Saba
সাবা: 28
মূল আরবি
وَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ إِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
English Translations
And We have not sent you except comprehensively to mankind as a bringer of good tidings and a warner. But most of the people do not know.
And We have not sent you (O Muhammad SAW) except as a giver of glad tidings and a warner to all mankind, but most of men know not.
We did not send you (O prophet,) but to the entire mankind, as a bearer of good news and as a warner, but most people do not know.
(O Prophet), We have not sent you forth but as a herald of good news and a warner for all mankind. But most people do not know.
And We have not sent thee (O Muhammad) save as a bringer of good tidings and a warner unto all mankind; but most of mankind know not.
We have not sent thee but as a universal (Messenger) to men, giving them glad tidings, and warning them (against sin), but most men understand not.
বাংলা অনুবাদ
আমি তোমাকে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
আর আমি তো কেবল তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না,
আমিতো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানেনা।
আর আমরা তো আপনাকে সমগ্ৰ মানুষের জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
আমি তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
২৮. হে রাসূল! আমি সকল মানুষের তরে আপনাকে কেবল রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। আল্লাহভীরুদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং কাফির ও পাপিষ্ঠদেরকে জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনকারী হিসাবে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ তা জানে না। যদি তারা জানত তবে আপনাকে মিথ্যাবাদী বলত না।
তাফসীর
২৮-৩০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কে বলছেনঃ আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্যে রাসূল করে পাঠিয়েছি। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে রাসূল সঃ)! তুমি বলে দাও হে লোক সকল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবারই নিকট আল্লাহর রাসূল রূপে প্রেরিত হয়েছি।”(৭:১৫৮) আর এক আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “কত মহান তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকার অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্ব জগতের জন্যে সতর্ককারী হতে পারে।”(২৫:১) এখানেও আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি তো তোমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞতাবশতঃ নবী (সঃ)-কে মানে না।
যেমন অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি কামনা করলেও অধিকাংশ লোকই মুমিন নয়।"(১২:১০৩) আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তুমি ভূ-পৃষ্ঠের অধিকাংশ লোকের কথা মেনে চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে ভ্রষ্ট করে দেবে।”(৬:১১৬)সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর রিসালাত সাধারণ লোকদের জন্যে ছিল। আরব, অনারব সবারই জন্যেই ছিলেন তিনি নবী। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত হলো ঐ ব্যক্তি যে তার খুব বেশী অনুগত।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কে আকাশবাসীর উপর এবং নবীদের উপর সবারই উপর ফযীলত দান করেছেন।
জনগণ এর দলীল জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ দেখো, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার কওমের ভাষাসহ পাঠিয়েছি যাতে সে তাদের সামনে খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারে।”(১৪:৪) (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে যা অন্য কোন নবীকে দেয়া হয়নি। এক মাসের পথ পর্যন্ত আমাকে শুধু প্রভাব ও গাম্ভীর্য দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। (এক মাসের পথের দূরত্ব হতে শত্রুরা আমার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়)। আমার জন্যে সমস্ত যমীনকে সিজদার জায়গা ও পবিত্র করা হয়েছে।
আমার উম্মতের যে কেউই যে কোন জায়গাতেই থাক, নামাযের সময় হয়ে গেলে সে সেখানেই নামায পড়ে নিতে পারে। আমার পূর্বে কোন নবীর জন্যে গানীমতের মাল হালাল ছিল না। কিন্তু আমার জন্যে তা হালাল করা হয়েছে। প্রত্যেক নবীকে শুধু তার কওমের নিকট পাঠানো হয়েছিল, আর আমাকে সমস্ত মানুষের নিকট নবী করে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ দানব ও মানব এবং আরব ও অনারব সবারই নিকট আমি নবীরূপে প্রেরিত হয়েছি।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)এরপর কাফিররা যে কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করতো, আল্লাহ্ তা'আলা এখানে তারই বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তারা জিজ্ঞেস করেতোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলঃ এই প্রতিশ্রুতি (কেয়ামতের প্রতিশ্রুতি) কখন বাস্তবায়িত হবে?
যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কেয়ামতকে যারা বিশ্বাস করে না তারা এ ব্যাপারে তাড়াহুড়া করে। আর মুমিনরা ওর ভয়ে প্রকম্পিত হয় এবং তারা জানে যে, ওটা (সংঘটিত হওয়া) সত্য।”(৪২:১৮)।তাদের কথার উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমাদের জন্যে আছে এক নির্ধারিত দিন, যা তোমরা বিলম্বিত করতে পারবে না এবং ত্বরান্বিত করতেও পারবে না। যেমন অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্ধারিত সময় যখন এসে যাবে তখন ওটাকে পিছনে সরানো হবে না।”(৭১:৪) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তাকে নির্ধারিত সময়কাল পর্যন্তই অবকাশ দিচ্ছি।
ঐ দিন যখন এসে যাবে তখন তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। সেই দিন কেউ হবে হতভাগ্য এবং কেউ হবে সৌভাগ্যবান।”(১১:১০৪-১০৫)
আর আমরা তো আপনাকে সমগ্ৰ মানুষের জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি [১]; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
[১] আলোচ্য আয়াতে রেসালাতের বিষয় বর্ণিত হয়েছে এবং বিশেষভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আমাদের রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বের সমগ্র জাতিসমূহের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। [তাবারী, ইবন কাসীর]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেবল তার নিজের দেশ বা যুগের জন্য নয় বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্ৰ মানব জাতির জন্য পাঠানো হয়েছে, একথা কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছেঃ “আর আমার প্রতি এ কুরআন অহীর সাহায্যে পাঠানো হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার কাছে এ বাণী পৌঁছে যায় তাকেই সতর্ক করে দেই।" [সূরা আলআন’আম: ১৯৭] “হে নবী ! বলে দিন, হে মানবজাতি, আমি হচ্ছি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল।” [সূরা আল-আরাফ: ১৫৮] “আর হে নবী ! আমি পাঠিয়েছি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্যই রহমত হিসেবে।" [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭] “বড়ই বরকতসম্পন্ন তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান নাযিল করেছেন যাতে তিনি সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্য সতর্ককারীতে পরিণত হন।” [সূরা আল-ফুরকান: ১] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই এই একই বক্তব্য বিভিন্ন হাদীসে বিভিন্নভাবে পেশ করেছেন।
যেমন, “আমাকে সাদা কালো সবার কাছে পাঠানো হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৩০৪, ৪/৪১৬] “আমাকে ব্যাপকভাবে সমস্ত মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অথচ আমার আগে যে নবীই অতিক্রান্ত হয়েছেন তাঁকে নির্দিষ্ট জাতির কাছে পাঠানো হতো।” [মুসনাদে আহমাদ: ২/২২২] “প্ৰথমে প্রত্যেক নবীকে বিশেষভাবে তার জাতির কাছে পাঠানো হতো আর আমাকে সমগ্ৰ মানব জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে। [বুখারী:৩৩৫, মুসলিম: ৫২১] “আমার আগমন ও কিয়ামতের অবস্থান এরূপ, একথা বলতে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের দু'টি আঙুল উঠান।” [বুখারী: ৪৯৩৬, মুসলিম: ৮৬৭]
[সূরা সাবা (৩৪): আয়াত ২৮ হতে ৩০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমাদের পালনকর্তা আমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন) অর্থাৎ কিয়ামতের দিন (অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করবেন) অর্থাৎ তিনি বিচার করবেন, ফলে হেদায়াতপ্রাপ্তদের পুরস্কৃত করবেন এবং পথভ্রষ্টদের শাস্তি দেবেন (আর তিনি ফাত্তাহ) অর্থাৎ ন্যায়বিচারক (আল-আলিম) সৃষ্টিজগতের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ পরিজ্ঞাত। আর এর পুরোটাই তলোয়ারের আয়াত (আয়াতে সাইফ) দ্বারা রহিত হয়েছে। [সূরা সাবা (৩৪): আয়াত ২৭]বলুন, তোমরা যাদেরকে তাঁর সাথে শরীক হিসেবে যুক্ত করেছ তাদেরকে আমাকে দেখাও। কখনই নয়, বরং তিনিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(২৭)মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, তোমরা যাদেরকে তাঁর সাথে শরীক হিসেবে যুক্ত করেছ তাদেরকে আমাকে দেখাও) - এখানে "আমাকে দেখাও" শব্দটি অন্তরের দেখা বা উপলব্ধির অর্থে হতে পারে, সেক্ষেত্রে "শরীকগণ" শব্দটি হবে তৃতীয় কর্মপদ। অর্থাৎ: আমাকে সেই সব প্রতিমা ও মূর্তির পরিচয় দাও যাদেরকে তোমরা মহান আল্লাহর শরীক হিসেবে সাব্যস্ত করেছ, তারা কি কোনো কিছু সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করেছে? যদি করে থাকে তবে তা কী, তা স্পষ্ট করো। অন্যথায় তোমরা কেন তাদের ইবাদত করছ? আর এটি চাক্ষুষ দেখার অর্থে হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে "শরীকগণ" শব্দটি অবস্থা (হাল) হিসেবে গণ্য হবে।
(কখনই নয়) অর্থাৎ বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তোমরা দাবি করেছ। বলা হয়েছে যে, "কখনই নয়" শব্দটি তাদের একটি উহ্য উত্তরের প্রতিবাদ; যেন তিনি বললেন: তোমরা যাদেরকে তাঁর সাথে শরীক করেছ তাদের আমাকে দেখাও। তারা বলল: এরা হলো এই প্রতিমাগুলো। তখন তিনি বললেন: কখনই নয়, অর্থাৎ তাঁর কোনো শরীক নেই (বরং তিনিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়)। [সূরা সাবা (৩৪): আয়াত ২৮ হতে ৩০]আর আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (২৮) তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?
(২৯) বলুন, তোমাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা থেকে তোমরা এক মুহূর্তও পিছিয়ে যেতে পারবে না এবং এগিয়েও আসতে পারবে না। (৩০)মহান আল্লাহর বাণী: (আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি) অর্থাৎ আমি আপনাকে সকল মানুষের জন্য ব্যাপকভাবে প্রেরণ করেছি; এখানে বাক্যের কাঠামোতে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস ঘটেছে। আয-যাজ্জাজ বলেন: অর্থাৎ আমি আপনাকে সতর্কীকরণ ও বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যমে মানুষকে একত্রিতকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। আর 'কাফফাহ' শব্দটি 'একত্রিতকারী' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
কারো মতে এর অর্থ হলো 'বিরতকারী', অর্থাৎ আপনি মানুষকে তাদের কুফর থেকে বিরত রাখবেন এবং ইসলামের দিকে আহ্বান করবেন। এখানে 'হা' বর্ণটি আধিক্য বা গুরুত্ব বুঝাতে যুক্ত হয়েছে। আবার কারো মতে এর অর্থ হলো 'প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন', যেখানে একটি উহ্য শব্দ রয়েছে; অর্থাৎ এমন একজন যিনি মানুষকে আপনার প্রচার থেকে বিচ্যুত হতে বাধা দেন অথবা তাদেরকে কুফরি থেকে বিরত রাখেন। আর তা থেকেই এসেছে:
আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ থেকে এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন
, তিনি বলেন: অর্থাৎ পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের দিকে।ইবনে আবি হাতিম আবু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: তারা মহব্বত করে
, তিনি বলেন: (এর অর্থ) তারা পছন্দ করে নেয় বা বেছে নেয়।আবদ বিন হুমাইদ, আবু ইয়ালা, ইবনে আবি হাতিম, তাবারানি, হাকিম—যিনি একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন—ইবনে মারদাওয়াইহ এবং বায়হাকি ‘আদ-দালাইল’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আসমানবাসী এবং নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।জিজ্ঞেস করা হলো: আসমানবাসীদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী?
তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা আসমানবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: (তাদের মধ্যে যে বলবে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নাম দ্বারা প্রতিফল দেব) (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৯)। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে বলেছেন: (যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন) (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২)। এভাবে আল্লাহ তাঁর জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা লিখে দিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে নবীগণের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী? তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি
, আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে বলেছেন: (আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই প্রেরণ করেছি) (সূরা সাবা, আয়াত: ২৮)।
অর্থাৎ তাঁকে মানব ও জিন উভয়ের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। আর ইমাম আহমদ আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ কোনো নবীকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা ছাড়া প্রেরণ করেননি।ইবনে মারদাওয়াইহ কালবির সূত্রে আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি আরবি ভাষায় ওহি নাজিল করা হতো, অতঃপর তিনি প্রত্যেক নবীর কাছে তাঁর স্বজাতির ভাষায় তা নিয়ে অবতরণ করতেন।আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি
, তিনি বলেন: অর্থাৎ স্বজাতির ভাষায়; যদি তিনি আরবি হতেন তবে আরবি ভাষায়, যদি অনারব হতেন তবে অনারবি ভাষায় এবং যদি সুরিয়ানি হতেন তবে সুরিয়ানি ভাষায়।
যাতে আল্লাহ তাদের কাছে যা পাঠিয়েছেন তা তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
