল্লাহ তার ছেলের সাথে এমন ও এমন আচরণ করুন।
আয়েশা বললেন: কেন? সে বলল: সে ঐ সব লোকদের মধ্যে ছিল যারা সেই সংবাদ (অপবাদ) আলোচনা করেছে। আয়েশা বললেন: কোন সংবাদ? সে বলল: এই এই। আমি (আয়েশা) বললাম: আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কাছেও কি তা পৌঁছেছে? সে বলল: হ্যাঁ।
