Fussilat
ফুসসিলাত: 9
মূল আরবি
۞ قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَرْضَ فِى يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُۥٓ أَندَادًا ۚ ذَٰلِكَ رَبُّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
English Translations
Say, "Do you indeed disbelieve in He who created the earth in two days and attribute to Him equals? That is the Lord of the worlds."
Say (O Muhammad SAW): "Do you verily disbelieve in Him Who created the earth in two Days and you set up rivals (in worship) with Him? That is the Lord of the 'Alamin (mankind, jinns and all that exists).
Say, “Do you really disbelieve in the One who has created the earth in two days, and ascribe to Him partners? That is the Lord of the worlds.
Tell them, (O Prophet): “Do you indeed disbelieve in Him and assign compeers to Him Who created the earth in two days? He is the Lord of all beings of the Universe.
Say (O Muhammad, unto the idolaters): Disbelieve ye verily in Him Who created the earth in two Days, and ascribe ye unto Him rivals? He (and none else) is the Lord of the Worlds.
Say: Is it that ye deny Him Who created the earth in two Days? And do ye join equals with Him? He is the Lord of (all) the Worlds.
বাংলা অনুবাদ
বল- তোমরা কি তাঁকে অস্বীকারই করছ যিনি যমীনকে সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে আর তাঁর সমকক্ষ বানাচ্ছ? তিনিই তো বিশ্বজগতের রব্ব।
বল, ‘তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি দু’দিনে যমীন সৃষ্টি করেছেন? আর তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ বানাতে চাচ্ছ? তিনিই সৃষ্টিকুলের রব’।
বলঃ তোমরা কি তাকে অস্বীকার করবেই যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও? তিনিতো জগতসমূহের রাব্ব।
বলুন, ‘তোমরা কি তাঁর সাথেই কুফরী করবে যিনি যমীন সৃষ্টি করেছেন দু'দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ তৈরী করছ? তিনি সৃষ্টিকুলের রব!
বল : তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবেই যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু দিনে আর তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও? তিনি তো জগতসমূহের প্রতিপালক।
৯. হে রাসূল! আপনি মুশরিকদেরকে ধমকির স্বরে বলুন, তোমরা কেন সেই আল্লাহকে অবিশ্বাস করো যিনি রবি ও সোম এই দু’দিনে যমীনকে সৃষ্টি করেছেন। উপরন্তু তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করে তাদের ইবাদাত করছো?! অথচ তিনি সকল সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা।
তাফসীর
৯-১২ নং আয়াতের তাফসীর: সবারই সৃষ্টিকর্তা, অধিকর্তা, শাসনকর্তা এবং পালনকর্তা একমাত্র আল্লাহ। সবারই উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান একমাত্র তিনিই। যমীনের ন্যায় প্রশস্ত সৃষ্ট জিনিসকে তিনি স্বীয় পূর্ণ ক্ষমতাবলে মাত্র দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের তার সাথে কুফরী করাও উচিত নয় এবং শির্ক করাও না। তিনিই যেমন সবারই সৃষ্টিকর্তা তেমনই তিনিই সবারই পালনকর্তা। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, অন্যান্য আয়াতে যমীন ও আসমানকে ছয় দিনে সৃষ্টি করার কথা বর্ণিত হয়েছে, আর এখানে এগুলোকে সৃষ্টি করার সময় পৃথকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং জানা গেল যে, প্রথমে যমীনকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অট্টালিকা নির্মাণ করারও পদ্ধতি এটাই যে, প্রথমে ভিত্তি ও নীচের অংশ নির্মাণ করা হয়। তারপর উপরের অংশ ও ছাদ নির্মাণ করা হয়ে থাকে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন, তৎপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং ওকে সপ্তাকাশে বিন্যস্ত করেন।”(২:২৯) আর আল্লাহ তাআলা যে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন; তিনি এটাকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করেছেন সূর্যালোক; এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন।
তিনি ওটা হতে বহির্গত করেছেন ওর পানি ও তৃণ, এবং পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করেছেন। এসব তোমাদের ও তোমাদের (গৃহপালিত) চতুষ্পদ জন্তুর ভোগের জন্যে।”(৭৯ ২৭-৩৩) এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, আসমানকে প্রথমে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যমীনকে এর পরে বিছানো হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ভাবার্থ এই যে, পরে যমীন হতে পানি, চারা বের করা হয়েছে এবং পাহাড়কে গেড়ে দেয়া হয়েছে। যেমন এর পরেই রয়েছেঃ “তিনি ওটা হতে বের করেছেন ওর পানি ও তৃণ।” তারপর তিনি আসমান ও যমীনকে ঠিকঠাক করেছেন। সুতরাং দু’টি আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে বলেনঃ “কুরআন কারীমের কতকগুলো আয়াতের মধ্যে আমি কিছুটা অনৈক্য দেখতে পাচ্ছি।
যেমন একটি আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “ঐ দিন তাদের মধ্যে কোন বংশ সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে না।”(২৩:১০১) অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা একে অপরের সামনা-সামনি হয়ে পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে।”(৫২:২৫) এক আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা আল্লাহর কাছে কোন কথা গোপন করবে না।”(৪:৪২) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না।”(৬:২৩) এ আয়াতে রয়েছে যে, তারা গোপন করবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই এটা সৃষ্টি করেছেন।......
এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন।”(৭৯:২৭-৩০) এখানে মহান আল্লাহ্ আকাশ সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন যমীনের পূর্বে। আর এখানে (সূরায়ে হা-মীম, আস্ সাজদায়) বলেছেনঃ (আরবী) এখানে তিনি যমীন সৃষ্টি করার কথা উল্লেখ করেছেন আকাশ সৃষ্টির পূর্বে। আর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবী) তাহলে কি আল্লাহ্ এরূপ ছিলেন, তারপর গত হয়ে গেছেন? দয়া করে এগুলোর সঠিক অর্থ বুঝিয়ে দিন, যাতে অনৈক্য দূর হয়ে যায়। লোকটির এসব প্রশ্নের উত্তরে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “যে দু’টি আয়াতের একটির মধ্যে পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে এবং অন্যটিতে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
এটা দুই সময়ের কথা। শিংগায় দুটি ফুকার দেয়া হবে। প্রথম ফুৎকারের সময় পরস্পরের মধ্যে কোন জিজ্ঞাসাবাদ হবে না। দ্বিতীয় ফুঙ্কারের সময় পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ হবে। যে দুটি আয়াতের একটির মধ্যে কোন কথা গোপন না করার এবং অন্য আয়াতে গোপন করার কথা রয়েছে। এরও স্থল দু’টি। যখন মুশরিকরা দেখবে যে, একত্ববাদীদের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে তখন তারা বলবেঃ “আমরা মুশরিক ছিলাম না। কিন্তু যখন তাদের মুখে মোহর লেগে যাবে এবং দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সাক্ষ্য দিতে শুরু করবে তখন আর কিছুই গোপন থাকবে না এবং তাদের কৃতকর্মের স্বীকারুক্তি হয়ে যাবে।
তখন তারা বলবেঃ “হায়! আমরা যদি মাটি হয়ে যেতাম।”আসমান এবং যমীনের সৃষ্টির ক্রম পর্যায়ের ব্যাপারেও কোন অনৈক্য নেই। প্রথমে দুই দিনে যমীনকে সৃষ্টি করা হয়। তারপর দুই দিনে আসমানকে সৃষ্টি করা হয়। অতঃপর যমীনের জিনিসগুলো, যেমন পানি, চারা, পাহাড়-পর্বত, প্রস্তরাদি, জড় পদার্থ ইত্যাদি দুই দিনে সৃষ্টি করেন। (আরবী)-এর অর্থ এটাই। সুতরাং যমীনের পূর্ণ সৃষ্টিকার্য চার দিনে হয়েছে। আর আসমান সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে।যে নামগুলো আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্যে নির্ধারণ করেছেন ওগুলোর তিনি বর্ণনা দিয়েছেন যে, সদা-সর্বদা তিনি ঐরূপই থাকবেন। আল্লাহ তা'আলার কোন ইচ্ছাই অপূর্ণ থাকে না।
সুতরাং কুরআন কারীমের মধ্যে মোটেই অনৈক্য নেই এবং এর আয়াতগুলো পরস্পর বিরোধী নয়। এর এক একটি শব্দ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার পক্ষ হতে এসেছে। যমীনকে আল্লাহ তা'আলা দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ রবিবার ও সোমবারে। আর যমীনের উপর পাহাড়-পর্বত বানিয়েছেন। যমীনকে তিনি বরকতময় করেছেন। মানুষ এতে বীজ বপন করে এবং তা হতে গাছ, ফলমূল ইত্যাদি উৎপন্ন হয়। পৃথিবীবাসীর যেসব জিনিসের প্রয়োজন তার সবই যমীনেই উৎপন্ন হয়। ক্ষেত এবং বাগানের স্থানও তিনি বানিয়ে দিয়েছেন। যমীনের এই ঠিক-ঠাককরণ মঙ্গল ও বুধবারে হয়। চার দিনে যমীনের সৃষ্টিকার্য সমাপ্ত হয়।
যে লোকগুলো এর জ্ঞান লাভ করতে চাচ্ছিল তারা পূর্ণ জবাব পেয়ে যায়। সুতরাং এ বিষয়ে তারা জ্ঞান লাভে সক্ষম হয়। যমীনের প্রতিটি অংশে মহান আল্লাহ ঐ জিনিস সরবরাহ করেছেন যা তথাকার বাসিন্দার জন্যে উপযোগী। যেমন ইয়ামনে আসব’, সাকূরে ‘সাকূরী’ এবং রাষ্ট্র এ তায়ালিসা’। আয়াতের শেষ বাক্যের ভাবার্থ এটাই। এটাও বলা। হয়েছে যে, যার যা প্রয়োজন ছিল, আল্লাহ তা'আলা তার জন্যে তা সরবরাহ করেছেন। এ অর্থটি আল্লাহ তা'আলার নিম্নের উক্তির সহিত সাদৃশ্যপূর্ণঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু চেয়েছে, তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে তার সবই দিয়েছেন।”(১৪:৩৪) এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ।
আল্লাহ একে এবং পৃথিবীকে বললেনঃ তোমরা উভয়ে এসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। অর্থাৎ আমার হুকুম মেনে নিয়ে আমি যা বলি তাই হয়ে যাও, খুশী মনে অথবা বাধ্য হয়ে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যেমন আকাশকে হুকুম করা হলো সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি উদিত করার। আর যমীনকে হুকুম করা হলো পানির নহর জারী করার এবং ফল-মূল উৎপন্ন করার ইত্যাদি। উভয়েই খুশী মনে হুকুম মেনে নিতে সম্মত হয়ে গেল এবং বললোঃ “আমরা আসলাম অনুগত হয়ে। কথিত আছে যে, এদুটোকে কথোপকথনকারীদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। একথাও। বলা হয়েছে যে, যমীনের ঐ অংশ কথা বলেছিল যেখানে কাবা ঘর নির্মিত হয়েছে।
আর আসমানের ঐ অংশ কথা বলেছিল যা ঠিক এর উপরে রয়েছে। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।ইমাম হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, যদি আসমান ও যমীন আনুগত্য স্বীকার না করতো তবে ওদেরকে শাস্তি দেয়া হতো, যে শাস্তির যন্ত্রণা তারা অনুভব করতো।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আকাশমণ্ডলকে দুই দিনে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে। প্রত্যেক আকাশে তিনি ইচ্ছামত জিনিস ও ফেরেশতামণ্ডলী প্রতিষ্ঠিত ও নিয়োজিত করে দেন। দুনিয়ার আকাশকে তিনি তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত করেন যেগুলো যমীনে আলো বিচ্ছুরিত করে এবং ঐ শয়তানদের প্রতি ওরা সজাগ দৃষ্টি রাখে যারা উর্ধ জগতের কিছু শুনবার উদ্দেশ্য উপরে উঠার ইচ্ছা করে এবং ওগুলো সব দিক হতে ঐ শয়তানদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা, যিনি সবারই উপর বিজয়ী, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিটি অংশের সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপনীয় বিষয়ের খবর রাখেন।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকার্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা রবিবার ও সোমবারে যমীন সৃষ্টি করেন। পাহাড় পর্বত এবং সমুদয় উপকারী বস্তুকে সৃষ্টি করেন মঙ্গলবারে। বুধবারে গাছ-পালা, পানি, শহর এবং আবাদী ও অনাবাদি অর্থাৎ জনপদ ও মরু প্রান্তর সৃষ্টি করেন। সুতরাং এটা হলো চার দিন।” এটা বর্ণনা করার পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ আয়াতটিই পাঠ করেন।
অতঃপর বলেনঃ “বৃহস্পতিবারে আল্লাহ তা'আলা আসমান সৃষ্টি করেন এবং শুক্রবারে তিন ঘন্টা বাকী থাকা পর্যন্ত নক্ষত্ররাজি, সূর্য, চন্দ্র এবং ফেরেশতামণ্ডলী সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় ঘন্টায় প্রত্যেকটি জিনিসের উপর বিপদ আপতিত করেন যার থেকে লোক উপকার লাভ করে থাকে। তৃতীয় ঘন্টায় তিনি হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন, তাঁকে বেহেশতে প্রতিষ্ঠিত করেন, ইবলীসকে হুকুম করেন হযরত আদম (আঃ)-কে সিজদা করার এবং পরিশেষে তাকে সেখান হতে বের করে দেন।” ইয়াহূদীরা বললোঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! এরপর কি হলো?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তারা বললোঃ “আপনি সবই ঠিক বলেছেন, কিন্তু শেষ কথাটি বলেননি।
তা হলো এই যে, অতঃপর তিনি আরাম গ্রহণ করেন। তাদের একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) রাগান্বিত হলেন। তখন নিম্নলিখিত আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছু সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। অতএব, তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর।”(৫০:৩৮-৩৯) (এটা ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনাটি গারীব) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার হাত ধরে বললেনঃ “আল্লাহ তা'আলা মাটিকে শনিবারের দিন সৃষ্টি করেন। তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেন রবিবারে।
বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন সোমবারে। অপ্রীতিকর জিনিস সৃষ্টি করেন মঙ্গলবারে। আলো সৃষ্টি করেন বুধবারে। জীব-জন্তু যমীনে ছড়িয়ে দেন বৃহস্পতিবারে। আর শুক্রবারের দিন আসরের এবং রাত্রির মাঝামাঝি সময়ে, দিনের শেষ ভাগে হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন এবং এভাবে সৃষ্টিকার্য সমাপ্ত করেন।” (এ হাদীসটি ইবনে জুরায়েজ (রঃ) বর্ণনা করেন। ইমাম মুসলিম (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈও (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটাও গারীব হাদীস। ইমাম বুখারী (রঃ) এটাকে মুআল্লাল বলেছেন এবং বলেছেন যে, কেউ কেউ এটাকে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে এবং হযরত হুরাইরা (রাঃ) কা'ব আহবার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন এবং এটাই সঠিকতম)
বলুন, তোমরা কি তাঁর সাথেই কুফরী করবে যিনি যমীন সৃষ্টি করেছেন [১] দু'দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ তৈরী করছ? তিনি সৃষ্টিকুলের রব!
[১] আলোচ্য আয়াতে মুশরিকদেরকে তাদের শিরক ও কুফরের কারণে এক সাবলীল ভঙ্গিতে হুশিয়ার করা উদ্দেশ্য। এতে আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টিগুণ তথা বিরাটকায় আকাশ ও পৃথিবীকে অসংখ্য রহস্যের উপর ভিত্তিশীল করে সৃষ্টি করার বিশদ বিবরণ দিয়ে তাদেরকে এই বলে শাসানো হয়েছে যে, তোমরা এমন নির্বোধ যে, মনে স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমানের সাথেও অপরকে শরীক সাব্যস্ত করা? এমনি ধরনের হুশিয়ারী ও বিবরণ পবিত্র কুরআনের অন্যত্র এভাবে উল্লেখিত হয়েছে,
كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
[সূরা আল-বাকার: ২৮]
[সূরা ফুসসিলাত (৪১): আয়াত ৯ থেকে ১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মুজাহিদ (রহ.) বলেন: "গাইরু মামনুন" অর্থ অগণিত। আবার বলা হয়েছে: "গাইরু মামনুন" অর্থ তাদের ওপর কোনো প্রকার অনুগ্রহ জাহির করা হবে না। সুদ্দী (রহ.) বলেন: এই আয়াতটি অক্ষম, অসুস্থ ও অতি বৃদ্ধদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; তারা যখন ইবাদত পালনে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তাদের আমলনামায় ঠিক ঐরূপ সওয়াব লেখা হতে থাকে যেরূপ তারা সুস্থ অবস্থায় থাকাকালীন আমল করত। [সূরা ফুসসিলাত (৪১): আয়াত ৯ থেকে ১২]বলুন, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করছ যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থির করছ? তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক (৯)। তিনি পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে বরকত দান করেছেন এবং চার দিনের মধ্যে এতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন যা যাঞ্চাকারীদের জন্য সমান (১০)।
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যা ছিল ধূম্রকুঞ্জ। অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা অনুগত হয়ে আসলাম (১১)। অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করলেন। আর আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং করেছি সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ (১২)।মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করছ যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে।" "আ-ইন্নাকুম" শব্দটি দুই হামজা যোগে পঠিত হয়েছে যেখানে দ্বিতীয় হামজাটি তাসহিল বা সহজভাবে উচ্চারিত হয়, আবার দুই হামজার মাঝে আলিফ যোগেও পঠিত হয়েছে।
এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য যার উদ্দেশ্য হলো তিরস্কার করা। আল্লাহ তাআলা রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে তিরস্কার করতে এবং তাদের আচরণের ওপর বিস্ময় প্রকাশ করতে; অর্থাৎ তোমরা কেন আল্লাহর সাথে কুফরি করছ অথচ তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা?! "দুই দিনে" অর্থ রবিবার ও সোমবার। "এবং তোমরা তাঁর সমকক্ষ স্থির করছ" অর্থাৎ তাঁর প্রতিপক্ষ ও অংশীদার সাব্যস্ত করছ। "তিনিই বিশ্বজগতের প্রতিপালক।" "এবং তিনি তাতে স্থাপন করেছেন" অর্থাৎ জমিনে "অটল পর্বতমালা তার উপরিভাগে" অর্থাৎ পাহাড়সমূহ। ওহাব (রহ.) বলেন: আল্লাহ যখন পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন তা পানির ওপর দুলতে লাগল।
তখন তিনি জিবরাঈল (আ.)-কে বললেন, হে জিবরাঈল! একে স্থির করো। জিবরাঈল (আ.) অবতরণ করে পৃথিবী ধরলেন, কিন্তু বাতাসের তীব্রতা তাঁর ওপর প্রবল হলো। তিনি বললেন: হে রব! আপনিই ভালো জানেন, আমি এতে পরাস্ত হয়েছি। অতঃপর আল্লাহ পাহাড়ের মাধ্যমে একে স্থির ও দৃঢ় করলেন। "এবং তাতে বরকত দান করেছেন" অর্থাৎ তাতে নানাবিধ কল্যাণ ও উপকার সৃষ্টির মাধ্যমে। সুদ্দী (রহ.) বলেন: তিনি তাতে বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করেছেন। "এবং তাতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন" সুদ্দী ও হাসান (রহ.) বলেন: এর অর্থ হলো এর অধিবাসীদের রিজিক ও তাদের প্রয়োজনীয় কল্যাণসমূহ নির্ধারণ করেছেন।
কাতাদাহ ও মুজাহিদ (রহ.) বলেন: মঙ্গলবার ও বুধবার দিনে তিনি তাতে নদীসমূহ, বৃক্ষরাজি ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন। ইকরিমা ও দাহহাক (রহ.) বলেন: "তাতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন" এর অর্থ হলো তার অধিবাসীদের রিজিক এবং তাদের জীবনোপকরণের জন্য যা যা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করেছেন।
মতভেদতিনি বললেন: সে বিষয়ে তোমার কাছে যা যা পরস্পরবিরোধী মনে হয়েছে, তা পেশ করো।তিনি বললেন: আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি, (অতঃপর তাদের পরীক্ষার পরিণাম এছাড়া আর কিছু হবে না যে, তারা বলবে: ‘আমাদের রব আল্লাহর শপথ! আমরা মুশরিক ছিলাম না’) (সূরা আল-আন’আম, আয়াত ২৩)। আবার তিনি বলেছেন, এবং তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না
অথচ তারা তো গোপন করল। আবার আমি তাকে বলতে শুনেছি, (সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না) (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০১)। পুনরায় তিনি বলেছেন, (এবং তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে) (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ২৭)।
তিনি আরও বলেছেন, (তোমরা কি সেই সত্তাকেই অস্বীকার করছ, যিনি পৃথিবীকে দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন) (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৯) ‘অনুগত হয়ে এলাম’ বাক্যটি পর্যন্ত। এই আয়াতে তিনি আসমান সৃষ্টির আগে জমিন সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। আবার অন্য আয়াতে বলেছেন, (আকাশ, যা তিনি নির্মাণ করেছেন) (সূরা আন-নাজিআত, আয়াত ২৭)। তারপর বলেছেন, (আর এর পরে পৃথিবীকে তিনি বিস্তৃত করেছেন) (সূরা আন-নাজিআত, আয়াত ৩০)। ফলে এই আয়াতে তিনি জমিন সৃষ্টির আগে আসমান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। আর আমি তাকে বলতে শুনি, (আল্লাহ ছিলেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়), (আল্লাহ ছিলেন পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু), (আল্লাহ ছিলেন সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা); যেন এগুলো আগে ছিল কিন্তু এখন সেই অবস্থা অতিক্রান্ত হয়েছে।অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, (আল্লাহ ছিলেন)—এই বাক্যের তাৎপর্য কী?ইবনে আব্বাস (রাযি.) বললেন: তাঁর বাণী—(অতঃপর তাদের পরীক্ষার পরিণাম এছাড়া আর কিছু হবে না যে, তারা বলবে: ‘আমাদের রব আল্লাহর শপথ!
আমরা মুশরিক ছিলাম না’) (সূরা আল-আন’আম, আয়াত ২৩)—এর ব্যাখ্যা হলো, কিয়ামতের দিন যখন তারা দেখবে যে আল্লাহ ইসলাম অনুসারীদের ক্ষমা করছেন এবং পাপসমূহ মোচন করছেন কিন্তু শিরক ক্ষমা করছেন না, আর কোনো পাপ ক্ষমা করা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়, তখন মুশরিকরা ক্ষমার আশায় তাদের শিরকের কথা অস্বীকার করবে এবং বলবে: ‘আমাদের রব আল্লাহর শপথ! আমরা মুশরিক ছিলাম না।’ তখন আল্লাহ তাদের মুখে মোহর মেরে দেবেন এবং তাদের হাত ও পা তারা যা করত সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে। সেই মুহূর্তেই কাফেররা কামনা করবে যে যদি মাটি তাদের সাথে মিশে সমতল হয়ে যেত, আর তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না।আর তাঁর বাণী—(সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না) (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০১)—এটি প্রথম শিঙায় ফুৎকারের সময়কার অবস্থা, (আর যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন আসমান ও জমিনে যারা আছে সবাই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সে ব্যতীত) (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৬৮)।
সেই সময় তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না। (অতঃপর যখন পুনরায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখনই তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে) (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৬৮) এবং তখন (তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে) (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ২৭)।আর তাঁর বাণী—(পৃথিবীকে দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন) (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৯)—এর বিষয় হলো, পৃথিবী আসমানের পূর্বেই সৃষ্টি করা হয়েছে।
ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে "এবং এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন" আয়াতের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এর অর্থ 'এর সাথে'।আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আল্লাহর কিতাবে দুটি আয়াত রয়েছে যা একে অপরের বিপরীত বলে মনে হয়। তিনি বললেন: তুমি কেবল নিজের খেয়ালখুশি মতো বুঝেছ; তুমি পড়ো— "বলুন, তোমরা কি সেই সত্তাকে অস্বীকার করছ যিনি পৃথিবীকে দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন..." (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৯) যে পর্যন্ত না পৌঁছাল "...অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনোনিবেশ করলেন আর তা ছিল ধোঁয়া সদৃশ" (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪১ [আয়াত ১১]) এবং তাঁর বাণী: "এবং এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন"।
তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: আকাশ সৃষ্টির পূর্বে তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আকাশ সৃষ্টি করেন, অতঃপর আকাশ সৃষ্টির পর জমিনকে বিস্তৃত করেন। আর তাঁর বাণী "বিস্তৃত করেছেন" এর অর্থ হলো বিছিয়ে দেওয়া বা প্রসারিত করা।ইবনুল মুনজির ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে "এবং এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন" আয়াতের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি মক্কা থেকে বিস্তৃত করা হয়েছে।ইবনুল মুনজির ইবনে জুরাইজ থেকে তাঁর বাণী "তিনি তা থেকে নির্গত করেছেন তার পানি" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তিনি সেখান থেকে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন।
আর "এবং তার চারণভূমি" সম্পর্কে তিনি বলেছেন: আল্লাহ যা কিছু উদ্ভিদ বা অন্য বস্তু সৃষ্টি করেছেন।ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে "বিস্তৃত করেছেন" আয়াতের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: একে বিস্তৃত করার অর্থ হলো—তা থেকে পানি ও চারণভূমি নির্গত করা, তাতে নদ-নদী প্রবাহিত করা, এবং তাতে পাহাড়, বালুচর, পথ ও টিলাসমূহ স্থাপন করা এবং দুই দিনের মধ্যে এ সবকিছুর মাঝে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করা।ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর বাণী "তোমাদের ভোগের জন্য" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো উপকার।আবদ ইবনে হুমাইদ আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জমিনকে কাবার তলদেশ থেকে বিস্তৃত করা হয়েছে।আবুশ শাইখ ‘আল-আযামাহ’ গ্রন্থে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলেন।
যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তিনি তাঁর মাথা তুলে বললেন: বরকতময় সেই সত্তা যিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং এর পরিচালক। এরপর তিনি জমিনের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন: বরকতময় সেই সত্তা যিনি একে বিস্তৃত করেছেন এবং এর স্রষ্টা।ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর বাণী "অতঃপর যখন সেই মহা বিপদ আসবে" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ‘ত্বম্মাহ’ (মহা বিপদ) হলো কিয়ামতের নামসমূহের একটি।ইবনে আবি শাইবাহ এবং ইবনুল মুনজির কাসিম ইবনুল ওয়ালিদ আল-হামদানি থেকে তাঁর বাণী "অতঃপর যখন সেই মহা বিপদ আসবে" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি তখন হবে যখন জান্নাতবাসীদের জান্নাতের দিকে এবং জাহান্নামীদের জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে।
