Al-'Ankabut
আল-আনকাবুত: 16
মূল আরবি
وَإِبْرَٰهِيمَ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَٱتَّقُوهُ ۖ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
English Translations
And [We sent] Abraham, when he said to his people, "Worship Allāh and fear Him. That is best for you, if you should know.
And (remember) Ibrahim (Abraham) when he said to his people: "Worship Allah (Alone), and fear Him, that is better for you if you did but know.
And (We sent) Ibrāhīm when he said to his people, “Worship Allah and fear Him. That is better for you if you know.
We sent Abraham and he said to his people: “Serve Allah and fear Him.This is better for you if you only knew.
And Abraham! (Remember) when he said unto his folk: Serve Allah, and keep your duty unto Him; that is better for you if ye did but know.
And (We also saved) Abraham: behold, he said to his people, "Serve Allah and fear Him: that will be best for you- If ye understand!
বাংলা অনুবাদ
স্মরণ কর যখন ইবরাহীম তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- ‘তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর আর তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তোমরা যদি জানতে!
আর (স্মরণ কর) ইবরাহীমকে, যখন সে তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর; এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জান’।
স্মরণ কর ইবরাহীমের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁকে ভয় কর, তোমাদের জন্য এটাই শ্রেয় যদি তোমরা জানতে।
আর স্মরণ করুন ইবরাহীমকে, যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদাত কর এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর; তোমাদের জন্য এটাই উত্তম। যদি তোমরা জানতে !
স্মরণ কর! ইবরাহীমের কথা, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁকে ভয় কর; এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে!
১৬. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ঘটনা যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন: তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর শাস্তিকে ভয় করো। এ আদেশকৃত বিষয়টি তোমাদের জন্য অনেক উত্তম যদি তোমরা ব্যাপারটি বুঝতে!
তাফসীর
১৬-১৮ নং আয়াতের তাফসীরএকত্ববাদীদের ইমাম, রাসূলদের পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আঃ)-এর বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি স্বীয় কওমকে তাওহীদের দাওয়াত দেন, রিয়াকারী হতে বেঁচে থাকা এবং পরহেযগারী কায়েম করার হুকুম দেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর নিয়ামতরাজির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলেন। আর এর উপকারের কথাও তিনি তাদেরকে বলে দেন যে, এর দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ দূর হয়ে যাবে এবং দুই জাহানের নিয়ামত তারা লাভ করবে। সাথে সাথে তিনি তাদেরকে বলেনঃ যে মূর্তিগুলোর তোমরা উপাসনা করছে ওগুলো তো তোমাদের লাভ বা ক্ষতি কিছুই করতে পারে না।
তোমরা নিজেরাই ওদের নাম রেখেছে এবং দেহ তৈরী করেছে। এরা তো তোমাদের মতই সৃষ্ট। এমন কি এরা তোমাদের চেয়েও দুর্বল। এরা তো তোমাদের জীবনোপকরণেরও মালিক নয়। আল্লাহ তাআলার নিকটই তোমরা রিযিক যাঞা কর, আর কারো কাছে নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলতে শিখিয়ে দিয়েছেনঃ(আরবি) অর্থাৎ “আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।” (১:৪) এই সীমাবদ্ধতা হযরত আসিয়া (রাঃ)-এর প্রার্থনাতেও রয়েছে। তিনি প্রার্থনা করেছিলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্যে আপনার নিকট জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করুন।” (৬৬:১১) আল্লাহ ছাড়া কেউ রিযিক দিতে পারে না, সুতরাং তোমরা একমাত্র তাঁরই কাছে রিযিক যাজ্ঞা কর।
আর যখন তাঁরই রিযিক ভক্ষণ কর তখন তার ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ কর। তোমাদের প্রত্যেকেই তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। তিনি প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের প্রতিদান প্রদান করবেন। দেখো, আমাকে মিথ্যাবাদী বলে তোমরা আত্মপ্রসাদ লাভ করো না। চিন্তা করে দেখো যে, তোমাদের পূর্বে যারা নবীদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল তাদের পরিণতি কি হয়েছে! জেনে রেখো যে, নবীদের কাজ শুধু আল্লাহর বাণী মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়া। হিদায়াত করা ও না করা আল্লাহরই হাতে। নিজেদেরকে তোমরা সৌভাগ্যবান বানিয়ে নাও। হতভাগ্যদের মধ্যে নিজেদেরকে শামিল করো না।হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে যথেষ্ট সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে।
এর ভাবার্থের চাহিদা তো এই যে, প্রথম বাক্য এখানে শেষ হয়েছে এবং এরপর (আরবি) (২৭:৫৬) পর্যন্ত বাক্যগুলো (আরবি) হিসেবে এসেছে। ইমাম ইবনে জারীর তো স্পষ্ট ভাষায় একথাই বলেছেন। কিন্তু কুরআন কারীমের শব্দ দ্বারা এটা প্রকাশ্যভাবে জানা যাচ্ছে যে, সমুদয়ই হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আঃ)-এরই উক্তি। তিনি কিয়ামত কায়েম হওয়ার দলীল প্রমাণাদি পেশ করেছেন। কেননা, এই সমুদয় কালামের পর তাঁর কওমের জবাবের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
আর স্মরণ করুন ইবরাহীমকে [১], যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহ্র ‘ইবাদাত কর এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর; তোমাদের জন্য এটাই উত্তম। যদি তোমরা জানতে !
[১] এখানে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি অনেক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নমরূদের অগ্নি, অতঃপর শাম থেকে হিজরত করে তরুলতাহীন জনশূন্য প্রান্তরে অবস্থান, আদরের দুলালকে যবেহ করার ঘটনা ইত্যাদি। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী প্রসঙ্গে লুত আলাইহিস সালাম ও তার উম্মতের ঘটনাবলী এবং সূরার শেষ পর্যন্ত অন্য কয়েকজন নবী ও তাদের উম্মতের অবস্থা এগুলো সব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উম্মতে মুহাম্মদীর সান্তনার জন্যে এবং তাদেরকে দ্বীনের কাজে দৃঢ়পদ রাখার জন্যে বর্ণিত হয়েছে।
[সূরা আল-আনকাবুত (২৯): আয়াত ১৬ থেকে ১৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আনকাবুত (২৯): আয়াত ১৬ থেকে ১৯]এবং ইবরাহীমকে [স্মরণ করুন], যখন তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁকে ভয় করো; এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে। (১৬) তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল মূর্তিপূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করছ, তারা তোমাদের কোনো রিযিকের মালিক নয়। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছেই রিযিক তালাশ করো, তাঁর ইবাদত করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। (১৭) আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তবে তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক জাতিও অস্বীকার করেছিল।
আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে প্রচার করে দেওয়া। (১৮) তারা কি লক্ষ্য করে না, কীভাবে আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন? নিশ্চয় এটা আল্লাহর জন্য অতি সহজ। (১৯)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং ইবরাহীমকে) ইমাম কিসায়ী বলেন: "ইবরাহীম" শব্দটি 'মানসুব' (নসবযুক্ত) হয়েছে (আমরা রক্ষা করেছি) ক্রিয়ার প্রভাবে; অর্থাৎ এটি [লূত আ. এর প্রসঙ্গের] 'হা' সর্বনামের ওপর সংযোজিত হয়েছে। কিসায়ী আরও জায়েজ মনে করেন যে, এটি 'নূহ' শব্দের ওপর সংযোজিত হতে পারে এবং তখন অর্থ হবে: 'এবং আমরা ইবরাহীমকে প্রেরণ করেছি'। তৃতীয় একটি মত হলো: এটি 'স্মরণ করুন' অর্থে মানসুব হয়েছে।
(যখন তিনি তাঁর কওমকে বললেন: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো) অর্থাৎ ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁকে একক গণ্য করো। (এবং তাঁকে ভয় করো) অর্থাৎ তাঁর শাস্তি ও আজাবকে ভয় করো। (এটাই তোমাদের জন্য উত্তম) অর্থাৎ মূর্তিপূজা করার চেয়ে (যদি তোমরা জানতে)। মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল মূর্তিপূজা করছ) অর্থাৎ প্রতিমার পূজা করছ। আবু উবাইদাহ বলেন: 'সানাম' বা প্রতিমা হলো যা সোনা, রুপা বা তামা দিয়ে তৈরি করা হয়, আর 'ওয়াসান' বা মূর্তি হলো যা চুন বা পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। জওহারী বলেন: 'ওয়াসান' অর্থ হলো প্রতিমা, যার বহুবচন হলো 'উসুন' এবং 'আওসান'; যেমন 'উসুদ' এবং 'আসাদ'।
(এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ) হাসান বলেন: 'তাখলুকুনা' শব্দের অর্থ হলো তোমরা খোদাই বা তৈরি করছ। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়—তোমরা তো কেবল মূর্তিপূজা করছ যা তোমরা নিজেরাই তৈরি করো। মুজাহিদ বলেন: 'ইফক' মানে হলো মিথ্যা। অর্থাৎ তোমরা মূর্তিপূজা করছ এবং মিথ্যা রটনা করছ। আবু আবদুর রহমান পাঠ করেছেন: 'ওয়া তাখলুকুনা'। আবার 'তুখাল্লিকুনা' কেরাআতও রয়েছে যা আধিক্য অর্থ প্রদান করে। আর 'তাতাখাল্লাকুনা' অর্থ হলো মিথ্যা বলা ও বানোয়াট কিছু রটানো। এবং 'আফিকান' শব্দটিও পাঠ করা হয়েছে, যার দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে: একটি হলো এটি 'মিথ্যা' ও 'ক্রীড়া'-এর ন্যায় একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল; আর 'ইফক' হলো এরই সংক্ষেপিত রূপ।
দ্বিতীয়টি হলো এটি একটি গুণবাচক শব্দ, অর্থাৎ এমন মিথ্যা সৃষ্টি যা অসার ও বাতিল। আর 'আওসানান' শব্দটি 'তাতবুদুনা' ক্রিয়ার কারণে মানসুব হয়েছে এবং 'মা' বর্ণটি এখানে আমল প্রতিরোধক। কুরআনের পরিভাষার বাইরে 'আওসান' শব্দটিকে পেশযুক্ত পড়াও জায়েজ হতে পারে যদি 'মা' শব্দটিকে বিশেষ্য ধরা হয়, কারণ 'তাতবুদুনা' হবে তার পরিপূরক বাক্য; এবং বাক্য দীর্ঘ হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট সর্বনামটি উহ্য থাকবে এবং 'আওসান' হবে 'ইন্না'-এর খবর। তবে 'এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ'-এর ক্ষেত্রে শব্দটি কেবল ক্রিয়ার কারণেই মানসুব হয়েছে। অনুরূপভাবে (তারা তোমাদের কোনো রিযিকের মালিক নয়, সুতরাং তোমরা তালাশ করো...) অংশটিও।
