Al-Insan
আল-ইনসান: 1
মূল আরবি
هَلْ أَتَىٰ عَلَى ٱلْإِنسَـٰنِ حِينٌ مِّنَ ٱلدَّهْرِ لَمْ يَكُن شَيْـًٔا مَّذْكُورًا
English Translations
Has there [not] come upon man a period of time when he was not a thing [even] mentioned?
Has there not been over man a period of time, when he was nothing to be mentioned?
There has come upon man a period of time in which he was nothing worth mentioning.
Was there a period of time when man was not even worthy of a mention?
Hath there come upon man (ever) any period of time in which he was a thing unremembered?
Has there not been over Man a long period of Time, when he was nothing - (not even) mentioned?
বাংলা অনুবাদ
মহাকালের মধ্য হতে মানুষের উপর কি এমন একটা সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখ করার যোগ্য কোন বস্তুই ছিল না?
মানুষের উপর কি কালের এমন কোন ক্ষণ আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
কাল-প্রবাহে মানুষের উপর এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিলনা।
কালপ্রবাহে মানুষের উপর কি এমন এক সময় আসে নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
মানুষের ওপর অন্তহীন মহাকালের এমন এক সময় কি আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
১. মানুষের উপর এমন এক সুদীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে যাতে সে অনুল্লেখযোগ্য নিরুদ্দেশ ছিলো।
তাফসীর
সহীহ্ মুসলিমের হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীস ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) জুমআ’র দিন ফজরের নামাযে সূরা আলিফ-লাম-তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইনসান পাঠ করতেন। একটি মুরসাল গারীব হাদীসে রয়েছে যে, যখন এই সূরাটি অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তা পাঠ করেন তখন তাঁর নিকট একটি কালো বর্ণের সাহাবী (রাঃ) বসেছিলেন। যখন জান্নাতের গুণাবলীর বর্ণনা আসে তখন হঠাৎ তাঁর মুখ হতে একটা ভীষণ চীৎকার বের হয় এবং সাথে সাথে তাঁর দেহ হতে প্রাণ পাখী উড়ে যায়। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে বলেনঃ “তোমাদের সাথী এবং তোমাদের ভাই-এর প্রাণ জান্নাতের আগ্রহে বেরিয়ে গেছে।” ১-৩ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, তিনি মানুষকে এমন অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন যে, তার নিকৃষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না।
তিনি তাকে পুরুষ ও নারীর মিলিত শুক্রের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন এবং বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত করার পর তাকে বর্তমান রূপ ও আকৃতি দান করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ আমি তাকে পরীক্ষা করবার জন্যে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন করেছি। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তোমাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্যে যে, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম?” (৬৭:২) সুতরাং তিনি তোমাদেরকে কর্ণ ও চক্ষু দান করেছেন যাতে আনুগত্য ও অবাধ্যতার মধ্যে পার্থক্য করতে পার।মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি। অর্থাৎ অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে আমার সরল সোজা পথ তোমার কাছে খুলে দিয়েছি।
যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “সামূদ সম্প্রদায়কে আমি পথের নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা অন্ধত্বকে হিদায়াতের উপর প্রাধান্য দিয়েছিল।” (৪১:১৭) আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি তাকে দু'টি পথই দেখিয়েছি।” (৯০:১০) অর্থাৎ ভাল ও মন্দ দু'টি পথই প্রদর্শন করেছি। (আরবি)-এই আয়াতের তাফসীরে হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত আবূ সালিহ্ (রঃ), হযরত যহহাক (রঃ) এবং হযরত সুদ্দী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, পথ দেখানো দ্বারা উদ্দেশ্য হলোঃ আমি তাকে মায়ের পেট হতে বের হবার পথ দেখিয়েছি। কিন্তু এটা গারীব উক্তি।
প্রথম উক্তিটিই সঠিক।(আরবি) এখানে (আরবি) হওয়ার কারণে (আরবি) এবং (আরবি)-এর উপর (আরবি) বা যবর হয়েছে। এর (আরবি) হলো (আরবি) এর সর্বনামটি। অর্থাৎ আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি এমন অবস্থায় যে সে হতভাগ্য বা ভাগ্যবান। যেমন সহীহ মুসলিমে হযরত আবূ মালিক আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক ব্যক্তি সকাল বেলায় স্বীয় নফসকে বিক্রিকারী হয়ে থাকে, হয় সে ওকে মুক্তকারী হয়, না হয় ওকে ধ্বংসকারী হয়।”মুসনাদে আহমাদে হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। যে, নবী (সঃ) হযরত কা'ব ইবনে আজরা (রাঃ)-কে বলেনঃ “আল্লাহ তোমাকে নির্বোধদের নেতৃত্ব হতে রক্ষা করুন!” হযরত কাব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!
নির্বোধদের নেতৃত্ব কি?" উত্তরে তিনি বললেনঃ “তারা ঐ সব নেতা যারা আমার পরে নেতৃত্ব লাভ করবে। তারা না আমার সুন্নাতের উপর আমল করবে, না আমার তরীকার উপর চলবে। যারা তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে এবং উৎপীড়নমূলক কার্যে সাহায্য করবে তারা আমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। জেনে রেখো যে, তারা আমার হাউযে কাওসারের উপরও আসতে পারবে না। পক্ষান্তরে, যারা তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে না এবং তাদের অত্যাচারমূলক কাজে সাহায্য সহযোগিতা করবে না তারা আমার এবং আমি তাদের। তারা আমার হাউযে কাওসারে আমার সাথে মিলিত হবে।
হে কা'ব (রাঃ)! রোযা ঢাল স্বরূপ, সাদকা বা দান-খয়রাত পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয় এবং নামায আল্লাহর নৈকট্য লাভের কারণ অথবা বলেছেনঃ মুক্তির দলীল। হে কাব (রাঃ)! (দেহের) ঐ গোশত জান্নাতে প্রবেশ করবে না যা হারাম দ্বারা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে। ওটা জাহান্নামেরই যোগ্য। হে কা'ব (রাঃ)! মানুষ সকাল বেলায় নিজের নফসকে বিক্রী করে থাকে। কেউ ওকে আযাদকারী হয় এবং কেউ হয় ওকে ধ্বংসকারী।” সূরা রূমের (আরবি) আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (৩০:৩০) এ আয়াতের তাফসীরে হযরত জাবির (রাঃ)-এর রিওয়াইয়াতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিম্নের উক্তিটি গত হয়েছেঃ “প্রত্যেক সন্তান ইসলামের ফিতরাত বা প্রকৃতির উপর সৃষ্ট হয়ে থাকে, শেষ পর্যন্ত তার জিহ্বা চলতে থাকে, হয় সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।”মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তিই (বাড়ী হতে) বের হয় তারই দরজার উপর দু’টি পতাকা থাকে, একটি থাকে ফেরেশতার হাতে এবং অপরটি থাকে শয়তানের হাতে।
যদি সে এমন কাজের জন্যে বের হয়ে থাকে যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট, তবে ফেরেশতা তাঁর পতাকা নিয়ে তার সাথী হয়ে যান এবং তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সে ফেরেশতার পতাকার নীচেই থাকে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে বের হয়, শয়তান তার পতাকা নিয়ে তার সাথে হয়ে যায় এবং তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সে শয়তানের পতাকা তলেই থাকে।”
কালপ্রবাহে মানুষের উপর কি এমন এক সময় আসে নি [১] যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না [২] ?
[১] সূরা ‘আল-ইনসান’ এর অপর নাম সূরা আদ্-দাহ্র। সাহাবায়ে কিরাম সূরাটিকে সূরা ‘হাল আতা আলাল ইনসান’ বলতেন। [দেখুন, বুখারী: ৮৮০; মুসলিম: ৮৭৯] এতে মানব সৃষ্টির আদি-অন্ত, কর্মের প্রতিদান ও শাস্তি, কেয়ামত জান্নাত ও জাহান্নামের বিশেষ বিশেষ অবস্থার উপর বিশুদ্ধ ও সাবলীল ভঙ্গিতে আলোকপাত করা হয়েছে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুক্রবার দিন ফজরের সালাতে “সূরা আলিফ লাম মীম তানযীল আস-সাজদাহ” এবং “হাল আতা আলাল ইনসান” সূরা পড়তেন। [বুখারী: ৮৯১, মুসলিম: ৮৮০, ৮৭৯]
________________________________________
সূরা সংক্রান্ত আলোচনাঃ
আয়াত সংখ্যাঃ ৩১ আয়াত।
নাযিল হওয়ার স্থানঃ মাদানী, মতান্তরে মক্কী।
। রহমান, রহীম আল্লাহ্র নামে ।
[১] هل অব্যয়টি আসলে প্রশ্নবোধকরূপে ব্যবহৃত হয়। মাঝে মাঝে কোন জাজ্বল্যমান ও প্রকাশ্য বিষয়কে প্রশ্নের আকারে ব্যক্ত করা যায়, যাতে তার প্রকাশ্যতা আরও জোরদার হয়ে যায়। [ফাতহুল কাদীর] উদ্দেশ্য এই যে, যাকেই জিজ্ঞাসা করবে, সে এ উত্তরই দিবে, অপর কোন সম্ভাবনাই নেই।
[২] আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, মানুষের উপর এমন দীর্ঘ এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন পৃথিবীতে তার নাম-নিশানা এমন কি, আলোচনা পর্যন্ত ছিল না। আয়াতে বৰ্ণিত “যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না” এর অর্থ বর্ণনায় কয়েকটি মত রয়েছে, এক. এখানে মানবসৃষ্টির পূর্বের অবস্থা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এ অন্তহীন মহাকালের মধ্যে একটি দীর্ঘ সময় তো এমন অতিবাহিত হয়েছে যখন মানব প্ৰজাতির আদৌ কোন অস্তিত্ব ছিল না। তারপর মহাকাল প্রবাহে এমন একটি সময় আসল যখন মানুষ নামের একটি প্রজাতির সূচনা করা হল। [কুরতুবী] দুই. সে একটি ধড় ছিল যার কোন নাম-নিশানা ছিল না। পরবর্তীতে রূহ এর মাধ্যমে তাকে স্মরণীয় করা হয়েছে। [বাগভী; কুরতুবী]
[সূরা আল-ইনসান (৭৬): আয়াত ১ থেকে ৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-ইনসানের তাফসির]সূরা আল-ইনসান; এটি একত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট এবং ইবনে আব্বাস, মুকাতিল ও কালবীর মতে এটি মাক্কী সূরা। জমহুর (অধিকাংশ) উলামাগণের মতে এটি মাদানী। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এতে মাক্কী অংশ রয়েছে, যা মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি পর্যায়ক্রমে কুরআন নাযিল করেছি" [আল-ইনসান: ২৩] থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত, আর এর পূর্ববর্তী অংশ মাদানী। ইবনে ওয়াহাব উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'মানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি' তিলাওয়াত করছিলেন যখন এটি তাঁর ওপর নাযিল হয়েছিল।
তাঁর নিকট একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করছিলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর বোঝা বৃদ্ধি করো না। তিনি বললেন: (হে খাত্তাব তনয়, তাকে ছেড়ে দাও)। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তাঁর নিকট ওই ব্যক্তির উপস্থিতিতেই এই সূরাটি নাযিল হলো। যখন তিনি এটি তার সামনে পাঠ করলেন এবং জান্নাতের বর্ণনায় পৌঁছালেন, তখন সে এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল এবং তার প্রাণবায়ু নির্গত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (তোমাদের এই সাথীর -অথবা ভাইয়ের- আত্মা জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা হেতু নির্গত হয়েছে)।
ইবনে উমর থেকে এই শব্দের ভিন্নরূপও বর্ণিত হয়েছে, যা সামনে আসবে। কুশায়রী বলেন: এই সূরাটি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তবে সূরার উদ্দেশ্য বা মর্মার্থ ব্যাপক। আর এই নীতিটি সেই সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে বলা হয় যে, এটি অমুক অমুক কারণে নাযিল হয়েছে।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে [সূরা আল-ইনসান (৭৬): আয়াত ১ থেকে ৩]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেমানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না? (১) নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, যেন আমি তাকে পরীক্ষা করি; অতঃপর আমি তাকে শ্রবণকারী ও দর্শনকারী করেছি (২) নিশ্চয়ই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে (৩)মহান আল্লাহর বাণী: (মানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না) - এখানে 'হাল' (কি) শব্দটি 'কদ' (নিশ্চয়ই/ইতিমধ্যে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কিসায়ী, ফাররা এবং আবু উবায়দাহ এ কথা বলেছেন। সিবওয়াইহি থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, 'হাল' শব্দটি 'কদ' অর্থে ব্যবহৃত হয়।(১). আয়াত ২৩।(২). 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (এর প্রাক্কলন)।
যে সময়টি সম্পর্কে জানা যায়, সে বিষয়ে আমি বললাম: এমন কিছু সময় রয়েছে যা অনুধাবন করা যায় না, যেমন আল্লাহর বাণী: (মানুষের ওপর মহাকালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না) (সূরা আল-ইনসান, আয়াত: ১)। আল্লাহর শপথ, সৃষ্টির পূর্ব পর্যন্ত তার ওপর দিয়ে কত সময় অতিক্রান্ত হয়েছে তা আমরা জানি না। আর যে সময়টি অনুধাবন করা যায় তা হলো আল্লাহর বাণী: তা প্রতিটি সময়ে ফল দান করে
, এটি এক বছর থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত সময়কাল। তখন তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস! তুমি সঠিক বলেছ, তুমি কতই না চমৎকার বলেছ। ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে জারির, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং বায়হাকি সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘হিন’ বা সময় বলতে দুই মাস বোঝায়, আর খেজুর গাছের ফল ধারণের সময় হলো দুই মাস।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারির, ইবনে মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: তা প্রতিটি সময়ে ফল দান করে
, তিনি বলেন: এর ফল শীত ও গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতেই খাওয়া হয়।বায়হাকি কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: তা প্রতিটি সময়ে ফল দান করে
, তিনি বলেন: প্রতি সাত মাসে।ইবনে মারদুবাইহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: তা প্রতিটি সময়ে ফল দান করে
, তিনি বলেন: এটি নারিকেল গাছ, যা ফলহীন থাকে না এবং প্রতি মাসেই ফল দান করে।ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়
, তিনি বলেন: এটি জান্নাতের একটি গাছ।আর আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: একটি মন্দ বৃক্ষের ন্যায়
, তিনি বলেন: এটি একটি উদাহরণ যা আল্লাহ পেশ করেছেন, আল্লাহ জমিনের বুকে এই গাছটি সৃষ্টি করেননি।ইবনে মারদুবাইহ আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তর্দৃষ্টি ও বাহ্যিক দিক পরীক্ষা করেছেন এবং আরবদের মধ্যে কুরাইশদের সর্বশ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত করেছেন।আর এটিই সেই বরকতময় বৃক্ষ যার সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: উদাহরণস্বরূপ একটি পবিত্র বাক্য
অর্থাৎ কুরআন; একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়
যার দ্বারা কুরাইশদের বোঝানো হয়েছে; যার মূল সুদৃঢ়
অর্থাৎ এর ভিত্তি সুদৃঢ় ও বিশাল; এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত
অর্থাৎ সেই মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন, যার প্রতি আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিয়েছেন এবং তাদের এর অনুসারী করেছেন।ইবনে মারদুবাইহ হাইয়ান ইবনে শুবা সূত্রে আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: একটি মন্দ বৃক্ষের ন্যায়
, তিনি বলেন: এটি হলো ‘শারইয়ান’।আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম: ‘শারইয়ান’ কী?
তিনি বললেন: মাকাল ফল।ইবনে আবি হাতিম আবু সাখর হুমাইদ ইবনে যিয়াদ আল-খাররাত থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মন্দ বৃক্ষ হলো সেই গাছ যা মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
