An-Nur
আন-নূর: 46
মূল আরবি
لَّقَدْ أَنزَلْنَآ ءَايَـٰتٍ مُّبَيِّنَـٰتٍ ۚ وَٱللَّهُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
English Translations
We have certainly sent down distinct verses. And Allāh guides whom He wills to a straight path.
We have indeed sent down (in this Quran) manifest Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, lawful and unlawful things, and the set boundries of Islamic religion, etc. that make things clear showing the Right Path of Allah). And Allah guides whom He wills to a Straight Path (i.e. to Allah's religion of Islamic Monotheism).
We have surely sent down enlightening verses, and Allah guides whom He wills to the straight path.
Verily We have sent down revelations that clearly explain the Truth. Allah guides whomsoever He wills to a Straight Way.
Verily We have sent down revelations and explained them. Allah guideth whom He will unto a straight path.
We have indeed sent down signs that make things manifest: and Allah guides whom He wills to a way that is straight.
বাংলা অনুবাদ
আমি সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি, আল্লাহ যাকে চান সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ দেখান।
আমিতো সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
অবশ্যই আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, আর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
আমি সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি, আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
৪৬. নিশ্চয়ই আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নাযিল করেছি যাতে কোন সন্দেহ নেই। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকে এমন সরল পথের তাওফীক দেন যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই। যে পথ তাকে জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে।
তাফসীর
এই নৈপুণ্যপূর্ণ আহকাম ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্তসমূহ এই কুরআন কারীমে আল্লাহ তা'আলাই বর্ণনা করেছেন। তিনি জ্ঞানীদেরকে বুঝবার তাওফীক দিয়েছেন। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল সঠিক পথ-প্রদর্শন করেন।
অবশ্যই আমরা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, আর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
[সূরা আন-নূর (২৪): আয়াত ৪৫ থেকে ৪৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আন-নূর (২৪): আয়াত ৪৫ থেকে ৪৬]আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে কিছু আছে যারা পেটে ভর দিয়ে চলে, কিছু আছে যারা দুই পায়ে চলে এবং কিছু আছে যারা চার পায়ে চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। (৪৫) আমি অবশ্যই সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। (৪৬)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন) ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব, আমাশ, হামযাহ এবং কিসাঈ সম্বন্ধ পদ (ইযাফাত) যোগে ‘আল্লাহু খালিকু কুল্লি’ (আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা) পাঠ করেছেন।
অবশিষ্ট ক্বারীগণ ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘খালাকা’ (সৃষ্টি করেছেন) পড়েছেন। বলা হয়েছে যে, উভয় ক্বিরাআতের অর্থই সঠিক। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা দুটি সংবাদ দিয়েছেন, তাই এখানে এমনটি বলা উচিত নয় যে—একটি ক্বিরাআত অন্যটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। কেউ কেউ বলেছেন: ‘খালাকা’ (সৃষ্টি করেছেন) শব্দ বিশেষ কিছুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর ‘খালিক’ (স্রষ্টা) শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়; যেমন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: ‘তিনিই স্রষ্টা, উদ্ভাবক’ (সূরা হাশর: ২৪)। আর বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে যেমন: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আনআম: ১); তদ্রূপ: ‘তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে’ (সূরা আরাফ: ১৮৯)।
সুতরাং এখানেও হওয়া আবশ্যক: ‘আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন’। আর ‘দাব্বাহ’ হলো ভূমির ওপর বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী। বলা হয়: সে বিচরণ করে বা ঘষটে চলে, তাই সে বিচরণকারী। এখানে ‘হা’ বর্ণটি আধিক্য বোঝানোর জন্য এসেছে। এ বিষয়ে সূরা ‘বাকারাহ’-তে আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। (পানি থেকে) এর মধ্যে জিন ও ফেরেশতাগণ অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ আমরা তাঁদের প্রত্যক্ষ করি না এবং তাঁরা পানি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন বলেও প্রমাণিত নয়। বরং সহীহ হাদিসে এসেছে যে, (ফেরেশতারা নূর থেকে সৃষ্টি এবং জিনরা আগুন থেকে সৃষ্টি)। এটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
মুফাসসিরগণ বলেন: ‘পানি থেকে’ অর্থাৎ শুক্রবিন্দু থেকে। নাক্কাশ বলেন: তিনি পুরুষের বীর্য বুঝিয়েছেন। অধিকাংশ গবেষক বলেন: তিনি বুঝিয়েছেন যে প্রতিটি প্রাণীর অবয়বে পানি রয়েছে, যেমন আদম (আ.) পানি ও মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছিলেন। এর আলোকেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই উক্তিটি ব্যাখ্যা করা হয়, যা তিনি বদর যুদ্ধে এক বৃদ্ধের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন। সে জিজ্ঞেস করেছিল: আপনারা কোন গোত্রের? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: (আমরা পানি থেকে)। (হাদিস)। একদল লোক বলেন: জিন ও ফেরেশতাদের ব্যতিক্রম করা যাবে না, বরং প্রতিটি প্রাণীই পানি থেকে সৃষ্টি।
এমনকি আগুন পানি থেকে সৃষ্টি এবং বাতাসও পানি থেকে সৃষ্টি; কারণ মহান আল্লাহ জগতের মধ্যে সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো পানি, অতঃপর তা থেকে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।(১). দ্রষ্টব্য: ১৮শ খণ্ড, ৪৮ পৃষ্ঠা। [ ..... ](২). দ্রষ্টব্য: ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৮৩ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য: ৭ম খণ্ড, ৩৩৭ পৃষ্ঠা।(৪). দ্রষ্টব্য: ২য় খণ্ড, ১৯৬ পৃষ্ঠা।(৫). ‘কাফ’ পাণ্ডুলিপি থেকে।(৬). দ্রষ্টব্য: ১০ম খণ্ড, ২৩ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ।
