Qaf

কাফ: 5

50:5
টেক্সট কপি
50 কাফ Qaf · 45 আয়াত ق

মূল আরবি

بَلْ كَذَّبُوا۟ بِٱلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ فَهُمْ فِىٓ أَمْرٍ مَّرِيجٍ

English Translations

Sahih International

But they denied the truth when it came to them, so they are in a confused condition.

Muhsin Khan

Nay, but they have denied the truth (this Quran) when it has come to them, so they are in a confused state (can not differentiate between right and wrong).

Taqi Usmani

Rather, they rejected the truth when it came to them; so they are in a confused state.

Abul Ala Maududi

They gave the lie to the Truth when it came to them. So they are now in a state of great perplexity.

Pickthall

Nay, but they have denied the truth when it came unto them, therefor they are now in troubled case.

Yusuf Ali

But they deny the Truth when it comes to them: so they are in a confused state.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা অস্বীকার করেছে, কাজেই এখন তারা সংশয়ের মধ্যে পড়ে আছে।

রাওয়াই আল-বায়ান

বরং তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, যখনই তাদের কাছে সত্য এসেছে। অতএব তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

বস্তুতঃ তাদের নিকট সত্য আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তারা সংশয়ে দোদুল্যমান।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বস্তুত তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তাতে মিথ্যারোপ করেছে। অতএব, তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ে নিপতিত।

ফাতহুল মাজীদ

বরং তাদের নিকট সত্য আসার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তারা সংশয়ে পড়ে আছে।

মুখতাসার

৫. বরং এ সব মুশরিক তাদের নিকট রাসূল কুরআন নিয়ে আগমন করলে তারা তা অস্বীকার করে। ফলে তারা এক অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। কোন ব্যাপারে তাদের স্থায়িত্ব নেই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

50:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

বস্তুত তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তাতে মিথ্যারোপ করেছে। অতএব, তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ে নিপতিত [১]।

[১] অভিধানে مَرِيْجٌ শব্দের অর্থ মিশ্র, যাতে বিভিন্ন প্রকার বস্তুর মিশ্রণ থাকে এবং যার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। এরূপ বস্তু সাধারণত ফাসেদ ও দূষিত হয়ে থাকে। এ কারণেই কারো কারো মতে, এ শব্দের অর্থ ফাসেদ ও দুষ্ট। আবার অনেকেই এর অনুবাদ করেছে মিশ্র ও জটিল। এ সংক্ষিপ্ত বাক্যাংশটিতে একটি অতি বড় বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। এর অর্থ তারা শুধু বিস্ময়ে প্রকাশ করা এবং বিবেকবুদ্ধি বিরোধী ঠাওরানোকেই যথেষ্ট মনে করেনি। বরং যে সময় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সত্যের দাওয়াত পেশ করেছেন সে সময় তারা কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তাকে নির্জলা মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে।

অবশ্যম্ভাবীরূপে তার যে ফল হওয়ার ছিল এবং হয়েছে তা হচ্ছে, এ দাওয়াত এবং এ দাওয়াত পেশকারী রাসূলের ব্যাপারে এরা কখনো স্থির ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেনি। কখনো তাঁকে কবি বলে, কখনো বলে গণক কিংবা পাগল। কখনো বলে সে যাদুকর আবার কখনো বলে কেউ তাঁর ওপর যাদু করেছে। কখনো বলে নিজের বড়ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সে এ বাণী নিজে বানিয়ে এনেছে আবার কখনো অপবাদ আরোপ করে যে, অন্যকিছু লোক তার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তারাই তাকে এসব কথা বানিয়ে দেয়। এসব পরস্পর বিরোধী কথাই প্রকাশ করে যে, তারা নিজেদের দৃষ্টিভংগী সম্পর্কেই পুরোপুরি দ্বিধান্বিত। যদি তারা তাড়াহুড়া করে একেবারে প্রথমেই নবীকে অস্বীকার না করতো এবং কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করে আগেভাগেই একটি সিদ্ধান্ত দেয়ার পূর্বে ধীরস্থিরভাবে একথা ভেবে দেখতো যে, কে এ দাওয়াত পেশ করছে, কি কথা সে বলছে এবং তার দাওয়াতের সপক্ষে কি দলীল-প্রমাণ পেশ করছে তাহলে তারা কখনো এ দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে পড়তো না।

[দেখুন-তবারী, ফাতহুল কাদীর, বাগভী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা কাফ (৫০): আয়াত ১ থেকে ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

সপ্তদশ খণ্ড ‌‌[সূরা কাফ-এর তাফসীর-]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সূরা কাফ সম্পূর্ণই মক্কী এবং এটি পঁয়তাল্লিশটি আয়াত বিশিষ্ট। হাসান, আতা, ইকরিমা ও জাবিরের মতে এটি সম্পূর্ণই মক্কী। ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ বলেন: একটি আয়াত ব্যতীত, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ ও যমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং কোনো ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি)। সহীহ মুসলিম-এ উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা ইবনে নুমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের চুলা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুলা এক বছর বা দুই বছর—অথবা এক বছর এবং বছরের কিছু অংশ—একই ছিল।

আর আমি (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের) সূরাটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকেই শিখেছি; তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে যখন মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন তখন এটি পাঠ করতেন। উমর ইবনে খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়সীকে জিজ্ঞাসা করলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের নামাযে কী পাঠ করতেন? তিনি উত্তর দিলেন: তিনি উভয় ঈদে (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের) এবং (কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে) সূরা দুটি পাঠ করতেন।

জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের) পাঠ করতেন এবং এরপর তাঁর সালাতগুলো সংক্ষিপ্ত হতো। ‌‌[সূরা কাফ (৫০): আয়াত ১ থেকে ৫]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের (১)। বরং তারা বিস্ময় প্রকাশ করে যে, তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী তাদের নিকট এসেছেন। তাই কাফিররা বলে: "এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার!" (২)। "আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে)? এ প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত।" (৩)। যমিন তাদের মধ্য থেকে যা কিছু ক্ষয় করে তা অবশ্যই আমার জানা আছে এবং আমার নিকট রয়েছে এক সংরক্ষিত কিতাব (৪)।বরং তাদের নিকট যখন সত্য এসেছে তখন তারা তা অস্বীকার করেছে, ফলে তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রয়েছে (৫)।মহান আল্লাহর বাণী: কাফ।

শপথ মহিমান্বিত কুরআনের (১) বরং তারা বিস্ময় প্রকাশ করে যে, তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী তাদের নিকট এসেছেন। তাই কাফিররা বলে: "এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার!" (২) "আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে)? এ প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত।" (৩) যমিন তাদের মধ্য থেকে যা কিছু ক্ষয় করে তা অবশ্যই আমার জানা আছে এবং আমার নিকট রয়েছে এক সংরক্ষিত কিতাব (৪) বরং তাদের নিকট যখন সত্য এসেছে তখন তারা তা অস্বীকার করেছে, ফলে তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রয়েছে (৫)। মহান আল্লাহর বাণী: (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের)—সাধারণ ক্বারীগণ 'কাফ' বর্ণটি জযম (সুকুন) দিয়ে পাঠ করেছেন।

হাসান, ইবনে আবু ইসহাক এবং নাসর ইবনে আসিম 'ফা' বর্ণে কাসরা (যের) দিয়ে 'কাফি' পড়েছেন, কারণ কাসরা হলো জযমের সমতুল্য; সুতরাং যখন এটি সাকিন হলো...