Al-Insan

আল-ইনসান: 23

76:23
টেক্সট কপি
76 আল-ইনসান Al-Insan · 31 আয়াত الانسان

মূল আরবি

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ تَنزِيلًا

English Translations

Sahih International

Indeed, it is We who have sent down to you, [O Muḥammad], the Qur’ān progressively.

Muhsin Khan

Verily! It is We Who have sent down the Quran to you (O Muhammad SAW) by stages.

Taqi Usmani

Indeed we have revealed to you the Qur’ān through a gradual process.

Abul Ala Maududi

(O Prophet), indeed We have revealed the Qur'an to you in portions.

Pickthall

Lo! We, even We, have revealed unto thee the Qur'an, a revelation;

Yusuf Ali

It is We Who have sent down the Qur'an to thee by stages.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

(হে নবী!) আমি তোমার কাছে কুরআন অবতীর্ণ করেছি ক্রমে ক্রমে (অল্প অল্প করে)।

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি পর্যায়ক্রমে আল-কুরআন নাযিল করেছি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি পর্যায়ক্রমে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নিশ্চয় আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি ক্রমে ক্ৰমে।

ফাতহুল মাজীদ

নিশ্চয়ই আমি তোমার ওপর কুরআন ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ করেছি,

মুখতাসার

২৩. হে রাসূল! আমি আপনার উপর কুরআনকে একবারে নয় বরং বিভিন্ন সময়ে কিছু কিছু করে অবতীর্ণ করেছি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৩-৩১ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-এর উপর যে খাস অনুগ্রহ করেছেন তা তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে বলেনঃ আমি ক্রমে ক্রমে অল্প অল্প করে এই কুরআন তোমার উপর অবতীর্ণ করেছি। এখন এই অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে তুমি আমার পথে ধৈর্যের সাথে কাজ করে যাও। আমার ফায়সালার উপর ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ থাকো। তুমি দেখবে যে, আমি তোমাকে অত্যন্ত নিপুণতার সাথে মহাসম্মানিত স্থানে পৌঁছিয়ে দিবো। এই কাফির ও মুনাফিকদের কথার প্রতি তুমি মোটেই ভ্রূক্ষেপ করবে না। তারা তোমাকে এই তাবলীগের কাজে বাধা দিলেও তুমি তাদের বাধা মানবে না। বরং তাবলীগের কাজে তুমি নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাবে।

তুমি নিরাশ ও মনঃক্ষুন্ন হবে না। আমার সত্ত্বার উপর তুমি ভরসা রাখবে। আমি তোমাকে লোকদের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবো। তোমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার। (আরবি) বলা হয় বা দুষ্কর্মশীল নাফরমানকে। আর (আরবি) হলো ঐ ব্যক্তি যার অন্তর সত্যকে প্রত্যাখ্যানকারী।মহান আল্লাহ বলেনঃ তুমি সকাল ও সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর। অর্থাৎ দিনের প্রথম ও শেষ ভাগে আল্লাহর নাম স্মরণ কর।আর রাত্রির কিয়দংশে তাঁর প্রতি সিজদায় নত হও এবং রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। যেমন আল্লাহ পাক অন্যত্র বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, এটা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য।

আশা করা যায় যে, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।” (১৭:৭৯) মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রি জাগরণ কর, কিছু অংশ ব্যতীত, অর্ধ রাত্রি কিংবা তদপেক্ষা অল্প অথবা তদপেক্ষা বেশী। আর কুরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে, স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে।” (৭৩:১-৪)এরপর কাফিরদেরকে ধমকের সুরে বলা হচ্ছেঃ তোমরা দুনিয়ার প্রেমে পড়ে আখিরাতকে পরিত্যাগ করো না। ওটা বড়ই কঠিন দিন। এই নশ্বর জগতের পিছনে পড়ে ঐ ভয়াবহ দিন হতে উদাসীন থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ সবারই সৃষ্টিকর্তা আমিই।

সবারই গঠন সুদৃঢ় আমিই করেছি। কিয়ামতের দিন তাদেরকে নতুনভাবে সৃষ্টি করার পূর্ণ ক্ষমতাও আমার রয়েছে। এটাকে অর্থাৎ প্রথম সৃষ্টিকে পুনর্বার সৃষ্টিকরণের দলীল বানানো হয়েছে। আবার এর ভাবার্থ এও হবেঃ আমি যখন ইচ্ছা করবো তখন তাদের পরিবর্তে তাদের অনুরূপ এক জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবো। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “হে লোক সকল! তিনি (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সরিয়ে অন্যদেরকে আনয়ন করবেন এবং এর উপর আল্লাহ পূর্ণ ক্ষমতাবান।” (৪:১৩৩) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সরিয়ে দিয়ে অন্য জাতি আনয়ন করবেন এবং ওটা আল্লাহর উপর মোটেই কঠিন কাজ নয়।” (১৪:১৯-২০) এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয়ই এটা এক উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।

যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যদি তারা আল্লাহর উপর ও পরকালের উপর ঈমান আনতো তবে তাদের উপর কি বোঝা চাপতো? (শেষ পর্যন্ত)!” (৪:৩৯)অতঃপর ইরশাদ হচ্ছেঃ ব্যাপার এই যে, তোমরা ইচ্ছা করবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। যারা হিদায়াত লাভের যোগ্য পাত্র তাদের জন্যে তিনি হিদায়াতের পথ সহজ করে দেন এবং হিদায়াতের উপকরণ প্রস্তুত করে দেন। আর যে নিজেকে পথভ্রষ্টতার পাত্র বানিয়ে নেয় তাকে তিনি হিদায়াত হতে দূরে সরিয়ে দেন। প্রত্যেক কাজেই তার পূর্ণ নিপুণতা ও পুরো যুক্তি রয়েছে। তিনি যাকে ইচ্ছা করেন নিজের রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দেন এবং সরল সঠিক পথে দাঁড় করিয়ে দেন।

আর যাকে ইচ্ছা করেন পথভ্রষ্ট করে থাকেন এবং সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন না। তার হিদায়াতকে না কেউ হারিয়ে দিতে পারে এবং না কেউ তার গুমরাহীকে হিদায়াতে পরিবর্তিত করতে পারে। তার শাস্তি পাপী, যালিম এবং অন্যায়কারীর জন্যে নির্দিষ্ট রয়েছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নিশ্চয় আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি ক্রমে ক্ৰমে।

‘দ্বিতীয় রুকূ’

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ইনসান (৭৬): আয়াত ২৩ থেকে ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মুজাহিদ (রহ.) বলেন: 'মাশকুরা' অর্থ কবুলকৃত বা গৃহীত; আর এই দুই অর্থের মর্ম কাছাকাছি। কেননা মহান আল্লাহ যখন কোনো আমল কবুল করেন, তখন তিনি তার প্রতিদান প্রদান করেন। আর যখন তিনি প্রতিদান প্রদান করেন, তখন তার বিনিময়ে প্রচুর সওয়াব দান করেন; কেননা তিনি মহান অনুগ্রহের অধিকারী। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক হাবশী ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা রূপ-লাবণ্য, গাত্রবর্ণ এবং নবুওয়াতের মাধ্যমে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। আমি যদি আপনার ঈমান আনীত বিষয়ের ওপর ঈমান আনি এবং আপনার কৃত আমলের ন্যায় আমল করি, তবে কি আমি আপনার সাথে জান্নাতে থাকতে পারব?

তিনি বললেন: [হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! জান্নাতে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির শুভ্রতা এবং তার জ্যোতি এক হাজার বছরের পথ দূরত্ব থেকে দেখা যাবে।] অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: [যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহর নিকট তার জন্য একটি অঙ্গীকার থাকবে। আর যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহ' বলবে, তার জন্য আল্লাহর নিকট এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নেকি লিপিবদ্ধ হবে।] তখন লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এর পর আমরা কীভাবে ধ্বংস হতে পারি? তিনি বললেন: [কিয়ামতের দিন একজন মানুষ এমন আমল নিয়ে উপস্থিত হবে যা পাহাড়ের ওপর রাখা হলে তা নুয়ে পড়বে।

অতঃপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের মধ্য হতে একটি নেয়ামত আসবে এবং তা সেই সমস্ত আমল নিঃশেষ করে দেওয়ার উপক্রম হবে, যদি না আল্লাহ তাঁর রহমতের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন।] বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সূরা ইনসানের "মানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি..." থেকে "বিশাল রাজত্ব" পর্যন্ত অবতীর্ণ হলো। হাবশী লোকটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চোখ জান্নাতে যা দেখবে, আমার চোখ দুটিও কি তা দেখতে পাবে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (হ্যাঁ)। তখন হাবশী লোকটি কাঁদতে লাগলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে তাঁর মৃত্যু হলো। ইবনে উমর (রা.) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখলাম তিনি তাকে কবরে রাখছেন এবং বলছেন: "নিশ্চয় এটি তোমাদের জন্য প্রতিদান এবং তোমাদের প্রচেষ্টা ছিল কবুলকৃত।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল!

সেটি কী? তিনি বললেন: [সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহ তাকে দাঁড় করিয়েছেন, অতঃপর বলেছেন: হে আমার বান্দা! আমি অবশ্যই তোমার চেহারা উজ্জ্বল করব এবং জান্নাতের যেখানে তুমি চাও সেখানেই তোমাকে বসবাসের স্থান দেব। সুতরাং আমলকারীদের প্রতিদান কতই না উত্তম!] ‌‌[সূরা আল-ইনসান (৭৬): আয়াত ২৩ থেকে ২৬]নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি ক্রমে ক্রমে। (২৩) সুতরাং আপনার পালনকর্তার নির্দেশের জন্য ধৈর্য ধারণ করুন এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করবেন না। (২৪) এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন।

(২৫) আর রাতের এক অংশে তাঁকে সিজদাহ করুন এবং রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন। (২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি ক্রমে ক্রমে) - এটি আপনি নিজে উদ্ভাবন করেননি এবং আপনার পক্ষ থেকে বা আপনার নিজের থেকে এটি আনয়ন করেননি, যেমনটি মুশরিকরা দাবি করে থাকে। এই আয়াতটি পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দিকটি হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন পুরস্কার ও শাস্তির বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা করলেন, তখন তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, এই কিতাবটি সেই সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যার প্রয়োজন মানুষের রয়েছে।

সুতরাং এটি কোনো জাদু নয়।(১). পাণ্ডুলিপি 'আলিফ', 'হা' এবং 'ওয়াও'-তে রয়েছে: (এর পরে)।(২). পাণ্ডুলিপি 'যা', 'তা' এবং 'লাম'-এ রয়েছে: দয়া বা অনুগ্রহ করবেন।