Qaf

কাফ: 1

50:1
টেক্সট কপি
50 কাফ Qaf · 45 আয়াত ق

মূল আরবি

قٓ ۚ وَٱلْقُرْءَانِ ٱلْمَجِيدِ

English Translations

Sahih International

Qāf. By the honored Qur’ān...

Muhsin Khan

Qaf. [These letters (Qaf, etc.) are one of the miracles of the Quran, and none but Allah (Alone) knows their meanings]. By the Glorious Quran.

Taqi Usmani

Qāf . (I swear) by the glorious Qur’ān, (you are sent as a messenger.)

Abul Ala Maududi

Qaf. By the glorious Qur'an.

Pickthall

Qaf. By the Glorious Qur'an,

Yusuf Ali

Qaf: By the Glorious Qur'an (Thou art Allah's Messenger).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

ক্বাফ, শপথ মাহাত্ম্যপূর্ণ কুরআনের (যে তুমি আল্লাহর রসূল।)

রাওয়াই আল-বায়ান

কাফ; মর্যাদাপূর্ণ কুরআনের কসম।

শাইখ মুজিবুর রহমান

কাফ, শপথ কুরআনের (তুমি অবশ্যই সতর্ককারী)।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

ক্বাফ্‌, শপথ সম্মানিত কুরআনের

ফাতহুল মাজীদ

ক্বাফ, শপথ কুরআন মাজিদের।

মুখতাসার

১. ক্বাফ, এসব যুক্তাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনা সূরা বাক্বারার শুরুতেই করা হয়েছে। আল্লাহ এ জন্য কুরআনের শপথ করেছেন। যেহেতু তাতে রয়েছে প্রচুর অর্থ ও অধিক কল্যাণ এবং বরকত। অবশ্যই তোমাদেরকে কিয়ামত দিবসে হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে পুনর্বার উঠানো হবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

যেসব সূরাকে মুফাস্সাল সূরা বলা হয় ওগুলোর মধ্যে সূরায়ে কাফই প্রথম। তবে একটি উক্তি এও আছে যে, মুফাস্সাল সূরাগুলো সূরায়ে হুজুরাত হতে শুরু হয়েছে। সর্বসাধারণের মধ্যে এটা যে প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে যে, মুফাস্সাল সূরাগুলো (আরবী) হতে শুরু হয় এটা একেবারে ভিত্তিহীন কথা। আলেমদের কেউই এর উক্তিকারী নন। মুফাস্সাল সূরাগুলোর প্রথম সূরা এই সূরায়ে কাফই বটে। এর দলীল হচ্ছে সুনানে আবি দাউদের ঐ হাদীসটি যা ‘বাবু তাহযীবিল কুরআন’-এর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আউস ইবনে হুযাইফা (রাঃ) বলেনঃ সাকীফ প্রতিনিধি দলের মধ্যে শামিল হয়ে আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হই।

আহলাফ তো হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা (রাঃ)-এর ওখানে অবস্থান। করেন। আর বানু মালিককে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিজের ওখানে অবস্থান করান। তাঁদের মধ্যে মুসাদ্দাদ (রাঃ) নামক এক ব্যক্তি বলেনঃ “প্রত্যহ রাত্রে ইশা'র নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদের নিকট আসতেন এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে তাঁর নিজের কথা শুনাতেন। এমন কি বিলম্ব হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর পা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতো। কখনো তিনি এই পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং কখনো ঐ পায়ের উপর। প্রায়ই তিনি আমাদের সামনে ঐ সব দুঃখপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করতেন যেগুলো কুরায়েশরা ঘটিয়েছিল।

অতঃপর তিনি বলতেনঃ “কোন দুঃখ নেই, আমরা মক্কায় দুর্বল ছিলাম, শক্তিহীন ছিলাম। তারপর আমরা মদীনায় আসলাম। এরপর মক্কাবাসী ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ফল হয় বালতির মত অর্থাৎ কখনো আমরা তাদের উপর বিজয়ী হই এবং কখনো তারা আমাদের উপর বিজয়ী হয়। মোটকথা, প্রত্যহ রাত্রে আমরা তাঁর প্রিয় সাহচর্য লাভ করে গৌরবান্বিত হতাম। একদা রাত্রে তাঁর আগমনের সময় হয়ে গেল কিন্তু তিনি আসলেন না। বহুক্ষণ পর আসলেন। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আজ তো আসতে আপনার খুব বিলম্ব হলো (কারণ কি?) উত্তরে তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ, কুরআন কারীমের যে অংশ আমি দৈনিক পাঠ করে থাকি তা এই সময় পাঠ করছিলাম।

অসমাপ্ত ছেড়ে আসতে আমার মন চাইলো না (তাই সমাপ্ত করে আসতে বিলম্ব হলো)।” হযরত আউস (রাঃ) বলেনঃ আমি সাহাবীদেরকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করলামঃ আপনারা কুরআন কারীমকে কিভাবে ভাগ করতেন? তাঁরা উত্তরে বললেনঃ “আমাদের ভাগ করার পদ্ধতি নিম্নরূপঃ প্রথম তিনটি সূরার একটি মনযিল, তারপর পাঁচটি সূরার এক মনযিল, এরপর সাতটি সূরার এক মনযিল, তারপর নয়টি সূরার এক মনযিল, অতঃপর এগারোটি সূরার এক মনযিল এবং এরপর তেরোটি সূরার এক মনযিল আর শেষে মুফাসসাল সূরাগুলোর এক মনযিল।” এ হাদীসটি সুনানে ইবনে মাজাহতেও রয়েছে। সুতরাং প্রথম ছয় মনযিলে মোট আটচল্লিশটি সূরা হচ্ছে।

তারপর মুফাসসালের সমস্ত সূরার একটি মনযিল হলো। আর এই মনযিলের প্রথমেই সূরায়ে কা’ফ রয়েছে। নিয়মিতভাবে গণনা নিম্নরূপঃ প্রথম মনযিলের তিনটি সূরা হলোঃ সূরায়ে বাকারা, সূরায়ে আলে ইমরান এবং সূরায়ে নিসা। দ্বিতীয় মনযিলের পাঁচটি সূরা হলোঃ সূরায়ে মায়েদাহ, সূরায়ে আনআম, সূরায়ে আ'রাফ, সূরায়ে আনফাল এবং সূরায়ে বারাআত। তৃতীয় মনযিলের সাতটি সূরা হচ্ছেঃ সূরায়ে ইউনুস, সূরায়ে হূদ, সূরায়ে ইউসুফ, সূরায়ে রা’দ, সূরায়ে ইবরাহীম, সূরায়ে হিজর এবং সূরায়ে নাহল। চতুর্থ মনযিলের নয়টি সূরা হলোঃ সূরায়ে সুবহান, সূরায়ে কাহাফ, সূরায়ে মারইয়াম, সূরায়ে তোয়া-হা, সূরায়ে আম্বিয়া, সূরায়ে হাজ্ব, সূরায়ে মু'মিনূন, সূরায়ে নূর এবং সূরায়ে ফুরকান।

পঞ্চম মনযিলের এগারোটি সূরা হচ্ছেঃ সূরায়ে শুআরা, সূরায়ে নামল, সূরায়ে কাসাস, সূরায়ে আনকাবূত, সূরায়ে রূম, সূরায়ে লোকমান, সূরায়ে আলিফ-লাম-মীম-আস্সাজদাহ, সূরায়ে আহযার, সূরায়ে সাবা, সূরায়ে ফাতির এবং সূরায়ে ইয়াসীন। ষষ্ঠ মনযিলের তেরোটি সূরা হলোঃ সূরায়ে আস-সফফাত, সূরায়ে সা’দ, সূরায়ে যুমার, সূরায়ে গাফির, সূরায়ে হা-মীম আসসাজদাহ, সূরায়ে হা-মীম-আইন-সীন-কাফ, সূরায়ে যুখরুফ, সূরায়ে দুখান, সূরায়ে জাসিয়াহ, সূরায়ে আহকাফ, সূরায়ে কিতাল, সূরায়ে ফাতহ এবং সূরায়ে হুজুরাত। তারপর শেষের মুফাসসাল সূরাগুলোর মনযিল, যেমন সাহাবীগণ (রাঃ) বলেছেন এবং এটা সূরায়ে কা'ফ হতেই শুরু হয়েছে যা আমরা বলেছি।

সুতরাং আল্লাহ তা'আলার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা। হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হযরত আবু ওয়াফিদ লাইসীকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ঈদের নামাযে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কি পড়তেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “ঈদের নামাযে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সূরায়ে কাফ এবং সূরায়ে ইকতারাবাত পাঠ করতেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত উম্মে হিশাম বিনতে হারেসাহ (রাঃ) বলেনঃ “দুই বছর অথবা এক বছর ও কয়েক মাস পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর এবং আমাদের চুল্লী একটিই ছিল। আমি সূরায়ে কা'ফ-ওয়াল-কুরআনিল মাজীদ, এই সূরাটি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুখে শুনে শুনে মুখস্থ করে নিয়েছিলাম।

কেননা, প্রত্যেক জুমআর দিন যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) জনগণের সামনে ভাষণ দেয়ার জন্যে মিম্বরের উপর দাড়াতেন তখন এই সূরাটি তিনি তিলাওয়াত করতেন। মোটকথা, বড় বড় সমাবেশে, যেমন ঈদ ও জুমআতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই সূরাটি পড়তেন। কেননা, এর মধ্যে সৃষ্টির সূচনা, মৃত্যুর পরে পুনর্জীবন, আল্লাহ তা'আলার সামনে দাঁড়ানো, হিসাব-কিতাব, জান্নাত-জাহান্নাম, পুরস্কার-শাস্তি, উৎসাহ প্রদান এবং ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। ১-৫ নং আয়াতের তাফসীর: (আরবী) হুরূফে হিজার মধ্যে একটি হরফ বা অক্ষর যেগুলো সূরাসমূহের প্রথমে এসে থাকে।

যেমন (আরবী) ইত্যাদি। আমরা এগুলোর পূর্ণ ব্যাখ্যা সূরায়ে বাকারার তাফসীরের শুরুতে করে দিয়েছি। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। পূর্বযুগীয় কোন কোন গুরুজনের উক্তি এই যে, কাফ একটি পাহাড় যা সারা যমীনকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। মনে হয় এটা বানী ইসরাঈলের বানানো কথা যা কতক লোক তাদের নিকট হতে গ্রহণ করেছে এই মনে করে যে, তাদের থেকে রিওয়াইয়াত গ্রহণ করা বৈধ। যদিও তা সত্যও বলা যায় না এবং মিথ্যাও না। কিন্তু আমার ধারণা এই যে, এটা এবং এই ধরনের আরো বহু। রিওয়াইয়াত তো বানী ইসরাঈলের অবিশ্বাসী লোকেরা গড়িয়ে বা বানিয়ে নিয়েছে যাতে দ্বীনকে তারা জনগণের উপর মিশ্রিত করে দিতে পারে।

একটু চিন্তা করলেই বুঝা যাবে যে, যদিও এই উম্মতের মধ্যে বড় বড় আলেম, হাফি, দ্বীনদার ও অকপট লোক সর্বযুগে ছিল এবং এখনো আছে তথাপি আল্লাহর একত্ববাদে অবিশ্বাসী লোকেরা অতি অল্প কালের মধ্যে মাওযূ' হাদীসসমূহ রচনা করে ফেলেছে! তাহলে বানী ইসরাঈল, যাদের উপর দীর্ঘ যুগ অতীত হয়েছে এবং যাদের মধ্যে হাফিয ও আলেমের সংখ্যা অতি নগণ্য ছিল, যারা আল্লাহর কালামকে মূলতত্ত্ব হতে সরিয়ে দিতো, যারা মদ্য পানে লিপ্ত থাকতো, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে বদলিয়ে দিতো, তারা যে অনেক কিছু নিজেরাই বানিয়ে নিবে এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই। সুতরাং হাদীসে তাদের হতে যে রিওয়াইয়াতগুলো গ্রহণ করা জায়েয রাখা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ঐ রিওয়াইয়াত যেগুলো কমপক্ষে জ্ঞানে ধরে ও বুঝে আসে।

ওগুলো নয় যেগুলো স্পষ্টভাবে বিবেক বিরোধী। যেগুলো শোনমাত্রই জ্ঞানে ধরা পড়ে যে, ওগুলো মিথ্যা ও বাজে। ওগুলো মিথ্যা হওয়া এমনই প্রকাশমান যে, এর জন্যে দলীল আনয়নের কোনই প্রয়োজন হয় না। সুতরাং উপরে বর্ণিত রিওয়াইয়াতটিও অনুরূপ। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।বড়ই দুঃখজনক যে, পূর্বযুগীয় ও পরবর্তী যুগের বহু গুরুজন আহলে কিতাব হতে এই ধরনের বর্ণনা ও কাহিনীগুলো কুরআন কারীমের তাফসীরে আনয়ন করেছেন। আসলে কুরআন মাজীদ এই প্রকারের রিওয়াইয়াতের মোটেই মুখাপেক্ষী নয়। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলারই প্রাপ্য।মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর রাযীও (রঃ) এখানে এক অতি বিস্ময়কর আসার হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন, যার সনদ সঠিক নয়।

তাতে রয়েছেঃ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা একটি সমুদ্র সৃষ্টি করেছেন যা গোটা পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে। এই সমুদ্রের পিছনে একটি পাহাড় রয়েছে যা ওকে পরিবেষ্টন করে আছে, ওরই নাম কাফ। আকাশ ও পৃথিবী ওরই উপর উঠানো রয়েছে। আবার এই পাহাড়ের পিছনে আল্লাহ তাআলা এক যমীন সৃষ্টি করেছেন যা এই যমীন হতে সাতগুণ বড়। ওর পিছনে আবার একটি সমুদ্র রয়েছে যা ওকে ঘিরে রয়েছে। আবার ওর পিছনে একটি পাহাড় আছে যা ওকে পরিবেষ্টন করে আছে। ওটাকেও কাফ বলা হয়। দ্বিতীয় আকাশকে ওরই উপর উঁচু করা আছে। এই ভাবে সাতটি যমীন, সাতটি সমুদ্র, সাতটি পাহাড় এবং সাতটি আকাশ গণনা করেছেন।

তিনি বলেন যে, আল্লাহর নিমের উক্তির তাৎপর্য এটাইঃ (আরবী) অর্থাৎ “এই যে সমুদ্র এর সহিত যদি আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়।” (৩১:২৭) এর ইসনাদ ছেদ কাটা।হযরত আলী ইবনে আবি তালহা (রাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে যা বর্ণনা করেছেন তাতে রয়েছে যে, (আরবী) আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি নাম। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, (আরবী) অক্ষরটিও (আরবী) প্রভৃতি হুরূফে হিজার মতই একটি হরফ বা অক্ষর। সুতরাং এসব উক্তি দ্বারা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত বলে ধারণাকৃত পূর্বের উক্তিটি দূর হয়ে যায়। এটাও বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা বুঝানো হয়েছেঃ “আল্লাহর কসম!

কাজের ফায়সালা করে দেয়া হয়েছে এবং বলে অবশিষ্ট বাক্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যেমন কবির উক্তিঃ(আরবী) অর্থাৎ “আমি তাকে (মহিলাটিকে) বললামঃ থামো, তখন সে বললো।” কিন্তু এই তাফসীরের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কেননা, উহ্যের উপর ইঙ্গিতকারী কালাম পরিষ্কার হওয়া উচিত। তাহলে এখানে কোন্ কালাম রয়েছে যদদ্বারা এতো বড় বাক্য উহ্য থাকার প্রতি ইঙ্গিত করছো?অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ঐ মহাসম্মানিত কুরআনের শপথ করছেন যার সামনে হতে ও পিছন হতে বাতিল আসতেই পারে না, যা বিজ্ঞানময় ও প্রশংসার্হ আল্লাহর নিকট হতে অবতারিত।এই কসমের জবাব কি এ সম্পর্কেও কয়েকটি উক্তি রয়েছে।

ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) তো কোন কোন নাহভী হতে বর্ণনা করেছেন যে, এর জবাব হলো (আরবী) হতে পূর্ণ আয়াত পর্যন্ত। কিন্তু এ ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। বরং এই কসমের জবাব হলো কসমের পরবর্তী কালামের বিষয় অর্থাৎ নবুওয়াত এবং দ্বিতীয় বারের জীবনকে সাব্যস্ত করণ, যদিও শব্দ দ্বারা এটা বলা হয়নি। এরূপ কসমের জবাব কুরআন কারীমে বহু রয়েছে। যেমন সূরায়ে (আরবী)-এর শুরুতে এটা গত হয়েছে। এখানেও ঐরূপ হয়েছে। এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ “কিন্তু কাফিররা তাদের মধ্যে একজন সতর্ককারী আবির্ভূত হতে দেখে বিস্ময় বোধ করে ও বলেঃ এটা তো এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার!' অর্থাৎ তারা এ দেখে খুবই বিস্ময় প্রকাশ করেছে যে, তাদেরই মধ্য হতে একজন মানুষ কিভাবে রাসূল হয়ে গেল!

যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “লোকেরা কি এতে বিস্ময় বোধ করেছে যে, আমি তাদেরই মধ্য হতে একজন লোকের উপর অহী অবতীর্ণ করেছি (এই বলার জন্যে) যে, তুমি লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন কর....?” (১০:২) অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে এটা বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল না। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের মধ্যে যাকে চান রিসালাতের জন্যে মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্যে যাকে চান রাসূলরূপে মনোনীত করেন। এরই সাথে এটাও বর্ণিত হচ্ছে যে, তারা মৃত্যুর পরে পুনর্জীবনকেও বিস্ময়ের দৃষ্টিতে দেখেছে। তারা বলেছেঃ আমরা যখন মরে যাবো এবং আমাদের মৃতদেহ গলে পচে মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাবে, এরপরেও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো?

অর্থাৎ আমাদের অবস্থা এরূপ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের পুনর্জীবন লাভ অসম্ভব। তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ মৃত্তিকা তাদের কতটুকু ক্ষয় করে তা তো আমি জানি। অর্থাৎ তাদের মৃতদেহের অণু-পরমাণু মাটির কোথায় যায় এবং কি অবস্থায় কোথায় থাকে তা আমার অজানা থাকে না। আমার নিকট যে রক্ষিত ফলক রয়েছে তাতে সব কিছুই লিপিবদ্ধ রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে তাদের গোশত, চামড়া, হাড়, চুল ইত্যাদি যা কিছু মৃত্তিকায় খেয়ে ফেলে তা আমার জানা আছে। এরপর আল্লাহ তাআলা তাদের এটাকে অসম্ভব মনে করার প্রকৃত কারণ বর্ণনা করছেন যে, তারা আসলে তাদের নিকট সত্য আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

আর যারা এভাবে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের ভাল বোধশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হয়। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন, অস্থির, প্রত্যাখ্যানকারী এবং মিশ্রণ। যেমন কুরআন কারীমে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই তোমরা বিভিন্ন উক্তির মধ্যে রয়েছে। কুরআনের অনুসরণ হতে সেই বিরত থাকে যাকে কল্যাণ হতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।” (৫১:৮-৯)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

ক্বাফ্‌, শপথ সম্মানিত কুরআনের

সূরা ক্বাফে অধিকাংশ বিষয়বস্তু আখেরাত, কেয়ামত, মৃতদের পুণরুজীবন ও হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদীস থেকে সূরা ক্বাফের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। হাদীসে উম্মে হিশাম বিনতে হারেসা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গৃহের সন্নিকটেই আমার গৃহ ছিল। প্রায় দু’বছর পর্যন্ত আমাদের ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রুটি পাকানোর চুল্লিও ছিল অভিন্ন। তিনি প্রতি শুক্রবার জুম্মার খোতবায় সূরা ক্বাফ তেলাওয়াত করতেন। এতেই সূরাটি আমার মুখস্থ হয়ে যায়। [মুসলিম: ৮৭৩]

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের সালাতে এই সূরা পাঠ করতেন [মুসলিম: ৮৯১] জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে অধিকাংশ সময় সূরা ক্বাফ তেলাওয়াত করতেন। (সূরাটি বেশ বড়) কিন্তু এতদসত্ত্বেও সালাত হালকা মনে হতো। [মুসনাদে মুসনাদেঃ ১৯৯২৯]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা কাফ (৫০): আয়াত ১ থেকে ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

সপ্তদশ খণ্ড ‌‌[সূরা কাফ-এর তাফসীর-]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সূরা কাফ সম্পূর্ণই মক্কী এবং এটি পঁয়তাল্লিশটি আয়াত বিশিষ্ট। হাসান, আতা, ইকরিমা ও জাবিরের মতে এটি সম্পূর্ণই মক্কী। ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ বলেন: একটি আয়াত ব্যতীত, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ ও যমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং কোনো ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি)। সহীহ মুসলিম-এ উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা ইবনে নুমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের চুলা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুলা এক বছর বা দুই বছর—অথবা এক বছর এবং বছরের কিছু অংশ—একই ছিল।

আর আমি (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের) সূরাটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকেই শিখেছি; তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বারে দাঁড়িয়ে যখন মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন তখন এটি পাঠ করতেন। উমর ইবনে খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়সীকে জিজ্ঞাসা করলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের নামাযে কী পাঠ করতেন? তিনি উত্তর দিলেন: তিনি উভয় ঈদে (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের) এবং (কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে) সূরা দুটি পাঠ করতেন।

জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের) পাঠ করতেন এবং এরপর তাঁর সালাতগুলো সংক্ষিপ্ত হতো। ‌‌[সূরা কাফ (৫০): আয়াত ১ থেকে ৫]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের (১)। বরং তারা বিস্ময় প্রকাশ করে যে, তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী তাদের নিকট এসেছেন। তাই কাফিররা বলে: "এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার!" (২)। "আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে)? এ প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত।" (৩)। যমিন তাদের মধ্য থেকে যা কিছু ক্ষয় করে তা অবশ্যই আমার জানা আছে এবং আমার নিকট রয়েছে এক সংরক্ষিত কিতাব (৪)।বরং তাদের নিকট যখন সত্য এসেছে তখন তারা তা অস্বীকার করেছে, ফলে তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রয়েছে (৫)।মহান আল্লাহর বাণী: কাফ।

শপথ মহিমান্বিত কুরআনের (১) বরং তারা বিস্ময় প্রকাশ করে যে, তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী তাদের নিকট এসেছেন। তাই কাফিররা বলে: "এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার!" (২) "আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে)? এ প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত।" (৩) যমিন তাদের মধ্য থেকে যা কিছু ক্ষয় করে তা অবশ্যই আমার জানা আছে এবং আমার নিকট রয়েছে এক সংরক্ষিত কিতাব (৪) বরং তাদের নিকট যখন সত্য এসেছে তখন তারা তা অস্বীকার করেছে, ফলে তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রয়েছে (৫)। মহান আল্লাহর বাণী: (কাফ। শপথ মহিমান্বিত কুরআনের)—সাধারণ ক্বারীগণ 'কাফ' বর্ণটি জযম (সুকুন) দিয়ে পাঠ করেছেন।

হাসান, ইবনে আবু ইসহাক এবং নাসর ইবনে আসিম 'ফা' বর্ণে কাসরা (যের) দিয়ে 'কাফি' পড়েছেন, কারণ কাসরা হলো জযমের সমতুল্য; সুতরাং যখন এটি সাকিন হলো...

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে সাদ এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: প্রবীণ শায়খগণ বলতেন: যখন মৃত ব্যক্তির নিকট ‘ইয়াসিন’ পাঠ করা হয়, তখন এর বরকতে তার কষ্ট লাঘব করা হয়।বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ আবু কিলাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ‘ইয়াসিন’ পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করা হবে। যে ব্যক্তি খাবারের অভাবের আশঙ্কায় তা পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে পর্যাপ্ততা দান করবেন। যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির নিকট তা পাঠ করবে, তার জন্য (মৃত্যুযন্ত্রণা) সহজ করা হবে। আর যদি কোনো নারীর প্রসব কষ্ট হয় এবং তার নিকট তা পাঠ করা হয়, তবে তার প্রসব সহজ হবে।

যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে যেন এগারো বার কুরআন তিলাওয়াত করল। প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় থাকে এবং কুরআনের হৃদয় হলো ‘ইয়াসিন’। বায়হাকী বলেন: আবু কিলাবা থেকে এভাবেই আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে; তিনি প্রথিতযশা তাবেয়ীদের অন্যতম। তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত হলে তিনি নিশ্চয়ই কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতেই তা বলেছেন।হাকিম এবং বায়হাকী আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নিজের অন্তরে কঠোরতা অনুভব করে, সে যেন জাফরান দ্বারা একটি পাত্রে ‘ইয়াসিন ওয়াল কুরআনিল হাকীম’ লিখে তা পান করে।সাঈদ ইবনে মানসুর সিমাক ইবনে হারবের সূত্রে মদিনার জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন।তখন তিনি ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ’ (সূরা ক্বাফ, আয়াত ১) এবং ‘ইয়াসিন ওয়াল কুরআনিল হাকীম’ (সূরা ইয়াসিন, আয়াত ১) তিলাওয়াত করেছিলেন।ইবনে মারদুওয়াই উকবা ইবনে আমের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ‘ইয়াসিন’ পাঠ করবে, সে যেন দশবার কুরআন তিলাওয়াত করল।ইবনে মারদুওয়াই ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক জিনিসের একটি হৃদয় থাকে এবং কুরআনের হৃদয় হলো ‘ইয়াসিন’।

যে ব্যক্তি ‘ইয়াসিন’ পাঠ করবে, সে যেন দশবার কুরআন তিলাওয়াত করল।ইবনে মারদুওয়াই আবু হুরায়রা ও আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে—অনুরূপ।ইবনে সাদ আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেছেন—যে তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বরের ওপর ‘ইয়াসিন’ তিলাওয়াত করতেন।মুহাম্মদ ইবনে উসমান, ইবনে আবু শাইবা তাঁর ইতিহাসে, তাবারানি এবং ইবনে আসাকির খুরাইম ইবনে ফাতিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার হারানো উটের খোঁজে বের হলাম। আমাদের নিয়ম ছিল যখন কোনো উপত্যকায় যাত্রাবিরতি নিতাম, তখন বলতাম: ‘আমরা এই উপত্যকার অধিপতির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ আমি একটি উটনীর ওপর হেলান দিয়ে বললাম: ‘আমি এই উপত্যকার অধিপতির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ অমনি এক অদৃশ্য বক্তা আমাকে ডেকে বলতে লাগল: ‘ধিক তোমাকে!

তুমি মহিমাময় আল্লাহর আশ্রয় নাও, যিনি হারাম ও হালাল বিধানের অবতীর্ণকারী। আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করো এবং জিনের ভীতিকর কোনো ষড়যন্ত্রের পরোয়া করো না। কেননা যখন দিগন্ত জুড়ে এবং সমতল ভূমি ও পাহাড়ে আল্লাহর জিকির করা হয়, তখন জিনের সব চক্রান্ত তুচ্ছ ও হীন হয়ে যায়; কেবল তাকওয়া ও সৎকর্মই ফলপ্রসূ হয়।’

ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেনযে, কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই প্রস্তাব দিয়েছিল যে, তারা তাঁকে সম্পদ প্রদান করবে যার ফলে তিনি মক্কার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হবেন, তাঁর পছন্দমতো নারীদের সাথে তাঁর বিয়ে দেবে এবং তারা তাঁর অনুগামী হবে।তারা তাঁকে বলেছিল: "হে মুহাম্মদ! আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য এই সুযোগ রয়েছে, তবে শর্ত হলো আপনি আমাদের উপাস্যদের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকবেন এবং তাদের মন্দভাবে উল্লেখ করবেন না।""যদি আপনি এটি না করেন, তবে আমরা আপনার নিকট একটি বিকল্প প্রস্তাব দিচ্ছি যা আমাদের ও আপনার উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।" তারা তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলল।

তিনি বললেন: "যতক্ষণ না আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসে, ততক্ষণ আমি অপেক্ষা করছি।" এরপর ওহী অবতীর্ণ হলো: (বলুন, হে কাফিরগণ!) (সূরা আল-কাফিরুন, আয়াত ১) সূরার শেষ পর্যন্ত। আর আল্লাহ তাঁর প্রতি নাযিল করলেন: বলুন, হে মূর্খরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতে নির্দেশ দিচ্ছ? আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী পাঠানো হয়েছে যে, আপনি যদি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।বায়হাকী 'দালাইল' গ্রন্থে হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুশরিকরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিল: "হে মুহাম্মদ!

আপনি আপনার পূর্বপুরুষদের ধর্মের ব্যাপারে সাবধান হোন (অর্থাৎ তা ত্যাগ করবেন না)।"তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: বলুন, হে মূর্খরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতে নির্দেশ দিচ্ছ? তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: বরং আল্লাহরই ইবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হোন। আয়াত ৬৭

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনে মদিনাবাসীকে আমি যতটা আনন্দিত হতে দেখেছি, অন্য কোনো কিছুতে তেমন আনন্দিত হতে দেখিনি; এমনকি ছোট ছোট বালিকা ও শিশুদের বলতে শুনেছি: 'এই যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছেন।' তিনি আসার আগেই আমি 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং এর অনুরূপ অন্যান্য সূরাসমূহ পাঠ করেছিলাম।ইমাম আহমদ, বাজ্জার ও ইবনে মারদুওয়াই আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সূরাটি অর্থাৎ 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' ভালোবাসতেন।আবু উবাইদ তামীম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি মুসাব্বিহাত (যেসব সূরা তাসবীহ দ্বারা শুরু হয়) সূরাসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠটি ভুলে গিয়েছি।’ তখন উবাই ইবনে কাব (রা.) বললেন, ‘সম্ভবত সেটি সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ইবনে আবি শায়বা, আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ নুমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই ঈদ ও জুমার দিনে 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং 'হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ' (সূরা আল-গাশিয়াহ, আয়াত ১) পাঠ করতেন।

যদি জুমার দিনে ঈদ পড়ত, তবে উভয় নামাযেই তিনি এই সূরা দুটি পাঠ করতেন।ইবনে আবি শায়বা ও ইবনে মাজাহ আবু উতবা আল-খাওলানি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমায় 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং 'হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ' পাঠ করতেন।ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদে 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং 'হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ' পাঠ করতেন।আহমদ, ইবনে মাজাহ ও তাবারানি সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই ঈদে 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং 'হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ' পাঠ করতেন।বাজ্জার আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জোহর ও আসরে 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং 'হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ' পাঠ করতেন।ইবনে আবি শায়বা ও মুসলিম জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জোহরে 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' পাঠ করতেন।ইবনে আবি শায়বা, মুসলিম এবং বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জোহরের নামাজ পড়ালেন।

সালাম ফেরানোর পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমাদের মধ্যে কি কেউ সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা পাঠ করেছ?’ এক ব্যক্তি বললেন: ‘আমি।’তিনি বললেন: ‘আমি জানতাম যে তোমাদের মধ্যে কেউ একজন এটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করছে (অর্থাৎ উচ্চস্বরে পড়ার কারণে কিরাতে ব্যাঘাত ঘটছে)।’আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, দারা কুতনি, হাকেম ও বায়হাকি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিতরের নামাজে 'সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা' এবং 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন' (সূরা আল-কাফিরুন, আয়াত ১) পাঠ করতেন।