Al-'Ankabut
আল-আনকাবুত: 6
মূল আরবি
وَمَن جَـٰهَدَ فَإِنَّمَا يُجَـٰهِدُ لِنَفْسِهِۦٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَنِىٌّ عَنِ ٱلْعَـٰلَمِينَ
English Translations
And whoever strives only strives for [the benefit of] himself. Indeed, Allāh is Free from need of the worlds.
And whosoever strives, he strives only for himself. Verily, Allah is free of all wants from the 'Alamin (mankind, jinns, and all that exists).
Whoever strives, strives for his own benefit. Surely Allah is independent of all the worlds.
Whosoever strives(in the cause of Allah) does so to his own good. Surely Allah stands in no need of anyone in the whole Universe.
And whosoever striveth, striveth only for himself, for lo! Allah is altogether Independent of (His) creatures.
And if any strive (with might and main), they do so for their own souls: for Allah is free of all needs from all creation.
বাংলা অনুবাদ
যে লোক (আল্লাহর পথে) সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, সে তার নিজের কল্যাণেই প্রচেষ্টা চালায়, আল্লাহ সৃষ্টিজগত থেকে অবশ্যই বে-পরওয়া।
আর যে চেষ্টা করে সে তো তার নাফ্সের জন্য চেষ্টা করে। নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে প্রয়োজনমুক্ত।
যে কেহ (কঠোর) সাধনা করে, সে তা করে নিজেরই জন্য; আল্লাহতো বিশ্বজগত হতে অনপেক্ষ।
আর যে কেউ প্রচেষ্টা চালায়, সে তো নিজের জন্যই প্রচেষ্টা চালায়; আল্লাহ্ তো সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।
যে কেউ (আল্লাহর পথে) সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে, সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই প্রচেষ্টা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগত হতে অমুখাপেক্ষী।
৬. যে ব্যক্তি নিজকে আনুগত্যের উপর বাধ্য এবং গুনাহ থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করে উপরন্তু আল্লাহর পথে জিহাদ করে তার এ জিহাদ নিশ্চয়ই তার নিজের জন্য। কারণ, এর ফায়েদা তার দিকেই ফিরে আসবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সকল সৃষ্টির অমুখাপেক্ষী। তাদের আনুগত্য তাঁর কোন কিছু বাড়িয়ে দিবে না। না তাদের বিরুদ্ধাচরণ তাঁর কোন কিছু কমিয়ে দিবে।
তাফসীর
29:5
আর যে কেউ প্রচেষ্টা চালায়, সে তো নিজের জন্যই প্রচেষ্টা চালায় [১]; আল্লাহ্ তো সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী [২]।
[১] “মুজাহাদা’’ শব্দটির মূল অর্থ হচ্ছে, কোন বিরোধী শক্তির মোকাবিলায় দ্বন্দ্ব, প্ৰচেষ্টা চালানো। আর যখন কোন বিশেষ বিরোধী শক্তি চিহ্নিত করা হয় না বরং সাধারণভাবে “মুজাহাদা” শব্দ ব্যবহার করা হয় তখন এর অর্থ হয় একটি সর্বাত্মক ও সর্বব্যাপী দ্বন্দ্ব-সংঘাত। মুমিনকে এ দুনিয়ায় যে দ্বন্দ্ব-সংগ্রাম করতে হয় তা হচ্ছে এ ধরনের। তাকে নাফস, শয়তান ও কাফেরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়। [সা‘দী] তাকে শয়তানের সাথে লড়াই করতে হয়, কারণ সে তাকে সর্বক্ষণ সৎকাজের ক্ষতির ভয় দেখায় এবং অসৎকাজের লাভ ও স্বাদ উপভোগের লোভ দেখিয়ে বেড়ায়। তাকে নিজের নফসের বা কুপ্রবৃত্তির সাথেও লড়তে হয়, যে তাকে সর্বক্ষণ নিজের খারাপ ইচ্ছা-আকাংখার দাসে পরিণত করে রাখার জন্য জোর দিতে থাকে।
নিজের গৃহ থেকে নিয়ে বিশ্ব-সংসারের এমন সকল মানুষের সাথে তাকে লড়তে হয় যাদের আদর্শ, মতবাদ, মানসিক প্রবণতা, চারিত্রিক নীতি, রসম-রেওয়াজ, সাংস্কৃতিক ধারা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিধান সত্য দ্বীনের সাথে সংঘর্ষিক। তাকে কাফেরদের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়। [দেখুন, সা‘দী; আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর] এ প্রচেষ্টা এক-দুদিনের নয়, সারাজীবনের। দিন-রাতের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি মুহূর্তের। কোন একটি ময়দানে নয় বরং জীবনের প্রত্যেকটি ময়দানে ও প্রতি দিকে। হাসান বসরী বলেন, একজন মানুষ প্রতিনিয়ত জিহাদ করে যাচ্ছে অথচ একদিনও তরবারী ব্যবহার করেনি।
[ইবন কাসীর]
[২] অর্থাৎ আল্লাহ্ এ জন্য তোমাদের কাছে এ দ্বন্দ্ব-সংগ্রামের দাবী করছেন না যে, নিজের সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করার ও প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য তোমাদের সাহায্যের প্রয়োজন, বরং এটিই তোমাদের উন্নতি ও অগ্রগতির পথ, তাই তিনি তোমাদের এ দ্বন্দ্ব-সংগ্রামে লিপ্ত হবার নির্দেশ দিচ্ছেন। এ পথে অগ্রসর হয়ে তোমরা এমন শক্তির অধিকারী হতে পারো যার ফলে দুনিয়ায় তোমরা কল্যাণ ও সুকৃতির ধারক এবং আখেরাতে আল্লাহ্র জান্নাতের অধিকারী হবে। এ যুদ্ধ চালিয়ে তোমরা আল্লাহ্র কোন উপকার করবে না বরং তোমরা নিজেরাই উপকৃত হবে। তাছাড়া এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহ্র সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পার যার কথা সূরার শুরুতে আল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সা‘দী, ইবনুল কাইয়্যেম, শিফাউল আলীলঃ ২৪৬]
[সূরা আল-আনকাবুত (২৯): আয়াত ৪ থেকে ৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
অনুরূপ, এবং যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে যখন তারা তা ভিন্ন অন্য কিছু বিশ্বাস করেছিল। দ্বিতীয় অভিমতটি হলো: 'সাদাকু' শব্দটি 'সিদক' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো সুদৃঢ় হওয়া, আর 'কাযিবিন' শব্দটি 'কাযাবা' থেকে উদ্ভূত যখন কেউ পরাজিত হয়ে পলায়ন করে। এমতাবস্থায় অর্থ হবে: আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যুদ্ধক্ষেত্রে কারা অটল ছিল এবং কারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, যেমন কবি বলেছেন:আইসার নামক স্থানের এক সিংহ, যে পুরুষদের শিকার করে যখন... সেই সিংহ তার প্রতিপক্ষের সামনে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে না বরং অটল থাকে।এখানে 'তিনি অবশ্যই জানবেন' শব্দটিকে রূপক অর্থে 'তিনি অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন' অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
সাধারণ পাঠরীতি হলো 'লাইয়া'লামাল্লাহু' (ইয়া ও লাম বর্ণে ফাতহা দিয়ে)। আর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) পাঠ করেছেন 'লাইয়ু'লিমান্না' (ইয়া বর্ণে যম্মাহ এবং লাম বর্ণে কাসরা দিয়ে), যা নাহহাস যা বলেছেন তার অর্থকে স্পষ্ট করে। এর তিনটি সম্ভাব্য অর্থ রয়েছে: প্রথমত, পরকালে আল্লাহ এই সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীদের তাদের প্রতিদান ও শাস্তির স্তরসমূহ এবং দুনিয়াতে তাদের কৃত আমল সম্পর্কে অবহিত করবেন, অর্থাৎ তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে তাদের অবগত করবেন। দ্বিতীয়ত, এর প্রথম কর্মপদটি উহ্য রয়েছে যার প্রাক্কলিত রূপ হলো: আল্লাহ মানুষ ও বিশ্ববাসীকে এই সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীদের সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন, অর্থাৎ তিনি তাদের স্বরূপ উন্মোচন ও প্রচার করবেন—একদলকে কল্যাণের মাধ্যমে এবং অন্যদলকে অকল্যাণের মাধ্যমে; আর এটি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই।
তৃতীয়ত, এটি 'আলামত' বা চিহ্ন থেকে উদ্ভূত; অর্থাৎ তিনি প্রতিটি দলের জন্য একটি চিহ্ন নির্ধারণ করবেন যার মাধ্যমে তারা পরিচিত হবে। এই আয়াতটি নবী (সা.)-এর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করে: "যে ব্যক্তি কোনো গোপন বিষয় পোষণ করে, আল্লাহ তাকে সেই বিষয়ের চাদর পরিয়ে দেন।" [সূরা আল-আনকাবুত (২৯): আয়াত ৪ থেকে ৭]যারা মন্দ কাজ করে তারা কি মনে করে যে তারা আমাদের নাগাল ছাড়িয়ে যাবে? তাদের ফয়সালা কতই না মন্দ! (৪) যে আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে, আল্লাহর নির্ধারিত সময় অবশ্যই আসবে। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (৫) আর যে সংগ্রাম করে, সে তো নিজের কল্যাণেই সংগ্রাম করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ জগতসমূহের মুখাপেক্ষী নন।
(৬) আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেব এবং তারা যা করত, আমি অবশ্যই তাদের তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দেব। (৭)আল্লাহ তাআলার বাণী: (যারা মন্দ কাজ করে তারা কি মনে করে যে) অর্থাৎ শিরক। তিনি বলেন: (তারা আমাদের নাগাল ছাড়িয়ে যাবে) অর্থাৎ আমাদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবে এবং তাদের পাকড়াও করার আগেই আমাদের অক্ষম করে দেবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরাহ, আবু জাহল, আসওয়াদ, আস ইবনে হিশাম, শাইবাহ, উতবাহ, ওয়ালিদ ইবনে উতবাহ, উকবাহ ইবনে আবি মুআইত এবং হানজালাহ ইবনে...(১) তিনি হলেন জুহাইর বিন আবি সুলমা।
আর আইসার (সা বর্ণে তাশদীদ সহকারে) একটি স্থানের নাম।
