Al-'Ankabut

আল-আনকাবুত: 67

29:67
29 আল-আনকাবুত Al-'Ankabut · 69 আয়াত العنكبوت

আরবি

أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا ءَامِنًا وَيُتَخَطَّفُ ٱلنَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ ۚ أَفَبِٱلْبَـٰطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ ٱللَّهِ يَكْفُرُونَ

English Translations

Sahih International

Have they not seen that We made [Makkah] a safe sanctuary, while people are being taken away all around them? Then in falsehood do they believe, and in the favor of Allāh they disbelieve?

Muhsin Khan

Have they not seen that We have made (Makkah) a sanctuary secure, and that men are being snatched away from all around them? Then do they believe in Batil (falsehood - polytheism, idols and all deities other than Allah), and deny (become ingrate for) the Graces of Allah?

Taqi Usmani

Did they not see that We have made a peaceful sanctuary (Haram ) while (other) people around them are being snatched away? Do they still believe in falsity and reject Allah’s grace?

Abul Ala Maududi

Do they not see that We have given them a sanctuary of safety whereas people around them are being snatched away? So, do they believe in falsehood and ungratefully deny Allah's bounties?

Pickthall

Have they not seen that We have appointed a sanctuary immune (from violence), while mankind are ravaged all around them? Do they then believe in falsehood and disbelieve in the bounty of Allah?

Yusuf Ali

Do they not then see that We have made a sanctuary secure, and that men are being snatched away from all around them? Then, do they believe in that which is vain, and reject the Grace of Allah?

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারা কি দেখে না যে, আমি ‘হারাম’ (মক্কা)-কে করেছি নিরাপদ স্থান অথচ তাদের চতুষ্পার্শ্ব থেকে মানুষকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তবে তারা কি মিথ্যাতেই বিশ্বাস করবে আর আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?

রাওয়াই আল-বায়ান

তারা কি দেখে না যে, আমি ‘হারাম’ কে নিরাপদ বানিয়েছি, অথচ তাদের আশ পাশ থেকে মানুষদেরকে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তাহলে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নিআমতকে অস্বীকার করবে?

শাইখ মুজিবুর রহমান

তারা কি দেখেনা যে, আমি হারামকে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এর চতুস্পার্শ্বে যে সব মানুষ আছে তাদের উপর হামলা করা হয়; তাহলে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারা কি দেখে না আমরা 'হারাম'কে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এর চারপাশে যেসব মানুষ আছে, তাদের উপর হামলা করা হয়। তবে কি তারা বাতিলকে স্বীকার করবে, আর আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

ফাতহুল মাজীদ

তারা কি দেখে না আমি ‘হারাম'কে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ তার চতুষ্পার্শ্বে যেসব মানুষ আছে, তাদেরকে ছিনিয়ে নেয়া হয় (হামলা করা হয়), তবে কি তারা অসত্যেই বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?

মুখতাসার

৬৭. এসব নিয়ামত অস্বীকারকারীরা কি আল্লাহর অপর আরেকটি নিয়ামত দেখে না যে, আমি তাদেরকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি হারাম তথা মক্কা শরীফকে তাদের রক্ত ও সম্পদের নিরাপত্তার মাধ্যম বানিয়েছি। কেননা, মক্কার বাইরে অন্যদেরকে হামলা চালিয়ে তাদের জীবন নাশ করা হয়, তাদেরকে বন্দী করা হয়, তাদের নারী ও সন্তানদেরকে দাসে পরিণত করা হয় এবং তাদের সম্পদ লুন্ঠন করা হয়। এরপরও কি তারা তাদের তথাকথিত বাতিল দেবতার উপর বিশ্বাস রাখবে এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া না করে তা অস্বীকার করে যাবে?

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৬৭-৬৯ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা কুরায়েশদের উপর নিজের একটি অনুগ্রহের কথা বলছেন যে, তিনি তাদেরকে নিজের হারম শরীফে স্থান দিয়েছেন। এটা এমন এক জায়গা যে, এখানে কেউ প্রবেশ করলে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। এর আশেপাশে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং লুটপাট হতে থাকে। কিন্তু এখানকার অধিবাসীরা সুখে-শান্তিতে ও নিরাপদে জীবন যাপন করে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “যেহেতু কুরায়েশের আসক্তি আছে, আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মে সফরের। তারা ইবাদত করুক এই গৃহের রক্ষকের যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং ভীতি হতে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।” (১০৬:১) তাহলে এতো বড় নিয়ামতের শুকরিয়া কি এটাই যে, তারা আল্লাহর সাথে অন্যদেরও ইবাদত করবে? ঈমান আনয়নের পরিবর্তে কুফরী করবে? এবং নিজেরা ধ্বংস হয়ে অন্যদেরকেও ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে? তাদের তো উচিত ছিল যে, তারা এক আল্লাহর ইবাদত করার ব্যাপারে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী। থাকবে এবং শেষ নবী (সঃ)-এর পুরোপুরি অনুসারী হবে। কিন্তু এর বিপরীত তারা আল্লাহর সাথে শিরক করতে, কুফরী করতে এবং নবী (সঃ)-কে অবিশ্বাস করতে ও তাকে কষ্ট দিতে শুরু করে দিয়েছে। তাদের ঔদ্ধত্য এমন চরমে পৌঁছেছে যে, তারা আল্লাহর রাসূল (সঃ)-কে মক্কা থেকে বের করে দিতেও দ্বিধাবোধ করেনি। অবশেষে আল্লাহর নিয়ামত তাদের থেকে ছিনিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে। বদরের যুদ্ধে তাদের নেতৃস্থানীয় লোকেরা নিহত হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-এর হাতে মক্কা জয় করিয়েছেন এবং তাদেরকে করেছেন লাঞ্ছিত ও অপমানিত। তার চেয়ে বড় যালিম আর কেউ হতে পারে না, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে। অহী না আসলেও বলে যে, তার উপর আল্লাহর অহী এসেছে। তার চেয়েও বড় যালিম কেউ নেই যে আল্লাহর সত্য অহীকে এবং সত্যকে অবিশ্বাস করে এবং হক এসে যাওয়ার পরেও ওকে অবিশ্বাস করার কাজে উঠে পড়ে লেগে যায়। এইরূপ মিথ্যা আরোপকারী ও অবিশ্বাসকারী লোকেরা কাফির। আর তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।আল্লাহর পথে সংগ্রামকারীদের দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সঃ), তাঁর সাহাবীবর্গ এবং তাঁর অনুসারীদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবেন।মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রামকারীদেরকে অবশ্যই আমি আমার পথে পরিচালিত করবো।' হযরত আবূ আহমাদ আব্বাস হামাদানী (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ যারা নিজেদের ইলম অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাদেরকে ঐ সব বিষয়েও সুপথ প্রদর্শন করবেন যা তাদের ইলমের মধ্যে নেই।আবু সালমান দারানী (রঃ)-এর সামনে এটা বর্ণনা করা হলে তিনি বলেনঃ যার অন্তরে কোন কথা জেগে ওঠে, যদিও তা ভাল কথাও হয়, তবুও ওর উপর আমল করা ঠিক হবে না যে পর্যন্ত না কুরআন ও হাদীস দ্বারা ওটা প্রমাণিত হয়। প্রমাণিত হয়ে গেলে ওর উপর আমল করতে হবে এবং আল্লাহর প্রশংসা করতে হবে যে, তিনি তার অন্তরে এমন কথা জাগিয়ে দিয়েছেন যা কুরআন ও হাদীস দ্বারাও সাব্যস্ত হয়ে গেছে।মহান আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে রয়েছেন।হযরত ঈসা (আঃ) বলেনঃ “ইহসান হচ্ছে ওরই নাম যে, যে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে তুমি তার সাথে সদ্ব্যবহার কর। যে সদ্ব্যবহার করে তার সাথে সদ্ব্যবহার করার নাম ইহসান নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারা কি দেখে না আমরা 'হারাম'কে নিরাপদ স্থান করেছি, অথচ এর চারপাশে যেসব মানুষ আছে, তাদের উপর হামলা করা হয়। তবে কি তারা বাতিলকে স্বীকার করবে, আর আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করবে [১]?

[১] কোন কোন মুশরিকের এক অজুহাত এরূপও পেশ করা হত যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনীত দ্বীনকে সত্য ও সঠিক বলে বিশ্বাস করে; কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার মধ্যে তারা তাদের প্রাণনাশের আশংকা অনুভব করে। কারণ, সমগ্র আরব ইসলামের বিরোধী। তারা মুসলিম হয়ে গেলে অবশিষ্ট আরব তাদেরকে দেশ থেকে উচ্ছেদ করবে এবং প্ৰাণে বধ করবে। এর জওয়াবে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তাদের এই অজুহাতও অন্তঃসার শূন্য। আল্লাহ তা'আলা বায়তুল্লাহর কারণে মক্কাবাসীদেরকে এমন মাহাত্ম্য দান করেছেন, যা পৃথিবীর কোন স্থানের অধিবাসীদের ভাগ্যে জুটেনি। আল্লাহ বলেন, আমি সমগ্র মক্কাভূমিকে হারাম তথা নিরাপদ আশ্রয়স্থল প্রদর্শন করে এতে খুন-খারাবি হারাম মনে করে। মানুষ তো মানুষ, এখানে শিকার বধ করা এবং বৃক্ষ কর্তন করাও সবার মতে অবৈধ। বহিরাগত কোন ব্যক্তি হারামে প্রবেশ করলে সে-ও হত্যার কবল থেকে নিরাপদ হয়ে যায়। অতএব মক্কার বাসিন্দারা যদি ইসলাম গ্ৰহণ করার ক্ষেত্রে প্রাণনাশের আশংকা আছে বলে অজুহাত পেশ করে, তবে সেটা খোঁড়া অজুহাত বৈ নয়। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]